Logo
আজঃ Wednesday ২৬ January ২০২২
শিরোনাম
অভিনেত্রীর বিরুদ্ধে সহ-শিল্পীদের নগ্ন ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বিদেশের মাটিতে কৃষিপণ্য সরবরাহ বাড়াণোর লক্ষ্যে : ইরান রাজনৈতিক কঠিন চাপে রয়েছেন মেয়র আরিফুল স্বপ্নের মেট্রোরেল রওনা হলো আগারগাঁওয়ের উদ্দেশে ওমিক্রনের সংক্রমণে ভারতে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত নিয়মিত আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বন্ধ মুরাদ হাসান এমিরেটসের ফ্লাইটে কানাডা গেলেন সাময়িক বরখাস্ত হয়েছেন রাজশাহীর কাটাখালী পৌরসভার মেয়র আব্বাস আলী মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ আগামী বিশ্বকাপে ব্যাটসম্যানদের উন্নতি দেখতে চান করোনাভাইরাসে আরও ছয়জনের মৃত্যু বিশ্বের ৪৩তম ক্ষমতাধর নারী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসক হায়াত-উদ-দৌলা খাঁন কে বদলী জনিত বিদায় সংবর্ধনা

প্রকাশিত:Friday ১৪ January ২০২২ | হালনাগাদ:Wednesday ২৬ January ২০২২ | ৮৭জন দেখেছেন
Image


রুবেল মিয়াঃ(সরাইল)

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বিদায়ী জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট  হায়াত-উদ-দৌলা খাঁন কে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে বদলী জনিত বিদায় সংবর্ধনা প্রদান করা হয়েছে।


আজ বৃহস্পতিবার (১৩-০১-২০২২ খ্রিঃ) পুলিশ লাইন্স ড্রীলশেডে অনুষ্ঠিত বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক কে “বিদায় সংবর্ধনা” স্বারক প্রদান করেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পুলিশ সুপার  মোহাম্মদ আনিসুর রহমান।


উক্ত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে  উপস্থিত ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অপরাধ) মোল্লা মোহাম্মদ শাহীন,ব্রাহ্মণবাড়িয়া অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর দপ্তর) আবু সাঈদ,অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (নবীনগর সার্কেল) মোঃসিরাজুল ইসলাম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সহ জেলা পুলিশের সকল ইউনিট ইনচার্জগন।


আরও খবর



ডেমরায় ব্যবসায়ীর বাড়ীতে সন্ত্রাসী হামলা, ভাঙচুর ও নগদ টাকা চুরি:

ডেমরায় ব্যবসায়ীর বাড়ীতে সন্ত্রাসী হামলা, ভাঙচুর ও নগদ টাকা চুরি:

প্রকাশিত:Saturday ২২ January 20২২ | হালনাগাদ:Tuesday ২৫ January ২০২২ | ৭২জন দেখেছেন
Image


ডেমরা প্রতিনিধি

রাজধানীর ডেমরায় ব্যবসায়ী মো. ওমর ফারুক (৩৫) বাড়ীতে সন্ত্রাসী হামলা, ভাঙচুর ও নগদ টাকা চুরির ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এ সময় সন্ত্রাসীরা বাড়ির গেইট ভেংগে ভিতরে প্রবেশ করে আসবাবপত্র ও সি সি ক্যামেরা ভাঙচুর করে। ওই ব্যবসায়ীকে বেধরক মারধর করেন। এ ঘটনায় বৃদ্ধ বাবা ও মা ছেলেকে বাঁচাতে এগিয়ে আসলে তাদেরও মারধর করে ওই দুর্বৃত্তরা। পাশাপাশি ঘরে থাকা নগদ ৩ লক্ষ টাকা চুরি করে সন্ত্রাসীরা ও ১ ভরি সোনার চেইন নিয়ে যায় আনুমানিক মূল্য ৭০ হাজার টাকা।


