Logo
আজঃ Wednesday ২৫ May ২০২২
শিরোনাম

মরে গেলেও মাঠ ছাড়বো না : তৈমুর

প্রকাশিত:Saturday ১৫ January ২০২২ | হালনাগাদ:Wednesday ২৫ May ২০২২ | ২৯৩জন দেখেছেন
Image

নিজস্ব প্রতিবেদক: মরে গেলেও মাঠ ছাড়বো না, শেষ পর্যন্ত নেতাকর্মীরা মাঠে থাকবে বলে মন্তব্য করেছেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী তৈমুর আলম খন্দকার। তিনি বলেন, আমরা ঐক্যবদ্ধ আছি। মাঠে থাকবো, পালিয়ে যাইনি।

আজ শনিবার বেলা ১২টায় নগরীর নিজ বাসভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে তৈমুর আলম খন্দকার এসব কথা বলেন। এ সময় নির্বাচনের আগে তার নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

ভোটে কোনো কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ মনে না করলেও সুষ্ঠু নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন তৈমুর আলম। একই সঙ্গে জনগণ ভোট দিতে পারলে এক লাখ ভোটের ব্যবধানে জিতবেন এমন আশাবাদ তৈমুরের।


আরও খবর



কিডনি বেচা-কেনার দায়ে সাতজন গ্রেফতার

মানুষের কিডনি বেচা-কেনার দায়ে সাতজন গ্রেফতার

প্রকাশিত:Sunday ১৫ May ২০২২ | হালনাগাদ:Wednesday ২৫ May ২০২২ | ৮০জন দেখেছেন
Image

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ

জয়পুরহাটের কালাই ও পাঁচবিবি উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে অভিযান চালিয়ে কিডনি বেচাকেনা চক্রের সঙ্গে জড়িত ৭ দালালকে গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) পুলিশ।  


শনিবার (১৪ মে) দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে এতথ্য জানিয়েছেন জয়পুরহাটের পুলিশ সুপার মাছুম আহাম্মদ ভূঞা।


 গ্রেফতার দালাল চক্রের সদস্যরা হলেন- কালাই উপজেলার থল গ্রামের মৃত সিরাজ উদ্দিনের ছেলে সাহারুল ইসলাম (৩৮), একই উপজেলার উলিপুর গ্রামের ফরিদুল ইসলামের ছেলে ফরহাদ হোসেন ওরফে চপল (৩১), জয়পুর বহুতি গ্রামের মৃত মফিজ উদ্দিনের ছেলে মোশারফ হোসেন (৫৪), ভেরেন্ডি গ্রামের জাহান আলীর ছেলে শাহারুল ইসলাম (৩৫), জয়পুর বহুতি গ্রামের মৃত মোবারক হোসেনের ছেলে মোকাররম হোসেন (৫৩), দূর্গাপুর গ্রামের মৃত বছির উদ্দিন ফকিরের ছেলে সাইদুল ইসলাম ফকির (৪৫) ও পাঁচবিবি উপজেলার গোড়না আবাসনের মৃত আব্দুস সাত্তারের ছেলে সাদ্দাম হোসেন (৪০)।  

  

পুলিশ সুপার মাছুম আহাম্মদ ভূঞা সাংবাদিকদের জানান, শুক্রবার রাতে জয়পুরহাটের কালাই ও পাঁচবিবি উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।


 


তিনি বলেন, দালালরা দীর্ঘদিন ধরে জয়পুরহাটের মাত্রাই ও উদয়পুর ইউনিয়নসহ বিভিন্ন এলাকার নিরীহ, ঋণগ্রস্ত ও হতদরিদ্র মানুষদের ফুসলিয়ে টাকার লোভ এবং অল্প সময়ে বড়লোক হওয়ার স্বপ্ন দেখিয়ে নারী এবং পুরুষদের কিডনি বিক্রি করাতেন। এসব নিরীহ মানুষরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দালালদের খপ্পরে পরে প্রথমে ৪-৫ লাখ টাকার চুক্তিতে তাদের মূল্যবান কিডনি বিক্রি করে দেন।


পরে ভারত ও দুবাইসহ বিভিন্ন দেশে গিয়ে তাদের কিডনি দিয়ে নামমাত্র চিকিৎসা নিয়ে যখন দেশে ফেরেন, তখন দালালরা বিমান বন্দরেই তাদের হাতে ১-২ লাখ টাকা ধরিয়ে দিয়ে সেখান থেকে বিদায় করেন।


পরবর্তীকালে কিডনি দাতারা নিজের অঙ্গ বিক্রি করে ঝুঁকি নিয়ে জীবন অতিবাহিত করলেও লাভবান হচ্ছেন এসব দালালরা।


