Logo
আজঃ বুধবার ১৭ জুলাই ২০২৪
শিরোনাম

কুয়েতে ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, নিহত ৩৫

প্রকাশিত:বুধবার ১২ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:বুধবার ১৭ জুলাই ২০২৪ | ১৯৩জন দেখেছেন

Image

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:কুয়েতের দক্ষিণাঞ্চলে একটি ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে কমপক্ষে ৩৫ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অনেক মানুষ।

বুধবার (১২ জুন) দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় মানগাফ শহরে এই অগ্নিকাণ্ড ও হতাহতের ঘটনা ঘটে। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাতে এ খবর জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

প্রতিবেদনে বলা হয়, আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর। তাদের নিকটবর্তী বিভিন্ন হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

কুয়েতের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ভবনে অগ্নিকাণ্ডে আহতদের যথাযথ চিকিৎসা সেবা দেওয়ার জন্য মেডিকেল দলগুলো তাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে।

এছাড়া অগ্নিকাণ্ডে আহতদের যথাযথ চিকিৎসা সেবা দেওয়ার জন্য মেডিকেল দলগুলো তাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছে বলেও মন্ত্রণালয় আশ্বস্ত করেছে।


আরও খবর



রূপগঞ্জে বিআরটিসি পরিবহন যেন ঘাড়ের উপর বিষফোঁড়া

প্রকাশিত:বুধবার ১০ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:বুধবার ১৭ জুলাই ২০২৪ | ৯৪জন দেখেছেন

Image

আবু কাওছার মিঠু রূপগঞ্জ নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি:নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে বিআরটিসি বাসের চালক হেলপার সহ লিজ পার্টি জিল্লুর রহমানের ম্যানেজার মাসুদ কাউন্টার ম্যান ও লাঠিয়াল বাহিনীর হাত থেকে স্বস্তি চায় সাধারণ যাত্রীরা। 

সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রূপগঞ্জের একমাত্র গণপরিবহন বিআরটিসি। ভুলতা থেকে কুড়িল পর্যন্ত নিয়মিত যাত্রীদের যাতায়াতের সুবিধার্থে এই গণপরিবহনটি বিভিন্ন অভিযোগ মাথায় নিয়ে ২০১৭ সালের ডিসেম্বর মাস থেকে যাত্রা শুরু করে। এতে সাধারণ যাত্রীদের চলাচলের সুবিধা হবে এবং অল্প টাকায় সকলে ঢাকা সহ আশেপাশের এলাকায় যাতায়াত করতে পারবে।  কিন্তু সে আসার গুড়ে বালি। যেখানে কুড়িল থেকে গাউছিয়া বাস ভাড়া হওয়ার কথা ৩০ থেকে ৪০ টাকা সেখানে বিআরটিসি বাসের ভাড়া গুনতে হয় ৬০ টাকা করে।

অথচ এই একই ভাড়ায় সিএনজিতে চলতে পারে সাধারণ যাত্রীরা। কিন্তু এখানেও বাধা দেয় বিআরটিসির লাঠিয়াল গুন্ডাবাহিনী।  কুড়িল থেকে কোন সিএনজি ড্রাইভার যদি যাত্রী উঠানামা করে তাহলে তাদের ধরে সেখানে বেধড়ক মারধর করার ঘটনা ঘটে প্রায়ই। ইদানিং আর লাঠিয়াল গুন্ডা নয়, জিল্লুর রহমান খোদ পুলিশ পাহারা রেখেছে বিআরটিসি কুড়িল কাউন্টারে। গত চার মেয়ে শনিবার কুড়িল রাস্তা অবরোধ করে আন্দোলন করে সিএনজি চালক ও যাত্রীরা তাদের অভিযোগ কুড়িল গেলেই বিআরটিসি লাঠিয়াল গুন্ডাবাহিনী তাদেরকে লাঠি দিয়ে তাদের গাড়ির গ্লাস ভেঙ্গে দেয় এবং সুযোগ পেলে তাদের মেরে রক্তাক্ত করে দেয় এজন্য তারা কাঞ্চন-কুড়িল ৩০০ ফিট রোড অবরোধ করে ৪ ঘন্টা বন্ধ করে রাখে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান সালাউদ্দিন ও রুপগঞ্জ থানার ওসি দীপকচন্দ্র সাহার অনুরোধে তারা রাস্তা থেকে সরে যায়।  রূপগঞ্জ থানার ওসিম দীপক চন্দ্র সাহা আশ্বস্ত করেন যে এরপর কারো গায়ে একটি আঘাত আসলে তাদের বিরুদ্ধে আইননব ব্যবস্থা নেওয়া হবে।  

