Logo
আজঃ Monday ০৮ August ২০২২
শিরোনাম
রূপগঞ্জে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে ডিজিটাল সনদ ও জাতীয় পরিচয়পত্র বিতরণ কাউন্সিলর সামসুদ্দিন ভুইয়া সেন্টু ৬৫ নং ওয়ার্ডে ভোটার তালিকা হালনাগাদ কর্মসুচীতে অংশগ্রহন করেন চান্দিনা থানায় আট কেজি গাঁজাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার নাসিরনগরে ছাত্রদলের বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ নাসিরনগর বাজারে থানা সংলগ্ন আব্দুল্লাহ মার্কেটে দুই কাপড় দোকানে দুর্ধষ চুরি। ই প্রেস ক্লাব চট্রগ্রাম বিভাগীয় কমিটির মতবিনিময় সম্পন্ন ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ৬ কেজি গাঁজাসহ হাইওয়ে পুলিশের হাতে আটক এক। সোনারগাঁয়ে পুলিশ সোর্স নাম করে ডাকাত শাহ আলমের কান্ড নিখোঁজ সংবাদ প্রধানমন্ত্রীর এপিএসের আত্মীয় পরিচয়ে বদলীর নামে ঘুষ বানিজ্য

মানসম্মত শিক্ষা-গবেষণার লক্ষ্য নির্ধারণের আহ্বান ইউজিসির

প্রকাশিত:Monday ২৭ June ২০২২ | হালনাগাদ:Monday ০৮ August ২০২২ | ৮২জন দেখেছেন
Image

মানসম্মত শিক্ষা ও গবেষণার জন্য প্রতি বছর সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ করে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য অধ্যাপক ড. মো. আবু তাহের।

সোমবার (২৭ জুন) জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে (এনআইএস) অংশীজনদের নিয়ে আয়োজিত সভার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এ আহ্বান জানান।

অধ্যাপক আবু তাহের আরও বলেন, দেশের সব সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা হিসেবে ইউজিসি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত ও বিশ্বমানে উন্নীত করার কাজ করে যাচ্ছে।

বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কর্মদক্ষতা যাচাই করে বাজেট বরাদ্দ শুরু হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে বিশ্ববদ্যিালয়ের বাজেট শতভাগ কর্মদক্ষতার ভিত্তিতে দেওয়া হবে। ভালো কাজের স্বীকৃতি হিসেবে এরই মধ্যে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে শুদ্ধাচার পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে।

কাজে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে পারলে প্রত্যেক বিশ্ববিদ্যালয় কাঙ্ক্ষিত সাফল্য পাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

ইউজিসি সচিব ড. ফেরদৌস জামান বলেন, দায়িত্ব পালনে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রত্যেককে নৈতিকতা, সততা ও আচরণগত মানদণ্ড ঠিক রাখতে হবে। দাপ্তরিক দায়িত্ব পালনে জবাবদিহি-স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে পারলেই শুদ্ধাচার প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব বলে তিনি মনে করেন।

ইউজিসি সচিব ড. ফেরদৌস জামানের সভাপতিত্বে সভায় ইউজিসি, জনতা ব্যাংকের কর্মকর্তা ও গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

ইউজিসির জেষ্ঠ্য সহকারী পরিচালক ও এনআইএসের বিকল্প ফোকাল পয়েন্ট বিষয়ক কর্মকর্তা মো. মামুনের সঞ্চালনায় জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল কর্মপরিকল্পনা নিয়ে বিষয়বস্তু উপস্থাপন করেন এপিএ টিমের সদস্য মো. রবিউল ইসলাম।


আরও খবর



খুলনায় কমতে শুরু করেছে ইলিশের দাম

প্রকাশিত:Wednesday ২৭ July ২০২২ | হালনাগাদ:Saturday ০৬ August ২০২২ | ৪৫জন দেখেছেন
Image

নিষেধাজ্ঞার পর ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ ধরা পড়ায় দাম কমতে শুরু করেছে। দুই দিনের ব্যবধানে দুই হাজার ৫০০ টাকার ইলিশ বিক্রি হচ্ছে এক হাজার ৫০০ টাকায়, এক হাজার ২০০ টাকার ইলিশ মিলছে ৮০০ টাকায়। এক সপ্তাহের মধ্যে এ দাম আরও কমবে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

ব্যবসায়ী ও জেলারা জানান, মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার পর গত দুদিনে খুলনা মহানগরীর পাইকারি মোকামগুলোতে বেড়েছে ইলিশের সরবরাহ। প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে সেখানে। সরবরাহ বেশি থাকায় দাম কমতে শুরু করেছে। বাজারে আসা ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৮০০-১৫০০ টাকায়।

নগরীর ৫ নম্বর মাছ ঘাট ও রূপসা পাইকারি মৎস্য বাজার সূত্র জানায়, সংরক্ষণের জন্য মে মাসের ২০ তারিখ রাত ১২টা থেকে ইলিশ ধরা বন্ধ হয়ে যায়। ৬৫ দিন পর ২৩ জুলাই আবারও শুরু হয়। অনুমতি পাওয়ার পর জেলেরা বরিশালসহ গভীর সমুদ্রে ইলিশ শিকারে ছুটে গেছেন। জেলেদের জালে বিভিন্ন সাইজের মাছও ধরা পড়ছে। সমুদ্র থেকে আসা ট্রলার থেকে আড়তগুলো আসতে শুরু করেছে ইলিশ। হাসি ফুটেছে জেলেদের মুখে।

