Logo
আজঃ Monday ০৮ August ২০২২
শিরোনাম
রূপগঞ্জে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে ডিজিটাল সনদ ও জাতীয় পরিচয়পত্র বিতরণ কাউন্সিলর সামসুদ্দিন ভুইয়া সেন্টু ৬৫ নং ওয়ার্ডে ভোটার তালিকা হালনাগাদ কর্মসুচীতে অংশগ্রহন করেন চান্দিনা থানায় আট কেজি গাঁজাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার নাসিরনগরে ছাত্রদলের বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ নাসিরনগর বাজারে থানা সংলগ্ন আব্দুল্লাহ মার্কেটে দুই কাপড় দোকানে দুর্ধষ চুরি। ই প্রেস ক্লাব চট্রগ্রাম বিভাগীয় কমিটির মতবিনিময় সম্পন্ন ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ৬ কেজি গাঁজাসহ হাইওয়ে পুলিশের হাতে আটক এক। সোনারগাঁয়ে পুলিশ সোর্স নাম করে ডাকাত শাহ আলমের কান্ড নিখোঁজ সংবাদ প্রধানমন্ত্রীর এপিএসের আত্মীয় পরিচয়ে বদলীর নামে ঘুষ বানিজ্য

‘মুক্তিযুদ্ধের আদর্শকে বিনষ্ট করতেই বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা’

প্রকাশিত:Saturday ০৬ August ২০২২ | হালনাগাদ:Monday ০৮ August ২০২২ | ১৮জন দেখেছেন
Image

কৃষিমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, যে আদর্শকে বুকে নিয়ে আমরা যুদ্ধ করেছিলাম, সেই আদর্শকে বিনষ্ট করার জন্যই ঘাতকেরা বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করেছে। কারণ তারা জানতো, শেখ কামাল বেঁচে থাকলে ফিনিক্স পাখির মতো বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়নে ঝাঁপিয়ে পড়বে। এ পথটা রুদ্ধ করতেই তারা শেখ কামালকে হত্যা করে।

শুক্রবার (৫ আগস্ট) বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের (টিএসসি) মিলনায়তনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জেষ্ঠ পুত্র শেখ কামালের জন্মদিন উপলক্ষে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ উপ-কমিটির উদ্যোগে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

এসময় তিনি উপস্থিত সবাইকে বঙ্গবন্ধুর আদর্শে উজ্জীবিত হওয়ার আহ্বান জানান।

এসময় বাংলাদেশের জন্য বঙ্গবন্ধুর পরিবারের ত্যাগকে স্মরণ করে রাজনৈতিক বিশ্লেষক সুভাষ সিংহ রায় পাকিস্তানি মানবাধিকার কর্মী আহমেদ সেলিমের বরাতে বলেন, ১৯৭১ সালের ২৮ ডিসেম্বর বঙ্গবন্ধুকে জেলখানা থেকে শিহালা রেস্ট হাউজে নিয়ে যাওয়া হয়। তারপর তিনি প্রথম তিনটা পত্রিকা এবং একটা রেডিও পান। রেডিও’র নব ঘুরানোর সময় তিনি শেখ হাসিনার কণ্ঠস্বর শুনতে পান। যাতে শেখ হাসিনা বলছিলেন বাংলাদেশে পাক বাহিনীর অত্যাচারের কথা। তখন বঙ্গবন্ধু টের পান শেখ হাসিনা বেঁচে আছেন। একটা পরিবার দেশের জন্য কী পরিমাণ ত্যাগ স্বীকার করতে পারে, তা বঙ্গবন্ধুর পরিবারকে না দেখলে বোঝা যায় না।

টিএসসিতে ছাত্রলীগের করণীয় সম্পর্কে দিকনির্দেশনা প্রদান করে তিনি বলেন, মৌলবাদীরা টিএসসিতে মাঝেমধ্যে বিষাক্ত শ্বাস ফেলে। ছাত্রলীগের বন্ধুরা খেয়াল রাখবেন, যেন মৌলবাদীদের আকাঙ্ক্ষা পূরণ না হয়। তাদের অপছায়া থেকে যেন টিএসসি সবসময় মুক্ত থাকে। কারণ এই টিএসসি শেখ কামালের স্মৃতি বহন করে। এখানকার সর্বস্তরে ছড়িয়ে আছে শেখ কামালের স্মৃতি।

