Logo
আজঃ Sunday ২৪ October ২০২১
শিরোনাম
শাপলা তুলে বিক্রি এখন বিকল্প আয়ের উৎস হয়ে উঠেছে শত শত কর্মহীন কৃষকের

মুন্সিগঞ্জে শাপলা বিক্রি এখন বিকল্প আয়ের উৎস

প্রকাশিত:Sunday ১০ October ২০২১ | হালনাগাদ:Sunday ২৪ October ২০২১ | ১৫৫জন দেখেছেন
Image


ডেস্ক এডিটর :

নদী বেষ্টিত মুন্সিগঞ্জের বিল, ঝিল আর জলাভূমিতে এখন প্রাকৃতিকভাবে ফোটা শাপলার সমারোহ। ফুল প্রজাতির হলেও সবজি হিসাবে সুস্বাদু শাপলা। বাজারে চাহিদা থাকায় নয়নজুড়ানো শাপলা তুলে বিক্রি এখন বিকল্প আয়ের উৎস হয়ে উঠেছে শত শত কর্মহীন কৃষকের। প্রাকৃতিকভাবে হওয়ায় উৎপাদনে প্রয়োজন নেই পুঁজির। বিনা পুঁজিতেই শাপলা আহরণ ও বিক্রি করে আর্থিকভাবে লাভবান তারা। বিভিন্ন বয়সী মানুষ ঝুঁকছেন এ কাজে। শাপলা তুলে বিক্রি করে চলছে সংসার।

 

জানা যায়, জেলার টঙ্গীবাড়ী, সিরাজদিখানের জলাভূমি ও শ্রীনগরের আড়িয়াল বিল থেকে প্রতিদিন শত শত নৌকায় শাপলা আহরণ চলছে। ভোর থেকে বিকেল পর্যন্ত চলে শাপলা তোলার কাজ। একেক জন প্রতিদিন ১০০-২০০ আটি পর্যন্ত শাপলা তুলে থাকেন। পাইকারি প্রতি আটি শাপলা বিক্রি করছেন ৩-৫ টাকা।

স্থানীয় বাজারে বিক্রির পাশাপাশি অধিকাংশ শাপলা বিক্রি হয় রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন বাজারে। দিনভর জলাভূমিতে থেকে আহরণের পর শাপলা রাখা হয় রাস্তার পাশে। বিকেলে ট্রাক-পিকআপ যোগে পাইকাররা এসব শাপলা নিয়ে যান ঢাকার বাজারগুলোয়। পাশের জেলা ও টাটকা থাকায় ঢাকার বাজারগুলোয় মুন্সিগঞ্জের শাপলার বেশ চাহিদা।

 

আড়িয়াল বিলের আলমপুর এলাকায় দেখা যায়, বিলের দিগন্তজুড়ে ফুটে আছে অসংখ্য শাপলা। সারি সারি নৌকায় ভোর থেকে বিলের জলে ফোটা শাপলা তুলছেন কৃষকরা। শাপলা ধুয়ে নির্দিষ্ট আকৃতিতে কেটে রাখছেন। ১৩-১৪টি শাপলা করে আটি বেঁধে রাখছেন নৌকায়। প্রতিটি নৌকায় ফুলে ফুলে ভর্তি।

 

শাপলা তোলায় ব্যস্ত ফরিদ শেখ বলেন, ‘উন্নাকালে জমিতে কাজ করি। এখন বর্ষার পানিতে জমিজমা সব তলাই গেছে। জমির কোনো কাজ নাই। তাই উপার্জন করতে শাপলা তুলি। ১০০-১৫০ আটি শাপলা তুলতে পারি প্রতিদিন। বিক্রি কইরা ৫০০-৭০০ টাকা আয় হয়। এই দিয়ে সংসার চলে যাচ্ছে।

 

সনাতন মন্ডল বলেন, ‘শ্রাবণ থেকে চলতি আশ্বিন মাস পর্যন্ত বিলে শাপলা ফোটে। কোনো পুঁজির দরকার হয় না। শাপলা তুলতে একটু পরিশ্রম হয় আর কি। সারাদিন শাপলা তুলে বিলের পাশে রাস্তায় রাখি। পরে বিকালে পাইকাররা ট্রাক দিয়ে নিয়া যায়। এখন ৩ টাকা দেয়। অবার চাহিদা বেশি থাকলে ৫ টাকাও দেয়। ট্রাকে উঠানোর পর আমাদের টাকা দিলে বাসায় চলে যাই। আর পরদিন সকালে আসি।

