Logo
আজঃ Tuesday ২৮ June ২০২২
শিরোনাম
নাসিরনগরে বন্যার্তদের মাঝে ইসলামী ফ্রন্টের ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ রাজধানীর মাতুয়াইলে পদ্মাসেতু উদ্ধোধন উপলক্ষে দোয়া মাহফিল রূপগঞ্জে ভূমি অফিসে চোর রূপগঞ্জে গৃহবধূর বাড়িতে হামলা ভাংচুর লুটপাট ॥ শ্লীলতাহানী নাসিরনগরে পুকুরের মালিকানা নিয়ে দু পক্ষের সংঘর্ষে মহিলাসহ আহত ৪ পদ্মা সেতু উদ্ভোধন উপলক্ষে শশী আক্তার শাহীনার নেতৃত্বে আনন্দ মিছিল করোনা শনাক্ত বেড়েছে, মৃত্যু ২ জনের র‍্যাব-১১ অভিমান চালিয়ে ৯৬ কেজি গাঁজা,১৩৪৬০ পিস ইয়াবাসহ ৬ মাদক বিক্রেতাকে গ্রেফতার করেছে বন্যাকবলিত ভাটি অঞ্চল পরিদর্শন করেন এমপি সংগ্রাম পদ্মা সেতু উদ্বোধনে রূপগঞ্জে আনন্দ উৎসব সভা ॥ শোভাযাত্রা

নাসিরনগরে বন্যায় ভেসে গেছে চাষ করা পুকুরের প্রায় ১২ কোটি টাকার মাছ

প্রকাশিত:Thursday ২৩ June ২০২২ | হালনাগাদ:Tuesday ২৮ June ২০২২ | ১১৪জন দেখেছেন
Image

মোঃ আব্দুল হান্নানঃ


ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নাসিরনগরে বন্যায় তলিয়ে গেছে নিন্মাঞ্চলের অনেক জায়গা। তার মধ্যে জেলার নাসিরনগর অন্যতম। উপজেলার গোর্কণ  ইউনিয়নের বাসিন্দা ও নাসিরনগর সরকারী ডিগ্রী কলেজের সহকারী অধ্যাপক মাঈন উদ্দিন ভূইয়া শান্ত জানায়,তার পাচটি পুকুরের মাঝে  সব কয়টির মাছ বন্যার পানিতে ভেসে গেছে।


সম্প্রতি ভারি বৃষ্টি আর উজান থেকে নেমে আসা পানির কারণে সৃষ্ট বন্যায় নাসিরনগরের মেঘনা, তিতাস ধলেশ্বরী ও লঙ্গন সহ বেশ কিছু নদীর পানি ফুঁসে উঠেছে।মাঈন উদ্দিন ভূইয়ার মতো উপজেলার আরও প্রায় ৭০০ পুকুরের মাছ ভেসে গেছে। মাছচাষিদের দাবি এবার বন্যায় তাদের ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১২ কোটি টাকা হবে।


মাছচাষিরা বলেন, কিছু বুঝে ওঠার আগেই বন্যার পানি সব পুকুরের মাছ ভাসিয়ে নিয়ে গেছে। তবে এখনও পুকুরের চারপাশে জালের বেড়া দিচ্ছেন অনেক চাষি, যদি কিছু মাছ রক্ষা করা যায় সেজন্য।


উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ভারি বৃষ্টিপাত আর উজানের ঢলে পানি বৃদ্ধি পেয়ে অধিকাংশ ইউনিয়নের নিন্মাঞ্চল তলিয়ে গেছে। এতে ওই এলাকার পুকুরে পানি ঢুকে পুকুরের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।


মৎস্য অফিসের তথ্য মতে- উপজেলায় মোট পুকুরের সংখ্যা প্রায় তিন হাজার। এর মধ্যে সোমবার দুপুর পর্যন্ত উপজেলার প্রায় পাঁচ শতাধিক পুুকুরের মাছ ভেসে গেছে। তবে পানি বৃদ্ধি-বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে এ ক্ষতির পরিমাণ কয়েকগুণ বাড়তে পারে। এসব পুকুরে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ও পোনা ছিল। টাকার অঙ্কে এ ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ছয় কোটি টাকা।


আরও জানা যায়, উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নে ৫০টি, চাপরতলা ৯০টি, ধরমন্ডলে ১২০টি, গোকর্ণ ইউনিয়নের ২০টি, কুন্ডা ইউনিয়নে ৪০টি, ভলাকুট ইউনিয়নের ৯০টি, ফান্দাউকে ৩০টি, নাসিরনগরে ১২০টি, চাতলপাড়ে ৩০টি ও বুড়িশ্বরে ১২০টি পুকুরের মাছ ও পোনা ভেসে গেছে।