বেঁচে থাকলে কর্ম এবং গুণে শেখ কামাল মার্শাল টিটোকে ছাড়িয়ে যেতেন বলে উল্লেখ করেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মশিউর রহমান। তিনি বলেন, যুগোস্লাভিয়ার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জোসেফ টিটো শেখ কামালকে নিজের কাছে নিয়ে গিয়েছিলেন। যেন কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ করে শেখ কামাল টিটোর মতো লড়াকু সৈনিক হতে পারে। শেখ কামাল হয়েছিলেনও তাই। কিন্তু তার এই যোগ্যতাটুকুকে হানাদাররা কাজে লাগাতে দেয়নি। কর্ম, গুণে টিটোকে ছাড়িয়ে যাবার পূর্বেই ঘাতকের বুলেটের আঘাতে প্রাণ যায় শেখ কামালের।

মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের শক্তিকে সত্য ইতিহাস সংরক্ষণের তাগিদ জানিয়ে ড. খন্দকার বজলুল হক বলেন, যারা বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেছে, তারা বাঙালি নয়, তারা বাংলাদেশি, তথা রূপান্তরিত পাকিস্তানি। আপনারা এদের থেকে সাবধানতা অবলম্বন করুন। নিজে ইতিহাস সৃষ্টি করুন এবং এটাকে সংরক্ষণও করুন। আমরা ইতিহাস সংরক্ষণ না করলে আমাদের শত্রুরা, মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধের শক্তি ইতিহাস বিকৃত করবে। এভাবে আমরা এগোতে পারবো না।

আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য এবং বন ও পরিবেশ বিষয়ক উপ-কমিটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. খন্দকার বজলুল হকের সভাপতিত্বে ও আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক উপ-কমিটির সম্পাদক দেলোয়ার হোসেনের সঞ্চালনায় সভায় ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আব্দুল মান্নান চৌধুরীসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।


আরও খবর



গোল উৎসবে আসর শুরু বায়ার্নের

প্রকাশিত:Saturday ০৬ August ২০২২ | হালনাগাদ:Saturday ০৬ August ২০২২ | জন দেখেছেন
Image

রবার্ট লেভানদোভস্কিকে হারানোর ধাক্কাটা যেন ভালোভাবেই সামলে উঠেছে বায়ার্ন মিউনিখ। সাত দিন আগে লাইপজিগকে গোলবন্যায় ভাসিয়ে জার্মান সুপার কাপ জয়ী দলটি এবার বুন্দেসলিগায়ও মৌসুম শুরু করেছে বড় জয় দিয়ে।

শুক্রবার রাতে আইনট্রাখট ফ্রাঙ্কফুর্টকে তাদেরই মাঠে গুঁড়িয়ে দিল ইউলিয়ান নাগেলসমানের দল। ম্যাচটি ৬-১ গোলে জিতেছে রেকর্ড চ্যাম্পিয়নরা।

ম্যাচের শুরু থেকেই আগ্রাসী ছিল বায়ার্ন। ১০ মিনিটের মধ্যেই প্রতিপক্ষের জালে দুবার বল পাঠায় তারা। পঞ্চম মিনিটে কিমিখ অনেক দূর থেকে ফ্রি কিকে দলকে এগিয়ে নেওয়ার পাঁচ মিনিট পর জোরালো শটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন পাভার্দ।

২৯তম মিনিটে হেডে বায়ার্নের হয়ে গোলের খাতা খোলেন লিভারপুল থেকে আসা মানে। ছয় মিনিট পর টমাস মুলারের পাসে কাছ থেকে দলের চতুর্থ গোলটি করেন জার্মান মিডফিল্ডার মুসিয়ালা। বিরতির একটু আগে ৫-০ করেন জিনাব্রি।

বিরতির পর অবশ্য বায়ার্নকে আরও বিধ্বংসী হতে দেয়নি স্বাগতিকরা। ৬৪তম মিনিটে ফরোয়ার্ড কোলো মুয়ানি একটি গোল শোধ করেন। তবে ৮৩তম মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোলে ৬-১ করে ফেলেন মুসিয়ালা।


