Logo
আজঃ Monday ০৮ August ২০২২
শিরোনাম
রূপগঞ্জে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে ডিজিটাল সনদ ও জাতীয় পরিচয়পত্র বিতরণ কাউন্সিলর সামসুদ্দিন ভুইয়া সেন্টু ৬৫ নং ওয়ার্ডে ভোটার তালিকা হালনাগাদ কর্মসুচীতে অংশগ্রহন করেন চান্দিনা থানায় আট কেজি গাঁজাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার নাসিরনগরে ছাত্রদলের বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ নাসিরনগর বাজারে থানা সংলগ্ন আব্দুল্লাহ মার্কেটে দুই কাপড় দোকানে দুর্ধষ চুরি। ই প্রেস ক্লাব চট্রগ্রাম বিভাগীয় কমিটির মতবিনিময় সম্পন্ন ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ৬ কেজি গাঁজাসহ হাইওয়ে পুলিশের হাতে আটক এক। সোনারগাঁয়ে পুলিশ সোর্স নাম করে ডাকাত শাহ আলমের কান্ড নিখোঁজ সংবাদ প্রধানমন্ত্রীর এপিএসের আত্মীয় পরিচয়ে বদলীর নামে ঘুষ বানিজ্য

গৌরীপুরে ফার্নিচার ব্যবসায়ীর ছুরিকাঘাতে ক্রেতা নিহত

প্রকাশিত:Friday ০৩ June ২০২২ | হালনাগাদ:Monday ০৮ August ২০২২ | ১২৯জন দেখেছেন
Image

ময়মনসিংহের গৌরীপুরে ফার্নিচার ব্যবসায়ীর ছুরিকাঘাতে আবুল কালাম (৫০) নামে এক ক্রেতা নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২ জুন) সন্ধ্যায় উপজেলার অচিন্তপুর ইউনিয়নের শাহগঞ্জ বাজারে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত আবুল কালাম উপজেলার অচিন্তপুর ইউনিয়নের খান্দার গ্রামের মৃত জাফর মিয়ার ছেলে।

গৌরীপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মাইনুল রেজা জাগো নিউজকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

স্থানীয়দের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, সম্প্রতি শাহগঞ্জ বাজারের এক ফার্নিচারের দোকানে খাটের অর্ডার দেন আবুল কালামের পরিবারের লোকজন। কিন্তু ফার্নিচার দোকানের মালিক খাট দেওয়া নিয়ে তালবাহানা শুরু করেন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার দিকে ওই দোকানে খাট আনতে যান আবুল কালাম। এসময় দুই পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়।

একপর্যায়ে ওই ফার্নিচারের দোকানের কেউ একজন আবুল কালামকে ছুরিকাঘাত করেন। এসময় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করেন। পরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

গৌরীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খান আব্দুল হালিম সিদ্দিকী বলেন, মরদেহ ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে আছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে পরে বিস্তারিত বলা যাবে।


আরও খবর



বিপজ্জনক হয়ে ওঠা উইলিয়ামসকে ফেরালেন মোস্তাফিজ

প্রকাশিত:Saturday ৩০ July ২০২২ | হালনাগাদ:Saturday ০৬ August ২০২২ | ১৮জন দেখেছেন
Image

নতুন অধিনায়ক হিসেবে নুরুল হাসান সোহান কেমন করেন, সেটাই সবার আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে। তবে, অধিনায়কত্বের শুরুতে প্রতিপক্ষকে যে এভাবে বিভ্রান্ত করতে শুরু করবেন তিনি, তা হয়তো প্রতিপক্ষ ভাবতেই পারেনি।

পাওয়ার প্লের প্রথম ৫ ওভারে সোহান ব্যবহার করলেন ৫জন বোলার। তাসকিনকে দিয়ে শুরু, এরপর নাসুম আহমেদ, মোস্তাফিজুর রহমান, মোসাদ্দেক হোসেন এবং শরিফুল ইসলাম। ৬ষ্ঠ ওভার থেকেও একইভাবে বোলার ব্যবহার শুরু করলেন তিনি। কোনো বোলারকে দিয়েই টানা বোলিং করাচ্ছেন না।