বুড়িশ্বর ইউনিয়নের সিংহ গ্রামের বাসিন্দা রতন সাহাজী বলেন, ‘খুব কষ্ট করে চারটা পুকুরে মাছ চাষ করছিলাম। কিন্তু সব পানির নীচে চলে গেছে। একটা মাছও ধরতে পারছি না। আমার প্রায় ছয় লাখ টাকার মাছ ভাইস্যা গেছে।’


মৎসজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক পরিমল  দাস বলেন, ‘বন্যার কারণে মৎস্যজীবী মানুষজন মারাত্মক ক্ষতির সম্মুক্ষীন হয়েছে। এরই মধ্যে উপজেলার নিন্মাঞ্চলের সবকটি পুকুরের মাছ ভেসে গেছে। সরকারিভাবে কোনো প্রণোদনা না পেলে জেলেদের বেঁচে থাকাটা কষ্টকর হবে।’


উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা শুভ্র সরকার বলেন,পানি বৃদ্ধির যে হার সেটা যদি অব্যাহত থাকে তাহলে উপজেলার সবকটি পুকুর পানির নিচে তলিয়ে যাবে।


এই পর্যন্ত ১৩টি ইউনিয়নের মাছ চাষীদের দেওয়া তথ্য মতে প্রায় ৭০০ পুকুরের মাছ ভেসে গেছে। যার ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১২ কোটি টাকা। তবে এর পরিমাণ বাড়তে পারে বলে তিনি যোগ করেন।কিন্তু বেসরকারী হিসেবে উপজেলার মৎস্যখাতে এর পরিমান আরো অনেক বেশী বলে দাবী করেন মৎস্য চাষীরা।


আরও খবর



কষ্ট করে এসেও হাসিমুখে ফিরছেন দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ

প্রকাশিত:Saturday ২৫ June ২০২২ | হালনাগাদ:Sunday ২৬ June ২০২২ | ১৫জন দেখেছেন
Image

পদ্মা সেতু উদ্বোধনের পর মাদারীপুরের শিবচরে জনসভায় জনতার উদ্দেশ্যে ভাষণ দিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এই জনসভায় যোগ দিতে বহুদূর থেকে, নানান কষ্ট মোকাবিলা করে আসেন বিভিন্ন জেলার মানুষ। তবে কষ্ট করে এলেও হাসিমুখেই ফিরেছেন তারা।

বহুল কাঙ্ক্ষিত পদ্মা সেতুর দ্বার খুলে যাওয়ায় হাসি ফুটেছে তাদের মুখে।

জনসভায় আসা মো. সুমন হোসেন নামে একজন বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে দেখলাম। আমাদের এলাকায় আসলেন। পদ্মা সেতু উদ্বোধন করে আমাদের ধন্য করলেন। বেশ শান্তি লাগছে। এখন থেকে সহজে ওপারে যেতে পারবো।

জনসভায় নাতিকে নিয়ে আসেন নূর মোহাম্মদ শেখ। সভা শেষে তিনি বলেন, আমাদের জন্য একটা বিশাল কাজ করে গেছেন শেখ হাসিনা। পদ্মা সেতু নির্মাণ হয়েছে। বৃদ্ধ বয়সে এটা দেখে যেতে পারছি সৌভাগ্য। সঙ্গে নাতিকেও নিয়ে আসলাম যেন প্রধানমন্ত্রীকে দেখতে পারে।

ফরিদপুর থেকে আসা রতন কুমার বিশ্বাস বলেন, অনেক কষ্ট করে হেঁটে আসছি। শেখ হাসিনার বক্তব্য শুনলাম। পদ্মা সেতু উদ্বোধন করে আমাদের এই অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান করেছেন।

শনিবার (২৫ জুন) বেলা ১১টা ৫০ মিনিটে অতিথিদের সঙ্গে নিয়ে পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্পের সড়কপথের শুভ উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। ১১টা ৪০ মিনিটে টোলপ্লাজার উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে টোল দিয়ে মাওয়া প্রান্তে উদ্বোধনী ফলক ও ম্যুরাল-১ উন্মোচন করে মোনাজাতে অংশ নেন।

পরে সেতু পার হয়ে ফের জাজিরা প্রান্তে ফলক উন্মোচন করে মোনাজাতে অংশ নেন। সেখান থেকে জনসভায় যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী।