গত ২০ জানুয়ারি দিবাগত রাত ১২ টা ৩৫মিনিট দিকে ডেমরার ঠুলঠুলিয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এদিকে ভুক্তভোগী প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে এ বিষয়ে  রাত সাড়ে ১০ টার দিকে অভিযুক্ত ১০ জনসহ অজ্ঞাত ৩/৪ জনের বিরুদ্ধে ডেমরা থানায় মামলা দায়ের করেন, মামলা নং-২৮।


অভিযুক্তরা হলেন- ডেমরার ঠুলঠুলিয়া এলাকার মৃত আঃ বাতেনের ছেলে মোঃ জাহিদুল হক (৪০), একই এলাকার এরশাদ আলম ইশুর  ছেলে মোঃ শাহিল (২৪), ছোট ছেলে মোঃ সাগর (২২), মেয়ে মোসা: ঈশিতা (২৬), ছোট ভাই আল মামুন (৩২),বড় ভাই মোঃ সেলিম মিয়া (৪৩),মেজো ভাই জসিম (৩৪), আরেক ভাই মোঃ জামান(৩৮), একই এলাকার মোক্তার হোসেনর ছেলে মোঃ নওশাদ, একই এলাকার আব্দুল বাশারের ছেলে সুলতান ভূঁইয়া (২৮) তবে এ ঘটনায় পুলিশ এখনো আসামিদের গ্রেফতার করতে পারেনি বলে জানা গেছে। 


বিষয়টি নিশ্চিত করে ডেমরা থানার ওসি খন্দকার নাসির উদ্দিন বলেন, মামলা হয়েছে। দ্রুত আসামিদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হবে।


আরও খবর



চিকিৎসার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে সাহায্য চাইলেন হতদরিদ্র আওয়ামীলীগ নেতা হাবিবুর

চিকিৎসার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে সাহায্য চাইলেন হতদরিদ্র আওয়ামীলীগ নেতা হাবিবুর

প্রকাশিত:Saturday ২২ January 20২২ | হালনাগাদ:Tuesday ২৫ January ২০২২ | ৭৪জন দেখেছেন
Image


মোঃ আব্দুল হান্নান ,নাসিরনগর

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার মজলিশপুর ইউনিয়নের শ্যামপুর গ্রামের হাবিবুর রহমান পেশায় একজন দিনমজুর। তিনি ও তার স্ত্রী দুজনই গলগণ্ড রোগে আক্রান্ত। ৬ মেয়ে ও স্ত্রীকে নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন  হাবিবুর।তার স্ত্রী ও একই রোগে আক্রান্ত হয়েছে।দুজনের গলার অপারেশন করতে ২ লক্ষ টাকার প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক। চিকিৎসার অভাবে দিনদিন মৃত্যুর দিকে ধাবিত হচ্ছে হাবিবুর ও তার স্ত্রী।।অভাবের সংসারে দুই বেলা সন্তানদের মুখে খাবার তুলে দেওয়া যেখানে অসাধ্য সেখানে ব্যববহুল এই চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া হাবিবুরের পক্ষে অসম্ভব। তিনি মজলিশপুর ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ১০ বছর যাবৎ দায়িত্ব পালন করে আসছেন বলে জানা গেছে। 


 শুক্রবার বিকেলে সরেজমিনে গেলে স্থানীয় লোকজন জানান,এলাকার হাজার হাজার মানুষের চলাচলের কষ্ট লাগব করার জন্য হাবিবুর রহমান নিজের একমাত্র সম্বল জমি বিক্রি করে মজলিশপুর ইউনিয়নের শ্যামপুর গ্রামের দক্ষিণ দিকে তিতাসের পূর্বপাড়ে বটতলী ( কাটাখালী) থেকে পূর্ব দিকে লইস্কা বিলের উপর দিয়ে ৬৫০ ফুট রাস্তা ও ৫০ ফুট কাঠের ব্রিজ তৈরি করেন৷মানবতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করা মানুষটির এখন করুণ অবস্থা, চিকিৎসা করার টাকা নাই৷তার এমন দূর্দিনে আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দ এবং সমাজের ধনাঢ্য হৃদয়বান মানুষের উচিত তার পাশে দাড়িয়ে সহযোগিতা করা।


