Logo
আজঃ Tuesday ২৮ June ২০২২
শিরোনাম
নাসিরনগরে বন্যার্তদের মাঝে ইসলামী ফ্রন্টের ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ রাজধানীর মাতুয়াইলে পদ্মাসেতু উদ্ধোধন উপলক্ষে দোয়া মাহফিল রূপগঞ্জে ভূমি অফিসে চোর রূপগঞ্জে গৃহবধূর বাড়িতে হামলা ভাংচুর লুটপাট ॥ শ্লীলতাহানী নাসিরনগরে পুকুরের মালিকানা নিয়ে দু পক্ষের সংঘর্ষে মহিলাসহ আহত ৪ পদ্মা সেতু উদ্ভোধন উপলক্ষে শশী আক্তার শাহীনার নেতৃত্বে আনন্দ মিছিল করোনা শনাক্ত বেড়েছে, মৃত্যু ২ জনের র‍্যাব-১১ অভিমান চালিয়ে ৯৬ কেজি গাঁজা,১৩৪৬০ পিস ইয়াবাসহ ৬ মাদক বিক্রেতাকে গ্রেফতার করেছে বন্যাকবলিত ভাটি অঞ্চল পরিদর্শন করেন এমপি সংগ্রাম পদ্মা সেতু উদ্বোধনে রূপগঞ্জে আনন্দ উৎসব সভা ॥ শোভাযাত্রা
একটি শোক সংবাদ

একটি শোক সংবাদ

প্রকাশিত:Thursday ১৯ May ২০২২ | হালনাগাদ:Tuesday ২৮ June ২০২২ | ১৫২জন দেখেছেন
Image

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নাসিরনগর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী গোকর্ণ ইউনিয়নের ব্রাহ্মণশাসন গ্রামের কৃতি  সন্তান,বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র  আইনজীবী এডভোকেট মোঃ মাহফুজ মিয়া আজ ১৯ মে ২০২২ রোজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০ঘটিকার সময় রাজধানী ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন।

ইন্নালিল্লাহে,,,রাজিউন)।


তিনি ছিলেন বৃহত্তর কুমিল্লা আইনজিবী সমিতির সিনিয়র সভাপতি ও  ঢাকাস্থ নাসিরনগর উপজেলা সমিতির আজীবন সদস্য। ব্যাক্তি জীবনে তিনি খুবই সজ্জন,সদালাপি,আমোদপ্রিয় মানুষ ছিলেন। মৃত্যুকালে তিনি দুই পুত্র, স্ত্রীআত্মীয় স্বজন বন্ধু বান্ধ সহ অসংখ্য গুনগ্রাহী রেখে গেছেন।


তার বড় ছেলে চাকুরীজীবি,ছোট ছেলে ব্যারিষ্টার আর স্ত্রী অবসর প্রাপ্ত স্কুল শিক্ষিকা।তার মৃত্যুতে গভীর শোক ও শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম( বি,এম,এস,এফ) নাসিরনগর উপজেলা শাখার সভাপতি দৈনিক দেশ রূপান্তর ও এশিয়ান টেলিভিশনের নাসিরনগর উপজেলা প্রতিনিধি মোঃ আব্দুল হান্নান


আরও খবর



বাপেক্সে ৯০ জনের চাকরির সুযোগ

প্রকাশিত:Monday ০৬ June ২০২২ | হালনাগাদ:Monday ২৭ June ২০২২ | ৫২জন দেখেছেন
Image

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেডে (বাপেক্স) ২৪ পদে ৯০ জনকে নিয়োগ দেওয়া হবে। আগ্রহীরা আগামী ১৪ জুলাই পর্যন্ত আবেদন করতে পারবেন।

প্রতিষ্ঠানের নাম: বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেডে (বাপেক্স)

পদের বিবরণ

bapex-in.jpg

চাকরির ধরন: স্থায়ী
প্রার্থীর ধরন: নারী-পুরুষ
কর্মস্থল: ঢাকা

বয়স: ১৪ জুলাই ২০২২ তারিখ ১৮-৩০ বছর। বিশেষ ক্ষেত্রে ৩২ বছর।

আবেদনের নিয়ম: আগ্রহীরা প্রতিষ্ঠানটির ওয়েবসাইট www.bapex.com.bd এর মাধ্যমে আবেদন করতে পারবেন। আবেদনের সঙ্গে ৩০০-৩০০ সাইজের ছবি ও ৩০০-৮০ সাইজের স্বাক্ষর স্ক্যান করে যুক্ত করতে হবে।