আবার নিজের কিডনি বিক্রি করে প্রতারিত হয়ে নতুন করে দালাল বনে যাচ্ছেন কোনো কোনো কিডনি দাতারা।  


তিনি আরও জানান, গ্রেফতার দালালরা কিডনি বেচাকেনার সঙ্গে জড়িত রয়েছেন বলে পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবদে স্বীকার করেছেন। কিডনি বেচাকেনা প্রতিরোধে দালাল চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।  


সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফারজানা হোসেন, সদর সার্কেল মোসফেকুর রহমান, পাঁচবিবি সার্কেল ইশতিয়াক আলমসহ পুলিশের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তারা।


জানা যায়, বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী ২০১১ সাল থেকে এ পর্যন্ত ৫শ জনেরও বেশি অভাবী মানুষ তাদের শরীরের একটি করে কিডনি বিক্রি করেছেন। আর এসব ঘটনায় ১৫টি মামলায় এ পর্যন্ত ১২১ জনকে আসামি করা হলেও গ্রেফতার হয়েছে মাত্র ৪৭ জন।   



আরও খবর



ইউক্রেন যুদ্ধের ধাক্কা পড়েছে পণ্যের বাজারে

প্রকাশিত:Thursday ২৮ April ২০২২ | হালনাগাদ:Wednesday ২৫ May ২০২২ | ১৩১জন দেখেছেন
Image

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

ইউক্রেন রাশিয়ার যুদ্ধের কারণে ইতোমধ্যেই বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন পণ্যের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। সামনের দিনগুলোতে পণ্যের দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এরই মধ্যে বিশ্ব ব্যাংক সতর্ক করে বলেছে, ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে গত ৫০ বছরের মধ্যে বিশ্বের পণ্য বাজারে সবচেয়ে বড় ধাক্কা আসতে যাচ্ছে। অর্থাৎ ১৯৭০ সালের পর প্রথম বারের মতো এমন সংকট তৈরি হতে পারে।


নতুন এক পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, সংঘাতের কারণে প্রাকৃতিক গ্যাস থেকে শুরু করে গম ও তুলা পর্যন্ত বিভিন্ন পণ্যের দাম ইতোমধ্যেই বেড়ে গেছে। সামনের দিনগুলোতে এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে।


বিশ্ব ব্যাংকের নতুন এই প্রতিবেদনের সহ-লেখক পিটার ন্যাগল বলেন, পণ্যের দামের এই ঊর্ধ্বগতি এরইমধ্যে বড় ধরনের অর্থনৈতিক ও মানবিক প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে। তিনি বলেন, বিশ্বজুড়ে জীবনযাত্রার খরচ মেটাতে গিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়ছে মানুষ।


বিশ্ব ব্যাংকের এই শীর্ষ অর্থনীতিবিদ বলেন, গরীব পরিবারগুলোর ক্ষেত্রে এই সংকট আরও ভয়াবহ। কারণ তাদের আয়ের সিংহভাগ খাবার ও জ্বালানির পেছনে ব্যয় হয়ে যায়। পণ্যের দাম বাড়ার প্রভাব তাদের ওপরই সবচেয়ে বেশি পড়বে।


বিশ্ব ব্যাংক বলছে, জ্বালানির দাম ৫০ শতাংশের বেশি বাড়তে পারে। ফলে সংসারের ব্যয় এবং ব্যবসায়ের খরচ অনেক বেড়ে যাবে।



বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউরোপে সবচেয়ে বেশি বাড়বে প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম, যা দ্বিগুণের বেশি হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। আগামী বছর পণ্যের দাম কিছুটা কমতে পারে এবং ২০২৪ সালের পূর্বাভাসে দেখা যাচ্ছে, গত বছরের তুলনায় ২০২৪ সালে গ্যাসের দাম ১৫ শতাংশ বেশি থাকবে।


বিশ্ব ব্যাংক বলছে, ২০২০ সালের এপ্রিল থেকে চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত বিশ্ব টানা ২৩ মাস জ্বালানির দামে ঊর্ধ্বগতি দেখা যাচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতার কারণে ১৯৭৩ সালে জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধির পর এটাই দীর্ঘতম সময় ধরে জ্বালানির দাম যাওয়ার ঘটনা।


একইভাবে জ্বালানি তেলের দামও ২০২৪ সাল পর্যন্ত বাড়তি থাকবে এবং চলতি বছরজুড়ে প্রতি ব্যারেল ব্রেন্ট ক্রুডের দাম গড়ে ১০০ ডলারে বিক্রি হবে, যা বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতির হার বাড়ার অন্যতম কারণ হিসেবে ভূমিকা রাখবে।



