Logo
আজঃ Tuesday ২৮ June ২০২২
শিরোনাম
নাসিরনগরে বন্যার্তদের মাঝে ইসলামী ফ্রন্টের ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ রাজধানীর মাতুয়াইলে পদ্মাসেতু উদ্ধোধন উপলক্ষে দোয়া মাহফিল রূপগঞ্জে ভূমি অফিসে চোর রূপগঞ্জে গৃহবধূর বাড়িতে হামলা ভাংচুর লুটপাট ॥ শ্লীলতাহানী নাসিরনগরে পুকুরের মালিকানা নিয়ে দু পক্ষের সংঘর্ষে মহিলাসহ আহত ৪ পদ্মা সেতু উদ্ভোধন উপলক্ষে শশী আক্তার শাহীনার নেতৃত্বে আনন্দ মিছিল করোনা শনাক্ত বেড়েছে, মৃত্যু ২ জনের র‍্যাব-১১ অভিমান চালিয়ে ৯৬ কেজি গাঁজা,১৩৪৬০ পিস ইয়াবাসহ ৬ মাদক বিক্রেতাকে গ্রেফতার করেছে বন্যাকবলিত ভাটি অঞ্চল পরিদর্শন করেন এমপি সংগ্রাম পদ্মা সেতু উদ্বোধনে রূপগঞ্জে আনন্দ উৎসব সভা ॥ শোভাযাত্রা

মাতুয়াইলে গ্যাসের বিস্ফোরণে মা-বাবার পর এবার চলে গেলো দুই বছরের মেয়ে ফাতেমা

প্রকাশিত:Tuesday ২৬ April ২০২২ | হালনাগাদ:Tuesday ২৮ June ২০২২ | ১৭৬জন দেখেছেন
Image

নাজমুল হাসানঃ

রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানার কোনাপাড়া আড়াবাড়ি এলাকার একটি বাসায় গ্যাস লাইনের লিকেজ দিয়ে জমা গ্যাসের বিস্ফোরণে মা-বাবার পর এবার চলে গেলো দুই বছরের মেয়ে ফাতেমা আক্তার।


মঙ্গলবার (২৬ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।


এর আগে বুধবার (২০ এপ্রিল) দিনগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে যাত্রাবাড়ী থানার কোনাপাড়া এলাকার একটি বাসায় গ্যাস লাইনের লিকেজ দিয়ে জমা গ্যাসের বিস্ফোরণে একই পরিবারের তিনজন দগ্ধ হয়েছে। দগ্ধ অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে ভোর পাঁচটার দিকে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়।


 সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার (২৪ এপ্রিল) দিনগত রাত ৪টার দিকে স্ত্রী মোছা. খাদিজা আক্তার (২৫) ও ৬টার দিকে স্বামী আব্দুল করিম (৩০) মারা যান।নিহত আব্দুল করিম মাতুয়াইল কোনাপাড়া আড়াবাড়ি এলাকায় মুদি দোকান দিয়ে ব্যাবসা করতেন।


গত বুধবার রাত সাড়ে ৩টার দিকে হঠাৎ গ্যাস বিস্ফোরিত হয়ে ৩ জন দগ্ধ হন। তাৎক্ষণিকভাবে তাদের উদ্ধার করে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়।


শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন ডা. এস এম আইয়ুব হোসেন জানান, যাত্রাবাড়ী কোনাপাড়া এলাকা থেকে বিস্ফোরণে দগ্ধ হয়ে বাবা-মায়ের পর শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুই বছরের শিশু ফাতেমা আক্তারও মারা গেছে। 


ফাতেমার শরীরের ৩৫ শতাংশ দগ্ধ ছিল।মরদেহ ঢামেক মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানাকে অবগত করা হয়েছে।