মজলিশপুর ইউনিয়ন আওয়ামিলীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ সিরাজুল ইসলাম বলেন,হাবিবুর রহমান প্রায় ৩০ বছর যাবৎ আওয়ামীলীগের একজন নিবেদিত কর্মী। সে খুবই গরীব মানুষ, দারিদ্র সীমার নিচে বাস করছে।৬ মেয়ে ও স্ত্রী নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে।সংগঠন করতে গিয়ে অনেক কষ্ট করেছে।আমাদের দলীয় নেতৃবৃন্দ,এমপি মহোদয় সহ বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার কাছে তাদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করার জন্য অনুরোধ করছি। 


হাবিবুর রহমান জানান, আমি ক্ষেতে খামারে দিনমজুরের কাজ করে ৬ মেয়ের পড়াশুনা এবং সংসার চালাচ্ছি। আমি এবং আমার স্ত্রী দুজনের গলা দিনদিন ফুলে যাচ্ছে। ডাক্তার বলছে অপারেশন করাতে দুই লক্ষ টাকা লাগবে। এখন চিকিৎসা করার মতো আমার কোনো সামর্থ্য নাই।১০ বছর যাবৎ ওয়ার্ড আওয়ামিলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। দলীয় নেতৃবৃন্দ ও র.আ.ম.উবায়দুল মুক্তাদির চৌধুরী এমপি সহ বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে চিকিৎসার সাহায্যের জন্য আকূল আবেদন জানান তিনি।সাহায্য পাঠানোর ঠিকানা হাবিবুর রহমানের পার্সোনাল বিকাশ নাম্বার 01791-388452।

-খবর প্রতিদিন/ সি.বা   

আরও খবর



এমভি অভিযান-১০ লঞ্চের মালিক গ্রেপ্তার

প্রকাশিত:Monday ২৭ December ২০২১ | হালনাগাদ:Tuesday ২৫ January ২০২২ | ১৪৮জন দেখেছেন
Image

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীতে ‌‌‘এমভি অভিযান-১০’ লঞ্চে অগ্নিকাণ্ড ও হতাহতের ঘটনায় নৌযানটির মালিক হামজালাল শেখকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। আজ সোমবার কেরানীগঞ্জ থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, লঞ্চে আগুন লাগার পর থেকে কেরানীগঞ্জে এক আত্মীয়ের বাসায় আত্মগোপনে ছিলেন হামজালাল শেখ। গোপন খবরের মাধ্যমে র‌্যাব সদস্যরা সেখান থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে।

পরে সংবাদ সম্মেলন করে এ ব্যাপারে বিস্তারিত জানানো হবে বলে জানান র‌্যাবের এই কর্মকর্তা।

গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত তিনটার দিকে ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীতে অভিযান-১০ লঞ্চে আগুন লাগে। আগুনে পুড়ে ও নদীতে ঝাঁপ দিয়ে অন্তত ৪১ যাত্রী নিহত হন। এ ঘটনায় এখনো নিখোঁজ আছেন অনেকে। অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে আত্মগোপনে চলে যান লঞ্চটির মালিক।

এ ঘটনায় লঞ্চের মালিকসহ আটজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত। গতকাল রোববার দুপুরে ঢাকার নৌ পরিবহন আদালতের বিচারক (যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ) জয়নাব বেগম এই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। এ সময় লঞ্চের ফিটনেস সনদ, নিবন্ধন ও মাস্টার-ড্রাইভারদের সনদও স্থগিত করা হয়।  এর আগে নৌ পরিবহন অধিদপ্তরের মুখ্য পরিদর্শক শফিকুর রহমান বাদী হয়ে এ ঘটনায় মামলা করেন।


