Logo
আজঃ Monday ০৮ August ২০২২
শিরোনাম
রূপগঞ্জে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে ডিজিটাল সনদ ও জাতীয় পরিচয়পত্র বিতরণ কাউন্সিলর সামসুদ্দিন ভুইয়া সেন্টু ৬৫ নং ওয়ার্ডে ভোটার তালিকা হালনাগাদ কর্মসুচীতে অংশগ্রহন করেন চান্দিনা থানায় আট কেজি গাঁজাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার নাসিরনগরে ছাত্রদলের বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ নাসিরনগর বাজারে থানা সংলগ্ন আব্দুল্লাহ মার্কেটে দুই কাপড় দোকানে দুর্ধষ চুরি। ই প্রেস ক্লাব চট্রগ্রাম বিভাগীয় কমিটির মতবিনিময় সম্পন্ন ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ৬ কেজি গাঁজাসহ হাইওয়ে পুলিশের হাতে আটক এক। সোনারগাঁয়ে পুলিশ সোর্স নাম করে ডাকাত শাহ আলমের কান্ড নিখোঁজ সংবাদ প্রধানমন্ত্রীর এপিএসের আত্মীয় পরিচয়ে বদলীর নামে ঘুষ বানিজ্য

গঠিত হলো ‘জাতীয় সাংবাদিক ঐক্য’, উপদেষ্টা জি এম কাদের

প্রকাশিত:Tuesday ২৮ June ২০২২ | হালনাগাদ:Monday ০৮ August ২০২২ | ৬২জন দেখেছেন
Image

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও বিরোধীদলীয় উপনেতা গোলাম মোহাম্মদ (জি এম) কাদেরকে প্রধান উপদেষ্টা, খন্দকার দেলোয়ার জালালীকে আহ্বায়ক ও মিজান আহমেদকে সদস্য সচিব করে গঠিত হয়েছে জাতীয় সাংবাদিক ঐক্য (এনইউজে)।

মঙ্গলবার (২৮ জুন) দুপুরে রাজধানীর বনানীর একটি মিলনায়তনে উপস্থিত সাংবাদিকদের মতামতের ভিত্তিতে এনইউজের আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়।

পরে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সাংবাদিকদের ঐক্য, পেশাগত দক্ষতা উন্নয়ন ও দাবি আদায়ের সংগ্রামে অংশ নেওয়ার প্রত্যয়ে এনইউজে গঠিত হয়েছে।

আহ্বায়ক হিসেবে নতুনবাংলা২৪-এর খন্দকার দেলোয়ার জালালী ও সদস্য সচিব হিসেবে এসএ টিভির মিজান আহমেদ দায়িত্ব দেওয়ার পাশাপাশি আরও কয়েকজনকে কমিটি স্থান দেওয়া হয়েছে।

এর মধ্যে যুগ্ম আহ্বায়ক হয়েছেন রীনা আকতার তুলি (দৈনিক যুগান্তর), কাজী রফিক (ঢাকা মেইল), কামরুল হাসান শিশির (দৈনিক স্বাস্থ্য শিক্ষা) ও মোহসীন কবির (টিবিএন২৪)।

সদস্য হয়েছেন সালাহউদ্দিন চৌধুরী (দৈনিক বাংলাদেশের খবর), বেলাল হোসেন রাজু (ঢাকা মেইল), তাইফুর রহমান তুহিন (এসএটিভি), মোস্তাফিজুর রহমান (দৈনিক ইত্তেফাক), মহিবুল কাদের, রাজু মাহমুদ (মাইটিভি), শরিফুল সাগর (আরটিভি), আবু জাফর মো. সালেহ (ঢাকা মেইল), আব্দুল কাইয়ুম (যুগান্তর), কামরুল হাসান (মানবজমিন, সাভার), আহমেদ সোহান সিরাজী (ঢাকা মেইল, সাভার), রেজাউল ইসলাম বাবু (এসএটিভি, রংপুর), আশিকুর রহমান ডিফেন্স (এসএটিভি, লালমনিরহাট), জাকির মাহমুদ সেলিম (মানবকণ্ঠ, পটুয়াখালী), মুজাহিদুল ইসলাম নান্নু, (গ্লোবালটিভি, পটুয়াখালী) ও রিপন মাহমুদ (নতুনবাংলা২৪)।


