Logo
আজঃ Monday ০৮ August ২০২২
শিরোনাম
রূপগঞ্জে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে ডিজিটাল সনদ ও জাতীয় পরিচয়পত্র বিতরণ কাউন্সিলর সামসুদ্দিন ভুইয়া সেন্টু ৬৫ নং ওয়ার্ডে ভোটার তালিকা হালনাগাদ কর্মসুচীতে অংশগ্রহন করেন চান্দিনা থানায় আট কেজি গাঁজাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার নাসিরনগরে ছাত্রদলের বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ নাসিরনগর বাজারে থানা সংলগ্ন আব্দুল্লাহ মার্কেটে দুই কাপড় দোকানে দুর্ধষ চুরি। ই প্রেস ক্লাব চট্রগ্রাম বিভাগীয় কমিটির মতবিনিময় সম্পন্ন ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ৬ কেজি গাঁজাসহ হাইওয়ে পুলিশের হাতে আটক এক। সোনারগাঁয়ে পুলিশ সোর্স নাম করে ডাকাত শাহ আলমের কান্ড নিখোঁজ সংবাদ প্রধানমন্ত্রীর এপিএসের আত্মীয় পরিচয়ে বদলীর নামে ঘুষ বানিজ্য

‘মাদকাসক্ত হয়ে মা-বাবার স্বপ্নকে ধ্বংস করবে না’

প্রকাশিত:Saturday ০৪ June ২০২২ | হালনাগাদ:Monday ০৮ August ২০২২ | ১০১জন দেখেছেন
Image

মাদকের কুফল উল্লেখ করে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম বলেছেন, জীবনে ভুল করেও কখনো মাদকের সঙ্গে জড়িত হবে না। কোনো মাদকাসক্ত ব্যক্তি জীবনে সফল হয়েছে এমন নজির নেই।

তিনি বলেছেন, মাদকাসক্ত হয়ে মা-বাবার স্বপ্নকে ধ্বংস করা যাবে না। কোনোভাবেই মাদক নেওয়ার মতো পাপের রাস্তায় পা বাড়ানো যাবে না।

শনিবার (৪ জুন) রাজারবাগের বাংলাদেশ পুলিশ অডিটোরিয়ামে ৭৮৪ জন মেধাবী শিক্ষার্থীকে শিক্ষাবৃত্তি দেওয়ার অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন ডিএমপি কমিশনার।

‘সোনার বাংলা গড়তে হলে সোনার মানুষ হতে হবে’ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের এ বাণীকে প্রতিপাদ্য হিসেবে ধারণ করে ডিএমপি পরিবারের মেধাবী সন্তানদের অনুপ্রেরণা জোগাতে শিক্ষাবৃত্তি-২০২১ দিচ্ছেন ডিএমপি কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম।

jagonews24

এইচএসসি, এসএসসি, ও-লেভেল, উচ্চ শিক্ষাবৃত্তি ও শিক্ষাসহায়তা বৃত্তি ক্যাটাগরিতে বৃত্তি দেওয়া হয়। ভালো ফলাফলের জন্য এইচএসসিতে ২৭৫ জন, এসএসসিতে ৩৩৬ জন, ও-লেভেলে দুইজন, উচ্চ শিক্ষাবৃত্তি ৮৩ জন ও শিক্ষাসহায়তা বৃত্তি পেয়েছে ৮৮ জন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বৃত্তি পাওয়া শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অভিনন্দন জানিয়ে ডিএমপি কমিশনার বলেন, জাতিকে যদি উন্নত করতে হয় শিক্ষা ছাড়া উপায় নেই। আমরা যে অবস্থায় আছি তার চেয়ে একটু ভালো অবস্থানে আমাদের সন্তানদের দেখতে চাই। আর এর জন্য তাদের সুশিক্ষিত করার কোনো বিকল্প নেই।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে কমিশনার বলেন, তোমাদের আজকের এ সফলতা জীবনের একটা ক্ষুদ্র পদক্ষেপ। তবে প্রতিটা পদক্ষেপে সফল হওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। কেউ তোমাকে তার অবস্থান ছেড়ে দেবে না। তোমাকেই তোমার অবস্থান অর্জন করে নিতে হবে। জীবনে সফলতার শর্টকাট কোনো রাস্তা নেই, জ্ঞান অর্জনের কোনো বিকল্প নেই। কর্মক্ষেত্রে জ্ঞানের ঘাটতি নিয়ে সফল হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

