Logo
আজঃ Tuesday ২৮ June ২০২২
শিরোনাম
নাসিরনগরে বন্যার্তদের মাঝে ইসলামী ফ্রন্টের ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ রাজধানীর মাতুয়াইলে পদ্মাসেতু উদ্ধোধন উপলক্ষে দোয়া মাহফিল রূপগঞ্জে ভূমি অফিসে চোর রূপগঞ্জে গৃহবধূর বাড়িতে হামলা ভাংচুর লুটপাট ॥ শ্লীলতাহানী নাসিরনগরে পুকুরের মালিকানা নিয়ে দু পক্ষের সংঘর্ষে মহিলাসহ আহত ৪ পদ্মা সেতু উদ্ভোধন উপলক্ষে শশী আক্তার শাহীনার নেতৃত্বে আনন্দ মিছিল করোনা শনাক্ত বেড়েছে, মৃত্যু ২ জনের র‍্যাব-১১ অভিমান চালিয়ে ৯৬ কেজি গাঁজা,১৩৪৬০ পিস ইয়াবাসহ ৬ মাদক বিক্রেতাকে গ্রেফতার করেছে বন্যাকবলিত ভাটি অঞ্চল পরিদর্শন করেন এমপি সংগ্রাম পদ্মা সেতু উদ্বোধনে রূপগঞ্জে আনন্দ উৎসব সভা ॥ শোভাযাত্রা
চার শতাধিক বাড়িতে অভিযান

গাজীপুরে তিতাসের অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন অভিযান,৪ লক্ষ টাকা জরিমানা

প্রকাশিত:Monday ১৩ June ২০২২ | হালনাগাদ:Tuesday ২৮ June ২০২২ | ১২৪জন দেখেছেন
Image

নাজমুল হাসানঃ 

গাজীপুরের কুনিয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে  অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন এন্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি। 


শনিবার সকাল সাড়ে ১১টা থেকে গাজীপুরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট থান্ডার কামরুজ্জামানের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।


 এসময় অবৈধ গ্যাস সংযোগ, অবৈধ ভাবে বেশি চুলা ব্যবহারের জন্য প্রায় ৪ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। এছাড়া অবৈধ চুলা, বিপুল পরিমাণ পাইপ, রাইজার ও সরঞ্জাম জব্দ করা হয়।



তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন এন্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির গাজীপুর জোনের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী  নৃপেন্দ্রনাথ    বিশ্বাস জানান, সিটি কর্পোরেশনের কুনিয়া এলাকায় অবৈধ গ্যাস সংযোগ রয়েছে এমন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এসময় অবৈধ গ্যাস সংযোগ এবং অবৈধ ভাবে অতিরিক্ত চুলা ব্যবহারের দায়ে সাতজনকে ৪ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। 


এছাড়া অভিযানে বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে  চার শতাধিক বাড়ির ৮শ’ গ্যাসের চুলার সংযোগ বিচ্ছিন্ন সহ বিপুল পরিমাণ পাইপ, রাইজার ও অন্যান্য সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে। অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।


আরও খবর



চাঁদে পানির খোঁজ চীনের

প্রকাশিত:Thursday ১৬ June ২০২২ | হালনাগাদ:Monday ২৭ June ২০২২ | ৪৬জন দেখেছেন
Image

চীনের চ্যাঙই-৫ চন্দ্রযান চাঁদ থেকে নমুনা অর্থাৎ শিলা সংগ্রহ করেছে। সেখানে পানির উপস্থিতির ইঙ্গিত আগেই মিলেছিল। এখন পরীক্ষার মাধ্যমে তা নিশ্চিত হওয়া গেলো। চীনের বিজ্ঞানীরা এ তথ্য জানিয়েছে। চলতি সপ্তাহে একটি ম্যাগাজিনে এ বিষয়ে তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে। রুশ সংবাদমাধ্যম আরটির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

২০২০ সালের ডিসেম্বরে চন্দ্রযানটি চাঁদে পৌঁছায়। এরপর এটি এক দশমিক সাত কিলোগ্রাম শিলা, চন্দ্র মাটি সংগ্রহ করে। সংগ্রহ করা নমুনাগুলোর রাসায়নিক গঠন পরিমাপ করতে অন-বোর্ড যন্ত্রগুলো ব্যবহার করা হয়।

