Logo
আজঃ Tuesday ২৮ June ২০২২
শিরোনাম
নাসিরনগরে বন্যার্তদের মাঝে ইসলামী ফ্রন্টের ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ রাজধানীর মাতুয়াইলে পদ্মাসেতু উদ্ধোধন উপলক্ষে দোয়া মাহফিল রূপগঞ্জে ভূমি অফিসে চোর রূপগঞ্জে গৃহবধূর বাড়িতে হামলা ভাংচুর লুটপাট ॥ শ্লীলতাহানী নাসিরনগরে পুকুরের মালিকানা নিয়ে দু পক্ষের সংঘর্ষে মহিলাসহ আহত ৪ পদ্মা সেতু উদ্ভোধন উপলক্ষে শশী আক্তার শাহীনার নেতৃত্বে আনন্দ মিছিল করোনা শনাক্ত বেড়েছে, মৃত্যু ২ জনের র‍্যাব-১১ অভিমান চালিয়ে ৯৬ কেজি গাঁজা,১৩৪৬০ পিস ইয়াবাসহ ৬ মাদক বিক্রেতাকে গ্রেফতার করেছে বন্যাকবলিত ভাটি অঞ্চল পরিদর্শন করেন এমপি সংগ্রাম পদ্মা সেতু উদ্বোধনে রূপগঞ্জে আনন্দ উৎসব সভা ॥ শোভাযাত্রা

হিজাব কিংবা খোলামেলা থাকা দুটোরই স্বাধীনতা থাকা উচিত

প্রকাশিত:Tuesday ০৭ June ২০২২ | হালনাগাদ:Tuesday ২৮ June ২০২২ | ২৭৬জন দেখেছেন
Image

বাংলাদেশে একটি ঘটনা ঘটে এবং তা নিয়ে কিছুদিন আলাপ চলে পক্ষে-বিপক্ষে এবং তারপর কোনো রকম সিদ্ধান্ত কিংবা সমাপ্তি ছাড়াই দ্রুত আরেকটি ঘটনা নিয়ে আলোচনার মোড় ঘুরে যায়। একটি ছোট্ট দেশে ১৬-১৭ কোটি মানুষের বসবাস, এখানে মানুষের জন্ম এবং মৃত্যুর মতোই ঘটনার জন্ম এবং মৃত্যুও আলোড়নহীন এবং ভয়ঙ্কর দুর্ঘটনাও মানুষের কাছে সমানমাত্রায় সহনীয়।

গণমাধ্যম যে বিষয়টিকে আলোচনায় নিয়ে আসে তা নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে সোশ্যাল মিডিয়ায়ও কোনো আলোচনাই স্থায়ী হয় না। সেটা বড় কোনো দুর্ঘটনা হোক কিংবা ভয়ঙ্কর কোনো সামাজিক বৈষম্য হোক। মানুষ আসলে কোনো কিছুতেই দীর্ঘক্ষণ মনোযোগ ধরে রাখতে পারে না, তা সে যতো বড় ও গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাই হোক না কেন। অথচ কিছু কিছু ঘটনা রয়েছে, যা নিয়ে পরিবার, সমাজ এবং রাষ্ট্রীয় নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আলোচনা হওয়া প্রয়োজন এবং এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণও জরুরি। আজ এমনই একটি বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে চাই, আর সেটি হলো নরসিংদী রেলস্টেশনে ঘটে যাওয়া নারী অবমাননার ঘটনা।

একটু দেরিতে আলোচনার সুবিধে হলো, বিষয়টি নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে আলোচনা দেখে ও জেনে-বুঝে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা যায়। বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া যে তরুণীকে এই রেলস্টেশনে হেনস্তার শিকার হতে হয়েছে তিনি বুদ্ধিমান এবং দেশের আলোচিত একটি বিদ্যায়তনের ছাত্রী। ফলে তিনি তার পোশাক বিষয়ে সচেতন এবং তিনি খুব ভেবেচিন্তে পোশাক নির্বাচন করেন বলেই আমরা ধরে নিতে চাই। ফলে যে পোশাকের জন্য তাকে হেনস্তার শিকার হতে হয়েছে তা নিয়ে তার কোনো দুশ্চিন্তা ছিল না বলেই তিনি রাস্তায় বেরিয়েছেন এবং বন্ধুদের সঙ্গে গেছেন নরসিংদীতে।

একটি স্বাধীন দেশের স্বাধীন নাগরিক নিজ দেশের ভেতর ভ্রমণ করবেন তাতে তিনি কোনো প্রকার হেনস্তার শিকার হবেন না, এটাই সভ্য দেশের দস্তুর। কিন্তু না, এই তরুণী শুধু হেনস্তার শিকার হয়েছেন তাই-ই নয়, তাকে শারীরিক আক্রমণের শিকার হতে হয়েছে এবং তিনি তার জীবনে এই ‘পাবলিক হ্যারাসমেন্ট’র ট্রমা বা ভীতি থেকে কখনও বের হতে পারবেন বলে মনে হয় না। অর্থাৎ তার মানসিকতায় একটি স্থায়ী ভীতি তৈরি হয়েছে এবং এ ক্ষতি অপূরণীয়। অন্য কোনো সভ্য দেশ হলে তিনি এই ক্ষতিপূরণের জন্য আদালতের দ্বারস্থ হতে পারতেন এবং রাষ্ট্র তাকে ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য হতো।

