Logo
আজঃ শুক্রবার ১৯ জুলাই ২০২৪
শিরোনাম

গোদাগাড়ীতে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী শিক্ষার্থীদের কাব স্কাউট পোশাক,শিক্ষা উপকরণ ও টিফিন বক্স বিতরণ

প্রকাশিত:সোমবার ২০ নভেম্বর ২০23 | হালনাগাদ:শুক্রবার ১৯ জুলাই ২০২৪ | ১৯৭জন দেখেছেন

Image

গোদাগাড়ী(রাজশাহী)প্রতিনিধিঃ রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে পিছিয়ে পড়া ও সুবিধাবঞ্চিত ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী শিক্ষার্থীদের উদ্বুদ্ধ করতে মাঝে কাব স্কাউট পোশাক,শিক্ষা উপকরণ ও টিফিন বক্স বিতরণ হয়েছে। রোববার দুপুর ২টার দিকে উপজেলার ঘনশ্যামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কাব স্কাউট ইউনিট লিডার জয়দুল ইসলাম এর নিজস্ব অর্থায়নে স্কাউট সামগ্রীপ্রদান করা হয়। এ সময় প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ স্কাউটস,রাজশাহী অঞ্চলের লিডার ট্রেনার প্রতিনিধি সালেহ আহম্মদ (এলটি)। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ স্কাউটস গোদাগাড়ী উপজেলার স্কাউট সম্পাদক আনোয়ারুল ইসলাম (দুলাল)। উপকরণ বিতরণ শেষে ফলজ ও বনজ চারা গাছ লাগানো হয়। ওই বিদ্যালয়ের ২১ জন শিক্ষার্থীকে স্কাউট পোশাক,শিক্ষা উপকরণ ও টিফিন বক্স ও গাছের চারা দেয়া হয়। এ সময় বক্তারা বলেন,এভাবে সমাজের প্রতিটি মানুষ তাদের সামর্থ্য অনুযায়ী এগিয়ে আসলে সমাজের অসহায় ও পিছিয়ে পড়া ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীদের সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব।ঝরে পড়া রোধ এবং তাদের বিদ্যালয়মুখী করে প্রাথমিক শিক্ষার কাংখিত লক্ষ্য অর্জন ও কাবিং কার্যক্রমের মাধ্যমে তাদের মধ্যে পরোপকারী মনোভাব গড়ে উঠবে। তবে ই তারা সমাজের ও দেশের আলোকিত অংশ হয়ে উঠবে।


আরও খবর



জলঢাকায় আওয়ামী লীগের প্লাটিনাম জয়ন্তী উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‌্যালি ও শোভাযাত্রা

প্রকাশিত:সোমবার ২৪ জুন 20২৪ | হালনাগাদ:শুক্রবার ১৯ জুলাই ২০২৪ | ১১৬জন দেখেছেন

Image
লেলিন,( নীলফামারী),জলঢাকা,প্রতিনিধি:নীলফামারী জলঢাকায় সংগ্রাম, উন্নয়ন ও অর্জন গৌরব দীপ্ত   আওয়ামী লীগের  পথচলার ৭৫ বছর প্লাটিনাম জয়ন্তী উপলক্ষে  বর্ণাঢ্য র‌্যালি,শ্রদ্ধাঞ্জলি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