আরও খবর



শিশুশ্রম নির্মূলে সামাজিক সুরক্ষার আওতা বাড়াতে হবে

প্রকাশিত:Sunday ১২ June ২০২২ | হালনাগাদ:Tuesday ২৮ June ২০২২ | ৪৮জন দেখেছেন
Image

জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) শিশুদের অধিকার রক্ষা এবং ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রম দূর করার জন্য ২০০২ সাল থেকে “বিশ্ব শিশুশ্রম বিরোধী দিবস” (World Day Against Child Labour) পালন করে আসছে। বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রতি বছর ১২ জুন এ দিবসটি পালন করা হয়। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য ‘শিশুশ্রম বন্ধে সর্বজনীন সামাজিক সুরক্ষা’ (Universal Social Protection to End Child Labour)।

আইএলও এবং ইউনিসেফ কর্তৃক যৌথভাবে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে ২০২০ এর শুরুতে বিশ্বব্যাপী ৫ বছর বা তার বেশি বয়সী ১০ জন শিশুর মধ্যে ১ জন শিশু শিশুশ্রমে জড়িত ছিল− যার আনুমানিক সংখ্যা ১৬০ মিলিয়ন। এর মধ্যে ৬৩ মিলিয়ন কন্যা শিশু এবং ৯৭ মিলিয়ন ছেলে শিশু। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে গত দুই দশকে শিশুশ্রম কমানোর ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সত্ত্বেও, সাম্প্রতিকতম তথ্য দেখায় যে শিশুশ্রম নিরসনের বৈশ্বিক অগ্রগতি ২০১৬ সাল থেকে থমকে গেছে।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে , কভিড-১৯ মহামারি বিশ্বব্যাপী আরও লক্ষ লক্ষ শিশুকে শিশুশ্রমের ঝুঁকিতে ফেলেছে। এটি ধারণা করা হচ্ছে যে উপযুক্ত নিরসন কৌশল ছাড়া, উচ্চ দারিদ্র্য এবং ক্রমবর্ধমান অনিশ্চয়তা ও ভঙ্গুরতার কারণে ২০২২ সালের শেষ নাগাদ নতুন করে ৮.৯ মিলিয়ন শিশু শিশুশ্রমে নিয়োজিত হতে পারে।

এই পরিস্থিতিতে আইএলও পরামর্শ দিয়েছে যে শিশুশ্রম হ্রাস এবং নির্মূলের জন্য শক্তিশালী সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা প্রয়োজন। পারিবারিক দারিদ্র্যের ঝুঁকি এবং ভঙ্গুরতা হ্রাস করে, জীবিকায়ন প্রকল্প বৃদ্ধি করে এবং শিশুদের স্কুলে ভর্তির সহায়তা করে, শিশুশ্রম নির্মূল ও প্রতিরোধের লড়াইয়ে সরকারি সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা অপরিহার্য।

আইএলও বলছে ২০১০ সাল থেকে পরিচালিত বেশ কয়েকটি গবেষণার ফলাফল দেখায় যে সামাজিক সুরক্ষা - পরিবারগুলিকে অর্থনৈতিক বা স্বাস্থ্যগত ধাক্কা মোকাবেলায় সহায়তা করে, শিশুশ্রম হ্রাস করে এবং স্কুলে পড়াশুনার সুবিধা দেয়৷

সংস্থাটি আরো বলছে সকল শিশু যাতে সামাজিক সুরক্ষা উপভোগ করে তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে খুব কম অগ্রগতি হয়েছে। বিশ্বব্যাপী ০ থেকে ৪ বছর বয়সী ৭৩.৬ শতাংশ বা প্রায় ১.৫ বিলিয়ন শিশু কোনো সামাজিক সুরক্ষা সুবিধা পায় না। এই বৃহৎ সুরক্ষা ফাঁক বা ব্যবধান দ্রুত বন্ধ করা আবশ্যক। আইএলও মহাপরিচালক গাই রাইডার বলেছেন, "সর্বজনীন সামাজিক সুরক্ষায় বিনিয়োগ করার অনেক কারণ আছে কিন্তু শিশুদের অধিকার এবং সুস্থতার উপর এর ক্ষতিকর প্রভাবের কারণে শিশুশ্রম নির্মূল করা সবচেয়ে বাধ্যতামূলক হতে হবে”।