আমরা দেখতে পেলাম যে, একদল মানুষ আলোচ্য এই তরুণীর পোশাক নিয়ে তাকে কটাক্ষ করে তার ওপর হামলা করছে। তরুণীর সঙ্গী পুরুষকেও হেনস্তা করছে এবং তাকেও শারীরিক ভাবে আক্রমণ করা হচ্ছে। এই খবর দ্রুত গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং এ ঘটনার বিরুদ্ধে জনমত তৈরি হয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ ঘটনার পক্ষে ও বিপক্ষে দুটি দল তৈরি হয় এবং এখনও যেহেতু এদেশে আইন-আদালত রয়েছে, সরকার যেহেতু কখনও কখনও জনমতকে ধর্তব্যে নেয়, সেহেতু আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর হয়ে প্রথমে একজন পুরুষ আক্রমণকারীকে গ্রেফতার করে এবং পরে তার কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী মার্জিয়া নামের এক নারীকে গ্রেফতার করে।

এই গ্রেফতারের ঘটনায় দেশে-বিদেশে সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রশংসিত হলেও যারা এ ঘটনায় আক্রান্ত তরুণীকেই দোষী মনে করেন তাদের পক্ষ থেকে পাল্টা সমাবেশ করে গ্রেফতারকৃত মার্জিয়ার মুক্তি দাবি করেন। ফলে এখন নরসিংদীর ঘটনায় স্পষ্টতই দুটি পক্ষ লক্ষ্যমান, যারা মনে করেন যে, বাংলাদেশে পোশাকের স্বাধীনতা থাকবে না অর্থাৎ কেউ বা আরও স্পষ্ট করে বলা ভালো কোনো নারী তার ইচ্ছামাফিক পোশাক পরে রাস্তায় বের হতে পারবেন না।

আরেকপক্ষ এর বিপরীতে দাঁড়িয়ে বলতে চাইছে যে, হিজাব পরা যদি ব্যক্তি স্বাধীনতা হয় তাহলে হিজাব না পরা অথবা ইচ্ছেমতো যে কোনো পোশাক পরারও স্বাধীনতা থাকতে হবে। এরই মধ্যে আদালতের এক রায়েও বলা হয়েছে যে, হিজাব পরার স্বাধীনতা থাকতে হবে। এক্ষেত্রে আদালত অন্য কোনো পোশাক পরার ক্ষেত্রে স্বাধীনতা নিয়ে কিছু বলেননি। বাংলাদেশে হিজাব পরার কারণে কোথাও কেউ হেনস্তার শিকার হয়েছে বলে জানা নেই, ভারতে এরকম বিতর্ক শুরু হলেও বাংলাদেশে এটা হয়নি, যদিও বলা হচ্ছে যে, হিজাব পরতে বাধা দেওয়ার কারণেই কোনো সংক্ষুব্ধ পক্ষ আদালতের দ্বারস্থ হলে আদালত এ সিদ্ধান্ত দেন।

এখন তবে এমন কাউকে আদালতে গিয়ে বলতে হবে যে, বাংলাদেশে যে কোনো নারী তার ইচ্ছেমতো পোশাক পরে বাইরে যেতে কেন পারবেন না সে বিষয়টি আদালতকে স্পষ্ট করে দিতে হবে? কিংবা নারী কোন পোশাক পরে বাইরে বেরুতে পারবেন আর কোন পোশাক পরে পারবেন না সেটিও তাহলে আদালতকে বলতে হবে। নাহলে রাস্তাঘাটে আবারও কোনো তরুণীকে পোশাকের কারণে হেনস্তা হতে হবে এবং এ নিয়ে শুধু পক্ষে-বিপক্ষে আলোচনা সমালোচনাই সার হবে, সিদ্ধান্ত কিছুই হবে না।

আমাদের সংবিধানে স্বাধীন নাগরিক সত্তার ওপর জোরারোপ করা হয়েছে। ফলে আদালত নিশ্চয়ই নারীর এই স্বাধীন সত্তার বিরুদ্ধে যায় এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেবেন না, কারণ তা হবে সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এই সংঘর্ষ নিশ্চয়ই কাম্য হতে পারে না। ফলে আমরা এটা ধরে নিয়েই এগোতে চাই যে, বাংলাদেশের নাগরিকের পোশাকের স্বাধীনতা রয়েছে। এক্ষেত্রে সমাজ হয়তো একটি ‘শালীন’ বা ‘অশালীনের’ প্রশ্ন তুলতে পারে কিন্তু সেটাও ধর্তব্য নয় কারণ একজনের চোখে যা শালীন আরেকজনের চোখে তাই-ই অশালীন হতে পারে।

যেহেতু এর কোনো সঠিক নির্ণায়ক নেই, তাই ব্যক্তি নিজে যা শালীন মনে করবেন সেটি পরেই তিনি পথে বের হবেন। আর ব্যক্তি নিজে যাকে অশালীন মনে করবেন তা তিনি পরবেন না। কিন্তু অন্য যদি সেটা পরে? সেক্ষেত্রে কী হবে? সেক্ষেত্রেও তিনি এ বিষয়ে নিজের মতামতকে অন্যের ওপর চাপিয়ে দেবেন না। শালীন কিংবা অশালীন নির্ণয়ের দারভার তাকে কেউ দেয়নি এবং এ বিষয়ে অন্যকে জ্ঞান দেওয়া, হেনস্তা করা কিংবা শারীরিক আক্রমণের অধিকারও তিনি রাখেন না। বরং এসব যে শাস্তিযোগ্য অপরাধ সেটিই রাষ্ট্রকে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে।

