সর্বশেষ

আজঃ শুক্রবার ০৭ মে ২০২১

জেলহত্যা দিবস: ইতিহাসের লড়াকু বীরদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা



অনন্য প্রতীক রাউত, শিক্ষার্থী, আইন বিভাগ, জগ্ননাথ বিশ্ববিদ্যালয়:

 

৩'রা নভেম্বর দিনটি বাঙালি জাতি তথা বাংলাদেশের মানুষের কাছে এক কলঙ্কজনক অধ্যায়। পঁচাত্তরের পনেরই আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পর দ্বিতীয় কলঙ্কজনক অধ্যায় এই দিনটি। যেদিন নির্মমভাবে স্বৈরতন্ত্রের কষাঘাতে সমাপ্তি ঘটেছিল চার বীর সন্তানের জীবনের তবে সৃষ্টি হয়েছিল দৃঢ় আদর্শের দৃষান্তমূলক নজির। তাঁরা জীবন বিলিয়ে দিয়েছেন হাসিমুখে কিন্তু তাঁরা বিচ্যুত হন নি পিতা মুজিবের অসাম্প্রদায়িক, ধর্মনিরপেক্ষ, সমাজতান্ত্রিক এবং শোষণ -মুক্ত সমাজ বির্নিমানের আদর্শ থেকে ৷ বাংলাদেশ সৃষ্টির সকল আন্দোলনেই যারা ছিলেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য সহযোগী। দীর্ঘ ২৪ বছরের শোষণের পর উনসত্তরের গণ- আন্দোলনের প্রেক্ষিতে সত্তরের সাধারণ নির্বাচন এবং পরবর্তী সকল আন্দোলনে বাংলার মানুষের সাথে কাঁধে কাঁধ রেখে স্বাধীনতা অর্জনের জন্য লড়ে গেছেন জাতীয় চার নেতা- শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম (উপ-রাষ্ট্রপতি, মুজিব নগর সরকার), শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ (প্রধানমন্ত্রী, মুজিবনগর সরকার), শহীদ ক্যাপ্টেন এম. মনসুর আলী (অর্থ মন্ত্রী, মুজিব নগর সরকার), শহীদ এ. এইচ. এম. কামরুজ্জামান (স্বরাষ্ট্র, কৃষি, ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রী, মুজিব নগর সরকার)। প্রকৃতপক্ষে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়কালে যখন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর পাকিস্তানের কারাগারে বন্দী তখন এই চার নেতাই বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণা অনুযায়ী পরাধীন দেশের তমকা ঘোচাতে কার্যকরী ভূমিকা রাখেন৷ বিশেষ করে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদের ভূমিকা ছিল অবিস্মরণীয়। মুজিব নগর সরকারকে গতিশীল করা এবং বহিঃবিশ্বের অন্যান্য দূতাবাসগুলোর সঙ্গে কার্যকরী কূটনৈতিক যোগাযোগ স্থাপনে তাঁর ভূমিকা অবশ্যই অনেক উপরের দিকে। ১৯৭১ সালের ১৬ ই ডিসেম্বর স্বাধীন দেশ হিসাবে আমরা আত্নপ্রকাশ করার পর বঙ্গবন্ধু যখন ফিরে আসেন তখন থেকেই এই মহান চার নেতা মুজিবের ঘনিষ্ঠ সহচর হিসাবে যুদ্ধবিদ্ধস্ত দেশ বির্নিমানে নেতৃত্বের ঝলক দেখান। ১৯৭৫ এর ১৫ ই আগস্টের আঁধার রাত যখন ধ্বংস করে বাংলাদেশের এগিয়ে যাবার স্বপ্নকে তখন অনেকেই সুযোগ-সন্ধানী ভূমিকায় অবতীর্ণ হলেও কেউ পটাতে পারেন নি তাঁদেরকে। জীবনের বিনিময়ে তাঁরা বুঝিয়ে দিয়ে গেছেন আদর্শ কাকে কি বলে। 

 

সেই রাতে কি ঘটেছিল? 