 

সিরাজদিখানের আকরাম আলী বলেন, ‘ঢাকার মিরপুর, যাত্রাবাড়ী, আব্দুল্লাহপুরসহ বিভিন্ন বাজারে যেসব শাপলা বিক্রি হয়, তার বেশিরভাগই মুন্সিগঞ্জ থেকে যায়। শুধু সিরাজদিখান থেকে প্রতিদিন ১-২ ট্রাক শাপলা ঢাকায় যায়।

খবর প্রতিদিন / সি.বা  


আরও খবর



ছাদ কিংবা ব্যালকনিতে টবে ঢেঁড়শ চাষ করবেন যেভাবে

সহজে ঢেঁড়শ চাষের উপায় !

প্রকাশিত:Sunday ১০ October ২০২১ | হালনাগাদ:Sunday ২৪ October ২০২১ | ২০৯জন দেখেছেন
ডেস্ক এডিটর

Image



ডেস্ক এডিটর : 

শহরে বসবাস করেও অনেকে বিভিন্ন সবজি চাষ করতে আগ্রহ প্রকাশ করেন। ইচ্ছে করলেই ছাদে কিংবা ব্যালকনিতে অল্প পরিসরে নানান রকমের সবজি চাষ করতে পারেন। চাইলে আপনি সহজ উপায়ে টবে ঢেঁড়শ চাষ করতে পারেন।শহরের বাসা-বাড়ির ছাদে বা বারান্দায় বড় বড় টবে, মাটির চাঁড়িতে, ড্রামে কিংবা একমুখ খোলা কাঠের বাক্সে সার, মাটি ভরে অনায়াসেই ঢেঁড়শ চাষ করা যায়।

 

ঢেঁড়শ আমাদের দেশের একটি জনপ্রিয় সবজি। এতে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম রয়েছে, তাছাড়া ভিটামিন -এসহ অন্যান্য উপাদানও রয়েছে। আমাদের দেশে যে কোনো সময় ঢেঁড়শ চাষ করা যায়।

গাছের বৃদ্ধি এবং ঢেঁড়শের ভালো ফলনের জন্য মাটি অবশ্যই উর্বর, হালকা এবং ঝুরঝুরে হতে হবে। পানি শুকিয়ে গেলে টবের মাটিতে যেন ফেটে না যায় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। টবের মাটি ঝুরঝুরা রাখতে হলে সমপরিমাণে দো-আঁশ মাটি ও জৈব সার একসাথে ভালোভাবে মেশাতে হবে।

 

এঁটেল মাটিতে জৈব সারের পরিমাণ বাড়িয়ে দিতে হবে। সাধারণভাবে প্রতি টবের মাটিতে চা চামচের চার চামচ টিএসপি সার ও ৫ থেকে ৬ দিন আগে ভেজানো ১১৬ গ্রাম পরিমাণ সরিষার খৈল মেশানো যেতে পারে।

 

ঢেঁড়শের অনেক জাত রয়েছে। এর মধ্যে পুশা শাওনী, কাবুলি ডোয়ার্ফ, লক্ষ্ণৌ ডোয়ার্ফ, লং গ্রিন, লং হোয়াইট, পেন্টা গ্রনি-এসব বিদেশি জাত বেশ জনপ্রিয়।

গ্রীষ্ম, বর্ষা, শীত অর্থাৎ বছরের যে কোনো সময়ই ঢেঁড়শ গাছ লাগানো যায়। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই শীতের শেষভাগ থেকে বৈশাখ পর্যন্ত ঢেঁড়শ লাগানো যায়। এরপরও লাগানো যায় তবে নাবী ফসলে মোজাইক রোগ হয় বলে ফলন ভালো হয় না।

 