নরসিংদী রেলওয়ে স্টেশনে পোশাকের কারণে তরুণী আক্রান্ত হওয়ার পর গ্রেফতারদের শাস্তি এজন্যই নিশ্চিত করা জরুরি যে, এই আক্রমণের ফলে আক্রান্ত ব্যক্তির মৃত্যু হতে পারতো, ‘মব’-কে খেপিয়ে তুললে তরুণী গণপিটুনির শিকার হতে পারতো এবং হয়েওছে তাই। ভিডিওতে দেখা গেছে যে, মার্জিয়া বার বার অকথ্য ভাষায় তরুণীকে গাল দিচ্ছে এবং তাকে কোণঠাসা করে ফেলছে এবং মার্জিয়ার সঙ্গে আরও কিছু লোকজন যুক্ত হয়ে তরুণীকে আক্রমণ করছে। তরুণী ভয় পেয়ে স্টেশনমাস্টারের রুমে গিয়ে আশ্রয় নিয়েও শেষ রক্ষা করতে পারছেন না। এই ভীতি এবং আক্রমণ যে শাস্তিযোগ্য অপরাধ তা কাউকে বলে দেওয়ার প্রয়োজন আছে বলে মনে করি না। তবে যারা মার্জিয়ার মুক্তি চাইছেন তারা বিষয়টি জানেন না বলেই লেখাটিতে আবার সেটি মনে করিয়ে দিতে হচ্ছে।

বাংলাদেশে একটি ধর্মবাদী রাজনীতি রয়েছে, যার শিকার সব সময় আসলে নারী, এক্ষেত্রেও সেই রাজনীতিকেই আমরা দেখতে পাচ্ছি। ধর্মের দোহাই দিয়ে নারীর পোশাককে অশালীন আখ্যা দিয়ে একদল মানুষ এগিয়ে এসে নারীকে আক্রমণ করে, কখনও মৌখিক, কখনও শারীরিক এবং অনেক সময় সেটা পরিবার ও সমাজ পর্যন্ত গড়ায়। ঢাকা শহরে তো বটেই ঢাকার বাইরেও নারীকে এই পোশাকের জন্য আক্রমণের শিকার হওয়ার ঘটনা আকছার ঘটে এবং ঘটছে। এই ভীতি নারীকে ঘরবন্দি করেতো বটেই, বরং নারীর শিক্ষাদীক্ষা এবং পেশাজীবী হয়ে ওঠার ক্ষেত্রেও বিশাল প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করে। এদেশে নারীর ক্ষমতায়ন হয়েছে বলে আমরা মাঝে মাঝেই আনন্দ করি কিন্তু ক্ষমতায়নের পথে এই পোশাক-রাজনীতি যে কত ভয়ংকর একটি বাধা তা এদেশের নারীমাত্রই জানা আছে। এখানে পুরুষের পক্ষে এর গভীরতা অনুধাবন মোটেও সম্ভব নয়।

উপজেলা কিংবা জেলা শহরে জন্ম নিয়ে রাজধানী শহর পর্যন্ত আসতে একজন নারীকে কতটা মূল্য চুকাতে হয় তা জানা থাকলে পুরুষ মাত্রেরই লজ্জা পাওয়ার কথা, কিন্তু সে লজ্জা পুরুষের যেমন নেই তেমনি আমরা দেখতে পাই যে, পুরুষতন্ত্রের নর্দমার মধ্যে বড় হওয়া নারীর মধ্যেও সে লজ্জাবোধ তৈরি হয়নি। পুরুষের বেঁধে দেওয়া গণ্ডির ভেতর নিজে যেমন ঢুকে বসে আছে তেমনই অন্যকেও টেনে নিতে চায় এসব নারীরা। তারা এটা বুঝতে চান না যে, তিনি বাধ্য হয়েই হোক কিংবা স্বেচ্ছায়ই হোক যে পোশাকটি তিনি পরেছেন সেটা যেমন তার ‘চয়েস’ কিংবা সম্প্রতি আদালতের দেওয়া নির্দেশমতে তার ‘অধিকার বা স্বাধীনতা’ তেমনই পাশের নারীটি যা পরেছেন সেটাও সেই নারীর ‘চয়েস’, অধিকার কিংবা স্বাধীনতা।

তিনি যদি হিজাব পরার জন্য আক্রান্ত না হতে চান তাহলে তার মতে ‘অশালীন’ বা ‘খোলামেলা’ পোশাক পরিহিতা নারীটিরও অধিকার আছে এগুলো পরে নিশ্চিন্তে চলাফেরার। পোশাকের জন্য কোনো পক্ষই যদি কারও দ্বারা আক্রান্ত হন তাহলে সেটা ফৌজদারি অপরাধ এবং রাষ্ট্রের প্রচলিত আইনেই তার জন্য শাস্তির বিধান রয়েছে। এটুকু বুঝলেই কিন্তু নরসিংদীর মতো ঘটনা এদেশে আর ঘটবে না কোনোদিন। প্রশ্ন হলো, এদেশের পোশাক-রাজনীতি কিংবা ধর্মভিত্তিক রাজনীতি কিংবা পুরুষতন্ত্রের জঠরে বেড়ে ওঠা নারী-পুরুষরা সেটা বুঝবেন কি না। বুঝলে ভালো, না বুঝলে মার্জিয়ার মতো আইনি শাস্তির জন্য প্রস্তুতি নিয়ে রাখাও উচিত হবে তাদের।

ঢাকা ৬ জুন, সোমবার ২০২২
লেখক: সাংবাদিক, কলামিস্ট।
[email protected]


আরও খবর



শেনচৌ-১৪: চীনা মহাকাশকেন্দ্র পূর্ণাঙ্গ করার মিশন

প্রকাশিত:Saturday ১১ June ২০২২ | হালনাগাদ:Tuesday ২৮ June ২০২২ | ৫৪জন দেখেছেন
Image

চীনের নির্মাণাধীন মহাকাশকেন্দ্রের চীনা নাম ‘থিয়ানকং’, বাংলায় যার অর্থ ‘স্বর্গীয় প্রাসাদ’। আর এর মূল অংশের নাম ‘থিয়ানহ্য’, যার অর্থ ‘স্বর্গের ঐকতান’। চীন থিয়ানহ্য-কে মহাশূন্যে পাঠায় ২০২১ সালের ২৯শে এপ্রিল। সেটি তখন থেকেই পৃথিবীপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার উপরে নির্দিষ্ট কক্ষপথে ঘুরছে। থিয়ানহ্য লম্বায় ১৬.৬ মিটার এবং এর ব্যাস ৪.২ মিটার। এর ওজন ১৫টি প্রমাণ আকৃতির মোটরগাড়ির সমান।

