Logo
আজঃ Monday ০৮ August ২০২২
শিরোনাম
রূপগঞ্জে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে ডিজিটাল সনদ ও জাতীয় পরিচয়পত্র বিতরণ কাউন্সিলর সামসুদ্দিন ভুইয়া সেন্টু ৬৫ নং ওয়ার্ডে ভোটার তালিকা হালনাগাদ কর্মসুচীতে অংশগ্রহন করেন চান্দিনা থানায় আট কেজি গাঁজাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার নাসিরনগরে ছাত্রদলের বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ নাসিরনগর বাজারে থানা সংলগ্ন আব্দুল্লাহ মার্কেটে দুই কাপড় দোকানে দুর্ধষ চুরি। ই প্রেস ক্লাব চট্রগ্রাম বিভাগীয় কমিটির মতবিনিময় সম্পন্ন ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ৬ কেজি গাঁজাসহ হাইওয়ে পুলিশের হাতে আটক এক। সোনারগাঁয়ে পুলিশ সোর্স নাম করে ডাকাত শাহ আলমের কান্ড নিখোঁজ সংবাদ প্রধানমন্ত্রীর এপিএসের আত্মীয় পরিচয়ে বদলীর নামে ঘুষ বানিজ্য

দাম বৃদ্ধির ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই খুলনায় বাড়তি দামে তেল বিক্রি

প্রকাশিত:Saturday ০৬ August ২০২২ | হালনাগাদ:Monday ০৮ August ২০২২ | ২১জন দেখেছেন
Image

জ্বালানি তেলের দাম দাম বাড়ানোর ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই বাড়তি দামে তেল বিক্রি শুরু করেছে খুলনার বেশ কিছু পেট্রলপাম্প। তবে এ বিষয়ে একেবারেই মুখে কুলুপ এটেছেন মালিক ও কর্মচারীরা। সাংবাদিক শুনেই মুখ ঘুরিয়ে নিচ্ছেন অন্যদিকে।

এদিকে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে খুলনার পেট্রলপাম্পগুলোতে তেল কেনার হুড়োহুড়ি শুরু হয়েছে। তবে কোনো পাম্পেই আগের দামে তেল পাওয়া যাচ্ছে না বলে ক্ষোভ জানিয়েছেন গাড়িচালকরা।

শুক্রবার (৫ আগস্ট) রাতে নগরীর জিরো পয়েন্ট এলাকায় খোলা থাকা একটি পাম্পে দেখা যায়, মোটরসাইকেল ও ছোট ছোট যানবাহনের দীর্ঘ লাইন। তেলও মিলছে, কিন্তু নতুন দামে।

তেল নিতে আসা মোটরসাইকেলচালক আল আমিন বলেন, এখন রাত ১১টা, তেলের নতুন মূল্য কার্যকর হবে রাত ১২টায়। কিন্তু এখনই নতুন দামে তেল বিক্রি শুরু হয়েছে।


আরও খবর



মদন-কেন্দুয়া সড়ক সংস্কারে ধীরগতি, দুর্ভোগ চরমে

প্রকাশিত:Saturday ২৩ July ২০২২ | হালনাগাদ:Saturday ০৬ August ২০২২ | ২৯জন দেখেছেন
Image

নির্ধারিত সময়ে নেত্রকোনার মদন-কেন্দুয়া সড়কের সংস্কার কাজ শেষ করতে পারেনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। সময়সীমার তিন মাস পার হলেও ধীরগতির কাজে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে যানবাহন চালক, যাত্রী পথচারীদের।

মদন উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ১৫ কিলোমিটার মদন-কেন্দুয়া সড়কের মধ্যে মদনের অংশ প্রায় ৯ কিলোমিটার সড়ক দীর্ঘদিন ধরেই বেহাল অবস্থায় রয়েছে। ৯ কিলোমিটার সড়ক সংস্কারের জন্য ২০২১ সালের ৩ ডিসেম্বর এম এ ওয়াহেদ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়া হয়। সাড়ে ১১ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০২২ সালের ৭ এপ্রিল কাজ শেষ করার কথা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়সীমার তিন মাস পার হলেও কাজ করতে পারেনি ঠিকাদার।

বুধবার (২০ জুলাই) সরজমিন ঘুরে দেখা গেছে, মদন থেকে কেন্দুয়া উপজেলায় যাতায়াতের একমাত্র পথ এ সড়কটি। মদন থেকে কেন্দুয়া, তাড়াইল, কিলোরগঞ্জ, ভৈরব, সিলেট ও চট্টগ্রামের সঙ্গে দূরপাল্লা যান চলাচল করে ওই সড়ক দিয়ে।

কিন্তু মদন পৌরসদর থেকে খাঞ্জার খাল পর্যন্ত এখনো ছোট-বড় অসংখ্য গর্ত রয়েছে। এতে প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা। বিকল্প কোন রাস্তা না থাকায় দুর্ভোগের মধ্য দিয়েইে প্রতিদিন যাতায়াত করছে লোকজন।