ঢেঁড়শের চারা রোপণকালীন সময় আঘাত সহ্য করতে পারে না বলে সরাসরি মূল টবে বুনতে হবে। ঢেঁড়শের জন্য মাঝারী ধরণের টব হলেই চলবে। প্রতি টবে ২ থেকে ৩টি বীজ বুনে দিতে হয়।চারা গজানোর পর একটি সবল চারা রেখে বাকিগুলো ফেলে দিতে হয়। খোসা শক্ত বলে ঢেঁড়শের বীজ দেরিতে গজায়। তাই বোনার আগে ২৮ ঘণ্টা পানিতে ভিজিয়ে রাখতে হবে।ঢেঁড়শ গাছ পানি সহ্য করতে পারে না। গাছের গোড়ায় দাঁড়ানো পানি তাড়াতাড়ি সরিয়ে দিতে হবে। প্রত্যেকটি টবে পানি যাতে না বেধে থাকে তার ব্যবস্থা করতে হবে।

 

গাছ ১০ থেকে ১২ সে.মি. বড় হলে টবের কিনার ঘেঁষে ১ চা চামচ ইউরিয়া ও ১ চা চামচ মিউরেট অব পটাশ মাটির সাথে মিশিয়ে দিতে হবে।

 

শুঁয়া পোকা কচি কাণ্ড ছিদ্র করে গাছের ক্ষতি করে। ভাইরাস (মোজাইক) রোগ ঢেঁড়শে প্রায়ই দেখা যায়। এ রোগে পাতা হলদে হয়ে কুঁচকে যায়। রোগাক্রান্ত গাছ তুলে মাটিতে পুঁতে দিতে হয়। শুঁয়া পোকার আক্রমণ থেকে ঢেঁড়শ গাছকে বাঁচাতে হলে প্রতি লিটার পানিতে ১ মি. লি. ডায়াজিনন-৮০, নুভাক্রণ-৪০, একালাক্স-২৫ এর যে কোনোটি অথবা ১ লিটার পানিতে ১ মিলি লিটার সিমবুশ-১০ মিশিয়ে স্প্রে করতে হবে।

 

বীজ বপনের দুই মাস পরেই ফল পাওয়া যায়। কচি অবস্থায় ঢেঁড়শ তুলতে হয়। দেরি হলে ফল শক্ত হয়ে যায় ও সেটা খাওয়ার অনুপযোগী হয়ে যায়। ঘন ঘন ঢেঁড়শ তুললে গাছে বেশি পরিমাণে ঢেঁড়শ আসে। গাছের ঠিক মতো যত্ন নিলে এক একটি ঢেঁড়শ গাছ থেকে অনেকদিন ফসল পাওয়া যায়।

 

খবর প্রতিদিন / সি.বা 


আরও খবর



নাসিরনগরে জশনে জুলুছে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী পালিত

নাসিরনগরে জশনে জুলুছে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী পালিত

প্রকাশিত:Wednesday ২০ October ২০21 | হালনাগাদ:Sunday ২৪ October ২০২১ | ৯৫জন দেখেছেন
Image


 

মোঃ আব্দুল হান্নান, নাসিরনগর :

 

 ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার  নাসিরনগর উপজেলা আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের উদ্যোগে বিশ্ব নবী হযরত মোহাম্মদ (সাঃ) এর পবিত্র জন্মদিন উপলক্ষে জশনে জুলুছে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী পালিত হয়েছে।

এ উপলক্ষে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের সমন্বয়ে এক বিশাল র‌্যালী  উপজেলার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে স্থানীয়  নাসিরনগর সরকারী ডিগ্রী কলেজ মাঠ প্রাঙ্গনে এক বিশাল আলোচনা সভায় মিলিত হন। 

উপজেলা আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের সভাপতি আলহাজ্ব মাওলানা রিয়াজুল করিম আল কাদরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন  ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১, সংসদীয় ২৪৩ নাসিরনগর আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব বিএম ফরহাদ হোসেন সংগ্রাম এমপি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান রাফি উদ্দিন আহমেদ।  আলোচনা সভায় উপজেলার বিভিন্ন আলেম ওলামায়েগণ  জ্ঞানগর্ভ পূর্ণ বক্তব্য রাখেন।

 