আরও খবর



নাসিরনগরে প্রতারক লিটনের বিরোদ্ধে নুরপুরের সন্তোস বিশ্বাসের ৩ লক্ষ টাকা আত্মসাতের মামলা

প্রকাশিত:Monday ২৪ January ২০২২ | হালনাগাদ:Wednesday ২৬ January ২০২২ | ৫৬জন দেখেছেন
Image


পর্ব-৫

মোঃ আব্দুল হান্নানঃ

ব্রাক্ষণবাড়িয়া জেলার নাসিরনগর উপজেলা সদরের আব্দুল গাফ্ফারের ছেলে Rab এর হাতে গ্রেপ্তার হওয়া প্রতারক মোঃ লিটন মিয়া(৩৫) এর বিরোদ্ধে এবার ৩ লক্ষ টাকা আত্মসাতের বিষয়ে গোর্কণ ইউনিয়নের নুরপুর গ্রামের গ্রামের নলিন বিশ্বাসের ছেলে সন্তোষ বিশ্বাস বাদি হয়ে ব্রাক্ষণবাড়িয়ার বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল আদালতে এন,আই  এ্যাক্টের ১৩৮ বিধান মতে আরো একটি চেক জালিয়াতির মামলা  দায়ের করেছে যাহার মামলা নং সি,আর ৪২৪/১৯ দায়রা ৫৫৪/২০। 


মামলার আর্জি সুত্রে জানা গেছে বাদী সন্তোষ বিশ্বাস ও আসামী লিটন মিয়া পরস্পর পরিচিত।আসামী লিটন মিয়া একজন ঠিকাদার।ঠিকাদারী কাজের কথা বলে আসামী লিটন মিয়া বাদী সন্তোষ বিশ্বাসের নিকট থেকে গত ২০১৯ সালের ১৪ অক্টোবর নাসিরনগর সোনালী ব্যাংকের ১২১৩০ নম্ভর সঞ্চয়ী হিসাবের ৪২০৪৭৯৪ নম্ভরের একটি চেক প্রদান করে ৩ লক্ষ টাকা গ্রহন করে।ওই তারিখে বাদী  সন্তোষ বিশ্বাস নাসিরসগর সোনালী ব্যাংকে গিয়ে চেকটি নগদায়নের চেষ্টা করে।


কিন্তু লিটনের হিসাব নাম্ভারে কোন টাকা না থাকায় চেকটি ডিজনার হয়ে আসে।পরবর্তীতে বাদী সন্তোষ বিশ্বাস আসামী প্রতারক লিটনের কাছ থেকে তার পাওনা টাকা আদায় করতে না পেরে ব্রাক্ষণবাড়িয়ার বিজ্ঞ আদালতে মামলা দায়ের করে।বর্তমানে মামলাটি আদালতে বিচারাধীন রয়েছে বলে সন্তোষ বিশ্বাস জানান।


-খবর প্রতিদিন/ সি.বা 

আরও খবর



নাসিরনগর নির্বাচন অফিস,টাকা ছাড়া মিলে না সেবা

নাসিরনগর নির্বাচন অফিস,টাকা ছাড়া মিলে না সেবা

প্রকাশিত:Saturday ২২ January 20২২ | হালনাগাদ:Tuesday ২৫ January ২০২২ | ৯৩জন দেখেছেন
Image


মোঃআব্দুল হান্নান,

অফিসেরকর্মকর্তা কর্মচারী আর পাঁচ দালালে মিলেই চালাচ্ছে নাসিরনগর নির্বাচন কর্মকর্তার কার্য্যালয়। এমন অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।দালালরা  চাইলেই  তৈরি করে দিতে পারেন নতুন জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি)! ভুল সংশোধন কিংবা স্থান পরিবর্তনসহ নির্বাচন অফিসের যে কোন সেবা দিতে পারেন তারা।এমন কাজ তারা গোপনে নয়, প্রকাশ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ঘোষণা দিয়েই করে যাচ্ছেন দীর্ঘদিন ধরে।