আইএলও’র গবেষণায় বলা হয়েছে বিভিন্ন দেশের সরকারের বিভিন্ন নীতি রয়েছে যা তারা সামাজিক সুরক্ষার ক্ষেত্রে ব্যবহার করতেপারে। যদি নীতি নির্ধারকরা সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়ে কাজ না করেন, তাহলে কভিড-১৯ মহামারি, চলমান সংঘাত, ক্রমবর্ধমান দারিদ্র্য এবং জলবায়ু পরিবর্তন শিশুশ্রমের প্রবণতাকে বাড়িয়ে তুলবে।

শিশুশ্রমের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতাকে উল্টে দিতে আইএলও ও ইউনিসেফ বিশ্বের সরকার প্রধানদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। যেমন, সর্বজনীন শিশু সুবিধাসহ সবার জন্য পর্যাপ্ত সামাজিক সুরক্ষার ব্যবস্থা করা। মানসম্মত শিক্ষার পেছনে ব্যয় বাড়ানো এবং কভিড-১৯-এর আগে থেকেই স্কুলের বাইরে থাকা শিশুদেরসহ সব শিশুকে স্কুলে ফিরিয়ে আনা।

পরিবারের প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য যথোপযুক্ত কাজের ব্যবস্থা করা, যাতে পরিবারগুলোকে পারিবারিক উপার্জন বৃদ্ধিতে সহায়তা করতে শিশুদের অবলম্বন করতে না হয়। শিশুশ্রমকে প্রভাবিত করে এমন ক্ষতিকারক লৈঙ্গিক রীতিনীতি এবং বৈষম্যের অবসান ঘটানো। শিশু সুরক্ষা ব্যবস্থা, কৃষিজ উন্নয়ন, পল্লী জনসেবা, অবকাঠামো এবং জীবন-জীবিকার পেছনে বিনিয়োগ করা।

আমাদের দেশে শিশুশ্রমের দৃশ্যকল্পের দিকে তাকালে তা কম উদ্বেগজনক নয়। বিবিএস-এর ২০১৩ সালের এক জরিপ অনুসারে, বাংলাদেশে প্রায় ১.৭ মিলিয়ন শিশু ১৬ টি সেক্টরে কর্মরত। আইএলওর তথ্য অনুযায়ী, শুধুমাত্র ঢাকা শহরেই দেড় লাখের বেশি শিশু বিপজ্জনক কর্মকাণ্ডে জড়িত। কিন্তু বাস্তবতা যে সম্পূর্ণ ভিন্ন তা বোঝার জন্য পরিসংখ্যানের প্রয়োজন নেই। আমাদের দেশে শিশুরা সাধারণত কৃষি, কলকারখানা, গণপরিবহন, আবাসন, খাবারের দোকান, বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, ইটভাটা এবং নির্মাণ কাজে কাজ করে। কভিড-১৯ মহামারি চলাকালীন শিশুশ্রম দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। শিশুশ্রম বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান কারণ দারিদ্র্য ও বৈষম্য। এভাবে দারিদ্র্য ও বৈষম্য বাড়লে আগামী দিনে শিশুশ্রম বৃদ্ধির আশঙ্কা অমূলক নয়।