জানা গেছে ৫৭০ খ্রিঃ ১২ই রবিউল আউয়াল বিশ্বনবী হযরত মোহাম্মদ (সা:) পবিত্র মক্কা নগরীর কুরাইশ বংশে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবার নাম আব্দুল্লাহ ও মায়ের নাম আমেনা।  প্রতি বছর ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা এ দিনকে অত্যন্ত শ্রদ্ধার সাথে ঈদে মিলাদুন্নবী পালন করে থাকেন।

 খবর প্রতিদিন / সি.বা 


আরও খবর



রূপপুরে চুল্লিপাত্র স্থাপনের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার রূপপুরে চুল্লিপাত্র স্থাপনের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত:Sunday ১০ October ২০২১ | হালনাগাদ:Sunday ২৪ October ২০২১ | ৭৭জন দেখেছেন
ডেস্ক এডিটর

Image


ডেস্ক এডিটর :


প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার রূপপুরে নির্মাণাধীন দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মূল যন্ত্র পারমাণবিক চুল্লিপাত্র (রিঅ্যাক্টর প্রেসার ভেসেল-আরএনপিপি) স্থাপন কাজের উদ্বোধন করেছেন। রোববার (১০ অক্টোবর) দুপুর পৌনে ১২টায় গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে এটি উদ্বোধন করেন তিনি।

 

সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, পারমাণবিক চুল্লিপাত্র বসানোর এই ঘটনা পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এর ফলে প্রকল্পটি নির্ধারিত সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়েই এগিয়ে যাবে। ওই কেন্দ্রের যে যন্ত্রে নিউক্লিয়ার ফুয়েল (পারমাণবিক জ্বালানি) ইউরেনিয়াম থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয় তার মূল কাঠামো হচ্ছে এই বিশেষ যন্ত্র, পরমাণু চুল্লি)। এটিকে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের হৃদপিণ্ড বলা হয়।

 

এর আগে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রটিতে রাশিয়ার সেরা কর্মকৌশল চর্চা, বহু বছরের অভিজ্ঞতা এবং বৈজ্ঞানিক চিন্তাকে কাজে লাগানো হয়েছে উল্লেখ করে রাশিয়ার পরমাণু শক্তি করপোরেশন রোসাটমের মহাপরিচালক আলেক্সি লিখাচেভ বলেন, বিদ্যুৎ ইউনিটের অ্যাকটিভ ও প্যাসিভ ব্যবস্থার অনন্য সংমিশ্রণ কেন্দ্রের নিরাপদ পরিচালনা নিশ্চিত করবে এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পিত মাত্রার নিশ্চয়তা দেবে।

 

তিনি বলেন, পারমাণবিক বিদ্যুৎ শিল্পের উন্নয়ন কেবল বাংলাদেশে জ্বালানি সরবরাহের সমস্যার সমাধান করবে না, এই অঞ্চলের উন্নয়নে অবদান রাখবে এবং জনগণের জীবনযাত্রার মানও বৃদ্ধি করবে।

লিখাচেভ আরও বলেন, রাশিয়া ও বাংলাদেশের মধ্যে এই সহযোগিতা কৌশলগত। আমি এই মর্মে আত্মবিশ্বাসী যে বিদ্যুৎ প্রকৌশল এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে আরও অনেক প্রকল্প রয়েছে যা রাশিয়ান এবং বাংলাদেশি বিশেষজ্ঞরা একসঙ্গে বাস্তবায়ন করতে পারবেন।

 

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমান অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন রোসাটমের মহাপরিচালক অ্যালেক্সি লিখাচেভ। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সচিব জিয়াউল হাসান স্বাগত বক্তৃতা করেন। অনুষ্ঠানে নির্মাণাধীন বিদ্যুৎকেন্দ্রের ওপর একটি ভিডিওচিত্র পরিবেশিত হয়।

 

পারমাণবিক প্রকল্পের নিয়ন্ত্রণকারী আন্তর্জাতিক সংস্থা-ইন্টারন্যাশনাল অ্যাটমিক অ্যানার্জি অ্যাসোসিয়েশন (আইএইএ) গাইড লাইন অনুযায়ী এবং সংস্থাটির কড়া নজরদারির মধ্যদিয়েই রূপপুর প্রকল্পের কাজ এগিয়ে চলেছে। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের (আরএনপিপি) প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন।