থিয়েনহ্য-কে তৈরি করা হয়েছে এমনভাবে, যাতে নভোচারীরা তুলনামূলকভাবে আরামে দীর্ঘকাল সেখানে অবস্থান করতে ও বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাতে পারেন। তাদের জন্য সেখানে আছে প্রায় ৫০ ঘনমিটার বিচরণস্থল। মহাকাশকেন্দ্রের সকল অংশ সংযুক্ত হয়ে গেলে বিচরণস্থল আরও বেড়ে দাঁড়াবে ১১০ ঘনমিটারে। এর মানে, তখন নভোচারীরা ১১০ ঘনমিটার জায়গা নিজেদের কাজে ব্যবহার করতে পারবেন।

মহাকাশকেন্দ্রটি পূর্ণাঙ্গ করার কাজ শেষ হবে চলতি বছরেই। পরিকল্পনা অনুসারে, আগামী জুলাই মাসে ‘ওয়েনথিয়ান’ এবং অক্টোবর মাসে ‘ম্যংথিয়ান’ নামক দুটি মহাকাশ-গবেষণাগার মহাকাশে পাঠানো হবে। এই দুটি মহাকাশ-গবেষণাগার ‘থিয়ানহ্য’-র সঙ্গে সংযুক্ত হলেই শেষ হবে চীনের নিজস্ব মহাকাশকেন্দ্র নির্মাণের কাজ। গোটা কেন্দ্রটি তখন নেবে ল্যাটিন বর্ণ ‘T’-এর আকৃতি।

থিয়ানহ্য মহাকাশের নির্দিষ্ট কক্ষপথে স্থাপিত হবার পর এখন পর্যন্ত চীনের ৬টি মহাকাশযান বিভিন্ন সময়ে এর সঙ্গে সংযুক্ত হয়েছে। ২০২১ সালের ৩০শে মে সংযুক্ত হয় মালবাহী মহাকাশযান ‘থিয়ানচৌ ২’। এটি নভোচারীদের জন্য পৃথিবী থেকে প্রয়োজনীয় রসদ নিয়ে গিয়েছিল। এরপর একই বছরের ১৭ই জুন মানববাহী মহাকাশযান ‘শেনচৌ ১২’-এ চড়ে মহাকাশকেন্দ্রের মূল অংশে যান তিন জন চীনা নভোচারী। সেখানে তাঁরা তিন মাস অবস্থান করেন। ২০২১ সালের ২০শে সেপ্টেম্বর থিয়ানহ্য-তে সংযুক্ত হয় মালবাহী মহাকাশযান ‘থিয়ানচৌ ৩’। এরপর একই বছরের ১৬ই অক্টোবর নতুন তিন নভোচারী নিয়ে থিয়ানহ্য-র সঙ্গে যুক্ত হয় ‘শেনচৌ ১৩’।

এবার তিন নভোচারী (একজন নারীসহ) সেখানে অবস্থান করেন ৬ মাস। ২০২২ সালের এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ে নিজেদের দায়িত্বপালনশেষে তাঁরাও পৃথিবীতে ফিরে আসেন। তাঁদের ফেরার পর ২০২২ সালের ১০ই মে মহাকাশের মূল অংশের সঙ্গে সংযুক্ত হয় ‘থিয়ানচৌ ৪’ নামক আরেকটি মালবাহী মহাকাশযান। আর চলতি বছরের অর্থাৎ ২০২২ সালের ৫ই জুন নতুন তিন নভোচারী নিয়ে থিয়ানহ্য-র সঙ্গে যুক্ত হয় মানববাহী মহাকাশযান ‘শেনচৌ ১৪’।

jagonews24

এই মুহূর্তে চীনের মহাকাশকেন্দ্রের মূল অংশের সঙ্গে সংযুক্ত আছে শেনচৌ-১৪ মানববাহী মহাকাশযান এবং থিয়ানচৌ-৩ ও থিয়ানচৌ-৪ মালবাহী মহাকাশযানদ্বয়। কিন্তু যখন চলতি বছরের শেষ দিকে মহাকাশকেন্দ্রের নির্মাণকাজ সম্পূর্ণ হবে, তখন থিয়ানহ্য-র সঙ্গে যুক্ত থাকবে দুটি মহাকাশ-গবেষণাগার, শেনচৌ-১৪ মানববাহী মহাকাশযান, শেনচৌ-১৫ মানববাহী মহাকাশযান (যেটি নতুন তিন জন নভোচারী নিয়ে চলতি বছরের শেষ দিকে মহাকাশকেন্দ্রে যাবে), এবং থিয়ানচৌ-৫ মালবাহী মহাকাশযান (যেটিও চলতি বছরের শেষ দিকে মহাকাশে পাঠানো হবে)।

চীনের নির্মাণাধীন মহাকাশকেন্দ্রকে পূর্ণাঙ্গ রূপ দেওয়ার প্রক্রিয়ায় শেনচৌ-১২ ও শেনচৌ-১৩ নভোচারীরা নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করেছেন। এখন চূড়ান্ত পর্যায়ের কাজ শেষ করার দায়িত্ব বর্তেছে শেনচৌ-১৪ নভোচারীদের ওপর। তাদের কাজ আগের নভোচারীদের চেয়ে কঠিন ও চ্যালেঞ্জিং হবে, তা বলাই বাহুল্য। তাদেরকে থিয়ানহ্য-র সাথে দুটি বিশাল আকৃতির মহাকাশ-গবেষণাগারের সংযুক্তি যেমন তদারকি করতে হবে, তেমনি এসব গবেষণাগারের মধ্যে বেশকিছু জটিল যন্ত্রপাতি ইন্সটল করতে হবে। সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মহাকাশকেন্দ্রের এই তিন নভোচারীকে একাধিক ‘টেকনিক্যাল’ অনিশ্চয়তাও মোকাবিলা করতে হতে পারে।