আরও খবর



পুকুরে ডুবে মামা-ভাগনের মৃত্যু

প্রকাশিত:Thursday ২১ July ২০২২ | হালনাগাদ:Monday ০৮ August ২০২২ | ৭৫জন দেখেছেন
Image

ফেনীতে পানিতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তারা সম্পর্কে মামা-ভাগনে। বৃহস্পতিবার (২১ জুলাই) দুপুরে ফেনী সদর উপজেলার পাঁচগাছিয়া ইউনিয়নের উত্তর কাশিমপুর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

মারা যাওয়া শিশুরা হলো সদর উপজেলার পাঁচগাছিয়া ইউনিয়নের উত্তর কাশিমপুর গ্রামের মমিন ফকির বাড়ির মেহেদি হাসানের ছেলে মো. নুহান তুর (৯) ও বেলাল হোসেনের ছেলে মো. ইহাব হোসেন (৮)

তারা দুজনই মাদরাসার ছাত্র ও সম্পর্কে মামা-ভাগনে হন। একজন ঢাকার একটি হেফজ মাদরাসায় পড়াশোনা করতো। অপরজন উত্তর কাশিমপুর ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসার নুরানি বিভাগের ছাত্র ছিল।

পারিবারিক সূত্র জানায়, দুপুর ১২টার দিকে বাড়ির পাশে পুকুর পাড়ে খেলতে যায় নুহান ও ইহাব। দুপুরে কোনো একসময় তারা দুজনই পানিতে ডুবে মারা যায়। দীর্ঘক্ষণ বাড়ির লোকজন তাদের দেখতে না পেয়ে খোঁজাখুজি শুরু করেন। একপর্যায়ে তারা পুকুরে দুজনের মরদেহ ভাসতে দেখেন। পরে তাদের উদ্ধার করে ফেনী সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

ফেনী ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালে আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) মো. ইকবাল হোসেন ভূইয়া জানান, শিশু দুটিকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।

ফেনী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নিজাম উদ্দিন পানিতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যুর সত্যতা নিশ্চিত করেন।


আরও খবর



টি-টেন লিগে বাংলা টাইগার্সে খেলবেন সাকিব

প্রকাশিত:Friday ২২ July 20২২ | হালনাগাদ:Saturday ৩০ July ২০২২ | ২৩জন দেখেছেন
Image

স্বীকৃত ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের সবচেয়ে সংক্ষিপ্ত ফরম্যাট টি-টেন ক্রিকেট টুর্নামেন্টে খেলবেন বাংলাদেশের তারকা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। টি-টেনের ষষ্ঠ আসরে বাংলা টাইগার্সের আইকন ক্রিকেটার থাকবেন সাকিব।

এখন পর্যন্ত অবশ্য আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি। তবে জানা গেছে, দুই পক্ষের আলোচনা ফলপ্রসু হয়েছে, শিগগিরই চুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত হবে।

প্রতি বছরের মতো এবারও সংযুক্ত আরব আমিরাতে বসবে টুর্নামেন্টটি। এবারের আসর শুরু হবে নভেম্বরে। ডিসেম্বরের শুরুতে দেশের মাটিতে ভারতের বিপক্ষে সিরিজ থাকায় সাকিবকে অবশ্য টি-টেন লিগে পুরো মৌসুম নাও খেলতে দেখা যেতে পারে।

বাংলা টাইগার্স বাংলাদেশি মালিকানাধীন দল। তবে গত আসরে দলটির সাথে কোনো বাংলাদেশি ক্রিকেটার বা কোচ ছিলেন না। এবার সাকিব ছাড়াও কোচিং প্যানেলে থাকছেন বাংলাদেশের আরও দুজন।

দলের পরামর্শক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন প্রখ্যাত ক্রিকেট কোচ ও বিশেষজ্ঞ নাজমুল আবেদিন ফাহিম। প্রধান কোচের ভূমিকায় থাকবেন বাংলাদেশের সাবেক তারকা ক্রিকেটার আফতাব আহমেদ। আফতাব এর আগেও বাংলা টাইগার্সের কোচ হিসেবে কাজ করেছেন।

এছাড়া ২০২০ সালে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দলকে বিশ্বকাপ জেতাতে বড় ভূমিকা রাখা রিচার্ড স্টনিয়ারকে বাংলা টাইগার্স দলের ফিটনেস ট্রেনারের দায়িত্বে দেখা যাবে।


