Logo
আজঃ Tuesday ২৮ June ২০২২
শিরোনাম
নাসিরনগরে বন্যার্তদের মাঝে ইসলামী ফ্রন্টের ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ রাজধানীর মাতুয়াইলে পদ্মাসেতু উদ্ধোধন উপলক্ষে দোয়া মাহফিল রূপগঞ্জে ভূমি অফিসে চোর রূপগঞ্জে গৃহবধূর বাড়িতে হামলা ভাংচুর লুটপাট ॥ শ্লীলতাহানী নাসিরনগরে পুকুরের মালিকানা নিয়ে দু পক্ষের সংঘর্ষে মহিলাসহ আহত ৪ পদ্মা সেতু উদ্ভোধন উপলক্ষে শশী আক্তার শাহীনার নেতৃত্বে আনন্দ মিছিল করোনা শনাক্ত বেড়েছে, মৃত্যু ২ জনের র‍্যাব-১১ অভিমান চালিয়ে ৯৬ কেজি গাঁজা,১৩৪৬০ পিস ইয়াবাসহ ৬ মাদক বিক্রেতাকে গ্রেফতার করেছে বন্যাকবলিত ভাটি অঞ্চল পরিদর্শন করেন এমপি সংগ্রাম পদ্মা সেতু উদ্বোধনে রূপগঞ্জে আনন্দ উৎসব সভা ॥ শোভাযাত্রা

দাম্পত্য কলহে কুয়ায় ঝাঁপ স্বামীর! উদ্ধার করে পুলিশের মিষ্টিমুখ

প্রকাশিত:Saturday ১৮ June ২০২২ | হালনাগাদ:Tuesday ২৮ June ২০২২ | ৫১জন দেখেছেন
Image

সংসারে ঝগড়া চলছিলই। কথা বলেও দাম্পত্য কলহের সমাধান করাতে পারেনি প্রতিবেশীরা। শুক্রবার (১৭ জুন) সকালে আবারও ঝগড়া শুরু হতেই দৌড়ে গিয়ে কুয়ায় ঝাঁপ দিলেন স্বামী। এরপর প্রতিবেশী ও পুলিশের ঘণ্টাখানেকের চেষ্টায় উপরে তোলা হয় তাকে। পরে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয় হাসপাতালে। কিছুটা সুস্থ করিয়ে মিষ্টির প্যাকেট নিয়ে আসে পুলিশ। সঙ্গে অনুরোধ, আর বিবাদ নয়। ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলায়।

স্থানীয়রা জানান, অন্তত বছর পনেরো আগে পেশায় গাড়ির মিস্ত্রি নাসু শেখ ও ঝুমা বিবির মধ্যে বিয়ে হয়েছে। তাদের মেয়ের বয়স ১১ ও ছেলের ৭। তাদের মধ্যে নানা বিষয়ে বিবাদ লেগেই থাকতো। ঝগড়া হতো নাসুর নেশা করা নিয়েও। বৃহস্পতিবার বিকেলেও দম্পতির মধ্যে ঝগড়ার খবর পৌঁছেছিল থানায়। তখন এক পুলিশ কর্মী বাড়িতে এসে দু’জনের সঙ্গে কথা বলেন।

কিন্তু বৃহস্পতিবার গভীর রাতে ফের দম্পতির মধ্যে কথা কাটাকাটির আওয়াজ কানে আসে প্রতিবেশীদের। সকালে তারা জানতে পারেন কুয়ায় ঝাঁপ দেওয়া কথা। এরপর প্রতিবেশীরা মিলে ছুটে যান উদ্ধারে। থানায় খবর পৌঁছতেই আবারও ছুটে আসে পুলিশ। উদ্ধার করা হয় নাসুকে।

চিকিৎসা শেষে পুলিশের গাড়িতেই তাকে ঘরে ফেরানো হয়। শেষে ওসি (মহম্মদবাজার) তপাই বিশ্বাসের কথায় ট্রাফিক ওসি বিদ্যাসাগর পাল ছোটেন মিষ্টি কিনতে। পুলিশের সামনে পরস্পরকে মিষ্টিমুখ করান ওই দম্পতি। বিদ্যাসাগর তাদের অনুরোধ করেন ঝগড়া মিটিয়ে নিতে।

সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা


আরও খবর



‘হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় ২৪ জনের মধ্যে শুধু আমিই বেঁচে আছি’

প্রকাশিত:Saturday ১১ June ২০২২ | হালনাগাদ:Friday ২৪ June ২০২২ | ৫৮জন দেখেছেন
Image

১৯৬৬ সালে একবার হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় পড়েছিলেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। ওই হেলিকপ্টারে চালকসহ মোট ২৪ জন ছিলেন। এর মধ্যে দুর্ঘটনায় ২৩ জনই মারা গিয়েছিলেন। ওই দুর্ঘটনার স্মৃতিচারণ করে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, দুর্ঘটনায় একমাত্র আমি বেঁচে ছিলাম। আমি তখন শুধু আল্লাহকে ডাকছিলাম আর মায়ের কথা ভাবছিলাম।

শনিবার (১১ জুন) রাজধানীর হোটেল লেকশোরে ন্যাশনাল পলিসি ডায়লগে অংশ নিয়ে মন্ত্রী এই স্মৃতিচারণ করেন।

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, সেদিন ছিল বুধবার, ১৯৬৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের দুই তারিখ। আমেরিকার সাহায্য সংস্থা কেয়ারের ঢাকা অফিসে চাকরি করতাম তখন। আমাকে ফরিদপুর ও কুষ্টিয়া পাঠানো হলো। পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইন্স তখন কিছু হেলিকপ্টার সার্ভিস চালু করেছিল, যা তৎকালীন পূর্ব-পাকিস্তানের কিছু অঞ্চলে যাত্রী পরিবহন করতো। দুপুর দুইটা নাগাদ কুষ্টিয়ার উদ্দেশ্যে যাওয়ার জন্য হেলিকপ্টারে উঠি। ওই হেলিকপ্টারটিতে সব মিলিয়ে ২৪ জন ছিল। হেলিকপ্টারটি ঢাকা থেকে প্রথমে ফরিদপুর হয়ে পরে কুষ্টিয়া যাওয়ার কথা ছিল। ফরিদপুরের কাছাকাছি যখন হেলিকপ্টারটি পৌঁছায় তখন ওপর থেকে বিকট শব্দ শোনা যাচ্ছিল।