নিজের মহাকাশকেন্দ্রের চূড়ান্ত পর্যায়ের জটিল ও কঠিন কাজ আঞ্জাম দেওয়ার জন্য চীন যে তিন নভোচারীর ওপর আস্থা রেখেছে, তাদের সম্পর্কে সংক্ষেপে কিছু না-বললেই নয়। তিন জনই চীনের দ্বিতীয় প্রজন্মের নভোচারী। এর মধ্যে শেনচৌ-১৪ মিশনের কমান্ডার হচ্ছেন ৪৩ বছর বয়সী সিনিয়র কর্নেল ছেন তুং। তিনি চীনা গণমুক্তি ফৌজের বিমানবাহিনীতে বৈমানিক হিসেবে যোগ দেন ১৯৯৭ সালের অগাস্টে। ২০১০ সালের মে মাসে তাঁকে গণমুক্তি ফৌজের নভোচারী ডিভিশনের জন্য বাছাই করা হয়। ২০১৬ সালের অক্টোবরে শেনচৌ-১১ মিশনের অন্যতম নভোচারী হিসেবে ৩৩ দিন মহাকাশে কাটান তিনি। ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে তাকে শেনচৌ-১৪ মিশনের জন্য বাছাই করা হয়।

শেনচৌ-১৪ মিশনের একমাত্র নারী নভোচারী সিনিয়র কর্নেল লিউ ইয়াং। তাঁর বয়সও ৪৩। তিনিও ১৯৯৭ সালে গণমুক্তি ফৌজের বিমানবাহিনীতে যোগ দেন এবং ২০১০ সালের মে মাসে ফৌজের নভোচারী ডিভিশনে নিয়োগ পান। তিনি ২০১২ সালের জুনে শেনচৌ-৯ মিশনের অন্যতম নভোচারী হিসেবে মহাকাশে ১৩ দিন কাটান। তিনিই চীনের প্রথম নারী নভোচারী। ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে তাকে শেনচৌ-১৪ মিশনের জন্য মনোনীত করা হয়।

শেনচৌ-১৪ মিশনে তুলনামূলকভাবে বেশি বয়সের নভোচারী হলেন সিনিয়র কর্নেল ছাই সুচ্য। তার বয়স ৪৬। তিনি ১৯৯৫ সালের সেপ্টেম্বরে গণমুক্তি ফৌজের বিমানবাহিনীতে যোগ দেন এবং ২০১০ সালের মে মাসে ফৌজের নভোচারী ইউনিটের সদস্য হন। ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে তাকে শেনচৌ-১৪ মিশনের সদস্য নির্বাচন করা হয়। ছাই এবারই প্রথম মহাকাশে গেলেন। ঘটনাচক্রে তিনি হলেন মহাকাশ সফরকারী ১৪তম চীনা নভোচারী।

jagonews24

যা বলছিলাম, দ্বিতীয় প্রজন্মের এই তিন তরুণ নভোচারীর ওপর বর্তেছে চীনের নিজস্ব মহাকাশকেন্দ্র গড়ে তোলার চূড়ান্ত পর্যায়ের কাজ আঞ্জাম দেওয়ার দায়িত্ব। আগামী ৬ মাস তাঁরা মহাকাশে অবস্থান করবেন এবং তাদের ওপর অর্পিত এই গুরুদায়িত্ব পালন করবেন। আর দায়িত্বের অংশ হিসেবেই তাঁরা পৃথিবীর নিয়ন্ত্রণকক্ষের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে মহাকাশকেন্দ্রের মূল অংশের সাথে দুটি মহাকাশ-গবেষণাগারের সংযুক্তির কাজ তদারকি করবেন; একটি রোবট বাহু ব্যবহার করে গবেষণাগার দুটিকে তাদের জন্য নির্ধারিত স্থায়ী অবস্থানে নিয়ে আসবেন; অনেকগুলো জটিল যন্ত্রপাতি ইনস্টল ও কনফিগার করবেন; বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক গবেষণা চালাবেন; থিয়ানকং মহাকাশকেন্দ্রকে সচল রাখতে সব ধরনের রুটিন কাজ করবেন; দুই থেকে তিন বার মহাকাশে পদচারণা করবেন; এবং পৃথিবীর শিক্ষার্থীদের জন্য মহাকাশ থেকে সরাসরি লেকচার সেশান পরিচালনা করবেন।

মহাকাশকেন্দ্রের মূল অংশে শেনচৌ-১২ ও শেনচৌ-১৩ মিশনের নভোচারীদের দেখা-সাক্ষাৎ হয়নি। কারণ, প্রথম গ্রুপের নভোচারীরা পৃথিবীতে ফিরে আসার পর দ্বিতীয় গ্রুপের নভোচারীরা মহাকাশকেন্দ্রে গেছেন। শেনচৌ-১৩ ও শেনচৌ-১৪ মিশনের নভোচারীদের মধ্যেও মহাকাশকেন্দ্রের মূল অংশে দেখা হয়নি। কারণ একই। কিন্তু শেনচৌ-১৪ মিশনের তিন নভোচারীর সঙ্গে শেনচৌ-১৫ মিশনের তিন নভোচারীর দেখা হবে সম্পূর্ণভাবে তৈরি হয়ে যাওয়া মহাকাশকেন্দ্রে। শেনচৌ-১৪ মিশনের নভোচারীরা শেনচৌ-১৫ মিশনের নভোচারীদের হাতে বুঝিয়ে দেবেন পূর্ণাঙ্গ মহাকাশকেন্দ্র। এর মানে, কয়েকদিনের জন্য হলেও, চীনের মহাকাশকেন্দ্রে প্রথমবারের মতো একসঙ্গে অবস্থান করবেন ৬ জন নভোচারী। এরপর চলতি বছরের ডিসেম্বরে পৃথিবীতে ফিরে আসবেন ছেন তুং, লিউ ইয়াং, ও ছাই সুচ্য।