আরও খবর



স্বল্পবাস হলেই হেনস্তার অধিকার জন্মায় না

প্রকাশিত:Saturday ৩০ July ২০২২ | হালনাগাদ:Thursday ০৪ August ২০২২ | ১৬জন দেখেছেন
Image

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে স্লিভলেস ব্লাউজ ও শাড়ি পরে ফটো তুলতে গিয়ে এক মেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়েরই এক শিক্ষিকা কর্তৃক সহিংসতার শিকার হয়েছেন। সাথে নির্যাতিত হয়েছে একজন পেশাদার ফটোগ্রাফার ও তার মা।

সেই শিক্ষিকা মনে করেন, স্লিভলেস ব্লাউজ পরে ফটো শ্যুট করা পর্নগ্রাফি। তার মুখের ভাষা কতটা কদর্য হতে পারে তার কিছুটা প্রমাণ সেই ফটোগ্রাফার তার লেখা এক চিটিতে বলেছেন যেটা এখন ফেসবুকে ভেসে বেড়াচ্ছে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে এক ছাত্রীর যৌন নিগ্রহের প্রতিবাদে যখন আন্দোলন চলছে, তখন এমন এক খবর এলো।

আমরা ভুল যাইনি নরসিংদি রেল স্টেশনে নিপীড়নের শিকার হওয়া এক কিশোরীর কথা। মফস্বল শহরে কোন এক বোরখাওয়ালি নারী হামলে পড়েছিল চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকা সেই মেয়েটির ওপর। সাথে ছিল স্টেশনে ঘুরে বেড়ানো বখাটেরা।

কিন্তু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো দেশের প্রধানতম বিদ্যাপীঠের শিক্ষিকার আচরণ, তার মনোজগত ও মুখের ভাষা যদি এমন হয় তাহলে ভাবনার বিষয় আছে এই জাতির আগামী নিয়ে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কী ব্যবস্থা নিবে বা এ বিষয়ে কি বক্তব্য দিবে সেটার অপেক্ষা না করে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ছাত্রীর এখন অবশ্য কাজ হবে স্লিভলেস ব্লাউজ ও শাড়ি পরে সেই শিক্ষিকার সামনে গিয়ে ক্যাটওয়াক করা।

নারীপোশাকের ক্ষেত্রে সামাজিক নিয়মাবলি কারা নির্ধারণ করে সেটা আমরা এখন বুঝতে পারি। কিন্তু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো জায়গায় নির্ধারকের ভূমিকায় যখন এমন এক সহিংস শিক্ষিকাকে পাওয়া যায় তখন বলতে বাধ্য হতে হয়, এটি কী আর বিশ্ববিদ্যালয় আছে? নাকি বড় মাদ্রাসায় পরিণত হয়েছে যেটা অনেকে বলছেন অনেকদিন ধরে। এমন মন মানসিকতা যাদের তাদের কাছে পড়তে এসে কী শিখছে আমাদের সন্তানেরা, সেই প্রশ্ন উঠাও অমূলক নয়।

উত্তেজনা এক বিশেষ রকম অনুভূতি যা মস্তিষ্কে তৈরি হয় এবং মানুষ তার অধীন হয়ে পড়ে। এই শিক্ষিকা বলতে চেয়েছেন স্লিভলেস ব্লাউজ পরলে উত্তেজনার বশে নাকি পুরুষরা এই মেয়েকে যৌন হেনস্তা করতে পারে, এমনকি ধর্ষণও।

অর্থাৎ, পুরুষের উত্তেজনা যেন না আসে সেটা দেখভাল করার দায়িত্ব নারীর নিজেরই। এমন উর্বর মস্তিষ্কের শিক্ষিকার মনোজগৎ বিশ্লেষণ করলে বোঝা যায় তার কাছে নারীর উত্তেজক পোশাক এক বিশাল বড় অপরাধ। তার যুক্তি নারী ‘উত্তেজক পোশাক’ পরিধান করে বলেই, পুরুষ উত্তজেনার বশবর্তী হয়ে তার উপর চড়াও হতে বাধ্য হয়।