তিনি বলেন, মুহূর্তের মধ্যেই হেলিকপ্টারটি ঘুরতে-ঘুরতে মাটিতে পড়ে যায়। আমি তখন শুধু আল্লাহকে ডাকছিলাম আর মায়ের কথা ভাবছিলাম। মাটিতে পড়ার পর ওই হেলিকপ্টারের মধ্যে প্রচণ্ড ধোঁয়ার সৃষ্টি হয়। প্রাণপণ চেষ্টা বেঁচে আছি। এই জীবনে চাওয়া-পাওয়ার কিছু নাই। মানুষের জন্য কাজ করতে চাই।

রাজনৈতিক জীবনের কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, আসি গ্রামের ছেলে, নিম্ন আয়ের পরিবার থেকে উঠে এসেছি। জীবনের তাগিদে ব্যবসা করেছি, চাকরি করেছি। গ্রামের মানুষের কষ্টের কথা বুঝি, হাওরের সন্তান হিসেবে এই অঞ্চলের মানুষের কষ্ট আমাকে পীড়া দেয়। এর পরে জনগণের কল্যাণে গ্রামে ভোট চাইতে গেলাম। আমি বড় পরিবারের সন্তান নই। ছাত্রলীগ-যুবলীগ কেউ আমাকে তখন চেনে না। আমি সবাইকে বললাম আমাকে ভোট দেন ভাগবাঁটোয়ারা করে কিছু করবো না। আপনাদের কল্যাণে কাজ করবো। সবাই আমাকে বিশ্বাস করলো। পরপর তিনবার বিজয়ী হয়েছি। গ্রামের মানুষের কল্যাণে কাজ করেছি।

গ্রামের মানুষের চাওয়া-পাওয়া তুলে ধরে এম এ মান্নান বলেন, গ্রামের মানুষ ধন-সম্পদ চায় না। গ্রামের মানুষ সুপেয় পানি চায়, আলো চায়, স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন চায়, গ্রামের মানুষ সড়ক চায়। আমি কথা রেখেছি, এসব কিছু গ্রামের মানুষের জন্য করেছি। আর এটা সম্ভব হয়েছে বর্তমানে জনবান্ধব আওয়ামী লীগ সরকার থাকার কারণে।

তিনি বলেন, হাওরের মানুষকে দুই হাত ভরে আশীর্বাদ দিয়েছেন আমাদের প্রধানমন্ত্রী, যার সঙ্গে আমরাও দৌড়াচ্ছি। আমরা দেশের কল্যাণের জন্য দৌড়াচ্ছি, আমরা দারিদ্র্য তাড়ানোর জন্য দৌড়াচ্ছি। আমরা ক্ষুধা দূর করার জন্য দৌড়াচ্ছি, বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ার জন্য দৌড়াচ্ছি।

ন্যাশনাল পলিসি ডায়লগে তথ্য কমিশনার সুরাইয়া বেগম, এশিয়ান ফাউন্ডেশনের কান্ট্রি রিপ্রেজেনটেটিভ কাজী ফয়সাল বিন সিরাজ প্রমুখ অংশ নেন।


আরও খবর



স্ত্রীর গোপন যেসব বিষয় অজানা থাকে স্বামীর

প্রকাশিত:Tuesday ০৭ June ২০২২ | হালনাগাদ:Tuesday ২৮ June ২০২২ | ৭৬জন দেখেছেন
Image

স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক টিকে থাকে ভালোবাসা ও বিশ্বাসের বন্ধনে। যদিও বিভিন্ন কারণে সম্পর্কে টানাপোড়েন দেখা দেয় কখনো সখনো, তবে আবারও সব জটিলতার সমাধানও হয়ে যায় ভালোবাসার খাতিরে।

বিয়ের পর মানুষের জীবনে নাটকীয়ভাবে অনেক পরিবর্তন ঘটে। এই অবস্থায় এসে পড়ে অনেক দায়িত্ব। তাই প্রতিটি মানুষকে এ সময় অবশ্যই সতর্ক হয়ে যেতে হবে।

যদিও কথায় আছে, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কিছুই গোপন করা উচিত নয়, তবে জীবনে এমনো কিছু বিষয় আছে যা দাম্পত্য জীবনে গোপন থাকাই ভালো। আর এ কারণে অনেক নারীই কিছু বিষয় গোপন রাখেন পুরুষের কাছে।

যদিও পুরুষরা ভাবেন যে তারা সঙ্গীর সব বিষয়েই জানেন। চলুন তবে জেনে নেওয়া যাক কোন কোন বিষয় স্বামীর কাছে গোপন রাখতে পছন্দ করেন নারীরা-

>> শারীরিক বিভিন্ন সমস্যার কথা নারীরা চেপে রাখেন। যদিও কোনো অসুখ লুকিয়ে রাখা কারও উচিত নয়। এতে ভবিষ্যতে সমস্যা আরও বাড়তে পারে।

>> নারীরা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই অফিসের কথা স্বামীর সঙ্গে ভাগ করে নিতে চান না। এক্ষেত্রে খারাপ ভালো, কোনো কিছুই তারা বলতে চান না। এ কারণে দাম্পত্যে অনেকের সমস্যাও দেখা দেয়।

>> কত টাকা জমাচ্ছেন? তা কখনো স্ত্রীরা তার স্বামীঢকে জানাতে চান না। স্বামীর কাছে সেভিংসের কথা লুকিয়ে রাখতে চান নারীরা।