ময়লাপোতা সন্ধ্যা বাজারের ইলিশ মাছ বিক্রেতা শাফায়েত জানান, এ বাজারে খুলনা অঞ্চলের বিভিন্ন এলাকা থেকে মাছ আসে। তবে নিষেধাজ্ঞার করণে ইলিশের সরবরাহ একেবারেই ছিলো না। নিষেধাজ্ঞার পর আজ সবচেয়ে বেশি ইলিশ মাছ এসেছে এ বাজারে।

তিনি বলেন, এক কেজি সাইজের মাছ ১০ দিন আগেও বিক্রি হয়েছে ১৫০০-১৮০০ টাকায়। আজ সেই মাছের দাম হাজার টাকায় নেমে এসেছে। মাছের সরবরাহ যদি আরও বৃদ্ধি পায় তাহলে দাম আরও কমে যাবে।

রূপসা পাইকারি মাছ বাজারের বিক্রেতা জেলে হারুনার রশীদ বলেন, নিষেধাজ্ঞার পর বরিশাল থেকে ১৭টি বোট সাগরে যায় মাছ ধরতে। সমুদ্রে জাল ফেলে বিভিন্ন আকৃতির মাছ ধরেছেন তারা। জেলেদের জালে প্রচুর ইলিশ মাছ ধরা পড়েছে। ২-১ দিরে মধ্যে এ মাছ বাজারে এসে যাবে। তখন ইলিশের দাম অনেক কমে যাবে।

খুলনায় কমতে শুরু করেছে ইলিশের দাম

এ বাজারের শহিদুল খালাসী বলেন, বাজারে ৫ টন ইলিশ মাছ এসেছে। সরবরাহ বেশি হওয়ায় খুচরা মাছ বিক্রেতাদের উপস্থিতি বেড়েছে। গত দুদিনের তুলনায় ইলিশের আমদানি এ বাজারে ব্যাপক হয়েছে।

তিনি আরও জানান, ৫০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ মণপ্রতি ২৬-২৭ হাজার টাকা, ৬০০-৮০০ গ্রাম ওজনের মাছ বিক্রি করেছেন ২৮-৩০ হাজার টাকা। এক কেজি ওজনের মণ বিক্রি হয়েছে ৪৫-৫০ হাজার টাকায়। তবে ইলিশের সরবরাহ বেশি হলে দাম আরও কমতে পারে।

খুলনায় মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের বিক্রয় পরিদর্শক মো. জাকির হোসেন বলেন, নিষেধাজ্ঞার পর প্রথমদিনে কম হলেও গত দুদিন ইলিশের সরবরাহ বেড়েছে ব্যাপক। কমতে শুরু করেছে ইলিশের দাম। ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে জানতে পারি সমুদ্রে ব্যাপক পরিমাণ মাছ জেলেদের জালে ধরা পড়ছে।


আরও খবর



ক্রাচের কর্নেল: একজন অমীমাংসিত মানুষের গল্প

প্রকাশিত:Friday ২২ July 20২২ | হালনাগাদ:Sunday ০৭ August ২০২২ | ৮৪জন দেখেছেন
Image

বাংলাদেশকে নিয়ে আমরা অনেকেই অনেক রকমের স্বপ্ন দেখি। কেউ দেখি দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশের স্বপ্ন আবার কেউ দেখি দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশের স্বপ্ন। কেউ দেখি শতভাগ স্বাক্ষরতা অর্জনকারী বাংলাদেশের স্বপ্ন আবার কেউ দেখি বিশ্বের বুকে গৌরব অর্জন করে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর স্বপ্ন।

কেউ দেখি একটা শ্রেণি বৈষম্যহীন বাংলাদেশের স্বপ্ন আবার কেউ দেখি মানুষে মানুষে সম্প্রীতির স্বপ্ন। কর্নেল তাহের ঠিক সমষ্টিগতভাবে এই স্বপ্নগুলোই দেখতেন তাও আবার বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের জন্মের অনেক আগে থেকেই। কর্নেল তাহের স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের অনেক আগেই সেই কিশোর বয়সে স্বাধীন বাংলাদেশের কথা বলেছিলেন।

তখনকার দিনে সদ্য কৈশোরে পা দেওয়া একজন কিশোরের কাছ থেকে এমন কথা শোনা অনেকটা ইঁচড়ে পাকা মনে হলেও এর মূল আরও গভীরে গ্রথিত ছিলো। ক্রাচের কর্নেল বইটা একজন কর্নেল তাহেরের একেবারে শৈশব থেকে শুরু করে জীবনের সবচেয়ে বড় সত্য মৃত্যু পর্যন্ত বলা গল্পের আখ্যান। যে গল্প পড়তে বসলে আপনার মনে হতে পারে আপনি যেন বাংলাদেশের কোনো মানুষের গল্প পড়ছেন না পড়ছেন বহির্বিশ্বের কোনো মহান বিপ্লবীর গল্প।

কর্নেল তাহের সম্পর্কে ভাসা ভাসা জ্ঞান নিয়ে বইটি পড়তে বসা। সত্যি বলতে বাংলাদেশে বাম রাজনীতি নিয়ে যুগযুগে এতো বেশি নেতিবাচক প্রচার রয়েছে যে আপনার মনে হতে পারে তারা যেন আমাদের সমাজের কোনো অংশ নয়। একেতো তাদের সঙ্গে আমাদের গতানুগতিক চিন্তা চেতনার তফাৎ উপরন্তু তাদের একেবারে সাদামাটা জীবনযাপন প্রণালী। অবশ্য হালের বাম রাজনীতিবিদদের দেখে আগেকার আমলের বাম রাজনীতিবিদদের বিচার করলে ভুল হবে।

