Logo
আজঃ Friday ১৯ August ২০২২
শিরোনাম
রূপগঞ্জে আবাসিকের অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন ডেমরায় প্যাকেজিং কারখানায় ভয়বহ অগ্নিকান্ড রূপগঞ্জে পুলিশের ভুয়া সাব-ইন্সপেক্টর গ্রেফতার রূপগঞ্জে সিরিজ বোমা হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ ॥ সভা সরাইলে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ৭৭তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত। নারায়ণগঞ্জে পারিবারিক কলহে স্ত্রীকে পুতা দিয়ে আঘাত করে হত্যা,,স্বামী গ্রেপ্তার রূপগঞ্জ ইউএনও’র বিদায় সংবর্ধনা নাসিরনগরে স্বামীর পরকিয়ার,বলি ননদ ভাবীর বুলেটপানে আত্মহত্যা নাসিরনগরে জাতীয় শোক দিবস ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৭ তম শাহাদত বার্ষিকী পালিত ডেমরায় জাতীয় শোক দিবসের কর্মসুচি পালিত

হিরো এশিয়ান চ্যাম্পিয়নস ট্রফির প্রথম ম্যাচেই বাংলাদেশের শোচনীয় হার

প্রকাশিত:Thursday ১৬ December ২০২১ | হালনাগাদ:Friday ১৯ August ২০২২ | ৩৮১জন দেখেছেন
Image


আজাদ হোসেনঃ 

ঢাকার মওলানা ভাসানী স্টেডিয়ামে স্বাগতিক বাংলাদেশসহ পাঁচটি দেশের অংশগ্রহণে চলছে এশিয়া হকির সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ আসর ‘হিরো এশিয়ান চ্যাম্পিয়নস ট্রফি ২০২১’। বাংলাদেশ স্বাধীনতার পর এবারই প্রথম সবচেয়ে কঠিন এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসরে খেলার সুযোগ পেয়েছে স্বাগতিক দেশ হওয়ার সুবাদে।


গতকাল বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে অনুষ্ঠিত হয়েছে গুরুত্বপুর্ন ম্যাচ।এশিয়ান হকি চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে শেষ পর্যন্ত ৯-০ ব্যবধানে শেষ হয়েছে ম্যাচ। বাংলাদেশ গোল তো দূরের কথা, লক্ষ্যভেদের দূরতম সম্ভাবনাও তৈরি করতে পারেনি। আক্রমণে ওঠার সুযোগ পেয়েছে কালেভদ্রে। কিন্তু বল হারিয়েছে সেই আক্রমণ জমাট বাঁধার আগেই।


গতকাল তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ অপর ম্যাচে ৩-৩ গোলে ড্র করেছে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া।ভারতীয়দের চাপে মুখে ক্রমে নিচে নেমে আসতে হয়েছে পুরো দলকে। তাতে একের পর এক পেনাল্টি কর্নার আদায় করে নিয়েছে ভারত। সব মিলিয়ে ১৪টি। ৯ গোলের পাঁচটিই পিসি থেকে। চার কোয়ার্টারের প্রথম দুটি দেখে অবশ্য মনে হয়নি ব্যবধানটা এত বড় হবে। শুরুর ১১ মিনিটে আটটি পিসি আদায় করলেও গোল করতে পারেনি ভারত।


বাংলাদেশ যেকোনোভাবে হোক সেগুলো ফিরিয়ে দিচ্ছিল। ১২ মিনিটে দিলপ্রিত সিং প্রথম এগিয়ে দেন ভারতকে। সেটি আবার ওপেন প্লে থেকে। পোস্টের সামনেই জটলা থেকে আলতো পুশে বল জালে জড়িয়ে দিয়েছেন তিনি। প্রথম কোয়ার্টারে ব্যবধান ১-০।


দ্বিতীয় কোয়ার্টারে বাংলাদেশ আক্রমণে উঠতে গেলে ডিফেন্স ফাঁকা হয়ে যায়। সেই সুযোগে দিলপ্রিতই গোলরক্ষক আবু সাঈদকে ওয়ান অন ওয়ানে রিভার্স হিটে ব্যবধান বাড়িয়ে নিয়েছেন। এই কোয়ার্টার শেষ হওয়ার আগে আবার পিসি থেকে ললিত কুমারের গোল। হারমানপ্রিতের ফ্লিকে পোস্টের কাছে দাঁড়িয়ে কানেক্ট করে দেন তিনি।


