Logo
আজঃ শুক্রবার ২১ জুন ২০২৪
শিরোনাম
কক্সবাজারে পাহাড় ধসে স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যু বন্ধ শিল্প প্রতিষ্ঠান চালুর পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে: শিল্পমন্ত্রী বাংলাদেশের হার দিয়ে সুপার এইট শুরু গোদাগাড়ীতে রাসেল ভাইপারের চিকিৎসার দাবিতে স্বাস্থ্য মন্ত্রীর কাছে চিঠি দিয়েছে নাগরিক স্বার্থ-সংরক্ষণ কমিটি রূপগঞ্জে জমে উঠেছে কাঞ্চন পৌরসভা নির্বাচন যাত্রাবাড়ীতে পুলিশ কর্মকর্তার বাবা মাকে কুপিয়ে হত্যা যানজট নিরসনে সংসদ সদস্যগণের সাথে ট্রাফিক ওয়ারী বিভাগের সমন্বয়সভা ভোলায় ফের দেখা মিলল রাসেল ভাইপার, জনমনে আতঙ্ক বাজেট পাস হয়নি,অনেক কিছু পুনর্বিবেচনা করা সম্ভব: অর্থমন্ত্রী দেশের সব মহৎ অর্জন আ. লীগের মাধ্যমেই হয়েছে: ওবায়দুল কাদের

হোমনায় হাফেজ শিক্ষার্থীকে ইস্ত্রির ছ্যাঁকা, শিক্ষক গ্রেফতার

প্রকাশিত:বুধবার ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৩ | হালনাগাদ:শুক্রবার ২১ জুন ২০২৪ | ১৯৫জন দেখেছেন

Image

হোমনা (কুমিল্লা) প্রতিনিধি:কুমিল্লার হোমনায় মাদ্রাসার মুহতামিমের বিরুদ্ধে গরম ইস্ত্রির ছ্যাঁকা দিয়ে হেফজ বিভাগের এক শিক্ষার্থীর দুই নিতম্ব এবং পায়ের তলা পুড়িয়ে নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। নির্যাতনে সহযোগিতার অপরাধে মাদ্রাসার এক শিক্ষককে গ্রেফতার করছে পুলিশ। মুহতামিম হাফেজ মো. সাইফুল ইসলাম হাবিব, গ্রেফতার শিক্ষক মো. আতিকুল ইসলামসহ আরও তিন শিক্ষার্থীর সহযোগিতায় ২৭ পারা হেফজ করা আবদুল কাইয়ুমকে গরম ইস্ত্রি দিয়ে দীর্ঘক্ষণ ধরে ছ্যাঁকা দিয়ে শাস্তি দেয়। এতে তার দুই নিতম্ব এবং পায়ের তলা ঝলসে যায়। গত ১৬ সেপ্টেম্বর শনিবার রাত সাড়ে এগারোটার দিকে উপজেলার নয়াকান্দি মমতাজিয়া হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানায় এ রোমহর্ষক ঘটনা ঘটে। হেফজ বিভাগের নির্যাতিত শিশু আব্দুল কাইয়ুমের (১৮) মা সোমবার বিকেলে ছেলের জন্য খাবার নিয়ে মাদ্রাসায় গেলে ঘটনা প্রকাশ পায়। খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ক্ষেমালিকা চাকমা, হোমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জয়নাল আবেদীন ওই মাদ্রাসা পরিদর্শন করে ছাত্র- শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলেন। পরে শিশুটিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। এ ঘটনায় সোমবার রাতে মা হাফেজা বেগম মূল অভিযুক্ত মাদ্রাসার মুহতামিম হাফেজ মো. সাইফুল ইসলাম হাবিব, সহযোগী শিক্ষক আতিকুল ইসলামসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে হোমনা থানায় মামলা করেন। মূল অভিযুক্ত মুহতামিম ও আসামী তিন শিক্ষাথী পালিয়ে গেছেন। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবদুছ ছালাম সিকদার বলেন, দেখে মনে হয়েছে, দশ-বারো দিন আগেই পুড়েছে। পোড়া দুই নিতম্বেই গভীর ঘাঁ হয়ে যাওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য গতকাল মঙ্গলবার তাকে ঢাকা শেখ হাসিনা বার্ন ইউনিটে স্থানান্তর করা হয়েছে। সূত্রে জানা যায়, ওই মাদ্রাসাটি ২০১০ সালে প্রতিষ্ঠালাভ করে। কোনো নিবন্ধন ছাড়াই ১৩ বছর ধরে এ মাদ্রাসায় রিভিশন বিভাগ, হেফজ বিভাগ, নাজেরা বিভাগ ও নূরানী বিভাগসহ চারটি বিভাগে ছাত্রদের শিক্ষাদান চলছে। হেফজ বিভাগের ছাত্র আব্দুল কাইয়ুম উপজেলার চান্দেরচর গ্রামের বাহরাইন প্রবাসী আ. কাদির ও হাফেজা বেগমের সন্তান। এ ঘটনায় মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির এক বিশেষ সভায় গতকাল মঙ্গলবার মুহতামিমকে চাকুরী থেকে বরখাস্ত করেছে।