>> নিজ পরিবারের সদস্যদের সম্পর্কে বিভিন্ন কথাও স্বামীর কাছ থেকে লুকিয়ে রাখার চেষ্টা করেন নারীরা। যদিও এর পেছনে ভালো-মন্দ বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে।

বেশিরভাগ নারীই চাপা স্বভাবের হন। তারা সহজে মুখ ফুটে বিভিন্ন পরিস্থিতির কথা বলতে চান না। তবে স্বামী হিসেবে আপনার উচিত স্ত্রীকে অভয় দেওয়া। তার সব কথা গুরুত্ব সহকারে শোনা ও সমস্যার সমাধান করার দায়িত্ব আপনারই। তাহলে আপনার প্রতি স্ত্রীর ভরসা জন্মাবে।

স্ত্রীর হয়তো আপনার কোনো বিষয় অপছন্দ থাকতে পারে, আর এ কারণে বিভিন্ন বিষয় গোপন রাখতে পারেন তিনি। সব সময় যে স্ত্রী মুখ ফুটে আপনাকে সব বলবেন সে ধারণা রাখা উচিত নয়, কিছু সময় বুঝেও নিতে হয় বিভিন্ন বিষয়।


আরও খবর



বিয়ের রাতের বিড়াল সমাচার

প্রকাশিত:Friday ১৭ June ২০২২ | হালনাগাদ:Tuesday ২৮ June ২০২২ | ৫২জন দেখেছেন
Image

বায়াজিদ গালিব, কানাডা

অনেকদিন আগের কথা। ঘটনা পুঙ্খানুপুঙ্খ মনে না থাকলেও কুয়াশাচ্ছন্ন স্মৃতি থেকে বর্ণনা করছি। খুব সকালে মহানগর প্রভাতীতে যাত্রা করছিলাম চট্টগ্রামে অফিসের কাজে। ট্রেন ছাড়তে তখন বেশ বাকি। বেশি সকালে ঘুম থেকে উঠার কারণে ক্লান্তি লাগছিলো। নির্দিষ্ট বগিতে উঠে আমার নির্ধারিত আসনে বসে পড়লাম।

মুখোমুখি দুটো আসন। জানালার পাশে। আমার হাতে একটি ছোট্ট ব্যাগ, যাতে একদিনের জামাকাপড় আর কিছু প্রয়োজনীয় কাগজপত্র। সযতনে ব্যাগটি কোলের ওপর রেখে চোখ বন্ধ করতেই কখন যেন ঘুমিয়ে পড়েছিলাম। যখন জেগে উঠলাম দেখলাম প্রায় ঘণ্টাখানেক ঘুমিয়েছি। ট্রেন মনে হয় অনেক আগেই চলতে শুরু করেছে।

আমার সামনে বসে আছেন এক ভদ্রলোক। গায়ের রং শ্যামলা, চোখে চশমা। ভদ্রলোক মনে হয়ে এতক্ষণ আমাকেই দেখছিলেন গভীরভাবে। আমি চোখ মেলতেই তিনি তার দৃষ্টি সরিয়ে নিলেন আমার দিক থেকে। তাকে বেশ পরিচিতই মনে হচ্ছিলো। কোথায় যেন দেখেছি? অথবা এমন চেহারার আর কাউকে হয়তো চিনি। সে যা হোক, যাত্রাপথে সঙ্গে বই রাখি, যা পড়তে পড়তে গন্তব্যে পৌঁছে যাই। এ আমার অনেক দিনের অভ্যাস।

রেলগাড়িতে ভ্রমণ আমার সবচেয়ে প্রিয়। শৈশবে যখন রেলগাড়িতে ভ্রমণ করতাম, তখন শরীরের প্রায় অর্ধেক থাকতো জানালার বাইরে। কখনো নির্মল, কখনো বা ধুলোমাখা বাতাস আমার সারা শরীরে পরশ বুলিয়ে যেত। জানালা দিয়ে খুব উপভোগ করতাম বাইরের বিস্তৃত শস্য খেত, প্রায় শুকিয়ে যাওয়া খাল-বিল, মাঝে মধ্যে নদী -নালা, দূরে আকাশের গায়ে মিশে থাকা গাছপালা।

রেলগাড়ি চলার সময় যে দুলোনি হতো সেটাই আমার সবচেয়ে ভালো লাগতো। ক্লান্ত হয়ে গেলে চোখ বন্ধ করে রেলগাড়ির দুলোনি উপভোগ করতাম। দোলা খেতে খেতে একটা সময় ঘুমিয়ে পড়তাম। এখনো ভালো লাগে রেলগাড়ির দুলোনি।

বই পড়ায় মনোযোগ দিতে পারছিলাম না। কারণ সামনের লোকটি আমার দিকে চেয়ে আছে। কেমন একটি অস্বস্তি বোধ করছিলাম। পড়া বন্ধ করে হঠাৎ তার দিকে তাকাতেই সে আবার তার দৃষ্টি সরিয়ে নিলো। আমি ভনিতা না করে যতটুকু সম্ভব মুখের বিরক্তি দূর করে হাসি মুখে তার দিকে তাকালাম। এবার তার অস্বস্তির পালা।

একটু অপ্রস্তুত হয়ে বললো, ভাই আপনাকে খুব পরিচিত মনে হচ্ছে। ভাই কি চট্টগ্রামে থাকেন? আমি বললাম, না আমি ঢাকায় থাকি। বললেন, ঢাকা কি আপনাদের আদি বাড়ি। আমি বললাম, না আমার বাড়ি সিরাজগঞ্জ। তিনি যেন তড়িতাহত হলেন। বলেন কি, আমার বাড়িও তো সিরাজগঞ্জ। তা আপনার বাড়ি শহরের কোন এলাকায়?