আবেদন ফি: টেলিটক প্রি-পেইড সিমের মাধ্যমে ৫৬০ টাকা ৭২ ঘণ্টার মধ্যে জমা দিতে হবে।

আবেদন শুরু: ১৫ জুন ২০২২ সকাল ১০টা থেকে আবেদন করতে পারবেন।

আবেদনের শেষ সময়: ১৪ জুলাই ২০২২ তারিখ বিকেল ০৫টা পর্যন্ত আবেদন করতে পারবেন।

সূত্র: কালেরকণ্ঠ, ইত্তেফাক, ০৬ জুন ২০২২


আরও খবর



কবি ফররুখ আহমদের জন্ম

প্রকাশিত:Friday ১০ June ২০২২ | হালনাগাদ:Tuesday ২৮ June ২০২২ | ৪৭জন দেখেছেন
Image

মানুষ ইতিহাস আশ্রিত। অতীত হাতড়েই মানুষ এগোয় ভবিষ্যৎ পানে। ইতিহাস আমাদের আধেয়। জীবনের পথপরিক্রমার অর্জন-বিসর্জন, জয়-পরাজয়, আবিষ্কার-উদ্ভাবন, রাজনীতি-অর্থনীতি-সমাজনীতি একসময় রূপ নেয় ইতিহাসে। সেই ইতিহাসের উল্লেখযোগ্য ঘটনা স্মরণ করাতেই জাগো নিউজের বিশেষ আয়োজন আজকের এই দিনে।

১০ জুন ২০২২, শুক্রবার। ২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

ঘটনা
১৬১০- গ্যালিলিও শনি গ্রহের দ্বিতীয় চক্র আবিষ্কার করেন।
১৭৫২- বেঞ্জামিন ফ্র্যাংকলিন ঘুড়ি উড়িয়ে বজ্র থেকে বিদ্যুৎ আহরণ করতে সক্ষম হন।
১৯০৫- অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুরের উদ্যোগে বঙ্গীয় শিল্পকলা তথা বেঙ্গল স্কুল অব আর্ট গঠিত হয়।
১৯৭২- ভারতের প্রথম তাপানুকূল যাত্রীবাহী জাহাজ হর্ষবর্ধনের সমুদ্রযাত্রা।

জন্ম
১৯১৫- কানাডীয়-আমেরিকান লেখক সল বেলো।
১৯১৮- বাঙালি কবি ফররুখ আহমদ। মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার মাঝাইল গ্রামের সৈয়দ বংশে জন্ম তার। প্রকৃত নাম সৈয়দ ফররুখ আহমদ। তিনি ‘মুসলিম রেনেসাঁর কবি’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছিলেন। তার কবিতায় বাংলার অধঃপতিত মুসলিম সমাজের পুনর্জাগরণের অণুপ্রেরণা প্রকাশ পেয়েছে। বিংশ শতাব্দীর এই কবি ইসলামি ভাবধারার বাহক হলেও তার কবিতা প্রকরণকৌশল, শব্দচয়ন এবং বাকপ্রতিমার অনন্য বৈশিষ্ট্যে সমুজ্জ্বল। আধুনিকতার সব লক্ষণ তার কবিতায় পরিব্যাপ্ত। তার কবিতায় রোমান্টিকতা থেকে আধুনিকতায় উত্তরণের ধারাবাহিকতা পরিস্ফুট। ‘সাত সাগরের মাঝি’ কাব্যগ্রন্থে তিনি যে কাব্যভাষার সৃষ্টি করেছেন তা স্বতন্ত্র এবং এটি তার এক অমর সৃষ্টি।
১৯৪২- তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের একজন শহীদ ছাত্রনেতা আমানুল্লাহ আসাদুজ্জামান।
১৯৮১- দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেটার আলবি মরকেল।

মৃত্যু
১৯৪৮- বাঙালি লেখক অতুলচন্দ্র সেন। ১৮৭০ সালের ১ এপ্রিল ব্রিটিশ ভারতের অধুনা বাংলাদেশের ঢাকা বিক্রমপুরের বাহেরক গ্রামে জন্ম তার। তিনি একাধারে যেমন ছিলেন ছাত্র দরদী ও জাতীয়তাবাদী শিক্ষক, লেখক, প্রকাশক অন্যদিকে সমাজসেবক, স্বদেশী আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণকারী এবং শিক্ষাবিস্তারে বিশেষত লোকশিক্ষা ও নারীশিক্ষার বিস্তারে অন্যতম ব্যক্তিত্ব।
১৯৫১- বাঙালি সাহিত্যিক এস ওয়াজেদ আলি।
১৯৬৫- ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনকারী বাঙালি বিপ্লবী অতীন্দ্রনাথ বসু।
১৯৮৭- মার্কিন মঞ্চ ও চলচ্চিত্র অভিনেত্রী এলিজাবেথ হার্টম্যান।
২০২১- ভারতীয় বাঙালি কবি ও চলচ্চিত্র পরিচালক বুদ্ধদেব দাশগুপ্ত।