সিএনজি চালকদের এখন লাঠিয়াল দিয়ে নয় খোদ পুলিশ দিয়ে শুরু হয়েছে হয়রানী।  কাউন্টারের আশেপাশে সিএনজি দাড়ালেই পুলিশ দিয়ে গাড়ি আটকে হয়রানীর  অভিযোগ উঠেছে। এজন্য বিআরটিসি বাসের প্রতি যাত্রীদে অনিহা ও দিন দিন যাত্রী সংকট তৈরীসহ বিভিন্নভাবে সমস্যা তৈরি হচ্ছে। 

সম্প্রতি বিআরটিসি লিজ পার্টি জিল্লুর সন্ত্রাসী বাহিনী ও কর্মচারী কর্তৃক গ্রীন ইউনিভার্সিটির ছাত্ররা লাঞ্চিত হয়,  ঘটনার সূত্র ধরে গাউছিয়া-কুড়িল হাইওয়ে ব্যস্ততম রাস্থা অবরোধ করে ছাত্ররা। এ দিন ভুলতা- গাউছিয়া থেকে ঢাকা শহর পর্যন্ত যানজটের শিকার হয় সাধারণ যাত্রীরা।  ছাত্রদের অভিযোগ তাদের হাফ ভাড়া ও সাধারণ যাত্রীসহ ছাত্র হয়রানি বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেয়।  অবশেষে স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় বিআরটিসি চেয়ারম্যানের সাথে যোগাযোগ করে তা সমাধান করা হয়।  

অভিযোগ আছে, ভুলতা গাউছিয়া এবং কুড়িল বিশ্বরোডের দুটি কাউন্টার থেকে সিট ভর্তি যাত্রী নেয় এবং পুরা গাড়ি যাত্রী দাঁড়িয়ে থাকে তারপর গাড়ি ছাড়ে,  টিকিট কাউন্টারে মাইক দিয়ে বলা হয় যে পরবর্তী বাস আসতে ১ ঘন্টা বা তারও বেশি দেরী হবে। 

অভিযোগের ব্যাপারে মুঠোফোনে কথা হয় বিআরটিসির প্রধান কার্যালয়ের ডিজিএম অপারেশন শুকদেব ঢালীর সাথে, তিনি বিআরটিসির পিআরওর নাম্বার দিয়ে বলেন,  আমরা বিষয়টি আমলে নিচ্ছি এবং এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেব। 

এ ব্যাপারে লিজ পার্টি জিল্লুর রহমানের সাথে মুঠো ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করে নাই। 

-খবর প্রতিদিন/ সি.ব


আরও খবর



ময়মনসিংহে পপুলার লাইফ ইনস্যুরেন্সের বীমাদাবীর ২ কোটি ৬৫ লক্ষ টাকার চেক হস্তান্তর

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ১১ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:বুধবার ১৭ জুলাই ২০২৪ | ৯২জন দেখেছেন

Image

এস এম শফিকুল ইসলাম, জয়পুরহাট:পপুলার লাইফ ইনস্যুরেন্স কোম্পানী লিমিটেডের ময়মনসিংহ অঞ্চলের বীমা গ্রাহকের বীমাদাবীর ২ কোটি ৬৫ লক্ষ টাকার চেক হস্তান্তর ও অর্ধ বার্ষিক ব্যবসা ক্লোজিং  সভা  অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার (১০ জুলাই ) ময়মনসিংহ আসপাডা প্রশিক্ষণ একাডেমী মিলনায়তনে  এ  বীমাদাবীর চেক হস্তান্তর ও অর্ধ বার্ষিক ব্যবসা ক্লোজিং  সভা  অনুষ্ঠিত হয়।