তিনি বলেন, বাবাকে বাবা হিসেবে মূল্যায়ন করতে হবে তার পদমর্যাদার হিসেবে নয়। প্রত্যেক বাবা-মায়েই তার সন্তানকে মানুষ করার সর্বাত্মক চেষ্টা করে থাকেন। বাবা-মায়ের সেই চেষ্টাকে ব্যর্থ হতে দেওয়া যাবে না। সন্তান যেন মানুষ হয় সে চেষ্টায় বাবা-মা কঠোর পরিশ্রম করেন।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, স্বাধীনতা যুদ্ধে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর প্রতিরোধে প্রথম বুলেটটি নিক্ষেপ করা হয় পুণ্য ভূমি রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স থেকে। একজন পুলিশ সদস্য হিসেবে রাজারবাগে এলে গর্বে আমার বুক ভরে যায়। আমি এর জন্য খুবই গর্ববোধ করি।

শিক্ষাবৃত্তি অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (অ্যাডমিন) মীর রেজাউল আলম। স্বাগত বক্তব্যে তিনি বলেন, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ পুলিশ ইউনিট। এখানে প্রায় ৩৪ হাজার পুলিশ সদস্য কর্মরত আছেন। এ ইউনিটে কর্মরত পুলিশ সদস্যদের সন্তানদের সুশিক্ষায় উৎসাহিত করার লক্ষে ২০১৭ সালে চালু হয় এই শিক্ষা বৃত্তি কার্যক্রম। বর্তমান কমিশনার মহোদয় বৃত্তি প্রাপ্তদের সংখ্যা ও অর্থের পরিমাণ বৃদ্ধি করেন।

jagonews24

তিনি বলেন, এ শিক্ষাবৃত্তি শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের জন্য একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে। আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠার জন্য এ শিক্ষাবৃত্তি বৃত্তিপ্রাপ্তদের উদ্বুদ্ধ করবে। বৃত্তিপ্রাপ্তরা ভবিষ্যৎ জীবনে দেশপ্রেমিক মানুষ হিসেবে গড়ে উঠলে সেটাই হবে আমাদের সফলতা।

বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে অনুভূতি ব্যক্ত করে একজন শিক্ষার্থী বলেন, এ রকম সুন্দর একটি অনুষ্ঠানের অংশীদার হতে পেরে আমি নিজেকে সত্যি সৌভাগ্যবতী মনে করছি। সব শিক্ষার্থী বন্ধুদের পক্ষ থেকে ডিএমপিকে এরকম সুন্দর একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ জানাই। এটি ভবিষ্যতে আমাদের অনুপ্রেরণা জোগাবে। তাই আশা রাখবো এ ধরনের আয়োজন ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে এবং আমাদের মতো যত শিক্ষার্থী আছে তাদেরও অনুপ্রেরণা জোগাবে।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস্) কৃষ্ণপদ রায়, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিবি) এ কে এম হাফিজ আক্তার, অতিরিক্ত পুলিশ কশিনার (ট্রাফিক) মো. মুনিবুর রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (সিটিটিসি) মো. আসাদুজ্জামান, ডিএমপির যুগ্ম পুলিশ কমিশনার, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও বৃত্তিপ্রাপ্ত ছাত্রছাত্রী এবং তাদের অভিভাবক অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।


আরও খবর



কাজের মঙ্গাকে গুরুত্ব দিন

প্রকাশিত:Sunday ০৭ August ২০২২ | হালনাগাদ:Monday ০৮ August ২০২২ | জন দেখেছেন
Image

অধুনা ‘মঙ্গা’ শব্দটি বললেই ভাবা হয় অন্যকিছু। ধরে নেয়া হয় সেখানে রাজনীতি অথবা অপপ্রচার শুরু হয়ে গেছে। মঙ্গা শুধু ভাত বা খাদ্যের অভাবের জন্য নাও হতে পারে। যিনি যেভাবে ভাবুন না কেন- বড় মানুষের বড় বড় জিনিসের জন্য মঙ্গা আর খেটে খাওয়া দরিদ্র মানুষের মঙ্গায় মৌলিক পার্থক্য আছে।

মঙ্গার বাংলা অর্থ সংকট বা বড় অভাব। মূলত প্রায় সবার ঘরের ধান-চাল তথা খাবার নিঃশেষ হলে এবং খাদ্য কেনার সামর্থ্য না থাকলে যে সংকট সৃষ্টি হয় সে থেকে চারদিকে হাহাকার তৈরি হলে সেটাই মঙ্গা নামে পরিচিত। “মঙ্গা একটি বিদেশি শব্দ। হিন্দি ও উর্দুতে বলা হয় ম্যোঙ্গা। দেশের কুমিল্লা ও নোয়াখালি অঞ্চলে উচ্চারিত হয় মাঙ্গা। উত্তরাঞ্চলের রংপুরে একে বলা হয় মঙ্গা। এর আভিধানিক অর্থ উচ্চ মূল্য, এমন মূল্য যা সর্ব সাধারণের নাগালের বাইরে।