এ সড়কের যাতায়াতকারী খাইররুল ইসলাম, ফরিদ চৌধুরী ও গাড়িচালক সাইফুল ইসলামসহ আরও অনেক বলেন, সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে চলাচলের অযোগ্য হলেও সংস্কার হচ্ছে না। প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রয়োজনের তাগিদে লোকজন এ পথে যাতায়াত করছে। রাস্তাটির দ্রুত সংস্কারের দাবি তাদের।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিক এম এ ওয়াহেদ বলেন, রাস্তার প্রাক্কলনে ভুল ও দুপাশে গাছ কেটে সরানো হয়নি। ফলে সড়কের দুপাশে মাটি কাটতে না পারায় কাজ করতে বিলম্ব হচ্ছে। এ ব্যাপারে কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

মদন উপজেলা প্রকৌশলী গোলাম কিবরিয়া পিয়াল জাগো নিউজকে বলেন, বারবার তাগিদ দেওয়ার পরও ঠিকাদার কাজ করতে বিলম্ব করছে। বন্যায় তলিয়ে যাওয়া সড়কে এখন কাজ শুরু হয়েছে।

নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুর রহিম শেখ জাগো নিউজকে বলেন, মদন-কেন্দুয়া সড়কের সংস্কার কাজ শুরু হয়েছে।

প্রাক্কলনে ভুল থাকার বিষয়টি জানতে চাইলে ব্যস্ততা দেখিয়ে ফোন কেটে দেন তিনি।


আরও খবর



ঋণের ভালোমন্দের দায় নেবে না কেন্দ্রীয় ব্যাংক

প্রকাশিত:Tuesday ১৯ July ২০২২ | হালনাগাদ:Saturday ০৬ August ২০২২ | ২৩জন দেখেছেন
Image

এখন থেকে ঋণের ভালোমন্দের দায় ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদকেই নিতে হবে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, যে গ্রাহককে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ঋণ দিয়েছে সেটি ভালো হলেও পর্ষদের, খারাপ হলেও তার দায় পর্ষদের ওপর পড়বে। যেহেতু ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদকে স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে, খেলাপি সুবিধা পর্ষদ দেবে, রিশিডিউল তারা করবে। তাই ঋণের ভালোমন্দের দিকটাও তাদের নিতে হবে।

মঙ্গলবার (১৯ জুলাই) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাজেমি সেন্টারে আয়োজিত জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক মো. সিরাজুল ইসলাম। এসময় সহকারী মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক জি এম আবুল কালাম আজাদ উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র বলেন, ঋণ নিয়মিত করার ক্ষমতা এখন থেকে পুরোটাই ব্যাংকগুলোর হাতে দেওয়ায় প্রভাবশালী ব্যবসায়ীরা নিয়মিত টাকা ফেরত দেবেন। একই সঙ্গে খেলাপি ঋণ কমে আসবে বলে আশাবাদী বাংলাদেশ ব্যাংক।

তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নতুন গভর্নর দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম দিনই বলেছিলেন সেন্ট্রাল ব্যাংক অ্যাপেক্স বডি হিসেবে কাজ করবে। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান তার গ্রাহককে চেনেন। ব্যাংকগুলো রিশিডিউল কীভাবে করবে তা তারা ঠিক করবেন, যেহেতু গ্রাহককে তারা চেনেন। কোনো খেলাপিকে কী সুবিধা দেওয়া হবে এটা ব্যাংক-আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো ঠিক করবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাজ খেলাপিকে সুবিধা দেওয়া না, আবার ব্যাংকের গ্রাহককে কেন্দ্রীয় ব্যাংক চেনে না। বাংলাদেশ ব্যাংক তদারকি করবে, অনিয়ম পেলে ব্যবস্থা নেবে।

মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, সোমবারের সার্কুলারে ঢালাওভাবে খেলাপিকে সুযোগ দেওয়া হয়নি। একটা পেক্ষাপটের কারণে সার্কুলার হয়েছে, আবার পুনরায় সার্কুলারও হয় অনেক সময়। তবে অপারেশনাল কাজটা ব্যাংকগুলো নিজেরাই দায়িত্ব নিয়ে করবে। এটা তাদের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এতে জবাবদিহি বাড়বে, খেলাপি কমবে। এ স্বাধীনতা ব্যাংকগুলোর ওপর দেওয়ার ফলে এখন থেকে ব্যক্তি ও বোর্ডের ওপর দায়ভার চলে যাচ্ছে।

নতুন ওই সার্কুলার কোনো বিশেষ গোষ্ঠীর চাপিয়ে দেওয়া কি না এমন প্রশ্নের জবাবে সিরাজুল ইসলাম বলেন, বর্তমান গভর্নর খাঁটি মানুষ, তিনি ব্যাংককে ওন (ধারণ) করেন। নিজ উদ্যোগে তিনি কাজ করছেন। কারও চাপিয়ে দেওয়া সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হয়নি। এই সার্কুলারের পরে প্রভাবশালী ব্যবসায়ীরা নিয়মিত টাকা ফেরত দেবেন এবং খেলাপি ঋণ কমে আসবে। এখানে ঋণ বিতরণকারী জুনিয়র কর্মকর্তাদেরও দায়ী করা হবে। সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্বার্থে ব্যাংকের পর্ষদকে ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।