পপুলার লাইফ ইনস্যুরেন্স কোম্পানী লিমিটেডের  নির্বাহী পরিচালক আমিনুল ইসলামের সভাপতিত্বে মেয়াদ উত্তীর্ণ বীমাদাবীর চেক হস্তান্তর ও অর্ধ বার্ষিকী ব্যবসা ক্লোজিং সভায়  প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন পপুলার লাইফ ইনস্যুরেন্স কোম্পানী লিমিটেডের  ভারপ্রাপ্ত  ব্যবস্থাপনা পরিচালক  বি এম  শওকত আলী। 

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন  পপুলার লাইফ ইনস্যুরেন্স কোম্পানী লিমিটেডের জনপ্রিয় বীমা প্রকল্পের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক কামাল হোসেন মহসিন,  ইসলামী ডিপিএস প্রকল্পের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক খলিলুর রহমান সিকদার। 

এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন  পপুলার লাইফ ইনস্যুরেন্স কোম্পানী লিমিটেডর জেনারেল ম্যানেজার (আইটি) শরীফ হাসনাত, আল আমিন বীমা প্রকল্পের মহা ব্যবস্থাপক ও জেলা সমন্বয়কারী শাকিল মাহমুদ, পপুলার ডিপিএস প্রকল্পের কিশোরগঞ্জ জেলা সমন্বয়কারী ও মহাব্যবস্থাপক (উঃ) হাফিজুর রহমান প্রমুখ।

অর্ধ বার্ষিকী ব্যবসা ক্লোজিং সভা  শেষে মেয়াদ উত্তীর্ণ বীমা গ্রাহকের হাতে বীমাদাবীর ২ কোটি ৬৫ লক্ষ টাকার চেক হস্তান্তর করেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি কোম্পানীর ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক বি এম শওকত আলী।

-খবর প্রতিদিন/ সি.


আরও খবর



মাটিরাঙ্গায় ৮০ জন নারী প্রশিক্ষণার্থীদের মাঝে ল্যাপটপ বিতরণ

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ১৬ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:বুধবার ১৭ জুলাই ২০২৪ | ৭৫জন দেখেছেন

Image

জসীম উদ্দিন জয়নাল,পার্বত্যাঞ্চল প্রতিনিধি:তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদপ্তর এর হার পাওয়ার প্রকল্পের খাগড়াছড়ি জেলার মাটিরাঙ্গায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষথেকে  ৮০ জন প্রশিক্ষণার্থী নারী কে বিনামূল্যে একটি করে  ল্যাপটপ প্রদান করা হয়েছে।

সোমবার (১৫ জুলাই) সকালের দিকে মাটিরাঙ্গা উপজেলা পরিষদের অডিটোরিয়ামে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদপ্তর এর হার পাওয়ার প্রকল্পের বাস্তবায়নে   উপজেলা প্রশাসনের সার্বিক সহযোগিতায় ৮০ জন নারী প্রশিক্ষণার্থীদের মাঝে ৫মাস ব্যাপি প্রশিক্ষণ শেষে  ল্যাপটপ বিতরণ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মাটিরাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার ডেজী চত্রুবর্তী। 

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাটিরাঙ্গা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো.আবুল কাশেম ভূইঁয়া।

এসময় মাটিরাঙ্গা উপজেলা পরিষদের ভাইস-চেয়ারম্যান মো.আলী হোসেন, মাটিরাঙ্গা উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস-চেয়ারম্যান আমেনা বেগম, মাটিরাঙ্গা উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মো. ওবায়দুল হক,মাটিরাঙ্গা উপজেলা আ,লীগের সাধারন সম্পাদক সুবাস চাকমা, মাটিরাঙ্গা উপজেলা তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদপ্তর এর সহকারী প্রোগ্রামার রাজীব রায় চৌধুরী  উপস্থিত ছিলেন।