তৃতীয় কোয়ার্টারে আরো তিন গোল হজম করে বাংলাদেশ। প্রথম দুটি পিসি থেকে। আর দুটি গোলই একটি আরেকটির কপি যেন। হারমানপ্রিত ড্র্যাগ না করে পাশে দেন জারমান প্রিতকে।

জারমান জোরালো হিটে দুবারই বল জালে জড়ান। শুরুর দিকে হারমানের সরাসরি ড্র্যাগ ফ্লিকগুলো বাংলাদেশ রুখে দেওয়াতে নতুন পথ খুঁজে নেয় ভারত, সফলতা আসে তাতেই। ওদিকে ওপেন প্লেতেই দিলপ্রিত হ্যাটট্রিক পূরণ করে ফেলেন এই কোয়ার্টারের শেষ দিকে।

বক্সের ভেতরে বাংলাদেশি এক ডিফেন্ডারের পাহারা এড়িয়েই বল জালে পাঠিয়েছেন তিনি। শেষ কোয়ার্টারে আকাশদীপ সিং ৭-০ করেন। এরপর পিসি থেকে হারমান ও মনদীপের আরো দুই গোল।


ম্যাচে  বাংলাদেশ পাল্টা আক্রমণের সামর্থ্যই দেখাতে পারেনি না। নিজেদের পোস্টের সামনে গোল বাঁচানোর প্রাণপণ লড়াই করেও হার ঠেকাতে পারেনি বাংলাদেশ দল।


আরও খবর



হাসপাতালে রোগীকে মারধর, ভিডিও ভাইরাল

প্রকাশিত:Sunday ১৪ August ২০২২ | হালনাগাদ:Thursday ১৮ August ২০২২ | ১৮জন দেখেছেন
Image

শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে সেবা নিতে এসে চিকিৎসকের চড়-লাথি খেলেন এক রোগী। রোববার (১৪ আগস্ট) দুপুর থেকে এ ধরনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে।

২ মিনিট ৮ সেকেন্ডের ওই ভিডিওটিতে দেখা যায়, হাসপাতালের অর্থোপেডিক সার্জন ডা. মোহাম্মদ আকরাম এলাহী এক রোগীকে চর-থাপ্পড়সহ লাথি মারছেন। দুই পা জড়িয়ে ধরার পরও ওই রোগীকে বেধড়ক মারধর করে ধমকাচ্ছেন তিনি। তবে সংবাদটি লেখা পর্যন্ত ওই রোগীর পরিচয় পাওয়া যায়নি।

এর আগে শনিবার সকালে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটে।

এ ব্যাপারে চিকিৎসক আকরাম এলাহী বলেন, আমার সহকারীর গায়ে হাত তোলার পর তাকে মারধর করেছি। এতে আমার দোষ কোথায়?

ওই চিকিৎসকের সহকারী আতাউর রহমান বলেন, আমি অসুস্থ। ওই লোক বিনা কারণে আমার বুকে ঘুসি মারে। বিষয়টি আমি স্যারকে জানিয়েছি।

এ বিষয়ে সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আব্দুস সোবহান বলেন, ওই রোগী এখনো কোনো অভিযোগ করেননি। তবে আমি শুনেছি ওই ঘটনাটি নাকি মীমাংসা হয়ে গেছে।

শরীয়তপুরের সিভিল সার্জন ডা. এসএম আব্দুল্লাহ আল মুরাদ বলেন, আমি ভিডিওটা দেখিনি। যদি কোনো রোগী মারধরের শিকার হন তাহলে ওই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


আরও খবর



ভারতে গিয়ে বলেছি, এই সরকারকে টিকিয়ে রাখতে হবে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রকাশিত:Friday ১৯ August ২০২২ | হালনাগাদ:Friday ১৯ August ২০২২ | ৭৭জন দেখেছেন
Image

বাংলাদেশে ক্ষমতাসীন শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ সরকারকে টিকিয়ে রাখতে ভারত সরকারকে অনুরোধ করেছেন বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন। তিনি বলেন, ‘আমি ভারতে গিয়ে বলেছি, শেখ হাসিনার সরকারকে টিকিয়ে রাখতে হবে।’

বৃহস্পতিবার (১৮ আগস্ট) সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম শহরের জে এম সেন হলে জন্মাষ্টমী উৎসবের অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, দুই দেশেরই রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা প্রয়োজন। এটি সম্ভব যদি শেখ হাসিনার সরকারকে সমর্থন দেয় ভারত।