এর আগে সোমবার (১৮ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংক একটি নির্দেশনা জারি করে। ওই নির্দেশনা মতে, এখন থেকে খেলাপি ঋণে কী সুবিধা দেওয়া হবে তা নির্ধারণ করতে পারবে ব্যাংকগুলোর পরিচালনা পর্ষদ। ব্যাংক মালিকরাই এখন ঋণখেলাপিদের কী সুবিধা দেওয়া যাবে তা ঠিক করে দেবেন। এতদিন বিশেষ সুবিধায় ঋণ নিয়মিত করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদন লাগতো। সেই ক্ষমতা এখন থেকে পুরোটাই ব্যাংকগুলোর হাতে থাকছে।

নতুন ওই নির্দেশনা মতে, এখন থেকে খেলাপি ঋণ নিয়মিত করতে আড়াই থেকে সাড়ে চার শতাংশ অর্থ জমা দিলেই হবে। এর আগে নিয়মিত করতে ১০ থেকে ৩০ শতাংশ অর্থ জমা দিতে হতো। আগে এ ধরনের ঋণ পরিশোধে সর্বোচ্চ দুই বছর সময় পেলেও এখন পরিশোধ করা যাবে ৫ থেকে ৮ বছরে। একই সঙ্গে নতুন করেও ঋণ পাওয়া যাবে।

নির্দেশনায় বলা হয়, কোভিড-১৯ এর দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাব, বহির্বিশ্বে সাম্প্রতিক যুদ্ধাবস্থা প্রলম্বিত হওয়ার কারণে উদ্ভূত বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতা চলছে। নতুনভাবে কোভিড-১৯ এর সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় আর্থিক খাতে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা ও শ্রেণিকৃত ঋণের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার স্বার্থে ঋণ পুনঃতফসিলিকরণ সংক্রান্ত নতুন নীতিমালা জারি করা হয়েছে।


আরও খবর



মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ-ডলার সংকটে আইএমএফের সহায়তা চায় বাংলাদেশ

প্রকাশিত:Wednesday ২০ July ২০22 | হালনাগাদ:Saturday ০৬ August ২০২২ | ৩৯জন দেখেছেন
Image

আন্তর্জাতিক লেনদেনে ভারসাম্যের চাপ সহনীয় পর্যায়ে নামিয়ে আনতে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কাছে ৪৫০ কোটি ডলারের ঋণ চেয়েছে বাংলাদেশ সরকার। এরই মধ্যে অর্থ ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় আইএমএফ কর্মকর্তাদের সঙ্গে সিরিজ বৈঠক শুরু করেছে। এক দশক পর আইএমএফের কাছে ঋণ চাইলো বাংলাদেশ।

বুধবার (২০ জুলাই) শেরে বাংলা নগরের পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে আইএমএফের এশীয় ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় বিভাগের প্রধান রাহুল আনন্দের নেতৃত্বে একটি দল পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সাক্ষাৎ শেষে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম এসব কথা বলেন।

এসময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে আইএমএফের আবাসিক প্রতিনিধি জয়েন্দু দেসহ সংশ্লিষ্টরা। এটি মূলত আইএমএফের আর্টিকেল ফোর মিশনের দল। দলটি বাংলাদেশ ব্যাংক, অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ, অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ, ইআরডি ইত্যাদি সংস্থার সঙ্গে বৈঠক করছে। এই ধারাবাহিকতায় প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা আইএমএফের কাছে সহায়তা চাচ্ছি, তারা দিতেও রাজি। তারা আমাদের অর্থনৈতিক অবস্থা জানার জন্য এসেছে। সহায়তার কারণ কী? কতটুকু সহায়তা চাই এগুলো সচরাচর জানতে চায় আইএমএফ। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আমরা সার্বিক বিষয়ে তাদের বলেছি। দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির বিষয়ে আমরা ব্যাখ্যা করেছি। আমাদের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও প্রকল্প বাস্তবায়নে অগ্রগতি নিয়ে আমরা বলেছি। আমাদেরর অর্থের প্রয়োজন বিশেষ করে মূল্যস্ফীতি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বা ডলারের এখন বেশি প্রয়োজন।

শামসুল আলম বলেন, মূল্যস্ফীতির কারণে আমদানির পরিমাণ বেশি হয়ে যাচ্ছে। সেই ক্ষেত্রে যে আর্থিক সহায়তা প্রয়োজন আমরা তা সংস্থাটির কাছে তুলে ধরবোই। আইএমএফ সেই সহায়তা দিতেও প্রস্তুত। সেই ক্ষেত্রে তারা (আইএমএফ) ডলার সংকটের কারণ জানতে চেয়েছে? তবে আমরা বলেছি ডলার সংকট বেশিদিন থাকবে না। কারণ গত বছর তিন লাখ শ্রমিক বিদেশে গিয়েছিল এবার সেটা বেড়ে ৯ লাখ হয়েছে। প্রবাসীরা ডলার পাঠাতে শুরু করলে সেই সমস্যা থাকবে না। কয়েক মাসের মধ্যেই তারা রেমিট্যান্স পাঠাবে ফলে সংকট কাটিয়ে উঠবে।