কভিড-১৯ মহামারিকালে অনেক শিশু স্কুল থেকে ঝরে পড়েছে এবং কাজে যুক্ত হয়েছে। এইভাবে, যে সমস্ত শিশুরা নিজেদেরকে শিশুশ্রমে নিয়োজিত করতে বাধ্য হয়েছে তারা শুধু শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হয়নি, সামাজিক ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা থেকেও বঞ্চিত হয়েছে। কারণ, স্কুলগুলি সামাজিক সুরক্ষা, পুষ্টি, স্বাস্থ্যের পাশাপাশি শিশু এবং তরুণ প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য মনোসামাজিক সহায়তার একটি গুরুত্বপূর্ণ উত্স। তাই শিশুশ্রমে নিয়োজিত শিশুরা শারীরিক ও মানসিক ক্ষতির ঝুঁকিতে থাকে। শিশুশ্রম শিশুদের শিক্ষা ব্যাহত করে, তাদের অধিকার ও ভবিষ্যৎ সুযোগ সীমিত করে এবং তাদেরকে দারিদ্র্য এবং শিশুশ্রমের আন্তঃপ্রজন্মীয় দুষ্টচক্রের দিকে ঠেলে দেয়।

জাতিসংঘ ২০২৫ সালের মধ্যে শিশুশ্রম নির্মূল করার জন্য কিছু নির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। এছাড়াও এসডিজির লক্ষ্যমাত্রা ৮.৭ জোরপূর্বক শ্রম নির্মূল, আধুনিক দাসপ্রথা ও মানব পাচারের অবসান এবং নিকৃষ্টতম শিশুশ্রমের নিষেধাজ্ঞা ও নির্মূল করার জন্য অবিলম্বে এবং কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করার কথা বলেছে। এসডিজি লক্ষ্যমাত্রা ১৬.২ শিশু শ্রমিকদের নিয়োগ ও ব্যবহার, শোষণ, পাচার এবং সকল প্রকার সহিংসতা ও নির্যাতনের অবসান ঘটানো এবং সকল প্রকার শিশুশ্রমের অবসান ঘটানোর কথা উল্লেখ করেছে।

বাংলাদেশ সরকার জাতিসংঘ কর্তৃক নির্ধারিত এসডিজি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তাই শিশুশ্রম নিরসনে সরকার বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের অধীনে বেশ কিছু উদ্যোগ, প্রকল্প ও কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। এছাড়া জাতীয় ও আন্তর্জাতিক এনজিওগুলোও শিশুশ্রম নিরসনে বিভিন্ন প্রকল্প ও কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা কঠিন হবে কারণ শিশুশ্রমের মাত্রা কমছে না বরং কভিড-১৯ ও চলমান যুদ্ধের কারণে তা আবার বৃদ্ধির সূত্রপাত করেছে। সুতরাং এটা বলার অপেক্ষা রাখে না যে মহামারী চলাকালীন ক্রমবর্ধমান শিশুশ্রমের জন্য আরও অনেক উদ্যোগের প্রয়োজন রয়েছে।

আইএলও এবং ইউনিসেফ শিশু শ্রমের ক্রমবর্ধমান প্রবণতা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে। এ জন্য সর্বজনীন শিশু যত্নসহ সবার জন্য পর্যাপ্ত সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। মানসম্পন্ন শিক্ষায় ব্যয় বৃদ্ধি করা এবং কভিড-১৯ এর আগে যারা স্কুলের বাইরে ছিল তাদের সহ সকল শিশুকে স্কুলে ফিরিয়ে আনা; প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য উপযুক্ত কাজের ব্যবস্থা করা যাতে পরিবারের আয় বাড়াতে সাহায্য করার জন্য পরিবারগুলিকে শিশুদের আশ্রয় নিতে না হয়। শিশুশ্রমকে প্রভাবিত করে এমন ক্ষতিকর চর্চা এবং অসমতা দূর করা। শিশু সুরক্ষা ব্যবস্থা, কৃষি উন্নয়ন, গ্রামীণ জনসেবা, অবকাঠামো এবং জীবিকায়ন প্রকল্পে বিনিয়োগ করা। জাতীয় বাজেটে শিশুদের সুরক্ষার জন্য পর্যাপ্ত
বরাদ্দ রাখা।