কিন্তু দ্বিতীয় ৫ ওভারের রাউন্ডে বোলার এলোমেলো করে দিলেন। তাসকিনকে দিয়ে শুরু করলেও পরের ওভারেই নিয়ে আসেন মোসাদ্দেক হোসেনকে। এভাবেই দ্বিতীয় উইকেটের দেখা পেয়ে গেলো বাংলাদেশ। বাংলাদেশের সামনে বিপজ্জনক হয়ে ওঠার সম্ভাবনা তৈরি করেছিলেন ক্রেইগ আরভিন। সপ্তম ওভারের প্রথম বলেই তাকে বোল্ড করে ফিরিয়ে দিলেন মোসাদ্দেক।

বলটা ছিল কিছুটা দ্রুত গতির। পেছনের পায়ে ভর করে অনসাইডে খেলতে চেয়েছিলেন আরভিন। কিন্তু গতির কারণে বলটা মিস করেন এবং স্ট্যাম্প উড়ে গেলো তার। ৪৩ রানে পড়ে দ্বিতীয় উইকেট। এর আগেই ১৫ রানের মাথায় প্রথম উইকেট পেয়েছিলেন মোস্তাফিজুর রহমান।

আরভিন ২১ রান করে আউট হয়ে গেলেও ওয়েসলি মাধভিরে এবং শন উইলিয়ামস মিলে বিপজ্জনক জুটি হয়ে উঠছিলেন বাংলাদেশের জন্য। একের পর এক বোলার ব্যবহার করেও যখন এই জুটি ভাঙতে পারছিলেন না সোহান, তখন তার মুখে হাসি ফোটান মোস্তাফিজুর রহমান। দলীয় ৯৯ রানের মাথায় শন উইলিয়ামসের উইকেট তুলে নেন কাটার মাস্টার।

১৩তম ওভারের দ্বিতীয় বলটিতে স্লোয়ার দিয়েছিলেন দ্য ফিজ। উইলিয়ামসের ব্যাটের নিচের কানায় লেগে বল গিয়ে আঘাত হানে স্ট্যাম্পে। ১৯ বলে ৩৩ রান করে ফিরে যান জিম্বাবুয়ের এই মিডল অর্ডার ব্যাটার। ৪টি বাউন্ডারি এবং একটি ছক্কার মার মারেন তিনি।

এ রিপোর্ট লেখার সময় জিম্বাবুয়ের রান ১৩ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে ১০৭। ৩১ রান নিয়ে ব্যাট করছেন ওয়েসলি মাধভিরে, ৭ রান নিয়ে তার সঙ্গে রয়েছেন সিকান্দার রাজা।

হারারে স্পোর্টস ক্লাব মাঠে ক্যাপ্টেন্সি করতে গিয়ে প্রথম টসেই হেরেছিলেন নুরুল হাসান সোহান। ফলশ্রুতিতে প্রথমে ফিল্ডিং করতে নামতে হয়েছে বাংলাদেশ দলকে। ফিল্ডিং করতে নেমে প্রথম ওভারটা অধিনায়ক সোহান তুলে দিয়েছিলেন তাসকিনের হাতে। প্রথম ওভারেই ৮ রান দিয়েছিলেন তাসকিন, যার তিনটিই ওয়াইড।

দ্বিতীয় ওভার করলেন স্পিনার নাসুম আহমেদ। কিছুটা নিয়ন্ত্রিত বোলিং করলেন নাসুম। দিলেন ৪ রান। তৃতীয় ওভারে তাসকিনের হাতে বল দিলেন না সোহান। ডেকে আনলেন মোস্তাফিজুর রহমানকে।

বল করতে এসেই ব্রেক থ্রু উপহার দিলেন দ্য ফিজ। প্রথম তিন বলে দিয়েছিলেন ৩ রান। চতুর্থ বলেই মোস্তাফিজের বলে আকাশে ক্যাচ তুলে দেন জিম্বাবুয়ে ওপেনার রেগিস চাকাভা। মিডউইকেটে আকাশে উঠে যাওয়া বলটি তালুবন্দী করলেন নাজমুল হোসেন শান্ত। ১৫ রানের মাথায় পড়লো প্রথম উইকেট।

বাংলাদেশ একাদশ

লিটন দাস, এনামুল হক বিজয়, নাজমুল হোসেন শান্ত, মুনিম শাহরিয়ার, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, আফিফ হোসেন ধ্রুব, নুরুল হাসান সোহান (উইকেটরক্ষক এবং অধিনায়ক), নাসুম আহমেদ, তাসকিন আহমেদ, মোস্তাফিজুর রহমান, শরিফুল ইসলাম।