ভারত সফরের প্রসঙ্গ টেনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কারো এমন কিছু করা উচিত হবে না, ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে এমন কোনো উসকানি দেওয়া ঠিক হবে না, যাতে অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। প্রতিবেশী দেশে কয়েকটি মসজিদ পোড়ানো হয়েছে। সেটি দেশে প্রচার করতে দেওয়া হয়নি। এর কারণ হচ্ছে কিছু দুষ্ট লোক আছে, কিছু জঙ্গি লোক আছে, যারা এটার বাহানায় আরও অপকর্ম করবে।

‘কিছুদিন আগে একজন ভদ্রমহিলা একটি কথা বলেছিলেন, আমরা একটি কথাও বলিনি। বিভিন্ন দেশ কথা বলেছে, আমরা একটি কথাও বলিনি। এ ধরনের প্রটেকশনও আমরা আপনাদের দিয়ে যাচ্ছি। সেটা আপনাদের মঙ্গলের জন্য, আমাদের মঙ্গলের জন্য।’

তিনি বলেন, ‘ভারতে বর্ডারে অতিরিক্ত খরচ করতে হয় না। এছাড়া বাংলাদেশ থেকে বছরে ২৮ লাখ মানুষ ভারতে বেড়াতে যায়। কয়েক লাখ ভারতীয় বাংলাদেশে কাজ করে।’

চট্টগ্রামে জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদের অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেনের যোগ দেওয়ার প্রতিবাদে কালো পতাকা প্রদর্শন কর্মসূচি পালন করেছে ‘বিক্ষুব্ধ সনাতনী সমাজ’ নামের একটি সংগঠন।

বৃহস্পতিবার বিকেলে চট্টগ্রামের চেরাগী পাহাড় মোড়ে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারী অনেকের হাতে ছিল কালো পতাকা, কারও কারও মুখ ছিল কালো কাপড়ে বাঁধা।

কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রানা দাশগুপ্ত, চট্টগ্রাম জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি শ্যামল পালিত, সাধারণ সম্পাদক অশোক দেব, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের চট্টগ্রাম নগর শাখার সাধারণ সম্পাদক নিতাই প্রসাদ ঘোষ, হিন্দু মহাজোট চট্টগ্রামের আহ্বায়ক যীশু রক্ষিত।

সমাবেশ শেষে মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি চট্টগ্রাম শহরের চেরাগী পাহাড় থেকে আন্দরকিল্লা মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। উল্লেখ্য, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদসহ বিভিন্ন সংগঠন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে গত জুন মাস থেকে মানববন্ধন, মিছিল, সমাবেশসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছে।


আরও খবর



আপনারা সবাই আমারে খায়া ফেললেন: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রকাশিত:Sunday ১৪ August ২০২২ | হালনাগাদ:Thursday ১৮ August ২০২২ | ১৪জন দেখেছেন
Image

‘দেশের মানুষ বেহেশতে আছে’- কথা প্রসঙ্গে এ কথা বলেছেন বলে দাবি করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন। এ কথা বলার পর সাংবাদিকরা তাকে বিপাকে ফেলেছেন বলেও জানান তিনি।

রোববার (১৪ আগস্ট) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার মিশেল ব্যাচেলেটের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

এদিন সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় মন্ত্রী হেসে ফেলেন। পরে তিনি বলেন, ‘আপনারা (সাংবাদি) আমাকে ধরে ফেললেন। আই অ্যাম সরি। আমি তো বেহেশত কথার কথা বলেছি। কিন্তু আপনারা আমারে খায়া ফেললেন।’

তিনি বলেন, ‘গত পরশু আমাকে প্রশ্ন করা হয়েছিল- আমাদের ইকোনমিক অবস্থা কেমন? আমি বলেছিলাম, আমরা তো ভালো করছি। এই কোভিডের সময় গত বছর জিডিপির গ্রোথ ছিল ৬ দশমিক ৯৪। তবে আমরা ভালো করার চেষ্টা করছি।’

