Logo
আজঃ বুধবার ১৭ জুলাই ২০২৪
শিরোনাম

দৌলতপুরে স্বামীর বিরুদ্ধে স্ত্রীর সংবাদ সম্মেলন

প্রকাশিত:সোমবার ০৫ জুন ২০২৩ | হালনাগাদ:বুধবার ১৭ জুলাই ২০২৪ | ২০৭জন দেখেছেন

Image

খন্দকার জালাল উদ্দীন : কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে যৌতুক না পেয়ে স্ত্রীকে শারীরিক ওমানসিক নির্যাতন করে দ্বিতীয় বিয়ের প্রস্তুতি নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্বামী মাইনুল ইসলামের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় বিচারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা। শনিবার (৩ জুন) দুপুরে দৌলতপুর উপজেলার তারাগুনিয়া বাজারস্থ জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার অফিস কক্ষে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে ভুক্তভোগী আয়েশা সিদ্দিকা। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা বলেন,২০১১ খ্রিঃ কুষ্টিয়া জেলার দৌলতপুর উপজেলার প্রাগপুর ইউনিয়নের ইসলামনগর গ্রামের মাইনুল ইসলামের সঙ্গে পারিবারিকভাবে ইসলামী সরিয়া নিয়ম অনুযায়ী বিয়ে হয়। তাদের ঘরে ২টি সন্তান রয়েছে। বিয়ের পর থেকে একটি মোটর সাইকেল ও ২ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে মাইনুল ইসলাম।যৌতুকের টাকা না পেয়ে শ্বশুর-শাশুড়ি,দেবর ও মাইনুল নিজে মারধরসহ নানাভাবে শারীরিক-মানসিক নির্যাতন চালায়। এবং কথায় কথায় তালাক দেব বলে জোরপূর্বক আয়েশাকে বাবার বাড়ি পাঠিয়ে দেয় স্বামীসহ শ্বশুর বাড়ির লোকজন।বর্তমানে আয়েশাকে মানসিক রোগী সাজিয়ে আরেকটা বিয়ে করার প্রস্তুতি নিচ্ছে মাইনুল। এসব ঘটনার প্রতিকার চেয়ে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ ও থানা প্রশাসন এর কাছে অভিযোগ করে কয়েকবার সালিশ বৈঠক করেও কোন প্রতিকার পাননি।সাংবাদিকদের লেখনির মাধ্যমে প্রশাসন ও প্রধানন্ত্রীর সহযোগিতা চেয়েছেন এবং বিচারের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী এই নারী। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ভুক্তভোগীর নারীর মা আমেনা বেগমসহ বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ।


আরও খবর



বন্যার হাত থেকে রক্ষা পেলো আত্রাই উপজেলাবাসী

প্রকাশিত:শনিবার ১৩ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:বুধবার ১৭ জুলাই ২০২৪ | ৭১জন দেখেছেন

Image

নাজমুল হক নাহিদ, আত্রাই (নওগাঁ) প্রতিনিধি:গত কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলে নওগাঁর প্রধান দুটি নদী ছোট যমুনা ও আত্রাইসহ অন্যান্য নদীতে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে আত্রাই ছোট যমুনার পানি বিপদসীমার অনেক নীচে অবস্থান করছে। এদিকে নদীর পানি কিছুটা কমতে শুরু করলে একটু বৃষ্টিতে তা আবার বাড়তে শুরু করেছে।

জানা যায়, ৮০ দশকে আত্রাই নদীর পাশ দিয়ে নির্মিত হয় বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ। যা দীর্ঘদিনের পুরাতন হওয়ার কারণে এবং প্রতিটি বাঁধে শিয়াল, বেজি কিংবা ইদুরের গর্ত থাকার কারণে নদীর পানি বৃদ্ধি পেলেই সেই লিকেজ দিয়ে পানি চলাচল করায় অনেক স্থানে হঠাৎ করেই ধ্বস দেখা দিয়েছে। তবে লিকেজ কিংবা ধ্বসে যাওয়া স্থানগুলো সঙ্গে সঙ্গে পানি উন্নয়ন বোর্ডের টিমের প্রত্যক্ষ তৎপরতায় মেরামত/বন্ধ করার কারণে আত্রাই উপজেলার শত শত গ্রাম বন্যা কবলিত হওয়ার হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের ধ্বসে যাওয়া স্থানগুলো স্থানীয় সাংসদ অ্যাড. ওমর ফারুক সুমন পরিদর্শন করেছেন এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় দিন-রাত কাজ করে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়া বাঁধগুলো মেরামত করে কয়েক ঘন্টার মধ্যে সেগুলো সচল করায় পানি উন্নয়ন বোর্ডকে সাধুবাদ জানিয়েছেন।