দুপুর ১টার পর তিনি জনসভায় সভাপতির বক্তব্য শুরু করেন। এতে আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর কন্যা সায়মা ওয়াজেদ পুতুলও উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে সকাল সাড়ে ৯টায় তেজগাঁওয়ের পুরোনো বিমানবন্দর থেকে মুন্সিগঞ্জের মাওয়া প্রান্তের উদ্দেশ্যে রওনা দেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পদস্থ কর্মকর্তারা তার সঙ্গে ছিলেন। সকাল ১০টায় সভা মঞ্চে পৌঁছান তিনি।

কার্যসূচি অনুযায়ী, মাওয়া প্রান্তে পদ্মা সেতুর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন। পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের সভাপতিত্বে এতে স্বাগত বক্তব্য দেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব আনোয়ারুল ইসলাম। অংশ নিয়েছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার, মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, দেশের রাজনৈতিক নেতা, বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধি, সাংবাদিক, শিক্ষকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা।


আরও খবর



খুব ভালো লেগেছে, স্পিড তুলেছিলাম ১০৪: সেতু পাড়ি দেওয়া বাইকার রুবা

প্রকাশিত:Sunday ২৬ June ২০২২ | হালনাগাদ:Tuesday ২৮ June ২০২২ | ৪৫জন দেখেছেন
Image

প্রথম নারী মোটরসাইকেলচালক হিসেবে পদ্মা সেতু পাড়ি দিয়েছেন রুবায়াত রুবা নামে এক ইউটিউবার। রোববার (২৬ জুন) সকাল ৯টায় মাওয়া প্রান্ত দিয়ে প্রথমবার মোটরসাইকেল নিয়ে পদ্মা সেতু পাড়ি দেন। পরে বিকেলে জাজিরা প্রান্ত থেকে দ্বিতীয়বার পদ্মা সেতু পাড়ি দেন।

রাজধানী মিরপুরের শেওড়াপাড়া থেকে তিনি মোটরসাইকেল চালিয়ে পদ্মা সেতুতে আসেন।

রোববার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে সেতু পাড়ি দেওয়ার জন্য জাজিরা টোলপ্লাজায় অপেক্ষা করছিলেন তিনি। এসময় মোটরসাইকেল পাড়ি দেওয়ার জন্য কয়েকশ বাইকারকে অপেক্ষা করতে দেখা যায়।

জাগো নিউজকে এসময় রুবায়াত রুবা বলেন, মোটরসাইকেলে খুবই ভালো লেগেছে পদ্মা সেতু পাড়ি দিতে। সেতুতে ওঠার পর যে একটা ফিল আসছে তা বোঝানো যাবে না। এক কথায় অস্থির! ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না।

সকালে প্রথমবার পদ্মা সেতু পাড়ি দিতে কত স্পিড তুলেছিলেন এমন প্রশ্নের জবাবে এই নারী বাইকার বলেন, প্রথমবার, এজন্য ১০৩-১০৪ স্পিডে চালিয়েছিলাম।

উদ্বোধনের প্রায় ১৮ ঘণ্টা পর রোববার (২৬ জুন) ভোর ৫টা ৪০মিনিটে যানবাহন চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয় স্বপ্নের পদ্মা সেতুর দ্বার। এর আগে শনিবার (২৫ জুন) বেলা ১১টা ৫৮ মিনিটে মুন্সিগঞ্জের মাওয়া প্রান্তে এ সেতুর ফলক উন্মোচন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।


আরও খবর



দুর্যোগ মোকাবিলায় ৫ হাজার কোটি টাকার তহবিল

প্রকাশিত:Thursday ০৯ June ২০২২ | হালনাগাদ:Monday ২৭ June ২০২২ | ৪১জন দেখেছেন
Image

চলতি ২০২১-২০২২ অর্থবছরের বাজেটে অর্থনৈতিক ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের অভিঘাত মোকাবিলা তহবিলের ধারাবাহিকতায় আগামী অর্থবছরেও পাঁচ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।

‘কোভিড অভিঘাত পেরিয়ে উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় প্রত্যাবর্তন’ শিরোনামে বৃহস্পতিবার (৯ জুন) বিকেল তিনটায় জাতীয় সংসদে ২০২২-২০২৩ অর্থবছরের বাজেট পেশকালে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল এ প্রস্তাব করেন।

