Logo
আজঃ Tuesday ২৮ June ২০২২
শিরোনাম
নাসিরনগরে বন্যার্তদের মাঝে ইসলামী ফ্রন্টের ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ রাজধানীর মাতুয়াইলে পদ্মাসেতু উদ্ধোধন উপলক্ষে দোয়া মাহফিল রূপগঞ্জে ভূমি অফিসে চোর রূপগঞ্জে গৃহবধূর বাড়িতে হামলা ভাংচুর লুটপাট ॥ শ্লীলতাহানী নাসিরনগরে পুকুরের মালিকানা নিয়ে দু পক্ষের সংঘর্ষে মহিলাসহ আহত ৪ পদ্মা সেতু উদ্ভোধন উপলক্ষে শশী আক্তার শাহীনার নেতৃত্বে আনন্দ মিছিল করোনা শনাক্ত বেড়েছে, মৃত্যু ২ জনের র‍্যাব-১১ অভিমান চালিয়ে ৯৬ কেজি গাঁজা,১৩৪৬০ পিস ইয়াবাসহ ৬ মাদক বিক্রেতাকে গ্রেফতার করেছে বন্যাকবলিত ভাটি অঞ্চল পরিদর্শন করেন এমপি সংগ্রাম পদ্মা সেতু উদ্বোধনে রূপগঞ্জে আনন্দ উৎসব সভা ॥ শোভাযাত্রা

ঢাকা চট্রগ্রাম মহাসড়ক মাতুয়াইলে নতুন ইউলুপ চালু

প্রকাশিত:Wednesday ২৭ April ২০২২ | হালনাগাদ:Tuesday ২৮ June ২০২২ | ২০৩জন দেখেছেন
Image

নাজমুল হাসানঃ

ট্রাফিক-ডেমরা জোনের অধীন ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মাতুয়াইল মেডিকেলে সড়ক ও মহাসড়ক বিভাগের ব্যবস্থাপনায়  নতুন ইউলুপ চালু হয়েছে।বুধবার ২৭ শে এপ্রিল থেকে  নতুন ইউলুপ চালু হওয়ায় যাজটের দুর্ভোগ লাঘব হওয়ার আশা করছে ট্রাফিক-ডেমরা জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) ইমরান হোসেন মোল্লা।


তিনি বলেন,ট্রাফিক-ডেমরা জোনের মাতুয়াইলে নতুন ইউলুপ চালুর কারনে কমবে সড়ক দুর্ঘটনা ও জনভোগান্তি"।ইউলুপ চালুর পাশাপাশি, মাতুয়াইল মেডিকেলের সামনে আগের অতিমাত্রায় ঝুঁকিপূর্ণ ক্রসিংটি বন্ধ করা হয়েছে।



সড়ক দুর্ঘটনারোধে ও জনসাধারণের ও যানবাহনের ঝুঁকিপূর্ণ চলাচল হ্রাসে ইউলুপটি খুবই কার্যকরী হবে মর্মে ধারণা করা যায়।ইউলুপে ট্রাফিক-ডেমরা জোনের উদ্যোগে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে ডেপ্লয়মেন্ট নিশ্চিত করা হয়েছে।


আরও খবর



চাঁদাবাজির অভিযোগে ৪ জনকে গণপিটুনি

প্রকাশিত:Friday ১০ June ২০২২ | হালনাগাদ:Monday ২৭ June ২০২২ | ৪৪জন দেখেছেন
Image

যশোরের বাঘারপাড়ায় সাংবাদিক পরিচয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগে চারজনকে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে দিয়েছেন স্থানীয় জনতা।

বৃহস্পতিবার উপজেলার খাজুরা বাজারে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় তাদের ব্যবহৃত লাল রঙের প্রাইভেটকার, মোবাইল, ক্যামেরা, পরিচয়পত্র ও অ্যাসাইমেন্টের কপি জব্দ করে পুলিশ।