মোমেন বলেন, ‘আমরা জ্বালানি সাশ্রয়ের উদ্যোগ নিয়েছি। সে কারণে আমাদের দাম বেড়েছে ৭ শতাংশ। আমেরিকায় বাড়ছে ৯ দশমিক ১ শতাংশ, যুক্তরাজ্যে বেড়েছে, তুরস্কে বেড়েছে, পাকিস্তানে বেড়েছে ৩৭ শতাংশ, মিয়ানমারে বেড়েছে ১৫০ শতাংশ। সেদিক থেকে আমরা তো অনেক ভালো আছি।’

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা অনেকের চেয়ে ভালো আছি। বলতে পারেন বেহেশতে আছি। আর যায় কোথায়! সবাই আমারে এক্কেরে...। এই হলো বাংলাদেশের মিডিয়ার স্বাধীনতা খর্ব।’

তিনি বলেন, ‘আমি কি মিডিয়ার স্বাধীনতা খর্ব করেছি? আফটার অল আই অ্যাম আ পাবলিক ফিগার। নিশ্চয়ই আপনারা আমাকে ক্রিটিসাইজ করতে পারেন। আই ডোন্ট মাইন্ড। তবে আগামীতে সাবধান হইতে হবে। আমি খোলামেলা মানুষ। আমি শিক্ষক মানুষ। আমি যেটা মনে করি, সেটা খোলামেলা বলে ফেলি। আমার দলও আমাকে বলেছে, এই পজিশনে থেকে ভালো কথা বলা দরকার।’

এর আগে গত শুক্রবার (১২ আগস্ট) সিলেটে দেশের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কিত সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘দেশের মানুষ বেহেশতে আছে’। এরপর সারাদেশে মন্ত্রীর এই বক্তব্য নিয়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে


আরও খবর



রনির অভিযোগে সহজ ডটকমকে ২ লাখ টাকা জরিমানা

প্রকাশিত:Wednesday ২০ July ২০22 | হালনাগাদ:Wednesday ১৭ August ২০২২ | ৬৩জন দেখেছেন
Image

রেলখাতের অব্যবস্থাপনা নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষার্থী মহিউদ্দিন রনির অভিযোগের প্রমাণ পাওয়ায় সহজ ডটকমকে দুই লাখ টাকা জরিমানা করেছে ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তর। এ জরিমানার ২৫ শতাংশ অর্থ পাবেন ভুক্তভোগী রনি।


আরও খবর



শান্তি, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির পথে জম্মু ও কাশ্মীর

প্রকাশিত:Sunday ০৭ August ২০২২ | হালনাগাদ:Friday ১৯ August ২০২২ | ১৬জন দেখেছেন
Image

৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিল এবং ভারতের সংবিধানের ৩৫এ রদ করার জন্য ভারত সরকারের ঐতিহাসিক এবং সাহসী সিদ্ধান্তের তিন বছরেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেছে। আর বর্তমানে সেই দৃঢ় সিদ্ধান্তের পরিবর্তনগুলি চোখে পড়ছে সবার কাছে। জম্মু ও কাশ্মীরকে একটি মেট্রোপলিটন শহরে রূপ দান এবং সেই শহরকে ঘিরে কোলাহল ও ব্যস্ততার জন্য মৌলিক অবকাঠামোগত সহায়তা এবং সংযোগ ব্যবস্থা এর আগে পর্যাপ্ত ছিলো না। এ ক্ষেত্রে বিচ্ছিন্নতাবাদ এবং আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাসবাদের পাশাপাশি দেশটির নেতৃত্বের দৃষ্টিভঙ্গিকেও দায়ী করা হয়।

২০১৯ সালের ৫ আগস্ট ৩৭০ ধারা বাতিল করে জম্মু ও কাশ্মীর এবং লাদাখকে পৃথক কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল হিসাবে পুনর্গঠিত করা হয়। এ সময় স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বিশেষ যত্নে ও পরিশ্রমের মাধ্যমে এই অঞ্চলকে ঘিরে সামাজিক কল্যাণ প্রকল্পগুলি দ্রুত বাস্তবায়িত করে। এ ছাড়াও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ঘোষিত 'প্রধানমন্ত্রীর উন্নয়ন প্যাকেজ-২০১৫'র অধীনে জম্মু ও কাশ্মীর কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল হিসেবে প্রকল্পগুলি বাস্তবায়নের অগ্রগতি বাড়ানো হয়েছে। সড়ক, রেল, সেতু, বিদ্যুৎ, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, পর্যটন, কৃষি, দক্ষতা উন্নয়ন ইত্যাদির মতো বিভিন্ন খাতে ৫৮,৪৭৭ কোটি টাকা ব্যয়ে ১৫টি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত ৫৩টি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে যার মধ্যে কাজ সম্পন্ন হয়েছে ২৯টি প্রকল্পের, অবশিষ্ট প্রকল্পগুলোর কাজও প্রায় শেষের দিকে।