অভিঘাত মোকাবিলায় কার্যক্রম অব্যাহত রাখার বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকারের নানামুখী প্রচেষ্টার ফলে কোভিড-১৯ অতিমারির প্রভাব মোকাবিলা করে অর্থনীতি স্বাভাবিক ধারায় ফিরছে। এ প্রক্রিয়াকে আরও ত্বরান্বিত করে অর্থনীতিকে অতিমারি-পূর্ব সুদৃঢ় অবস্থানে পুরোপুরি ফিরিয়ে নিয়ে উন্নয়নের গতিকে আরও বেগবান করতে চলতি অর্থবছরের ন্যায় আগামী অর্থবছরেও প্রণোদনা কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হবে। এছাড়া এ অতিমারির প্রলম্বিত প্রাদুর্ভাব কিছুটা কাটিয়ে ওঠার পরপরই রাশিয়া-ইউক্রেন সংকটের কারণে বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন করে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। আগামী বাজেটে সরকারের অগ্রাধিকারের ক্ষেত্র নির্ধারণে বৈশ্বিক অর্থনীতির চলমান এ অস্থিরতার প্রভাব কাটিয়ে বাংলাদেশ কীভাবে আরও এগিয়ে যেতে পারে সেটিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হয়েছে।

আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, শিল্প উৎপাদন, সিএমএসএমই, সেবা খাত ও গ্রামীণ অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে কর্মসৃজন এবং প্রবাস-ফেরতদের জন্য কর্মসংস্থান নিশ্চিতকল্পে নানামুখী কর্মসূচি বাস্তবায়নের ওপর আগামী বাজেটে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে কোভিড-১৯ এর প্রভাবে এ সমস্ত খাতের ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানসমূহের ক্ষতি কাটিয়ে উঠে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখতে ও সাময়িকভাবে কর্মহীন হয়ে পড়া শ্রমিকদের জন্য প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজসমূহের বাস্তবায়ন অব্যাহত থাকবে। সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতা বৃদ্ধি, গৃহহীনদের জন্য গৃহনির্মাণ ও নিম্ন-আয়ের মানুষের মধ্যে বিনামূল্যে/স্বল্পমূল্যে খাদ্য বিতরণের ওপর অগ্রাধিকার দিয়ে সরকারের গ্রহণ করা কর্মসূচি চলমান থাকবে।

মন্ত্রী আরও বলেন, অকাল বন্যা, ঝড়ো হাওয়া, শিলাবৃষ্টি, ঘূর্ণিঝড় ইত্যাদির মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত নাগরিক অথবা অর্থনৈতিক কোনো সংকটে কর্মহীন বা আয় হ্রাস পাওয়া নিম্ন-আয়ের ব্যক্তিদের জরুরি ভিত্তিতে আর্থিক সহায়তার দেওয়া সরকারের একটি অগ্রাধিকার।


আরও খবর



‘মধ্যবিত্তরা আর আদর্শবাদী থাকছে না’

প্রকাশিত:Wednesday ০৮ June ২০২২ | হালনাগাদ:Tuesday ২৮ June ২০২২ | ৫২জন দেখেছেন
Image

অধ্যাপক এম এম আকাশ। বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ। অধ্যাপনা করছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগে। চেয়ারম্যান, ব্যুরো অব ইকোনমিকস রিসার্চ। বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য।

প্রান্তিক কৃষি ব্যবস্থা, অর্থনীতি, রাজনীতির প্রসঙ্গ নিয়ে মুখোমুখি হন জাগো নিউজের। বাংলাদেশ স্বনির্ভরতা অর্জন করছে উল্লেখ করে এই অর্থনীতিবিদ বলেন, বৈষম্যই এখন রাষ্ট্র, সমাজের বড় চ্যালেঞ্জ। মধ্যবিত্তের আয় না বাড়লে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা পাবে না।

দুই পর্বের সাক্ষাৎকারের আজ থাকছে প্রথমটি। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন জাগো নিউজের জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক সায়েম সাবু।

জাগো নিউজ: কৃষকের অধিকার নিয়ে আন্দোলন করছেন, গবেষণা করছেন। সেচের পানি না পেয়ে দুজন আদিবাসী কৃষকের আত্মহত্যার ঘটনাও ঘটলো সম্প্রতি। আত্মহত্যার এ ঘটনায় আপনার কাছে আলাদা পর্যবেক্ষণ আছে কি না?

এম এম আকাশ: অবশ্যই আলাদা করে বিশ্লেষণ করা যায়। প্রতিটি আত্মহত্যাই দুঃখজনক ও কষ্টের। কিন্তু এই আদিবাসীর আত্মত্যার কয়েকটি বৈশিষ্ট্য আছে। প্রথমত, প্রান্তিক তথা সাঁওতাল জনগোষ্ঠীর সদস্য। দ্বিতীয়ত, তারা কৃষক ও বরেন্দ্র অঞ্চলের সমতলে বাস করে। বরেন্দ্র অঞ্চলের বৈশিষ্ট্য হচ্ছে সেখানে পানির অভাব থাকে এবং সেচ মৌসুমে পানি দিতে না পারলে ক্ষেতের পুরো ফসল নষ্ট হয়। ওই দুই কৃষকের সেচের পানির অভাব ছিল এবং পানি পাওয়ার জন্য দ্বারে দ্বারে ঘুরছিল। পানি না পাওয়ায় মনের দুঃখে তারা বিষপান করে আত্মহত্যা করেছে, এমনটিই খবর এসেছে। সব মিলিয়ে এটি একটি স্বাভাবিক ঘটনা নয় তো বটেই, উপরন্তু বিশেষ পরিস্থিতিতে দুঃখ পেয়ে দুজন মানুষের আত্মহত্যা।