আমি বললাম আসলে আমাদের আদি বাড়ি সিরাজগঞ্জ জেলার এনায়েতপুর গ্রামে। তবে আমি আমার মেঝো খালার সিরাজগঞ্জের বাড়িতে বেশ কিছুদিন ছিলাম। তাদের বাড়ির নাম ‘চিটাগং কুঠি’। তিনি উত্তেজিত হয়ে বললেন, আপনি কি চররায়পুর স্কুলে পড়েছেন কখনো? আমি বললাম, হা দুই বছর পড়েছি। তিনি ফুটবলের পেনাল্টি শটের মতই নিশ্চিতভাবেই বললেন, আমার নাম সাত্তার, এ নামে কি কাউকে চিনতেন?

এবার আমার অবাক হবার পালা, আমি আমার নাম বলা মাত্রই উঠে এসে আমাকে জড়িয়ে ধরে বললো, বন্ধু তোর সাথে এভাবে দেখা হবে কোনোদিন ভাবিনি। বললাম, তোর তো কোনো পরিবর্তনই হয়নি মুখের আদল অবিকল রয়ে গেছে, শুধু ছোট মুখটি আকারে বড় হয়েছে। তারপর অনেক কথা, অনেক স্মৃতি, অনেক গল্প। জেনেছিলাম, সে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজিতে অনার্স ও মাস্টার্স করে সিরাজগঞ্জ এক বেসরকারি কলেজে প্রভাষক হিসেবে যোগদান করে।

তারপর সিরাজগঞ্জ বিএল কলেজে অধ্যাপনা করেছিল কিছুদিন। বর্তমানে ঢাকার এক বেসরকারি কলেজে অধ্যাপনা করছে। পরীক্ষার এক্সটার্নাল হিসেবে চট্টগ্রাম যাচ্ছে। এখন নাকি নতুন সিরাজগঞ্জ শহর আমি চিনতেই পারবো না। ভাবলাম, যে শহরে স্মৃতি নেই বললেই চলে তাকে চেনার আগ্রহ তেমন নেই। এখন আমার একমাত্র আগ্রহ সাত্তারের জীবন কাহিনি শোনার।

নিজের চেষ্টায় একজন দরিদ্র কৃষক পরিবার থেকে তার এমন উত্থান আমার বেশ ভালো লাগছিলো। তখন হাতে অনেক সময় প্রায় পাঁচ ঘণ্টা লাগবে চট্টগ্রাম পৌঁছাতে। আমি বললাম, তোর সংসারের কথা বল। সে বললো, বিয়ে করেছি প্রায় সাত বছর হয়ে গেলো। আমার একটি মাত্র মেয়ে নিয়ে আমরা ভালোই আছি। তারপর বললো, একটু বস আমি বাথরুম থেকে আসছি। আমি ফিরে গেলাম আমার শৈশবে।

সেই প্রাথমিক বিদ্যালয় সিরাজগঞ্জের চররায়পুর স্কুলে। সাত্তার গ্রামের অতি সহজ সরল একজন মানুষ। সিরাজগঞ্জ চর রায়পুর স্কুলে আমার সহপাঠীদের মধ্যে যে বন্ধুরা স্কুল কলেজের গন্ডি পেরিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ করতে পেরেছিলো তাদের মধ্যে সাত্তার অন্যতম। সে সময়ে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যারা পড়ালেখা করতো, তাদের হিসাব জ্ঞান হলেই তাদের অভিভাবক লেখাপড়া বন্ধ করে তাদের ব্যবসার কাজে লাগিয়ে দিতেন।

সাত্তার উৎরাতে পেরেছিলো কারণ তার বড়ভাই লেখাপড়া শেষ করে স্থানীয় কলেজে অধ্যাপনা শুরু করেছিলেন যা সাত্তারকে অনুপ্রেরণা দিয়েছিলো।

প্রতিটি মানুষের বন্ধুত্বের পেছনে রাসায়নিক বন্ধন থাকে। তা না হলে ঠিক বন্ধুত্ব গাঢ় হয় না। সাত্তারের সঙ্গে আমার রাসায়নিক বন্ধন হয়েছিল। আমরা যখন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ি তখন তার বড় ভাই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তেন। ওই বয়সে বিশবিদ্যালয় না বুঝলেও বুঝতাম অনেক উঁচু ক্লাসে পড়েন।

ওরা নিম্নবিত্ত পরিবারের। সাত্তারের সঙ্গে আমার বন্ধুত্বের কাল মাত্র দুই বছর। তারপর আমরা পাবনা চলে যাই। এরপর আর সিরাজগঞ্জ শহরে যাওয়া হয়নি। কারণ সে সময় আমাদের গ্রামের বাড়ি যেতে, পাবনার নগরবাড়ি ঘাট থেকে লঞ্চে সোজা আমাদের গ্রামে যেতাম।

সাত্তার ফিরে এসে তার আসনে বসলো। কথা বলতে বলতে আবেগাপ্লুত হয়ে খাঁটি সিরাজগঞ্জের আঞ্চলিক ভাষা বেরিয়ে এলো ওর মুখ থেকে। বললো, বন্দু, আমগোরে ডাকার বাসায় তোমার কিন্তু আসাই নাগবো নে। আবার কইলাম একলা আইসো না, পরিবার হাতে কইরা নিয়া আসপা, বুজছাও।

আমি বললাম, অবশ্যই যামু। আমি আবার শৈশবে ফিরে গেলাম। ছেলেবেলায় আমার জীবনে একবারই সাত্তারের বাসায় গিয়েছিলাম। সেদিন স্কুল কি কারণে যেন ছুটি হয়েছিল, মনে পড়ছে না। দুই বন্ধু হাঁটছি, হঠাৎ সে বলে বসলো, নও আমগোরে বাড়িত যাই। আমিও কি মনে করে ওর সাথে রওনা হলাম। বাড়িতে ঢোকার মুখে, দেখি একটি ছোট ছেলে, চোখ বন্ধ করে একটি লাঠি ঘোরাচ্ছে আর বলছে, আন্দিকুন্দি ভাই, কারো যদি বাড়ি নাগে আমার দোষ নাই।