বলা হয়-কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির সাথে সাথে মঙ্গার চিত্র পাল্টে গেছে। তবে দেশের চরাঞ্চল ও দরিদ্র জেলাগুলোতে বিপুল সংখ্যক ভূমিহীন মানুষের কর্মসংস্থান না থাকায় মৌসুমী বেকারত্ম ও বেঁচে থাকার অবলম্বন সংকুচিত হওয়ায় মঙ্গার চিত্র চেখে পড়ে। যেমন, কুড়িগ্রাম জেলায় দারিদ্র্যের হার ৭০.৮ শতাংশ (বিবিএস)।

বিআইডিএস-এর মতে, কুড়িগ্রামে অতিদরিদ্রের হার ৫৩.২ শতাংশ (প্রথম আলো জুলাই ৩০, ২০২২)। খাদ্যের মঙ্গা কমে গেলেও প্রতিবছর বন্যা আর নদীভাঙনের কারণে দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করতে হয় লক্ষ লক্ষ মানুষকে। অভাব বিমোচনের বিভিন্ন প্রকল্পে যাদের অনেকের নেই কোন সংযোগ ও অংশগ্রহণ।

চিলমারীর জোড়গাছ বাজারের ব্রহ্মপুত্রের চরে কাজ করে একজন দিনমজুর জমির আল থেকে হেলেঞ্চা শাক তুলে বাড়ি ফিরছেন। সম্প্রতি তিনি একটি শীর্ষস্থানীয় দৈনিকের প্রথম পাতায় হেলেঞ্চার বোঝাসহ সংবাদের শিরোনাম হয়েছেন। তার এলাকায় বন্যার পর খাদ্য ও কাজের দারুণ অভাব দেখা দিয়েছে। দৈনিক মজুরিভিত্তিক কাজ না থাকলে খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় তাদের আর কি-ই বা করার আছে? একজন বা দু’জন তো নয়। যেখানে অতিদরিদ্র মানুষের হার ৫৩ শতাংশ। সেখানে কাজের মঙ্গা শ্রমিকদের জন্যে। ওদের গ্রামে কাজ নেই। শহুরে ভাসমান মানুষ ও বস্তিবাসীদের কথা বাদ দিলাম। আর আর দেশে শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা ৪০ ভাগের বেশি। এদের চাকুরি নেই। সুতরাং কাজের মঙ্গা গ্রাম-শহর সব জায়গায়।

আমাদের চারদিকে চোখ মেললেই কতকিছুর প্রাচুর্য্য দেখি আবার চোখ মেলা বা বন্ধ করা অবস্থাতে অনুভব করি নানা অভাব। তবে যারা অভাবকে অভাব বলে কপটতা করেন বা স্বীকার করেন না- তাদের কথা আলাদা। কারণ, কিছু মানুষের অভাববোধ নেই। যেসব মানুষের অভাব বোধ নেই তারা অতিমানব অথবা পেটে পাথর বেঁধে কায়ক্লেশে বেঁচে থাকা সুখী মানুষের নামান্তর।

মাটির মানুষের শরীরে রক্তমাংস তাই প্রতিটি মানুষের অভাববোধ থাকে। তাইতো ‘ঝিনুক দিয়ে মেপে খেলেও রাজার ভাণ্ডার ফুরিয়ে যায়’। আমাদের চেপে রাখা অভাব আর মুখের সাজানো হাসির আমন্ত্রণ একটি বিশেষ কৃষ্টি এবং ঐতিহ্যও বটে। এজন্য গভীর রাতে গৃহস্থ বাড়িতে অতিথি এলে ঘরের ডিমপাড়া পোষা মুরগীটা জবাই করে আপ্যায়ন করতে দ্বিধা করি না।

সেদিন আমাদের পরিবারের একজন বিদেশিনী ভাবী বলেছেন, তোমাদের বাড়ির ভেতরটা সুন্দর। ড্রইংরুমটা আরো সুন্দর, খুব গুছানো থাকে। কিন্তু সেটার সাজসজ্জা দেখে বলার উপায় নেই সব জায়গায় একই রকম। বাড়ির পাশের রাস্তা কেন এত নোংরা? বিশেষ করে বাইরের হাট-বাজারের অবস্থা কিরকম তা জানি না কিন্তু রাজধানীতেই কাঁচা বাজারে একহাঁটু পানি, কাদা, ময়লা।

আমার নিজ হাতে বাজার করতে ইচ্ছে হয় কিন্তু বাজারের পরিবেশ এত নোংরা! তার উপর দামের হেরফের। বাজারে গেলে টোকাই ও ভিক্ষুকরা জামা ধরে টানাটানি করে। দেশের মানুষের অভাবটা সেখানেই চোখে পড়ে। ওনার পর্যবেক্ষণমূলক কথা শুনে আসলেই ভীষণ লজ্জা লাগে। তার উপর তিনি পেশায় একজন ডাক্তার।