(২৩জুন/২০২৪)রোববার সকালে উপজেলা আওয়ামী লীগ ও পৌর আওয়ামী লীগের যৌথ উদ্যোগে এক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা মিছিল  নিয়ে নেতাকর্মীরা শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিন শেষে জলঢাকা ট্রাফিক মোড়ে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানায়। মিছিলটি  সরকারী ডিগ্রি কলেজ মাঠে  এসে এক আলোচনা সভায় মিলিত হয়।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেক এমপি,বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যপক গোলাম মোস্তাফা'র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ- সভাপতি সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল ওয়াহেদ বাহাদুর, সহ-সভাপতি  শিক্ষাবিদ মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল গাফ্ফার,অধ্যক্ষ এ,কে আজাদ,নুরুজ্জামান মাষ্টার,মোকলেছুর রহমান সন্জু,সহ সাধারণ সম্পাদক আহম্মেদ হোসেন ভেন্ডার,সারোয়ার হোসেন সাদের,সাংগঠনিক সম্পাদক,এনামুল হক ও সফিকুল ইসলাম পলাশ।  পৌর  আওয়ামিলীগ সাধারণ সম্পাদক আব্দুর মজিদের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন,  পৌর সভার মেয়র নাসিব সাদিক হোসেন (নোভা), পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি, জসিয়ার রহমান জসি,  উপজেলা স্বেচ্ছা সেবক লীগের সভাপতি, আব্দুল কাদের,উপজেলা যুবলীগ নেতা আক্তারুজ্জামান বাবু,গোলাম মোস্তাফা সোহাগ,পৌর যুবলীগ নেতা আজম বাদশা সাবু,মৃণাল বিশ্বাস, ছাত্রলীগ নেতা মামুন,মিল্লাত,নাহিদ মিথুন,  মহিলা নেত্রী উপজেলা ভাইস চেয়াম্যান মনোয়ারা বেগম, হাবিবা আক্তার পিয়ারী প্রমুখ । আলোচনা শেষে কেক কেটে দোয়া ও মিলাত মাহফিলের  মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সামাপ্তি ঘোষনা করা হয়।

আরও খবর



কালিয়াকৈরে বেড়াতে গিয়ে নৌকা ডুবে মা-ছেলে নিখোঁজ

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ১৬ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:শুক্রবার ১৯ জুলাই ২০২৪ | ৩৭জন দেখেছেন

Image
সাগর আহম্মেদ,কালিয়াকৈর (গাজীপুর) প্রতিনিধি:গাজীপুরের কালিয়াকৈরে বিলের পানিতে বেড়াতে গিয়ে নৌকা ডুবে মা ও ছেলে নিখোঁজ হয়েছেন। সোমবার বিকেলে উপজেলার ভাউমান টালাবহ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।নিখোঁজরা হলেন, কালিয়াকৈর উপজেলার ভাউমান টালাবহ এলাকার সাইফুল ইসলামের মেয়ে সাদিয়া (২২) ও সাদিয়ার তিন বছরের ছেলে আলভি।এলাকাবাসী ও ফায়ার সার্ভিস সুত্রে জানা গেছে, কালিয়াকৈর ভাউমান টালাবহ এলাকার সাইফুল ইসলামের মেয়ে সাদিয়া, তার প্রবাসী স্বামী হাবিবুর রহমান, ছেলে আলভি এবং দাদা ফরমান ও দাদী সুরভানুকে নিয়ে সোমবার বিকেলে পাশের বিলের পানিতে নৌকা নিয়ে বেড়াতে যায়। যাওয়ার পথে বিকেল ৬টার দিকে নৌকাটি টালাবহ থেকে ভাউমান এলাকার একটি ব্রিজের কাছে পৌছলে স্রোতের মধ্যে পড়ে ডুবে যায়। এসময় স্থানীয়রা নৌকায় থাকা পাঁচজনের মধ্যে তিনজনকে উদ্ধার করতে পারলে সাদিয়া ও তার ছেলে আলভিকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। বিলের পানিতে ডুবে ওই মা-ছেলে নিখোঁজ হওয়ার পর ফায়ার সার্ভিসে খবর দেন এলাকাবাসী। খবর পেয়ে কালিয়াকৈর ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে গেলেও তারা নিখোঁজ মা-ছেলেকে উদ্ধারের চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হয়। 
স্থানীয় ইউপি সদস্য ছানোয়ার হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, এলাকাবাসী তার্দে উদ্ধারে চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন।

কালিয়াকৈর ফায়ার সার্ভিসের ষ্টেশন কর্মকর্তা ইফতেখার রায়হান চৌধুরী জানান, খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে গেলেও তাদের উদ্ধার করতে পারি নাই। তবে টঙ্গী থেকে ডুবুরী দল ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার কাজ অব্যাহত রাখবে।


-খবর প্রতিদিন/ সি.