ভারত তার স্বাধীনতার ৭৫ বছর উদযাপন করছে। কিন্তু ভারতের একটি রাজ্য হয়েও এই কাশ্মীরের সকল রেললাইন ব্রিটিশ আমলের তৈরি। এই সমস্যার সমাধানের জন্য বিশ্বের সবচাইতে বেশি রেল সেতু নির্মাণের প্রকল্প এই অঞ্চলের জন্য হাতে নিয়েছে ভারত সরকার। উধমপুর-শ্রীনগর-বারামুল্লা রেল সংযোগ প্রকল্পের অধীনে চেনাব সেতুর জন্য ১ হাজার ৩২৭ কোটি রূপি খরচ করা হচ্ছে। কাশ্মীর ও এর আশেপাশে উপত্যকাকে সংযুক্ত করতে আগামী ৪ বছরের মধ্যে এই কাজ সম্পন্ন করার লক্ষ রয়েছে ভারত সরকারের। এই অঞ্চলের অবকাঠামো উন্নয়নকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব প্রদান করা হচ্ছে।

যে কোনো এলাকার উন্নয়ন যাত্রার সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ দিক হলো কত দ্রুত ঐ অঞ্চল আত্মনির্ভর হতে পারে তা মূল্যায়ন করা। সর্বোচ্চ স্বনির্ভরতা অর্জনের দিকে কাজ করে এমন একটি রাজ্য বা যেকোনো অঞ্চলের জন্য এটি সত্য। সেই লক্ষ্যে, আগামী ১৫ বছরের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে একটি নতুন কেন্দ্রীয় আঞ্চলিক পরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছে কাশ্মীরের জন্য। একটি নতুন শিল্প প্রচার স্কিমের আওতায় এই পরিকল্পনা বাণিজ্যের পাশাপাশি ক্ষুদ্র-উদ্যোগের ক্ষেত্রে একাধিক সুযোগ তৈরি করতে চায়। প্রকৃতপক্ষে, এর মাধ্যমে, সরকার আরও ভারসাম্যপূর্ণ আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন মডেল প্রতিষ্ঠা করতে চায়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য একটি বিষয় হলো, এই অঞ্চলের জন্য ৫-৬ লক্ষ নতুন কর্মসংস্থান তৈরি করা এবং একটি অর্থনৈতিক গতি সঞ্চার করা যা উত্পাদন এবং পরিষেবার ক্ষেত্রে আরও মূলধন বিনিয়োগ অর্জনে সহায়তা করবে। এই কাজটিকে সফল করতে দুটি উল্লেখযোগ্য প্রকল্প সফলভাবে পরিচালিত হয়েছে- জম্মু-শ্রীনগর-লাদাখ জাতীয় মহাসড়কের কাজিগুন্ড-বানিহাল টিউব টানেল এবং সোনমার্গ ও গাগাঙ্গীরের মধ্যে জেড-মোরহ টানেল।

একই সাথে, এটিও লক্ষ করা গুরুত্বপূর্ণ যে অবকাঠামোগত উন্নয়নের দিকের পাশাপাশি সামাজিক খাতকে যথাযথ গুরুত্ব দিতে হবে। কাশ্মীর নিয়ে ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের সঙ্গে সঙ্গে ভারতের সাংবিধানিক অধিকার অর্জন করে কাশ্মীরের জনগণ। এর মাধ্যমে ভারতের সকল রাজ্যের মতই কাশ্মীরের সকল শ্রেণীকে একত্রিত করা হয়েছে এবং ন্যায়সঙ্গতভাবে সবার জন্য সমান আইন সহায়তা প্রতিষ্ঠা লাভ করেছে। অধিকার সুরক্ষার ক্ষেত্রে কোন অযৌক্তিক শ্রেণিবিন্যাস যেন না থাকে তা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিপুল সংখ্যক দলিত, উপজাতি এবং মহিলা, যারা ঐতিহাসিকভাবে প্রান্তিক পর্যায়ে ছিল, এখন তাদের সুরক্ষা এবং সম্মান দেওয়া হয়েছে। তাদের দুর্ভোগগুলি বেশিরভাগ বক্তব্যেই এড়িয়ে যেতো। এই গোষ্ঠীটি সমান সুযোগ, সম্পত্তির অধিকার থেকে বঞ্চিত এবং চিরকালের জন্য পুরুষ এবং অভিজাতদের করুণায় চলছে, যেন তারা প্রজা। এই ধরনের অনেক অধিকার কার্যকর করার জন্য ১৬০টিরও বেশি কেন্দ্রীয় কল্যাণ আইন প্রবর্তনের সাথে ১৫৩টিরও বেশি রাজ্য আইন বাতিল করা হয়েছিল।