আপনি যদি সচেতন নাগরিক হোন, নির্বাচন কমিশনের নিয়ম মেনে যদি কোন সেবার আবেদন করেন, তাহলে পোহাতে হবে চরম ভোগান্তি।  কাগজে সমস্যা,কাগজে ক্রটি এমন নানা অজুহাতে আপনার কাজ আটকে থাকবে দিনের পর দিন। তবে দালালের হাতে তাদের চাহিদা মত টাকা ধরিয়ে দিলে বা  চুক্তি করলেই মিলবে সেবা। এমনই চিত্র ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার  নাসিরনগর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ের।


নির্বাচন অফিসের দালাল জাকারিয়া আহমেদ তাকের ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে আইডি কার্ডের সকল সমস্যা সমাধানের পরামর্শ দেন। তার স্ট্যাটাসটি হলো কারো যদি জরুরি আইডি কার্ড লাগে তবে যোগাযোগ করুন। অপর আরেকটি স্ট্যাটাসে লেখেন, আইডি কার্ড সংশোধন করে দিতে পারি, যাদের সমস্যা তারা যোগাযোগ করবেন।


ভোক্তভোগীদের অভিযোগ, নাসিরনগর নির্বাচন অফিসের নির্বাচন কর্মকর্তা ও অফিস সহকারী থেকে শুরু করে এমএলএসএস এর সাথে আর্থিক চুক্তি ছাড়া মিলে না সেবা। তাদের সহযোগী স্থানীয় বদপাঁচ দালালও রয়েছে। ওই দালালরা অফিসের আশপাশে সকাল ৯টা থেকে শুরু করে রাত ১০টা পর্যন্ত বসে থাকে। তাদের কাজ হল সেবাগ্রহীতাদের সাথে চুক্তি করে নির্বাচন কর্মকর্তার কাছে পৌঁছানো।


অভিযোগ রয়েছে, প্রতিটি নতুন এনআইডি কার্ড করতে ২০ হাজার থেকে শুরু করে সর্বনিম্ন ৩/৪ হাজার টাকা, সংশোধনের জন্য ক্যাটাগরিভেদে পাঁচ থেকে ৫০ হাজার টাকা নেন তারা। দালাল ছাড়া সরাসরি নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুসরণ করে অফিস আসলে পোহাতে হয় চরম ভোগান্তি। তবে দালালের মাধ্যমে গেলেই মেলে প্রশান্তি।


সরেজমিন উপজেলা নির্বাচন অফিস ঘুরে দেখা গেছে, দুপুরের দিকে নির্বাচন অফিসের সামনে ও বিভিন্ন কক্ষের ভেতর সেবাগ্রার্থীদের প্রচুর ভিড়। এখানে সর্বত্রই উপেক্ষিত স্বাস্থ্যবিধি। কারোরই মুখে নেই কোন মাস্ক। নির্বাচন কর্মকর্তা ভিড় ঠেকাতে অফিসের ভেতর থেকে দরজা বন্ধ করে রেখেছে। নতুন আইডি কার্ড করতে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আসা প্রায় শতাধিক সেবাগ্রহীতাকে দেখা গেছে। এদের মধ্যে থাকা ঢাকা কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক ডা. রোকন উদ্দিন ভূইঁয়া অভিযোগ করে বলেন, আমি আমার ছেলের আইডি কার্ড করতে নির্বাচন অফিসে আসি। নির্বাচন কর্মকর্তা শতশত সেবাগ্রহীতার জন্মনিবন্ধন আটকে রেখে টাকা আদায় করে হয়রানি করছে।ঢাকা থেকে আসা গোয়াল নগর ইউনিয়নের লালুয়ারটুক গ্রামের গ্রাফিক্স ডিজাইনা জোহাম জানায়,সে ভোট উঠানোর পর প্রিন্টিং কপির জন্য অনেক দিন অফিসে ধর্না দিলেও কোন কাজ হয়নি।কিন্তু অফিসের ইমরান সাহেব কে ৪ হাজার টাকা দেয়ার ২৪ ঘন্টার ভিতরেই পেয়ে যান প্রিন্টিং কপি।ডাঃ রোকন উদ্দিন বলেন,হয়রানির কারণ জানতে চাইলে নির্বাচন অফিসার দুর্ব্যহার করে।