তথ্য অনুযায়ী, চাঁদের কিছু শিলায় পানির অণুগুলো পার্টস প্রতি মিলিয়নে ১২০ থাকতে পারে। অন্যান্য শিলায় এর পরিমাণ হতে পারে ১৮০।

এখন চাইনিজ একাডেমি অব সায়েন্সের একটি দল চ্যাঙই-৫ এর মাধ্যমে পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনা নমুনায় পানির উপস্থিতি নিশ্চিত করেছে।

তবে বিজ্ঞানীদের দ্বারা বিশ্লেষণ করা মাটি তুলনামূলকভাবে শুষ্ক বলে প্রমাণিত হয়েছে। পার্টস প্রতি মিলিয়নে পানির মাত্রা রয়েছে ২৮ দশমিক পাঁচ শতাংশ।

চীন যে প্রযুক্তির ক্ষেত্রে এক বড় শক্তি হয়ে উঠছে, মহাকাশ অভিযান দিয়ে তারা সেটা দেখাতে চাইছে। তারা বলতে চাইছে, বিশ্বমঞ্চে তাদের এখন এক বড় শক্তি হিসেবে সমীহ করে চলার সময় এসেছে।


আরও খবর



চা রপ্তানিতে পুরোনো গৌরব ফেরাতে মানোন্নয়নের উদ্যোগ

প্রকাশিত:Saturday ০৪ June ২০২২ | হালনাগাদ:Sunday ২৬ June ২০২২ | ৯৯জন দেখেছেন
Image

সারা বিশ্বেই চা অত্যন্ত জনপ্রিয় পানীয় হিসেবে সুপরিচিত। বাংলাদেশও এর ব্যতিক্রম নয়। দিনে দিনে বাংলাদেশেও চায়ের কদর বাড়ছে। দেশের অভ্যন্তরেও এখন চায়ের বড় বাজার। এর সঙ্গে রয়েছে রপ্তানি চাহিদা। সবমিলিয়ে দেশে বর্তমানে চা শিল্প টেকসই ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়েছে।

বর্তমানে দেশে ১৬৭টি বৃহৎ চা বাগান এবং আট হাজারেরও বেশি ছোট আকারের চা বাগান রয়েছে। ২০২১ সালে দেশে রেকর্ড পরিমাণ ৯৬ দশমিক ৫১ মিলিয়ন কেজি চা উৎপাদিত হয়েছে। তবে চায়ের উৎপাদন বাড়লেও রপ্তানিতে দিন দিন ভাটা পড়ছে। এর কারণ হিসেবে অভ্যন্তরীণ চাহিদা বৃদ্ধিকেই দেখা হচ্ছে। একইসঙ্গে রপ্তানি বাড়াতে চায়ের মান বাড়ানোর ওপরও তাগিদ দিয়েছেন খাত সংশ্লিষ্টরা। তারা আশা করছেন, আগামী ২০২৫ সাল নাগাদ চা রপ্তানিতে সুখবর পেতে পারে বাংলাদেশ।

চা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, ২০০১ সালে দেশে চা উৎপাদনের পরিমাণ ছিলে পাঁচ কোটি ৩১ লাখ কেজি। সে বছর রপ্তানি করা হয় এক কোটি ২৯ লাখ কেজি চা। এরপর ২০০৪ সাল পর্যন্ত উৎপাদনকৃত চা থেকে দেশের চাহিদা মিটিয়েও রপ্তানির পরিমাণ ছিল আশানুরূপ। তবে ২০২১ সালে দেশে চা উৎপাদন ৯ কোটি ৬৫ লাখ কেজি হলেও রপ্তানি হয়েছে মাত্র ৬৮ হাজার কেজি। ফলে সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে দেশে চায়ের উৎপাদন বাড়লেও রপ্তানি কমছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিগত দুই দশকে দেশে চায়ের ব্যবহার কয়েকগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। ঘরে ঘরে চা পান বাড়ার কারণে দেশের অভ্যন্তরেও চাহিদা বেড়েছে। ফলে চায়ের উৎপাদন বাড়লেও সেভাবে রপ্তানি করা যাচ্ছে না। তবে ২০২৫ সালের মধ্যে ১৪০ মিলিয়ন কেজি চা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে রোডম্যাপ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ওই সময়ে (২০২৫ সালে) চায়ের সম্ভাব্য অভ্যন্তরীণ চাহিদা হবে ১২৯ মিলিয়ন কেজি। ফলে অভ্যন্তরীণ চাহিদা মিটিয়ে অতিরিক্ত ১১ মিলিয়ন কেজি চা রপ্তানি করা সম্ভব হবে। একসময় চা বাংলাদেশের অন্যতম রপ্তানি পণ্য হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