আরও খবর



ঈদের আগেই ঘরে ফিরলেন হাবিবুর, তবে লাশ হয়ে

প্রকাশিত:Monday ০৬ June ২০২২ | হালনাগাদ:Monday ২৭ June ২০২২ | ৯৮জন দেখেছেন
Image

সীতাকুণ্ডের বিএম কনটেইনার ডিপোতে কম্পিউটার অপারেটরের চাকরি করতেন মো. হাবিবুর রহমান (২৫)। কথা ছিলো এবার কোরবানির ঈদের ছুটিতে বাড়িতে এলে বিয়ে করবেন। বিয়ের জন্য পাত্রীও দেখতে শুরু করেছেন পরিবারের সদস্যরা। কিন্তু শনিবার কর্মস্থলে অগ্নিকাণ্ডে পরপারে পাড়ি জমিয়েছেন তিনি।

হাবিবুর রহমানের মৃত্যুতে শোকের মাতম চলছে তার পরিবারে। একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে বার বার জ্ঞান হারিয়ে ফেলছেন তার মা হোসনে আরা বেগম।

মা হোসনে আরা বেগম জাগো নিউজকে বলেন, নভেম্বর মাসের শেষের দিকে ওর (হাবিবুর রহমান) খালুর মৃত্যুর খবর পেয়ে বাড়ি আসে। এরপর ৭-৮ মাসের মধ্যে আসেনি। দুর্ঘটনার দিন সকালে ছেলের সঙ্গে ফোনে কথা হয়েছিল। ছেলে বলেছিল, ‘মা রোজার ঈদেতো আসিনি। এবার কোরবানির ঈদে ৪ দিন ছুটি ফাইনাল হয়েছে। বেতন ও বোনাস পেলেই আসবো।’

jagonews24

তিনি আহাজারি করে বলেন, ‘এখন আমার ছেলে কেন লাশ হয়ে ফিরে এলো। আমি এখন কী নিয়ে বাঁচবো।’

হাবিবুর রহামনের নানা মো. সিদ্দিকুর রহামন জাগো নিউজকে জানান, হাবিবুর রহমানের বয়স যখন ১-২ বছর তখন তার বাবা মো. সাহাবুদ্দিন মিয়া মারা যান। ওর বাবার বাড়ি ছিলো পটুয়াখালী জেলার আমতলীতে। বাবা মারা যাওয়ার পর মেয়ে ও ছোট হাবিবুর রহমানকে আমার বাড়িতে নিয়ে আসি। এখান থেকেই হাবিবুর রহমান পড়াশুনা ও বড় হয়েছে। প্রায় ৫ বছর আগে সীতাকুণ্ডের বিএম কনটেইনার ডিপোতে কম্পিউটার অপারেটরের চাকরিতে যোগদান করে হাবিবুর। সব কিছু ভালোভাবেই চলছিল। হাবিবুর রহামনের জন্য আমার বাড়ির সামনে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছি। কথা ছিলো এবার কোরবানির ঈদের ছুটিতে বাড়িতে এলে তাকে বিয়ে করাবো। কিন্তু হঠাৎ সে পৃথিবী থেকে চলে গেলো।

তিনি আরো জানান, ঘটনার দিন আমার ছেলে নূরনবী দুর্ঘটনার কথা শুনে ছুটে যায় সেখানে। সারারাত সেসহ তার ১০-১২ জন বন্ধু হাবিবুর রহমানকে খুঁজতে থাকে। কিন্তু কোথাও তাকে পাওয়া যায়নি। পরে রোববার সকালে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে একটি অ্যাম্বুলেন্স এলে সেখানে গিয়ে হাবিবুর রহমানের মরদেহ পায় তারা।