স্থানীয় এবং শিশুটির সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সহপাঠীদের সঙ্গে দুষ্টুমি করার সময় পরনের লুঙ্গি খুলে যায় আবদুল কাইয়ুরেম। এ কথাটিই তারা মুহতামিমকে জানালে তিনি রাতের বেলা গ্রেফতার শিক্ষক আতিকুল ইসলামসহ আরও তিন শিক্ষার্থীর সহযোগিতায় শিশু আবদুল কাইয়ুমকে গরম ইস্ত্রির ছ্যাঁকা দিয়ে পাশবিক নির্যাতন করেন। গত দশ দিন শিশু আবদুল কাইয়ুমকে একটি বদ্ধ রুমে একাকী আটকে রেখে মুহতামিম সাইফুল ইসলাম চিকিৎসা দিয়ে আসছিলেন। কিন্তু মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে রাখার কারণে কেউ এতদিন মুখ খুলেনি। এখনও ভয়ে কেউ কিছু বলছে না। গভীর পোড়া ক্ষতের কারণে ঠিকমতো সে চলাফেরাও করতে পারছিল না। সোমবার বিকেলে কাইয়ুমের মা হাফেজা বেগম ছেলের জন্য খাবার নিয়ে মাদ্রাসায় গেলে প্রথমে তাকে সাক্ষাত করতে দেয়নি। পরে অনেক চেষ্টার পরে তাকে দেখতে দেওয়া হয়। অভিযুক্ত মুহতামিম হাফেজ মো. সাইফুল ইসলাম (২৮) উপজেলার নয়াকন্দি গ্রামের রেনু মিয়ার ছেলে এবং গ্রেফতার শিক্ষক আতিকুল ইসলাম (২৮) মুরাদনগর উপজেলার বাঙ্গরা বাজার থানার শ্রীকাইল গ্রামের শহিদ মিয়ার ছেলে। নির্যাতিত শিশু আবদুল কাইয়ুম জানান, ওই দিন সে তার অন্য সহপাঠীদের সঙ্গে খেলাচ্ছলে দুষ্টুমি করছিলেন। এক ফাঁকে তার পরনের লুঙ্গি খুলে যায়। এ ঘটনাটিই তারা তাদের মুহতামিমকে জানায়। এর শাস্তি হিসেবে ওই (১৬ সেপ্টেম্বর) রাতে মুতামিম অফিসে নিয়ে শিক্ষক আতিকুল এবং তিন শিক্ষার্থীর সহযোগিতায় তার নিতম্ব এবং পায়ের তলায় গরম ইস্ত্রি লাগিয়ে ছ্যাঁকা দিয়ে ঝলসে দেয়। অসহ্য যন্ত্রণায় চিৎকার করলেও সবাই ঘুমিয়ে থাকায় কেউ শুনতে পায়নি। পরে তার এমন শাস্তির বিষয়টি কাউকে জানালে মেরে ফেলার হুমকিও দেওয়া হয়। মা হাফেজা বেগম বলেন, সোমবার সকালে আমার ছেলের জন্য খাবার নিয়া মাদ্রাসায় গেলে সে আমাকে দেখে কাঁদতে থাকে এবং বাড়িতে যাওয়ার জন্য ব্যাকুল হয়ে যায়। ছেলের মানসিক অবস্থা বুঝে তাক বাড়ি নিয়া যাই। বাড়িতে গিয়ে আমাকে সে তাহার জখমের জায়গা দেখিয়ে পুরো ঘটনা বলে। ছেলে ইস্ত্রির ছ্যাঁকায় গুরুতর জখম হওয়ায় তাকে তাৎক্ষণিক হোমনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করি। তারা আমার ছেলের প্রতি নিষ্ঠুর ও অমানবিক আচরণ করেছে। বিষয়টি আমার প্রবাসী স্বামী এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জানিয়ে হোমনা থানায় অভিযোগ করি। ইউএনও ক্ষেমালিকা চাকমা বলেন, সোমবার বিকেলেই খবর পাই যে, নয়াকান্দি মমতাজিয়া হাফিজিয়া মাদ্রাসার ‘বড় হুজুর’ এক শিক্ষার্থীর পেছনে (নিতম্বে) ইস্ত্রি গরম করে ছ্যাঁকা দিয়ে ঝলসে দিয়েছে। সন্ধ্যায় সেখানে গিয়ে খোঁজখবর নিয়েছি। শিশুটিকে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছি। ইস্ত্রি এবং মাদ্রাসার সিসি টিভির হার্ডডিস্ক খুলে নিয়ে আসা হয়েছে। এগুলো থানায় জমা আছে। পাশাপাশি এলাকাবাসীকে বলেছি, এ ঘটনায় তারা আতঙ্কিত কিনা। তাদের কাছে জেনে মাদ্রাসা কমিটিকেও বলেছি বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নিতে। প্রয়োজনে বরখাস্ত করা যেতে পারে। রাতে থানায় মামলা হয়েছে। আমরা নজর রাখছি।

হোমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জয়নাল আবেদীন বলেন, শিশু আবদুল কাইয়ুমকে ওই মাদ্রাসার শিক্ষক কর্তৃক গরম ইস্ত্রির ছ্যাঁকা দিয়ে পোড়ার ঘটনায় মুহতামিম হাফেজ সাইফুল ইসলাম, শিক্ষক আতিকুল ইসলামহ আরও তিন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে রাতে মা হাফেজা বেগম বাদি হয়ে মামলা করেছেন। আতিকুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্যদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে।


আরও খবর



খাগড়াছড়িতে সোতোকান কারাতে সামার ক্যাম্প উদ্বোধন করলেন: পুলিশ সুপার মুক্তা ধর

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ০৬ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:শুক্রবার ২১ জুন ২০২৪ | ৭১জন দেখেছেন

Image
জসীম উদ্দিন জয়নাল,পার্বত্যাঞ্চল প্রতিনিধি:খাগড়াছড়িতে সোতোকান কারাতে সামার ক্যাম্প-২০২৪ এর উদ্বোধন করেন খাগড়াছড়ি জেলার পুলিশ সুপার  মুক্তা ধর পিপিএম (বার)।

বুধবার (৫ জুন) দুপুরের দিকে খাগড়াছড়িতে সোতোকান কারাতে একাডেমীর আয়োজনে সোতোকান কারাতে সামার ক্যাম্প-২০২৪ এর উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি খাগড়াছড়ি জেলার পুলিশ সুপার  মুক্তা ধর পিপিএম (বার)।

প্রশিক্ষনার্থীদের মাঝে আত্মরক্ষার প্রয়োজনীয়তা ছড়িয়ে দিতে ও আত্মরক্ষার কৌশল সম্পর্কে জানাতে কারাতে সামার ক্যাম্প-২০২৪ এর আয়োজন করা হয়েছে। 

এসময় খাগড়াছড়ি অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপস)  মোঃ জসীম উদ্দিন পিপিএম, বাংলাদেশ কারাতে ফেডারেশন এর প্রশিক্ষক  মইনুল হোসেন, বাংলাদেশ কারাতে ফেডারেশন এর জজ (বিচারক)  অপু আহমেদ, জেলা ক্রীড়া অফিসার আফাজ উদ্দিন, জেলা ক্রীড়া সংস্থার অতিরিক্ত সাধারণ সম্পাদক ধুমকেতু মারমা, জেলা ক্রীড়া সংস্থার যুগ্ম সম্পাদক আজাহার আলী সহ কারাতে প্রশিক্ষণার্থী, সংবাদকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। 