 

সূত্র জানায়, ইউনিট-১ এর ভৌত কাঠামোর ভেতরে রিয়্যাক্টর প্রেসার ভেসেল স্থাপনের মাধ্যমে প্রায় সব ধরনের পারমাণবিক যন্ত্রাংশ স্থাপন সম্পন্ন হবে। এর ফলে এই ইউনিটের রিয়্যাক্টর ভবনের ভেতরের কাজ প্রায় শেষ হবে। ২০২৩ সালে প্রথম ইউনিট থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ করার লক্ষ্যে কাজ চলছে।

 

স্বাধীনতার পর গত ৫০ বছরের মধ্যে রূপপুর প্রকল্পই দেশের সবচেয়ে বড় এবং অর্থনৈতিক দিক থেকে সর্বাধিক ব্যয়বহুল প্রকল্প। পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২৩ সালে প্রথম ইউনিট থেকে ১২০০ মেগাওয়াট এবং ২০২৪ সালে দ্বিতীয় ইউনিট থেকেও ১২০০ মেগাওয়াট অর্থাৎ মোট দুই হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে।

 

খবর প্রতিদিন / সি.বা


আরও খবর



কলেজছাত্রকে তুলে এনে বিয়ে, তরুণীর বিরুদ্ধে মামলা

২৩ বছরের এক ছেলেকে অপহরন করে নিয়ে ২৫ বছরের এক মেয়ের জোরপূর্বক বিয়ে

প্রকাশিত:Monday ১৮ October ২০২১ | হালনাগাদ:Sunday ২৪ October ২০২১ | ৪৩০জন দেখেছেন
ডেস্ক এডিটর

Image


২৩ বছরের এক ছেলেকে অপহরন করে নিয়ে ২৫ বছরের এক মেয়ের জোরপূর্বক বিয়ে ! পটুয়াখালী সরকারি কলেজের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ছাত্র নাজমুল আকনকে অপহরণ করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে জোর করে বিয়ে করার অভিযোগ উঠেছে এক তরুণী । এ ঘটনায় নাজমুল বাদী হয়ে পটুয়াখালী সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেছেন।

 

মামলায় ইশরাত জাহান পাখি  নামের ওই তরুণীসহ অজ্ঞাতপরিচয় ছয় থেকে সাতজনকে আসামি করা হয়েছে। মামলাটি গ্রহণ করে পটুয়াখালী সদর থানাকে নথিভুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

 

এদিকে নাজমুলকে জোর করে বিয়ে করার একটি ভিডিও চিত্র আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছে। মামলা দায়েরের পর  ১৫ অক্টোবর দুপুর থেকে ওই নারী নিজেকে নাজমুলের স্ত্রী দাবি করে নাজমুলের বাবার বাড়ি মির্জাগঞ্জে অবস্থান করছেন। এ ঘটনায় মির্জাগঞ্জ এলাকায় চাঞ্চল্যর সৃষ্টি হয়েছে।

 

নাজমুল মির্জাগঞ্জ উপজেলার মির্জাগঞ্জ ইউনিয়নের জালাল আকনের ছেলে। অভিযুক্ত ইশরাত জাহান পাখি একই উপজেলার গাজিপুর সাকিনের মো. আউয়ালের মেয়ে।

আসামি ইশরাত জাহান পাখি দীর্ঘদিন ধরে নাজমুলকে মোবাইল ফোনে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রেমের প্রস্তাবসহ বিয়ের প্রলোভন দেখান। কিন্তু নাজমুল রাজি না হওয়ায় গত ২৭ সেপ্টেম্বর পটুয়াখালী লঞ্চঘাট এলাকা থেকে নাজমুলকে অপহরণ করা হয়। পরদিন অজ্ঞাত একটি স্থানে নিয়ে সাত থেকে আটজন ব্যক্তি তাকে বলপূর্বক তাকে একটি নীল কাগজে সই করতে বাধ্য করেন। পরে তাকে ওইদিনই শহরে ছেড়ে দেওয়া হয়। ধারণা করা হচ্ছে, এ দিয়ে তারা একটি কাবিননামা তৈরির পায়তারা করছেন।

 