জিম্বাবুয়ে একাদশ

রেগিস চাকাভা, ক্রেইগ আরভিন (অধিনায়), ওয়েসলি মাধভিরে, শন উইলিয়ামস, সিকান্দার রাজা, মিল্টন সুম্বা, রায়ান বার্ল, লুক জংউই, ওয়েলিংন মাসাকাদজা, রিচার্ড এনগারাবা, তানাকা চিভাঙ্গা।


আরও খবর



মচমচে মাছের চপ বানাবেন যেভাবে

প্রকাশিত:Friday ২৯ July ২০২২ | হালনাগাদ:Saturday ০৬ August ২০২২ | ৩৪জন দেখেছেন
Image

বিকেলের নাস্তায় অনেকেই চপ খেতে পছন্দ করেন। চায়ের সঙ্গে গরম গরম চপ থাকলে আড্ডা আরও জমে যায়। অতিথি আপ্যায়ন থেকে শুরু করে ঘরোয়া আড্ডায় পরিবেশন করতে পারেন মচমচে মাছের চপ। জেনে নিন সহজ রেসিপি-

উপকরণ

১. রুই মাছ ২৫০ গ্রাম (কাটা ছাড়া)
২. ডিম ২ কাপ
৩. রসুন বাটা ২ চা চামচ
৪. কাঁচা মরিচ ৬টি
৫. পেঁয়াজ কুচি ২ কাপ
৬. হলুদ ৩ চা চামচ
৭. গরম মসলা গুঁড়া ২ চা চামচ
৮. চিনি ১ চা চামচ
৯. আদা আধা ইঞ্চি
১০. আলু দেড় কাপ
১১. ব্রেড ক্রাম্বস ১ কাপ
১২. আদা বাটা ১ টেবিল চামচ
১৩. সরিষার তেল ১ কাপ
১৪. ধনেপাতা কুচি পরিমাণমতো
১৫. মরিচের গুঁড়া ২ চা চামচ
১৬. লবণ স্বাদমতো ও
১৭. জিরা ২ চা চামচ।

পদ্ধতি

প্রথমে মাছের টুকরোগুলো হলুদ ও লবণ দিয়ে পানিতে ফুটিয়ে নিন ৫ মিনিট। তারপর পানি ঝরিয়ে নিন।

এরপর একটি প্যানে তেল গরম করে তাতে পেঁয়াজ কুচি ভেজে নিন। এরপর এতে আদা ও রসুন বাটা দিয়ে দিন। আরও ৪-৫ মিনিট ভাজুন। এরপর সেদ্ধ মাছের টুকরোগুলো দিয়ে আরও ৫ মিনিট রান্না করুন।

এবার সামান্য চিনি ও লবণ মিশিয়ে আলু চটকে নিন। এরপর একে একে হলুদ, জিরা, গরম মসলা গুঁড়া, লাল মরিচ গুঁড়া, কাঁচা মরিচ ও ধনেপাতা কুচি মিশিয়ে নিন।

এভাবে ৫ মিনিট রান্না করুন, তারপর চুলার আঁচ বন্ধ করে মিশ্রণটি ঠান্ডা হতে দিন। আলুর মিশ্রণের মধ্যে কাটা ছাড়ানো সেদ্ধ মাছ ভালো করে মিশিয়ে নিন।

অন্যদিকে সামান্য পানি ও লবণ দিয়ে ডিম ফেটিয়ে নিন। এবার প্রতিটি মাছের চপ এই ফেটানো ডিমের মিশ্রণে ডুবিয়ে আবার ব্রেডক্রাম্বে মাখিয়ে ১৫-৩০ মিনিট ফ্রিজে রাখুন।

সবশেষে একটি প্যানে তেল গরম করে চপগুলো ভেজে নিন। উভয় পাশে ভালোভাবে ভাজুন। অতিরিক্ত তেল নিষ্কাশন করতে একটি টিস্যুর উপর রাখুন মাছের চপগুলো। এরপর গরম গরম পরিবেশন করুন মচমচে মাছের চপ।


আরও খবর



অটুট থাকুক সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি

প্রকাশিত:Wednesday ২০ July ২০22 | হালনাগাদ:Thursday ০৪ August ২০২২ | ৪২জন দেখেছেন
Image