বিশ্বের ১১ শতাংশ তেল উৎপাদন করে রাশিয়া, যা তৃতীয় সর্বোচ্চ। বিশ্ব ব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউক্রেনে যুদ্ধের কারণে সরবরাহে বিঘ্ন ঘটা এবং পশ্চিমা অবরোধের ফলে একটি দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাব দেখা দেবে। অবরোধের কারণে পশ্চিমা কোম্পানিগুলো রাশিয়া ছেড়ে যাবে এবং দেশটির নতুন প্রযুক্তি পাওয়ার সুযোগ কমে আসবে।


রাশিয়া বর্তমানে ইউরোপীয় ইউনিয়নের চাহিদার ৪০ শতাংশ গ্যাস ও ২৭ শতাংশ তেল সরবরাহ করে। কিন্তু ইইউ রাশিয়ার ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি চাহিদা পূরণের চেষ্টা করছে, যা বিশ্বজুড়ে তেল এবং গ্যাসের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। মূলত চাহিদা ও সরবরাহ ভারসাম্য নষ্ট হওয়ায় সমস্যা বেড়ে যাচ্ছে।


অনেক খাদ্য পণ্যের দাম হঠাৎ করেই লাফিয়ে বেড়ে গেছে এবং আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। গমের দাম ৪২ দশমিক ৭ শতাংশ বাড়তে পারে। খাদ্য পণ্যের মধ্যে বার্লি ৩৩ দশমিক ৩ শতাংশ, সয়াবিন ২০ শতাংশ, ভোজ্য তেল ২৯ দশমিক ৮ শতাংশ ও মুরগির দাম ৪১ দশমিক ৮ শতাংশ বাড়তে পারে। রাশিয়া ও ইউক্রেন থেকে এসব পণ্যের রপ্তানি কমে যাওয়ার কারণেই এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।


যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট সয়াবিনের ৬০ শতাংশ এবং গম রপ্তানির ২৮ দশমিক ৯ শতাংশ এ দুই দেশ থেকেই আসতো। সার, বিভিন্ন ধাতু ও খনিজ দ্রব্যের মতো কাঁচামালের দামও বাড়তে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে। তবে কাঠ, চা ও চালের মত কয়েকটি পণ্যের দাম কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।


আরও খবর



নির্দলীয় ও নিরপেক্ষ সরকার ছাড়া ভোটে যাবে না ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ

প্রকাশিত:Tuesday ১০ May ২০২২ | হালনাগাদ:Wednesday ২৫ May ২০২২ | ৬৮জন দেখেছেন
Image

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

আগামীতে নির্দলীয় ও নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে ছাড়া কোনো নির্বাচনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ অংশ নেবে না বলে জানিয়েছেন দলটির আমির ও চরমোনাই পির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করিম।


রেজাউল করিম বলেন, ‘নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকারের অধীনে ছাড়া কোনো তামাশার নির্বাচনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ অংশ নেবে না।’


মঙ্গলবার (১০ মে) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে চরমোনাই পীর এ কথা জানিয়েছেন।


মুফতি রেজাউল করিম বলেন, ‘ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনে করে, কোনো দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। বিগত কয়েকটি জাতীয় ও স্থানীয় নির্বাচনে এটা বারবার প্রমাণিত হয়েছে।’


ইভিএমে ভোটগ্রহণ প্রসঙ্গে চরমোনাই পির বলেন, ‘ইভিএম আন্তর্জাতিকভাবে প্রত্যাখ্যাত। ইভিএমের মাধ্যমে সারাদেশে ভোট হবে, এ কথা প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা দেওয়ার এখতিয়ার রাখেন না। নির্বাচন কোন প্রক্রিয়ায় অনুষ্ঠিত হবে, তা নির্ধারণ করবে নির্বাচন কমিশন।


আরও খবর



মাগুরায় সড়ক দুর্ঘটনা

মাগুরায় সড়ক দুর্ঘটনায় সেনা সদস্যের মৃত্যু

প্রকাশিত:Sunday ১৫ May ২০২২ | হালনাগাদ:Tuesday ২৪ May ২০২২ | ৬৬জন দেখেছেন
Image

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ

মাগুরায় যাত্রীবাহী বাস ও ট্রাকের সংঘর্ষে মো. আবু হানিফ (৬০) নামে অবসরপ্রাপ্ত এক সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন। এ সময় আহত হয়েছেন অন্তত ছয় জন।