আরও খবর



জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় কুড়িগ্রামে ১০ হাজার চারা বিতরণ করলো ইউসিবি

প্রকাশিত:সোমবার ১৫ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:শুক্রবার ১৯ জুলাই ২০২৪ | ৬৭জন দেখেছেন

Image
নিজস্ব প্রতিবেদক:জলবায়ু পরিবর্তন ও এর প্রভাব মোকাবিলায় কুড়িগ্রামের বেশকিছু প্রত্যন্ত অঞ্চলে ১০ হাজার চারা গাছ বিতরণ করেছে ইউনাইডেট কমার্শিয়াল ব্যাংক পিএলসি (ইউসিবি)। ইউসিবি’র ‘ভরসার নতুন জানালা’ করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) কার্যক্রমের আওতায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে এসব চারা বিতরণ করা হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে ‘ভরসার নতুন জানালা’ শীর্ষক কৃষি সহায়তা উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে ইউসিবি। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৩ জুলাই কুড়িগ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চল চর বলরামপুর, বেরুবাড়ি ও নাগেশ্বরীতে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি আয়োজন করা হয়। এসমস্ত এলাকায় বসবাসরত পরিবারগুলোর মাঝে আম, লেবু ও সজনের ১টি করে চারা এবং প্রয়োজনীয় জৈবসার বিতরণ করা হয়। এসময় চারাগাছ পরিচর্যায় গৃহিণীদের উৎসাহিত করতে শাড়ি ও সালোয়ার-কামিজ বিতরণ করা হয়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক পিএলসি’র অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও কোম্পানি সেক্রেটারি এটিএম তাহমিদুজ্জামান ও বিটিভির কৃষিভিত্তিক অনুষ্ঠান ‘মাটি ও মানুষ’-এর জনপ্রিয় উপস্থাপক ও কৃষি তথ্য-বিশ্লেষক রেজাউল করিম সিদ্দিক। এছাড়া, আয়োজনে আরও উপস্থিত ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত জেলা জজ ও চর সাজাই কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি ফউজুল আজিম; ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক ও চর সাজাই কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাক খান; বল্লভের খাস ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান এস এম আব্দুর রাজ্জাক এবং চর সাজাই কল্যাণ ট্রাস্টের নির্বাহী পরিচালক বীর মুক্তিযোদ্ধা শহিদুল ইসলাম।

উল্লেখ্য, কৃষকদের সুবিধার্থে ‘ভরসার নতুন জানালা’ প্রকল্পের আওতায় ইতোমধ্যে বেশকিছু উদ্যোগ বাস্তবায়ন করেছে ইউসিবি পিএলসি। এসবের মধ্যে রয়েছে তালগাছ রোপণ, কৃষি উদ্যোক্তাদের জন্য প্রশিক্ষণ, এআই-নির্ভর ‘আরো মাছ’ (মোরফিশ) ডিভাইসের মতো কৃষি-সংক্রান্ত স্মার্ট ডিভাইস বিতরণ এবং তামাকের বিকল্প শস্য হিসেবে গম ও ভুট্টা চাষে উৎসাহিত করা প্রভৃতি। এছাড়া, এই বছরের মধ্যে ইউসিবি’র ১ লাখ চারাগাছ রোপণের পরিকল্পনা রয়েছে।

-খবর প্রতিদিন/ সি.

আরও খবর



বন্যার হাত থেকে রক্ষা পেলো আত্রাই উপজেলাবাসী

প্রকাশিত:শনিবার ১৩ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:শুক্রবার ১৯ জুলাই ২০২৪ | ৭৩জন দেখেছেন

Image

নাজমুল হক নাহিদ, আত্রাই (নওগাঁ) প্রতিনিধি:গত কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলে নওগাঁর প্রধান দুটি নদী ছোট যমুনা ও আত্রাইসহ অন্যান্য নদীতে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে আত্রাই ছোট যমুনার পানি বিপদসীমার অনেক নীচে অবস্থান করছে। এদিকে নদীর পানি কিছুটা কমতে শুরু করলে একটু বৃষ্টিতে তা আবার বাড়তে শুরু করেছে।