জাগো নিউজ: এই দুঃখবোধের জায়গা থেকে কী বলা যায়?
এম এম আকাশ: দুঃখের কারণ তারা নিজেরা না। তারা বরং কষ্ট করে ফসল ফলিয়েছে। তাদের দরকার ছিল পানি এবং পানি পাওয়া ছিল তাদের অধিকার। এই অধিকার থেকে তারা কেন বঞ্চিত হলো এটিই হচ্ছে মৌলিক প্রশ্ন। কারা বঞ্চিত করলো? বঞ্চিত করা অবশ্যম্ভাবী ছিল নাকি লাভ ও লোভের কারণে তাদের বঞ্চিত করা হয়েছে। এটি তদন্ত করে খুঁজে বের করে শাস্তির আওতায় আনা জরুরি বলে আমি মনে করি।

বরেন্দ্র অঞ্চলে লাভ ও লোভের বিষয়টি প্রাধান্য পেয়ে আসছে আগে থেকেই। কারণ এ অঞ্চলে গভীর নলকূপের মাধ্যমে সেচ দেওয়া হয়। এই গভীর নলকূপের সরকারি মালিকও আছে, বেসরকারি মালিকও আছে। বিএডিসি, বরেন্দ্র উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ সরকারি প্রতিষ্ঠান।

প্রাইভেট মালিকরা বাজারের নীতি অনুসরণ করে কাজ করেন, সুতরাং তাদের কাছে মুনাফার বিষয়টিই অধিক গুরুত্ব পায়। তারা তো দানবাক্স খুলে বসবে না। তবে মুনাফার ব্যাপারে অবশ্যই নীতি আছে। সেক্ষেত্রে খোঁজ নিতে হবে কী দামে সে মুনাফা নির্ধারণ করেছিল, যে দাম তারা দিতে পারেনি।

সাধারণত, এসব ক্ষেত্রে মালিকের একচ্ছত্র ক্ষমতা থাকে। ব্যাপারটি এমন কি না যে, আর কোনো মালিক বা বিকল্প ছিল না বিধায় মালিকের নির্ধারিত দাম দিতে বাধ্য নতুবা আত্মহত্যা! এত কষ্ট করে বোনা ফসল পানির অভাবে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, এটি তো সহ্য করার মতো নয়।

পানির দরকার পড়লে আগে কৃষককে পানি দেওয়ার ব্যবস্থা করা সরকারি প্রতিষ্ঠানের দায়। মূল্য পরেও আদায় করতে পারবে এবং সে ক্ষমতা রাষ্ট্রের আছে। হাসপাতালের জরুরি চিকিৎসার মতো। আগে রোগীকে বাঁচিয়ে রাখা, পরে মূল্য আদায় করা। এ নীতি বেসরকারি হাসপাতালেও আছে। এ কারণে আমি বলছি, এই সেচ কাজে কার কী ভূমিকা ছিল তা বের করা জরুরি।

জাগো নিউজ: আদিবাসীদের সংকট তীব্র হচ্ছে। বিলীনও হচ্ছে এই জনগোষ্ঠীর জীবনধারা। আত্মহত্যার ঘটনায় সে দিকটাই উঠে এসেছে।

এম এম আকাশ: আদিবাসী জনগোষ্ঠী হচ্ছে গরিবের মধ্যে আরও গরিব। মূলধারার জনগোষ্ঠীর মধ্যে গরিব থাকলেও তার হয়তো ধনী আত্মীয়-স্বজন আছে। প্রাইভেট-পাবলিক সেক্টরে তাদের এক ধরনের প্রভাব থাকে। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গেও তাদের যোগাযোগ থাকে। কিন্তু সাঁওতাল জনগোষ্ঠীর এই মানুষদের কেউ গুরুত্ব দেয় না। তারা এরই মধ্যে প্রান্তিকীকরণ হয়ে এক্সক্লুসিভ হয়ে গেছে। তারা রাষ্ট্রের উন্নয়ন ধারায় ইনক্লুসিভ নয়। এই আত্মহত্যা রাষ্ট্র বা সমাজকে বার্তা দিচ্ছে যে প্রান্তিক এই জনগোষ্ঠীর জন্য বিশেষ করে ভাবতে হবে। বিশেষ করে সেচ ব্যবস্থায় প্রান্তিক কৃষকদের জন্য আলাদা করে বিধান তৈরি করতে হবে, যেখানে তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা যায়।