এখনকার বাম রাজনীতির নেতা নেত্রীরা বিভিন্ন দলের ছায়ায় আশ্রয় নিয়ে আখের গোছাতে ব্যস্ত। অবশ্য এখনও সেই আগেকার দিনের মতো এক শ্রেণির তরুণ-তরুণী ঘরের খেয়ে পরের মোষ তাড়ানোর মতো কঠিন কাজটা অবলীলায় করে যাচ্ছেন।
বাংলাদেশের ভঙ্গুর সমাজব্যবস্থা থেকে শুরু করে বহুজাতিক কোম্পানির মোটা বেতন, দামি গাড়ি কোনো কিছুই তাদের কিনতে পারছে না। ব্যাপারটা এমন না যে তাদের যোগ্যতা নেই কিন্তু তবুও তারা জীবনের গতানুগতিক চিন্তা-ভাবনা থেকে দূরে এসে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছেন পড়ছেন সরকারের রোষানলে।

এছাড়াও বাংলাদেশের সমস্ত শক্তির কেন্দ্রবিন্দু সরকারি চাকরি থেকেও নিজেদের গুটিয়ে রেখেছেন। আর বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বোঝা সামরিক বাহিনী থেকে তারা আরও বেশি দূরে। যাইহোক কর্নেল তাহের সম্বন্ধে আলোচনা করার আগে লেখক তারা পরিবার সম্পর্কে আলোচনা করেছেন। এমন একটা পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছিলেন বলেই হয়তোবা নান্নু থেকে কর্নেল তাহের আমাদের এই উপন্যাসের নায়ক ক্রাচের কর্নেল হয়ে উঠতে পেরেছিলেন।

পরিবার বলতে এখানে কর্নেল তাহের যে পরিবারে বেড়ে উঠেছিলেন সেটার এবং তার নিজের পরিবার দুটোর কথায় বলা যায়। কর্নেল তাহেরের বাবা-মা দুজনেই আমাদের সমাজের গতানুগতিক বাবা-মাদের চেয়ে পুরোপুরি আলাদা রকমের মানুষ। বাবার বদলির চাকরি সূত্রে কর্নেল তাহেরের ভাইবোনদের অনেক ছোটবেলাতেই অনেক কিছু দেখা, শেখা এবং জানা হয়ে যায়।

অবশ্য এখানে তাদের বাবা-মায়ের ঠিক করে দেওয়া জীবনপ্রণালীর কথা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। কর্নেল তাহেরের মা আশরাফুন্নেসা মোট এগারোটি সন্তানের জন্ম দিয়েছিলেন। একটি মারা যায় অল্প বয়সে। দশটি সন্তানের একটি সংসার রীতিমতো একটা প্রতিষ্ঠানের মতো করে গড়ে তুলেন আশরাফুন্নেসা। কর্নেল তাহেরের বাবা মা দুজনেই খুব ভোরবেলা উঠতেন ঘুম থেকে। এরপর ছেলে মেয়েরা ঘুম থেকে উঠলে চালু হয়ে যেতো রুটিন মাফিক কাজ।

সোমবার যেমন: শেলী অর্থাৎ সালেহা রুটি বেলবে। হীরু অর্থাৎ আরিফ কুয়া থেকে পানি তুলবে, মন্টু অর্থাৎ ইউসুফ হাঁস, মুরগি আর কবুতরের খোপ খুলে দেবে, নান্টু অর্থাৎ তাহের গরুকে খৈল দেবে, খোকা অর্থাৎ সাঈদ গোয়াঘর পরিষ্কার করবে, মনু অর্থাৎ আনোয়ার উঠান ঝাড়ু দেবে, মঙ্গলবার আবার দায়িত্ব লোড বদল হবে। এভাবে চলতো প্রতিদিন।

স্কুলে যাওয়ার আগে এবং পরে প্রতিটা ছেলেমেয়ের জন্য বরাদ্দ ছিলো নির্দিষ্ট কাজ। সংসারে যারা পরে এসেছে, বেলাল, বাহার, ডালিয়া, জুলিয়া কেউই বাদ যায়নি এ নিয়ম থেকে। তার সন্তান বাহিনীর কাজ কঠোরভাবে তদারকি করতেন আশরাফুন্নেসা। এছাড়াও আশরাফুন্নেসা অবলীলায় তার ছেলেমেয়েদের কামলাদের সঙ্গে কাজে লাগিয়ে দিতেন। এতে করে অলক্ষ্যে সন্তানদের হয়ে যাচ্ছিল কঠোর নিয়ামনুবর্তিতার প্রশিক্ষণ, হচ্ছিল প্রকৃতির সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ, কেটে গিয়েছিল কায়িক শ্রম নিয়ে শিক্ষিত মানুষের প্রচলিত দূরত্বের বোধ। কৈশোরের এই প্রস্তুতি তার সব সন্তানকে দিয়েছিল বৃত্ত ভাঙার সাহস।

আমার কাছে মনে হয়েছে কর্নেল তাহেরের পরিবারের গল্প যেন বাংলাদেশের মূর্ত প্রতিচ্ছবি। যেখানে কর্নেল তাহেরের মা হচ্ছেন বাংলাদেশ আর তার সন্তানেরা হচ্ছেন তার সামরিক বাহিনী। কর্নেল তাহেরের মা একনিষ্ঠ পাখির মতো একটু একটু করে ছানাদের তিনি মুখে পুরে দিয়েছেন অলৌকিক মন্ত্র। সে মন্ত্র বুকে নিয়ে তার ছানারা সব উড়ে গেছে অসম্ভবের দেশে। কর্নেল তাহেরের বাবা মহিউদ্দীনের ছিলো বাগানের শখ। যে স্টেশনেই যেতেন, স্টেশনের আশপাশে পতিত জায়গার অভাব হতো না।