রোববার (১৫ মে) সকালে মাগুরা-যশোর সড়কের শেখপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত আবু হানিফ যশোর জেলার পৌর এলাকার মোহাম্মদ আবদুল গনির ছেলে।


আহতদের উদ্ধার করে মাগুরা ২৫০ শয্যা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের বাড়ি যশোর ও সাতক্ষীরা জেলায়।


ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভোর সাড়ে ৫টার দিকে ঢাকা থেকে যশোরগামী একটি যাত্রীবাহী পরিবহনের সঙ্গে মাগুরা মুখী একটি ট্রাকের সংঘর্ষ হয়। এ সময় ঘটনাস্থলেই ওই সেনা সদস্য নিহত হন।


এছাড়া ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে মাগুরা ২৫০ শয্যা সদর হাসপাতাল নেওয়া হয়।


মাগুরা হাইওয়ে পুলিশের এসআই সেলিম জানান, দুর্ঘটনার পর বাস ও ট্রাকের ড্রাইভার-হেলপারদের পাওয়া যায়নি। আহতদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।


আর নিহতের মানি ব্যাগে থাকা পরিচয়পত্রের মাধ্যমে তার পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। মরদেহের আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলেও জানান তিনি।


আরও খবর



সমুদ্রে মৎস্য আহরণকারী ১০ হাজার নৌযানে নতুন প্রযুক্তি সংযোজন হচ্ছে

প্রকাশিত:Wednesday ১১ May ২০২২ | হালনাগাদ:Wednesday ২৫ May ২০২২ | ১০৯জন দেখেছেন
Image

ঢাকা, ১১ মে ২০২২ (বুধবার)

সমুদ্রে মৎস্য নৌযান শনাক্তের জন্য ১০ হাজার নৌযানে নতুন যন্ত্র ও প্রযুক্তি সংযোজন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম।

বুধবার (১১ মে) রাজধানীর মৎস্য ভবনে মৎস্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে ২০ মে থেকে ২৩ জুলাই ৬৫ দিন বাংলাদেশের সামুদ্রিক জলসীমায় মৎস্য আহরণ নিষিদ্ধ কার্যক্রম ২০২২ বাস্তবায়ন বিষয়ক সভায় সভাপতির বক্তব্যে মন্ত্রী এ কথা জানান।

এ বিষয়ে মন্ত্রী আরো বলেন, সমুদ্রে মৎস্য নৌযান শনাক্তের জন্য ১০ হাজার নৌযানে শিগগিরই নতুন যন্ত্রপাতি ও প্রযুক্তি সংযুক্ত করা হচ্ছে। মৎস্য অধিদপ্ত কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন সাসটেইনেবল কোস্টাল এন্ড মেরিন ফিশারিজ প্রকল্পের আওতায় বাণিজ্যিক মৎস্য ট্রলারে ভেসেল মনিটরিং সিস্টেম (ভিএমএস) এবং আর্টিসানাল ও যান্ত্রিক মৎস্য নৌযানে যথাক্রমে অটোমেটিক আইডেনটিফিকেশন সিস্টেম (এআইএস) ও গ্লোবাল সিস্টেম ফর মোবাইল কমিউনিকেশন (জিএসএম) ব্যবস্থা সংযোজনের কাজ চলমান রয়েছে।


এর মাধ্যমে অনুমতিপ্রাপ্ত সমুদ্রগামী নৌযানসমূহের অবস্থান জানা যাবে এবং এদের সহজেই মনিটর করা যাবে। এ নৌযানসমূহ আইনের ব্যত্যয় করলে লাইসেন্স বাতিল করাসহ আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার সুযোগ তৈরি হবে।

তিনি আরো যোগ করেন, আইনের ব্যত্যয় ঘটিয়ে সমুদ্রে মৎস্য আহরণ করা যাবে না। আইন অমান্য করলে সম্প্রতিক সামুদ্রিক মৎস্য আইন ও মোবাইল কোর্টের আইন অনুযায়ী সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।


উদ্ভূত পরিস্থিতি বিবেচনা করে স্থানীয় প্রশাসন, নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড, নৌ পুলিশ ব্যবস্থা নেবে। তবে অসহায় জেলেরা যেন অহেতুক হয়রানি না হয় সে বিষয়টিও বিবেচনায় রাখতে হবে।

শ ম রেজাউল করিম আরো বলেন, মৎস্য আহরণ বন্ধ রাখা মানে দেশের মৎস্যসম্পদ বৃদ্ধি করা, রাষ্ট্রের জন্য কাজ করা। এক্ষেত্রে মৎস্য বিভাগ, স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি মৎস্যজীবী সমিতির সদস্যদের সরকারের নীতি বাস্তবায়নে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখতে হবে।


মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ করা গেলে মৎস্যজীবীদেরই লাভ হবে। সরকার শুধু মৎস্যজীবী ও দেশের সাধারণ মানুষের স্বার্থকে নিশ্চিত করার জন্য কাজ করছে। এজন্য অবৈধ মৎস্য আহরণ বন্ধে নিবেদিতভাবে কাজ করতে হবে।

মাঠ পর্যায়ে মৎস্যজীবীদের তালিকা কঠোর নজরদারির মাধ্যমে হালনাগাদ করা হবে বলে এ সময় জানান মন্ত্রী। প্রকৃত মৎস্যজীবী ছাড়া সরকারি সহায়তা দেওয়া হবে না বলেও জানান তিনি। মাছ ধরা নিষিদ্ধকালে সমুদ্রগামী জেলেদের এ বছর পর্যাপ্ত ভিজিএফ দেওয়া হবে বলেও জানান মন্ত্রী।


সুন্দরবনের মৎস্যসম্পদ ও জেলেদের বিষয়ে মৎস্য অধিদপ্তর ও বনবিভাগ সমন্বিত ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন বলেও জানান তিনি।

সামুদ্রিক মৎস্যসম্পদ রক্ষায় সমন্বিত ব্যবস্থাপনা খুব গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে এ সময় মন্ত্রী আরো বলেন, অনেক সময় আইন প্রয়োগে নানা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির মুখে পড়তে হয়।। এ ধরনের পরিস্থিতি সাধারণ জেলেরা করে না। এখানে কিছু দুর্বৃত্ত এ ধরনের পরিস্থিতি সৃষ্টি করে। 


নিষিদ্ধকালে মাছ সংরক্ষণ ও বিপণনের কোন সুযোগ দেওয়া যাবে না। মোবাইল কোর্ট ও অন্যান্য অভিযানে সম্পৃক্তদের এটা নিশ্চিত করতে হবে। সমন্বিত প্রচেষ্টায় দেশের বিভিন্ন স্থানে ইলিশসহ অন্যান্য মাছের বিস্তার ঘটছে।  একদিকে যেমন মাছ নিয়ে গবেষণা বাড়ছে তেমনি মাছের উৎপাদনও বৃদ্ধি পাচ্ছে। মৎস্যসম্পদ রক্ষায় সংশ্লিষ্টদের যেভাবে, যত কঠোর পদক্ষেপ নেয়া দরকার সবটুকু করতে হবে।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মুহাম্মদ ইয়ামিন চৌধুরী, অতিরিক্ত সচিব শ্যামল চন্দ্র কর্মকার, মো. তৌফিকুল আরিফ ও এস এম ফেরদৌস আলম বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান মোঃ হেমায়েত হুসেন, মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক খ. মাহবুবুল হক ও নৌপুলিশের অতিরিক্ত আইজি শফিকুল ইসলাম, সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকগণ, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, জননিরাপত্তা বিভাগ, সশস্ত্রবাহিনী বিভাগ, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ নৌবাহিনী, বাংলাদেশ কোস্টগার্ড, র‌্যাব এবং মৎস্য অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণ, মেরিন ফিশারিজ অ্যাসোসিয়েশন, মৎস্যজীবী সমিতির প্রতিনিধিগণ সভায় অংশগ্রহণ করেন।

এর আগে গত ২৪ এপ্রিল সামুদ্রিক মৎস্য আইন ২০২০ এ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে বাংলাদেশের সামুদ্রিক জলসীমায় মাছের সুষ্ঠু প্রজনন, উৎপাদন, সামুদ্রিক মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ এবং টেকসই মৎস্য আহরণের জন্য ২০ মে থেকে ২৩ জুলাই পর্যন্ত মোট ৬৫ দিন সকল প্রকার মৎস্য নৌযান কর্তৃক যে কোন প্রজাতির মৎস্য আহরণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়। উপকূলীয় বিভাগ চট্টগ্রাম, বরিশাল ও খুলনার ১৪ টি জেলার ৬৭ টি উপজেলা ও চট্টগ্রাম মহানগরে এ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে। নিষিদ্ধকাল বাস্তবায়নকালে সমুদ্রগামী হালনাগাদকৃত ও নিবন্ধিত জেলেদের ভিজিএফ খাদ্য সহায়তা প্রদান করা হবে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট জেলেদের বিকল্প কর্মসংস্থানের জন্য সরকার উপকরণ সহযোগিতা প্রদান করবে।


আরও খবর