যে সমাজ নারীকে স্বল্প পোশাক পরিধানের দোষে ধর্ষণের জন্য দায়ী করে, সেই সমাজকে কীভাবে চপেটাঘাত করা যাবে সেটা নিয়ে ভাবা দরকার। নারী স্বল্প পোশাক পরিধান করলেই তাকে ধর্ষণ করবার শাসন করবার অধিকার কারও জন্মায় না। নারীর স্বল্পবাস পুরুষের এবং পুরুষতান্ত্রিক নারীর অজুহাত বই কিছুই না।

নিজের উত্তেজনা প্রশমন করতে না পারলে সেটা যার যার অক্ষমতা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই শিক্ষিকা বলছিলেন, স্লিভলেস ব্লাউজের প্রকাশ্যে ছবি তোলা পর্নগ্রাফির পর্যায়ে পড়ে। এই বিকৃত মস্তিষ্কের নারীকে কে বোঝাবে যে অতি খোলামেলা পোশাক পরলেও নারীকে হেনস্তা করবার অধিকার তার নেই।

পোশাক হবে আরামদায়ক, স্বচ্ছন্দ, সুবিধাজনক ও রুচিসম্মত। সে যেই হোক না কেন, ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক-শিক্ষিকা, শিক্ষাকর্মী সকলের জন্যই। সমাজ-নির্মিত যে কাম্য ও স্বীকৃত নারীত্ব, এই লিঙ্গ-নির্মাণের অনেকগুলি বিধি-নিষেধের একটি প্রধান খাত মেয়েদের পোশাক। তার প্রতিফলন রাষ্ট্র-চালিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ঘটলো। অশ্লীলতার যুক্তি-প্রতিযুক্তির তর্কে না গিয়ে সহজ জিজ্ঞাসা, তা হলে মুখ থেকে পা পর্যন্ত ঢাকা মধ্যপ্রাচ্যের আপামর নারী-সমাজের হাজার বছর আগের প্রবর্তিত ড্রেসকোড হিজাবই তাহলে সমাধান?

এই ভদ্রমহিলা পড়ালেখা করেছেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো প্রতিষ্ঠানে কাজ করছেন। কিন্তু উচ্চ শিক্ষিত হয়েও তিনি মুক্ত আকাশের তলায় দাঁড়াতে ব্যর্থ হয়েছেন। তার কাছে নারী শুধু আবৃত আর অনাবৃতের ছকেই বাঁধা। তার হাঁটু, গ্রিবা, বাহুমূল কিংবা ক্লিভেজ অনাবৃত থেকে গেলে তার মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে।

নারী ধর্ষণ ও নিগ্রহের র মতো ন্যক্কারজনক ঘটনা প্রতিনিয়ত যেভাবে বেড়ে চলেছে, তাতে বোঝা যায় সমাজের কাছে নারীর মূল্যায়ন কোথায় সীমাবদ্ধ। শিশু থেকে সন্ন্যাসিনী, আট থেকে আশি— সকলেই যেখানে নারী দেহ হিসেবে ভাবিত ও চিহ্নিত হচ্ছেন, তখন শঙ্কার মাত্রা বহু গুণ বেড়ে যায়। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে নারীবাদী আন্দোলনকারীরা নারীদের প্রতি অবমাননাকর আচরণের বিরুদ্ধে প্রবল জনমত গঠনের চেষ্টা করে চলেছেন নিরন্তর। বাং

লাদেশের নারী সমাজও বহুদিন ধরেই এই লড়াইটা করছেন। প্রশ্ন হলো সেই লড়াইয়ে আদৌ সমাজের সর্বস্তরের মেয়েরা অংশগ্রহণ করতে পারছেন কিনা বা পারলেও সদিচ্ছা কতটুকু।

পারছে না বা করছে না যে, তার প্রমাণ এই শিক্ষিকা যিনি পুরুষের মতো চিন্তাভাবনা করে আত্মপ্রসাদ লাভ করেন। পুরুষের ঠিক-ভুল সিদ্ধান্তে তাল মিলিয়ে পথ চলে আত্মসন্তুষ্টির এমন ঘটনা আকছার লক্ষ্য করা যায়। এই শিক্ষিকা মানুষ নয়— নারী হিসেবে নিজেকে ভাবতে ভালোবেসে পুরুষের অঙ্গুলি হেলনে নড়াচড়া করার মধ্যে প্রশান্তি খুঁজেন। তা সে ন্যায় হোক বা অন্যায়।