নওগাঁ পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, আত্রাই নদীতে পানি বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে গত বৃহস্পতিবার (৪জুলাই) রাতে আত্রাই থেকে নাটোরের সিংড়ার সাথে যোগাযোগের একমাত্র সড়কের শিকারপুর এলাকায় গুড় নদীর বাঁধ কাম পাকা সড়ক ধ্বসে যায়। পরে পানি উন্নয়ন বোর্ডের লোকজন শুক্রবার ধ্বসে যাওয়া বাঁধ কাম সড়ক মেরামত করে। এরপর শুক্রবার রাতে ঐ ভাঙ্গনের প্রায় এক কিলোমিটার পূর্বদিকে বৈঠাখালির ডুবাই নামক স্লুইচগেট সংলগ্ন স্থানে পাকা সড়ক ধ্বসে যায়। এতে ওই সড়কে যানবাহনসহ চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে। এছাড়া শনিবার সকালে উপজেলা সদরের পশ্চিম এলাকায় আত্রাই-বান্দাইখাড়া সড়কের লালুয়া নামকস্থানে বাঁধ কাম পাকা সড়ক ধ্বসে যায়। এতে উপজেলা সদরের সাথে ওই সড়ক দিয়ে চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। গত মঙ্গলবার (৯জুলাই) সকালে আত্রাই উপজেলার পাঁচুপুর ইউনিয়নের গুড়নৈ নামক স্থানে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে ধ্বস দেখা দিলে তাৎক্ষণিক ভবে পানি উন্নয়ন বোর্ডের টিম মেরামতের কাজ করে মাত্র কয়েক ঘন্টার মধ্যে সেই ধ্বসে যাওয়া অংশটি মেরামত করে যান চলাচলের জন্য তা উন্মুক্ত করে দেয়।

নওগাঁ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো: ফয়জুর রহমান বলেন এবার আমার টিম সব সময় বাঁধে অবস্থান করছে যেকোনো ধরনের ভাঙ্গন দেখা দিলে সাথে সাথে কাজে নেমে যাচ্ছে। নওগাঁয় প্রায় ৫শতাধিক কিলোমিটার বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধ রয়েছে। জনবল সংকট নিয়ে এতো দীর্ঘ বাঁধ সব সময় পর্যবেক্ষন করা অনেকটাই কঠিন। আর শেয়াল, বেজি, ইদুরসহ বিভিন্ন ক্ষতিকর প্রাণীদের বসবাসের উত্তম স্থান হচ্ছে এই বাঁধ। এই প্রাণীগুলো বাঁধে গর্ত করে বসবাস করে। আর বর্ষা মৌসুমে যখন নদীতে পানি বৃদ্ধি পায় সেই পানি বাঁধের এই সব গর্ত দিয়ে বছরের পর বছর চলাচল করে। এর এক পর্যায়ে গর্ত অনেক বড় হয়ে গেলে উপর থেকে মাটি ধ্বসে পড়ে। এবার বাঁধগুলোয় এমন ঘটনাই ঘটেছে। তাই বাঁধের ঝুঁকিপূর্ণ অংশগুলো চিহ্নিত করে মেরামত করতে অনেক বড় বরাদ্দের প্রয়োজন হয় যা আমরা পাই না। ফলে বর্ষা মৌসুমে নদীতে পানি বৃদ্ধি পেলেই বাঁধ ধ্বসে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।