কিন্তু কিছু মানুষের সেসব চোখে পড়ে না। তারা অভাব, মঙ্গা, দারিদ্র্য, হতাশা, চুরি, দুর্নীতি ইত্যাদি নিয়ে কথা বললে রাগ করে। তাদের নিজেদের অভাববোধ নেই, নিত্য সকালে বাজারে যেতে হয় না। ভিক্ষুক এসে তাদের বাসার কলিং বেল বার বার টেপার অধিকার পায় না। অথবা দারোয়ান বাসার দরজা পর্যন্ত ভিক্ষুক প্রবেশের সেই সুযোগটা হরণ করে নিয়েছে মালিকের আদেশে। তাই তারা চারদিকের গিজ গিজ করা অভাবী মানুষের সঠিক সংখ্যাটা জানেন না।

এত কষ্টের নিয়তি নিয়ে দরিদ্র মানুষগুলোর কষ্টের কথা বলা যাবে না। বললেই রাজনৈতিক অপপ্রচার ও উপহাস দিয়ে ‘তুড়ি মেরে উড়িয়ে দেয়ার’ লোকের অভাব নেই। এই ধরনের দৈন্য মানসিকতার জন্য দেশের দারিদ্র্য ক্রমাগত জিইয়ে থাকে। অনেক সময় দেশের প্রথম সারির গণমাধ্যমেও সেগুলোকে গুরুত্ব দেয়া হয় না। তারা ধনী-গরীব নির্বিশেষে সকল সাধারণ মানুষের প্রতিনিধিত্ব করার নৈতিক দায়িত্বটুকুও অবহেলা করে বসেন। ফলে সবকিছু পিছিয়ে চলে যায় গহীন অন্ধকারে।

সমাজের কল্যাণের নিমিত্তে এসব মৌলিক বিষয়ের সমালোচনাকারীরা কারো কোন পক্ষ নন। বরং জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ এসব বিষয় নিয়ে গঠনমূলক সমালোচনাকারীরা নীতিমালা গ্রহণের ক্ষেত্রে ছায়াসিদ্ধান্ত প্রদানকারী।

আমাদের দেশে সব ধরনের পরিবর্তন একসঙ্গে শুরু হওয়ায় একটি ক্রান্তিকাল চলছে। এই পরিবর্তনে নেতিবাচক দিকগুলোকে সতর্কতার সাথে পরিহার করার জন্য কর্তৃপক্ষের সূক্ষ চিন্তাভাবনা থাকতে হবে। শুধু ইতিবচাক পরিবর্তনগুলো যেন সামনে যাবার গতিবেগপ্রাপ্ত হয় সেজন্য সব ধরনের ছলচাতুরী পরিহার করার মানসিকতা থাকতে হবে।

তা-না হলে গলার গামছায় হেলেঞ্চা শাকের আঁটি বেঁধে বিষণ্ণ চিত্তে দাঁড়িয়ে থাকা চিলমারীর দিনমজুর হযরত আলীর মতো করুণ চাহনিধারী মানুষের সংখ্যা দিন দিন আরো বেড়ে যাবে। সামাজিক বঞ্চনা ও বৈষম্য আমাদের সবাইকে অহেতুক পরস্পরকে প্রহসন ও হেয় করতে শেখাবে। নিশ্চয়ই এই অবস্থা আমরা কেউই আর হতে দিতে চাই না।

লেখক: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকর্ম বিভাগের প্রফেসর ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের সাবেক ডিন।
[email protected]


আরও খবর



অর্পিতার ফ্ল্যাট থেকে পাঁচ কেজি স্বর্ণসহ ৩০ কোটি টাকা উদ্ধার

প্রকাশিত:Thursday ২৮ July ২০২২ | হালনাগাদ:Saturday ০৬ August ২০২২ | ৩৭জন দেখেছেন
Image

প্রায় সাড়ে ১৩ ঘণ্টা তল্লাশি চালানোর পর অর্পিতা মুখোপাধ্যায়ের ফ্ল্যাট থেকে নগদ ৩০ কোটি টাকাসহ ৫ কেজি স্বর্ণ উদ্ধার করেছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) কর্মকর্তারা। বৃহস্পতিবার (২৮ জুলাই) ভোর ৫টার দিকে টাকা গোনা শেষ হয়।

এরপর ইডির অন্যান্য প্রক্রিয়া শেষে সকাল ৬টার দিকে নগদ অর্থসহ অন্যান্য জিনিস জব্দ করা হয়। পরে অর্পিতার ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার জিনিসের একটি তালিকাও আবাসন কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।

ওই আবাসন কর্তৃপক্ষ জানায়, উদ্ধার টাকার পরিমাণ ২৭ কোটি ৯০ লাখ। এছাড়াও ছিল ৪ কোটি ৩১ লাখ টাকার মূল্যের গহনা, জমির দলিল, হার্ড ডিস্ক ইত্যাদি।