ফেসবুকে একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে শুক্রবার সন্ধ্যায় লোহাগড়ার দিঘলিয়া গ্রামের সাহা পাড়ায় হিন্দু বাড়িতে ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ ও মন্দিরে হামলা হয়। গত মাসে ফেসবুককেন্দ্রিক আরেক পোস্টকে কেন্দ্র করে এক অধ্যক্ষের গলায় জুতার মালা পরানোর খবরে বেশ কিছু দিন ধরে আলোচনায় রয়েছে নড়াইল।

এ সাম্প্রদায়িক হামলায় ব্যথিত সংসদ সদস্য মাশরাফি বিন মর্তুজা তার ফেসবুক পোস্টে লেখেন, ‘সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টকারীদের ফাঁদে পড়ে নড়াইলের হাজার বছরের ঐতিহ্য আর সম্প্রীতির বন্ধনকে এক নিমিষে ম্লান করে দেবেন না। ছেলেবেলা থেকে যে নড়াইলকে দেখে এসেছি, যে নড়াইলকে নিয়ে আমরা গর্ব করি, সেই নড়াইলের সঙ্গে এই নড়াইলকে আমি মেলাতে পারছি না।’

আমরা লক্ষ্য করি, একটি মহল বরাবরই শান্তিময় সমাজকে অশান্ত করে তোলার কাজে ব্যস্ত থাকে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করতে তারা থাকে সদা তৎপর। অথচ প্রত্যেক ধর্মের মূল মর্মবাণী হলো-শান্তি ও মানুষের কল্যাণ। ধর্ম মানুষকে সম্প্রীতি ও পরমত সহিষ্ণুতার শিক্ষা দেয়। বিভিন্ন সময়ে ধর্মকে কেন্দ্র করে দাঙ্গা-হাঙ্গামা হয়েছে। প্রতিক্রিয়াশীল ও সুযোগসন্ধানী একটি চক্র বরাবরই পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার পাঁয়তারা চালায়। সম্প্রতি একই অবস্থা লক্ষ্য করা যাচ্ছে নড়াইলে।

ইসলাম এমন এক শান্তিপ্রিয় ধর্ম যেখানে সব ধর্মের অনুসারীদের সম্মানের শিক্ষা দেয়। প্রেমপ্রীতি, সৌহার্দ আর শান্তি ও সম্প্রীতির এক পরিমণ্ডল বিশ্বজুড়ে প্রতিষ্ঠিত করাই ইসলামের মূল লক্ষ্য। অন্য কথায়, আল্লাহ তাআলার প্রতি বিশ্বস্ততার হক আদায়ে এবং তার সৃষ্টির প্রতি দায়বদ্ধ আচরণের মাধ্যমে এ বিশ্ব এক স্বর্গ রাজ্যে পরিণত করা।

একটি বিষয় আমাদের বোঝা উচিত, কারও কথায় কি ইসলাম কলঙ্কিত হয়ে যাবে বা মহানবি (সা.)-এর সম্মানের হানি হবে? অবশ্যই তা কখনো হতে পারে না। কেননা ইসলামই কেবল একমাত্র পরিপূর্ণ ধর্ম। যখন কেউ ইসলামের অবমাননা, কোরআনের অবমাননা এবং রাসুলের (সা.) অবমাননা করবে এর প্রতিবাদ আমরা অবশ্যই করব।

তবে আমাদের প্রতিবাদের ধরন হবে শ্রেষ্ঠনবির অনুপম আদর্শের প্রতিফলন ঘটিয়ে। কারও বাড়িঘর পুড়িয়ে বা কোনো দেশের পতাকা পুড়িয়ে বা কোনো দেশের রাষ্ট্রদূতের ওপর হামলা চালিয়ে বা হত্যা করে অথবা অগ্নিসংযোগ ও অপহরণ করে এর প্রতিবাদ আমরা করব না। কারণ এগুলোর কোনোটাই ইসলাম আমাদের অনুমতি দেয় না।

আমাদের প্রতিবাদের ধরন হবে ইসলামের প্রকৃত সৌন্দর্য, কোরআনের অনিন্দ্য সুন্দর শিক্ষা এবং বিশ্বনবি হজরত মুহাম্মদ (সা.)- এর অতুলনীয় আদর্শ সারা বিশ্বের মাঝে ফুটিয়ে তোলা। প্রতিটি দেশে বড় বড় সভা-সেমিনার করা, কোরআন প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করা এবং সব ধর্মের লোকদের ডেকে ইসলামের শান্তির শিক্ষা সম্পর্কে অবগত করা। এ কাজের জন্য যে বিষয়টি সবচেয়ে প্রথমে প্রয়োজন তাহলো সারা বিশ্বের মুসলমানদের ঐক্যবদ্ধ হওয়া।