আইএলও এবং ইউনিসেফ বিশ্বব্যাপী শিশুশ্রম প্রতিরোধ ও নির্মূলের জন্য সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করার জন্য প্রতিবেদনে বেশ কিছু সুপারিশ করেছে যেমন, শিশুদের জন্য সামাজিক সুরক্ষার আওতার ব্যবধান কমিয়ে আনা এর অর্থ শিশুর সুবিধাগুলিকে অগ্রাধিকার দেওয়া, সেইসাথে অনানুষ্ঠানিক খাতে কর্মরতদের জন্য সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থার আওতায় আনা; সমন্বিত সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা তৈরি করা; শিশুশ্রম হ্রাস করা আরো সহজ হবে যদি প্রত্যেক দেশে একটি সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা থাকে যা শিশু এবং পারিবারিক সুবিধা, মাতৃত্ব এবং বেকারত্বের সুবিধা থেকে শুরু করে বার্ধক্য পেনশনের পাশাপাশি স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য পর্যাপ্ত সুবিধা প্রদান করে; নিশ্চিত করতে হবে যে, যে সকল সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির পরিকল্পনা অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং শিশু-শ্রমিক সংবেদনশীল কারণ এটি শিশু শ্রম হ্রাস করতে সর্বাধিক সাহায্য করবে।

শিশু এবং পারিবারিক সুবিধাপ্রাপ্তি কর্মসূচীগুলি বাস্তবায়ন করা যা শিশুদের সহ সমস্ত পরিবারের কাছে পৌঁছায়, বিশেষ করে যারা সবচেয়ে বেশি ঝূঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে রয়েছে; নিবন্ধন পদ্ধতি সহজ করে এবং বিভিন্ন সুবিধা প্রদানের ব্যবস্থা প্রদানের মাধ্যমে দরিদ্রদের জন্য তাদের সামাজিক সুরক্ষা সুবিধাগুলি পেতে সহায়তা করা; শিশুদের জন্য সর্বজনীন, মানসম্পন্ন, মৌলিক শিক্ষা এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক পরিষেবাগুলিতে বর্ধিত বিনিয়োগের সাথে সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির পরিপূরক কর্মসূচি গ্রহণ করা;

শিশুশ্রমের অবসান এবং কর্মের জন্য ঐক্যমত্য জোরদার করার জন্য সর্বজনীন সামাজিক সুরক্ষা প্রতিষ্ঠার জন্য ইতিমধ্যে বিদ্যমান শক্তিশালী রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি গড়ে তোলা; টেকসই উন্নয়ন এজেন্ডা এবং ২০২১ সালে আন্তর্জাতিক শ্রম সম্মেলনে গৃহীত সহমত, দৃঢ় ঐকমত্য, সেইসাথে ডারবান শিশু শ্রমিক সম্মেলনের ফলাফল, আন্তর্জাতিক উদ্যোগগুলিকে সমন্বয় করতে সাহায্য করতে পারে; উন্নয়নের চালক হিসাবে সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থায় বিনিয়োগের জন্য প্রচারনা চালানো। প্রায় সব দেশেই শিশুদের জন্য তাদের সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার জন্য ক্রমান্বয়ে বিনিয়োগের জন্য দেশীয় সম্পদ পুঞ্জীভূত করা।

ইউনিসেফ এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে বাংলাদেশে সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা এখনো পর্যন্ত অতিমাত্রায় বিভক্ত। সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থায় রয়েছে ১৩০টি কর্মসূচি যেগুলো বেশির ভাগ ক্ষেত্রে একটির সাথে অপরটি সংযুক্ত নয়। এসব কর্মসূচির লক্ষ্যসমূহ একটির সাথে অন্যটি মিলে যায়, এতে বাজেট কম এবং এদের আওতাও অপ্রতুল। যেকোনো দেশের জন্য যেকোনো পরিপ্রেক্ষিত থেকেই শিশু এবং সামাজিক সুরক্ষায় বিনিয়োগ গুরুত্বপূর্ণ। শিশুদের জন্য সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনী মানবাধিকার ও অর্থনীতিকে রক্ষা করে।

