Logo
আজঃ Friday ১৯ August ২০২২
শিরোনাম
রূপগঞ্জে আবাসিকের অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন ডেমরায় প্যাকেজিং কারখানায় ভয়বহ অগ্নিকান্ড রূপগঞ্জে পুলিশের ভুয়া সাব-ইন্সপেক্টর গ্রেফতার রূপগঞ্জে সিরিজ বোমা হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ ॥ সভা সরাইলে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ৭৭তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত। নারায়ণগঞ্জে পারিবারিক কলহে স্ত্রীকে পুতা দিয়ে আঘাত করে হত্যা,,স্বামী গ্রেপ্তার রূপগঞ্জ ইউএনও’র বিদায় সংবর্ধনা নাসিরনগরে স্বামীর পরকিয়ার,বলি ননদ ভাবীর বুলেটপানে আত্মহত্যা নাসিরনগরে জাতীয় শোক দিবস ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৭ তম শাহাদত বার্ষিকী পালিত ডেমরায় জাতীয় শোক দিবসের কর্মসুচি পালিত

বন্যায় ৬ বছরে ক্ষতি লাখ কোটি টাকা

প্রকাশিত:Tuesday ২৮ June ২০২২ | হালনাগাদ:Friday ১৯ August ২০২২ | ৫৪জন দেখেছেন
Image

সিলেট, সুনামগঞ্জসহ দেশের উত্তরাঞ্চলের কয়েকটি জেলা বন্যানিমজ্জিত। বলা হচ্ছে এটি দেশের স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যা। উজান থেকে নামা পাহাড়ি ঢল আর অতি ভারি বৃষ্টি এই বন্যার প্রধান কারণ। নদনদী ও হাওরের পানি বেড়ে বন্যার বিস্তৃতি ঘটায় বেশি। আচমকা পানি বেড়ে ডুবে যায় সব। পানিবন্দি হয়ে পড়েন শুধু সিলেট-সুনামগঞ্জের প্রায় ৪০ লাখ মানুষ। পাশাপাশি জামালপুর, নেত্রকোনা, কুড়িগ্রামসহ উত্তরাঞ্চলেও দেখা দেয় বন্যা। সরকারি হিসাবে এরই মধ্যে প্রাণহানি ঘটেছে প্রায় ৮৪ জনের

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) এক জরিপ মতে, বিগত ছয় (২০১৫-২০২০) বছর বন্যায় দেশে বিপুল ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, যার আর্থিক পরিমাণ এক লাখ এক হাজার ৮৮ কোটি টাকা। এই টাকা দিয়ে তিনটির বেশি পদ্মা সেতু নির্মাণ করা যেত।

ওই জরিপের ফলাফল সম্প্রতি ‘বাংলাদেশ ডিজাস্টার রিলেটেড স্ট্যাটিসটিকস (বিডিআরএস) ২০২১: ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড ন্যাচারাল ডিজাস্টার পারসপেক্টিভস’ শীর্ষক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

বিবিএস জানায়, বাংলাদেশের ৬৪ জেলার ১১টি প্রধান দুর্যোগের বিপরীতে দুর্যোগপ্রবণ এলাকা থেকে খানা ধরে ধরে ডিজিটাল পদ্ধতিতে দীর্ঘ প্রশ্নপত্রের মাধ্যমে সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে এই জরিপের তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা। জলবায়ু পরিবর্তনের অনুঘটক যেমন, তাপমাত্রা, বৃষ্টিপাত, কার্বন নিঃসরণ, গ্রিন হাউজ গ্যাস প্রভৃতির ওপর ভিত্তি করে জরিপটি পরিচালনা করা হয়। জলবায়ু পরিবর্তনজনিত প্রাকৃতিক দুর্যোগ বিষয়ক তথ্য-উপাত্তও এতে উঠে আসে।