ইসলামের বিরুদ্ধে যখন কোনো বিষয়ে অভিযোগ হানা হয় তখন প্রতিটি মুসলমানের হৃদয় কাঁদে এবং ব্যথা পায় আর এটাই স্বাভাবিক আজ যারা বিশ্বনবি ও শ্রেষ্ঠনবি (সা.) সম্পর্কে কটাক্ষ করে তারা কি এটা জানে না যে, মহানবি (সা.) তো শুধু ইসলামের অনুসারীদের নবি নন, তিনি তো সারা বিশ্বের সব জাতি এবং সব ধর্মের নবি। আর আল্লাহতায়ালা এই মহান নবিকে সমগ্র বিশ্বের জন্য শান্তি ও রহমত হিসেবে পাঠিয়েছেন। এই নবির আগমন বার্তা সব নবিরাই (আ.) দিয়ে গেছেন এবং অন্য নবিরা এই নবির উম্মত হওয়ার ইচ্ছাও পোষণ করেছেন।

প্রকৃত ইসলামের আকর্ষণীয় শিক্ষার প্রচার ও প্রসার জোর-জবরদস্তি এবং বল প্রয়োগে নয় বরং সৌহার্দ ও সম্প্রীতির দ্বারা মানুষের হৃদয় জয় করার মাধ্যমে সম্ভব। বলপ্রয়োগ করলে অন্যের অধিকার যেমন দেওয়া যায় না, তেমনি আল্লাহ তাআলার নৈকট্য লাভও এর দ্বারা সম্ভব নয়।

ইসলামে মুসলমান ও অমুসলমানের সমঅধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। ইসলাম শত্রুদের সাথেও দয়ার্দ্র আচরণ করে, তা শান্তিকালীন সময়ই হোক বা যুদ্ধাবস্থায়ই হোক। সর্বাবস্থায় ইসলাম অমুসলমানদের অধিকার মর্যাদার সাথে সংরক্ষণ করে। বিদ্বেষ ছড়ানো ও আক্রমণের অধিকার ইসলামে নেই। চড়াও হওয়া বা আক্রমণ করার অধিকার ইসলামে নেই। ইসলামের বাস্তব শিক্ষা হলো, কেবল আক্রান্ত হলেই তুমি যুদ্ধ করতে পার। অধিকন্তু ইসলামে এ নির্দেশও রয়েছে যে, আক্রমণকারী বা আগ্রাসী হয়ো না, চুক্তি ভঙ্গকারী হয়ো না। আগ্রাসন বলতে কী বোঝায়?

সে যুগে ইসলামবিরোধীরা পরাজিত সৈন্যদের দেহ ছিন্নভিন্ন করে বিকৃত করতো, এটা সমর নীতির পরিপন্থি, জিঘাংসামূলক অত্যন্ত গর্হিত এক কর্ম। ইসলামে এটি নিষিদ্ধ। শিশু ও নারীদের হত্যা করাও নিষিদ্ধ। ধমীর্য় নেতাদের পাদ্রি-পুরোহিত, রাব্বী, প্রমুখদের তাদের উপাসনালয়ে হত্যা করা সম্পূর্ণ অবৈধ। অন্য কথায়, যুদ্ধ কেবল সমরক্ষেত্রেই সংঘটিত হতে পারে। অথবা অন্য কোনো বিকল্প খুঁজে না পেয়ে যদি শহর বা নগরে যুদ্ধ করতে বাধ্যও হতে হয়, তবুও কেবল তাদের বিরুদ্ধেই যুদ্ধ করা যেতে পারে, যারা বিরোধিতায় আগ বাড়িয়ে অস্ত্র ধারণ করে আক্রমণ চালিয়েছে।