আমি বিপদ দেখতে পেলাম। এটুকু বুঝেছিলাম ওর লাঠির বাড়ি আমার দেহে পড়লে তার জন্য সে দায়ী হবে না। মারাত্মক ঝুঁকি। এ ঝুঁকির মধ্যে না যাওয়াই ভালো তাই আর দেরি না করে এক দৌড়ে আমাদের বাড়িতে এসে বাঁচলাম। পরে জেনেছিলাম সে সাত্তারের ছোট ভাই, ভারি দুষ্ট ছিলো। আমি অতীত স্মৃতির কথা তাকে বললাম। সে হেসেই খুন।

সে বললো, সে কথা তোমার মনে আছে? আমি বললাম থাকবে না আবার, লাঠির বাড়ি বলে কথা। তারপর বললাম, এবার নিশ্চিন্তে তোমার বাড়ি যাওয়া যায়, কারণ তোমার ছেলে সন্তান নেই। দুজনেই প্রাণ খুলে হেসে উঠলাম। আমি ওর ছোট ভাইয়ের কথা জিজ্ঞেস করলাম, সে বললো না মানুষ হয় নাই, কোনোমতে এস.এস.সি. পর্যন্ত পড়েছিল। আমরা তাকে মিডিল ইস্ট পাঠিয়ে দেই।

ওখানে বেশ ভালোই করেছে, বিয়ে করেছে আমার আগেই। এখন স্ত্রী সন্তান নিয়ে সুখেই আছে ওখানে। পরিস্থিতি হালকা করার জন্য বললাম, বাদ দে, তোর কথা বল, তোর কি প্রেমের বিয়ে না কি দেখাদেখির বিয়ে? লাজুক হেসে বললো, কহন যে ছাত্রীর প্রেমে পইড়া গেলাম তা কি কওয়া পারি? তারপর আমার বাবা মাকে জানাইল্যাম, বিয়া কইরা একবারে বউ দ্যাশে নিয়ে আসমু।

আমি বললাম, কেন তোর বাবা মাকে তোর সাথে রাখিস না কেন? সে বললো, তাদের বার্ধক্য এমন পর্যায়ে গ্যাছে যে তাগো নড়াচড়ার উপায় নাই। সব কিছু চিন্তা কইরা দ্যাহাসনার লোক রাইহা দিসি। বললাম, তোর বড় ভাই? সে বললো, তিনি পিএইচডি করতে সেই যে লন্ডন গেলেন আর দেশে ফিরলেন না। তবে বাবা মার জন্য প্রতি মাসে অনেক টাকা পাঠায় আমার মাধ্যমে।

বললাম, তারপর? সে বললো, তারপর আবার কি? আমি বললাম, গাছে উঠলো, পড়লো আর মরলো এমন গল্প শুনতে চাই না। ঝেড়ে কাশ। সে তার প্রথম প্রেম আর দ্বিতীয় প্রেম ও পরিণয়ের সব কথাই সুন্দর বর্ণনা করলো। সাত্তার খুব গুছিয়ে কথা বলতে পারে। এক পর্যায়ে সে বললো, বন্ধু তোমার সঙ্গে শুদ্ধ ভাষা বলতে ভালো লাগছে না। সিরাগঞ্জের লোকের হাতে শুদ্ধ ভাষায় কথা বলা মানে আঞ্চলিক ভাষাকে অপমান করা।

আমি বললাম, কোনো অসুবিধা নাই। তারপরও আঞ্চলিক ভাষার সঙ্গে মাঝে মাঝে শুদ্ধ ভাষা ওর অজান্তেই বেরিয়ে আসছিলো। তার সুন্দর সাবলীল বর্ণনায় আমি মুগ্ধ। আর কলেজের তরুণী প্রেমে পড়বে না তা কি হয়! তার দুটি প্রেম কাহিনি গল্প-উপন্যাসের মতো। আমি তার বলার মতো করে লিখতে পারলাম না। ওর বলার মতো লিখতে পারলে বেশ ভালো হতো।

বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে একবার প্রেম এসেছিলো নীরবে, কারণ সে প্রেম ছিল এক তরফা। সে প্রেম নিভৃতে নির্জনে গুমরে গুমরে কেঁদে শুধুই সাত্তারের হৃদয় জ্বালা বাড়িয়েছে এর বেশি কিছু না। তাদের বন্ধুত্ব হয়েছিল কিন্তু সাত্তার তাকে ভালোবাসার প্রস্তাব দেয়নি। সদা ভয়, সদা লাজ, কি জানি সে কি মনে করে। সাত্তারকে আবার বাজে ছেলে ভেবে না বসে। হয়তো ভাবতে পারে প্রেম করে তো বখাটে ছেলেরা।

বেশ কিছুদিন পর তারই এক সহপাঠী সবার সামনে সে মেয়েকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে বসলো। মেয়েটি রেগে চলে গিয়েছিলো। সাত্তার তার ব্যক্তিত্বে মুগ্ধ হয়ে তার নিজের মনে ভালোবাসার ফল্গুধারার স্রোতস্বিনী নদীর বেগে বয়ে গিয়েছিলো। আবেগ উচ্ছাসে সে রাত ঘুমাতেই পারেনি। পরদিন থেকে বিশ্ববিদ্যালয় গ্রীষ্মের ছুর্টির বন্ধ তাই সে গ্রামের বাড়ি চলে গিয়েছিলো।