গণপিটুনির শিকার ব্যক্তিরা হলেন- মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার বাউশিয়া গ্রামের হিরণ শেখের ছেলে নুরুদ্দিন (২৮), একই উপজেলা কলসেরকান্দি গ্রামের শহিদুল ইসলামের ছেলে সাইফুল ইসলাম (৩৫), রাজধানীর বংশালের আগামাছি লেনের মঞ্জুর হোসেনের ছেলে এস.এম. শাহজাহান (৪২) ও যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার বাঁকড়া মেঠোপাড়া গ্রামের কিসমত দফাদারের মেয়ে রাজিয়া সুলতানা ডলি (২৮)।

ভুক্তভোগীদের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে অভিযুক্তরা খাজুরা বাজারের আশার আলো সমবায় সমিতিতে গিয়ে নিজেদের সাংবাদিক পরিচয় দেন। তারা বলেন, ‘আমরা ঢাকা অফিস থেকে অডিটে এসেছি। সমিতির কাগজপত্র বের করেন যাচাই-বাছাই করবো।’ এ সময় ওই সাংবাদিকদের পরিচয়পত্র ও অফিস অডিটের অনুমতিপত্র দেখাতে বললে তারা ঘাবড়ে যান। সন্দেহ হলে সমিতির নির্বাহী পরিচালক ও সভাপতি খাজুরা পুলিশ ক্যাম্পে খবর দেন।

jagonews24

পুলিশ আসার আগে স্থানীয় জনতা অভিযুক্তদের গণপিটুনি দেন। পরে ঘটনাস্থল থেকে ওই চারজনকে আটক করে পুলিশ। এর আগে বুধবার স্বপ্নের সেতু, সাহসী ও খাজুরা সমবায় সমিতিতে গিয়ে তারা সংবাদ প্রকাশ ও লাইসেন্স বাতিলের ভয়ভীতি দেখিয়ে নগদ ৪৫ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলেও পুলিশের কাছে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

আশার আলো সমবায় সমিতির নির্বাহী পরিচালক আমিরুল ইসলাম বলেন, ‘অফিসে এসে সাংবাদিক পরিচয় দিলে তাদের আপ্যায়নের ব্যবস্থা করি। তাৎক্ষণিক আমি সমিতির সভাপতি সাইফুজ্জামান চৌধুরী ভোলাকে ফোন করে ডাকি। এ সময় তারা অফিস অডিটের (অ্যাসাইমেন্ট কপি) একটি ভুয়া অনুমতিপত্র দেখায় আমাদের। কথাবার্তার এক পর্যায়ে তারা সবাই ঘাবড়ে গেলে আমরা পুলিশকে খবর দিই।’

স্বপ্নের সেতু সমবায় সমিতির নির্বাহী পরিচালক উজ্জ্বল নন্দী অভিযোগ করে বলেন, ‘বুধবার সকালে তারা অফিসে এসে খাতাপত্র দেখে বলে, অনিয়ম ও দুর্নীতি হচ্ছে। এ সময় সমিতির লাইসেন্স বাতিলের ভয়ভীতি দেখিয়ে আমার কাছ থেকে নগদ ২০ হাজার টাকা নেয় তারা।’

এছাড়া, এদিন একই কৌশলে অভিযুক্তরা সাহসী সমবায় সমিতি থেকে ২০ হাজার টাকা ও খাজুরা সমবায় সমিতি থেকে ৫ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বাঘারপাড়া উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘প্রশিক্ষণের জন্য বাইরে ছিলাম। মঙ্গলবার বিকেলে অফিসে এসে কয়েক ব্যক্তি সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে উপজেলার সমিতির তালিকা চায়। এ সময় অফিসের স্টাফদের কাছ থেকে তালিকা নিয়ে তারা চলে যায়। পরে জানতে পারি ভুয়া সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে তারা বিভিন্ন সমিতিতে চাঁদাবাজি করছে।’

বাঘারপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফিরোজ উদ্দীন জাগো নিউজকে বলেন, আটকদের থানায় জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। তারা প্রকৃত সাংবাদিক কি না তাও খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