jagonews24

চা বোর্ডের কর্মকর্তারা বলছেন, বঙ্গবন্ধুর উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় এবং বর্তমান সরকারের নানামুখী কার্যকরী পদক্ষেপের ফলে চা শিল্প আজ টেকসই ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে দেশে ১৬৭টি বৃহৎ চা বাগান এবং আট হাজারের অধিক ছোট আকারের চা বাগান রয়েছে। ২০২১ সালে দেশে রেকর্ড পরিমাণ ৯৬ দশমিক ৫১ মিলিয়ন কেজি চা উৎপাদিত হয়েছে। এ বছর (২০২১ সালে) শুধু উত্তরাঞ্চলের সমতলের চা বাগান থেকে রেকর্ড পরিমাণ ১৪ দশমিক ৫৫ মিলিয়ন কেজি চা জাতীয় উৎপাদনে যুক্ত হয়েছে।

চা রপ্তানি প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেন, দেশে চা উৎপাদনের বিপুল সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। একইসঙ্গে আমাদের দেশে চায়ের ব্যবহার কয়েকগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। দেশে ঘরে ঘরে চায়ের ব্যবহার বাড়ছে, সে কারণে উৎপাদন বাড়লেও সেভাবে আমরা রপ্তানি করতে পারছি না। কারণ আমাদের দেশের মানুষের অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে, চায়ের ব্যবহার বেড়েছে। এ অবস্থায় চা উৎপাদন বৃদ্ধি করতে সরকার বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। চায়ের নতুন ও উন্নত জাত উদ্ভাবনে গবেষণা বৃদ্ধি করা হয়েছে। কৃষকদের চা চাষে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে, তাদের প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, এতোদিন শুধু দেশের পাহাড়ি অঞ্চল অর্থাৎ চট্টগ্রাম, মৌলভীবাজার ও সিলেটে চা উৎপাদিত হতো। তবে এখন দেশের উত্তরাঞ্চল- পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও ও লালমনিহাটের সমতল ভূমিতেও চা উৎপাদিত হচ্ছে। এতে করে অন্য ফসল চাষে অনুপযোগী জমিতে চা উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে। ফলে দেশে চা শিল্পের বিপুল সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। চা উৎপাদনের এ ধারা অব্যাহত থাকলে আমরা দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে বিপুল পরিমাণ চা রপ্তানি করতে পারবো।

২০২৫ সাল নাগাদ চা রপ্তানিতে সুখবরের আশা
দেশে চায়ের চাহিদা বাড়তে থাকায় রপ্তানি ধারাবাহিকভাবে কমছে। এক কোটি ২৯ লাখ কেজি দিয়ে শুরু করা রপ্তানিকৃত চা এখন কমে ৬০ হাজার কেজি হয়েছে। ২০২০ সালে দেশীয় রপ্তানিকারকরা ২১ লাখ ৭০ হাজার কেজি চা রপ্তানি করে আয় করেন প্রায় ৩৫ কোটি টাকা। ২০২১ সালে সেই আয় ১৮ কোটিতে নেমে এসেছে। তবে ২০২৫ সাল নাগাদ চা রপ্তানিতে সুখবর মিলবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

jagonews24

চা-বাগান মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ টি অ্যাসোসিয়েশন সিলেট শাখার সভাপতি জি এম শিবলি জাগো নিউজকে বলেন, স্বাধীনতার পর আমাদের চায়ের উৎপাদন ছিলে ৩০ মিলিয়ন কেজি। সেসময় অভ্যন্তরীণ চাহিদা ছিল ৫ মিলিয়ন কেজি। তখন আমরা ২৫ মিলিয়ন চা রপ্তানি করতাম। তবে গত কয়েক বছর ধরে আমাদের অভ্যন্তরীণ চাহিদা হয়েছে ৯৫ মিলিয়ন, উৎপাদনও প্রায় একই। ফলে দেশের চাহিদা মিটিয়ে রপ্তানির তেমন সুযোগ নেই। চা অনেকটা আবহাওয়ার ওপর নির্ভর করে। অনেক সময় আবহাওয়ার কারণে চা পাতা আসার সময় পিছিয়ে যায়। বৃষ্টিও দরকার, আবার রোদও দরকার। সবকিছু সমন্বয় না হলেও সমস্যা হয়। আমরা উৎপাদন বাড়াতে কাজ করছি। আমাদের উৎপাদন আরও বাড়বে। আশা করছি ভবিষ্যতে আবার আগের মতো চা রপ্তানি করতে পারবো।