সভাপতি,র বক্তব্যে মাটিরাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার ডেজী চত্রুবর্তী বলেন, প্রযুক্তির সহায়তা নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষথেকে  ৮০ জন প্রশিক্ষর্ণার্থী নারীর মাঝে একটি করে  ল্যাপটপ বিতরণ করা হয়েছে জানিয়ে তিনি আরো বলেন, বর্তমান সরকারের ভিশন ২০৪১ এবং স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় নিয়ে প্রযুক্তির সহায়তায় নারীর ক্ষমতায়ন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদপ্তর দেশব্যাপী নারীদেরকে তথ্য প্রযুক্তি ও ফ্রিল্যান্সিংসহ উদ্ভাবনীমূলক কর্মক্ষেত্রের ব্যাপ্তি ঘটাতে প্রশিক্ষণ ও ল্যাপটপ বিতরণ করছে।

আলোচনা সভা শেষে প্রধান অতিথি মাটিরাঙ্গা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো.আবুল কাশেম ভূইঁয়া ও অনুষ্ঠানের সভাপতি মাটিরাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার ডেজী চত্রুবর্তী ৮০জন নারী প্রশিক্ষণার্থীর মাঝে একটি করে ল্যাফটপ তুলেদেন।

-খবর প্রতিদিন/ সি.


আরও খবর



এমপি আনার হত্যা: ৮ আগস্টের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ০৪ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:বুধবার ১৭ জুলাই ২০২৪ | ১৩৬জন দেখেছেন

Image

নিজস্ব প্রতিবেদক:৮ আগস্টের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) আনোয়ারুল আজীম আনারকে খুনের উদ্দেশ্য অপহরণের মামলায় ।

বৃহস্পতিবার (৪ জুলাই) এ মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দিন ধার্য ছিল। তবে এদিন তদন্ত সংস্থা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) সংস্থা প্রতিবেদন দাখিল করেনি। এজন্য ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুবুল হক প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নতুন এদিন ধার্য করেন।

আদালতে শেরেবাংলা নগর থানার সাধারণ নিবন্ধন শাখার কর্মকর্তা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) জালাল উদ্দিন সংবাদমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে গত ২২ মে রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানায় খুন করার উদ্দেশ্যে অপহরণের অভিযোগে মামলাটি দায়ের করেন এমপি আনারের মেয়ে মুমতারিন ফেরদৌস ডরিন।

মামলার অভিযোগে মুনতারিন ফেরদৌস ডরিন উল্লেখ করেছেন, মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ের বাসায় আমরা সপরিবারে বসবাস করি। ৯ মে রাত ৮টার দিকে আমার বাবা আনোয়ারুল আজিম আনার গ্রামের বাড়ি ঝিনাইদহ যাওয়ার উদ্দেশে যাত্রা করেন। ১১ মে বিকেল পৌনে ৫টার দিকে বাবার সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বললে বাবার কথাবার্তায় কিছুটা অসংলগ্ন মনে হয়। এরপর বাবার মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল দিলেও বন্ধ পাই। ১৩ মে বাবার ভারতীয় নম্বর থেকে উজির মামার হোয়াটসঅ্যাপে একটি ক্ষুদে বার্তা আসে। এতে লেখা ছিল, ‘আমি হঠাৎ করে দিল্লি যাচ্ছি, আমার সঙ্গে ভিআইপি রয়েছে। আমি অমিত সাহার কাজে নিউটাউন যাচ্ছি। আমাকে ফোন দেওয়ার দরকার নাই। আমি পরে ফোন দেব।’ এছাড়া আরও কয়েকটি বার্তা আসে। ক্ষুদে বার্তাগুলো আমার বাবার মোবাইল ফোন ব্যবহার করে অপহরণকারীরা করে থাকতে পারে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, বিভিন্ন জায়গায় বাবার খোঁজ করতে থাকি। কোনো সন্ধান না পেয়ে তার বন্ধু গোপাল বিশ্বাস বাদী হয়ে ভারতীয় বারানগর পুলিশ স্টেশনে সাধারণ ডায়েরি করেন। এরপরও আমরা খোঁজাখুজি অব্যাহত রাখি। পরে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানতে পারি অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিরা পূর্ব পরিকল্পিতভাবে পরস্পর যোগসাজশে বাবাকে অপহরণ করেছে।