জানা যায়, ৮০ দশকে আত্রাই নদীর পাশ দিয়ে নির্মিত হয় বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ। যা দীর্ঘদিনের পুরাতন হওয়ার কারণে এবং প্রতিটি বাঁধে শিয়াল, বেজি কিংবা ইদুরের গর্ত থাকার কারণে নদীর পানি বৃদ্ধি পেলেই সেই লিকেজ দিয়ে পানি চলাচল করায় অনেক স্থানে হঠাৎ করেই ধ্বস দেখা দিয়েছে। তবে লিকেজ কিংবা ধ্বসে যাওয়া স্থানগুলো সঙ্গে সঙ্গে পানি উন্নয়ন বোর্ডের টিমের প্রত্যক্ষ তৎপরতায় মেরামত/বন্ধ করার কারণে আত্রাই উপজেলার শত শত গ্রাম বন্যা কবলিত হওয়ার হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের ধ্বসে যাওয়া স্থানগুলো স্থানীয় সাংসদ অ্যাড. ওমর ফারুক সুমন পরিদর্শন করেছেন এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় দিন-রাত কাজ করে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়া বাঁধগুলো মেরামত করে কয়েক ঘন্টার মধ্যে সেগুলো সচল করায় পানি উন্নয়ন বোর্ডকে সাধুবাদ জানিয়েছেন।

নওগাঁ পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, আত্রাই নদীতে পানি বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে গত বৃহস্পতিবার (৪জুলাই) রাতে আত্রাই থেকে নাটোরের সিংড়ার সাথে যোগাযোগের একমাত্র সড়কের শিকারপুর এলাকায় গুড় নদীর বাঁধ কাম পাকা সড়ক ধ্বসে যায়। পরে পানি উন্নয়ন বোর্ডের লোকজন শুক্রবার ধ্বসে যাওয়া বাঁধ কাম সড়ক মেরামত করে। এরপর শুক্রবার রাতে ঐ ভাঙ্গনের প্রায় এক কিলোমিটার পূর্বদিকে বৈঠাখালির ডুবাই নামক স্লুইচগেট সংলগ্ন স্থানে পাকা সড়ক ধ্বসে যায়। এতে ওই সড়কে যানবাহনসহ চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে। এছাড়া শনিবার সকালে উপজেলা সদরের পশ্চিম এলাকায় আত্রাই-বান্দাইখাড়া সড়কের লালুয়া নামকস্থানে বাঁধ কাম পাকা সড়ক ধ্বসে যায়। এতে উপজেলা সদরের সাথে ওই সড়ক দিয়ে চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। গত মঙ্গলবার (৯জুলাই) সকালে আত্রাই উপজেলার পাঁচুপুর ইউনিয়নের গুড়নৈ নামক স্থানে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে ধ্বস দেখা দিলে তাৎক্ষণিক ভবে পানি উন্নয়ন বোর্ডের টিম মেরামতের কাজ করে মাত্র কয়েক ঘন্টার মধ্যে সেই ধ্বসে যাওয়া অংশটি মেরামত করে যান চলাচলের জন্য তা উন্মুক্ত করে দেয়।

নওগাঁ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো: ফয়জুর রহমান বলেন এবার আমার টিম সব সময় বাঁধে অবস্থান করছে যেকোনো ধরনের ভাঙ্গন দেখা দিলে সাথে সাথে কাজে নেমে যাচ্ছে। নওগাঁয় প্রায় ৫শতাধিক কিলোমিটার বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধ রয়েছে। জনবল সংকট নিয়ে এতো দীর্ঘ বাঁধ সব সময় পর্যবেক্ষন করা অনেকটাই কঠিন। আর শেয়াল, বেজি, ইদুরসহ বিভিন্ন ক্ষতিকর প্রাণীদের বসবাসের উত্তম স্থান হচ্ছে এই বাঁধ। এই প্রাণীগুলো বাঁধে গর্ত করে বসবাস করে। আর বর্ষা মৌসুমে যখন নদীতে পানি বৃদ্ধি পায় সেই পানি বাঁধের এই সব গর্ত দিয়ে বছরের পর বছর চলাচল করে। এর এক পর্যায়ে গর্ত অনেক বড় হয়ে গেলে উপর থেকে মাটি ধ্বসে পড়ে। এবার বাঁধগুলোয় এমন ঘটনাই ঘটেছে। তাই বাঁধের ঝুঁকিপূর্ণ অংশগুলো চিহ্নিত করে মেরামত করতে অনেক বড় বরাদ্দের প্রয়োজন হয় যা আমরা পাই না। ফলে বর্ষা মৌসুমে নদীতে পানি বৃদ্ধি পেলেই বাঁধ ধ্বসে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।