মহিউদ্দীন আহমেদ সেখানে শুরু করে দিতেন নানা রকম সবজির চাষ। বদলির চাকরিতে কয়েক বছরের মধ্যেই নতুন স্টেশনে যোগ দিতে হতো তাকে। তখন ওয়াগনে মালপত্র উঠানো শুরু হতো, সঙ্গে গরু ছাগল, মুরগী, কবুতর সব। গরুকে রেলের ওয়াগনে উঠানো হতো মাচা বানিয়ে। দুই তিন দিন ধরে চলার শেষে পৌঁছাতে হতো নতুন স্টেশনে। আর আশ্রাফুন্নেসার প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা খুব বেশি দূর ছিলো না, পড়েছিলেন প্রাথমিক স্কুল পর্যন্ত কিন্তু পড়বার আগ্রহ, জানার আগ্রহ ছিল প্রবল।

ছেলেমেয়েদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বই পড়ার নেশা ছিল নান্টু তথা তাহেরের। তখনকার দিনে পাঠ্যবইয়ের বাইরের বইকে বলা হতো ‘আউট বই’। আশ্রাফুন্নেসারও আউট পড়ার শখ ছিল। দিনের সব কাজ শেষ হলে রাতে আশরাফুন্নেসা হারিকেন জ্বালিয়ে আলোর কাছে মেলে ধরতেন সাঁওতাল বিদ্রোহের ওপর বই ‘ভাগনা দিহীর মাঠে’ কিম্বা স্বদেশী আন্দোলনের ওপর লেখা ‘কাঞ্চনজঙ্ঘার ঘুম ভাঙছে’। ছেলেমেয়েদের নিয়ে আহ্লাদ, আদিখ্যেতা একদম অপছন্দ ছিলো আশ্রাফুন্নেসার। প্রতি ঈদে সবার জন্য নতুন পোশাক কেনার সামর্থ্য তার ছিল না তাই পালা করে কিনে দেওয়া হতো নতুন জামা।

আশরাফুন্নেসা তার ছেলে মেয়েদের মধ্যে একটা বোধ সঞ্চালিত করেছেন বার বার সেটা হলো ‘আমাদের জীবন শুধু আমাদের নিজের জন্য নয়, এ জীবনের ওপর দাবি আশপাশের চেনা অচেনা মানুষেরও’ কর্নেল তাহেরকে নিয়ে আলোচনা করতে বসে এতো বিশদভাবে তার মায়ের বর্ণনা দেওয়ার একটাই কারণ সেটা হচ্ছে কর্নেল তাদের যে জীবনবোধ ধারণ ও পালন করতেন তার শিক্ষা তিনি সেই ছোটবেলা থেকেই তার মায়ের কাছ থেকে হাতে কলমে পেয়েছিলেন।

কর্নেল তাহের সেই ছোটবেলা থেকেই ডানপিটে দুরন্ত তার অনেক প্রমাণ আছে। তার ভাইকে তার নিজের বয়সের তুলনায় বড় ছেলেরা মারলে তিনি সেখানে গিয়ে যেমন প্রতিবাদ করেছেন আবার ঠিক তেমনি ভাষা আন্দোলনের রক্তারক্তির মূলহোতা মুখ্যমন্ত্রী নুরুল আমিনকে বহনকারী ট্রেনের বগি লক্ষ্য করে ঢিলও ছুড়েছেন। ছোটবেলার স্কুল শিক্ষকের কাছ থেকেই পেয়েছেন আন্দোলনের শিক্ষা যিনি ছিলেন মাস্টারদা সূর্য সেনের সাথীদের একজন।

এই শিক্ষকের কথাগুলো কর্নেল তাহেরের জীবনে শেষদিন পর্যন্ত প্রভাব বিস্তার করে ছিল এমনকি মাস্টারদা সূর্যসেনের কর্মপদ্ধতি তাকে এতটাই আকৃষ্ট করে যে তিনি তার ভবিষ্যৎ জীবনের সবগুলো আন্দোলনে সেই পন্থা অবলম্বন করেছেন। মাস্টারদা যেমন ব্রিটিশদের ঝাঁকুনি দিতে চেয়েছিলেন কর্নেল তাহেরও বাংলাদেশের শাসন ব্যবস্থাকে একটা ঝাঁকুনি দিয়ে গেছেন। নিজের জীবন দিয়ে দেখিয়ে দিয়ে গেছেন বাংলাদেশের সমাজ এবং শাসনব্যবস্থার ক্ষতগুলো এবং নিরাময়ের চেষ্টা করে গেছেন জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত।

jagonews24

নিয়মমাফিক ম্যাট্রিকে ছাত্রছাত্রীদের বিষয় হিসেবে হয় উর্দু নয়তো আরবি নিতে হতো সেই সময় কর্নেল তাহের সংস্কৃত নিয়েছেন। পরে কলেজে ভর্তি হয়ে দুই বন্ধু মন্জু আর আর মজুমদারকে নিয়ে মনে মনে গড়ে তুলেছেন গেরিলা বাহিনী। তিনি সেই বয়সেই বুঝতে পেরেছিলেন ‘ব্রিটিশরা ভারত ভেঙেছে এবার আমাদের পাকিস্তান ভাঙতে হবে’। এই সময়ে কয়েকটি বই তাহেরের চিন্তা চেতনাকে আরও বেশি উদ্বুদ্ধ করে তার মধ্যে ‘কমিউনিস্ট মেনিফেস্টো’ এবং এঙ্গেলস এর ‘এন্টিডুরিং’।