রাজশাহী সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী প্রবীর কুমার গোস্বামী জানান, বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের কোথাও কোন সিপেজ/ ধ্বস দেখা গেলে পানি উন্নয়ন বোর্ড ক্ষতিগ্রস্থ স্থানটি মেরামতের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। যার কারণেই নওগাঁয় এখন পর্যন্ত বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে কোন বড় ধরনের ভাঙ্গন দেখা যায় নাই। আমাদের একটি টিম সার্বক্ষনিক বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধগুলোর ঝুঁকিপূর্ণ অংশগুলো পর্যবেক্ষণ করছে। এছাড়া কোথাও কোন সিপেজের খবর জানার সঙ্গে সঙ্গে সেখানে উপস্থিত হয়ে সেই স্থানটি মেরামত করা হচ্ছে। যদি আকাশের ভারী বৃষ্টিপাত না হয় এবং উজান থেকে আশঙ্কাজনক হারে পানির ঢল নেমে না আসে তাহলে নওগাঁয় এবার আর কোন বন্যার ভয় নেই।

এ বিষয়ে নওগাঁ-৬ (আত্রাই-রাণীনগর) আসনের সাংসদ অ্যাড. ওমর ফারুক সুমন বলেন, আত্রাই উপজেলা বিলবেষ্টিত উপজেলা। তাই ছোট যমুনা কিংবা আত্রাই নদীর বাঁধের কোথাও কোন বড় ধরণের ভাঙ্গন হলেই আত্রাই ও রাণীনগর উপজেলা বন্যার কবলে পড়বে। তাই এবার বন্যা মোকাবেলায় সবধরণের আগাম প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে অগ্রিম কাজ করার জন্য নওগাঁ পানি উন্নয়ন বোর্ডকে নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। বন্যা মোকাবেলায় পাউবোর পাশাপাশি ত্রাণসহ সকল প্রকার প্রস্তুতি রেখেছে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন দপ্তর। এছাড়া সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, সদস্য ও স্থানীয় নেতাকর্মীরাও তাদের সাথে রয়েছে। আমি পানি উন্নয়ন বোর্ডের তাৎক্ষণিক গৃহিত কার্যক্রমকে ধন্যবাদ জানাই। 

-খবর প্রতিদিন/ সি.


আরও খবর



ভারি বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে মিরসরাইয়ের নিন্মাঞ্চল প্লাবিত

প্রকাশিত:বুধবার ০৩ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:বুধবার ১৭ জুলাই ২০২৪ | ৮৩জন দেখেছেন

Image

মিরসরাই প্রতিনিধি:টানা পাঁচদিনের ভারি বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার নিন্মাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। 

পানিবন্দি হয়ে দুর্বিষহ জীবন কাটাচ্ছে সহস্রাধিক পরিবার। কাজ না থাকায় কষ্টে রয়েছে দিন মজুর সহ খেটে খাওয়া মানুষ। পাহাড়ি ঢলের স্রোতে ভেঙ্গে গেছে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গ্রামীণ সড়ক। দীর্ঘদিন ধরে খাল সংস্কার না থাকায় ও অপরিকল্পিতভাবে স্থাপনা নির্মাণের কারণে পানি নিস্কাশন বন্ধ হয়ে জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। এছাড়া পানিতে নিমজ্জিত রয়েছে রোপা আমন ও সবজি ক্ষেত। 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, টানা পাঁচ দিনের বৃষ্টিতে উপজেলার করেরহাট, হিঙ্গুলী, বারইয়ারহাট পৌরসভা, মিরসরাই পৌরসভার নিন্মাঞ্চল, জোরারগঞ্জ, কাটাছরা, দুর্গাপুর, মিঠানালা, মিরসরাই সদর, খৈয়াছড়া, ওসমানপুর, সরকারতালুক, খিলমুরারী ও ওয়াহেদপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ও বারইয়ারহাট-রামগড় সড়কের বিভিন্ন স্থানে। বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়ে অনেকটা চলাচলের অনুপযোগি হয়ে পড়েছে জনবহুল বড়দারোগাহাট-বগাচতর সড়ক, জোরারগঞ্জ-মুহুরীপ্রজেক্ট সড়ক। পানিবন্দি হয়ে আছে ফেনাপুনি, ওসমানপুরের মরগাং, চিনকীআস্তানা ও খিলমুরালী গ্রামের সহস্রাধিক পরিবার। চুলায় পানি ওঠায় রান্নাও বন্ধ।