আরও খবর



কোদাল-ডালি নিয়ে মাটি কাটলেন জাবি উপাচার্য

প্রকাশিত:Wednesday ০৮ June ২০২২ | হালনাগাদ:Tuesday ২৮ June ২০২২ | ৬৩জন দেখেছেন
Image

কোদাল-ডালি হাতে মাটি কেটে অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্পের দ্বিতীয় ধাপের কাজের উদ্বোধন করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. নূরুল আলম। এধাপে ১৪টি নতুন স্থাপনা নির্মাণ করা হবে। একই প্রকল্পের অধীনে প্রথম ধাপে ছয়টি আবাসিক হলের কাজ প্রায় শেষের দিকে।

বুধবার (৮ জুন) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. নূরুল আলম এ কাজের উদ্বোধন করেন।

নির্মিতব্য স্থাপনাগুলোর মধ্যে রয়েছে- প্রশাসনিক ভবন নির্মাণ, গ্রন্থাগার, স্পোর্টস কমপ্লেক্স, গেস্ট হাউস, লেকচার থিয়েটার, ছাত্রীদের খেলার মাঠ, আল-বেরুনী হলের খেলার মাঠ উন্নয়ন, হাউজ টিউটরদের জন্য বাসভবন, ১৫২ জন ছাত্রের জন্য শহীদ রফিক-জব্বার হল সমাপ্তকরণ, প্রাধ্যক্ষদের জন্য আবাসিক কমপ্লেক্স, শিক্ষকদের জন্য আবাসিক টাওয়ার, তৃতীয় ও ৪র্থ শ্রেণির কর্মচারীদের ও পরিচ্ছন্ন কর্মীদের জন্য আবাসিক টাওয়ার নির্মাণ।

উদ্বোধনকালে উপাচার্য অধ্যাপক মো. নূরুল আলম বলেন, আমরা যদি কাজের গুনগত মান ঠিক রাখতে না পারি তাহলে প্রধানমন্ত্রী যে উদ্দেশ্য নিয়ে আমাদের এ বাজেট দিয়েছেন সেটি ব্যর্থ হবে। কাজের মান ঠিক রাখার জন্য শিগগির তদারকি কমিটি করা হবে। উন্নয়ন প্রকল্প সুষ্ঠুভাবে সম্পাদন করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সব শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সহযোগিতা কামনা করছি।

এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক শেখ মো. মনজুরুল হক, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. রাশেদা আখতার, গাণিতিক ও পদার্থ বিষয়ক অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. অজিত কুমার মজুমদার, শিক্ষক সমিতির কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. ছায়েদুর রহমান, প্রাধ্যক্ষ কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ড. মোহা. মজিবুর রহমান, প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী নাসির উদ্দিন, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি আকতারুজ্জামান সোহেল ও সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান লিটন প্রমুখ।

জাবিকে একটি মডেল বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরে অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্পের অধীনে প্রায় সাড়ে ১৪০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয় একনেক।


আরও খবর



একদিনেই নাপিত্তাছড়ায় দেখে আসুন ৪ ঝরনা

প্রকাশিত:Tuesday ১৪ June ২০২২ | হালনাগাদ:Tuesday ২৮ June ২০২২ | ৬২জন দেখেছেন
Image

মাজহারুল ইসলাম শামীম

কর্মব্যস্তময় এই শহুরে জীবন থেকে ফাঁকি দিয়ে একটু সময় প্রকৃতির মাঝে নিজেকে উজার করে দেওয়ার নিমিত্তে ছুটে গিয়েছিলাম চট্টগ্রাম জেলার মীরসরাইয়ের অনিন্দ্য সুন্দর নাপিত্তাছড়া ট্রেইলে।

ভয়ংকর সুন্দর এই ট্রেইলে ট্র্যাকিং করতে চাইলে আপনাকে প্রথমে মীরসরাই নয়দুয়ার বাজার যেতে হবে। তারপর নয়দুয়ার বাজার থেকে ১৫/২০ মিনিট পথ হাঁটলে পাহাড়ি রাস্তা শুরু হবে। সেই রাস্তা অনুসরণ করলেই কাজ শেষ।