এদিকে নাজমুলকে অপহরণ এবং পরে জোর করে বিয়ে করার একটি ভিডিও ফুটেজ আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছে।

৪৮ সেকেন্ডের ওই ফুটেজে দেখা যায়, একটি কক্ষে একজন তরুণীর বাম পাশে নাজমুল বসে আছেন। পেছন থেকে নাজমুলের মাথার ধরে রেখেছেন এক ব্যক্তি। সেখানে আরও কয়েকজনের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। ভিডিওতে ওই তরুণীতে নীল কাগজে সই করতে দেখা গেছে। সই করার পর তরুণীকে মিষ্টি খাইয়ে দেন একজন। পরে নাজমুলের মুখে মিষ্টি দিলে তিনি ফেলে দেন।

 

খবর প্রতিদিন/ সি.বা


আরও খবর



শীতের আগমনী বার্তা নিয়ে বঙ্গে এসেছে হেমন্ত

আজি বাংলায় নেমেছে হেমন্ত

প্রকাশিত:Sunday ১৭ October ২০২১ | হালনাগাদ:Sunday ২৪ October ২০২১ | ১২৬জন দেখেছেন
ডেস্ক এডিটর

Image


 

শীত-শরতের সেতু বাঁধতে বঙ্গের ভূমিতে নেমেছে হেমন্তের দিন। মাঠে মাঠে হালকা বাতাসে দুলছে সোনার ধান। কার্তিকের সবুজ মধ্যাহ্নে ফসলের মাঠে চোখজুড়ে স্বপ্ন বুনছে কৃষান-কৃষানিরা। স্কুল বালিকারা ধানক্ষেতের আল ডিঙিয়ে হেঁটে যাচ্ছে শিশিরভেজা পায়ে, নদীতে হাঁসের বাথান মেতেছে জলকেলিতে, সারি সারি ডিঙি নৌকা দেহ এলিয়ে চিৎ হয়ে শুয়ে আছে আকাশের তলে। দূরের অরণ্যঘেরা পাহাড়টা ক্রমে ঢেকে দিচ্ছে মৃদু কুয়াশা। জলাঙ্গীর ঢেউয়ে ভেজা এ বাংলায় এমনই বিচিত্র দৃশ্যের আবাহন নিয়ে হাজির হয়েছে চতুর্থ ঋতু হেমন্ত। এরই মধ্য দিয়ে প্রকৃতিও শোনাচ্ছে শীতের পূর্বাভাস

 

আজ পহেলা কার্তিক ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, হেমন্তের প্রথম দিন। জীবন ও প্রকৃতিতে এক আশ্চর্য বিভোরতা-রোমান্টিকতা নিয়ে আসে হেমন্ত। বাংলা সাহিত্যে কবি-শিল্পীদের সৃজনে নানা মাত্রিকতা ও আঙ্গিকে ধরা দিয়েছে নবান্নের এ ঋতু। বাংলা কবিতায় হেমন্ত বন্দনা সবিশেষ স্থানজুড়ে বিরাজ করছে। তিমির হননের কবি জীবনানন্দ দাশ তো পরাবাস্তবতাকেই জীবন ও কবিতার সারবস্তু হিসেবে প্রত্যক্ষ করেছেন। শঙ্খচিল, শালিক কিংবা ভোরের কাক হয়ে বাংলার এ সবুজ করুণ ডাঙায় বারবার ফেরার আকুতি প্রকাশ করেছেন।

 

এ বিভোরতা নিয়ে কবিতায় লিখেছেন- ‘প্রথম ফসল গেছে ঘরে,-/ হেমন্তের মাঠে মাঠে ঝরে/ শুধু শিশিরের জল; অঘ্রানের নদীটির শ্বাসে/ হিম হয়ে আসে/ বাঁশ পাতা মরা ঘাস- আকাশের তারা!/ বরফের মতো চাঁদ ঢালিছে ফোয়ারা !/ ধানক্ষেতে মাঠে/ জমিছে ধোঁয়াটে/ ধারালো কুয়াশা!/ ঘরে গেছে চাষা ;/ ঝিমায়াছে এ- পৃথিবী ,- তবু পাই টের/ কার যেন দুটো চোখে নাই এ ঘুমের কোনো সাধ!’ [কবিতা- পেঁচা (মাঠের গল্প)]