উদ্ধার অর্থ ছিল ওয়ারড্রব, বিছানার নিচে ও বাথরুমের ভেতরে। ইডি হেফাজতে থাকা অর্পিতা ও শিল্পমন্ত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ইডি জানতে চাইবে আর কোথায় কি সম্পত্তি ও নগদ অর্থ আছে।

ইডির এমন অভিযানকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে আখ্যা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

অন্যদিকে, অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তী এই মুহূর্তে বঙ্গের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ করে বেড়াচ্ছেন।


আরও খবর



মোবাইলে পরিচয়ে প্রেম-বিয়ে: স্ত্রীর হাতে খুন জিনের বাদশা

প্রকাশিত:Wednesday ০৩ August ২০২২ | হালনাগাদ:Saturday ০৬ August ২০২২ | ১২জন দেখেছেন
Image

জিনের বাদশা পরিচয়ে প্রতারণাই পেশা জাকির হোসেন বাচ্চুর (৩৮)। প্রতারণার উদ্দেশ্যে ফোন দিলে জাকিরের সঙ্গে পরিচয় হয় মোছা. আরজু আক্তারের (২৩)। ফোনে আলাপ থেকেই প্রেম, একপর্যায়ে বিয়ে হয় তাদের। বিয়ের পর আরজু আক্তারকেও জিনের প্রতারণার কাজে যুক্ত করেন জাকির।

আরজু আক্তারের সঙ্গে বসবাস করলেও পরকীয়ায় আসক্ত জাকির প্রতারণায় উপার্জিত সব অর্থ ব্যয় করতেন অনৈতিককাজে। এ নিয়ে মনোমালিন্য থেকে একপর্যায়ে আরজুকে তালাক দেন জাকির।

তালাক হলেও তাদের মধ্যে স্বামী-স্ত্রীর মতো সম্পর্ক ছিল, প্রায়ই একসঙ্গে বসবাস করতেন। তবুও জাকিরের একাধিক পরকীয়া সম্পর্ক ও তালাকের কারণে প্রতিশোধ নেওয়ার পরিকল্পনা করেন আরজু আক্তার। সে অনুযায়ী লঞ্চযোগে ভোলা যাওয়ার পথে কেবিনে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে জাকিরকে হত্যা করেন আরজু।

গত ২৯ জুলাই সদরঘাট এলাকায় এমভি গ্রিন লাইন-৩ লঞ্চের স্টাফ কেবিন থেকে জাকির হোসেন বাচ্চুর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ৩১ জুলাই দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন নিহত জাকিরের প্রথম স্ত্রী সুরমা আক্তার।

সোমবার (১ আগস্ট) মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। তদন্তের ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার (৩ আগস্ট) ভোরে সাভারের নবীনগর এলাকায় ঢাকাগামী একটি বাস থেকে আরজু আক্তারকে গ্রেফতার করা হয়। এ দিনই আদালতে হাজির করলে ১৬৪ ধারায় হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন আরজু আক্তার।

বুধবার (৩ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর ধানমন্ডিতে পিবিআই সদরদপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান পিবিআই ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ খোরশেদ আলম।

তিনি বলেন, জিনের বাদশা জাকির হোসেন বাচ্চুর বাড়ি ভোলার বোরহানউদ্দীনে। সেখানে তার প্রথম স্ত্রী ও সন্তানরা থাকতেন। জিনের বাদশা পরিচয়ে প্রতারণা করে আসা জাকির দুই বছর আগে একদিন ফোন দেন আরজু আক্তারকে। জিনের বাদশা পরিচয়ে দেওয়া সেই ফোন থেকেই প্রেম এরপর তাকে বিয়ে করে ঢাকার ভাড়াবাসায় বসবাস করতে থাকেন জাকির।

বিয়ের পর আরজু জানতে পারেন তিনি জাকিরের দ্বিতীয় স্ত্রী। এরপরেও জাকিরের একাধিক পরকীয়া সম্পর্ক নিয়ে তাদের মধ্যে মনোমালিন্য সৃষ্টি হয়। এ নিয়ে বিবাদের জেরে গত ২ মাস আগে তাদের তালাক হয়ে যায়। তালাক হলেও তারা একজন আরেকজনের বাসায় গিয়ে থাকতেন। তালাক দেওয়া ও একাধিক সম্পর্কের কারণে প্রতিশোধ নেওয়ার সুযোগ খুঁজতে থাকেন আরজু।

এর মধ্যে আরজু আক্তার জানতে পারেন ২৯ জুলাই জাকির লঞ্চযোগে ভোলা গ্রামের বাড়ি যাবেন। আরজুর বাড়ি জাকিরের বাড়ির পাশের গ্রামে হওয়ায় কেবিন ভাড়া করে তাকেও সঙ্গে নিয়ে যেতে বলেন আরজু। ওইদিন সকালে এমভি গ্রিন লাইন লঞ্চের একটি স্টাফ কেবিন ভাড়া করে দুইজন ভোলার উদ্দেশ্যে রওনা দেন। লঞ্চে ওঠার আগে একপাতার ঘুমের ওষুধ ও এক বোতল দুধ কিনে নেন আরজু।