‘দরদাম বেড়ে যাওয়ার কারণে মূলত আমদানি বেড়ে গেছে। রপ্তানি বাড়লে আমদানি বাড়বে। কারণ অনেক কাঁচামাল ও উপকরণ আমদানি করতে হয় রপ্তানির জন্য। আমরা বিলাসবহুল পণ্য আমদানি কমিয়ে দিয়েছি। ফলে ডলারের সংকট কমে যাবে। আন্তর্জাতিক বাজারে নিত্যপণ্যের দাম কমে আসছে। আমাদের শিল্পখাত ও সেবা খাত ভালো করেছে। রাশিয়া থেকে গম আমদানি প্রতিবন্ধকতা থাকবে না। সব মিলিয়ে আমরা ইতিবাচক। আইএমএফ রাজস্ব আয় বাড়াতে বলেছে। করের আওতা বাড়াতে তাগিদ দিয়েছে। সরকার ভ্যাট আদায়ে অটোমেশনে আসছে রাজস্ব বৃদ্ধিতে নানা পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।’

আইএমএফের শর্ত প্রসঙ্গে ড.শামসুল আলম বলেন, আইএমএফ শর্ত দিচ্ছে না। তারা শর্তের বিষয়ে উদারতা দেখিয়েছে। আমাদের প্রচুর তহবিল প্রয়োজন।

কোন খাতে সহায়তা চেয়েছেন, এমন প্রশ্নে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আইএমএফ বাজেট সাপোর্ট দেবে। বাজেটের টাকা যে কোনো খাতে খরচ করা যায়। তবে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও মানব সম্পদ উন্নয়নের বিষয়ে আমরা সহায়তা চেয়েছি।


আরও খবর



বই-ইউনিফর্ম ছাড়াই স্কুলে বানভাসি শিশুরা

প্রকাশিত:Thursday ২১ July ২০২২ | হালনাগাদ:Sunday ০৭ August ২০২২ | ২৭জন দেখেছেন
Image

ভয়াবহ বন্যায় ভেসে গেছে বসত ঘর। সঙ্গে গেছে স্কুলড্রেস, ব্যাগ ও বই-খাতা। তাই ইউনিফর্ম ছাড়াই খালি হাতে বিদ্যালয়ে এসেছে অনেক শিক্ষার্থী। বুধবার (২০ জুলাই) প্রায় একমাস পর স্কুল খোলার পর এমন দৃশ্যই চোখে পড়ে সুনামগঞ্জের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে।

হাতেগোনা কয়েকজন শিক্ষার্থী স্কুলে এলেও একমাস আগের চিরচেনা পরিবেশ যেন নেই কোনো প্রতিষ্ঠানেই। এবারের বন্যায় জেলার ২৩১ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ৩৩টি কলেজ ও ৯২টি মাদরাসার সবকটিই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এমনকি ৫০ হাজার শিক্ষার্থীর বই বানের জলে ভেসে গেছে বলে দাবি করেছেন জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম।

jagonews24

সুনামগঞ্জ শহরতলির আব্দুল আহাদ সাহিদা চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী জামিল হোসেন ও নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী সিনহা বেগম। বানের পানিতে বসতঘরের সঙ্গে তাদের বই, খাতা, কলম, স্কুলব্যাগ ভেসে যাওয়ায় বিদ্যালয়ে শূন্য হাতেই এসেছে তারা।

বুধবার (২০ জুলাই) স্কুলে প্রবেশের সময় দুজনেই চিন্তিত ছিল শিক্ষকরা কী বলবেন সেই ভাবনায়। বিদ্যালয়ে প্রবেশ করে দেখলো কেবল তারা নয়, অনেকেরই এমন করুণ অবস্থা। পুরো জেলার প্রাথমিক, মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও মাদরাসায় একই চিত্র।

jagonews24

বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জানায়, বন্যায় তাদের ইউনিফর্ম ড্রেস, স্কুলব্যাগ, বই ও খাতা-কলম ভেসে গেছে। আজকে শুধু একটা খাতা আর কলম নিয়ে স্কুলে এসেছে। সামনে এসএসসি পরীক্ষা কিন্তু অনেকের বই নেই। এখন কিভাবে বই ছাড়া পরীক্ষা দেবে সেই দুশ্চিন্তায় আছে। দ্রুত বই দেওয়ার জন্য সরকারের কাছে অনুরোধ জানায় তারা।

বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জামিল হোসেন জাগো নিউজকে জানায়, অনেক চেষ্টা করেছি বই ও স্কুলড্রেস বাঁচাতে কিন্তু পারিনি। বন্যা সব ভাসিয়ে নিয়ে গেছে।

jagonews24

বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা জানান, শিক্ষার্থী-শিক্ষক উপস্থিতির খাতা এমনকি স্কুল লাইব্রেরির বইও পানিতে নষ্ট হয়ে গেছে। বিদ্যালয়গুলোরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

jagonews24

সুনামগঞ্জ জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম জাগো নিউজকে বলেন, শিক্ষার্থীদের বই দ্রুতই পৌঁছে দেওয়া হবে। এরই মধ্যে সুনামগঞ্জের ৫০ হাজার শিক্ষার্থীর বই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাদের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে।