প্রথমেই বলি নাপিত্তাছড়া ট্রেইলে মোট ৪টি ঝরনা আছে- টিপরাখুম ঝরনা, কুপিটাকুম ঝরনা, বান্দরখুম ঝরনা ও বাঘবিয়ানী ঝরনা। ভয়ানক পাথরের রাস্তা আর এবড়ো-থেবড়ো পাহাড়ি রাস্তা পেড়িয়ে যে অভিজ্ঞতা তা না দেখলে ভাষায় বোঝানো যাবে না।

আমাদের ভ্রমণ শুধু হয় ফেনী জেলা থেকে। ১১ জন বন্ধুরা মিলে শুক্রবার সকাল ৮টায় ফেনী থেকে মিরসরাই নয়দুয়ারি বাজারের উদ্দেশ্যে বাসে রওনা হই আমরা। সেখানে গিয়ে পৌঁছাতে প্রায় ঘণ্টাখানিক সময় লেগে গেল। তারপর বাস থেকে নেমে সবাই একত্র হয়ে বিভিন্ন বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিলাম।

jagonews24

ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়কের মিরসরাই উপজেলার খৈয়াছড়া ইউনিয়ন অন্তর্ভুক্ত নয়াদুয়ার বাজার এলাকায় এটির অবস্থান। মহাসড়ক থেকে নাপিত্তাছড়া ঝর্ণায় পৌঁছাতে ৫০-৬০ মিনিটের মত সময় লাগে।

ট্রেইল শুরুর আগে কিছু প্রস্তুতি দরকার হয়। প্রথম যে জিনিসটি দরকার তা হচ্ছে পাথুরে পিচ্ছিল কিংবা পিচ্ছিল কাদামাটি পথ পাড়ি দিতে অবশ্যই এ্যাংলেট ও মোজা নিতে হবে। পতন এড়ানো কিংবা পানির গভীরতা মাপতে একটি লাঠি নিলাম। দুটোই নয়া দুয়ারী বাজারে ট্রেইল শুরুর আগেই কিনতে পাওয়া যায়।

এ্যাংলেট ৪০ টাকা ও বাঁশের লাঠির দাম পড়বে ২০ টাকা। জনপ্রতি ১ লিটার পানি ও দ্রুত শক্তি জোগাবে এমন কিছু শুকনো খাবার, বাড়তি একসেট জামাকাপড় নিয়ে রওনা দিলাম সেই কাঙ্খিত ঝরনার দিকে।

পুরো ট্রেইল হেঁটে দেখতে ৪-৫ ঘণ্টা লাগে, তাই সকালের দিকেই এ ট্রেইলে যাওয়া ভালো। আমাদের ফিরতে রাত হয়ে গিয়েছিল। পাহাড়-জঙ্গলে রাত নামে খুব তাড়াতাড়ি। আর তা হয় ভয়ংকর। ৪০-৫০ মিনিট হাঁটার পর টিকেট কাউন্টার পাওয়া যায়। নাপিত্তাছড়ায় প্রবেশ করতে ২০ টাকার টিকেট কাটতে হয়।

jagonews24

অ্যাডভেঞ্চারপ্রিয় পর্যটকদের কাছে পুরো ট্রেইলটি খুবই আকর্ষণীয়। পাথুরে ঝিরি,ট্রেইলের দুপাশে দুর্গম পাহাড়, ঝিরির স্বচ্ছ পানি মনে প্রশান্তি এনে দেয়। সব বন্ধুদের আগেও বিভিন্ন ঝরনা ও পাহাড়ে ওঠার অভিজ্ঞতা আছে বিধায় তেমন জটিলতা হয়নি আমাদের।

তারপরও নাপিত্তাছড়া ঝরনা কিছুটা ব্যতিক্রমী। সেখানে সম্পূর্ণ জায়গা কাদাময় ও পিচ্ছিল। পাশাপাশি খাঁড়া জায়গা। সবকিছু মিলে সর্তকতা ও পূর্ব অভিজ্ঞতা ছাড়া ঝরনায় ওঠা কিছুটা ঝুঁকিপূর্ণ ।