তিনি আরও বলেন, আগে শুধু সিলেট, চট্টগ্রাম এবং কুমিল্লার কিছু অংশে চা হতো। এখন উত্তরবঙ্গে প্রচুর চা হচ্ছে। বিশেষ করে তেঁতুলিয়ায়। আমাদের মোট উৎপাদনের ১৫ থেকে ২০ শতাংশ সেখানেই হচ্ছে। ২০২৫ সালের মধ্যে আমাদের উৎপাদন আরও বাড়বে। আশা করছি তখন থেকে আমরা রপ্তানি বাড়াতে পারবো। এখনও অল্প কিছু রপ্তানি হচ্ছে। ফিনলে গ্রিন টি আমরা পাকিস্তানে রপ্তানি করি। আবুল খায়ের, ইস্পাহানি- তারা বাইরে পাঠায় অনেক সময়, তবে সেটা অল্প।

বাংলাদেশ চা বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মো. আশরাফুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, প্রথম কথা হলো আগে আমাদের আভ্যন্তরীণ চাহিদা মিটিয়ে বাইরে রপ্তানি করবো। আমাদের নিজস্ব লোককে আগে চা দিতে চাই, তারপর বাইরের দেশ। চা এমন একটি শিল্প, ইট টেক সাম টাইম (এটা কিছুটা সময় নেয়)। আজকে যদি পরিকল্পনা করা হয় চায়ের চারাগাছ লাগানোর, সেটা তিন-চার বছর পর পাতা দেওয়া শুরু করবে।

তিনি বলেন, আমাদের লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ২০২৫ সালে ১৪০ মিলিয়ন কেজি চা উৎপাদন হবে বলে আশা করছি। তখন আমরা ১৫ থেকে ২০ মিলিয়ন কেজি চা রপ্তানি করতে পারবো। বৈশ্বিক মার্কেট ধরতে গেলে চায়ের কোয়ালিটি বাড়াতে হবে। সে লক্ষ্যে আমরা কাজ করছি। অবশ্যই চায়ের হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনবো, সেটি ফিরে আসতে বাধ্য। আমরা দেখছি চা উৎপাদনের পরিমাণ বেড়ে গেছে, এখন কোয়ালিটি ভালো হবে। আমাদের ব্র্যান্ডিং, প্যাকেজিংও উন্নত হয়েছে। আমাদের প্যাকিং শ্রীলঙ্কা এবং চীনের মতো হয়েছে।

যেভাবে বাংলাদেশে চায়ের যাত্রা শুরু
ব্রিটিশ শাসনামলে বাংলাদেশের বর্তমান ভূ-খণ্ডের মধ্যে চট্টগ্রামেই প্রথম চা চাষের সূচনা হয়। ১৮৪০ সালে পরীক্ষামূলকভাবে চট্টগ্রামের পাইওনিয়ার বাগানে (বর্তমান চট্টগ্রাম ক্লাব ও আশপাশের পাহাড়ি এলাকা) চা চাষ শুরু হয়। ১৮৪০ সালে চট্টগ্রামের তৎকালীন কালেক্টর স্কোনস আসাম থেকে চায়ের বীজ এবং কলকাতার বোটানিক্যাল গার্ডেন থেকে চায়না চারা সংগ্রহ করেন। তিনি এসব চারা ও বীজ পাইওনিয়ার বাগানে রোপণ করেন এবং চা বাগান গড়ে তোলেন। স্কোনস ১৮৪০ থেকে ১৮৫০ সাল পর্যন্ত কালেক্টর হিসেবে চট্টগ্রামে দায়িত্ব পালন করেছেন। ভারতীয় উপমহাদেশের বর্তমান বাংলাদেশ অংশে প্রথম চা চাষের শুরু এ বাগান দিয়েই। ১৮৪০ সালে ব্যক্তি উদ্যোগে প্রথম চা আবাদের শুরু হলেও এ অঞ্চলে বাণিজ্যিকভাবে চা চাষের শুরু হয় ১৮৫৪ সালে সিলেটের মালনিছড়া চা বাগানে। পরে ধীরে ধীরে চা এ অঞ্চলের অন্যতম শিল্প হিসেবে বিকশিত হতে থাকে।