আরও খবর



চাষের মাছ উৎপাদনে সেরা তিন দেশের তালিকায় বাংলাদেশ

প্রকাশিত:Friday ০৫ August ২০২২ | হালনাগাদ:Sunday ০৭ August ২০২২ | ১০জন দেখেছেন
Image

মৎস্য খাতে বাংলাদেশে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এসেছে। মৎস্য উৎপাদনে বাংলাদেশের সাফল্য আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও স্বীকৃতি পেয়েছে। একই সঙ্গে দেশের মানুষের খাদ্য ও পুষ্টি চাহিদা পূরণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি, খাদ্য নিরাপত্তা অর্জন, রপ্তানি বাণিজ্যের প্রসারে অবদান রাখছে মৎস্য খাত। এছাড়াও বর্তমানে দেশের মানুষের প্রাণিজ আমিষের চাহিদার প্রায় ৬০ শতাংশ জোগান দিচ্ছে মাছ।

স্বাধীনতার ৪৬ বছর পর ২০১৬-১৭ অর্থবছরে মাছ উৎপাদনে বাংলাদেশ স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করে। বিশ্বে স্বাদুপানির মাছের ১১ শতাংশ এখন বাংলাদেশে উৎপাদন হচ্ছে। চাষের মাছ উৎপাদনে সেরা তিন দেশের তালিকায় রয়েছে বাংলাদেশ। তালিকার অন্য দুই দেশ ভিয়েতনাম এবং মিশর।

মৎস্য আহরণ ও উৎপাদনে ব্যাপক সাফল্য বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গৌরবের অবস্থানে পৌঁছে দিয়েছে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বে অভ্যন্তরীণ মুক্ত জলাশয়ে মৎস্য আহরণে বাংলাদেশ তৃতীয়, বদ্ধ জলাশয়ে চাষকৃত মাছ উৎপাদনে ৫ম, ইলিশ আহরণে ১ম ও তেলাপিয়া উৎপাদনে ৪র্থ অবস্থানে রয়েছে। ‘দ্য স্টেট অব ওয়ার্ল্ড ফিশারিজ অ্যান্ড অ্যাকুয়াকালচার, ২০২২’ শিরোনামের ওই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, নানা প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও চাষের মাছ উৎপাদনে তিনটি দেশ বিশ্বের জন্য উদাহরণ সৃষ্টি করছে। এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশ ও ভিয়েতনাম এবং আফ্রিকায় মিশর এই সাফল্য দেখিয়েছে।

বর্তমানে দেশের মানুষের প্রাণিজ আমিষের চাহিদার প্রায় ৬০ শতাংশ জোগান দিচ্ছে মাছ। মাথাপিছু প্রতিদিন ৬০ গ্রাম চাহিদার বিপরীতে মানুষ এখন ৬২ দশমিক ৫৮ গ্রাম মাছ গ্রহণ করছে। দেশের মোট জিডিপির ৩ দশমিক ৫৭ শতাংশ এবং কৃষিজ জিডিপির ২৬ দশমিক ৫০ শতাংশ এখন মৎস্য খাতের অবদান। বিগত ১২ বছরে মৎস্য খাতে জিডিপির গড় প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ২ শতাংশ। ২০০৮-০৯ অর্থবছরে মোট মাছের উৎপাদন ছিল ২৭ দশমিক ১ লাখ মেট্রিক টন, যা ২০২০-২১ অর্থবছরে বেড়ে হয়েছে ৪৬ দশমিক ২১ লাখ মেট্রিক টন। এর মধ্যে সামুদ্রিক মাছের অবদান ৬ দশমিক ৮১ লাখ মেট্রিক টন, যা দেশের মোট মৎস্য উৎপাদনের ১৪ দশমিক ৭৪ শতাংশ। ২০০৮-০৯ অর্থবছরে জাতীয় মাছ ইলিশের উৎপাদন ছিল ২ লাখ ৯৯ হাজার মেট্রিক টন, ২০২০-২১ অর্থবছরে তা বৃদ্ধি পেয়ে ৫ লাখ ৬৫ হাজার মেট্রিক টনে উন্নীত হয়েছে।

ইলিশ আহরণে বিশ্বে বাংলাদেশ রোল মডেল

বিশ্বে ইলিশ আহরণকারী ১১টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ শীর্ষে। ইলিশ বাংলাদেশের জাতীয় মাছ এবং নবায়নযোগ্য প্রাকৃতিক সম্পদ। বাংলাদেশের মোট উৎপাদিত মাছের ১২ দশমিক ২২ শতাংশ আসে শুধু ইলিশ থেকে। দেশের জিডিপিতে ইলিশের অবদান ১ শতাংশের অধিক, যা একক প্রজাতি হিসেবে সর্বোচ্চ। ২০১৭ সালে ‘বাংলাদেশের ইলিশ’ ভৌগোলিক নির্দেশক বা জিআই সনদ লাভ করেছে। ফলে পৃথিবীর প্রায় দুই-তৃতীয়াংশের অধিক ইলিশ আহরণকারী বাংলাদেশ এখন থেকে বিশ্বে উপস্থাপিত হবে ইলিশের দেশ হিসেবে।