ছুটি শেষে এসে যা দেখলো সে ধকল সাইবার মতো না। মেয়েটি সেই ছেলেটিকে নিয়ে সাত্তারের সঙ্গে পরিচয় করে দিয়ে, বললো, ওকে তো জানিস সাহসী ছেলে। আমাকে কোনো ভনিতা না করে তোদের সবার সামনে আমাকে ভালোবাসার কথা বললো। অনেক ভেবে চিনতে মনস্থির করে ফেললাম ওর সাথেই বাকি জীবন কাটাবো।

ওর কথা শুনে সাত্তারের হৃদযন্ত্র বন্ধ হবার উপক্রম। বলে কি! প্রেমের প্রস্তাব শুনে যে মেয়ে রেগে চলে গেলো সে কিনা শেষ পর্যন্ত তাকেই বেছে নিলো? তারপর অনেকদিন সে স্বাভাবিক হতে পারেনি। তার মনে একটি ক্ষোভের সৃষ্টি হলো। তারপর মেয়েদের এড়িয়ে চলেছে বাকি জীবন।

তারপর দ্বিতীয় প্রেমের কথা। সাত্তার তখন ডিগ্রি কলেজের শিক্ষক। ছাত্র-ছাত্রীদের প্রিয় শিক্ষক। সে বিভিন্ন সময়ে ছাত্র-ছাত্রীদের প্রয়োজনীয় বই পড়তে দিতো। একদিন একটি বইয়ের মধ্যে তাকে উদ্দেশ্য করে একটি প্রেমপত্র পেলো, চিঠির শেষে কোনো নাম নেই, তাই বুঝতে পারছিলো না কে লিখেছে। অনেকদিন পর মেয়েটি নিজেই ধরা দিলো।

সাত্তার খুবই অবাক! এ যে এমন ধারাবাহিক প্রেম-পত্র লিখতে পারে তা কখনোই ভাবতে পারেনি। এবার সে ভুল করলো না। লোক চক্ষুর অন্তরালে তাকে ভালোবাসার কথা জানালো। শিক্ষক ছাত্রীর প্রেমের কথা জানাজানি হলে সর্বনাশ। তাই তারা গোপনে প্রেম পত্রের মাধ্যমে ধীরে ধীরে তাদের প্রেমের রাজ্যে স্বর্গের বাগান রচনা করলো। অবশেষে পরিবারে প্রস্তাব পাঠালো।

আমি বললাম, বাহ্ বেশ ভালো তো! তোদের প্রেম কাহিনি খুবই মজার। সে বললো তবে একটি ছোট সমস্যা হয়েছিলো বন্ধু। আমি বললাম, সে আবার কি? সাত্তার বললো, বুঝলি সবই কপাল। আমি বললাম, বল না কি সমস্যা। সে বললো, আমার বিয়ের উত্তেজনা সারা কলেজে ছড়িয়ে পড়লো। আমার তখন আর্থিক সঙ্গতি ছিল এমন যে কোনোমতে বিয়ে করে বৌ বাড়ি নিয়ে আসা।

এতো লোক খাওয়ানের তো আমার সামর্থ্য ছিল না। তবে আমার শ্বশুর মশায় সব ব্যবস্থা করে ধুমধামের সাথে বিয়ের দিয়েছিলেন। এমন সুন্দর আনন্দের সময় একটি ভুল করে ফেললাম। আমি বললাম, কি ভুল করলি, প্রেম পরিণয় সবই তো ঠিক!

কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললো, আমরা সব সময় শুনে আসছি বিয়ের রাতে বিড়াল মারার কথা। এই জঘন্য চিন্তা মানুষের মনে কি ভাবে আসে বুঝলাম না। প্রাগ ঐতিহাসিক যুগ থেকে অদ্যাবধি চলে আসছে কিভাবে গৃহস্বামী স্ত্রীকে নিজের হুকুমের দাস বানাবে। স্ত্রীকে নিজের অর্ধাঙ্গিনী, বন্ধু বা জীবনসঙ্গী না ভেবে অধীনস্ত কর্মচারী ভাবার উদাহরণ অনেক আছে।

অনেকে অহংকার করে বলে, আমার ভাইয়ের মারাত্মক পার্সোনালিটি, আমাদের ভাবিকে সবসময় চোখের ইশারায় রাখে। কেউ কিন্তু একবার বলেন না আমার বাবার পার্সোনালিটি অনেক তিনি আমার মাকে দাঁপিয়ে বেড়ান। অথবা আমার বোনের স্বামী বোনকে করা শাসনে রাখেন, বাপরে তার কি পার্সোনালিটি! নিজের বেলায় ষোলো আনা।

এ ব্যাপারে একটি কৌতুক মনে পড়ে গেলো, তোকে বলি, তুই হয়তো শুনে থাকবি তারপর বলছি, দুই নারী প্রতিদিন প্রাতঃভ্রমণে বেরিয়ে খোশগল্প করেন। একদিন প্রথম নারী জিজ্ঞেস করলেন আচ্ছা আপা আপনার ছেলে মেয়ের তো বিয়ে হলো বেশ ক’ বছর, তা তারা কেমন সংসার করছে? দ্বিতীয় নারী বললেন, কি আর বলবো আপা আমার মেয়ের বর কি যে ভালো।

আমার মেয়েকে কোনো কষ্টই দেয় না। রোজ সকালে ঘুম থেকে উঠে নাস্তা রেডি করে মেয়েকে ঘুম থেকে ডাকে। তারপর অফিসে যায়। কোনো সময় অফিস থেকে এসে বাইরে নিয়ে যায় আবার মাঝে মাঝে রান্না করে খাওয়ায়। বুঝলেন আপা মেয়েটির বিয়ে খুব ভালো হয়েছে। প্রথম নারী বললেন, আর আপনার ছেলে?