দেশে চা বোর্ড প্রতিষ্ঠা হয় ১৯৫১ সালে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৫৭ সালের ৪ জুন থেকে ১৯৫৮ সালের ২৩ অক্টোবর পর্যন্ত প্রথম বাঙালি হিসেবে চা বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি চেয়ারম্যান থাকাকালীন ঢাকার মতিঝিলে চা বোর্ডের প্রধান কার্যালয়ের নির্মাণকাজ ত্বরান্বিত করেন। বঙ্গবন্ধু মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে অবস্থিত টি রিসার্চ স্টেশনে ল্যাবরেটরি ও লাইব্রেরি স্থাপনের মাধ্যমে গবেষণা কার্যক্রম জোরদারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। তিনি টি অ্যাক্ট-১৯৫০ সংশোধনের মাধ্যমে চা বোর্ডের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য কন্ট্রিবিউটরি প্রভিডেন্ট ফান্ড (সিপিএফ) চালু করেন।

jagonews24

বঙ্গবন্ধুর সরকার ১৯৭১ সালে মহান স্বাধীনতার পর যুদ্ধোত্তর মালিকানাবিহীন/ পরিত্যক্ত চা বাগান পুনর্বাসনে ‘বাংলাদেশ টি ইন্ডাস্ট্রিজ ম্যানেজমেন্ট কমিটি (বিটিআইএমসি)’ গঠন করেন। তিনি চা কারখানার যন্ত্রপাতি আমদানি, অবকাঠামো উন্নয়ন ও উৎপাদনকারীদের নগদ ভর্তুকি প্রদানের ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। বঙ্গবন্ধু চা শ্রমিকদের শ্রমকল্যাণ যেমন- বিনামূল্যে বাসস্থান, সুপেয় পানি, প্রাথমিক শিক্ষা এবং রেশন প্রাপ্তি নিশ্চিত করেন। তিনি ১৯৭৩ সালে টি রিসার্চ স্টেশনকে পূর্ণাঙ্গ চা গবেষণা ইনস্টিটিউটে (বিটিআরআই) উন্নীত করেন। চা বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং পরে দেশ স্বাধীনের পর প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনকালে বঙ্গবন্ধু চা শিল্পের উন্নয়নে অবিস্মরণীয় অবদান রাখেন।

দ্বিতীয়বারের মতো উদযাপিত হচ্ছে জাতীয় চা দিবস
‘চা দিবসের সংকল্প, সমৃদ্ধ চা শিল্প’ প্রতিপাদ্য নিয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় বাংলাদেশ চা বোর্ডের উদ্যোগে আজ (৪ জুন) দ্বিতীয়বারের মতো ‘জাতীয় চা দিবস’ উদযাপন করা হচ্ছে। দেশের চা শিল্পের জন্য দিবসটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীতে চা শিল্পে তার অসামান্য অবদান ও চা বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে তার যোগদানের তারিখকে স্মরণীয় করে রাখতে সরকার এ দিবস ঘোষণা করে। দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে চা শিল্পের ভূমিকা বিবেচনায় ২০২০ সালের ২০ জুলাই মন্ত্রিসভার বৈঠকে ৪ জুনকে ‘জাতীয় চা দিবস’ ঘোষণা করা হয়।

এবছর দ্বিতীয়বারের মত বর্ণাঢ্য আয়োজনে উদযাপিত হতে যাচ্ছে ‘জাতীয় চা দিবস’। ঢাকার ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে চা দিবসের মূল অনু্ষ্ঠানে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমদ।

জাতীয় চা দিবস-২০২২ উপলক্ষে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আলোচনা সভা ও দিনব্যাপী চা মেলা চলবে। চা মেলাতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের চা প্রদর্শন ও বিক্রি করা হবে। দর্শনার্থীদের জন্য দিনব্যপী চা মেলা উন্মুক্ত থাকবে। এছাড়াও বঙ্গবন্ধু প্যভেলিয়ন এবং শ্রীমঙ্গলস্থ টি মিউজিয়ামে সংরক্ষিত চা শিল্পের দুর্লভ উপকরণ প্রদর্শনের ব্যবস্থা থাকবে।