এই তিন নভোচারী পৃথিবীতে ফিরে আসার পর চীনের মহাকাশ-গবেষণা খাতে শুরু হবে এক নতুন দশকের। পরিকল্পনা অনুসারে, আগামী দশ বছরের মধ্যে এমন একদিনও যাবে না, যখন চীনের কোনো নভোচারী মহাকাশে অবস্থান করবেন না। প্রতি ৬ মাস অন্তর মহাকাশকেন্দ্রে নভোচারীর পরিবর্তন ঘটবে। তিন নভোচারীর নতুন গ্রুপ সেখানে গিয়ে তিন নভোচারীর পুরাতন গ্রুপের কাছ থেকে দায়িত্ব বুঝে নেবে। এভাবে চলবে আগামী ১০ বছর। অবশ্য, বিশেষ পরিস্থিতিতে এর ব্যতিক্রম ঘটতে পারে, যদিও তেমন আশঙ্কা খুবই কম।

এখানে আমি ১০ বছরের হিসাব দিলাম বটে, তবে চীনা মহাকাশকেন্দ্র থিয়ানকং-এর আয়ু কিন্তু কমপক্ষে ১৫ বছর। এই ১৫ বছরে মহাকাশকেন্দ্রে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির বিভিন্ন দিক নিয়ে অনেক উঁচু দরের গবেষণা হবে। মহাকাশকেন্দ্রে থাকছে ২৫টি বৈজ্ঞানিক ইকুইপমেন্ট ক্যাবিনেট। প্রতিটি ক্যাবিনেট একেকটি মিনি ল্যাবের মতো। ওয়েনথিয়ান মহাকাশ-গবেষণাগারে যেসব ক্যাবিনেট থাকবে, সেগুলোতে মূলত জীববিজ্ঞানমূলক গবেষণা হবে। মহাকাশের ভিন্ন পরিবেশে বিভিন্ন উদ্ভিদ ও প্রাণীর বেড়ে ওঠা, বার্ধক্যে উপনীত হওয়া, এবং তাদের জেনেটিক বৈশিষ্ট্য নিয়ে এসব মিনি ল্যাবে কাজ করবেন নভোচারীরা।

jagonews24

আর মেংথিয়ান মহাকাশ-গবেষণাগারের বিভিন্ন ক্যাবিনেট মূলত ব্যবহৃত হবে মাইক্রোগ্র্যাভিটি নিয়ে গবেষণার কাজে। এই গবেষণাগারে তরল পদার্থবিদ্যা (fluid physics), উপকরণ বিজ্ঞান (metarials science), দহন বিজ্ঞান (combustion science), ও মৌলিক পদার্থবিদ্যাসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানো হবে। চীনের মহাকাশকেন্দ্রে একটি অত্যাধুনিক পারমাণবিক ঘড়িও থাকবে, যা কোয়ান্টাম বলবিদ্যা নিয়ে গবেষণা করতে বিজ্ঞানীদের সাহায্য করবে। বলা হচ্ছে, এটি হবে মানুষের তৈরি সময় মাপার সবচেয়ে নিখুঁত যন্ত্র।

অ্যারোস্পেস নলেজ (Aerospace Knowledge) ম্যাগাজিনের এডিটর-ইন-চিফ ওয়াং ইয়া’নান বলেছেন, মহাকাশকেন্দ্র গড়ে তোলা ও তা সঠিকভাবে পরিচালনা করার সামর্থ্য একটি দেশের মহাকাশ-গবেষণায় অনেকদূর এগিয়ে যাওয়ার প্রতীক। মঙ্গলের বুকে রোভার নামানো থেকে শুরু করে মহাকাশে নিজস্ব মহাকাশকেন্দ্র গড়ে তোলার মাধ্যমে চীন আন্তর্জাতিক মহাকাশ-গবেষণায় নিজেকে শীর্ষ পর্যায়ে নিয়ে গেছে।

ওয়াং ইয়া’নান যথার্থই বলেছেন। এই অর্জনের জন্য অবশ্য চীন ওয়াশিংটনকে খানিকটা ধন্যবাদ দিতে পারে। আন্তর্জাতিক মহাকাশকেন্দ্র প্রকল্পে চীন যোগ দিতে চেয়েছিল। কিন্তু ওয়াশিংটনের আপত্তির কারণেই সেটা সম্ভব হয়নি। তখন বাধ্য হয়েই চীন একা একা একটি মহাকাশকেন্দ্র গড়ে তোলার বিশাল পরিকল্পনা হাতে নেয়। সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ এখন শেষ হবার পথে।

চীনের দ্বিতীয় প্রজন্মের তিন নভোচারী ইতোমধ্যেই মহাকাশকেন্দ্র নির্মাণের শেষ পর্যায়ের কাজ শুরু করে দিয়েছেন। মহাকাশ-গবেষণায় এখন পর্যন্ত চীনের যে-সাফল্য আমরা দেখেছি, তাতে কোনো দ্বিধা ছাড়াই বলা চলে যে, ডিসেম্বরের মধ্যেই থিয়ানকং তার পূর্ণাঙ্গ চেহারা নিয়ে মহাকাশে ভাসতে থাকবে। তখন সেখানে শুধু চীনা নভোচারীরা নন, বিদেশি নভোচারী ও বিজ্ঞানীরাও কাজ করার সুযোগ পাবেন। চীনের পক্ষ থেকে এমন প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে অনেক আগেই।