আরও খবর



ঢাকায় ভারতের নতুন হাইকমিশনার প্রণয় কুমার ভার্মা

প্রকাশিত:Friday ২৯ July ২০২২ | হালনাগাদ:Saturday ০৬ August ২০২২ | ২২জন দেখেছেন
Image

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে আগেই আভাস মিলেছিলো। শেষ পর্যন্ত সেই খবরই সত্যি হলো। ঢাকায় ভারতের নতুন হাইকমিশনার হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন প্রণয় কুমার ভার্মা। বর্তমানে নিযুক্ত হাইকমিশনার বিক্রম দোরাইস্বামীর স্থলাভিষিক্ত হলেন তিনি।

শুক্রবার (২৯ জুলাই) ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে প্রণয় কুমারকে নিয়োগের এ কথা জানায়। এতে বলা হয়, প্রণয় কুমার শিগগির ঢাকায় নতুন দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।

প্রণয় কুমার বর্তমানে ভিয়েতনামে ভারতের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। ২০১৯ সালের ২৫ জুলাই সেখানে নিযুক্ত হওয়ার আগে তিনি ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পূর্ব এশিয়া বিভাগের মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তারও আগে, ভারতের পরমাণু কূটনীতিক হিসেবে অ্যাটমিক এনার্জিতে কাজ করেন তিনি।

১৯৯৪ সালে ফরেন সার্ভিসে যোগ দেওয়ার পর ভারতীয় কূটনীতিক হিসেবে প্রণয় কুমার হংকং, সানফ্রানসিস্কো, ওয়াশিংটন ডিসি ও কাঠমান্ডুতেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

অন্যদিকে, বিক্রম দোরাইস্বামীর নতুন কর্মস্থল হচ্ছে যুক্তরাজ্য। সেখানে ভারতের হাইকমিশনার পদে দায়িত্ব পালন করবেন তিনি। ২০২০ সালের ৫ অক্টোবর ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনার হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন বিক্রম দোরাইস্বামী।


আরও খবর



মুগদায় নির্মাণাধীন ভবন থেকে পড়ে শ্রমিকের মৃত্যু

প্রকাশিত:Wednesday ০৩ August ২০২২ | হালনাগাদ:Monday ০৮ August ২০২২ | ২৩জন দেখেছেন
Image

রাজধানীর মুগদায় উত্তর ঝিলপার বড় মসজিদ এলাকায় একটি নির্মাণাধীন ভবনে কাজ করার সময় নিচে পড়ে মো. ইকবাল হোসেন (৩৫) নামের এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে।

বুধবার (৩ অগাস্ট) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। গুরুতর অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। এখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিকেল পৌনে ৬টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

নিহত ইকবালের সহকর্মী শফিউল ইসলাম বলেন, বিকেলে আমরা ছয়জন মুগদার উত্তর ঝিলপার বড় মসজিদ এলাকার মুজিবুর রহমানের সাততলা নির্মাণাধীন ভবনের ছয়তলায় বাইরের দিকে মাঁচান বেঁধে কাজ করছিলাম। এক পর্যায়ে নিচে পড়ে যায় ইকবাল।

তিনি বলেন, ইকবালের গ্রামের বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলায়। তার বাবার নাম সিরাজুল ইসলাম। ঢাকায় তিনি ওই ভবনেই থাকতেন। তারা দুই ছেলেমেয়ে।

ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো. বাচ্চু মিয়া জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে রাখা আছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানায় জানানো হয়েছে।


আরও খবর



মাদকবিরোধী অভিযানে গ্রেফতার ৬৫, মামলা ৫৩

প্রকাশিত:Tuesday ০২ August 2০২2 | হালনাগাদ:Saturday ০৬ August ২০২২ | ১৩জন দেখেছেন
Image

রাজধানীর বিভিন্ন থানা এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে বিক্রি ও সেবনের অভিযোগে ৬৫ জনকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) বিভিন্ন অপরাধ ও গোয়েন্দা বিভাগ।

এ সময় তাদের কাছ থেকে দুই হাজার ১০৭ পিস ইয়াবা, ৭৪ গ্রাম হেরোইন, ৬৩ কেজি ৯২০ গ্রাম গাঁজা ও ১৫০ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করা হয়।