খৈয়াছড়া ইউনিয়নের ফেনাফুনী গ্রামে পানিবন্দি রয়েছে অনেক পরিবার। কোমর পরিমান পানি হওয়ায় মানুষের চলাচলে অনেক ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। এলাকার বাসিন্দা আবু তাহের জানান, ফেনাফুনী খালটি দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে সংস্কার না হওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। টানা বৃষ্টি হলে তো ভোগান্তির শেষ থাকেনা। কোমর পরিমাণ পানির কারণে চলাচলে অনেক কষ্ট হচ্ছে। অনেকে রান্নাঘরের চুলায় পানি উঠায় রান্না-বান্না হয়নি। 

আরেক বাসিন্দা শিহাব শিবুল জানান, পাহাড়ি তিন ছরার পানি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক পার হয়ে এক ছরা দিয়ে যায়। কিন্তু ছরার মধ্যে স্থাপনা নির্মাণ করে দখলের কারণে পানি যাওয়ার পথ বন্ধ রয়েছে। এতে প্রতি বছর বৃষ্টি হলে আমাদের গ্রাম পানিতে নিমজ্জিত থাকে। অচিরেই খালের উপর নির্মিত অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ ও খাল সংস্কার করার জোর দাবী জানাচ্ছি। 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, খাল পার্শ্ববর্তী হাট-বাজারগুলোকে ঘিরে গড়ে উঠেছে শত শত অবৈধ দোকান-পাট ও স্থাপনা। এগুলোর কারণে বিভিন্ন খালে পানি প্রবাহে বিঘ্ন ঘটে। ফলে প্রতি বছর নিম্নাঞ্চল এলাকা পানির নিচে ডুবে যায়। এছাড়া অপরিকল্পিতভাবে পানি নিষ্কাশনের পথ না রেখে বিভিন্ন শিল্প-কারখানা গড়ে তোলায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়।

খৈয়াছড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাহফুজুল হক জুনু বলেন, আমার ইউনিয়নের ফেনাফুনী ও সৈদালী গ্রামে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। সোমবার বিকেলে আমি এলাকগুলো পরিদর্শন করেছি। তিনি আরো বলেন, মূলত মায়ানী ও মঘাদিয়া ইউনিয়নেে লোকজন খাল দখল করে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের কারণে আমার ইউনিয়নের লোকজন পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। আমি এ বিষয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান ও ইউএনও স্যারের সাথে আলোচনা করবো।

মিরসরাই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রতাপ চন্দ্র রায় বলেন, টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে রোপা আমন ও সবজির কিছু ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে বৃষ্টি যদি অব্যাহত থাকে তাহলে ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।