লেখক: বার্তাসম্পাদক, চায়না মিডিয়া গ্রুপ (সিএমজি), বেইজিং।
[email protected]


আরও খবর



বন্যায় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন সিলেট, দুঃখ প্রকাশ প্রতিমন্ত্রীর

প্রকাশিত:Friday ১৭ June ২০২২ | হালনাগাদ:Tuesday ২৮ June ২০২২ | ৩৯জন দেখেছেন
Image

সিলেটের বন্যাকবলিত এলাকায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ।

শুক্রবার (১৭ জুন) জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়।

সিলেটের ছাতক ও সুনামগঞ্জ গ্রিড উপকেন্দ্র পাহাড়ি ঢলে প্লাবিত হওয়ায় দুর্ঘটনা এড়াতেই বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করা হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, সিলেটের কুমারগাঁও গ্রিড উপকেন্দ্রের সুইচইয়ার্ড প্লাবিত হওয়ায় সিলেট অঞ্চলও বিদ্যুৎ বন্ধের ঝুঁকিতে রয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ সাময়িক এ অসুবিধার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে সিলেট অঞ্চলের বিদ্যুৎ গ্রাহকদের ধৈর্য্য ধরার অনুরোধ করেছেন।

তিনি জানান, বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হওয়া মাত্র পুনরায় বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু করা হবে। বিষয়টি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে সম্মানিত বিদ্যুৎ গ্রাহকদের অনাকাঙ্ক্ষিত এ অসুবিধার জন্য বিদ্যুৎ বিভাগও দুঃখ প্রকাশ করছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য মনিটরিং টিম গঠন করা হয়েছে।


আরও খবর



এনআরবিসি ব্যাংকে ১৫ শতাংশ ডিভিডেন্ট অনুমোদন

প্রকাশিত:Thursday ০২ June 2০২2 | হালনাগাদ:Friday ২৪ June ২০২২ | ৪৬জন দেখেছেন
Image

এনআরবি কমার্শিয়াল (এনআরবিসি) ব্যাংকের ৯ম বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২ জুন) ব্যাংকের চেয়ারম্যান এসএম পারভেজ তমালের সভাপতিত্বে জুমে অনুষ্ঠিত এ সভায় পরিচালক, উদ্যোক্তা ও শেয়ারহোল্ডাররা অংশ নেন।

এজিএমে ২০২১ সালের জন্য ১৫ শতাংশ লভ্যাংশ অনুমোদন করেন শেয়ারহোল্ডাররা। এর মধ্যে নগদ লভ্যাংশ সাড়ে ৭ শতাংশ এবং স্টক ডিভিডেন্ট সাড়ে ৭ শতাংশ। সভা গত বছরে নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন ও ডাইরেক্টরস রিপোর্টসহ সব এজেন্ডা উপস্থাপন ও অনুমোদন করা হয়।

আর্থিক প্রতিবেদনের তথ্যানুসারে, ব্যাংকের আমানত ২০২১ সালের ডিসেম্বর শেষে ২৭ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২ হাজার ৮২ কোটি টাকা। আগের বছর যা ছিল ৯ হাজার ৫৩১ কোটি টাকা। ঋণের পরিমাণ ৭ হাজার ৪৮৩ কোটি টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ১০ হাজার ৪৯০ কোটি টাকা। ঋণের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৪০ শতাংশ। বছর শেষে পরিচালন মুনাফা ৪০৫ কোটি এবং নিট মুনাফা দাঁড়িয়েছে ২০৮ কোটি টাকা। মুনাফা বেড়েছে ৩২ শতাংশেরও বেশি। শেয়ার প্রতি আয় দাঁড়িয়েছে ২ টাকা ৮৩ পয়সা। মূলধন সংরক্ষণের হার ১৩ দশমিক ৪৫ শতাংশে উন্নীত করে আর্থিক শক্তিমত্তার পরিচয় দিয়েছে ব্যাংকটি।

এছাড়া গত বছরে ব্যাংকটির মাধ্যমে আমদানি হয়েছে ৪ হাজার ২৩৭ কোটি টাকার, রপ্তানি হয়েছে ৩ হাজার ৬৫ কোটি টাকার ও রেমিট্যান্স এসেছে ১ হাজার ৮২ কোটি টাকা। ব্যাংকটি তার কার্যক্রম গ্রাম-বাংলায় ছড়িয়ে তথ্যপ্রযুক্তির সর্বোত্তম ব্যবহার করেছে। এতে একদিকে সেবার প্রসার যেমন ঘটেছে তেমনি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হয়েছে। নিজেদের এসব কর্মকাণ্ডের স্বীকৃতি স্বরূপ ‘সাউথ এশিয়ান বিজনেস এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড’ ও ‘আরটিভি কৃষি পদক’ অর্জন করেছে এনআরবিসি ব্যাংক।

এজিএমে পরিচালক, শেয়ারহোল্ডার, গ্রাহক ও বিনিয়োগকারীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে ব্যাংকের চেয়ারম্যান এসএম পারভেজ তমাল বলেন, এনআরবিসি ব্যাংক গ্রাম-বাংলার মানুষের জন্য কাজ করছে। প্রান্তিক মানুষের ভাগ্যোন্নয়নে উপ-শাখা ও পার্টনারশিপ ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে স্বল্প সুদে বিনা জামানতে ঋণ বিতরণ করছে। ক্ষুদ্রঋণ চালু করে এরই মধ্যে ২৬ হাজার মানুষের মধ্যে ১ হাজার কোটি টাকারও বেশি ঋণ বিতরণ করছে।