 

জেলখানার সেই ঘটনা জানার আগে সংক্ষেপে জানা প্রয়োজন আরও কিছু তথ্য। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার পর খন্দকার মোশতাকের নেতৃত্বে নতুন সরকার ক্ষমতায় আসে। এই সরকার পুরোপুরি সেনা সরকার ছিল না। অন্যদিকে ১৫ আগস্ট থেকে অভ্যুত্থানকারী রশিদ-ফারুক ও তার কিছু সহযোগী অবস্থান নেন বঙ্গভবনে। মোশতাক ও তার সরকারের ওপর ছিল তাদের যথেষ্ট প্রভাব। এ ব্যাপারে সেনাবাহিনীর একাংশ কর্মকর্তাদের মধ্যে সৃষ্টি হয় অসন্তোষ। এই প্রেক্ষাপটে ২ নভেম্বর মধ্যরাতে (ঘড়ির কাঁটা অনুযায়ী তখন ৩ নভেম্বর) মোশতাকের নেতৃত্বাধীন আধাসামরিক সরকারের বিরুদ্ধে এক অভ্যুত্থান সংঘটিত হয়। অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল খালেদ মোশাররফ। এই অভ্যুত্থানকালেই মোশতাক-রশিদ-ফারুকের প্রেরিত ঘাতক দল জেলখানায় হত্যা করে জাতীয় চার নেতাকে।

 

১৫ আগস্টের পর সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমদ, এ এইচ এম কামারুজ্জামান ও এম মনসুর আলীসহ আরও অনেক রাজনৈতিক নেতাকে আটক করে কেন্দ্রীয় কারাগারের রাখা হয়েছিল। নিউ জেলের পাশাপাশি তিনটি রুমে তাঁদের রাখা হয়। ১ নম্বর ছিলেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম ও তাজউদ্দীন আহমদসহ আটজন বন্দী। ২ নম্বর রুমে ছিলেন এ এইচ কামারুজ্জামানসহ ১৩ জন। ৩ নম্বর রুমে ছিলেন এম মনসুর আলীসহ ২৬ জন। সেই রাতে ১ নম্বর রুমে সৈয়দ নজরুল ইসলাম ও তাজউদ্দীন আহমদকে রেখে বাকি ছয়জন বন্দীকে অন্য রুমে নিয়ে যাওয়া হয়। ২ নম্বর রুম থেকে এ এইচ কামারুজ্জামান ও ৩ নম্বর রুম থেকে এম মনসুর আলীকে ১ নম্বর রুমে নেওয়া হয়। এই রুমেই তাঁদের চারজনকে একসঙ্গে হত্যা করা হয়।

 

কলঙ্কজনক এই অধ্যায় বিশ্বের বুকে বাংলাদেশের অবস্থানকে করে পদানত। পাশাপাশি, স্বপ্নের বাংলাদেশে বিকাশ ঘটে মুক্তিযুূ্দ্ধের চেতনা বিরোধী অপশক্তির। সোনালী শ্যামল ভূমি পরিণত হয় অনৈতিকতা আর ক্ষমতার লোভে সৃষ্ট নোংরা রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে। আর জীবনের বিনিময়ে এই মহান নেতারা পরবর্তী প্রজন্মকে দিয়ে যান আদর্শের চূড়ান্ত নমুনা। যা চিরকাল সমুন্নত থাকবে বাংলাদেশের ইতিহাসের পাতায়। কলঙ্কজনক অধ্যায় যেমন করবে লজ্জিত তেমনী আদর্শের সুদৃঢ় বহিঃপ্রকাশের করবে সন্মানিত। 

বিনম্র শ্রদ্ধা ইতিহাসের লড়াকু বীরদের প্রতি। যাদের সংগ্রামে গড়ে উঠেছে এই স্বাধীন বাংলাদেশ।

 




দায়রকৃত ষড়যন্ত্রমুলক মামলাটির সুষ্ঠ তদন্ত দাবী আদর্শ জনকল্যান সংগঠনের সভাপতি সাধারন সম্পাদকের

দায়রকৃত ষড়যন্ত্রমুলক মামলাটির সুষ্ঠ তদন্ত দাবী আদর্শ জনকল্যান সংগঠনের সভাপতি সাধারন সম্পাদকের