পিবিআই এসপি বলেন, লঞ্চের কেবিনে প্রথমে তারা শারীরিক সম্পর্কে জড়ান। এরপর জাকির পানি আনতে লঞ্চের নিচতলায় গেলে দুধের বোতলে ৫ টি ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে রাখে আরজু। কিছুক্ষণ পর জাকির কেবিনে এলে তাকে ওষুধ মেশানো দুধ খেতে বলেন। দুধ খেয়ে জাকির ঘুমিয়ে পড়েন, এরপর তার হাত-পা ওড়না দিয়ে বেধে ফেলেন। এরপর আরেকটি ওড়না দিয়ে জাকিরকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন।

হত্যার পর জাকিরকে কেবিনের স্টিলের খাটের নিচে লুকিয়ে রুমটি ভালোভাবে গুছিয়ে রাখেন আরজু। এরপর লঞ্চটি ভোলার ইলশা ঘাঁটে পৌঁছালে আরজু নেমে যান। লঞ্চের ক্লিনার ওই কেবিনে এসে রুমটি গুছানো দেখে আর ভেতরে যাননি। দুপুরে লঞ্চটি আবার ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দিলে দুই নারী তিন বাচ্চাকে নিয়ে সেই কেবিনে ওঠেন।

এরমধ্যে একটি বাচ্চা খাটের নিচে গেলে এক নারী যাত্রী তাকে আনতে গিয়ে জাকিরের মরদেহ দেখতে পেয়ে লঞ্চের স্টাফদের খবর দেন। পরে স্টাফরা এসে মরদেহ দেখতে পেয়ে ঢাকার নৌ পুলিশকে খবর দেন। লঞ্চটি ঢাকার সদরঘাটে পৌঁছালে নৌ পুলিশ গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে ও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পিবিআই।

পিবিআইর এ কর্মকর্তা বলেন, মামলা হওয়ার পর পিবিআই ঢাকা জেলা মামলাটির তদন্তভার নেয়। তদন্তের ধারাবাহিকতায় আরজু আক্তারকে শনাক্ত করা হয়। আরজু ভোলা নেমে স্পিডবোট যোগে বরিশাল যান। সেখান থেকে বাসযোগে দৌলদিয়া হয়ে ঢাকা ফেরার পথে নবীনগর এলাকায় ঢাকাগামী বাস থেকে আরজু আক্তারকে গ্রেফতার করা হয়।

তিনি আরও বলেন, লঞ্চের কেবিনে কোন যাত্রী উঠলে তাদের জাতীয় পরিচয়পত্র রাখার কথা থাকলেও লঞ্চ কর্তৃপক্ষ জাকির ও আরজুর কোনো পরিচয়পত্র রাখেননি। এছাড়া তারা যে কেবিনটি ভাড়া দিয়েছিল সেটি ছিল স্টাফ কেবিন। স্টাফ কেবিন হওয়া স্বত্বেও তাদের কাছে ভাড়া দেন লঞ্চের স্টাফরা।


আরও খবর



বাঘ বাড়াতে নেওয়া হচ্ছে নানামূখী পদক্ষেপ

প্রকাশিত:Friday ২৯ July ২০২২ | হালনাগাদ:Monday ০৮ August ২০২২ | ৩১জন দেখেছেন
Image

সর্বশেষ জরিপ অনুযায়ী সুন্দরবনে বাঘ রয়েছে ১১৪টি। যদিও ২০১৯ সাল থেকে এ পর্যন্ত বয়সের কারণে মারা গেছে কয়েকটি বাঘ। একই সঙ্গে শিকারি ও পাচারকারী চক্রের কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে বাঘের চামড়াসহ অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ।

তবে গত দু-তিন বছরে কয়েক দফায় সুন্দরবন ভ্রমণে আসা পর্যটকরা বাঘের দেখা পেয়েছেন। আবার সুন্দরবন সংলগ্ন লোকালয়েও এসেছে বাঘ। একই সঙ্গে বনবিভাগের সদস্যরা বনের বিভিন্ন অংশে বাঘের উপস্থিতি টের পেয়েছেন। এ থেকে অনুমান করা হচ্ছে সুন্দরবনে বাঘ বেড়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, লোকালয়ে বাঘ আসার অর্থ বাঘের সংখ্যা বৃদ্ধি নয়। সুন্দরবনে বাঘ সংরক্ষণ ও বৃদ্ধির জন্য আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

jagonews24

পরিবেশবাদীদের দাবি, শিকারীদের দৌরাত্ম্য, সুন্দরবনে বিষ দিয়ে মাছ ধরাসহ নানা প্রতিকূলতার কারণে হুমকির মুখে রয়েল বেঙ্গল টাইগার। তারা বলছেন, সুন্দরবনই হচ্ছে এশিয়ার মধ্যে রয়েল বেঙ্গল টাইগারসহ বন্যপ্রাণীর বৃহত্তম আবাসভূমি। বনবিভাগ বাঘের আবাসভূমিকে তাদের জন্য সম্পূর্ণ নিরাপদ করতে পারেনি। নিরাপদ করা গেলেই বাঘের সংখ্যা দ্রুত বাড়বে।