প্রধান অতিথি,র বক্তব্যে খাগড়াছড়ি পুলিশ সুপার মুক্তা ধর পিপিএম (বার)বলেন, বর্তমান সময়ে নিজের নিরাপত্তা রক্ষা। একই সঙ্গে নিজের আত্মবিশ্বাস এবং শারীরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করার অন্যতম একটি নিয়ামক হল ‘কারাতে’।  দৈনন্দিন জীবনে চলার পথে বিভিন্ন ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা থেকে নিজেকে সুরক্ষিত রাখতে আত্মরক্ষার বিকল্প নেই। দেশের কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে আত্মপ্রত্যয় ও আত্মবিশ্বাস সৃষ্টিতে কারাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এই প্রশিক্ষণ গ্রহণ করলে আত্মরক্ষা সহজেই করা যায়। ইতিপূর্বেও আমরা খাগড়াছড়ি পুলিশ লাইন্স হাই স্কুল মাঠে কিশোর-কিশোরীদের মানসিক ও শারীরিকভাবে আত্মবিশ্বাসী করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে কারাতে প্রশিক্ষণ এর আয়োজন করেছি যা এখনো চলমান আছে।

আরও খবর



ডোমারে বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গমাতা গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্ণামেন্টের ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত

প্রকাশিত:বুধবার ১২ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ২০ জুন ২০24 | ৪৮জন দেখেছেন

Image

মানিক, ডোমার (নীলফামারী) প্রতিনিধি:নীলফামারীর ডোমারে বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব গোল্ডকাপ প্রাথমিক বিদ্যালয় ফুটবল টুর্ণামেন্টের ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। 

সোমবার বিকালে ডোমার বহুমূখি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ৮নং ডোমার সদর ইউনিয়নের সকল শিক্ষকগণের আয়োজনে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পরিষদের চোয়াম্যান সরকার ফারহানা আখতার সুমি।

শিক্ষক খায়রুল ইসলাম সুমনের সঞ্চালনায় ডোমার সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাসুম আহমেদের সভাপতিত্বে অতিথি হিসাবে উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা নজরুল ইসাম, শিক্ষক নাজিরা আক্তার ফেরদৌসী প্রমূখ বক্তব্য রাখেন। 

অনুষ্ঠানে শিক্ষক বেলাল হেসেন, গোলাম রাব্বানী, ফরিদুর রহমান, নার্গিস বেগম, আব্দুল বাতেন, মনিরা বেগম, ফারহা জেবিন লাবনী, আঞ্জুুমানআরা ইতি, অসফাক সারোওয়ার সিদ্দিকী, জাহাঙ্গীর আলমসহ সদর ইউনিয়নের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষকগণ উপস্থিত ছিলেন। 

ধারা ভাষ্যকার-ছলেমান ইসলাম ছকিনুর এর কন্ঠে ফাইনাল রাউন্ডে পশ্চিম চিকনমাটি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং ছোট রাউতা সরকারী প্রাথমিক  বিদ্যালয় বাঘ সিংহের লড়াইয়ে পশ্চিম চিকনমাটি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় চ্যাম্পিয়ন হয়। খেলা শেষে সেরা খেলোয়ার, গোলদাতাসহ বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার তুলে দেন অতিথিগণ। 


আরও খবর



বিএনপির কারণে সাম্প্রদায়িক শক্তি এখনও মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে: ওবায়দুল কাদের

প্রকাশিত:শনিবার ২৫ মে ২০২৪ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ২০ জুন ২০24 | ১৪৩জন দেখেছেন

Image

নিজস্ব প্রতিবেদক:আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের মন্তব্য করেছেন বিএনপির কারণে সাম্প্রদায়িক শক্তি এখনও মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে বলে।

শনিবার (২৫ মে) সকালে সাড়ে ৭টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৫তম জন্মবার্ষিকীতে আওয়ামী লীগের শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তিনি এসব কথা বলেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, আমরা মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ী হয়েছি বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে। কিন্তু সেই বিজয়কে সংহত করার এখনও অনেক কাজ বাকি। আজকের দিনে আমাদের অঙ্গীকার, বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা সাম্প্রদায়িক বিষবৃক্ষকে সমূলে উৎপাটিত করে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ব। সেটিই হবে নজরুলের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদনের সার্থকতা।