হাবিবুর রহামনের মরদেহ সোমবার (৬ জুন) সকালে তার নানার বাড়ি দক্ষিণ দিঘলদী ইউনিয়নের বালিয়া গ্রামে পৌঁছালে কান্নায় ভেঙে পড়ে পুরো পরিবার। তাদের কান্নায় ভারি হয়ে ওঠে এলাকার আকাশ বাতাশ। পরে জানাজা শেষে নানার বাড়িতে তাকে দাফন করা হয়।

jagonews24

এদিকে সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী ও ভোলা-১ আসনের সংসদ সদস্য তোফায়েল আহমেদের নির্দেশে তার ছেলে জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মইনুল হোসেন বিপ্লব ছুটে যান নিহত হাবিবুর রহমানের বাড়িতে। নিহতের জানাজায় অংশ নেন তিনি। পরে হাবিবুরের বাড়িতে গিয়ে তার পরিবারকে সান্ত্বনা দেন এবং তোফায়েল আহমেদের পক্ষ থেকে নিহতের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন।

ভোলা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. তৌহিদুল ইসলাম জানান, নিহতের পরিবারকে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহযোগিতা করা হবে।


আরও খবর



বাতাসে বাড়ছে সিসা

প্রকাশিত:Wednesday ০৮ June ২০২২ | হালনাগাদ:Tuesday ২৮ June ২০২২ | ৪৯জন দেখেছেন
Image

দেশে প্রতিনিয়ত বাতাসের সঙ্গে সিসার পরিমাণ বাড়ছে। ইউজলেস অ্যাসিড ব্যাটারি রিসাইক্লিং (অব্যবহৃত এসিড ব্যাটারি) কারখানা থেকে সর্বোাচ্চ হারে বাতাসে সিসা ছড়াচ্ছে। এতে মানুষ নানা ধরনের রোগব্যাধিতে আক্রান্ত হচ্ছেন। এটি টাঙ্গাইল, খুলনা, সিলেট ও পটুয়াখালীতে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে বলে আইসিডিডিআর,বি’র এক গবেষণায় উঠে এসেছে।

বুধবার পরিবেশ অধিদপ্তরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অব্যবহৃত অ্যাসিড ব্যাটারি রিসাইক্লিং কারখানাগুলোতে ঝুঁকিপূর্ণভাবে শ্রমিকরা কাজ করছেন। এসব কারখানার বর্জ্য থেকে বাতাসে সিসা ছড়াচ্ছে। যেসব জেলায় এসব কারখানা স্থাপন করা হয়েছে সেখানে সিসার পরিমাণ অনেক বেশি। সেসব জেলার গর্ভবর্তী মহিলা ও শিশুদের রক্ত পরীক্ষা করা হয়েছে। তাদের শরীরে সিসার পরিমাণ অধিক হারে শনাক্ত হয়েছে।

গবেষকরা জানান, অ্যাসিড ব্যাটারি কারখানাগুলো বিভিন্ন জেলার প্রত্যন্ত এলাকায় গড়ে তোলা হচ্ছে। এসব প্রতিষ্ঠানের কোনো ধরনের অনুমোদন পাওয়া যায়নি। তারা শ্রমিকদের বেশি মজুরিতে কাজ করাচ্ছেন। নানা ধরনের সুযোগ-সুবিধা পাওয়ায় অনেকে সেখানে কাজ করতে আগ্রহী হচ্ছেন। যারা দীর্ঘদিন এসব কারখানায় কাজ করছেন তাদের শ্বাসকষ্ট, দুর্বলতাসহ নানা ধরনের সমস্যা দেখা দিয়েছে।

এসময় পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক ড. সোহরাব আলী বলেন, সিসার বিস্তার আমাদের দেশে দীর্ঘদিন ধরে। এটি প্রতিনিয়ত বেড়ে যাচ্ছে। ঝুঁকিপূর্ণ ব্যাটারি কারখানাগুলো চিহ্নিত করে বন্ধ করে দিলেও তারা রিমোট এলাকায় গিয়ে আবারো কারখানা গড়ে তুলছে। সে কারণে তাদের দমন করা যাচ্ছে না। সেসবের মালিক-শ্রমিকরা সিসার ভয়াবহতা জানেন না। সেখানে যেসব বর্জ্য তৈরি হচ্ছে তা কীভাবে নিষ্কাশন করা দরকার তাও তারা জানেন না।

তিনি বলেন, ব্যাটারি কারখানা একেবারে বন্ধ করা সম্ভব হবে না। সেজন্য পরিবেশকে বাঁচাতে তাদের জন্য একটি গাইডলাইন তৈরি করে দেওয়া জরুরি। সেটি অনুসরণ করে কাজ করলে পরিবেশ রক্ষা করা সম্ভব হবে।

এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন পিউর আর্থের কান্ট্রি ডিরেক্টর ড. মাহফুজুর রহমান, আইসিডিডিআরবি’র গবেষক ড. সাবরিনা রশিদ, ইউনিসেফ বাংলাদেশের গবেষক ড. চন্দ্রসেগারার সলোমন প্রমুখ।


আরও খবর



বাংলাদেশের অর্থনৈতিক মুক্তির প্রতীক 'পদ্মা সেতু'

প্রকাশিত:Friday ২৪ June ২০২২ | হালনাগাদ:Tuesday ২৮ June ২০২২ | ২৯জন দেখেছেন
Image

 

সবকিছুতেই নেতিবাচক ইস্যু খোঁজা মানুষগুলো ইদানীং বেশ হতাশ হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। টকশো, কলাম এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাদের পদ্মা সেতু নিয়ে আলোচনা বক্তব্য নিয়ে হাসি-তামাশা চলছে হরহামেশা। এ জন্যই হয়ত বলা হয়, 'ডুবন্ত মানুষ খড়কুটো ধরে বেঁচে থাকতে চায়'।

ঐ একই দশা তাদের। তবে যা যাই বলুক না কেনো, পদ্মা সেতু নিয়ে দারুণ ইতিবাচক মনোভাব সাধারণ মানুষের মাঝে। পদ্মা সেতু আমাদের অর্থনৈতিক মুক্তির প্রতীক। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যেই কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে থেকেই এই সেতু নির্মাণের সাহস দেখিয়েছেন, তাই এখন কূটনৈতিক পাড়ায় আলোচনার কেন্দ্রে।

পদ্মা সেতু নিয়ে 'আইরন লেডি'র ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিশ্বব্যাংক তথা বিশ্বের অপরাপর অনেক রাষ্ট্রের চোখ রাঙানি উপেক্ষা করে যখন তিনি দেশের অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণের ঘোষণা দেন, তখন অনেকেই বিষয়টির তীব্র বিরোধিতা করেন। পদ্মা সেতু নির্মাণ করতে গিয়ে 'বাংলাদেশ দেউলিয়া হয়ে যাবে', এমন মন্তব্যও করেন অনেকে। অর্থনৈতিক ক্ষতির পাশাপাশি তৎকালীন সময় 'সরকারের পতন', 'দুর্নীতি ঢাকার চেষ্টা', 'স্বেচ্ছাচারিতা' এমন শব্দগুলো বারবার উচ্চারণ করেছেন অনেকেই। অনেক পত্রিকাও সে সময় শিরোনাম করেছে পদ্মা সেতুর দুর্নীতি নিয়ে। কিন্তু দিন শেষে তাদের সকল হুশিয়ারি ও সমালোচনাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে সফল বঙ্গবন্ধু কন্যা।

সেতুর উদ্বোধন হবে আগামীকাল। এখন মনে পড়ছে বিভিন্ন সমালোচনার কথা। ২০১৮ সালের ২ জানুয়ারি ছাত্রদলের এক সভায় বর্তমানে সাজাপ্রাপ্ত বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া তাচ্ছিল্য করে বলেছিলেন, 'পদ্মা সেতু এই আওয়ামী লীগের আমলে হবে না। জোড়াতালি দিয়ে বানানো সেতুতে, কেউ উঠবেও না।'

রাজনৈতিক বিরোধিতার কারণে এমন সুর তোলার বিষয়টি বোধগম্য হলেও কিছু সুশীল কেনো সে সময় রাজনীতিবিদদের সুরে কথা বলেছিলো তা এক বিস্ময়। সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার পদ্মা সেতু নিয়ে বলেছিলেন, দুর্নীতি আমাদের কীভাবে পেছনে নিয়ে যাচ্ছে তার আরেকটি উদাহরণ এটি (পদ্মা সেতু)। জাতীয় উন্নয়নের ক্ষেত্রে এটি প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবে।

এদিকে চুরি না করেও চোরের অপবাদ নিতে বাধ্য করা হচ্ছিলো তখন বাংলাদেশকে। দুর্নীতির যেই অভিযোগ করা হয়েছিলো তা সরাসরি অস্বীকার করার কারণে বেশ নাখোশ ছিলেন ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। তার ভাষ্যমতে, 'অভিযোগ পাওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত বাংলাদেশ সরকারের মনোভাব হলো অভিযোগ অস্বীকার করে যাওয়া। কিন্তু সত্যিকার অর্থে দাতাগোষ্ঠীর আস্থা অর্জন করতে পারেনি (সরকার)।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান এ সময় বলেন, এ ঘটনা নিয়ে তদন্ত করার সামর্থ্য আছে কিনা দুদকের, সেটি নিয়ে আমার সন্দেহ রয়েছে। এ ঘটনার তদন্তের জন্য প্রয়োজনীয় স্বাধীনতা তাদের আছে কিনা সেটি নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