কর্নেল তাহেরের সেনাবাহিনীতে যোগদানও কোনো কাকতালীয় ঘটনা ছিল না তিনি অনেক হিসেবে নিকেশ করেই সেখানে যোগ দিয়েছিলেন ‘ওয়ার ফেয়ার’টা শেখার জন্য কারণ তিনি বুঝতে পেরেছিলেন সশস্ত্র সংগ্রাম ছাড়া সাধারণ মানুষের ভাগ্যের চাকা ঘুরবে না। এরপর সামরিক বাহিনীতে যোগদান, প্রশিক্ষণ সবই যেন তার বৃহৎ পরিকল্পনার ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অংশ। অবশ্য এর মধ্যেই পরিবারের চাপাচাপিতে বিয়েটা করে ফেলেন।

বাংলাদেশের আর্থ সামাজিকতায় একটা বিষয় খুবই সাধারণ সেটা হলো বিয়ের আগে অনেকেই সমাজ দেশ বিশ্ব বদলে দেবার স্বপ্ন দেখেন কিন্তু বিয়ের পর হয়ে যান পুরোপুরি সাংসারিক হোক সেটা বাস্তবতার কাছে নিজেকে সমর্পণ করে বা দায়িত্ববোধের জায়গা থেকে কিন্তু কর্নেল তাহেরের স্ত্রী লুৎফা তার স্বামীকে বেঁধে রাখেননি বরং কোনো পরিণতির কথা না ভেবেই যতুটুকু পেরেছেন সহযোগিতা করে গেছেন স্বামীর অসম্ভব স্বপ্ন পূরণের। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এমন মেয়েরা সংখ্যায় একেবারেই হাতেগোনা।

পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী থেকে তাকে যে প্রশিক্ষণেই পাঠানো হয়েছে সেখানেই তিনি মেধার স্বাক্ষর রেখেছেন কিন্তু একটি দিনের জন্যেও নিজ মনে লালিত স্বপ্ন থেকে দূরে সরে যাননি। একটা স্বাধীন সার্বভৌম সমাজতান্ত্রিক বাংলাদেশ। এ সবেরই ধারাবাহিকতায় তিনি পাকিস্তান থেকে পলায়ন করেছেন আরো দুজন কর্মকর্তা মন্জুর এবং জিয়াউদ্দিনসহ। পাকিস্তান থেকে পলায়ন পর্বটা পড়ার সময় পাঠক সহজেই আবিষ্ট হয়ে যাবেন কারণ পলায়নের সেই গল্প সিনেমার গল্পকেও হার মানায়।

পাকিস্তান থেকে পালিয়ে এসে ময়মনসিংহ সীমান্তের ১১নং সেক্টরের অধিনায়কের দায়িত্ব নেন। এরপর মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যেও তিনি তার বোধকে ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা অব্যাহত রাখেন। ততদিনে তার পরিবারের সকল ভাইবোন এসে তার সাথে যুদ্ধে যোগ দিয়েছেন অবশ্য অনেকেই আগে থেকেই যুদ্ধে যোগ দিয়েছিলেন কিন্তু তাহেরকে পেয়ে সবাই আরও বেশি উৎসাহিতবোধ করেন। তাহের একের পর এক দুর্ধর্ষ সব অভিযান পরিচালনা করেন।

এলাকায় পাকিস্তানিদের সবচেয়ে শক্ত ঘাঁটি কামালপুর একবার করে বিফল হয়ে আবারও আক্রমণ করেন। দ্বিতীয়বার আক্রমণের সময় একটা বিস্ফোরণে একটা পা নষ্ট হয়ে যায়। এরপর থেকে তিনি ক্রাচ নিয়ে হাটা শুরু করেন আবার আমাদের কাছে পরিচিত পেতে শুরু করেন কর্নেল তাহের থেকে ক্রাচের কর্নেল হিসেবে। দেশ স্বাধীন হয় একসময় কিন্তু কর্নেল তাহেরকে দেশ স্বাধীনের মূল্য হিসেবে পা’টাকে বিসর্জন দিতে হয়।

ত্রিশ লাখ তাজা প্রাণ আর তিন লাখ মা-বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে বাংলাদেশের যে স্বাধীনতা অর্জিত হয় তার কাছে একটা পা নিতান্তই তুচ্ছ একটা ব্যাপার কিন্তু এই পঙ্গুত্বই পরে তার জীবনের অনেক সম্ভবকে অসম্ভব করে তোলে যদিও এটা তার জীবনাচরণে তেমন কোনো প্রভাব ফেলেনি। পরে তার কর্মকাণ্ড দেখে মনে হয়েছে তিনি বোধহয় জীবনের শুরু থেকেই একটা পা’হীন।

মুক্তিযুদ্ধের পর অনেকটাই বদলে যান তাহের। ইউনিফর্মের বাইরে তখন তার ছিলো মাত্র দু তিনটে শার্ট। পুরোপুরিভাবে ছেড়ে দিয়েছেন মদ। সিগারেট না ছাড়লেও আগে যেখানে তার ব্র্যান্ড ছিলো বিদেশি তখন ধরেছেন দেশি স্টার। তাহের মনে মনে আঁকতে থাকেন একটা সোনার বাংলার চিত্র যার ভিত্তি হবে নদী। তাহের এমন একটি বাংলার কল্পনা করতে থাকেন যেখানে সেই নদীর দুপাশে বিস্তীর্ণ উঁচু বাঁধ। সে বাঁধের ওপর দিয়ে চলে গেছে মসৃণ সোজা সড়ক, রেলপথ, বিদ্যুৎ, গ্যাস, টেলিফোন এবং টেলিগ্রাফ লাইন।