তবে নাপিত্তাছড়া ঝরনায় যাওয়ার ট্রেইলটি অপেক্ষাকৃত সহজ ও নিরাপদ। তবে নতুনদের জন্য এর ২-৩ টি স্থান ভয়ঙ্কর হয়ে উঠতে পারে। ট্রেইলটির কোনো কোনো স্থানে একেবারেই পৌঁছায় না সূর্যের আলো। যেখানে দিনের বেলায়ও সূর্যের আলো পৌঁছায় না। শরীর ছমছম করে ওঠে। সেজন্য দিনের আলো থাকতেই ট্রেইলটি পার হয়ে আসা উচিত।

ঝিরি ও পাহাড়ি পথ ট্রেকিং করে কিছুদূর যাওয়ার পর প্রথমে এই ট্রেইলের টিপরা ঝরনার দেখা পাওয়া যায়। এর পানি কিছুটা ঘোলাটে। এখানেই অনেকে গোসল করেন। আর অন্য ঝরনাগুলো দেখতে একটু কষ্টসাধ্য হওয়ায় এখান থেকেই ফিরে নাপিত্তাছড়া ঝরনা দেখার গল্প করেন।

jagonews24

টিপরা ঝরনার উপরেই কুপিকাটা ঝরনা। পাহাড়ের কোল ঘেষে টিপরাখুম মধ্য দিয়ে এই ঝরনায় যেতে হয়। মূলত ত্রিপুরা আদিবাসীরা এখানে থাকে। তাই এর নাম হয় টিপরাখুম। টিপরার বাম পাশ দিয়ে এটিতে উঠতে হয়।

এটি বেশ গভীর। সাঁতার না জানলে দূর থেকে এর সৌন্দর্য দেখুন। তবে নামার চিন্তাও করবেন না। কুপিকাটা ঝরনার ডান পাশ দিয়ে পাহাড়ে উঠে আবার ঝিরিতে নামতে একটি পিচ্ছিল পাহাড়ি পথ পড়বে।

তবে খুব সাবধানে এটি পার হতে হয়। ট্রেকিংয়ের সময় প্রত্যেক কদমই আপনাকে আত্মবিশ্বাসের সাথে ফেলতে হবে। এখানে ভুলের কোনো ক্ষমা নাই। অনেক সময় চড়া মূল্য দিতে হয়।

এ ঝিরি পথ ধরে আরও সামনে গেলে ইংরেজি বর্ণমালার Y বর্ণের মতো দুদিকে দুটো ঝিরি ভাগ হয়ে গেছে। হাতের বামে ঝিরি ধরে ৩০ মিনিটের মতো গেলে ঝিরির শেষ মাথায় বাঘবিয়ানী ঝরনা দেখতে পাবেন। অনেক সুন্দর এ ঝরনা।

এ ঝরনা দেখে আবার পিছনে এসে Y জাংশনের মাথা থেকে ডান দিকে গেলে ঝিরি পথে পড়ে কিছু অনিন্দসুন্দর ক্যাসকেড। এ ঝিরি ধরে ১০ মিনিট সামনের এগিয়ে গেলে ঝিরির শেষে দেখা মিলবে নয়নাভিরাম বান্দর খুম ঝরনার। এই বান্দরখুম ঝরনাই এই ট্রেইলের সবচেয়ে সুন্দরতম ঝরনা। এটিনাই ‘নাপিত্তাছড়া’ ঝরনা নামে পরিচিত।

উঁচু থেকে পাহাড়ের পাথর বেঁয়ে পানি নামার অবিরাম দৃশ্য, পাশে সবুজ গাছপালা, আছে ভয়ংকর কিছু পশুপাখির আওয়াজ, আছে শীতল পানির বাষ্প, আবার অনেকে ফুটবল ও খেলে সেখানে ঝরনার নিচে।