রাজশাহী সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী প্রবীর কুমার গোস্বামী জানান, বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের কোথাও কোন সিপেজ/ ধ্বস দেখা গেলে পানি উন্নয়ন বোর্ড ক্ষতিগ্রস্থ স্থানটি মেরামতের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। যার কারণেই নওগাঁয় এখন পর্যন্ত বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে কোন বড় ধরনের ভাঙ্গন দেখা যায় নাই। আমাদের একটি টিম সার্বক্ষনিক বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধগুলোর ঝুঁকিপূর্ণ অংশগুলো পর্যবেক্ষণ করছে। এছাড়া কোথাও কোন সিপেজের খবর জানার সঙ্গে সঙ্গে সেখানে উপস্থিত হয়ে সেই স্থানটি মেরামত করা হচ্ছে। যদি আকাশের ভারী বৃষ্টিপাত না হয় এবং উজান থেকে আশঙ্কাজনক হারে পানির ঢল নেমে না আসে তাহলে নওগাঁয় এবার আর কোন বন্যার ভয় নেই।

এ বিষয়ে নওগাঁ-৬ (আত্রাই-রাণীনগর) আসনের সাংসদ অ্যাড. ওমর ফারুক সুমন বলেন, আত্রাই উপজেলা বিলবেষ্টিত উপজেলা। তাই ছোট যমুনা কিংবা আত্রাই নদীর বাঁধের কোথাও কোন বড় ধরণের ভাঙ্গন হলেই আত্রাই ও রাণীনগর উপজেলা বন্যার কবলে পড়বে। তাই এবার বন্যা মোকাবেলায় সবধরণের আগাম প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে অগ্রিম কাজ করার জন্য নওগাঁ পানি উন্নয়ন বোর্ডকে নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। বন্যা মোকাবেলায় পাউবোর পাশাপাশি ত্রাণসহ সকল প্রকার প্রস্তুতি রেখেছে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন দপ্তর। এছাড়া সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, সদস্য ও স্থানীয় নেতাকর্মীরাও তাদের সাথে রয়েছে। আমি পানি উন্নয়ন বোর্ডের তাৎক্ষণিক গৃহিত কার্যক্রমকে ধন্যবাদ জানাই। 

-খবর প্রতিদিন/ সি.


আরও খবর



পারিবারিক বিরোধে পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ,জয়পুরহাটে ৫ গ্রামের চার হাজার মানুষ পানিবন্দি

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ২৫ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ১৬ জুলাই ২০২৪ | ৮৮জন দেখেছেন

Image
এস এম শফিকুল ইসলাম,জয়পুরহাট প্রতিনিধিঃবর্ষার পানি নিষ্কাশনের একমাত্র পথ বন্ধ করে দেওয়ায় গত সাত দিন থেকে জয়পুরহাট সদর উপজেলার বম্বু ইউনিয়নের ৫ গ্রামের প্রায় চার হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। গত কয়েক দিনের বৃষ্টির পানিতে গ্রামগুলোর প্রতিটি পথঘাট ডুবে আছে। বর্ষার পানির সাথে বাড়ির অপসারিত ড্রেনের পানি মিশে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। সেই দুর্গন্ধযুক্ত পানি ভেঙ্গে যাতায়াত করছে গ্রামের মানুষরা। গ্রামবাসীর অভিযোগ পারিবারিক বিরোধের জের ধরে বর্ষার পানি নিষ্কাশনের একমাত্র পথ বন্ধ করে শাহ আলম মন্ডল ওরফে আলম নামের স্থানীয় এক প্রভাবশালী ব্যক্তি। এরপর থেকে তারা এ সমস্যায় পড়েছেন। স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার জন্য একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও আলমের একগুয়েমির কারণে কোন সমাধান মেলেনি। 