মজার বিষয় হল, গ্রামীণ ভারতে অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন অর্জনের লক্ষ্যে জম্মু কাশ্মীর গ্রামীণ জীবিকা মিশনের অংশ হিসাবে মহিলাদের স্ব-সহায়ক গোষ্ঠীগুলির জন্য একটি গ্রামীণ এন্টারপ্রাইজ ত্বরণ কর্মসূচি চালু করে। এই অঞ্চলকে সন্ত্রাসবাদের খপ্পর থেকে বাঁচাতে অর্থনৈতিক নিরাপত্তা বেশ জরুরি ছিলো। তাই অর্থনৈতিক সুরক্ষা কবচ হিসেবে এসএএটিএইচ (জেঅ্যান্ডকে এর মহিলা এসএইচজিএস শক্তিশালীকরণ এবং পরামর্শদাতা) নিবিড় ক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে এই মহিলাদের মেন্টরশিপ এবং হ্যান্ডহোল্ডিং সহায়তা প্রদানের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে যাতে তাদের একটি আন্তর্জাতিক স্তরে ব্যবসায়িক উদ্যোগকে উন্নীত করতে উত্সাহিত করা যায় এবং তাদের যথেষ্ট নিরাপত্তা প্রদান করা হয়।

অল্প সময়ের মধ্যেই এই প্রকল্পের সফলতা হলো সন্ত্রাসীদের আধিপত্য বিস্তারকারী এলাকায় উদ্যোক্তাদের জন্য একটি সহায়ক ইকোসিস্টেম তৈরি করা। গত দুই বছরে বারামুল্লা এবং অনন্তনাগে এক হাজার ৪০০ টিরও বেশি প্যারামেডিক্যাল সহ ৭টি নতুন মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি স্বাস্থ্য খাতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। এ ছাড়াও, অবন্তিপুর এবং সাম্বাতে ২টি নতুন এআইআইএমএস-এর পাশাপাশি ৫টি নতুন নার্সিং কলেজ এবং ১টি ক্যান্সার ইনস্টিটিউট স্থাপনের কাজ চলছে। স্কুলগামী শিশুদের নিয়মিত স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ নিশ্চিতে প্রশাসন কর্তৃক সফলভাবে স্টুডেন্ট হেলথ কার্ড স্কিম চালু করা হয়েছে যার মাধ্যমে ইতিমধ্যেই 8 লাখেরও বেশি শিক্ষার্থী উপকৃত হয়েছে। ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি (আইআইটি) জম্মু এবং ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ ম্যানেজমেন্ট (আইআইএম) জম্মুকে কার্যকর করা হয়েছে। সরকারি ডিগ্রি কলেজ/ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের সংখ্যা ৯৬ থেকে বেড়ে ১৪৭ হয়েছে।

এই উদ্যোগগুলো এবং এখন পর্যন্ত গৃহীত পদক্ষেপগুলো রাষ্ট্রের প্রশাসনিক যন্ত্রের প্রতি জনগণের বিশ্বাসকে পুনর্ব্যক্ত করেছে। ভারত সরকারের এই পদক্ষেপগুলি নিশ্চিতভাবেই কাশ্মীরের মানুষের হৃদয় জয় করবে। শুধু কাশ্মীরে নয়, কাশ্মীরকে কেন্দ্র করে এই উপমহাদেশে যেই সন্ত্রাস ও উগ্রবাদ এক সময় সকলকে ভাবিয়ে তুলেছিলো, সেই কাশ্মীরের উন্নয়নের মাধ্যমে ভারত আঞ্চলিক শান্তি প্রতিষ্ঠায়ও বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখছে।

লেখক: কলামিস্ট ও সিনিয়র সাংবাদিক।


আরও খবর