সুতরাং, চলমান মহামারি ও যুদ্ধের কারণে এবং দারিদ্র্যের কষাঘাতে শৈশব বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহের জন্য সংগ্রাম করছে এমন শিশুদের কথা ভাবার সময় এসেছে। সরকারিভাবে এইসব শিশু ও তাদের পরিবারবর্কে সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থায় নিয়ে আসা বাধ্যতামূলক হয়ে দাঁড়িয়েছে। সমাজের বিত্তবানদেরও এক্ষেত্রে এগিয়ে আসা প্রয়োজন। শিশুশ্রম নির্মূলে সামাজিক উদ্যোগ ও সচেতনতা বৃদ্ধির আন্দোলন আরো জোরদার করা প্রয়োজন।

যারা শিশুদেরকে জোরপূর্বক শিশুশ্রমে বাধ্য করে এবং তাদের শ্রম শোষণ করে তাদেরকেও সচেতন করা জরুরি হয়ে দাঁড়িয়েছে। সেই সাথে ক্রমবর্মান দারিদ্র্য ও আয় বৈষম্য কমিয়ে এনে সকল শিশুর মানসম্মত ও জীবনমুখী শিক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি তারাও যে ভবিষ্যতে একটি সুন্দর ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে ব্যাপক ভূমিকা রাখতে পারে তা নিয়ে ভাবার সময় এসেছে।

লেখক: গবেষক ও উন্নয়নকর্মী।


আরও খবর



‘আমার বঙ্গবন্ধু’ মোবাইল গেইমিং প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ

প্রকাশিত:Monday ১৩ June ২০২২ | হালনাগাদ:Tuesday ২৮ June ২০২২ | ২৯জন দেখেছেন
Image

‘আমার বঙ্গবন্ধু’ মোবাইল গেইমিং প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়েছে।

রোববার (১২ জুন) রাজধানীর উত্তরার বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি) অধিদপ্তর মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের পুরস্কার দেওয়া হয়।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব গোলাম মো. হাসিবুল আলম প্রধান অতিথি হিসেবে বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন।

সারাদেশ থেকে ৩০ লাখ প্রতিযোগী এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেন। সময়, পয়েন্ট ও বয়সের ভিত্তিতে তিনটি ক্যাটাগরিতে মোট ৩০ জনকে পুরস্কার দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বিএনসিসির মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাহিদুল ইসলাম খান। এছাড়া বিএনসিসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও ক্যাডেটরাও উপস্থিত ছিলেন।

জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনে হাতে-কলমে বঙ্গবন্ধুকে জানার জন্য বিএনসিসি বিশেষ কার্যক্রম নিয়েছে। সে বিবেচনায় নতুন প্রজন্মকে মোবাইল ডিভাইসের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুকে আরও গভীরভাবে জানাতে বিএনসিসি তৈরি করেছে ‘আমার বঙ্গবন্ধু’ অ্যাপ।

গত ১৬ জানুয়ারি আমার বঙ্গবন্ধু গেমটি উদ্বোধন করেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক। এ নিয়ে দেশের সবার মধ্যে একটি উম্মুক্ত প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়, যা শেষ হয়েছিল গত ২৬ মার্চ।


আরও খবর



অভিযোগ ‘মিথ্যা’, বরখাস্ত ‘ষড়যন্ত্রমূলক’: অধ্যক্ষ জসিম উদ্দিন

প্রকাশিত:Monday ০৬ June ২০২২ | হালনাগাদ:Tuesday ২৮ June ২০২২ | ৭৬জন দেখেছেন
Image