আমরা আজ এটাই দেখছি যে, সুন্দর সাবলীল ও সুগঠিত এসব ইসলামি শিক্ষার ওপর কেউ আমল করছে না। আত্মঘাতী বোমা হামলাকারীরা শিশু, নারী, বৃদ্ধ, নির্বিশেষে সবাইকে হত্যা করছে, অন্যদিকে আগ্রাসী বাহিনী, শহর নগর-বন্দরে বোমা বর্ষণ করছে, গুলি চালাচ্ছে, করছে অতর্কিত আক্রমণ। তারা নগরগুলোতে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়ে নগর অবকাঠামো সমূলে বিনাশ করছে। এতে নাগরিক অধিকারের কিছুই আর অবশিষ্ট থাকছে না।

আজ আমরা অনেক ক্ষেত্রে মহানবির শিক্ষা ভুলে ভিন্ন পথ বেছে নিয়েছি। মহানবির (সা.) মৃত্যুর অল্পদিন আগে বিদায় হজের সময় বিরাট ইসলামি সমাগমকে সম্বোধন করে তিনি (সা.) উদাত্ত কণ্ঠে বলেছিলেন, ‘হে মানবমণ্ডলী! তোমাদের আল্লাহ এক ও অদ্বিতীয় এবং তোমাদের আদি পিতাও এক। একজন আরব একজন অনারব থেকে কোনো মতেই শ্রেষ্ঠ নয়। তেমনি একজন আরবের ওপর একজন অনারবেরও কোনো শ্রেষ্ঠত্ব নেই। একজন সাদা চামড়ার মানুষ একজন কালো চামড়ার মানুষের চাইতে শ্রেষ্ঠ নয়, কালোও সাদার চাইতে শ্রেষ্ঠ নয়।

শ্রেষ্ঠত্বের মূল্যায়ন করতে বিচার্য বিষয় হবে, কে আল্লাহ ও বান্দার হক কতদূর আদায় করলো। এর দ্বারা আল্লাহর দৃষ্টিতে তোমাদের মধ্যে সর্বোচ্চ সম্মানের অধিকারী সেই ব্যক্তি, যিনি সর্বাপেক্ষা বেশি ধর্মপরায়ণ।’ (বায়হাকি) এই মহান শব্দগুলো ইসলামের উচ্চতম আদর্শ ও শ্রেষ্ঠতম নীতিমালার একটি দিক উজ্জ্বলভাবে চিত্রায়িত করেছে। শতধা বিভক্ত একটি সমাজকে অত্যাধুনিক গণতন্ত্রের সমতাভিত্তিক সমাজে ঐক্যবদ্ধ করার কী অসাধারণ উদাত্ত আহ্বান।

বিশ্বাসের স্বাধীনতা হচ্ছে সব মানুষের মৌলিক অধিকার। ইসলাম ধর্মের বিধানমতে ‘ধর্ম’ হচ্ছে নিজ, পছন্দের একটি বিষয়। এ ধর্ম একটি সুস্পষ্ট ধর্ম। এই ধর্ম গ্রহণের পরও চাইলে কেউ এটা ত্যাগ করতে পারে, কোনো জোর নেই, তবে এর বিচার সর্বশক্তিমান আল্লাহ নিজ হাতেই করেন। ধর্মে যদি বল প্রয়োগের বিধান থাকতো, তাহলে মহানবি (সা.) মক্কা বিজয়ের পর অমুসলমানদের ইসলাম ধর্ম গ্রহণের জন্য বাধ্য করতেন এবং মক্কায় বসবাসের জন্য প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতেন। কিন্তু তিনি তা করেন নাই। এতে প্রমাণিত হয়, ধর্মের জন্য বল প্রয়োগ ইসলামের শিক্ষা নয়। ইসলামের আদর্শ হল শত্রুর সাথেও বন্ধুসুলভ আচরণের দৃষ্টান্ত স্থাপন করা।

আমার ধর্মের সাথে, আমার মতের সাথে, আমার ইবাদতের পদ্ধতির সাথে আরেকজন একমত নাও হতে পারেন, তাই বলে কি তার বিরুদ্ধে আমাকে অবস্থান নিতে হবে? ব্যক্তিগতভাবে আমি কোন দেশের সংস্কৃতিকে পছন্দ নাও করতে পারি তাই বলে এ নিয়ে সমাজে বিশৃঙ্খলার কোনো অনুমতি ইসলাম কেন কোনো ধর্মই দেয় না। আমাদের দেশেও একটি মহল বিভিন্ন সময় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করার পাঁয়তারা করে আর বিভিন্ন ধর্মীয় গোষ্ঠীর ওপর আক্রমণের চেষ্টা করে কিন্তু এদেশের সচেতন নাগরিক বরাবরই তাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছে।