সোমবার (১ আগস্ট) ভোর ৬টা থেকে মঙ্গলবার (২ আগস্ট) ভোর ৬টা পর্যন্ত রাজধানীর বিভিন্ন থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ৫৩টি মামলা রুজু হয়েছে।


আরও খবর



‘একদিন মানুষ জানবে সাবরিনা নিরপরাধ ছিল’

প্রকাশিত:Tuesday ১৯ July ২০২২ | হালনাগাদ:Wednesday ০৩ August ২০২২ | ৩৬জন দেখেছেন
Image

করোনার ভুয়া রিপোর্ট দেওয়ার মামলায় জেকেজি হেলথকেয়ারের চেয়ারপারসন ডা. সাবরিনা চৌধুরী ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) আরিফুল হক চৌধুরীসহ ৮ আসামির ১১ বছর করে কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত।

রায়ের প্রতিক্রিয়ায় আদালত প্রাঙ্গণে ডা. সাবরিনা চৌধুরী বলেন, আমার কোনো প্রতিক্রিয়া নেই। একটা কথাই বলবো। আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সঙ্গেই আছেন। একদিন মানুষ জানবে সাবরিনা নিরপরাধ ছিল। আমার আর কিছু বলার নেই।

এসময় এক আইনজীবী বলেন, বের হয়ে যাবেন ইনশাআল্লাহ। তখন সাবরিনা বলেন, আমি তো সেদিনই মরে গেছি। যেদিন আমাকে এখানে ঢুকানো হয়েছে। আমি বের হবো কি না সেটা বড় কথা না। বড় কথা হলো দেশবাসী জানলো আমি অপরাধী।

মঙ্গলবার (১৯ জুলাই) ঢাকার অতিরিক্ত মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট তোফাজ্জল হোসেন এ রায় ঘোষণা করেন।

রায় ঘোষণার আগে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে তাদের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে হাজির করা হয়। তাদের রাখা হয় আদালতের হাজতখানায়। পরে তাদের আদালতে ওঠানো হয়।

গত ২৯ জুন ঢাকার অতিরিক্ত মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট তোফাজ্জল হোসেন রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শেষে রায় ঘোষণার জন্য ১৯ জুলাই দিন ধার্য করেন।

এর আগে গত ১১ মে ঢাকার অতিরিক্ত মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট তোফাজ্জল হোসেনের আদালতে আত্মপক্ষ সমর্থনে আসামিরা নিজেদের নির্দোষ দাবি করে ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করেন।

গত ২০ এপ্রিল একই আদালতে সাক্ষ্য দেন মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোর্শেদ আল মামুন ভূঁইয়া। এরপর রাষ্ট্রপক্ষ সাক্ষ্যগ্রহণ সমাপ্ত ঘোষণা করে। এ মামলায় এখন পর্যন্ত ৪০ জন সাক্ষীর মধ্যে ২৬ জন বিভিন্ন সময়ে সাক্ষ্য দিয়েছেন।

মামলা সূত্রে জানা যায়, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় করোনা শনাক্তের জন্য নমুনা সংগ্রহ করে তা পরীক্ষা না করেই জেকেজি হেলথকেয়ার ২৭ হাজার মানুষকে ভুয়া রিপোর্ট দেয়। এ অভিযোগে ২০২০ সালের ২৩ জুন অভিযান চালিয়ে প্রতিষ্ঠানটি সিলগালা করে দেওয়া হয়। পরে তাদের বিরুদ্ধে তেজগাঁও থানায় মামলা করলে দুজনকে গ্রেফতার করা হয়।

২০২০ সালের ৫ আগস্ট ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে সাবরিনা ও আরিফসহ আটজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন ডিবি পুলিশের পরিদর্শক লিয়াকত আলী। চার্জশিটভুক্ত অন্য আসামিরা হলেন- আবু সাঈদ চৌধুরী, হুমায়ূন কবির হিমু, তানজিলা পাটোয়ারী, বিপ্লব দাস, শফিকুল ইসলাম রোমিও এবং জেবুন্নেসা।

চার্জশিটে সাবরিনা ও আরিফকে প্রতারণার মূলহোতা বলে উল্লেখ করা হয়। বাকিরা প্রতারণা ও জালিয়াতি করতে তাদের সহযোগিতা করেছেন বলে জানানো হয়।

একই বছরের ২০ আগস্ট ঢাকা মহানগর হাকিম সরাফুজ্জামান আনছারী আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। সেসময়ও তারা নিজেদের নির্দোষ দাবি করে ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করেন।