এ ঘটনার মধ্য দিয়ে দুই ধরনের চিত্র উঠে এসেছে। পার্বত্য চট্টগ্রামের আদিবাসীরা অনেকটাই সংঘবদ্ধ এবং তারা একটি শান্তিচুক্তি আদায় করে নিয়েছে। তবে তারাও এই সরকারের নানা কর্মকণ্ড নিয়ে হতাশা প্রকাশ করছে। তার মানে সংগঠিত একটি গোষ্ঠীই চুক্তি অনুসারে তাদের অধিকার আদায় করতে পারছে না। আর সমতলের অসংগঠিত সাঁওতালরা তাদের অধিকার কীভাবে আদায় করবে! আর তারা কীভাবে বেঁচে আছে তা বলাই বাহুল্য।

জাগো নিউজ: এ ঘটনাকে সামগ্রিক কৃষকের চিত্র হিসেবে বিবেচনা করে কী বলা যায়?

এম এম আকাশ: সমাজে কৃষকই সবার আগে বঞ্চিত। তাদের অধিকার হরণ করেই অন্যরা প্রাচুর্য গড়ে তোলে। আমরা কৃষি কার্ডের কথা বলে আসছি বহু আগে থেকে। একজন বিত্তবান কৃষক যত সহজে রাষ্ট্র-সমাজ থেকে যেভাবে সুবিধা পায়, একজন গরিব বা প্রান্তিক কৃষক সে সুবিধা পায় না।
কৃষকের সংকট দূর করতে হলে তলানি থেকে ভাবতে হবে। একজন ধনী কৃষক দাম বেশি দিয়ে হলেও কৃষিসামগ্রী কিনতে পারেন। একজন গরিব কৃষক তা পারেন না।

জাগো নিউজ: অধিকার আদায়ের কথা বলছেন। আপনি কমিউনিস্ট পার্টি করছেন দীর্ঘদিন ধরে। কমিউনিস্ট পার্টির কৃষকদের নিয়ে সংগঠন ‘ক্ষেত মজুর সমিতি’ কাজ করছে। কৃষকের অধিকার আদায়ে কী দেখলেন?

এম এম আকাশ: আমি মনে করি, কৃষকের আত্মহত্যার মতো ঘটনা কোনো সমাধান নয়। কৃষকের মধ্যে চেতনা থাকতে হবে যে, আমি আত্মহত্যা করবো না। আমি আমার অধিকার আদায় করে নেবো। এজন্য চাহিদা তৈরি করতে হয়।

আমরা যারা কৃষকের অধিকার নিয়ে কাজ করছি, তাদের উচিত প্রান্তিক পর্যায়েও কৃষকদের নিয়ে সংগঠন করা, তাদের কাছাকাছি যাওয়া। এই দুটো না হলে সংকটের মীমাংসা হবে না। সরকারের তো মনিটরিং নেই। নলকূপ আছে কি না, পানির ঘাটতি কেমন, কৃষক ন্যায্যমূল্য পাচ্ছে কি না- এসব নিয়ে তদারকি নেই। সরকার আইন লিখেই খালাস। বাস্তবায়ন নিয়ে মাথাব্যথা নেই।

জাগো নিউজ: কৃষকদের সংগঠিত করার ক্ষেত্রে ব্যর্থতা নিয়ে কী বলবেন?
এম এম আকাশ: এখানে দুদিক থেকে ব্যর্থতা আছে। কৃষকরা নিজেরাই সচেতন নয়। অন্যদিকে যারা কৃষকদের সচেতন করে তোলার দায়িত্ব নিয়েছে, তারা তাদের সাংগঠনিক ক্ষমতা বিস্তৃত করতে পারেনি।

সাধারণত, মধ্যবিত্ত আদর্শবাদী কর্মীরাই কৃষক সংগঠন করেন। মধ্যবিত্তরা আর আদর্শবাদী থাকছে না। ‘চাচা আপন প্রাণ বাঁচা’ নীতিতে মধ্যবিত্তরাও। ষাটের দশকে একজন তাজুল ইসলামকে আমরা দেখেছিলাম, যিনি এমএ পাস করেও চাকরি না করে আদমজী পাটকলে গিয়ে শ্রমিকদের সংগঠিত করার আন্দোলন করেছেন। এখন একজন তাজুল ইসলামকেও পাবেন না।

আদর্শবাদীদের আমি দোষ দিচ্ছি না। তারা হয়তো ভাবছে, এক সময় সমাজতন্ত্রের জন্য আন্দোলন করেছি। সমাজতন্ত্র তো ব্যর্থ হয়েছে। আবার আদর্শবাদী হয়ে জীবন নষ্ট করবো? এই হতাশা থেকেই মানুষ আদর্শ থেকে সরে আছে। হতাশা দূর করতে হবে।

জাগো নিউজ: রাষ্ট্র, সমাজ যে জায়গায় চলে যাচ্ছে, সেখান থেকে হতাশা কাটানো আর সম্ভব?