আহম্মদ উল্লাহ মধুর উদ্যোগে দরিদ্রের মানুষের মাঝে রান্না করা খাবার বিতরণ

আহম্মদ উল্লাহ মধুর উদ্যোগে দরিদ্রের মানুষের মাঝে রান্না করা খাবার বিতরণ

শোক সংবাদ

শোক সংবাদ

জীবনের ঝুঁকি নিয়ে  ছুটছে মানুষ

জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ছুটছে মানুষ

৮ দিনের কঠোর  লকডাউন শুরু

৮ দিনের কঠোর লকডাউন শুরু

ঢাকা-৫ আসনের এমপি কাজী মনিরুল ইসলাম মনুর রোগমুক্তি কামনা করেছেন পুর্বাঞ্চল সাংবাদিক ইউনিটির নেতৃবৃন্দ

ঢাকা-৫ আসনের এমপি কাজী মনিরুল ইসলাম মনুর রোগমুক্তি কামনা করেছেন পুর্বাঞ্চল সাংবাদিক ইউনিটির নেতৃবৃন্দ

ডেমরায় বকেয়া বেতনের দাবীতে গার্মেন্টস মালিক অবরুদ্ধ

ডেমরায় বকেয়া বেতনের দাবীতে গার্মেন্টস মালিক অবরুদ্ধ

মাতুয়াইল আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে করোনা মহামারিতে শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ ব্যাবস্থা

মাতুয়াইল আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে করোনা মহামারিতে শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ ব্যাবস্থা

মানবতার ফেরিওয়ালা আহম্মদ উল্লাহ মধুর উদ্যোগে অসহায় মানুষদের মাঝে খাদ্য বিতরণ

মানবতার ফেরিওয়ালা আহম্মদ উল্লাহ মধুর উদ্যোগে অসহায় মানুষদের মাঝে খাদ্য বিতরণ

ঢাকা জেলা বাংলাদেশ হকারস্ কল্যান সোসাইটির উদ্যোগে খাবার বিতরণ

ঢাকা জেলা বাংলাদেশ হকারস্ কল্যান সোসাইটির উদ্যোগে খাবার বিতরণ

দ্বীনি শিক্ষার প্রসারে মাতুয়াইল আদর্শ বাগে হাকীমুল উম্মত কওমী মাদ্রাসার কার্যক্রম শুরু হয়েছে

দ্বীনি শিক্ষার প্রসারে মাতুয়াইল আদর্শ বাগে হাকীমুল উম্মত কওমী মাদ্রাসার কার্যক্রম শুরু হয়েছে

কামরাঙ্গীচর থানা যুবলীগের উদ্যোগে দরিদ্রের মানুষের মাঝে রান্না করা খাবার বিতরণ

কামরাঙ্গীচর থানা যুবলীগের উদ্যোগে দরিদ্রের মানুষের মাঝে রান্না করা খাবার বিতরণ

তিতাস গ্যাসের  জোবিঅ-সোনারগাঁও ব্যবস্থাপক প্রকৌ: মোঃ মেজবাউর রহমানের দুর্নীতির আদ্যপান্ত

তিতাস গ্যাসের জোবিঅ-সোনারগাঁও ব্যবস্থাপক প্রকৌ: মোঃ মেজবাউর রহমানের দুর্নীতির আদ্যপান্ত

রাজধানীর কদমতলীতে এক হাজার এতিম ও হতদরিদ্রদের মাঝে ইফতার বিতরণ

রাজধানীর কদমতলীতে এক হাজার এতিম ও হতদরিদ্রদের মাঝে ইফতার বিতরণ

দশমিনা উপজেলা কল্যাণ সমিতির উদ্যোগে করোনাকালীন দুঃস্থ, অসহায় শ্রমজীবী পরিবারের জন্য উপহার

দশমিনা উপজেলা কল্যাণ সমিতির উদ্যোগে করোনাকালীন দুঃস্থ, অসহায় শ্রমজীবী পরিবারের জন্য উপহার