ইলিশ সম্পদ রক্ষায় এবং উৎপাদন বাড়াতে সরকার নানা কর্মসূচি নিয়েছে। জাটকা সংরক্ষণে জনসচেতনতা সৃষ্টি করা হচ্ছে। পাশাপাশি নভেম্বর থেকে জুন পর্যন্ত মৎস্য সংরক্ষণ আইন বাস্তবায়ন এবং জাটকা আহরণ নিষিদ্ধকালে জেলেদের চার মাস ভিজিএফ খাদ্যসহায়তা দেওয়া হচ্ছে। এছাড়াও মা-ইলিশ রক্ষায় প্রধান প্রজনন মৌসুমে মোট ২২ দিন দেশব্যাপী ইলিশ আহরণ, বিপণন, পরিবহন ও মজুত বন্ধে নানা পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

jagonews24সরকারের নানা উদ্যোগে দেশে ইলিশ উৎপাদন বেড়েছে

সরকারের এ ব্যাপক কর্মযজ্ঞের কারণে ২০২০-২১ অর্থবছরে ৫ দশমিক ৬৫ লাখ মেট্রিক টন ইলিশ আহরণ হয়েছে। এটি ২০১০-১১ অর্থবছরে ইলিশের মোট উৎপাদনের (৩ দশমিক ৪০ লাখ মেট্রিক টন) চেয়ে ৬৬ দশমিক ১৭ শতাংশ বেশি। এছাড়াও ‘হিলশা ফিশারিজ ম্যানেজমেন্ট অ্যাকশন প্ল্যান’ প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের ফলে ইলিশের উৎপাদন ২০০৪-০৫ থেকে ২০১৪-১৫ সাল পর্যন্ত গড়ে ৩ দশমিক ৫ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।

বিলুপ্তপ্রায় দেশীয় প্রজাতির মাছ ফেরাতে উদ্যোগ

দেশে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধির ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে এবং বিলুপ্তপ্রায় দেশীয় প্রজাতির মাছ বাঙালির পাতে ফিরিয়ে আনতে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় গবেষণা এবং উদ্ভাবনে অধিক গুরুত্ব দিচ্ছে। মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট দেশীয় মাছ সংরক্ষণে এ পর্যন্ত ৩৬ প্রজাতির দেশীয় বিলুপ্তপ্রায় মাছের প্রজনন কৌশল ও চাষ পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছে। এ গবেষণা প্রতিষ্ঠানটি প্রথমবারের মতো ময়মনসিংহে প্রতিষ্ঠা করেছে দেশীয় মাছের লাইভ জিন ব্যাংক। এই জিন ব্যাংকে এখন পর্যন্ত ১০২ প্রজাতির মাছ সংরক্ষণ করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় সম্প্রতি দেশের ১০ জেলার ৪৯ উপজেলায় ‘দেশীয় প্রজাতির মাছ এবং শামুক সংরক্ষণ ও উন্নয়ন’ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে মৎস্য অধিদপ্তর। দেশীয় প্রজাতির মাছ সংরক্ষণ ও চাষ সম্প্রসারণ, শামুক ও ঝিনুক সংরক্ষণ এবং মুক্তা চাষ সম্প্রসারণে এ প্রকল্প নেওয়া হয়েছে।

jagonews24

বাংলাদেশে মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানীরা সম্প্রতি দ্রুত বর্ধনশীল ও প্রায় ২০ শতাংশ অধিক উৎপাদনশীল উন্নত জাতের ‘বিএফআরআই-সুবর্ণ রুই’ উদ্ভাবন করেছে। এছাড়া উন্মুক্ত জলাশয়ে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং প্রজাতি বৈচিত্র্য সংরক্ষণের লক্ষ্যে মৎস্য অধিদপ্তরের উদ্যোগে নিয়মিতভাবে পোনা অবমুক্ত ও বিল নার্সারি কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। বিপন্নপ্রায় মৎস্য প্রজাতির সংরক্ষণ, অবাধ প্রজনন ও বংশবৃদ্ধির মাধ্যমে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য দেশের বিভিন্ন নদ-নদী ও অভ্যন্তরীণ মুক্ত জলাশয়ে ৪৯৪টি অভয়াশ্রম রয়েছে।