এই মামলায় বাংলাদেশে গ্রেপ্তার সাত আসামির মধ্যে ৬ জন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তারা হলেন, শিমুল ভুঁইয়া ওরফে শিহাব ওরফে ফজল মোহাম্মদ ভুঁইয়া ওরফে আমানুল্যাহ সাঈদ, তানভীর ভুঁইয়া, শিলাস্তি রহমান, কাজী কামাল আহমেদ বাবু, মোস্তাফিজুর রহমান ফকির ও ফয়সাল আলী শাজী। বর্তমানে তারা কারাগারে রয়েছেন। অপরদিকে এ মামলায় দায় স্বীকার না করায় ঝিনাইদহ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইদুল করিম মিন্টুকে রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।


আরও খবর



আমতলীতে ব্রীজ ভেঙ্গে বিয়ের নয় কনেযাত্রী নিহত, ঠিকাদারের শাস্তির দাবীতে বিক্ষোভ

প্রকাশিত:শনিবার ২২ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:বুধবার ১৭ জুলাই ২০২৪ | ১৪৯জন দেখেছেন

Image

আব্দুল্লাহ আল নোমান,আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি:আমতলী উপজেলা চাওড়া নদীর উপর নির্মিত হলদিয়া হাট ব্রীজ ভেঙ্গে বিয়ের নয় কনে যাত্রী নিহত হয়েছে। নিহতের মধ্যে এক পরিবারের তিনজন। অপর নিহতরা সকলেই পরস্পর আত্মীয়স্বজন। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনদের আহাজারীতে আকাশ ভারী হয়ে উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে ঠিকাদার শহীদুল ইসলাম মৃধা দায়সারা ব্রীজ নির্মাণ করেছে। ফলে নির্মাণের ৫ বছরের মাথায় ব্রীজের মাঝখানের ভীম ভেঙ্গে যায়। গত ১০ বছর ধরে এ ভাঙ্গা নরবরে ব্রীজের উপর দিয়ে হলদিয়া ইউনিয়ন ও চাওড়াসহ উপজেলার অন্তত অর্ধ লক্ষ মানুষ চলাচল করতো। ব্রীজ নির্মাণকারী ঠিকাদার শহীদুল ইসলাম মৃধার শাস্তি দাবীতে  এলাকাবাসী বিক্ষোভ মিছিল করেছে।  ঘটনা ঘটেছে শনিবার দুপুর দেরটার দিকে।  