আরও খবর



সোনারগাঁও প্রেস ক্লাব থেকে মাজহারুল স্থায়ী বহিষ্কার

প্রকাশিত:সোমবার ২৪ জুন 20২৪ | হালনাগাদ:বুধবার ১৭ জুলাই ২০২৪ | ১৬৮জন দেখেছেন

Image
সোনারগাঁও সংবাদদাতা: নারী কেলেঙ্কারির ঘটনায় আদালতে দণ্ডিত হওয়ায় এবং সাংবাদিকতার নাম ভাঙিয়ে অনৈতিক ও শৃংখলা বহির্ভূত কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে  আনন্দ টিভির সোনারগাঁও উপজেলা প্রতিনিধি মাজহারুল ইসলামকে সোনারগাঁও প্রেস ক্লাবের সদস্য পদ থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। সোনারগাঁও প্রেস ক্লাবের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, জনৈক মাসুদুর রহমান নামে এক ব্যক্তি অভিযোগ করেন আনন্দ টিভির সোনারগাঁও উপজেলা‌ প্রতিনিধি মাজহারুল ইসলাম তার স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়ায় লিপ্ত হয়ে প্রলোভন দেখিয়ে ভাগিয়ে নিয়ে যায় এবং অর্থ আত্মসাত করে। পরবর্তীতে এর বিচার চাইতে গেলেও তাকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়ে ভয়ভীতি দেখায়। ঘটনায় মাসুদ প্রেস ক্লাবে অভিযোগ করার পাশাপাশি ২০২২ সালে আদালতে একটি মামলা করেন। ওই মামলায় নারায়ণগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট চলতি বছরের মার্চ মাসে মাজহারুলকে এক বছরের কারাদণ্ড ও ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।পাশাপাশি ২০২৩ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি তার দ্বিতীয় স্ত্রী রওশন আরা শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন এবং প্রতারণার আরেকটি অভিযোগ করেন মাজহারুলের বিরুদ্ধে।‌ ঐ ঘটনায় প্রেস ক্লাবের তদন্ত কমিটি করা হয়। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পায় তদন্ত কমিটি। এছাড়াও বিভিন্ন সময় সাংবাদিকতার প্রভাব খাঁটিয়ে এবং সোনারগাঁও প্রেস ক্লাবের নাম ভাঙিয়ে বিভিন্নস্থান থেকে টাকা নেওয়াসহ শৃংখলা বহির্ভূত কর্মকাণ্ডের অভিযোগে প্রেস ক্লাবের ৩০ মে কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় তার সদস্য পদ বাতিলের সিদ্ধান্ত হয়।  

সোনারগাঁও প্রেস ক্লাবের ফেসবুক পেইজে দেওয়া বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রেস ক্লাবের গঠনতন্ত্রের অনুচ্ছেদ ৩, ধারা ৪ এর ঙ অনুযায়ী সদস্য পদ বাতিল করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে সোনারগাঁও প্রেস ক্লাবের সভাপতি এম এম সালাহ উদ্দিন বলেন, তার বিরুদ্ধে প্রেস ক্লাবের শৃঙ্খলা বহির্ভূত অভিযোগ পাওয়ায় এবং আদালতের দণ্ড থাকায় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে‌। সোনারগাঁও প্রেসক্লাব একটি ঐতিহ্যবাহী আদর্শ সাংবাদিক সংগঠন।  গঠনতন্ত্র অনুযায়ী এটি পরিচালিত হয়ে থাকে।  সাংবাদিকতা তথা সোনারগাঁও প্রেস ক্লাবের সুনাম ক্ষুন্ন হয় এমন কাউকেই প্রশ্রয় দেওয়া হবে না।

আরও খবর



মধুপুর বংশাই নদী হতে অজ্ঞাত নবজাতকের লাশ উদ্ধার

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ১৬ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:বুধবার ১৭ জুলাই ২০২৪ | ১০৮জন দেখেছেন

Image

বাবুল রানা বিশেষ প্রতিনিধি মধুপুর টাঙ্গাইল:টাঙ্গাইলের মধুপুর পৌরসভাধীন  কাইতকাই রুপালী ফিলিং স্টেশন সংলগ্ন বংশাই নদীর তীর থেকে এক নবজাতকের লাশ উদ্ধার করেছে মধুপুর ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা।  মঙ্গলবার (১৬জুলাই) সকালে এলাকাবাসী নদীতে একটি ছোট শিশুর লাশ ভাসতে দেখে মধুপুর ফায়ার সার্ভিস অফিসে ফোন দিয়ে জানান।  তাৎক্ষণিক ভাবে ঘটনাস্থলে মধুপুর থানা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা লাশটি উদ্ধার করে।

ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার মো. বোরহান আলী জানান, আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশটি নদী থেকে উদ্ধার করে মধুপুর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছি। ঘটনাস্থলে পুলিশ অবস্হান করছেন বলে জানা যায়। মৃত নবজাতকের লাশটি একনজর দেখার জন্য উৎসুখ জনতা ভীর করছে। মৃত নবজাতকের পরিচয় এখনো জানা যায়নি।

  -খবর প্রতিদিন/ সি.ব


আরও খবর



কুষ্টিয়ায় দু’টি ব্রিজের কাজ শেষ নিয়ে শঙ্খায় জনসাধারণ

প্রকাশিত:বুধবার ১০ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:বুধবার ১৭ জুলাই ২০২৪ | ৯৬জন দেখেছেন