আন্তর্জাতিক বাজারে নিরাপদ ও মানসম্পন্ন মৎস্য ও মৎস্যপণ্যের রপ্তানি নিশ্চিতে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও খুলনায় তিনটি মাননিয়ন্ত্রণ পরীক্ষাগার স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়াও আন্তর্জাতিক বাজারে চিংড়ি রপ্তানি অব্যাহত রাখতে চাষি পর্যায়ে রোগমুক্ত এবং মানসম্পন্ন পোনা সরবরাহে কক্সবাজার, সাতক্ষীরা ও খুলনায় তিনটি পিসিআর ল্যাব প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। মৎস্যচাষ পর্যায়ে ওষুধের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে ‘অ্যাকোয়াকালচার মেডিসিনাল প্রোডাক্টস নিয়ন্ত্রণ নির্দেশিকা’ প্রণয়ন করা হয়েছে।

রপ্তানিতে মৎস্য ও মৎস্যজাত পণ্যের অবদান

বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান রপ্তানি পণ্য মৎস্য ও মৎস্যজাত দ্রব্য। বর্তমানে বিশ্বের ৫২টি দেশে মৎস্য ও মৎস্যজাত পণ্য রপ্তানি করছে বাংলাদেশ। পাশাপাশি অপ্রচলিত মৎস্যসম্পদের উন্নয়ন এবং এসব পণ্যের রপ্তানি উৎসাহিত করতে দেশব্যাপী কাঁকড়া, কুঁচিয়া ও সিউইডের চাষ সম্প্রসারণ কার্যক্রম চলমান।

jagonews24২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে প্রথম লাইভ জিন ব্যাংকের উদ্বোধন করেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম

বাংলাদেশ থেকে প্রধানত গলদা, বাগদা, হরিণাসহ বিভিন্ন জাতের চিংড়ি; স্বাদুপানির মাছ যেমন- রুই, কাতলা, মৃগেল, আইড়, টেংরা, বোয়াল, পাবদা, কৈ প্রভৃতি এবং সামুদ্রিক মাছের মধ্যে ভেটকি, দাতিনা, রূপচাঁদা, কাটল ফিশ, কাঁকড়া ইত্যাদি রপ্তানি হয়। এছাড়াও শুঁটকি মাছ, মাছের আঁশ এবং চিংড়ির খোলসও রপ্তানি হয়। বর্তমানে চাষসহ প্রাকৃতিক উৎস থেকে আহরিত কাঁকড়া ও কুঁচিয়া বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে।

রপ্তানি করা এসব মৎস্যজাত পণ্যের প্রায় ৭০ শতাংশই ভ্যালু অ্যাডেড প্রোডাক্টস। বাংলাদেশ থেকে সাধারণত আইকিউএফ, কুকড, ফিশ ফিলেট ইত্যাদি ভ্যালু অ্যাডেড মৎস্যপণ্য রপ্তানি হয়। ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশসমূহ, যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, রাশিয়া, চীনসহ বিশ্বের ৫২টি দেশে বাংলাদেশের মৎস্য ও মৎস্যপণ্য রপ্তানি হয়। কোভিড-১৯ এর কারণে বিশ্ববাজারে আর্থিক মন্দাবস্থা থাকা সত্ত্বেও সরকারের কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের ফলে সর্বশেষ ২০২১-২২ অর্থবছরে ৭৪ হাজার ৪২ দশমিক ৬৭ মেট্রিক টন মৎস্য ও মৎস্যজাত পণ্য রপ্তানি হয়েছে। এর মাধ্যমে ৫ হাজার ১৯১ দশমিক ৭৫ কোটি টাকা আয় হয়েছে, যা বিগত বছরের চেয়ে ২৬ দশমিক ৯৬ শতাংশ বেশি।

১৯৭৪ সালে ‘দ্য টেরিটোরিয়াল ওয়াটারস অ্যান্ড মেরিটাইম জোনস অ্যাক্ট’ প্রণয়ন করেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। এর মাধ্যমে সমুদ্র ও এর সম্পদের ওপর বাংলাদেশের সার্বভৌম অধিকারের দাবি প্রতিষ্ঠা করেন তিনি। এরই ধারাবাহিকতায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কূটনৈতিক দূরদর্শিতা ও প্রচেষ্টায় আন্তর্জাতিক আদালতের মাধ্যমে এক লাখ ১৮ হাজার ৮১৩ বর্গকিলোমিটার সামুদ্রিক জলসীমায় আমাদের ন্যায়সঙ্গত অধিকার প্রতিষ্ঠা হয়েছে। এর মাধ্যমে সুনীল অর্থনীতির সম্ভাবনার নতুন দ্বার উন্মোচন হয়েছে।

সামুদ্রিক মৎস্যসম্পদের মজুত নিরূপণ, এ খাতে দক্ষ জনবল সৃষ্টি, যুগোপযোগী আইন প্রণয়ন এবং গভীর সমুদ্রে মাছের টেকসই আহরণের মাধ্যমে সমুদ্র অর্থনীতির অপার সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো সম্ভব। এই লক্ষ্যে সামুদ্রিক মৎস্যসম্পদের বিজ্ঞানভিত্তিক ব্যবস্থাপনা, জেলেদের বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টি, উপকূলীয় জলাশয়ে মাছ, চিংড়ি, কাঁকড়া ও সিউইড চাষের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মৎস্য অধিদপ্তর ও বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট এ বিষয়ে কাজ করছে।