আরও খবর



স্কুল বন্ধ রেখে দলীয় সম্মেলন ও শিক্ষামন্ত্রীর দুঃখপ্রকাশ

প্রকাশিত:Thursday ২৮ July ২০২২ | হালনাগাদ:Sunday ০৭ August ২০২২ | ১৯জন দেখেছেন
Image

পত্রিকার পাতায় ঘুরতে ঘুরতে একটি হেডলাইনে চোখ আটকে গেল। প্রথম সারির একটি দৈনিকের হেডলাইনে বড় অক্ষরে লেখা “আমি ভীষণভাবে লজ্জিত ও দুঃখিত – শিক্ষামন্ত্রী”

ভাবতে পারছিলাম না হঠাৎ কোন কারণে আমাদের শিক্ষামন্ত্রী দুঃখ প্রকাশ করলেন। পুরো সংবাদটি পড়ে মনে একদিকে শান্তি খুঁজে পেলাম আবার অন্যদিকে ভারাক্রান্তও হলো। শান্তি পেলাম এই চিন্তা করে যে আমাদের মন্ত্রীরা কোন ঘটনার কারণে দুঃখ প্রকাশের মত নমনীয়তা প্রকাশ করছেন আবার ভারাক্রান্ত হলো কারণ এই একবিংশ শতকের ডিজিটাল বাংলাদেশেও রাজনৈতিক দলের সম্মেলনের জন্য স্কুল বন্ধ করার সংস্কৃতি টিকিয়ে রেখেছি আমরা।

মূল ঘটনা হচ্ছে, দক্ষিণ খান আওয়ামী লীগের থানা ও ওয়ার্ড সম্মেলন উপলক্ষে সেই স্থানের মোট পাঁচটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান একদিনের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল বলে প্রকাশিত হয়েছে। একদিন না হয় বন্ধ ছিল কিন্তু সম্মেলনের প্রস্তুতির জন্য এর আগে কয়দিন শিক্ষার্থীরা সেই অঙ্গনে বাধাপ্রাপ্ত হয়েছিল সেই হিসাবটিতো অনুমান করাই যায়।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন আমাদের শিক্ষামন্ত্রী। অভিভাবকদের ক্ষোভের কথাও জানা যায় এর প্রেক্ষিতে। এমনিতেই করোনায় আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রায় দুই বছর বন্ধ ছিলো। শিক্ষা কার্যক্রম ভেঙে পড়েছে ব্যাপক ভাবে। শিক্ষার্থীদের এই ক্ষতিপূরণের পুষিয়ে নেয়ার জন্য কিছুদিন আগেই কর্তৃপক্ষ এক্সট্রা ক্লাস নেয়ার কথাও জানিয়েছে।

পাঁচটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রায় ৩০০০ শিক্ষার্থী আছে বলে জানা গেছে। এতগুলো শিক্ষার্থীকে জিম্মি করে সম্মেলন করার কথা যারা চিন্তা করেন তারা কতটা গণবান্ধব এটা ভেবে দেখার অবকাশ আছে। এমন নেতৃত্ব আগামীর বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেয়া আওয়ামী লীগের জন্য কতটা সহায়ক হবে সেটাও আশা করি ভেবে দেখবেন নেতারা।

পরবর্তীতে আসল ঘটনা জানার পর শিক্ষামন্ত্রী প্রকাশ্যে লজ্জিত ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন। এটা একটা অনুকরণীয় ঘটনা বটেই। বিশেষ করে যখন আমরা সারাদেশের জনপ্রতিনিধি বা দায়িত্বপ্রাপ্ত ক্ষমতাসীন ব্যক্তিদের অনেকের কাছ থেকে কেবল নেতিবাচক সংবাদই পেয়ে থাকি।

একটা সময় ছিলো যখন স্কুল কলেজ বন্ধ করে দিয়ে শিক্ষার্থীদেরকে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নিতে বাধ্য করা হতো। স্কুলের মাঠে জনসভা করতো। প্রধান অতিথিকে সম্বর্ধনা দেয়ার জন্য প্রচন্ড রোদের মধ্যে লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা ছোত ছোট শিক্ষার্থীদের জ্ঞান হারানোর মত সংবাদও পাওয়া যেতো আগে। তবে সেসব ঘটনার জন্য কখনও কেউ কষ্ট পেতোনা বা দুঃখ প্রকাশ করতো না।