সরেজমিনে জয়পুরহাট সদর উপজেলার বম্বু ইউনিয়নের ধারকী আকন্দপাড়া, বড়াইল পাড়া,ফকির পাড়া, মন্ডল পাড়া ও প্রধান পাড়া গ্রামে গিয়ে দেখা গেছে, গ্রামগুলোর ইট বিছানো সংযোগ সড়কগুলো পানিতে ডুবে আছে। খড়ের পালা,বাড়ি-ঘরের আঙিনা এবং সীমানা প্রাচীরের নীচ পর্যন্ত ছুঁই ছুঁই করছে বর্ষার পানি। বড়াইল পাড়া জামে মসজিদে যাওয়ার রাস্তাও হাঁটু পানির নীচে। নর্দমার পানির সাথে বর্ষার পানি মিশে নোংড়া হয়ে পড়েছে। কাজের চাপে সেই নোংড়া পানি ভেঙ্গে গ্রামের মানুষরা যাতায়াত করলেও নারী এবং শিশুরা চলাচল করতে পারছে না। বাড়ির আঙিনায় পানি ওঠায় অনেকেই রান্নাও করতে পারছেন না।পানিবন্দি ভুক্তভোগী আকন্দপাড়া গ্রামের মোজাহার আকন্দ বলেন,বাপ-দাদার আমল থেকে দেখে আসছি বর্ষা মৌসুমে পানি নির্দিষ্ট পথে ড্রেনের মাধ্যমে অপসারিত হয়। কিন্তু গত প্রায় বছর তিনেক আগে এ গ্রামের শাহ আলম মন্ডল ওরফে আলম নামের এক প্রভাবশালী ব্যক্তি পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ করে দেন।সেই থেকে পরিবার নিয়ে সমস্যায় পড়েছি আমরা। প্রতিবাদ করতে গেলেই আলম মামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখায়। সমাধানের জন্য ইতোপূর্বে স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন উদ্যোগ নিলেও আলমের কারণেই তা ভেস্তে গেছে। ওই গ্রামের মাছুদ আকন্দ বলেন,অনেক আগে থেকেই এ গ্রামগুলোর পানি ধারকী গ্রামের কয়েক শরীকের মালিকানাধীন পরিত্যক্ত দুটি পুকুর দিয়ে ড্রেনের মাধ্যমে নিষ্কাশন হয়ে আসছিল। 

প্রভাবশালী শাহ আলম মন্ডল পুকুর দুটি দখলে নিয়ে গ্রামের পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ করে দেন। পরে উপজেলা পরিষদ হতে গ্রামবাসীর স্বার্থে ড্রেন পাকা করে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা হলেও শাহ আলম সেই ড্রেনও ভেঙ্গে পানি প্রবাহের পথ বন্ধ করে দেন। ধারকী বড়াইল পাড়া গ্রামের মাহমুদুল হোসেন বলেন,আমরা গ্রামের অধিকাংশ মানুষ শ্রমজীবী ও কৃষক। রাস্তাগুলো পানি বন্দি থাকায় আমরা কৃষি পণ্য বিক্রি করতে পারছি না। আবার অনেক অটোরিক্সা ও ভ্যান চালক গ্রামবাসী অটো বা ভ্যান নিয়ে গ্রামে ঢুকতেও পারছেন না। আমরা খুব কষ্টে আছি। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানকে বলেও কোন সমাধান হয়নি। বড়াইল পাড়া গ্রামের তাজেল ইসলাম বলেন,পানিবন্দি হওয়ায় গ্রামের ছেলে-মেয়েরা স্কুলে যেতে পারছে না। এমনকি রাস্তা ডুবে থাকায় মসজিদেও তারা ঠিকমত যেতে পারছেন না।  

গ্রামবাসীর অভিযোগের ভিত্তিতে এ বিষয়ে কথা বলতে গেলে অভিযুক্ত ধারকী গ্রামের শাহ আলম মন্ডল প্রতিবেদকের সাথে অশোভন আচরণ করেন। তিনি বলেন,আমার জায়গা দিয়ে আমি পানি যেতে দিব না। লেখা-লেখি করে কোন লাভ হবে না’। এ সময় উপজেলা পরিষদের নির্মাণ করা ড্রেনের ভেঙ্গে ফেলা অংশের ছবি তুলতে গেলে তিনি বাধা দেন। 

জেলা প্রশাসক সালেহীন তানভীর গাজী বলেন,‘পানি নিষ্কাশনের গতিপথের প্রবাহ বন্ধ করা কারো কোন অধিকার নেই। শীঘ্রই এটি উচ্ছেদ করা হবে। ক্ষতিগ্রস্থরা ফৌজদারী কার্যবিধির ১৩৩ ধারায় অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে অভিযোগ দিলে দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

আরও খবর