সম্প্রতি আওয়ামী লীগ আয়োজিত এক ওয়েবিনারে সে সময়ের দুঃসহ স্মৃতির কথা স্মরণ করে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমান। তিনি জানান, তাকে চাপ প্রয়োগ করা হয়েছিলো পদত্যাগের জন্য। সেই সঙ্গে দেশ ত্যাগের জন্যও বলা হয়। তাকে প্রলোভন দেখানো হয় ওয়ার্ল্ড ব্যাংকে বা এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকে বা আন্তর্জাতিক কন সংস্থায় উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগের।

তিনি এ সময় আরো জানান, আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থা থেকে কিভাবে প্রধানমন্ত্রীর ওপর চাপ প্রয়োগ করা হয় এই সেতু নির্মাণকে ঘিরে। সে সময়ে সংবাদমাধ্যমে ড. মসিউর রহমান আর্তি জানিয়ে বলেছিলেন, আপনাদের কাছে আমি সহানুভূতি চাই। আপনারা আমাকে মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা করেন।

শেষমেশ বাধ্যতামূলক ছুটিতে যেতে হয় প্রধানমন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টাকে, দেড় মাস জেল খাটেন সেতু সচিব, ২০১২'র ৫ জানুয়ারি পদত্যাগই করতে হয় তখনকার যোগাযোগমন্ত্রী আবুল হোসেনকে। দফায় দফায় তাদের হাজিরা দিতে হয় দুদকে। সৈয়দ আবুল হোসেন ২০১২ সালের ৩ ডিসেম্বর দুদক কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে সংবাদমাধ্যমে বলেছিলেন, কোনো অসৎ কাজে প্রাক্তন যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন জড়িত নয়।

২০১২ সালের ২৫ জুলাই লন্ডনে এক আলোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছিলেন, যখন (পদ্মা সেতুতে) পরামর্শক নিয়োগের বিষয় এলো, তখন একটা কোম্পানির জন্য তারা (বিশ্বব্যাংক) বার বার চাপ দিচ্ছিল সরকারকে এবং যোগাযোগমন্ত্রীকে। যেন ওই কোম্পানিকে পরামর্শক নিয়োগ দেয়া হয়। এখন যদি আমি প্রশ্ন করি, বিশ্বব্যাংক কত পার্সেন্ট টাকা খেয়ে ওই কোম্পানির জন্য তদবির করেছে?

এ দেশে পদ্মা সেতু নির্মাণে যে কোন দুর্নীতি হয়নি, তার প্রমাণ প্রদান করে ২০১৭ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি রায় দেন কানাডার আদালত। রায়ে বলা হয়, পদ্মা সেতুর দুর্নীতির অভিযোগ সঠিক নয়। কিন্তু নিন্দুকের মুখ এরপরও থামানো যায়নি। পদ্মা সেতু নিয়ে গুজব ও মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে পড়তে থাকে সর্বত্র।

পদ্মা সেতু দেশের পদ্মা নদীর ওপর নির্মাণাধীন একটি বহুমুখী সড়ক ও রেল সেতু। এর মাধ্যমে মুন্সিগঞ্জের লৌহজংয়ের সঙ্গে শরীয়তপুর ও মাদারীপুর যুক্ত হবে। ফলে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে উত্তর-পূর্ব অংশের সংযোগ ঘটবে। দুই স্তরবিশিষ্ট স্টিল ও কংক্রিট নির্মিত ট্রাস ব্রিজটির ওপরের স্তরে থাকবে চার লেনের সড়ক পথ এবং নিচের স্তরটিতে একটি একক রেলপথ। পদ্মা-ব্রহ্মপুত্র-মেঘনা নদীর অববাহিকায় ১৫০ মিটার দৈর্ঘ্যের ৪১টি স্প্যান ইতোমধ্যে বসানো হয়েছে, ৬.১৫০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য এবং ১৮.১০ মিটার প্রস্থ পরিকল্পনায় নির্মিত হচ্ছে দেশটির সবচেয়ে বড় সেতু। খরস্রোতা পদ্মা নদীর ওপর ৩০ হাজার ১৯৩ কোটি টাকা নিজস্ব অর্থায়নে নির্মাণ হচ্ছে স্বপ্নের এ সেতু।