‘সাসটেইনেবল কোস্টাল অ্যান্ড মেরিন ফিশারিজ’ প্রকল্পের আওতায় সামুদ্রিক মৎস্যসম্পদের সর্বোত্তম আহরণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বঙ্গোপসাগরে এ পর্যন্ত ৩৮টি সার্ভে ক্রুজ পরিচালনা করা হয়েছে। আরভি ‘মীন সন্ধানী’ নামক মৎস্য গবেষণা ও জরিপ জাহাজের মাধ্যমে চালানো অনুসন্ধানে ৪৫৭ প্রজাতির মৎস্য ও মৎস্যজাতীয় প্রাণী শনাক্ত হয়েছে। এছাড়াও সমুদ্রে টুনা ও পেলাজিক মৎস্য আহরণের জন্য আরেকটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। সামুদ্রিক মৎস্যসম্পদের টেকসই ব্যবস্থাপনার জন্য সামুদ্রিক মৎস্য আইন, ২০২০ প্রণয়ন করা হয়েছে। এ আইনের আওতায় প্রতি বছরের ২০ মে থেকে ২৩ জুলাই পর্যন্ত মোট ৬৫ দিন সামুদ্রিক জলসীমায় সব ধরনের নৌযান দিয়ে মৎস্য আহরণ বন্ধ হচ্ছে। ফলে বঙ্গোপসাগরে বিলুপ্তপ্রায় মাছের মজুত বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন মাছ নিরাপদে ডিম ছাড়ার সুযোগ পাচ্ছে। সরকার গৃহীত নানামুখী পদক্ষেপের কারণে ২০২০-২১ অর্থবছরে সামুদ্র্রিক মাছের উৎপাদন ৬ দশমিক ৮১ লাখ মেট্রিক টনে উন্নিত হয়েছে, যা ২০১০-১১ অর্থবছরে মোট উৎপাদনের (৫ দশমিক ৪৬ লাখ মেট্রিক টন) চেয়ে ২৪ দশমিক ৭২ শতাংশ বেশি।

jagonews24সাগরের মাছ আহরণ ও রপ্তানিতে নানা পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রোজাউল করিম জাগো নিউজকে বলেন, দেশের মৎস্য খাতে একটা বৈপ্লবিক পরিবর্তন এসেছে। মৎস্য উৎপাদনে বাংলাদেশের সাফল্য দেশের সীমানা পেরিয়ে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও স্বীকৃতি পেয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রাজ্ঞ নেতৃত্ব ও দিকনির্দেশনায় সরকারের সময়োপযোগী ও বাস্তবভিত্তিক নীতি গ্রহণ, মৎস্য গবেষণার উন্নয়ন ও প্রযুক্তি উদ্ভাবন, মাঠ পর্যায়ে প্রযুক্তি সম্প্রসারণসহ নানাবিধ কার্যক্রম বাস্তবায়নের কারণে এ সাফল্য অর্জন সম্ভব হয়েছে। দেশে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধির ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে এবং বিলুপ্তপ্রায় দেশীয় প্রজাতির মাছ ফিরিয়ে আনতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় গবেষণা ও উদ্ভাবনে অধিক গুরুত্ব দিচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, সরকারের উদ্যোগে দেশীয় মাছের লাইভ জিন ব্যাংক করা হয়েছে, যেখানে এখন পর্যন্ত ১০২ প্রজাতির মাছ সংরক্ষণ করা হয়েছে। দেশের কোনো অঞ্চল থেকে কোনো বিশেষ প্রজাতির মাছ হারিয়ে গেলে জিন ব্যাংক থেকে সেসব অঞ্চলে হারিয়ে যাওয়া মাছ আবার চাষ করা সম্ভব হবে। এছাড়াও উন্মুক্ত জলাশয়ে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং প্রজাতি-বৈচিত্র্য সংরক্ষণের লক্ষ্যে মৎস্য অধিদপ্তরের উদ্যোগে নিয়মিতভাবে পোনা অবমুক্তি ও বিল নার্সারি কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। সবমিলিয়ে আমরা মাছে-ভাতে বাঙালির পুরনো ঐতিহ্য আবার ফিরিয়ে আনতে চাই।

পাশাপাশি রপ্তানির মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিতে অবদান রাখার অন্যতম ক্ষেত্র হিসেবে আমরা মৎস্য খাতকে প্রতিষ্ঠা করতে চাই। তবে শুধু মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধিই নয়, বরং মানসম্মত ও নিরাপদ মাছ উৎপাদন ও সরবরাহে সরকার অত্যন্ত গুরুত্ব দিচ্ছে। এ লক্ষ্যে মান নিয়ন্ত্রণ ল্যাবরেটরি প্রতিষ্ঠা, মৎস্য ও মৎস্যজাত পণ্যের মাননিয়ন্ত্রণ আইন প্রণয়ন ও তার প্রয়োগ, উত্তম মৎস্য চাষ অনুশীলনসহ নানা কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে- যোগ করেন মন্ত্রী।


আরও খবর