Logo
আজঃ Monday ০৬ February ২০২৩
শিরোনাম

ফারদিন হত্যা: ডজনখানেক চিহ্নিত,চানঞ্চ্যকর তথ্য উদঘান

প্রকাশিত:Tuesday ১৫ November ২০২২ | হালনাগাদ:Monday ০৬ February ২০২৩ | ৯০জন দেখেছেন
Image

শফিক আহমেদঃ-

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) শিক্ষার্থী ফারদিন নূর পরশ হত্যার ঘটনায় জড়িত সন্দেহে এখন পর্যন্ত প্রায় ডজনখানে অপরাধীকে আটক করা হয়েছে। যারা নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের চিহ্নিত মাদককারবারি ও সন্ত্রাসী। মূলত ফারদিন হত্যায় তাদের সম্পৃক্ততা পাওয়া যেতে পারে বলেই আটক করা হয়। তবে দফায় দফায় তাদের ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হলেও এখনো কূল-কিনারা হয়নি ফারদিন হত্যা রহস্যের।


গোয়েন্দাদের ধারণা, ফারদিন ঘটনার দিন রাতে রূপগঞ্জের কায়েতপাড়ার চনপাড়া বস্তিতে পলাশ নামে একজনের মোটরসাইকেলে সেখানে যেতে পারেন। এই পলাশকে পাওয়া গেলে কিছু তথ্য পাওয়া যেতে পারে।



এদিকে সোমবার সকাল ১০টায় ফারদিন হত্যার বিচার ও সঠিক তদন্তের দাবিতে ক্যাম্পাসের শহীদ মিনারে মানববন্ধন করবেন বুয়েট শিক্ষার্থীরা।


ফারদিন নিখোঁজের দিন চনপাড়া বস্তিতে মারামারির ঘটনা ঘটেছিল। আবার ফারদিনের সবশেষ মোবাইলের লোকেশন ছিল চনপাড়া। তবে মারামারির সময় ফারদিনকে হত্যা করা হয়েছে কি না সেটা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনির একাধিক সূত্র  জানিয়েছে, ওই রাতে ফারদিন রূপগঞ্জের কায়েতপাড়ার চনপাড়া বস্তিতে কেন গিয়েছিল, কেউ তাকে নিয়ে গিয়েছিল কি না, মাদক বা নারী ঘটিত কোনো কিছু আছে কি না, কেনই বা তাকে হত্যা করা হলো এসব বিষয় নিয়ে কাজ চলছে। পাশাপাশি নিজেও আত্মহত্যা করেছে কি না এবিষয়ে সামনে রেখে আগানো হচ্ছে।


একাধিক গোয়েন্দা সংস্থার ঊধ্বর্তন কর্মকর্তা  জানিয়েছেন, ফারদিনের মৃত্যুর আসল রহস্য উদঘাটনে এখন পর্যন্ত যতদূর আগানো গেছে, তার সবই অনুমাননির্ভর এবং তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায়। এখনো শক্ত-পোক্ত কোনো প্রমাণ হাতে আসেনি। তাই তার মৃত্যু রহস্যের জটও খুলছে না। চেষ্টা চলছে, তবে চূড়ান্ত ফলাফল আসতে সময় লাগবে।


বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, এখন পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রায় ডজনখানেক অপরাধীকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করছে। তবে তাদের কাছ থেকে ফারদিন সম্পর্কে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। একটি যোগসূত্রের মাধ্যমে রায়হান নামে একজনকে গত শনিবার আটক করেছে র‌্যাব। এই রায়হান গত বৃহস্পতিবার র‌্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত সিটি শাহীনের অন্যতম সহযোগী। শাহীনের বিরুদ্ধে হত্যা, ডাকাতি, মাদকসহ প্রায় দুই ডজন মামলা ছিল। ফারদিনের মৃত্যুতে শাহীন জড়িত এমন কোনো তথ্যও এখনো পাওয়া যায়নি। গুলিস্তান থেকে প্রাইভেটকারসহ শাওন নামে আরেক মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।


দেশসেরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী হয়ে অপরাধ প্রবণ এলাকায় কেন গেল জানতে চাইলে মামলা তদন্ত সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘যতটুকু তথ্য পেয়েছি ফারদিন দুষ্টু প্রকৃতির ছেলে ছিল না। কোনো নেশায় আসক্ত বা রাজনৈতিক কোনো মতাদর্শও ছিল না। তার মোবাইলের সবশেষ অবস্থা ছিল চনপাড়া বস্তি এলাকায়। এতো রাতে ফারদিন ওখানে কেন যাবে বা কেউ তাকে সেখানে নিয়ে গেল কি না সেটা নিয়ে কাজ করছি। কারণ, ফারদিন নিজে সেখানে (চনপাড়া) তো নাও যেতে পারে; হয়ত অন্য কেউ সেখানে নিয়ে গেছে। আবার ঢাকার কোথাও ফারদিনের সঙ্গে এমন কারও দেখা হতে পারে যে চনপাড়া নিয়ে গেছে। সেখানেই কোনো ঝামেলা থেকে তাকে হত্যা করা হতে পারে। তবে তথ্য প্রমাণ সংগ্রহে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।’


বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্ভেতে একাধিকবার ওই বস্তিতে যাওয়া আসা ছিল ফারদিনের। সেই কারণেই কি ঘটনার দিন ফারদিন চনপাড়া গিয়েছিলেন এমন কোনো তথ্য পাওয়া গেছে কি না জানতে চাইলে এই কর্মকর্তা বলেন, ‘না আমরা এমন কিছু পাইনি। তবে অনেকগুলো বিষয় নিয়ে তদন্তে আগাচ্ছি। কিন্তু যতক্ষণ না সফল হচ্ছি, ততক্ষণ নিশ্চিত হয়ে কিছু বলা যাচ্ছে না।’


একটি গোয়েন্দা সংস্থার বরাতে জানা গেছে, ফারদিন স্পেন যেতে পরিবারের কাছে টাকা চেয়েছিলেন। কিন্তু পরিবার থেকে তা দেওয়া হয়নি। এ নিয়ে তার মধ্যে হতাশা ছিল। সেই হতাশা থেকে নিজেই আত্মহত্যা করেছেন কি না খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তাছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ে কারো সঙ্গে দ্বন্দ্ব থেকে তাকে হত্যা করা হয়েছে কি না তারও অনুসন্ধান চলছে।


মোবাইলের সবশেষ অবস্থান অনুযায়ী ৪ নভেম্বর রামপুরা থেকে চনপাড়া বস্তিতে যান বুয়েট শিক্ষার্থী ফারদিন নূর পরশ। নিখোঁজের তিন দিন পর (৭ নভেম্বর) রাতে নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদী থেকে ফারদিনের মরদেহ উদ্ধার করে নৌ পুলিশ। এর আগে ছেলে নিখোঁজের ঘটনায় তার বাবা রামপুরা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। ফারদিন বুয়েটের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিবেটিং ক্লাবেরও যুগ্ম-সম্পাদক ছিলেন তিনি। তিন ভাইয়ের মধ্যে ফারদিন সবার বড়।


তাদের বাড়ি নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানার কুতুবপুর ইউনিয়নের নয়ামাটি এলাকায়। তবে গত দুই বছর যাবত তারা সপরিবারে রাজধানীর ডেমরা থানার শান্তিবাগ কোনাপাড়া এলাকার একটি বাড়িতে ভাড়ায় বসবাস করছিলেন। পরশের বাবা কাজী নূর উদ্দিন রানা একটি ইংরেজি পত্রিকায় দীর্ঘ ৪৫ বছর ধরে সাংবাদিকতা করছেন। ছেলের মরদেহ উদ্ধারে পর রামপুরা থানায় মামলা করেন তিনি। এতে ফারদিনের বান্ধবী একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী বুশরার নাম উল্লেখ করে কয়েকজনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়। বর্তমানে বুশরা পুলিশি রিমান্ডে রয়েছেন। তবে এই হত্যায় এখন পর্যন্ত তার সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

খবর প্রতিদিন/ সি.বা


আরও খবর