ঢাকার পাশাপাশি দেশের চা উৎপাদনকারী অঞ্চল চট্টগ্রাম, সিলেট, পঞ্চগড় ও লালমনিরহাটে দিবসটি উপলক্ষে বণার্ঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। চা বোর্ডের প্রধান কার্যালয় চট্টগ্রামে, মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলস্থ বিটিআরআইতে এবং উত্তরাঞ্চলের পঞ্চগড় ও লালমনিরহাট জেলায় চা দিবস উপলক্ষে আলোচনা অনুষ্ঠান, র‌্যালিসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এছাড়াও পঞ্চগড়ের জেলা প্রশাসন প্রাঙ্গণে একটি চা মেলা আয়োজন করা হবে।


আরও খবর



রাশিয়ার বিরুদ্ধে জি-৭ নেতাদের একসঙ্গে থাকার আহ্বান বাইডেনের

প্রকাশিত:Monday ২৭ June ২০২২ | হালনাগাদ:Tuesday ২৮ June ২০২২ | ২২জন দেখেছেন
Image

ইউক্রেন আগ্রাসনের পর বিশ্বে খাদ্য ও জ্বালানি সংকটের কারণে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন রাশিয়ার বিরুদ্ধে জি-৭ নেতাদের এক সঙ্গে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। রোববার (২৬ জুন) সম্মেলনে অংশ নিয়ে তিনি এ আহ্বান জানান।

জার্মানির ব্যাভারিয়ান আল্পসে বৈঠকের শুরুতে, সাতটি ধনী দেশের মধ্যে চারটি দেশ রাশিয়ার সোনা আমদানি নিষিদ্ধ করার জন্য মস্কোর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের সিদ্ধান্তের কথা জানায়।

রোববার ব্রিটিশ সরকার জানায় যে, ব্রিটেন, যুক্তরাষ্ট্র, জাপান এবং কানাডা রাশিয়ার স্বর্ণ আমদানিতে নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে একমত পোষণ করেছে।

জি-৭ এর বাকি তিন দেশ জার্মানি, ফ্রান্স ও ইতালি রাশিয়ার স্বর্ণ আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপের দলে যোগ দেবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন।

গতবছর রাশিয় দেড় হাজার কোটি ডলারের বেশি আয় করেছে স্বর্ণ রপ্তানি করে।

জি-৭ নেতারা চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব মোকাবিলা করতে এবং খাদ্য ও জ্বালানির দাম বৃদ্ধির প্রভাবকে কমিয়ে আনতে উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য ছয়শ বিলিয়ন ডলার ব্যক্তিগত ও সরকারি তহবিল সংগ্রহের প্রতিশ্রুতিতে সম্মত হয়েছেন।

জি-৭ এর আয়োজক জার্মান চ্যান্সেলর ওলাফ শলৎস শীর্ষ সম্মেলনে অংশীদার দেশ হিসেবে সেনেগাল, আর্জেন্টিনা, ইন্দোনেশিয়া, ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকাকেে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। জলবায়ু, খাদ্য নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য, লিঙ্গের সমতায়ন ও গণতন্ত্রসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনার জন্য প্রতি বছর জি-৭ নেতাদের এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এবার জি-৭ সম্মেলনে গুরুত্ব পাচ্ছে ইউক্রেন যুদ্ধে আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া, যুদ্ধের কারণে নিত্যপণ্যের মূল্যের ঊর্ধ্বগতি, জ্বালানির সংকট ও বিশ্বজুড়ে খাদ্য সংকট কাটিয়ে উঠার উপায়সমূহ।

সূত্র: রয়টার্স, এনডিটিভি


আরও খবর



সেকেন্ড হ্যান্ড ফোন চোরাই কি না বুঝবেন যেভাবে

প্রকাশিত:Tuesday ২৮ June ২০২২ | হালনাগাদ:Tuesday ২৮ June ২০২২ | ১৪জন দেখেছেন
Image

অনেকেই আছেন যাদের শখ নতুন মডেলের ফোন ব্যবহার করা। একারণে কিছু দিন পর পর অনেকেই ফোন বদলে ফেলেন। এদিকে যেহেতু নতুন ফোনের দাম অনেকটাই বেশি সেকারণে অনেকেই সেকেন্ড হ্যান্ড ফোন কেনেন।