পদ্মা নদীর মাওয়া পয়েন্টে বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় অঞ্চলের সঙ্গে দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের মধ্যে সড়ক ও রেল যোগাযোগ স্থাপনের মাধ্যমে মুন্সীগঞ্জ, শরীয়তপুর, মাদারীপুর, বরিশাল, পটুয়াখালী এবং ফরিদপুর জেলাগুলোর উন্নয়নে সরাসরি ভূমিকা রাখার সুযোগ সৃষ্টি করবে যা বিস্তৃত হবে খুলনা ও সাতক্ষীরা পর্যন্ত। দেশের দক্ষিণে বসবাসরত জনজীবনের জীবনমান উন্নয়নসহ স্বল্প সময়ে বাংলাদেশের মূল ভূখণ্ডে তাদের উৎপাদিত পণ্য বাজারজাত ও বাজার সম্প্রসারিত করার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখবে।

এ অঞ্চলের উৎপাদিত কাঁচামাল দ্রুততার সঙ্গে সরবরাহের সুযোগ তৈরি ও উৎপাদন বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে পদ্মা সেতু। সেতুটির কারণে দেশের দ্বিতীয় সমুদ্রবন্দর মোংলা চট্টগ্রাম বন্দরের মতো যথাযথভাবে ব্যবহারের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

এই সেতুটি শুধু স্থানীয়ভাবে নয়, বরং আন্তর্জাতিকভাবেও গুরুত্বপূর্ণ। কেননা পদ্মা সেতু ও সংযোগ সড়ক এশিয়ান হাইওয়ে রুট এএইচ-১-এর অংশ হওয়ায় তা যথাযথ ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হবে। এটি বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ যোগাযোগসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর যোগাযোগের ক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে। দেশের দক্ষিণাঞ্চল ট্রান্স-এশিয়ান হাইওয়ে এবং ট্রান্স-এশিয়ান রেলওয়ের সঙ্গে যুক্ত হবে। ভারত, ভুটান ও নেপালের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন সম্ভব হবে এবং যাত্রী ও পণ্য পরিবহণে সুবিধা হবে। চলাচল সহজ করার পাশাপাশি অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে পদ্মা সেতু। এ সেতু দেশের ব্যষ্টিক ও সামষ্টিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে।

এ ছাড়া দেশের সার্বিক জিডিপির পাশাপাশি পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্পটির কাজ সমাপ্ত হলে অতিরিক্ত ১.২৩ শতাংশ জিডিপি বৃদ্ধি পাবে। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জিডিপি বাড়বে ২ দশমিক ৩ শতাংশ। সেতুটি যোগাযোগের জন্য উন্মুক্ত হলেই দেশের সমন্বিত যোগাযোগ ব্যবস্থার ব্যাপক উন্নতি হবে। দারিদ্র্যের হার কমবে দশমিক ৮৪ শতাংশ। নতুন করে গড়ে উঠবে ভারি শিল্পকারখানা। পাশাপাশি পদ্মা সেতুর মাধ্যমে অর্থনীতিতে সরাসরি তিন ধরনের সুবিধা রয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন হবে। এতে ওই অঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্য বিস্তার লাভ করবে। বিনিয়োগ বাড়বে। কৃষক সরাসরি উপকৃত হবেন। তাদের উৎপাদিত পচনশীল পণ্য সরাসরি ঢাকাসহ দেশের অন্যান্য স্থানে পাঠাতে পারবেন। এতে পণ্যের ভালো দাম পাওয়া যাবে। এ সেতুর ফলে সামগ্রিকভাবে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের বিস্তার হবে। বিশেষ করে ভারতের বাণিজ্য বাড়াতে মোংলা বন্দর ব্যবহার করা যাবে।

এ কথা অনস্বীকার্য যে, বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের উন্নয়নের জন্য পদ্মা সেতুর গুরুত্ব অপরিসীম। এ সেতু নির্মিত হলে দক্ষিণাঞ্চলের সঙ্গে ঢাকার দূরত্ব অনেকাংশে কমে যাবে, যা দেশের অভ্যন্তরে বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে আনতে সাহায্য করবে। অবকাঠামোগত উন্নয়নের প্রভাব পড়বে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে।