বিএনপি নেতাকর্মীকে জেলে পাঠানো হচ্ছে দলের সিনিয়র নেতাদের এমন দাবি অস্বীকার করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, কোনো রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীকে জেলে পাঠানোর এজেন্ডা আমাদের নেই। যারা অপরাধে জড়িত তারা রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী নন। তারা দুর্বৃত্ত। এদের শায়েস্তা করতে হবে জাতীয় স্বার্থেই।


আরও খবর



ঈদে ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি ২ জুন থেকে

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ২৮ মে ২০২৪ | হালনাগাদ:রবিবার ১৬ জুন ২০২৪ | ১০১জন দেখেছেন

Image

নিজস্ব প্রতিবেদক:রেলমন্ত্রী জিল্লুল হাকিম ঘোষণা করেছেন ঈদুল আজহার ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রির তারিখ।মঙ্গলবার (২৮ মে) দুপুরে রেলভবনে সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, ১৭ জুন ঈদের দিন ধরে আগামী ২ জুন থেকে ঈদে ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হবে। চলবে ৬ জুন পর্যন্ত। এবারও শতভাগ অনলাইনে বিক্রি হবে।

জিল্লুল হাকিম বলেন, ফিরতি টিকিট বিক্রি শুরু হবে ১০ জুন থেকে। এবার যাত্রীদের জন্য চলবে ১০ জোড়া ঈদ স্পেশাল ট্রেন।

তিনি বলেন, আগামী ২ জুন দেওয়া হবে ১২ জুনের টিকিট, ৩ জুন দেওয়া হবে ১৩ জুনের, ৪ জুন দেওয়া হবে ১৪ জুনের, ৫ জুন দেওয়া হবে ১৫ জুনের এবং ৬ জুন দেওয়া হবে ১৬ জুনের টিকিট।

মন্ত্রী আরও বলেন, ১০ জুন দেওয়া হবে ২০ জুনের ফিরতি টিকিট, ১১ জুন দেওয়া হবে ২১ জুনের, ১২ জুন দেওয়া হবে ২২ জুনের, ১৩ জুন দেওয়া হবে ২৩ জুনের এবং ১৪ জুন দেওয়া হবে ২৪ জুনের টিকিট।

তিনি বলেন, কোরবানির পশু পরিবহনের জন্য এবার পশ্চিমাঞ্চলে ‘ক্যাটল এক্সপ্রেস’ চলবে ১২ থেকে ১৪ জুন পর্যন্ত। আর পূর্বাঞ্চলে ‘ক্যাটল এক্সপ্রেস’ চলবে ১২ ও ১৩ জুন।


আরও খবর



মীরপুর ১০ ব্যাস্ততম এলাকায় রাস্তা দখল করে হকার বসিয়ে চাঁদাবাজী

প্রকাশিত:সোমবার ০৩ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:শুক্রবার ২১ জুন ২০২৪ | ১৪৭জন দেখেছেন

Image

নিজস্ব প্রতিনিধী:- রাজধানীর ব্যস্ততম মিরপুর১০ নম্বর গোলচত্বরসহ এলাকার  ফুটপাতসহ সড়কের অর্ধেকটা দখল করে চলছে পাচ হাজার হকারদের রমরমা ব্যবসা। এই ব্যবসার দোকান গুলোতে আলো জ্বালাতে অবৈধ ভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়ে মাসে অর্ধকোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে একটি চক্র। এদিকে সরকার বিদ্যুৎ সাশ্রয় করার জন্য লোডসিটিং চালু করেছে। অন্য অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়ে মোটা অস্কের টাকার হাতিয়ে নিচ্ছে।


এর পাশাপাশি কোটি টাকার চাঁদাবাজিও হচ্ছে ফুটপাত থেকে। মিরপুর মডেল থানার কর্মরত কনস্টেবল মোহাম্মদ হেলাল প্রায় এক যুগ ধরে পুলিশের নামে ফুটপাত ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন জায়গা থেকে টাকা তোলেন। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ পুলিশের পিআই মোহাম্মদ জিয়া সহ পুলিশের বড় কর্মকর্তাদের নামে এই সব টাকাগুলো ওঠানো হয়। প্রায় চার লেনের চওড়া রাস্তার দুই লেনই দখল করে ব্যবসা করছেন হকারা।এখান থেকে মাসে কোটি টাকার লেনদেন করছেন হকার নেতারা।