এম এম আকাশ: রবীন্দ্রনাথের বিখ্যাত বাণী ‘মানুষের ওপর বিশ্বাস হারাইও না। মানুষের ওপর বিশ্বাস হারানো হলো পাপ’। সুতরাং, মধ্যবিত্তরা এগিয়ে না এলে প্রান্তিক মানুষেরাই আদর্শের জন্য লড়াই করবে। ক্ষেতমজুররাই এগিয়ে আসবে। তলা থেকে শুরু করতে হবে।

জাগো নিউজ: পরিবর্তনের কথা বললেন। এখন সেই পরিবর্তন (আদর্শচ্যুত) ত্বরান্বিত কি না?

এম এম আকাশ: সব জায়গায় এক রকম নয়। যেমন- গাইবান্ধায় আমাদের পার্টি থেকে নির্বাচনে অংশ নেয়। ২০ হাজারের ওপরে ভোট পান। হয়তো বিজয়ী হতে পারছেন না। কিন্তু আদর্শের জন্য ২০ হাজার মানুষ তাকে সমর্থন করছে। এমন প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও তো কেউ কেউ লড়াইটা চালিয়ে যাচ্ছেন।

জাগো নিউজ: সাধারণ প্রতিকূল পরিবেশের মধ্যেই আন্দোলন-লড়াই তীব্র হওয়ার কথা। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত-নিম্ন-মধ্যবিত্তের পক্ষ থেকে।

এম এম আকাশ: এক সময় দরিদ্র মানুষদের নিয়ে কমিটমেন্ট করে বামপন্থিরা সংগঠনকে বিস্তৃত করেছিল। ১৯৮০ থেকে ১৯৯০ সালের দিকে আমরা এক ধরনের জোয়ার দেখেছিলাম। সোভিয়েত ইউনিয়নের বিপর্যয়ের পর পূর্ব ইউরোপিয়ান দেশগুলো একদিকে চলে গেলো। সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে গেলো। এর মধ্যেও কিউবা ভেনিজুয়েলা, ভিয়েতনাম একরকম থেকে গেলো।

চীন আবার মিশ্র পদ্ধতি অবলম্বন করলো। চীন শ্রমজীবীদের অধিকার রক্ষা করছে। চায়নায় জমি জাতীয়করণ করা হয়েছে। পুঁজিবাদী রাষ্ট্রগুলোতে জমি জাতীয়করণ করা হয়নি। চায়না জমি বণ্টন করছে তৃণমূলে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করে। তৃণমূলে কমিউনিস্ট পার্টির, কৃষকদের নির্বাচিত প্রতিনিধি আছে। তারা বসে ঠিক করছে যে, কোন পরিবারকে কত টাকা দেওয়া যাবে। পরিবারের লোক সংখ্যা বেশি হলে বেশি জমি পাচ্ছে, কম থাকলে কম পাচ্ছে। অথবা দরকষাকষি করে কৃষকরা জমি নিতে পারছে।

সমাজতন্ত্রের দুই ধরনের মডেল রয়েছে। এক, কেন্দ্রীভূত (আমলাতান্ত্রিক) মডেল, দুই, বিকেন্দ্রীভূত মডেল। বিকেন্দ্রীভূত মডেল এতই সফল হয়েছে যে, চীন এখন পৃথিবীতে শীর্ষ অর্থনৈতিক দেশে রূপ নিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রও আর চীনের সঙ্গে পারছে না।

বাংলাদেশে বামপন্থিরা নতুন চিন্তা করে না। নতুন চিন্তা জরুরি। নবায়িত সমাজতান্ত্রিক ধারণা নিয়ে বামপন্থিদের অগ্রসর হতে হবে।

জাগো নিউজ: নবায়িত সমাজতন্ত্র বলতে আপনি কী বোঝাতে চাইছেন?

এম এম আকাশ: যে সমাজতন্ত্র আমলাতান্ত্রিক বা কেন্দ্রভূত নয়, যে সমাজতন্ত্র বাজার ব্যবস্থাকে বিলুপ্ত করার সিদ্ধান্ত নেয় না, যে সমাজতন্ত্র বাজারকে ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কিন্তু নিয়ন্ত্রণে রেখে, আমি নবায়িত সমাজতন্ত্র তাকে বোঝাতে চাইছি।

জাগো নিউজ: মূলধারার সমাজতন্ত্র আপনার এই ধারণাকে গ্রহণ করে?