ধান মাঠের দৃশ্য শিকারি কবি নবান্নের অবিচ্ছিন্ন অনুভবে লিখেছেন- ধান কাটা হয়ে গেছে কবে যেন ক্ষেত মাঠে পড়ে আছে খড়/ পাতা কুটো ভাঙা ডিম সাপের খোলস নীড় শীত। এই সব উৎরায়ে ওইখানে মাঠের ভিতর/ ঘুমাতেছে কয়েকটি পরিচিত লোক আজ কেমন নিবিড়। [কবিতা- ধান কাটা হয়ে গেছে]

 

কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কবিতায়ও হেমন্তগীত দুর্দান্তভাবে উদ্ভাসিত হয়েছে। তার লেখায়- ‘অন্ন জোটে না, কথা জোটে মেলা,/ নিশিদিন ধরে এ কি ছেলেখেলা!/ ভারতীরে ছাড়ি ধরো এইবেলা/ লক্ষ্মীর উপাসনা।’ [কবিতা- পুরস্কার]

ষড়ঋতুর এ দেশে কার্তিক-অগ্রহায়ণ দুই মাস হেমন্তকাল। এখন ধীরে কমছে সূর্যের প্রখরতা, ছোট হয়ে আসছে দিনের আয়ু। কদিন বাদেই এ ভূ-ভাগে জেঁকে বসবে শীত। শীতের পূর্বভাগে মূলত এ ঋতু ঘিরে বাঙালির চিরায়ত যে নবান্নের ছোঁয়া তা দিন দিনই মলিন হয়ে যাচ্ছে। নবান্ন উৎসবের ঐতিহ্যগত যে কদর, সেটিও যেন বিবর্ণ অনেকটাই। তবুও সব মলিনতা তুচ্ছ করে অপরূপ রূপে সেজেছে হেমন্ত।

 

বিদ্রোহী কবি নজরুল ইসলাম কবিতায় হেমন্তের বন্দনায় লিখেছেন- ‘ঋতুর খাঞ্চা ভরিয়া এল কি ধরণির সওগাত?/ নবীন ধানের আঘ্রাণে আজি অঘ্রাণ হল মাত।/ ‘গিন্নি-পাগল’ চালের ফিরনি/ তশতরি ভরে নবীনা গিন্নি/ হাসিতে হাসিতে দিতেছে স্বামীরে, খুশিতে কাঁপিছে হাত।/ শিরনি বাঁধেন বড়ো বিবি, বাড়ি গন্ধে তেলেসমাত!’ [কবিতা- অঘ্রাণের সওগাত]

 

হেমন্তের প্রথম মাস কার্তিক ও দ্বিতীয় মাস অগ্রহায়ণেরও রয়েছে ভিন্ন রূপ। হেমন্ত একদিকে যেমন শরতের বিদায় টঙ্কা বাজায়, অন্যদিকে শীতের আগমনী বার্তা শোনায়। এখন কৃষকের গোলার ধান প্রায় শেষ দিকে। এ কারণে অনেকে এ মাসকে ‘মরা কার্তিক’ বলেও অভিহিত করে। তবে অগ্রহায়ণে ধান কাটা শেষে কার্তিকের শূন্য গোলা ভরে উঠে সোনার ধানে। গ্রামীণ জীবনে তখন কেবলই ছড়ায় পাকা ধানের মিষ্টি ঘ্রাণ। রাতে প্রতিবেশী বধূদের ঢেঁকিতে ধান ভানার শব্দ ভেসে আসে দূর থেকে।

 

দেশের কিছু অঞ্চলে এরই মধ্যে ধান কাটা শুরু হয়েছে। এটা আগাম আমন ধান কাটার মৌসুম। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলে মহাধুমধামে চলছে ফসল কাটা ও মাড়াইয়ের কাজ। কার্তিকের মাঝামাঝি সারাদেশেই ফসলের মাঠে ব্যস্ততা বাড়বে। ধুম পড়বে সোনার ধান ঘরে তোলার। এরপরই নতুন চালে শুরু হবে নবান্ন। পিঠা-পুলির উৎসব।

 

খবর প্রতিদিন/ সি.বা 


আরও খবর