 ফুটপাতের একাধিক ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করে বলেন, প্রসাশনসহ সরকার দলীয় নেতা -কর্মীরা এসব টাকা ভাগ করে খাচ্ছেন। ফুটপাতের পজিশন নিতে প্রথমে দিতে ৪০-৫০ হাজার টাকা। আবার প্রতিদিন দিতে হয় ৩-৪ শ টাকা। এ ছাড়া, আরও অনেককে ম্যানেজ করতে হয়।তারা শীর্ষ সন্ত্রাসী শাহাদাতের নামে টাকা উঠায়। এতে করে শুধু পথচারীই নয়, চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে যানবাহনগুলোকেও। বিশেষ করে মিরপুর-২ নম্বর থেকে১০  গোলচত্বরসহ আশ পাশের পুরো এলাকা জুড়ে ও শাহ আলী মার্কেটের রাস্তার অর্ধেকের বেশি দখলে থাকে হকারদের। ক্রেতা-বিক্রেতা একাকার হয়ে যায় প্রধান সড়কে। 


এসব এলাকার রাস্তা দখল এবং ফুটপাতের অবস্থা বেগতিক। অভিযোগ রয়েছে, প্রশাাসনকে ম্যানেজ করে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে রাস্তাকে পজিশন বিক্রি করা হয়েছে। ফলে যেখানে বসে নিশ্চিন্তে ব্যবসা করছেন হকাররা। এসব হকারদের কারণে চরম ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন মার্কেটের ব্যবসায়ীরাও।ব্যবসায়ীদের অভিযোগ ফুটপাত, রাস্তা দখল করে হকার বসিয়ে স্থানীয় নেতারা প্রতিদিন কয়েক লাখ টাকা চাঁদাবাজি করছে। এমন কি সরকারকে ফাকি দিয়ে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়ে মাসে অর্ধকোটি টাকা হর্কারদের কাছ থেকে আদায় করছে চক্রটি। যার ভাগ প্রশাসনের বিভিন্ন মহলেও পৌঁছে যাচ্ছে। এমনকি সরকার দলীয় নেতা-কর্মীরাও বাদ নেই। কিন্তু এ কারণে মূল মার্কেটের ব্যবসা কমে যাচ্ছে। ব্যবসায়ীরা আরও অভিযোগ করে বলেন, শাহ আলী মার্কেটের আশপাশের চাঁদাবাজির নিয়ন্ত্রণ করছে রুবেল, জাহাঙ্গীর, হিরু মিয়া, রাড্ডার সামনে টিংকুর নিয়ন্ত্রণে সাদ্দাম,  আকবর, হাবিব ও নুরু মিয়াসহ কয়েকজন। এবং ১০ নম্বর গোলচত্বরসহ তার আশপাশের ফুটপাতে থেকে মো. আখের মিয়া, রুবেল, নেতা জাকির, সাদ্দাম, ফেলান ও মোরসালিন। তারা নিজেরাও দোকান বসিয়েছে। ব্যবসায়ীদের আরো অভিযোগ মোরসালিন এমপি এসএম জাহিদের নাম ভাঙ্গিয়ে ফুটপাত দখল করে ও বিভিন্ন জায়গা থেকে চাঁদাবাজি করে আসছে। নিয়ন্ত্রণকারীরা  বলেন, সবাই এসে আমাদেরকে ধরেন হকারেরা।


 আমরা বাধ্য হয়ে মোটা অংকের  টাকা নিয়ে হকারদেরকে বসতে দেই। তাদের নিয়ন্ত্রিত বাহিনীর সদস্যরা শুধু ফুটপাতই নয়, রাস্তা দখল করে পজিশন বিক্রি করছে হকারদের কাছে। সকাল থেকেই রাস্তা ও ফুটপাত দখল হয়ে যায়। রাস্তায় দেখা দেয় তীব্র যানজট। বাস চালক আবুল কালাম বলেন, ঢাকায় এত চওড়া রাস্তা খুবই কম এলাকাতেই আছে। কিন্তু চওড়া হলে কী হবে। হকারদের কারণে আমরা তার সুফল ভোগ করতে পারি না। সব যায়গায় ফুটপাত দখল করলেও এখানে রাস্তাই দখল করে বসে আছে। থানা পুলিশ, ট্রাফিক পুলিশ সব দেখছে। 