বাঁধের উভয় পাশে ইতস্তত ও বিক্ষিপ্ত গ্রাম। সেখানে নির্ধারিত দূরত্বে একই নকশার অনেক বাড়ি নিয়ে গড়ে উঠেছে এক একটি জনপদ। ঠিক এমনই একটা অসম্ভব স্বপ্ন কর্নেল তাহের বাংলাদেশকে নিয়ে দেখতে থাকেন এবং নিজের পদাধিকার এবং ক্ষমতার মধ্যে থেকে সেগুলোর যতদূর সম্ভব বাস্তবায়নও শুরু করেন। কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্টের পুরো ব্রিগেডের দায়িত্ব পাবার পর সেটাকে এমনভাবে গড়ে তোলেন যে অন্য ব্রিগেডের কাছে সেটা লাঙ্গল ব্রিগেড বলে খ্যাতি পেয়ে যায়।

এরপর বিভিন্ন ঘটনা পরিক্রমায় এগিয়ে যেতে থাকে কর্নেল তাহেরের স্বপ্নিল জীবন। বাংলাদেশ প্রত্যক্ষ করে দ্বিতীয় সিপাহী বিপ্ল্ব। সিপাহী সিপাহী ভাই ভাই স্লোগান একটা সময় হয়ে যায় সিপাহী জনতা ভাই ভাই। এর মধ্যেই ঘনিয়ে আসে বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে লজ্জাজনক ঘটনা ১৫ আগস্ট ১৯৭৫। বাংলাদেশের অবস্থা তখন ঘূর্ণির বলয়ে পড়া একটা খড়কুটোর মতো। কখনও একদিকে তো পর মুহূর্তেই অন্যদিকে ঘুরপাক খাচ্ছে।

পরে বিভিন্ন ঘটনাক্রমে কর্নেল তাহেরের বন্দিত্ববরণ, প্রহসনের বিচার এবং বাংলাদেশ সাক্ষী হয় একটা জবানবন্দির। কেউ যদি কর্নেল তাহেরকে জানতে চায় তাহলে শুধুমাত্র তার এই জবানবন্দিটা পাঠ করলেই তার কর্মকাণ্ড এবং স্বপ্ন সম্বন্ধে প্রায় সবটুকু জানা হয়ে যায়। একটা সময় ফাঁসির রায় দেওয়া হয়। ফাঁসির রায় শোনার পরও তাকে কোনোভাবেই ক্ষমা ভিক্ষার আবেদনে রাজি করানো সম্ভব হয়নি।

আমার জানামতে উপমহাদেশের ইতিহাসে ভগৎ সিং, সুখদেব এবং রাজগুরুর পর কর্নেল তাহের সম্ভবত: দ্বিতীয় ব্যক্তি যিনি হাসিমুখে ফাঁসিকাষ্ঠে ঝুলেছিলেন। দুঃখ একটাই ভগৎ সিং যেমন নিজের জীবন দিয়ে ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনকে বেগবান করেছিলেন কিন্তু কর্নেল তাহেরের ফাঁসিটা একেবারে কোনো কাজেই আসেনি। সত্যিই কি আসে না? সেটাও অবশ্য একটা প্রশ্ন।

কর্নেল তাহের ফাঁসি কাষ্ঠে দাঁড়িয়ে বলিষ্ঠ কণ্ঠে পাঠ করেন সহযোদ্ধা জিয়াউদ্দিনের লেখা কবিতা:
‘জন্মেছি, সারা দেশটাকে কাঁপিয়ে তুলতে, কাঁপিয়ে দিলাম।
জন্মেছি, তোদের শোষণের হাত দুটো ভাঙব বলে, ভেঙে দিলাম।
জন্মেছি, মৃত্যুকে পরাজিত করব বলে, করেই গেলাম
জন্ম আর মৃত্যুর বিশাল পাথর রেখে গেলাম
পাথরের নিচে, শোষক আর শাসকের কবর দিলাম
পৃথিবী, অবশেষে এবারের মতো বিদায় নিলাম।’

বইটা শেষ করা হয়েছে এভাবে ‘কবর দেওয়ার পর সেনাবাহিনীর সদস্যরা কবরের পাশে ক্যাম্প করে পজিশন নেয়। রাইফেল আর বেয়নেট উঁচিয়ে কবরটিকে পাহারা দেয় তারা। এক সপ্তাহ যায়, দুই সপ্তাহ যায় সেনা পাহারা তবু নড়ে না।…তুমুল বৃষ্টি নামে একদিন। কি মনে হয় লুৎফার, ছাতা মাথায়, কাঁদা পথ হেঁটে হেঁটে কবরের কাছে চলে যান তিনি। বাতাসের ঝাপটায় ভিজে যায় তার শাড়ি। ঘন বৃষ্টিতে আবছা দেখা যায় অস্ত্র হাতে রেইনকোট পরা সিপাইরা দাঁড়িয়ে আছে এদিক ওদিক। বৃষ্টিতে ঝুম ভিজছে কবরটি। পানি চুইয়ে চুইয়ে ঢুকছে কবরের অনেক ভেতরে। সেখানে শুয়ে আছেন একজন অমীমাংসিত মানুষ। লুৎফাভাবে মানুষটা ভিজছে।’

এভাবেই নিজের, সংসারের পরিণতির কথা না ভেবে বাংলাদেশকে নিয়ে অসম্ভব স্বপ্নবাজ একজন মানুষের জীবন কাহিনি থেমে যায়। এরপর বাংলাদেশের ইতিহাস যেমন দিক পরিবর্তন করে তেমনি কর্নেল তাহেরও চলে যান বিস্মৃতির অতলে। সেখান থেকে তাকে পরম মমতায় তুলে এনেছেন সুলেখক শাহাদুজ্জান তার ‘ক্রাচের কর্নেল’ বইয়ে। এই বইটার বিশেষত্ব হচ্ছে এই বইটাতে কর্নেল তাহেরে জীবনকাহিনির সমান্তরালে এসেছে বাংলাদেশের ইতিহাস যেটা পাঠকের জন্য বাড়তি পাওনা।