Image
হাবিবুর রহমান, কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধিঃকুষ্টিয়ায় ‘পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প’ এর অধীন সদর উপজেলার বিত্তিপাড়া হাট-জামজামী ভায়া ঝাউদিয়া সড়কের কুমার নদীর উপর প্রি-ষ্ট্রেজড গার্ডার ব্রিজটি ৪ বছরেও নির্মান শেষ হয়নি। ৭ কোটি ২৫ লাখ টাকা প্রাক্কলন ব্যায়ে ৮১ মিটার দৈর্ঘের ব্রিজটি দুই বছর বা ২৪ মাস সময় ধরে নির্মান বাস্তবায়ন শুরু হয় মার্চ ২০২১সালে। নির্ধারিত সময়কাল ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারীতে শেষ হলেও স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর এলজিইডি কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পটির ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান কাজ ফেলে পালিয়ে যাওয়ায় ঝুলে গেছে প্রকল্পটি। এতে গত ৪বছর ধরে সীমাহিন ভোগান্তির শিকার হয়েছে এই ব্রিজের সুবিধাভোগী কৃষি প্রধান অঞ্চলের কয়েক লক্ষ মানুষ। এছাড়াও হরিনাকুন্ডু ও আলমডাঙ্গা উপজেলার সাথে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার একমাত্র সংযোগ সড়কটিতে যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ এলজিইডি ও ঠিকাদাদের গাফিলতি ও যোগাসাজসী অবহেলায় এমন পরিস্থিতি। দ্রুত ব্রিজটির নির্মান সম্পন্নের দাবি স্থানীয়দের। তবে অভিযোগ নাকচ করে এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী জানালেন খুব শীঘ্রই ব্রিজটির নির্মানকাজ শেষ করে জনগণ চলাচলের জন্য খুলে দেয়া হবে। কুষ্টিয়া সদর উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয় সুত্রে জানা গেছে, ২০২০ সালের নভেম্বরে কুষ্টিয়া আলমডাঙ্গা সড়কের বিত্তিপাড়া হতে ঝাউদিয়া বাজার যেতে উজানগ্রাম এলাকার গঙ্গা কপোতাক্ষ সেচ প্রকল্পের (জিকে) খালের উপর ২৫ কিঃমিঃ দৈর্ঘ্য সেতু নির্মানের আদেশ দেয়া হয়। এই ব্রীজের ব্যয় ধরা হয়েছে ৯২ লাখ ৩৮ হাজার টাকা। একই বছরের ৩ নভেম্বর কার্যাদেশ পাওয়া সেতু নির্মাণ কাজ ২০২১ সালের ৪ নভেম্বর শেষ করার কথা। নির্ধারিত সময় পার হলেও কাজ হয়েছে মাত্র ২৫ থেকে ৩০% । ওই সেতু থেকে মাত্র এক কিঃমিঃ দুরে একই সড়কের কুমার নদীর উপর ৮১ মিটার দৈর্ঘের আরেকটি সেতু নির্মানের কার্যাদেশ দেয়া হয়। এই সেতুটিতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৭ কোটি ২৫ লাখ টাকা। কিন্তু কাজ হয়েছে আনুমানিক মাত্র ৩০%। শুধু মাত্র কয়েকটি পিলার দেখা যাচ্ছে। সেতু দু’টি নির্মাণের কাজ পান পাবনা জেলার এমএনএম এ্্যান্ড এসই (জেভি) নামের যৌথ ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান। এই ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের মালিক পাবনার বেড়া উপজেলার কাশিনাথপুর এলাকার নুরুজ্জামান মিয়া। ঠিকাদারের আবেদনের প্রেক্ষিতে এলজিইডি কাজের মেয়াদও বাড়িয়েছে। তার পরেও কাজ হয়নি। পরবর্তীতে অন্য এক ঠিকাদরকে ব্রীজ নির্মানের কাজ দেয়া হলে সেও কাজ না করে পালিয়ে যায় বলে অভিযোগ উঠেছে। বাস্তবায়নাধীণ প্রকল্পটি দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকায় সীমাহিন দুর্ভোগ ও কৃষি পন্য বহন করা দু:সাধ্য হয়ে পড়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের। দ্রুততম সময়ের মধ্যে ব্রিজটির নির্মান শেষ করে স্বাভাবিক চলাচলের রাস্তাটিও মেরামতের দাবি তাদের। ব্রিজ সংলগ্ন স্থানীয় বাসিন্দা জরিনা খাতুন (৫৫)র অভিযোগ সেই ৪বছর আগে শুরু হয়ছে এই কাম এতোদিন সহ্য কইরি ছিলাম যে কাজ শ্যাষ হলিই তো আবার সব ঠিক হয়ে যাবিনি। কিন্তু একন দেখতিচি, এডি আমারে গলার গাড় হয়ে গেছে। সরকার যিন কামডা তাড়াতারি শ্যাষ কইরি দেয় এই আমার আবেদন। উজানগ্রাম এলাকার বাসিন্দারা তাদের প্রতিক্রিয়ায় বলেন, গা গ্রামের মানুষের কষ্ট দ্যাকার কেউ নেই গো। এই যে গাংয়ের উপর ব্রিজটা আইজ ৪বছর ধরি শেষ করতি পারতেছে না। কি এর সমস্যা আর কিইবা তার সুমাধান হবি কিডা দেকপি কও, আমরা মাঠ ঘাটের ফসল আনতি কত কষ্ট কত্তি হচ্ছে, কষ্টডা তো আমরাই পাচ্ছি। একই ভাবে চলাচলরত ড্রাইভাররা বলেন, কাম কত্তি কত্তি অদ্দেক কইরি ফ্যালা থুয়ে চইলি গেছে। এতোদিন ধইরি আমারে ভুগান্তিই যাচ্ছেনা। ব্রিজটা হয়ে গেলি আমরা বাঁচি। কুষ্টিয়া জেলা সচেতন মহলের প্রতিনিধি শেখ মোঃ সুভীন আক্তার বলেন, কুষ্টিয়ায় নির্মানাধীন রাস্তাঘাট ব্রিজ কালভার্ট ও অবকাঠামো নির্মান প্রকল্পগুলি নানা অনিয়ম অবহেলায় অসম্পন্ন ভাবে ঝুলে আছে দীর্ঘদিন ধরে। প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ সাপেক্ষে সকল প্রস্ততি ও সক্ষমতাসহ প্রকল্প বাস্তবায়নের যাত্রা শুরু হলেও ঝুলে থাকা এসব প্রকল্পে একদিকে বাড়ছে ব্যয় অন্যদিকে স্বভাবিক চলাচল ব্যহতের পাশাপাশি দীর্ঘ হচ্ছে ভোগান্তি। এই যদি হয় বাস্তব চিত্র তাহলে মাসে মাসে এসব মিটিং করে আদৌ কি পরিস্থিতির পরিবর্তন হচ্ছে। সচেতন নাগরিক কমিটি সনাক এর সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল আলম টুকু প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন, এই পরিস্থিতি সৃষ্টি জন্য প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার দায়িত্বহীণতার প্রমান থাকলে অবশ্যই তার জবাবদিহিতাসহ শাস্তি হওয়া উচিত। টেকসই উন্নয়ন অভিযাত্রা বাস্তবায়নে সরকারের অর্থ বরাদ্দ দেয়ার পরও কেনো এমন জনভোগান্তি হবে, এতে হয় তাদের অনিয়ম অবহেলা আছে নচেৎ তারা অযোগ্য। তিনি এমন প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন উন্নয়ন সমন্বয় সভাতে। তিনি আরও বলেন, গত উন্নয়ন সমন্বয় সভাতে যোগ দিয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য মাহবুব উল আলম হানিফ চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। এবিষয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী অধিদপ্তর এলজিইডি কুষ্টিয়ার নির্বাহী প্রকৌশলী মো: আব্দুর রাজ্জাক বলেন, উজানগ্রাম-ঝাউদিয়া সড়কের কুমার নদীর উপর নির্মানাধীণ ৮১ মিটার দৈর্ঘের ব্রিজটির নির্মান কাজ কিছু দিন বন্ধ ছিলো তবে খুব দ্রুততম সময়ের মধ্যে শেষ করা হবে।

-খবর প্রতিদিন/ সি.

আরও খবর