রাজধানীর ধানমন্ডি আইডিয়াল কলেজের অধ্যক্ষ জসিম উদ্দিন আহম্মেদ তার বিরুদ্ধে তোলা সব অভিযোগ ‘মিথ্যা’ দাবি করে বলেছেন, তিনিসহ প্রতিষ্ঠানটির তিন শিক্ষককে নিয়মবহির্ভূত ও ষড়যন্ত্রমূলকভাবে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

সোমবার (৬ জুন) রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ দাবি করেন।

জসিম উদ্দিন আহম্মেদের দাবি, প্রতিষ্ঠানটির সাবেক অধ্যক্ষ শামছুল আলমের অনুসারীরা তাকে পুনরায় এ পদে বসাতে ‘ষড়যন্ত্র’ হিসেবে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের উসকে দেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে ম্যানেজিং কমিটি বাধ্য হয়ে তাকেসহ তিন শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করেন।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি দাবি করেন, কোনোরকম নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে সাবেক অধ্যক্ষ ড. শামছুল আলম দায়িত্বে থাকাকালে তার কাছের আত্মীয়-স্বজন ও নিজ এলাকার প্রায় ৫৫ জনকে শিক্ষক-কর্মচারী হিসেবে নিয়োগ দেন। তারা জোটবদ্ধ হয়ে কলেজে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করছেন। এর আগেও তারা জোটবদ্ধ হয়ে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ এনে আন্দোলন চালালেও তাতে সফল হয়নি। তারা নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির জন্য কলেজ প্রশাসনকে হেয় প্রতিপন্ন করে মিথ্যা ও বিকৃত তথ্য উপস্থাপন করছে। তারা চান না আমি এ কলেজে থাকি, তাদের পচ্ছন্দের ব্যক্তিকে অধ্যক্ষ পদে বসাতে এমন ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, শামছুল আলমের দায়িত্বরত সময়ে এসব শিক্ষক-কর্মচারীদের নিয়োগে অনিয়ম ও ভুয়া অভিজ্ঞতার সদনপত্র যাচাইয়ে গভিনিংবডির অনুমোদনে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি কাজ শুরু করেছে। এসব অনিয়াম ফাঁস হয়ে যাওয়া ভয়ে তদন্ত চলমান অবস্থায় তারা শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের উসকে দিয়ে আন্দোলন শুরু করেন। বিভিন্ন স্থানে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য প্রচার করা হয়। সে কারণে চলতি বছরের গত ২৬ মে কলেজের সিসিটিভি ক্যামেরার সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে। এ ঘটনায় কলাবাগান থাকায় একটি সাধারণ ডায়েরি করলে পুলিশ এসে ঘটনার সত্যতা পায়। তারা কলেজের ক্ষতি করেই থামেনি, শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে বিভিন্ন মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ফেসবুকে প্রচার করে কলেজ বিরোধী তীব্র আন্দোলন শুরু করতে আহ্বান করা হয়। সেটি না করলে শিক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশন করতে দেওয়া হবে না বলে ভয়ভীতি দেখানো হয়। সে কারণে শিক্ষার্থীরা এ আন্দোলনে যুক্ত হয়।

বরখাস্ত হওয়া অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে ১১ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ প্রসঙ্গে জসিম উদ্দিন আহম্মেদ বলেন, গভনিং বডির সভাপতি ও অধ্যক্ষের যৌথ স্বাক্ষর ছাড়া এককভাবে কলেজের ব্যাংক একাউন্ট থেকে টাকাও উত্তোলন করা সম্ভব নয়। এটি শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ও কলেজের উন্নয়নকাজে ব্যয় হিসেবে উত্তোলন করা হয়েছে। বিভিন্ন সময় উত্তোলন করা টাকার বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত সংবাদ সম্মেলনে উপস্থাপন করেন তিনি।