 এদিকে অফিস থেকে বের হওয়ার সময় চোখে পড়ে সেবাগ্রহীতা সালামের সাথে অফিসের দালাল পারভেজের টাকা লেনদেনের চিত্র। সেটি মোবাইলে ধারণ করা হয়। তখন পারভেজ এসে এ প্রতিবদেককে বলেন, আমি সালামের কাছে টাকা পাইতাম সেই টাকাই ফেরৎনিচ্ছি।


ভলাকুট ইউনিয়নের বাঘী গ্রামের বাসিন্দা শ্যামল ভৌমিক অভিযোগ করে বলেন, আমি বিদেশ যেতে দ্রুত আইডি কার্ড করতে অফিসে আসি। কিন্তু নির্বাচন কর্মকর্তা আমার সকল কাগজপত্র দেখে বলেন, তোমার বয়স কম। আইডি কার্ড হবেনা। পড়ে একজন দালাল অফিসের পেছনে নিয়ে আমায় বলল স্যার (নির্বাচন কর্মকর্তাকে) কিছু খরচপাতি দিলে বয়স কোন সমস্যা হবেনা। তখন নির্বাচন অফিসারকে আমি ৩ হাজার টাকা দেই। কবে কার্ড পাব ভগবানই ভাল জানেন।


একই ইউনিয়নের কুটুই গ্রামের উদ্ভব দাস বলেন, আমার আইডি কার্ডে নামের ভুল সংশোধনের জন্য অফিসে আসি। কিন্তু অফিসের কেউ আমার সাথে কথাই বলতে চায়না। পরে একজন দালাল আমাকে বলে ১ সপ্তাহের মধ্যে ঠিক করে দিবে, বিনিময়ে তাকে ৩ হাজার টাকা লাগবে। আমি বাধ্য হয়ে ৩ হাজার টাকা দেই। কিন্তু প্রায় দুই মাস হলেও কার্ড পাচ্ছি না।


হরিপুর ইউনিয়নের মিরাজুল ইসলাম বলেন, আমি ২০২১ সালের ২২ সেপ্টেম্বর নতুন আইডি কার্ড করতে অফিসে সকল কাগজপত্র জমা দেই। কিন্তু টাকা ছাড়া করবেনা বলে ফিরিয়ে দেয়। পরে ৫ হাজার টাকা দেওয়ার পর চার মাস পর কার্ড হাতে পাই। কে টাকা নিয়েছে জানতে চাইলে বলেন, অফিসের আউট সোর্সিং-এ নিয়োগ পাওয়া ইমরান তার কাছ থেকে টাকা গ্রহণ করেছে।


নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন দালাল বলেন, এ অফিসের বিকাশ, রইস খান, মিজান, রুস্তম ও পারভেজই বেশি কাজ করে। তারাই নির্বাচন কর্মকর্তার কাছে সেবাগ্রহীতাদের সাথে কন্ট্রাক করে অফিসে নিয়ে আসে।


অনিয়ম ও হয়রানির বিষয়ে জানতে নাসিরনগর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. শহিদুল ইসলামের সাথে কথা বললে তিনি বলেন, আমি কোন সেবাগ্রহীতার কাছ থেকে ঘুষ নেয়নি। কাউকে হয়রানিও করিনা। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ আপনি নিজে টাকা নিয়ে কাজ করেন এমন প্রশ্ন করলে তিনি আর কথা বলতে রাজি হননি।


-খবর প্রতিদিন/ সি.বা   


আরও খবর