পদ্মা সেতুর মাধ্যমে দেশের দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ১৯টি জেলা সরাসরি সারা দেশের সঙ্গে যুক্ত হবে। এ অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি লাঘব হবে। ঢাকা থেকে খুলনা, মোংলা, বরিশাল, কুয়াকাটা অর্থনৈতিক করিডর খুলে যাবে। এ সেতুকে ঘিরে বিশদ অঞ্চল জুড়ে গড়ে উঠবে নতুন অর্থনৈতিক অঞ্চল ও হাই-টেক পার্ক। ফলে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট হবে এবং দেশের শিল্পায়নের গতি ত্বরান্বিত হবে। সেতু ঘিরে পদ্মার দু'পারে পর্যটন শিল্পের ব্যাপক প্রসার এখন শুধু সময়ের অপেক্ষায় মাত্র।

এডিবির সমীক্ষা অনুসারে, পদ্মা সেতু দিয়ে ২০২২ সালে যে ২৪ হাজার যানবাহন চলবে, তার মধ্যে বাস চলবে ৮ হাজার ২৩৮টি, ট্রাক ১০ হাজার ২৪৪টি, মাইক্রোবাস ও ব্যক্তিগত গাড়ি চলবে ৫ হাজারের বেশি। সমীক্ষায় আরো প্রাক্কলন করা হয়েছে, ২০২৫ সালে পদ্মা সেতুর ওপর দিয়ে দিনে যানবাহন চলাচল বেড়ে দাঁড়াবে ২৭ হাজার ৮০০টি। ২০৩০ সালে হবে ৩৬ হাজার ৭৮৫। ২০৪০ সালে দিনে যানবাহন চলাচল বেড়ে দাঁড়াবে ৫১ হাজার ৮০৭টি।

অন্যদিকে জাইকার সমীক্ষামতে, পদ্মা সেতুর মাধ্যমে দেশের ১ দশমিক ২ শতাংশ জিডিপি বৃদ্ধি পেয়ে আঞ্চলিক জিডিপি বৃদ্ধি দাঁড়াবে ৩ দশমিক ৫ শতাংশে। দক্ষিণবঙ্গে শিল্পায়নের গতি ব্যাপক বেড়ে যাবে। পদ্মা সেতু বাংলাদেশের সুষম অর্থনৈতিক উন্নয়নে প্রয়োজনীয় অসামান্য অবকাঠামোগুলোর একটি।

২০১৪ সালে পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু হয়। মহামারী করোনাকে পাশ কাটিয়ে মাত্র ৮ বছরের মধ্যে অর্থনৈতিক ও আন্তর্জাতিক সকল চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে আমাদের সামনে পদ্মা সেতুকে বাস্তবরূপে দেখিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এই সেতুকে ঘিরে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিকদের বিবৃতিতে বারবার উঠে এসেছে শেখ হাসিনার দৃঢ় নেতৃত্বের কথা। নিজ দেশকে বিশ্বের সামনে মাথা নত করতে দেননি বঙ্গবন্ধু কন্যা। বাংলাদেশকে বিশ্বের বুকে আজন্ম যোদ্ধা ও অকুতোভয়ী এক জাতি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছেন তিনি।

পদ্মা সেতু নিজস্ব অর্থায়নে তৈরির চ্যালেঞ্জ গ্রহণের পাশাপাশি বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগকে আকৃষ্ট করা এবং অন্যান্য মেগা প্রকল্পগুলো চালিয়ে যাওয়ার মত দুঃসাহসিক কাজ করেছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। নিন্দুকেরা বলেছিলো, বিশ্ব ব্যাংককে ফিরিয়ে দেয়ার মাধ্যমে চরম ভুল করেছে আওয়ামী লীগ, এর ফলে বিদেশী বিনিয়োগ ও রিজার্ভ সংকট তৈরি হবে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সকলের মুখে চপেটাঘাত করে প্রতি বছর রিজার্ভে রেকর্ড গড়েছে বাংলাদেশ। সেই সঙ্গে সম্পন্ন হয়েছে পদ্মা সেতু নির্মাণের কাজও।

বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার হাত ধরেই আজ উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা লাভ করছি আমরা। তার হাত ধরেই এক সময় উন্নত দেশের সোপানেও পদার্পণ করবে বাংলাদেশ। পদ্মা সেতুর পাশে দাঁড়িয়ে সূর্যোদয় দেখে যে কোন দেশ প্রেমিকের মুখ থেকে অজান্তে বেরিয়ে আসবে যেই শব্দ, তা হলো 'জয় বাংলা'।

লেখক: সিনিয়র সাংবাদিক ও কলামিস্ট।


আরও খবর