বনবিভাগ বলছে, সুন্দরবনে বাঘ সংরক্ষণে সরকারিভাবে প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে বাঘ বাড়বে।

বাঘ দিবস উপলক্ষে নেওয়া তথ্য থেকে জানা যায়, স্বাধীনতার পর ১৯৭৫ সালে রর্বাট হনড্রেকিসের জরিপে সুন্দরবনে বাঘ ছিল ৩৫০টি, ১৯৮২ সালে মার্গারেট স্যালটার জরিপে ৪২৫টি, ১৯৮৪ সালে সুন্দরবন দক্ষিণ বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের ১১০ বর্গ কিলোমিটার এলাকায় জরিপে ৪৩০-৪৫০টি, ১৯৯২ সালে ৩৫৯টি রয়েছে বলে জানায় বনভিবাগ।

১৯৯৩ সালে ৩৫০ বর্গ কিলোমিটার এলাকায় প্যাগমার্ক পদ্ধতিতে জরিপে ধন বাহাদুর তামাং ৩৬২টি বাঘ রয়েছে বলে জানান। ২০০৪ সালে জরিপে বাঘের সংখ্যা ছিল ৪৪০টি। ২০১৫ সালের জরিপে সুন্দরবনের বাংলাদেশ অংশে বাঘরে সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে কমে দাঁড়ায় ১০৬টিতে। হঠাৎ সুন্দরবনের বাঘের সংখ্যা ৪০০ থেকে ১০৬ হওয়ায় বিশ্বজুড়ে হৈ চৈ শুরু হয়। ২০১৮ সালের সর্বশেষ জরিপে সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১১৪টিতে।

বনবিভাগ সূত্র আরও জানায়, ২০০১ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ৫০টি বাঘের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে স্বাভাবিকভাবে মারা গেছে ১০টি, স্থানীয়রা পিটিয়ে মেরেছে ১৪টি। ২০০৭ সালের সুপার সাইক্লোন সিডরে একটি মারা যায় এবং বাকি ২৫টি বাঘ শিকারীরা হত্যা করে।

jagonews24

সুন্দরবন করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আজাদ কবির জাগো নিউজকে বলেন, বাঘ একটি নিদৃষ্ট গন্ডির মধ্যে চলাচল করে। যখন বাঘের বয়স হয়ে যায় তখন অন্য বাঘ তাকে তাড়িয়ে দেয়। তখন সে অরেক এলাকায় চলে যায়। সেখান থেকেও তাকে তাড়িয়ে দিলে একপর্যায়ে লোকালয়ে আসে। তবে বর্তমানে সুন্দরবনের বিভিন্ন অংশে বাঘের উপস্থিতি টের পাওয়া গেছে।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) বাগেরহাট জেলা কমিটির আহ্বায়ক নুর আলম জাগো নিউজকে বলেন, ২০ বছর আগে সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা ছিল ৪৪০টি। এখন আছে মাত্র ১১৪টি। সেখান থেকেও কয়েকটি মারা গেছে। সুন্দরবনে বিষ দিয়ে মাছ শিকার, শিকারীদের দৌরাত্ম্য, বাঘের আবাসস্থল নিরাপদ না হওয়াসহ বিভিন্ন কারণে বাঘ কমেছে। সুন্দরবনের পাশে রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র, শিল্পকারখানাসহ সুন্দরবন বিধ্বংসী সব কার্যক্রম বন্ধ করতে হবে।

বাগেরহাট সরকারি পিসি কলেজের প্রাণী বিদ্যা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান ড. শিউলী রাণী সূত্রধর জাগো নিউজকে বলেন, ‘সুন্দরবনের বাঘের সংখ্যা বাড়ানোর জন্য শিকারি দমন ও বাঘের আবাসস্থল ক্ষতিগ্রস্ত করা দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল মধু সংগ্রহকারী, গোলপাতা সংগ্রহকারী, মাছ শিকারীরা অবাধে সুন্দরবনের গহীনে প্রবেশ করছে। ফলে বাঘের সঙ্গে মানুষের শত্রুতাও বাড়ছে। একই সঙ্গে বাঘের শান্তিময় পরিবেশ বিঘ্নিত হচ্ছে। এসব মানুষের জন্য বিকল্প পেশার ব্যবস্থা করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, শুধুমাত্র বাঘের সংখ্যা বৃদ্ধির কারণে বাঘ লোকালয়ে আসে না। খাদ্য সংকট, সুন্দরবনে অনেক বেশি ঘন গাছ, বনের কোনো কোনো অংশ ফাঁকা হয়ে যাওয়া, বয়স বৃদ্ধির কারণে খাদ্য শিকারে সমস্যা ও প্রজননকালে বাঘ লোকালয়ে চলে আসতে পারে।