জানাগেছে, আমতলী উপজেলা প্রকৌশলী অধিদপ্তর ২০০৮-০৯ অর্ধ বছরে প্রায় দুই কোটি টাকা ব্যয়ে উপজেলার চাওড়া ও হলদিয়া ইউনিয়নের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত চাওড়া  নদীর উপর হলদিয়া হাট এলাকায় আয়রণ ব্রীজ নির্মাণের দরপত্র আহবান করে। ওই ব্রীজের নির্মাণের পাঁচ বছরের মাথায় ব্রীজের মাঝের ভীম ভেঙ্গে যায়। গত ১০ বছর ধরে ওই ভাঙ্গা ব্রীজ দিয়ে  হলদিয়া ইউনিয়ন ও চাওড়াসহ উপজেলার অন্তত অর্ধ লক্ষ মানুষ চলাচল করে আসছে।  শনিবার দুপুর দেরটার দিকে কাউনিয়া ই্ব্রাহিম একাডেমির সহকারী শিক্ষক উত্তর তক্তাবুনিয়া গ্রামের মাসুম বিল্লাহ মনিরের মেয়ে হুমায়রা আক্তারের সঙ্গে একই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আমতলী পৌর শহরের খোন্তাকাটা এলাকার বাসিন্দা সেলিম মাহমুদের ছেলে ডাঃ সোহাগের বিয়ে হয়। গত শুক্রবার ওই কনেকে বরের বাড়ী তুলে আনেন। শনিবার মেয়ের পক্ষের লোকজন বরের বাড়ীতে মাইক্রো এবং অটো গাড়ীতে যাচ্ছিল। পথিমধ্যে হলদিয়া ব্রীজ পাড় হওয়ার সময় ব্রীজের মাঝের অংশ ভেঙ্গে যায়। এতে মাইক্রোবাস ও অটো গাড়ী নদীতে পড়ে যায়। অটোতে থাকা যাত্রীরা সকলে সাতরে কিনারে উঠতে পারলেও মাইক্রোবাসের যাত্রীরা নদীতে তলিয়ে যায়। তাৎক্ষনিক স্থানীয়রা ওই মাইক্রোতে থাকা লোকজনকে উদ্ধারের চেষ্টা চালায় বলে জানান প্রত্যক্ষদর্শী নাশির উদ্দিন। খবর পেয়ে আমতলী ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নিখোঁজ যাত্রীদের উদ্ধারের চেষ্টা চালায়। ততক্ষণে মাইক্রোবাসে থাকা কনে পক্ষের ৯ যাত্রী নিহত হয়েছে। নিহতরা হলেন রুবিয়া (৪৫), রাইতি (২২), ফাতেমা (৫৫), জাকিয়া (৩৫), রুকাইয়াত ইসলাম (৪), তাহিয়া মেহজাবিন আজাদ (৭), তাসফিয়া (১৪), ঋধি (৪) ও রুবি বেগম (৩৫)। এদের মধ্যে রুকাইয়াত ইসলাম ও জাকিয়ার বাড়ী উপজেলার দক্ষিণ তক্তাবুনিয়া গ্রামে। অপর নিহত ৭ জনের বাড়ী মাদারিপুর জেলার শিবচর উপজেলার কোকরার চর গ্রামের বাসিন্দা। এরা কনে হুমায়রার মামা বাড়ীর আত্মীয়স্বজন। নিহতদের আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রাখা হয়েছে। এদিকে এ ঘটনার পরপর ব্রীজ নির্মাণকারী ঠিকাদার শহীদুল ইসলাম মৃধার বিচার দাবীতে কয়েক হাজার মানুষ বিক্ষোভ করেছে। খবর পেয়ে বরগুনা-১ আসনের সাংসদ গোলাম সরোয়ার টুকু, জেলা প্রশাসক মোহাঃ রফিকুল ইসলাম,  উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আলহাজ্ব গোলাম সরোয়ার ফোরকান, উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) তারেক হাসান, সহকারী পুলিশ সুপার রুহুল আমিন, ওসি কাজী সাখাওয়াত হোসেন তপু ঘটনাস্থল পরিদর্শণ করেছেন। 

মাইক্রোবাসে থাকা সোহেল মিয়া বলেন, মাইক্রোবাসে কনে পক্ষের ১৬ জন যাত্রী বরের বাড়ীতে যাচ্ছিলাম। পথিমধ্যে হলদিয়া হাট ব্রীজের উঠামাত্রই ব্রীজ মাঝখান দিয়ে ভেঙ্গে মাইক্রোবাসটি নদীতে পড়ে যায়। আমিসহ ৩ জন সাতরে কিনারে উঠতে পেরেছি। পরে স্থানীয়, ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ ৯ জনের মরদেহ উদ্ধার করেছে। 