দ্বিতীয় নারী এবার নাক ফুলিয়ে, রেগে বললেন, আমার ছেলের বউ খুবই অলস, কোনো কাজই করে না, আমার ছেলেকে দিয়ে রোজ নাস্তা বানায়, অফিস থেকে আসলে বাইরে নিয়ে যায় খেতে। বাসার সব কাজই আমার ছেলে করে। ছেলের বউ বড়ই বজ্জাত, আমার ছেলেকে খাঁটিয়ে মারছে।

তারপর বললো, বিয়ের রাতে বিড়াল মারার নানা ধরনের গল্প আছে। এমনকি উইলিয়াম শেক্সপিয়ারের বিখ্যাত কমেডি ‘টেইমিং অফ দা শ্রু’র’ বাংলায় রূপান্তর করেন শহীদ বুদ্ধিজীবী মনির চৌধুরী ‘মুখরা রমণী বশীকরণ’ নামে। কিভাবে তার বউকে বশ করে তা তো নিশ্চয়ই পড়েছিস। তাছাড়া বাংলাদেশ টেলিভিশনে নাটকটি প্রচার হয়েছিল। যাহোক, আমার মনে পড়ে আমি যখন বিয়ের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম সে সময় আমার অগ্রজদের কাছ থেকে নানা উপদেশ আসতে লাগলো।

উপদেশ এমনই একটি জিনিস যা না চাইতেই পাওয়া। আমাকে একজন শেখালেন কিভাবে বিয়ের রাতেই বিড়াল মেরে বউকে বশ করতে হয়। আমি বললাম, ‘বউ কি বন্য হাতি না কি? যে তাকে খাদে ফেলে বশে আনতে হবে’! তিনি হতাশ হয়ে বললেন, ‘ঠিক আছে পরে বুঝবে, অভিজ্ঞতার তো কোনো দাম নেই’। যে যাই বলুক বিড়াল মারার মতো নিকৃষ্ট কাজ আমি করবো না। তারপর ভুলটি করে ফেলেছিলাম, আমাদের সহকারী অধ্যক্ষের উপদেশে।

তিনি বললেন, রান্নাঘর থেকে বাঁচতে হলে একটি কাজ করতে হবে আপনাকে। আর তা করতে হবে বাসর রাতেই। তবে এটাকে ঠিক বিড়াল মারা বলবেন না। তার কথায় একটু আগ্রহ বাড়লো। বিড়াল মারা না অথচ বিয়ের রাতেই করতে হবে। তিনি বললেন, বৌয়ের সাথে কথা বলতে বলতে এক পর্যায়ে চা বানিয়ে আসর কথা বলে রান্না ঘরে যাবেন। তারপর রান্না ঘর নোংরা করে রেখে আসবেন, দেখবেন আপনাকে কখনোই আর রান্না ঘরে যেতে দেবে না। কারণ মেয়েরা রান্না ঘর পরিষ্কার রাখতে পছন্দ করে।

যথাসময়ে বিয়ের রাতে ঘণ্টাখানেক গল্প করার পর বউকে, বললাম একটি অপেক্ষা করো চা বানিয়ে নিয়ে আসছি। এতে সে প্রবল আপত্তি করলো। বললো, আপনি বসেন আমি চা করে আনছি। আমি বললাম, তুমি আজ রাতে আমার মেহমান, কাল থেকে তুমি সাংসারিক সব দায়িত্ব পালন করবে, এ শর্তে সে রাজি হলো। আমি রান্না ঘরে ঢুকে চায়ের পানি চাপিয়ে হাত দিয়ে এদিক ওদিক কিছু পানি ছিটিয়ে দিলাম।

কাপে চা ঢালার সময় ইচ্ছে করেই কিছু চা ফেলে দিলাম। চায়ের কেতলী, চামচ, চিনি সব এলোমেলো করে রাখলাম। দু’কাপ চা নিয়ে যখন ঘুরে দাঁড়িয়েছি, দেখি বৌ পেছনে দাঁড়িয়ে। নিঃশব্দে কখন প্রবেশ করেছে বুঝতে পারিনি। আমাকে বললো, আপনি রান্নাঘর অপরিষ্কার করলেন কেন? আমি অপ্রস্তুত।

মনে মনে ভাবছি বিড়াল মারতে এসে কোনো ঝামেলায় পড়লাম। সবশেষে সে যা বললো, তা হচ্ছে, এগুলো পরিষ্কার করে আসবেন তা না হলে আজ আর বাসর ঘরে ঢুকতে হবে না। ড্রইংরুমে সোফায় বাকি রাত কাটাবেন। এখন বলো বন্ধু কার বিড়াল কে মারলো।

লেখক:- বায়াজিদ গালিব, রম্য লেখক, ক্যালগেরি, কানাডা


আরও খবর



বুস্টার ডোজ সপ্তাহ শুরু, লক্ষ্যমাত্রা এক কোটির বেশি

প্রকাশিত:Saturday ০৪ June ২০২২ | হালনাগাদ:Monday ২৭ June ২০২২ | ৫১জন দেখেছেন
Image

করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে আজ (শনিবার) থেকে করোনা টিকার বুস্টার ডোজ সপ্তাহ শুরু হচ্ছে। আগামী ১০ জুন পর্যন্ত চলবে বুস্টার ডোজের গণটিকা কার্যক্রম। এই সময়ে দেশব্যাপী প্রায় এক কোটি ৪১ লাখ ৭৭ হাজার জনকে করোনা টিকার বুস্টার ডোজ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

শুক্রবার (৩ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের করোনা ভ্যাকসিন ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য সচিব মো. শামসুল হক জাগো নিউজকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এর আগে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ৪ জুন থেকে ১০ জুন কোভিড বুস্টার সপ্তাহ উদযাপনের ঘোষণা দেয়।

শামসুল হক জানান, আমরা এই সপ্তাহে এক কোটির ওপরে বুস্টার ডোজ প্রদানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছি। বুস্টার ডোজ নেওয়ার উপযুক্ত প্রায় চার কোটি মানুষ আমাদের এখনো অপেক্ষমাণ আছেন। আশা করছি এই সপ্তাহে আমরা অপেক্ষমাণদের বৃহৎ অংশকে বুস্টার ডোজ দিতে পারবো।