আরেকটি বিষয় আমাদের মাথায় রাখতে হবে, দেশের আইন আছে। কোনো পরিস্থিতিতেই আমরা আইন নিজের হাতে তুলে নিতে পারি না। কেউ যদি সত্যি অপরাধ করে তার বিচার আদালত করবেন। তাই সমাজে যারা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করার চেষ্টা করবে তাদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে আমাদের প্রতিহত করতে হবে। এটা আমাদের দেশে হোক বা ভিন্ন দেশে। আমরা কোনোভাবেই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টকারীদের আশ্রয় বা প্রশ্রয় দেব না। এদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। হাজার বছরের এই ঐতিহ্যকে কোনোভাবেই নষ্ট হতে দেওয়া যায় না।


আরও খবর



টিপু-প্রীতি হত্যায় নির্দোষ কেউ গ্রেফতার-হয়রানি হচ্ছে না: হারুন

প্রকাশিত:Monday ০১ August ২০২২ | হালনাগাদ:Saturday ০৬ August ২০২২ | ১৬জন দেখেছেন
Image

রাজধানীর শাহজাহানপুরে আওয়ামী লীগ নেতা জাহিদুল ইসলাম টিপু ও কলেজছাত্রী সামিয়া আফরান প্রীতি হত্যা মামলায় নির্দোষ কাউকে গ্রেফতার বা হয়রানি করা হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ।

তিনি বলেছেন, আমরা পারিপার্শ্বিকতা, সাক্ষ্যপ্রমাণ এবং আগে গ্রেফতারদের তথ্য বিশ্লেষণ করে যাদের বিরুদ্ধে সুস্পষ্ট প্রমাণ পেয়েছি শুধু তাদেরই গ্রেফতার করেছি। আমি মনে করি, অন্যায়ভাবে কাউকে গ্রেফতার বা হয়রানি করা হচ্ছে না।

সোমবার (১ আগস্ট) দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা জানান।

টিপু-প্রীতি হত্যা মামলায় গত দুদিনে ছয়জনকে গ্রেফতার করেছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। আলোচিত এ হত্যাকাণ্ডে গ্রেফতার এই ছয়জনের কার কী ধরনের সম্পৃক্ততা ছিল, এমন প্রশ্নে ডিবির হারুন অর রশীদ বলেন, এটি একটি স্পর্শকাতর ঘটনা। জড়িতদের অনেকেই গ্রেফতার হয়েছে। তবে কাউকে হয়রানি করা হচ্ছে না।

গতকাল রোববার রাতে গ্রেফতার দুজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ বিষয়ে জানতে চাইলে ডিবিপ্রধান বলেন, আমরা বিভিন্ন জায়গা থেকে তথ্য সংগ্রহ করেছি। বিভিন্ন ধরনের প্রমাণ পেয়েছি। এরই ভিত্তিতে তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারদের রিমান্ড আবেদনের মাধ্যমে আদালতে পাঠানো হয়েছে। রিমান্ডে আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ শেষে এ বিষয়ে বিস্তারিত বলা যাবে।

টিপু-প্রীতি হত্যাকাণ্ডের শুরু থেকে মোল্লা শামীমের সম্পৃক্ততার বিষয়ে জানতে চাইলে হারুন অর রশীদ বলেন, হত্যার সঙ্গে যারা সম্পৃক্ত না তাদের কাউকে গ্রেফতার করা হবে না। তবে জড়িতদের গ্রেফতার করে অবশ্যই আইনের আওতায় আনা হবে। এ ঘটনায় মাস্টারমাইন্ড ও কিলার সবাইকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধার বিষয় জানতে চাইলে গোয়েন্দা পুলিশের এ কর্মকর্তা বলেন, আমাদের টিম কাজ করছে। সবাইকে দ্রুত গ্রেফতার করা হয়েছে। শিগগির আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়া হবে।


আরও খবর



সাংবাদিক অমিত হাবিবের অবস্থা অপরিবর্তিত

প্রকাশিত:Saturday ২৩ July ২০২২ | হালনাগাদ:Monday ০৮ August ২০২২ | ৩৪জন দেখেছেন
Image