দিন বদলেছে। এই সরকারের আমলেই কিন্তু সেই পরিবর্তন আমরা দেখেছি। মন্ত্রণালয় থেকে ঘোষণা করা হয়েছিল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখে বা শিক্ষার্থীদেরকে কোন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করানো যাবে না। এটা একটা চর্চার বিষয়। অনেকদিনের চর্চা একদিনে চলে যাবে না কিন্তু সাম্প্রতিক কালে এমন ঘটনা আমরা আর শুনিনি খুব একটা।

হঠাৎ করেই তাই, উত্তরার দক্ষিণ খানের এই ঘটনা মনে করিয়ে দিল আমাদের আদিম রাজনৈতিক একটি চর্চার কথা। অন্তত দুঃখ প্রকাশের মাধ্যমে শিক্ষামন্ত্রী তাঁর পদকে একটা মর্যাদা দিয়েছেন। একজন শিক্ষামন্ত্রীর হাত দিয়ে কখনও একজন শিক্ষার্থীর ক্ষতি হতে পারে এমন কার্যক্রমের জন্য সেই শিক্ষমন্ত্রীর কাছে শিক্ষা খাত কতটা নিরাপদ সেটাই হয়তো ভাবতে পারি আমরা।

কিন্তু শিক্ষামন্ত্রী আগে থেকে যেহেতু জানতেন না তাই জানার পরেই তিনি লজ্জিত ও দুঃখিত হয়েছেন। এই দুঃখ প্রকাশের জন্য আমি ব্যক্তিগতভাবে মন্ত্রীকে শ্রদ্ধা জানাই কিন্তু এর পাশাপাশি অবশ্যই চাইবো তিনি সংশ্লিষ্ট দলীয় নেতাদেরকে একটি জবাবদিহিতার আওতায় আনবেন যে কেন তারা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখে রাজনৈতিক সম্মেলন করতে গেল।

বাংলাদেশ এখন উন্নত দেশের পথে হাঁটছে। উন্নত দেশ হতে গেলে আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতিরও ব্যাপক পরিবর্তন প্রয়োজন। এই পরিবর্তন আসবে রাজনৈতিক দলের নেতা কর্মীদের চিন্তা ও কর্মের মাধ্যমেই। সেখানে আওয়ামীলীগের মত একটি রাজনৈতিক দলের কাছে প্রত্যাশাটাও তাই একটু বেশি। রাজনৈতিক নেতাদের শিক্ষা দেয়ার দায়িত্ব দলীয় নেতাদের উপর বর্তায়। মন্ত্রী সেখানে প্রধান অতিথি হয়েছেন দলীয় পরিচয়ে, মন্ত্রী হিসেবে নয়। তাই দলের একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা ও মন্ত্রী হিসাবে শিক্ষামন্ত্রীর কাছে আশা করি তিনি এই ঘটনাকে একটি দৃষ্টান্ত হিসেবে স্থাপন করবেন।

সারাদেশে এমনিতেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর অবস্থা খারাপের দিকে। বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের মর্যাদা কমে যাচ্ছে। শিক্ষার্থীরা সচেতন নাগরিক হয়ে বেড়ে উঠতে পারছে না। শিক্ষকের মর্যাদা শিখছে না। একটি সংবাদে দেখলাম ছাত্রলীগের কোন একটি উপজেলার কমিটিতে ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রকে রাখা হয়েছে।

এর আগেও একবার কুমিল্লার লালমাইয়ে চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রকে কমিটিতে রাখার সংবাদ এসেছিল। ছাত্রদের রাজনৈতিক সচেতন হতে হবে অবশ্যই কিন্তু দলীয় দায়িত্ব নেয়ার মত মানসিক ও শারীরিক যোগ্যতা হওয়ার আগেই তাদেরকে ক্ষমতায় বসিয়ে দেয়া মানেই তাদের বিকাশকে বিপথে পাঠিয়ে দেয়া।

এহেন অস্থির পরিস্থিতিতে শিক্ষামন্ত্রীর দুঃখ প্রকাশ অবশ্যই একটা বার্তা বহন করে আমাদের মত সাধারণ অভিভাবকের কাছে।

লেখক: অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট, কলামিস্ট।


আরও খবর