তিনি বলেন, বরাবরের মতোই আমাদের এই টিকা প্রদান চলবে। তবে এক্ষেত্রে স্থায়ী ও অস্থায়ী কেন্দ্রে টিকা প্রদান করা হবে। স্থায়ী কেন্দ্রের মধ্যে মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, জেলা হাসপাতাল, উপজেলা হাসপাতালগুলোতে টিকা দেওয়া হবে। আর সিটি করপোরেশনের ওয়ার্ড পর্যায়ে, পৌরসভার ওয়ার্ড পর্যায়ে, গ্রামের ক্ষেত্রে ইউনিয়নের ওয়ার্ড পর্যায়ে অস্থায়ী কেন্দ্র পরিচালিত হবে। অস্থায়ী কেন্দ্রগুলোতে কেন্দ্রভেদে কোথাও পুরো সপ্তাহ টিকা দেওয়া হবে, আবার কোনো জায়গায় দুইদিন চলবে।

এদিকে, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর প্রকাশিত বুস্টার ডোজ সপ্তাহের কর্ম পরিকল্পনায় বলা হয়, সারাদেশে মোট ১৬ হাজার ১৮১টি টিকা কেন্দ্রে বুস্টার ডোজ দেওয়া হবে। এর মধ্যে স্থায়ী কেন্দ্র ৬২৩টি ও অস্থায়ী কেন্দ্র ১৫ হাজার ৫৫৮টি। বুস্টার ডোজ সপ্তাহ চলাকালে একযোগে ৪৫ হাজার ৫৩৫ জন টিকাদান কর্মী ও স্বেচ্ছাসেবী টিকাদান কাজে নিয়োজিত থাকবেন।

যেসব অস্থায়ী কেন্দ্রে দুইদিন টেকা দেওয়া হবে সেসব কেন্দ্রে টিকা দেওয়ার তারিখ স্থানীয় পর্যায়ে প্রচার-প্রচারণা ও মাইকিং করে জানিয়ে দেওয়া হবে।

কারা বুস্টার ডোজ পাবেন
১৮ বছর ও তদূর্ধ্ব জনগোষ্ঠী যাদের ২য় ডোজ প্রাপ্তির চার মাস অতিবাহিত হয়েছে তারা করোনার বুস্টার (৩য়) ডোজ গ্রহণ করতে পারবেন।

কীভাবে বুস্টার ডোজ পাবেন
নিকটস্থ কেন্দ্র অথবা বাংলাদেশের যে কোনো কেন্দ্রে করোনার দ্বিতীয় ডোজ গ্রহণের সনদ প্রদর্শন করে নেওয়া যাবে বুস্টার ডোজ। এছাড়াও টিকাকেন্দ্রে বয়স্ক, নারী, গর্ভবতী নারী ও প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে টিকা প্রদান করা হবে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, এ পর্যন্ত ১২ কোটি ৮৭ লাখ ৬৬ হাজার ৭৯৫ জনকে প্রথম ডোজ, ১১ কোটি ৭৬ লাখ ১ হাজার ১৩৩ জনকে দ্বিতীয় ডোজ এবং এক কোটি ৫১ লাখ ৬৫ হাজার ৯৪৯ জনকে বুস্টার ডোজ দেওয়া হয়েছে।


আরও খবর



বিদ্যমান আইনে মাদক নির্মূল সম্ভব নয়: হানিফ

প্রকাশিত:Tuesday ১৪ June ২০২২ | হালনাগাদ:Tuesday ২৮ June ২০২২ | ৫২জন দেখেছেন
Image

দেশের আইনে ত্রুটি বিচ্যুতি রয়েছে জানিয়ে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও কুষ্টিয়া সদর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহবুব উল আলম হানিফ বলেছেন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা একদিকে মাদক ব্যবসায়ীদের গ্রেফতার করছে অন্যদিকে আদালত তাদেরকে জামিন দিয়ে দিচ্ছেন। বিদ্যমান আইন দিয়ে মাদকদ্রব্য নির্মূল করা মোটেই সম্ভব নয়। আইনের যে ত্রুটি-বিচ্যুতি রয়েছে সেগুলো দূর করতে হবে।

এ সময় তিনি বলেন, বাংলাদেশ থেকে মাদক পুরোপুরি নির্মূল করা সম্ভব না হলেও নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। সরকার বা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একার পক্ষে মাদক নির্মূল করা সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন ব্যাপক জনসচেতনতা।

মঙ্গলবার বেলা ১১টায় নবনির্মিত কুষ্টিয়া জেলা শিল্পকলা একাডেমীর কনফারেন্স রুমে এসব কথা বলেন তিনি। জেলা প্রশাসনের আয়োজনে ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের উদ্যোগে এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর কুষ্টিয়ার সহযোগিতায় মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার রোধকল্পে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার জন্য সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নে দিনব্যাপী এক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে প্রধান অতিথি ছিলেন মাহবুব উল আলম হানিফ।

বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের যুদ্ধ ঘোষণা করতে হবে। আর এ অভিযান শুরু করতে হবে নিজ বাড়ি থেকে। নিজে সচেতন হতে হবে এবং অন্যকে সচেতন করতে হবে। তাহলেই দেশ থেকে মাদক নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইদুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন কুষ্টিয়া মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক পারভিন আক্তার, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ঢাকার উপ-পরিচালক মানজারুল ইসলাম, কুষ্টিয়া-১ দৌলতপুর আসনের সংসদ সদস্য আ ক ম সরোয়ার জাহান বাদশা, কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আজগর আলী, পুলিশ সুপার মো. খায়রুল আলম প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

দিনব্যাপী এ কর্মশালায় জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, বিজিবি, ৬ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, বিভিন্ন পৌরসভার মেয়র, এনজিও ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ছাড়াও প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।


আরও খবর