সব কিছু মিলে অনেক ভালো এক এডভেঞ্চার হয়। তবে নাপিত্তাছড়া ঝরনা পর্যন্ত আসার যে কষ্ট তা ঝরনার পানির অবিরাম পানির দৃশ্য দেখে যে কারো মন ভরে যাবে। এ যেনো এক প্রকৃতির রূপকথার গল্পের মতো।

jagonews24

পাশাপাশি এই ঝরনায় এলে দেখা যায় পাহাড়ি উপজাতি মানুষ ও সাধারণ মানুষদের বসবাস। পাহাড়ি মানুষদের সংগ্রামী জীবন এসব জায়গায় কেউ না আসলে কখনো কল্পনাও করতে পারবে না কেউ।

একেকটি ঘরবাড়ি কত উঁচুতে পাহাড়ের উপর। তাদের জীবন-জীবিকার তাগিদে সে উঁচু পাহাড়ের ঘরবাড়ি থেকে সমতলে নেমে এসে কাজকর্ম করে জীবন পার করতে হয়।

তাদের সেখানে খাবারের পানির উৎস ও অনেক কঠিন। হয়তো কাউকে পাহাড়ের ঝরনার পানি খেতে হয়, না হয় কাউকে সমতল ভূমিতে নলকূপ বসিয়ে, সেই কূপ থেকে পানির পাইপ লাগিয়ে তাদের পাহাড়ের উপর ঘরবাড়িতে নিয়ে যেতে হয়। সেখানে মানুষ রান্নাবান্না করার জন্য প্রতিনিয়ত পাহাড়ের বিভিন্ন গাছ কেটে লাকড়ি তৈরি করেন।

দিন শেষে যখন তারা বাড়ি ফেরেন তখন এসব লাকড়ির বোঝা মাথায় নিয়ে ঝরনার এসব পিচ্ছিল পথগুলো পাড়ি দিয়ে উঁচু পাহাড়ে তাদের যে ঘরবাড়ি সেখানে পাহাড় বেঁয়ে উঠতে হয়। সেখানে নারীরাও দিনরাত কঠোর পরিশ্রম করেন।

এসব দৃশ্য একদিকে যদিও আনন্দ দেয়, অন্যদিকে এসব আনন্দের মধ্যে লুকিয়ে আছে হাজারো বেদনা। পাহাড়িদের সন্তানেরা অসুস্থ হলেও চিকিৎসার জন্য তাদের নেই কোনো উন্নত হাসপাতাল, নেই অর্থ।

অবশেষে এসব দৃশ্য দেখার পর আমাদের যখন ভ্রমণের সব স্পট দেখা শেষ এবার আমাদের নেমে যাওয়ার পালা। তবে এই ঝরনায় নেমে আসার জন্য আরো একটা পথ আছে গভীর জঙ্গলের মধ্যে দিয়ে।

যদিও পথটা অন্ধকার ও গভীর জঙ্গল হয় তবে ঝরনাতে ওঠার পথের চেয়ে ঝুঁকি কম। তাই আমরা ফেরার সময় ওই পথ দিয়ে নেমেছিলাম।

লেখক: ব্যবস্থাপনা বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী, ফেনী সরকারি কলেজ।


আরও খবর



হাতিয়ায় ইউপি নির্বাচনে দায়িত্বপ্রাপ্তদের গন্তব্য ‘হোটেল ঈশিতা’

প্রকাশিত:Monday ১৩ June ২০২২ | হালনাগাদ:Saturday ২৫ June ২০২২ | ৪০জন দেখেছেন
Image

নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার হরণী ও চানন্দী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের বেশিরভাগই সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আলীর মনোনীত বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

রোববার (১২ জুন) দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত সরেজমিনে হাতিয়া বাজার গিয়ে এর সত্যতাও পাওয়া গেছে। এ সময়ের মধ্যে হাতিয়া দ্বীপ থেকে নৌপথে চেয়ারম্যান ঘাট আসা বেশিরভাগ কর্মকর্তার গন্তব্য ছিল তিন কিলোমিটার দূরের হোটেল ঈশিতা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ওই হোটেলের মালিক হাতিয়ার সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আলী। বর্তমানে তিনি ওই হোটেলে অবস্থান করছেন। নির্বাচনে দায়িত্বপ্রাপ্তরা এসেই উনার সঙ্গে দেখা করতে হোটেলে যাচ্ছেন। এরপর নির্দেশনা নিয়ে তারা কেন্দ্রে যাবেন।