কিন্তু কেউ কিছুই বলছে না। মার্কেটের কয়েক জন ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করে বলেন, হকারদের এ উৎপাতে আশপাশের মার্কেটগুলোর ব্যবসায়ীরা সব থেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। রাস্তা, ফুটপাথ বন্ধ থাকার কারণে ক্রেতারা মার্কেটে আসতে পারেন না। যার কারণে তাদের বিক্রিও তেমন হয় না। এসব বিষয়ে কোনো কথা বলতে গেলে দখলদার সন্ত্রাসীরা নানা ধরনের হুমকি দিতে শুরু করে।


শুধু তাই নয়, মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দিয়ে থাকে।রাস্তায় পজিশন নেওয়া ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী আলমগীর  হোসেন ও শামসুল আলম বলেন, মোটা অঙ্কের টাকা চাঁদা দিয়ে বসার জায়গাটুকু পেয়েছি। তার পরও প্রতিদিন তাকে ৩০০ টাকা করে চাঁদা দিতে হয়। এর পর আবার বিদ্যুৎ জ্বালানোর জন্য প্রতি লাইটে ৩০ টাকা করে দিতে হয়। বিক্রি হোক বা না হোক এই চাঁদা তাদেরকে দিতেই হবে।


এটা এখন নিয়মে পরিণত হয়েছে। কিন্তু এর বাইরে যখন চাঁদা দিতে হয় তখন ব্যবসায়ীদের পুঁজি ভেঙে খাওয়া ছাড়া কোনো পথ থাকে না।তিনি বলেন, ফুটপাতে খুবই কম লাভে পণ্য বিক্রি করতে হয়। এখন প্রচুর দোকান থাকায় খুব বেশি লাভও হয় না। তার মধ্যে থানা পুলিশ, লাইনম্যান, ঝাড়ুদার, পুলিশ সোর্স এবং এলাকার বিভিন্ন সংগঠনের নেতাদের আলাদা আলাদা করে টাকা দিতে হয়। কেউ দিন হিসেবে আবার কেউ সপ্তাহ হিসেবে এসব টাকা নিয়ে থাকে।


আর যাদের কাছ থেকে জায়গা বা পজিশন নিয়েছি তাদের তো আলাদাভাবে চাঁদা দিয়ে জায়গা রক্ষা করতে হয়।এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম না প্রকাশে শর্তে তিনি বলেন, মাঝে মধ্যেই সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়। কিন্তু তাতে লাভ হয় না।তিনি আক্ষেপ করে বলেন, আমাদের কিছু অসাধু কর্মচারী ও কর্মকর্তারা এবং  প্রসাশনের লোকজন এসব অনৈতিক কাজে জড়িত থাকেন।তা হলে তো আর উচ্ছেদ করেও কোনো লাভ হচ্ছে না।


একদিকে উচ্ছেদ হচ্ছে আবার কিছুক্ষণ পরে হকাররা আবার দোকান বসাচ্ছে। তাই পুলিশের পক্ষ থেকে কার্যকরি পদক্ষেপ নেওয়া হলে উচ্ছেদের পর নতুন করে হকার বসতে পারবে না। ডেসকোর একজন প্রকৌশলী এ ব্যাপারে বলেন, এই সব অভিযোগ শুনতে শুনতে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছি। আমরা ওই সব এলাকায় বারবার অভিযান চালিয়ে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ বিছিন্ন করা হয়। কিন্তু আমাদের অফিসের কিছু অসাধু কর্মচারী ও কর্মকর্তারা অর্থের বিনিময়ে ওই সব অবৈধ চক্রের সাথে হাত মিলিয়ে অবৈধ বিদ্যুৎতের লাইন সংযোগ দিয়ে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেয়।


তিনি দুঃখকরে আরও বলেন, যেখানে সরকার বিদ্যুৎ সাশ্রয় করার জন্য লোডসিটিংয়ে পদক্ষেপ নিয়েছেন। এর মধ্যে তারা গ্রাহকে ঠকিয়ে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগদিয়ে টাকা নিচ্ছেন। মিরপুর জোনের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন মোল্লাহ জানান, অতি তাড়াতাড়ি সবার সহযোগিতায় মিরপুর এলাকার ফুটপাথ ও রাস্তা দখল থেকে হকারদের উচ্ছেদ করে দখলমুক্ত করা হবে।

-খবর প্রতিদিন/ সি.ব

আরও খবর