আরও খবর



মাইক্রোসফটে চাকরি পেলেন শাবিপ্রবির কাজী নাঈম

প্রকাশিত:Tuesday ০২ August 2০২2 | হালনাগাদ:Monday ০৮ August ২০২২ | ১৭জন দেখেছেন
Image

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান মাইক্রোসফটের লন্ডন অফিসে সিনিয়র সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে যোগ দিয়েছেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) সাবেক শিক্ষার্থী কাজী নাঈম।

নাঈম বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের ২০১২-১৩ সেশনের শিক্ষার্থী।

মঙ্গলবার (২ আগস্ট) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিএসই বিভাগের সহকারী অধ্যাপক এনামুল হাসান।

তিনি বলেন, ‘কিছুদিন আগে মাইক্রোসফটের লন্ডন অফিসে সিনিয়র সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কাজ করার ডাক পেয়েছে নাঈম। এখন সে ওই অফিসেই যোগ দিয়েছে। এতে আমরা সবাই আনন্দিত। বিভাগের পক্ষ থেকে তাকে অভিনন্দন জানাচ্ছি।’

মাইক্রোসফটে যোগ দিতে পেরে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে কাজী নাঈম বলেন, নিজেকে অনেক ভাগ্যবান মনে হচ্ছে। আমি এজন্য খুব পরিশ্রম করেছি। আমার মা, বাবা, দুই বোন, শিক্ষক, বন্ধু-বান্ধব ও সিনিয়র ভাইবোনেরা অনেক সহযোগিতা করেছেন। মাইক্রোসফটে দক্ষ ইঞ্জিনিয়ারদের সঙ্গে কাজ করে নতুন নতুন জিনিস উদ্ভাবন করার চেষ্টা করবো।


আরও খবর



সচিবালয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে টেকনিশিয়ানের মৃত্যু

প্রকাশিত:Wednesday ২০ July ২০22 | হালনাগাদ:Monday ০১ August ২০২২ | ২৫জন দেখেছেন
Image

রাজধানীর সচিবালয়ে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে এক টেকনিশিয়ানের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (২০ জুলাই) বিকেল ৫টার দিকে এই ঘটনা ঘটে।

নিহত টেকনিশিয়ানের নাম মো. মুজাহিদ উদ্দিন (৪৫)। তার গ্রামের বাড়ি, নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে। আলী কম্পিউটার নামের একটি প্রতিষ্ঠানে কাজ করতেন তিনি।

নিহতকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসা সহকর্মী মনিরুজ্জামান বলেন, আমরা সচিবালয়ে ভেতরে ৬ নম্বর ভবনের তৃতীয় তলার করিডরে স্টিলের মইয়ে দাঁড়িয়ে ইন্টারকম লাইন মেরামতের কাজ করছিলাম। এসময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন মুজাহিদ। পরে তাকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো. বাচ্চু মিয়া মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢামেক মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানাকে জানানো হয়েছে।


আরও খবর



প্রথমবারের মতো এআইপি সম্মাননা পেলেন ১৩ জন

প্রকাশিত:Wednesday ২৭ July ২০২২ | হালনাগাদ:Friday ০৫ August ২০২২ | ২৬জন দেখেছেন
Image

কৃষিক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য প্রথমবারের মতো ১৩ ব্যক্তিকে ‘কৃষিক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি (এগ্রিকালচারালি ইম্পর্ট্যান্ট পারসন-এআইপি)’ সম্মাননা-২০২০ প্রদান করা হয়েছে। এআইপিরা সিআইপির মতো বিভিন্ন সুবিধা পাবেন।

বুধবার (২৭ জুলাই) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তাদের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসিবে উপস্থিত ছিলেন কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক। বিশেষ অতিথি ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন উপমন্ত্রী হাবিবুন নাহার।

এআইপি নীতিমালা অনুযায়ী প্রতি বছর মোট ৫টি বিভাগে সর্বোচ্চ ৪৫ জনকে এআইপি সম্মাননা প্রদান করা হবে। এআইপি কার্ডের মেয়াদ এক বছর।

এআইপি সম্মাননা প্রাপ্তরা হলেন- কৃষি উদ্ভাবন বিভাগে বাউধান-৩ এর জাত উদ্ভাবনের জন্য বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. লুৎফুল হাসান, দুটি বীজ আলুসহ মোট ১০টি সবজির জাত উদ্ভাবন ও বাজারজাতকরণে এ আর মালিক সিডসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আতাউস সোপান মালিক, মেহগনি ফলের বীজ থেকে তেল তৈরির জন্য ফিউচার অর্গানিক ফার্মের সৈয়দ আব্দুল মতিন, আলীম পাওয়ার ট্রিলার উদ্ভাবনের জন্য আলীম ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের আলীমুছ ছাদাত চৌধুরী।