পুরোনো ফোনের দাম তুলনায় অনেকটাই কম। তবে এতে বিপদের আশঙ্কাও অনেক বেশি। যদি সেটা হয় চোরাই ফোন তাহলে অনেক সমস্যায় পড়তে পারেন। এক্ষেত্রে পরিচিত ব্যক্তির কাছ থেকেই ব্যবহৃত ফোন কিনতে পারেন। যদি কোনো দোকান বা অপরিচিত ব্যক্তি থেকে পুরনো স্মার্টফোন কিনতে চান তাহলে আগেই পরোখ করে নিন সেটি চোরাই কি না।

আপনি না জেনে চোরাই ফোন ব্যবহার করে বিভিন্ন সমস্যায় পড়তে পারেন। কারণ যে ব্যক্তির ফোন চুরি করা হয়েছে তিনি নিশ্চয় থানায় অভিযোগ দায়ের করবেন। এরপর তদন্তের পর আপনি অভিযুক্ত হতে পারেন। এছাড়াও রয়েছে অনেক সমস্যা।

এদিকে পুলিশের ঝামেলা এড়াতে চোরাই কারবারিরা অনেক ক্ষেত্রে ফোনের IMEI নম্বর পালটে দেয়। ফলে পুলিশের তরফে ট্র্যাক করতে সমস্যা হয়। এর জন্য একাধিক সফটওয়ারের সাহায্য নেয় চোরাই কারবারিরা। তাই কোনো পুরোনো ফোন কেনার আগে অবশ্যই দেখা দরকার আপনার ফোনটি চোরাই কি না।

এজন্য ফোন কেনার আগে সেটির আইএমইআই (IMEI) নম্বর যাচাই করে নিন। আইএমইআই নম্বরে যদি এমন কিছু তথ্য থাকে যা স্মার্টফোন মডেলের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় তাহলে বুঝতে হবে আপনি যে পুরোনো ফোন কিনছেন সেই ফোনটি চোরাই।

জেনে নিন কীভাবে ফোনের আইএমইআই (IMEI) নম্বর যাচাই করবেন-
> আইএমইআই নম্বর পরীক্ষা করতে WWW.imei.info-তে লগইন করুন।
> আপনি যে পুরোনো ফোনটি কিনতে চাইছেন সেই ফোনের আইএমইআই নম্বরটি সেখানে দিন এবং সার্চ করুন।
> সঙ্গে সঙ্গে ফোনের বিস্তারিত তথ্য বেরিয়ে এসেছে। এর মধ্যে থাকবে ফোনের মডেল, তৈরির দিন এবং ফোন সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য।

যদি কোনো কারণে সেখানে কোনো তথ্য না দেখা যায় অথবা যদি এমন কোনো তথ্য দেখা যায় যা আপনার ফোনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় তাহলে বুঝতে হবে ফোনটি চোরাই।


আরও খবর



চাকরির সুযোগ দিচ্ছে প্রাণ গ্রুপ

প্রকাশিত:Saturday ০৪ June ২০২২ | হালনাগাদ:Saturday ২৫ June ২০২২ | ৫৩জন দেখেছেন
Image

শীর্ষস্থানীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠান প্রাণ গ্রুপে ‘মেডিকেল অফিসার’ পদে জনবল নিয়োগ দেওয়া হবে। আগ্রহীরা আগামী ০৩ জুলাই পর্যন্ত আবেদন করতে পারবেন।

প্রতিষ্ঠানের নাম: প্রাণ গ্রুপ
বিভাগের নাম: একেসিএমএইচ

পদের নাম: মেডিকেল অফিসার
পদসংখ্যা: নির্ধারিত নয়
শিক্ষাগত যোগ্যতা: এমবিবিএস
অভিজ্ঞতা: ০১-০৫ বছর
বেতন: আলোচনা সাপেক্ষে

চাকরির ধরন: ফুল টাইম
প্রার্থীর ধরন: নারী-পুরুষ
বয়স: ৩৫ বছর
কর্মস্থল: নাটোর

আবেদনের নিয়ম: আগ্রহীরা jobs.bdjobs.com এর মাধ্যমে আবেদন করতে পারবেন।

আবেদনের শেষ সময়: ০৩ জুলাই ২০২২

সূত্র: বিডিজবস ডটকম


আরও খবর