হোটেল ঈশিতার সামনে গিয়ে দেখা যায়, মধ্য বয়সী এক ব্যক্তি হোটেলের নিচে এসে জড়ো হওয়া কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলছেন, ‘দাদা (মোহাম্মদ আলী) বিশ্রামে আছেন। আপনারা যার যার দায়িত্বপ্রাপ্ত কেন্দ্রে চলে যান। সেখানে আপনাদের জন্য থাকা-খাওয়াসহ সব ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।’

jagonews24

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নির্বাচনী কর্মকর্তাদের একজন জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমরা হাতিয়া দ্বীপ থেকে সি-ট্রাক, ট্রলার ও স্পিডবোটে এপাড়ে এসেছি। আসার আগে হোটেল ঈশিতায় যোগাযোগ করে যেতে বলা হয়েছে। তাই আমরা এখানে এসেছি। পরে কেন্দ্রে যাবো।’

হোটেল ঈশিতায় গিয়ে দেখা যায়, নিচে সংসদ সদস্যের স্টিকার লাগানো কালো জিপ গাড়ি রাখা। গাড়িটি মোহাম্মদ আলীর স্ত্রী সংসদ সদস্য আয়েশা ফেরদৌস ব্যবহার করেন। তবে তিনি ঢাকায় অবস্থান করছেন বলে জানানো হয়।

হোটেলের দোতলায় একটি বেসরকারি ব্যাংক ও তিনতলায় মোহাম্মদ আলীর বৈঠকখানা এবং থাকার ব্যবস্থা রয়েছে। ওপরের দিকে অন্য কক্ষে তার কাছের লোকজন অবস্থান করছেন।

নির্বাচনে হরণী ইউনিয়নের নৌকা প্রতীক পেয়েছেন মৎস্য ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো. আখতার হোসেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী ঘোড়া প্রতীক নিয়ে লড়ছেন মো. মুসফিকুর রহমান।

অন্যদিকে চানন্দী ইউনিয়নে নৌকা প্রতীক পেয়েছেন মো. আজহার উদ্দিন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী আমিরুল ইসলাম শামীম ঢোল প্রতীক নিয়ে লড়ছেন।

jagonews24

চানন্দী ইউনিয়নের স্বতন্ত্র প্রার্থী আমিরুল ইসলাম শামীম জাগো নিউজকে বলেন, ‘সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আলী নৌকার প্রার্থীদের জেতাতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন। তিনি সার্বক্ষণিক হাতিয়া বাজারে হোটেল ঈশিতায় অবস্থান করে সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করছেন।’

এ বিষয়ে সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আলী জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমি রাজনীতি করি। হাতিয়ার বেশিরভাগ মানুষই তো আমার লোক। নির্বাচনের দায়িত্বে নিয়োজিতরা ঘাট থেকে নেমে এ পথেই যেতে হয়। তাই হয়তো এদিকে এসেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বীরা সবাই আওয়ামী লীগের লোক। তবে অনিয়মের কারণে কিছু লোকের থেকে আমি আমার সমর্থন তুলে নিয়েছি। তবে নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, সুন্দর হোক সেটা আমিও চাই। তাতেও এখানে বিপুল ভোটে নৌকার জয় হবে।’

এ বিষয়ে জানতে হাতিয়া উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. জাকির হোসেনের মোবাইলে বারবার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।

জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. মেজবাহ উদ্দিন জাগো নিউজকে বলেন, ‘দায়িত্বপ্রাপ্তরা কে কার সমর্থক বা অনুসারী তা দেখা হয়নি। কারও বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ থাকলে তা খতিয়ে দেখে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে এখনও এ নিয়ে কেউ অভিযোগ করেননি।’