কৃষি উৎপাদন বা বাণিজ্যিক খামার স্থাপন ও কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প বিভাগে এআইপি সম্মাননা প্রাপ্ত ৬ জন হলেন- নাটোর সদরের দৃষ্টান্ত অ্যাগ্রো ফার্ম অ্যান্ড নার্সারির মো. সেলিম রেজা, ঠাকুরগাঁওয়ের চামেশ্বরীর মো. মেহেদী আহসান উল্লাহ চৌধুরী, ঝালকাঠি সদরের এশা ইন্টিগ্রেটেড অ্যাগ্রিকালচার ফার্মের মো. মাহফুজুর রহমান, পিরোজপুর জেলার নাজিরপুরের জাগো কেঁচো সার উৎপাদন খামারের মালিক মো. বদরুল হায়দার বেপারী, পটুয়াখালী জেলার বাউফল উপজেলার নুর জাহান গার্ডেনের মো. শাহবাজ হোসেন খান এবং কুমিল্লার নাঙ্গলকোটের বিছমিল্লাহ মৎস বীজ উৎপাদন কেন্দ্র ও খামারের মো. সামছুদ্দিন (কালু)।

jagonews24

কৃষি সংগঠন বিভাগে নওগাঁর শাহ্ কৃষি তথ্য পাঠাগার ও জাদুঘরের জাহাঙ্গীর আলম এআইপি মনোনীত হয়েছেন। এছাড়া বঙ্গবন্ধু কৃষি পুরস্কারে স্বর্ণপদকপ্রাপ্ত বিভাগে নির্বাচিত দুজন হলেন- পাবনার ঈশ্বরদীর মোছা. নুরুন্নাহার বেগম এবং মো. শাহজাহান আলী বাদশা।

বাণিজ্যিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি-সিআইপি’র ন্যায় কৃষিক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ন ১৩ ব্যক্তিকে এআইপি (এগ্রিকালচারাল ইমপর্টেন্ট পারসন) সম্মাননা দেওয়া হয়েছে।

কৃষি মন্ত্রণালয় বলছে, কৃষিখাতসহ দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে কৃষিবিজ্ঞানী, উদ্যোক্তা, উৎপাদনকারী, বাণিজ্যিক কৃষি খামার স্থাপনকারী, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকারী ও কৃষি সংগঠকদের প্রতি বছর এআইপি সম্মাননা দেওয়া হবে।

৫টি বিভাগের মধ্যে ‘ক’ বিভাগে কৃষি উদ্ভাবন ‘জাত ও প্রযুক্তি’ ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১০ জন পাবেন এ সম্মাননা। ‘খ’ বিভাগে কৃষি উৎপাদন এবং বাণিজ্যিক খামার স্থাপন ও কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প ক্ষেত্রে সম্মাননা পাবেন সর্বোচ্চ ১৫ জন। একটি প্রশাসনিক বিভাগ থেকেও সম্মাননা পাবেন সর্বোচ্চ ২ জন। ‘গ’ বিভাগে রপ্তানিযোগ্য কৃষিপণ্য উৎপাদনে সর্বোচ্চ ১০ জন এ সম্মাননা লাভ করবেন। ‘ঘ’ বিভাগে স্বীকৃত বা সরকার কর্তৃক রেজিস্ট্রিকৃত কৃষি সংগঠনের সর্বোচ্চ ৫ জন এবং ‘ঙ’ বিভাগে বঙ্গবন্ধু কৃষি পুরস্কারে স্বর্ণপদকপ্রাপ্ত সর্বোচ্চ ৫ জন এআইপি সম্মাননায় ভূষিত হবেন।

কৃষি মন্ত্রণালয় ৪টি কমিটির মাধ্যমে এআইপি নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করছে। এর মধ্যে রয়েছে- ইউএনওর সভাপতিত্বে উপজেলা কমিটি, চেয়ারম্যান, স্থানীয় সরকার পরিষদ (৩টি পার্বত্য জেলার জন্য) এবং জেলা প্রশাসকের সভাপতিত্বে জেলা কমিটি, যুগ্ম সচিব (সম্প্রসারণ, প্রশাসন, পিপিবি) ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের আহ্বায়ক হিসেবে প্রাথমিক বাছাই কমিটি। এছাড়া সচিব, কৃষি মন্ত্রণালয়ের সভাপতিত্বে চূড়ান্ত বাছাই কমিটি।

জানা গেছে, সিআইপির সুযোগ-সুবিধার মতোই এআইপিরা পাবেন বিশেষ কিছু সুযোগ-সুবিধা। এগুলো হলো- এআইপি কার্ডের সঙ্গে মন্ত্রণালয় থেকে একটি প্রশংসাপত্র। একজন এআইপিকে দেওয়া প্রদত্ত সুবিধাদির মেয়াদ থাকবে সম্মাননা প্রদানের তারিখ থেকে পরবর্তী এক বছর। এআইপিরা সচিবালয়ে প্রবেশের জন্য পাবেন বিশেষ পাস। বিভিন্ন জাতীয় অনুষ্ঠান ও সিটি কিংবা মিউনিসিপ্যাল করপোরেশন কর্তৃক আয়োজিত নাগরিক সংবর্ধনায় আমন্ত্রণ পাবেন। বিমান, রেল, সড়ক ও জলপথে ভ্রমণকালীন সরকার পরিচালিত গণপরিবহনে পাবেন আসন সংরক্ষণ অগ্রাধিকার।

একজন এআইপির ব্যবসা বা দাপ্তরিক কাজে বিদেশে ভ্রমণের জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ভিসাপ্রাপ্তির নিমিত্তে বিশেষ সুবিধা পাবেন। একজন এআইপি তার স্ত্রী, পুত্র, কন্যা, মাতা, পিতা ও নিজের চিকিৎসার জন্য সরকারি হাসপাতালের কেবিন সুবিধা প্রাপ্তিতে অগ্রাধিকার পাবেন। এছাড়া বিমানবন্দরে ভিআইপি লাউঞ্জ-২ ব্যবহার সুবিধা পাবেন এআইপিরা।


আরও খবর