দৈনিক ‘দেশ রূপান্তর’এর সম্পাদক অমিত হাবিবের শারীরিক অবস্থা অপরিবর্তিত রয়েছে। ২১ জুলাই বিকেলে রাজধানীর পান্থপথের বিআরবি হাসপাতলে ভর্তি করা হয় তাকে। তিনি বর্তমানে ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে (আইসিইউ) রয়েছেন।

শনিবার (২৩ জুলাই) দেশ রূপান্তরের প্রধান প্রতিবেদক উম্মুল ওয়ারা সুইটি জানান, চিকিৎসাধীন থাকার পর থেকে তার অবস্থার কোনো অবনতি ঘটেনি। আইসিইউর কর্তব্যরত চিকিৎসক ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. কনককান্তি বড়ুয়া বলেছেন, তিনি সাড়া দিচ্ছেন, এটা একটা ইতিবাচক। এই ধরনের রোগীর ক্ষেত্রে ৭২ থেকে ৯৬ ঘণ্টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময়। প্রথমতো এই সময়টাতে রোগীর জীবন ঝুঁকির মধ্যে থাকে। এরপর শরীরের অন্য অর্গান মানে কি কি ক্ষতি হয়েছে সেই অনুযায়ী চিকিৎসা চলে।

তিনি বলেন, আজ আইসিইউ চিকিৎসক ও নিউরো মেডিসিনের চিকিৎসক বলেছেন, অমিত দা গতকাল থেকেই অক্সিজেন সাপোর্ট ছাড়া শ্বাস-প্রশ্বাস নিচ্ছেন। চিকিৎসকরা বলছেন এখন কোনো ড্যামেজ কিংবা শারীরিক কি ত্রুটি হয়েছে সেটি বলা যাবে না। সেই জন্য আরও দুই সপ্তাহ সময় প্রয়োজন।

‘অমিত দা’র চিকিৎসা সব দায়ভার রূপায়ন গ্রুপের পক্ষ থেকে দেখা হচ্ছে। আমাদের চেয়ারম্যান স্যার লিয়াকত আলী খাঁন মুকুল নিজেই সার্বক্ষণিক খোঁজ খবর নিচ্ছেন। প্রয়োজনে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সযোগে দেশের বাইরে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে তিনি অমিত দার পরিবার ও দেশ রূপান্তরের দায়িত্বশীলদের বলেছেন।

অমিত হাবিবের আগে দৈনিক কালের কণ্ঠের উপদেষ্টা সম্পাদক ছিলেন। এর আগে দৈনিক সমকালের প্রধান বার্তা সম্পাদকের পদ ছেড়ে ২০০৯ সালে কালের কণ্ঠে নির্বাহী সম্পাদক হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। পরে ২০১৩ সাল থেকে উপদেষ্টা সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন অমিত হাবিব।

১৯৮৭ সালে খবর গ্রুপ অব পাবলিকেশন্সে একই সঙ্গে প্রতিবেদক ও সাব-এডিটর হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন অমিত হাবিব। পরে সাপ্তাহিক পূর্বাভাস পত্রিকায় সাব-এডিটর পদে যোগ দেন তিনি। পরে ১৯৯১ সালে দৈনিক আজকের কাগজ পত্রিকায় সিনিয়র সাব-এডিটর হয়ে যোগ দেন। এর পরের বছর একই পদে যোগ দেন দৈনিক ভোরের কাগজে। অল্প দিনের মধ্যে পদোন্নতি পেয়ে যুগ্ম বার্তা সম্পাদক ও পরে বার্তা সম্পাদক হন তিনি।

২০০৩ সালে দৈনিক যায়যায়দিন পত্রিকায় প্রধান বার্তা সম্পাদক হিসেবে যোগ দেন খ্যাতিমান এই সাংবাদিক। তবে পত্রিকাটি বাজারে আসে ২০০৬ সালে। ২০০৭ সালে চীনের আন্তর্জাতিক বেতারে বিদেশি বিশেষজ্ঞ হিসেবে যোগ দিয়ে পেইচিংয়ে কর্মরত থাকা অমিত হাবিব দেশীয় সাংবাদিকতার সঙ্গে দূরত্বের কথা বিবেচনায় তা ছেড়ে দেশে ফিরে আসেন। পরের বছর দৈনিক সমকালে প্রধান বার্তা সম্পাদক হিসেবে যোগ দেন তিনি।


আরও খবর