এম এম আকাশ: ধারণা থেকে আলোচনা হতেই পারে। প্র্যাকটিস তো হতে পারে অন্তত। যেমন- চায়নাকে অনেকেই সমাজতান্ত্রিক দেশ বলতে রাজি নয়। আমি মনে করি, চায়না সম্পর্কে শেষ কথা বলার সময় এখনো আসেনি। চায়না থেকে পজিটিভ বিষয়গুলো নিতে হবে, নেগেটিভ বিষয়গুলো বাদ দিতে হবে। চায়না আলীবাবা তৈরি করেছে। এখন আলীবাবা যদি চায়না দখল করে ফেলে, তাহলে কীসের সমাজতন্ত্র হলো? কিন্তু চায়না যদি আলীবাবার কাছ থেকে ট্যাক্স আদায় করে সব মানুষের কল্যাণে অসমতা কমাতে পারে, তাহলে সমস্যা কোথায়?


আরও খবর



মালয়েশিয়ায় ৫ মাসে লাখেরও বেশি পাসপোর্ট বিতরণ

প্রকাশিত:Thursday ১৬ June ২০২২ | হালনাগাদ:Tuesday ২৮ June ২০২২ | ৫৪জন দেখেছেন
Image

মালয়েশিয়ায় প্রবাসীদের চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ৩১ মে পর্যন্ত পাঁচ মাসে এক লাখ ১১ হাজার ৮৩টি পাসপোর্ট বিতরণ করেছে বাংলাদেশ হাইকমিশন। বুধবার (১৫ জুন) মালয়েশিয়ার বাংলাদেশ হাইকমিশনের সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

দূতাবাস জানায়, মালয়েশিয়ায় বসবাসরত বাংলাদেশি কর্মীদের দ্রুততম পাসপোর্ট সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে হাইকমিশন নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। করোনার সময় ও করোনার পরে হাইকমিশন প্রবাসীদের সুবিধার্থে ৫০টি পোস্ট অফিসের মাধ্যমে মালয়েশিয়ার বিভিন্ন প্রান্তে পাসপোর্ট বিতরণ করে যাচ্ছে।

পাশাপাশি অনিয়মিত কর্মীদের বৈধতা নেওয়ার সুবিধার্থে অফিস চলাকালীন বাইরে ও ছুটির দিনেও মালয়েশিয়ার বিভিন্ন প্রদেশে বিশেষ ব্যবস্থায় পাসপোর্ট বিতরণ করা হয়েছে।

চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ৩১ মে পর্যন্ত ৫ মাসে ১ লাখ ১১ হাজার ৮৩টি পাসপোর্ট বিতরণ করা হয়েছে। এর মধ্যে পোস্ট অফিসের মাধ্যমে ১ লাখ ৫ হাজার ৪৫০, হাইকমিশন থেকে সরাসরি ৫ হাজার ৬৩৩টি পাসপোর্ট বিতরণ করা হয়েছে। পোস্ট অফিসের মাধ্যমে হাইকমিশনে নতুন পাসপোর্টের (রিনিউ) এর জন্য এ পর্যন্ত ১ লাখ ২৪৭টি আবেদন জমা পড়েছে।

এদিকে ডিজিটাল পদ্ধতিতে পোস লাজুর (পোস্ট অফিস) মাধ্যমে পাসপোর্ট ডেলিভারি সংক্রান্ত কার্যক্রম আরও গতিশীল করার লক্ষ্যে কাজ করছে হাইকমিশন, জানালেন, মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মো. গোলাম সারোয়ার।

এছাড়া দৈনিক অ্যাপয়েন্টমেন্ট বাড়ানো হয়েছে ও অনলাইনে অ্যাপয়েন্টমেন্ট বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ডাকযোগে এসব পাসপোর্ট সংগ্রহ করতে হলে প্রথমে appointment.bdhckl.gov.bd ঠিকানায় প্রবেশ করে তথ্য পূরণপূর্বক আবেদন করতে হবে।

এছাড়া ছুটির দিনে মালয়েশিয়ার বিভিন্ন প্রদেশে কনস্যুলার ভিজিটের সময় সরাসরি পাসপোর্ট সংগ্রহের জন্য appointment.bdhckl.gov.bd/other ঠিকানায় গিয়ে অনলাইনে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিতে হবে।

তবে এক্ষেত্রে সেবাপ্রত্যাশীদের একই সঙ্গে দুটি সেবার অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেওয়া থেকে বিরত থাকার জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগ থেকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।


আরও খবর