লেখক: প্রধান সম্পাদক, গ্লোবাল টেলিভিশন।


আরও খবর



সিইসি কথায় কথায় বলে ফেলেছেন, মন্তব্য করতে চাই না: ববি হাজ্জাজ

প্রকাশিত:Tuesday ১৯ July ২০২২ | হালনাগাদ:Friday ২৯ July ২০২২ | ১৮জন দেখেছেন
Image

ভোটের মাঠে তলোয়ার নিয়ে আসা সংক্রান্ত প্রধান নির্বাচন কমিশনের (সিইসি) দেওয়া বক্তব্যের বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের (এনডিএম) চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ।

জাগো নিউজকে তিনি বলেন, পুরো জিনিসটা (বৈঠক) লাইভে রেকর্ড আছে। এ বিষয়ে আমি কিছু বলতে চাই না। এটা উনি (সিইসি) কথায় কথায় বলে ফেলেছেন।

মঙ্গলবার জাগো নিউজকে এ কথা বলেন ববি হাজ্জাজ।

তবে ঘটনার শুরু দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কর্মপদ্ধতি ঠিক করতে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ডাকা প্রথম দিনের সংলাপে। রোববার (১৭ জুলাই) সকালে ববি হাজ্জাজের নেতৃত্বে আসা জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের (এনডিএম) উদ্দেশ্যে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেন, ‘ভোটের মাঠে কেউ যদি তলোয়ার নিয়ে দাঁড়ায়, তাহলে প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দলগুলোকে রাইফেল অথবা তলোয়ার নিয়ে দাড়ানোর পরামর্শ দিচ্ছি।’ জবাবে ববি হাজ্জাজ জানিয়েছিলেন, ‘এটা আমাদের আইনে পারমিট (অনুমোদন) করে না।’

সিইসি এমন বক্তব্যের সমালোচনা হয় বিভিন্ন রাজনৈতিক মহল থেকে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই এর সমালোচনা করেন। সিইসি সহিংসতা উসকে দিচ্ছেন এমন মন্তব্যও করেন অনেকেই।

তবে সেদিন (১৭ জুলাই) বিকেলে বক্তব্য পালটে ফেলেন সিইসি। বাংলাদেশ কংগ্রেসের সঙ্গে বৈঠক শেষে সিইসি বলেন, ‘নির্বাচন এক ধরনের যুদ্ধ। অনেকেই বলছেন, আসেন যুদ্ধের মাঠে আসেন। সেখানে আসলে অস্ত্র নিয়ে যুদ্ধ করলে হবে না। আপনাদের জনসমর্থন নিয়ে যুদ্ধ করতে হবে। আপনারা তলোয়ার-রাইফেল নিয়ে যুদ্ধ করবেন না।’

এরপর দ্বিতীয় দিনের সংলাপে আবার উঠে আসে তলোয়ার- রাইফেল তত্ত্ব। এদিন বিপ্লবী ওয়ার্কাস পার্টির সঙ্গে সংলাপ শেষে সিইসি জানান, প্রসঙ্গটি কৌতুক ও প্রতীকী অর্থে বলেছেন। এমন মন্তব্যের কারণ তিনি সামাজিকভাবে হেয় হয়েছেন বলেও জানান।

মঙ্গলবার (১৯ জুলাই) ইসলামী ঐক্যজোটের সঙ্গে সংপলাপে আবার উঠলো সেই প্রসঙ্গটি। এদিন আবেগ আপ্লুত সিইসি জানান, হিউমার (সূক্ষ্ম রসবোধ) করতে গিয়ে তিনি এটা বলেছেন। ববি হাজ্জাজের কথার উত্তর দিতে গিয়েই তিনি এটা বলেছিলেন। এ জন্য ক্ষমা চেয়েছেন তিনি।

তবে জাগো নিউজকে ববি হাজ্জাজ জানান, 'পুরো জিনিসটা (বৈঠক) লাইভে রেকর্ড আছে। এ বিষয়ে আমি কিছু বলতে চাই না। এটা উনি (সিইসি) কথায় কথায় বলে ফেলেছেন। তারপর আমি বলেছিলাম, আমাদের আইন এটা পারমিট করে না।’


আরও খবর