তিনি বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সোনার বাংলা বাস্তবায়নে কাজ করছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রীর উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে কাজ করছে এনআরবিসি ব্যাংক। সরকারের সেবামূলক কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকতে আমরা সরকারি ভূমি রেজিস্ট্রশন অফিস, বিআরটিএ, পল্লী বিদ্যুৎ, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরসহ সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি এসকেএসের মতো এনজিও ও গ্রামীণফোনের সঙ্গে কাজ করছি। বৈশ্বিকদাতা সংস্থা অক্সফামের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ শুরু করেছি আমরা। এনআরবিসি ব্যাংক মানুষের আস্থার প্রতীক হয়ে দাঁড়াবে। তথ্যপ্রযুক্তির সর্বোত্তম ব্যবহার করে সুশাসন ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে সেই লক্ষেই কাজ করে যাচ্ছি।

ব্যাংকের এমডি গোলাম আউলিয়া বলেন, প্রবাসী উদ্যোক্তাদের স্বপ্নের এনআরবিসি ব্যাংক আজ গ্রাম-বাংলার মানুষের ব্যাংক। দেশের উন্নয়ন ও সরকারি কাজের সঙ্গে অংশীদারত্বের একটি ব্যাংক। অর্থায়নের মাধ্যমে কর্মসংস্থান ও নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টির মাধ্যমে প্রান্তিক মানুষের ভাগ্যোন্নয়নে এগিয়ে যাচ্ছে এনআরবিসি ব্যাংক।

এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন ব্যাংকের ভাইস চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম মিয়া আরজু, পরিচালক মোহাম্মদ আদনান ইমাম, এএম সাইদুর রহমান, মোহাম্মদ অলিউর রহমান, আবু বকর চৌধুরী, লকিয়ত ঊল্লাহ, মোহাম্মদ নাজিম, একেএম মোস্তাফিজুর রহমান, স্বতন্ত্র পরিচালক এয়ার চিফ মার্শাল (অব) আবু এশরার, ড. খান মোহাম্মদ আব্দুল মান্নান, রাদ মজিব লালন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী গোলাম আউলিয়া, এএমডি কাজী মো. তালহা, ডিএমডি ও সিএফও হারুনুর রশীদ ও কোম্পানি সচিব মো. রিয়াজ উদ্দিন আসিফ প্রমুখ।


আরও খবর



নেত্রকোনার ৭০০ বানভাসির পাশে ময়মনসিংহ ছাত্রলীগ

প্রকাশিত:Friday ২৪ June ২০২২ | হালনাগাদ:Tuesday ২৮ June ২০২২ | ২৪জন দেখেছেন
Image

বন্যাকবলিত নেত্রকোনার পানিবন্দিদের পাশে দাঁড়িয়েছে ময়মনসিংহ জেলা ছাত্রলীগ। বানভাসি ৭০০ মানুষের কাছে ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দিচ্ছে সংগঠনটি।

ত্রাণসামগ্রীর মধ্যে রয়েছে মুড়ি, চিড়া, চিনি, লাইটার, মোমবাতি, বিস্কুট, বিশুদ্ধ পানি, প্রয়োজনীয় ওষুধ ও গুঁড়া দুধ।

শুক্রবার (২৪ জুন) সকালে খাদ্য সহায়তা নিয়ে নেত্রকোনার মদন উপজেলার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন সংগঠনটির নেতাকর্মীরা।

ময়মনসিংহ জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আল আমিন বলেন, মদন উপজেলার বানভাসি ৭০০ মানুষের কাছে এ ত্রাণ সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হবে। প্রয়োজনে আবারও বানভাসিদের সহায়তায় জেলা ছাত্রলীগ তাদের পাশে দাঁড়াবে।


আরও খবর



ঝড়ের কবলে হাওরে নৌকাডুবি, তিন যাত্রী নিখোঁজ

প্রকাশিত:Monday ১৩ June ২০২২ | হালনাগাদ:Monday ২৭ June ২০২২ | ৩১জন দেখেছেন
Image

কিশোরগঞ্জের ইটনায় ঝড়ের কবলে পড়ে ইঞ্জিনচালিত নৌকা ডুবে তিন যাত্রী নিখোঁজ হয়েছেন।

সোমবার (১৩ জুন) দুপুরের দিকে ইটনা উপজেলার সহিলা হাওরে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিখোঁজদের উদ্ধারে কাজ করছে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, তাড়াইল উপজেলার দামিহা এলাকা থেকে গাছের ডাল বোঝাই একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকা ইটনা উপজেলার ধনপুর যাচ্ছিল। দুপুর ১টার দিকে ইটনা উপজেলার সহিলা-ধনপুর হাওরের মাঝামাঝি স্থানে ঝড়ের কবলে পড়ে নৌকাটি ডুবে যায়। এসময় নৌকার দুই যাত্রী সাঁতরে তীরে উঠতে পারলেও হাওরের পানিতে ডুবে নিখোঁজ হন অপর তিনজন।

নিখোঁজরা হলেন- তাড়াইলের দামিহা ইউনিয়নের দামিহাহাটি গ্রামের মো. মাসুদ মিয়া (২৫), করিমগঞ্জের হালগড়া গ্রামের সিরাজ উদ্দিন (৩৫) ও করিমগঞ্জের হালগড়া গ্রামের ওয়াসিম (৪২)।

Kishoreganj

খবর পেয়ে ইটনা থানা পুলিশ স্থানীয়দের সহায়তায় উদ্ধার অভিযান শুরু করে। কিন্তু প্রবল ঢেউ থাকায় ডুবে যাওয়া নৌকাটি চিহ্নিত করা যাচ্ছে না। এখন পর্যন্ত নিখোঁজ যাত্রীদের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

ইটনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামরুল ইসলাম মোল্লা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ডুবে যাওয়া নৌকা ও নিখোঁজদের উদ্ধারে অভিযান চলছে। তবে হাওরে প্রবল স্রোত থাকায় উদ্ধার অভিযান ব্যাহত হচ্ছে।


আরও খবর