jagonews24

সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. বেলায়েত হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, বাঘের সংখ্যা বৃদ্ধিতে ‘সুন্দরবন বাঘ সংরক্ষণ প্রকল্প’নেওয়া হয়েছে। এর আওতায় সুন্দরবনে ক্যামেরা ট্র্যাপিংয়ের মাধ্যমে বাঘ গণনা, বয়স ও লিঙ্গ অনুপাতে সুন্দরবনের কম বাঘ সম্পন্ন এলাকায় স্থানান্তর, বাঘের শরীরে স্যাটেলাইট ট্রান্সমিটার স্থাপন ও মনিটরিং করা, বাঘের পরজীবীর সংক্রমণ ও অন্য ব্যাধি নির্ণয় ও সুন্দরবনের লোকালয় সংলগ্ন এলাকায় নাইলনের রশির বেষ্টনী তৈরি করা হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাঘ এবং তার শিকার প্রাণী যাতে নিরাপদে থাকতে পারে এজন্য সুন্দরবনের ৫২ ভাগ এখন অভয়ারণ্য ঘোষণা করা হয়েছে। লোকালয়ে আসা বাঘ নিরাপদে বনে ফেরাতেও ব্যাপক সচেতনতা তৈরি করা হয়েছে। এরই মধ্যে এর সুফলও পাওয়া গেছে। এখন বাঘসহ বন্য প্রাণী লোকালয়ে এলে স্থানীয়রা বন বিভাগকে জানায়।


আরও খবর



এবার পুতিনের ‘বান্ধবীর’ ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা

প্রকাশিত:Wednesday ০৩ August ২০২২ | হালনাগাদ:Sunday ০৭ August ২০২২ | ২৭জন দেখেছেন
Image

এবার রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের কথিত প্রেমিকা অ্যালিনা কাবায়েভার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় আরও পড়েছেন তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও ধনকুবের আন্দ্রেই গ্রিগোরিয়েভিচ গুরিয়েভসহ রাশিয়ার আরও বেশ কয়েকজন। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (২ আগস্ট) যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ রাশিয়ার ইউক্রেন আগ্রাসনের পর সর্বশেষ এ নিষেধাজ্ঞা দিলো।

৩৯ বছর বয়সী অ্যালিনার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে তার যেকোন সম্পদ বাজেয়াপ্ত থাকবে। একই সঙ্গে আমেরিকানদের সঙ্গে তার লেনদেন স্থগিত করা হয়েছে। অলিম্পিকের সাবেক খেলোয়াড় অ্যালিনা কাবায়েভা।

যুক্তরাজ্যের কর্মকর্তারাও একইভাবে কাবায়েভার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে। অ্যালিনা গত মে মাসে রাশিয়ার নিউ মিডিয়া গ্রুপের চেয়ারপার্সন হন। এটি রাশিয়ার বৃহত্তম বেসরকারি মিডিয়া সংস্থা।

গত ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেন আক্রমণের কারণে রাশিয়ার ৬৯ বছর বয়সী প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সহযোগী এবং প্রিয়জনদের ওপর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। ইউক্রেনকে সাহায্য করার জন্য বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার অস্ত্র ও অন্যান্য সংস্থান প্রদান করলেও ইউক্রেন আগ্রাসন নিয়ে রাশিয়ার সঙ্গে সরাসরি সংঘর্ষ এড়িয়ে গেছে যুক্তরাষ্ট্র।

এবার পুতিনের ‘বান্ধবীর’ ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা

ক্রেমলিন দীর্ঘদিন ধরে অস্বীকার করে আসছে যে কাবায়েভার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িত তিনি। তবে বিভিন্ন প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায় যে তিনি তার কয়েক সন্তানের মা।

মস্কোর একটি সংবাদপত্র ২০০৮ সালে পুতিন এবং কাবায়েভার প্রেমের বিষয়টি নিয়ে রিপোর্ট প্রকাশ করেছিল।

কাবায়েভা উজবেকিস্তানের নাগরিক। ২০০৪ সালে এথেন্স অলিম্পিকে সোনাও জিতেছিলেন তিনি। ২০১৪ সালে ন্যাশনাল মিডিয়া গ্রুপের দায়িত্ব নেন। এর আগে পুতিনের ইউনাইটেড রাশিয়া পার্টিতে একজন আইনপ্রণেতা হিসেবে ছয় বছরেরও বেশি সময় কাজ করেন। টেলিভিশনে টকশোর হোস্টিং করার অভিজ্ঞতাও রয়েছে তার।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান


আরও খবর