প্রত্যক্ষদর্শী ইউপি সদস্য সাইফুল ইসলাম স্বপন ও নাশির উদ্দিন বলেন, মাইক্রোবাস ও অটোগাড়ীটি ব্রীজের মাঝখানের আসা মাত্রই ধপাস করে ব্রীজ ভেঙ্গে নদীতে পড়ে যায়। তাৎক্ষনিক আমরা স্থানীয়দের নিয়ে উদ্ধারের চেষ্টা চালাই। পরে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ এসে উদ্ধার কাজে অংশ নেয়।

একই পরিবারের তিন নিহতের স্বজন আবুল কালাম আজাদ বলেন, আমার কিছুই রইলো না। আমার দুই কন্যা ও স্ত্রী মারা গেছে। সব হারিয়ে আমি এখন অসহায়। হলদিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ আসাদুজ্জামান মিন্টু মল্লিক বলেন, ব্রীজ নির্মাণ কালে ঠিকাদার শহীদুল ইসলাম মৃধা দায়সারা ব্রীজ নির্মাণ করেছে। ফলে নির্মাণের অল্প দিনের মধ্যেই ব্রীজের মাখঝানের ভীম ভেঙ্গে গেছে। ওই ভাঙ্গা ব্রীজ দিয়ে অন্তত অর্ধলক্ষ মানুষ চলাচল করতো। তিনি আরো বলেন, এই ভাঙ্গা ব্রীজ মেরামতের জন্য আমতলী উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ আল মামুনকে বহুবার জানিয়েছি কিন্তু তিনি আমলে নেয়নি। যার ফলে আজ ৯ জনের প্রাণ গেল। ঠিকাদার দায়সারা ব্রীজ নির্মাণ করায় এবং উপজেলা প্রকৌশলী ব্রীজ সংস্কার না করায় তাদের শাস্তি দাবী করছি।

আমতলী থানার ওসি কাজী সাখাওয়াত হোসেন তপু বলেন, ব্রীজ ভেঙ্গে মাইক্রোবাস নদীতে ডুবে নিয়ে বিয়ের কনে পক্ষের ৯ জন মানুষ মারা গেছে। নিহতদের ময়না তদন্ত শেষে পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হবে। 

ঠিকাদার শহীদুল ইসলাম মৃধা বলেন, আমি যথাযথ ভাবেই ব্রীজ নির্মাণ করেছি। ব্রীজ নির্মাণ কাজে কোন অনিয়ম করিনি। 

আমতলী ফায়ার সার্ভিসের ওয়ার ইনচার্জ মোঃ হানিফ বলেন, চার ঘন্টা চেষ্টা চালিয়ে মাইক্রোবাস উদ্ধার করতে পারিনি। উদ্ধার চেষ্টা অব্যহত আছে। 

আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার মোঃ মনিরুজ্জামান বলেন, ব্রীজ ভেঙ্গে নিহত ৯ জনই হাসপাতালে আনার পুর্বেই মারা গেছেন। 

আমতলী উপজেলা প্রকৌশলী  আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, আমতলীতে আমার যোগদানের পুর্বে এ ব্রীজ নির্মাণ করা হয়েছে। এ বিষয়ে আমার কিছুই জানিনা।

আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) তারেক হাসান বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শণ করেছি। উদ্ধার কাজের তদারকি করছি। 

বরগুনা জেলা প্রশাসক মোহাঃ রফিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শণ করেছি। এ ব্রীজ নির্মাণ যে ঠিকাদার অনিয়ম করেছে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।  

বরগুনা-১ আসনের সাংসদ গোলাম সরোয়ার টুকু বলেন, নিহতের স্বজনদের হাসপাতালে সমবেদনা জানিয়েছি। ঘটনাস্থল পরিদর্শণ করেছি। ঘটনাস্থলে বিক্ষুদ্ধ মানুষকে শান্ত করেছি। তিনি আরো বলেন,  ব্রীজ নির্মাণে অনিয়মের কারনে এমন ঘটনা ঘটে থাকলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। নিহতের পরিবারকে আর্থিকভাবে সহায়তা করা হবে।


আরও খবর