তার অভিযোগ, এ প্রতিষ্ঠানে কোনো অধ্যক্ষকে এক বছরের বেশি থাকতে দেওয়া হয় না। শামছুল আলমের অনুসারীদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হলে নানা ধরনের অভিযোগে আন্দোলন করে তাকে সরিয়ে দেন। সেখানে আমি বিগত পাঁচ বছর ধরে সফলভাবে অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। এ সময়ে প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন, শিক্ষার পরিবেশ ও শিক্ষার্থীর সংখ্যাও বেড়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে ধানমন্ডি আইডিয়াল কলেজের বরখাস্ত অন্য দুই শিক্ষক তরুণ কুমার গাঙ্গুলী ও তৌফিক আজিজ চৌধুরীসহ সাবেক শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।


আরও খবর



ব্যক্তিগত রিসোর্টে অবৈধভাবে একাধিক সিংহ রাখায় ১০ বছরের কারাদণ্ড

প্রকাশিত:Thursday ০৯ June ২০২২ | হালনাগাদ:Monday ২৭ June ২০২২ | ৫৭জন দেখেছেন
Image

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে একটি ব্যক্তিগত রিসোর্টে অবৈধভাবে তিনটি সিংহ রাখায় এক ব্যক্তিকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তাকে ৮০ লাখ ডলার জরিমানা করা হয়েছে। আরব নিউজের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

রাজধানী রিয়াদের ওই রিসোর্টটিতে অবৈধভাবে সিংহ রাখার ঘটনাটি পরিবেশ নিরাপত্তাবিষয়ক বিশেষ বাহিনীর সঙ্গে বিষয়টির তদন্ত করে দেশটির জাতীয় বন্যপ্রাণী কেন্দ্র। এই কাজের মাধ্যমে দেশের পরিবেশ আইনকে ভঙ্গ করা হয়েছে বলে জানানো হয়।

জানা গেছে, দলটি প্রথমে সিংহগুলোকে নিয়ন্ত্রণে নিতে সক্ষম হয়। এরপর এগুলোকে একটি প্রাণি সেবা কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে।

সৌদি পরিবেশ, পানি ও কৃষি মন্ত্রণালয় দেশের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের জন্য যেকোনো ধরনের শিকার নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থানে রয়েছে। বাস্তবায়ন করা হচ্ছে আইন। যারা অবৈধভাবে শিকার করবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানানো হয়েছে।

অবৈধ এসব কর্মকাণ্ডের জন্য মন্ত্রণালয়টি শাস্তির বিধান নির্দিষ্ট করেছে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ দশ বছরের কারাদণ্ডের পাশাপাশি জরিমানার বিধানও রয়েছে।


আরও খবর



এমআইএস অফিসার নিচ্ছে কমিউনিটি ব্যাংক

প্রকাশিত:Friday ১০ June ২০২২ | হালনাগাদ:Tuesday ২৮ June ২০২২ | ৫৮জন দেখেছেন
Image

কমিউনিটি ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডে ‘এমআইএস অফিসার’ পদে জনবল নিয়োগ দেওয়া হবে। আগ্রহীরা আগামী ২৮ জুন পর্যন্ত আবেদন করতে পারবেন।

প্রতিষ্ঠানের নাম: কমিউনিটি ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড

পদের নাম: এমআইএস অফিসার
পদসংখ্যা: নির্ধারিত নয়
শিক্ষাগত যোগ্যতা: স্নাতকোত্তর
অভিজ্ঞতা: ০৩ বছর
বেতন: আলোচনা সাপেক্ষে

চাকরির ধরন: ফুল টাইম
প্রার্থীর ধরন: নারী-পুরুষ
বয়স: নির্ধারিত নয়
কর্মস্থল: ঢাকা

আবেদনের নিয়ম: আগ্রহীরা www.jobs.bdjobs.com এর মাধ্যমে আবেদন করতে পারবেন।

আবেদনের শেষ সময়: ২৮ জুন ২০২২

সূত্র: বিডিজবস ডটকম


আরও খবর