১ নম্বর হরণী ইউনিয়নে ভোটার সংখ্যা ২২ হাজার ৪৬৭। এখানে চেয়ারম্যান পদে ১০ জন, সংরক্ষিত নারী মেম্বার পদে ১৭ জন ও সাধারণ মেম্বার পদে ৪১ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

jagonews24

২ নম্বর চানন্দী ইউনিয়নে ভোটার সংখ্যা ৪০ হাজার ৭০১। এখানে চেয়ারম্যান পদে ১০ জন, সংরক্ষিত নারী মেম্বার পদে ১২ জন ও সাধারণ মেম্বার পদে ২৩ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

দুই ইউনিয়নের ২৯ কেন্দ্রেই ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোট অনুষ্ঠিত হবে।

নোয়াখালীর মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন দ্বীপের এ দুই ইউনিয়ন হাতিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন মেঘনা নদীর কূলঘেঁষা সুবর্ণচর উপজেলা সংলগ্ন। ৩০ বছর আগে ১৯৯১ সালের দিকে নতুর চর জেগে বয়ারচর নামকরণ দিয়ে লোকজন বসবাস শুরু করে।

নদীভাঙনের পর পুনরায় ২০০৪ সালের ১৬ ডিসেম্বর জেগে ওঠা বয়ারচরকে ১ নম্বর হরণী, নলেরচর ও নাঙ্গলিয়ারচরকে ২ নম্বর চানন্দী ইউনিয়ন ঘোষণা করে সরকার।

সীমানা জটিলতায় মামলা চলার কারণে বিগত ১৮ বছর এ দুই ইউনিয়নের প্রশাসক দিয়ে কার্যক্রম চালানো হয়। মামলা নিষ্পত্তির পর গত ২৫ এপ্রিল সারাদেশে ১৩৫টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের সঙ্গে এ দুই ইউনিয়নেও তফসিল ঘোষণা করা হয়। ১৫ জুন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।


আরও খবর



সেবা সহজ করতে নিরাপদ আইটি অবকাঠামো জরুরি: প্রতিমন্ত্রী

প্রকাশিত:Saturday ১১ June ২০২২ | হালনাগাদ:Monday ২৭ June ২০২২ | ৬৭জন দেখেছেন
Image

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেছেন, শতভাগ বিদ্যুতায়নের ফলে গ্রাহকের সংখ্যা উত্তরোত্তর বাড়ছে। গ্রাহকদের হাতের নাগালে সেবা পৌঁছাতে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে। আইটি অবকাঠামো ছাড়া স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, শুদ্ধাচার প্রতিষ্ঠা করা কঠিন হবে। নিরাপদ ও বিশ্বাসযোগ্য একটি আইটি অবকাঠামো সেবা সহজীকরণ করতে অপরিসীম অবদান রাখবে।

শনিবার (১১ জুন) অনলাইনে নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি লিমিটেডের ডাটা সেন্টারের শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রাতিষ্ঠানিক নিরাপত্তা জোরদার করা বাঞ্ছনীয়। এ নিরাপত্তার জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তর হতে সনদ নিয়ে নিয়মিত অডিট করার ব্যবস্থা করতে হবে। সম্ভব হলে ডামি কেস স্টাডিও করা যেতে পারে।

তিনি আরও বলেন, আগামী পাঁচ বছরে রাজশাহী অঞ্চলে বিদ্যুতের চাহিদা তিনগুণ বেড়ে যাবে। এজন্য এখনি প্রয়োজনীয় প্রকল্প নেওয়া দরকার। রাজশাহীতে আন্ডারগ্রাউন্ড ক্যাবল স্থাপনের কাজ শুরু করতে পারলে শহরটি আরও সুন্দর ও আধুনিক হবে।

এসময় সব বিতরণ কোম্পানির জন্য একটি ইউনিক কল সেন্টার করার গুরুত্বারোপ করেন প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ।

বিদ্যুৎ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মু. মোহসিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বিদ্যুৎসচিব মো. হাবিবুর রহমান, বিভাগীয় কমিশনার জি এস এম জাফরউল্লাহ, জেলা প্রশাসক আব্দুল জলিল ও নেসকোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাকিউল ইসলাম বক্তৃতা করেন।


আরও খবর