বিডিআরএস ২০২১ জরিপে ৬৪ জেলার দুর্যোগপ্রবণ এলাকায় ৭৫ লাখ ১৫ হাজার ৯৭৭টি খানা (পরিবার) এবং তিন কোটি ৪১ লাখ ১২ হাজার ৯১০ ব্যক্তিকে আওতাভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে বন্যায় আক্রান্ত ৫৪ দশমিক ৬৯ শতাংশ খানা, ঘূর্ণিঝড়ে আক্রান্ত ৩৪ শতাংশ খানা, বজ্রপাত ও বজ্রঝড়ে (কালবৈশাখী ও আশ্বিনী ঝড়সহ) ১৪ দশমিক ২২ শতাংশ, খরায় ৪ দশমিক ৭২ শতাংশ, জলমগ্নতায় ১০ দশমিক ১৬ শতাংশ, শিলাবৃষ্টিতে ১৭ দশমিক ৮৩ শতাংশ, জলোচ্ছ্বাসে ২ দশমিক ২৬ শতাংশ, নদী/উপকূলীয় ভাঙনে ১০ দশমিক ০৪ শতাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এছাড়া টর্নেডোতে ৫ দশমিক ২৮ শতাংশ, লবণাক্ততায় ৩ দশমিক ২৭ শতাংশ, ভূমিধসে ০ দশমিক ৪০ শতাংশ এবং অন্যান্য দুর্যোগ যেমন, কুয়াশা, শৈত্যপ্রবাহ, পোকামাকড়ের আক্রমণ প্রভৃতিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয় ০ দশমিক ০৯ শতাংশ খানা।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে নানা ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ আঘাত হানে। এর মধ্যে বন্যাই সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি করে। ২০১৫ সাল থেকে ২০২০ সময়কালে অর্থাৎ ছয় বছরে বাংলাদেশে বন্যা, ঘূর্ণিঝড়সহ যেসব প্রাকৃতিক দুর্যোগ আঘাত হানে, তাতে আর্থিক ক্ষতি হয় এক লাখ ৭৯ হাজার ১৯৮ কোটি টাকার। এর মধ্যে কেবল বন্যায় আর্থিক ক্ষতি এক লাখ এক হাজার ৮৮ কোটি টাকার, যা দুর্যোগজনিত মোট ক্ষতির ৫৬ দশমিক ৪১ শতাংশ। বন্যায় নদীভাঙন, বসতবাড়ি তলিয়ে নেওয়া, ফসলি জমি ভাসিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি শিশুদের নানা ধরনের রোগ, বেকারত্ব তৈরি এবং দারিদ্র্যও বাড়ে।

জরিপ প্রতিবেদন অনুসারে, ২০০৯ থেকে ২০১৪ সময়কালে (ছয় বছরে) বন্যায় আর্থিক ক্ষতি নিরূপিত হয়েছিল চার হাজার ২৮০ কোটি টাকা। অর্থাৎ, আগের ছয় বছরের তুলনায় পরের ছয় বছরে বন্যায় আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে ২৪ গুণেরও বেশি।

বন্যায় ৬ বছরে ক্ষতি লাখ কোটি টাকা

বিবিএস জানায়, উল্লিখিত ছয় বছরে (২০১৫-২০২০) প্রাকৃতিক দুর্যোগে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কৃষিখাত, শস্য, প্রাণিসম্পদ, পোল্ট্রি, মৎস্য, বনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্র। সব মিলিয়ে এই খাতে সর্বমোট ক্ষতি ৭১ হাজার ৭৮৩ কোটি টাকা। যা মোট ক্ষতির ৪০ দশমিক ০৬ শতাংশ। বন্যার পাশাপাশি ঘূর্ণিঝড়ও অনেক ক্ষতি করেছে উল্লিখিত সময়কালে। এই সময়ে ২৫ হাজার ৫৩৮ কোটি টাকার ক্ষতি করেছে ঘূর্ণিঝড়।

প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে বেকারত্ব
জরিপের প্রতিবেদনে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে ক্ষয়ক্ষতির কিছু চিত্রও তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুর্যোগের কারণে আক্রান্ত এলাকায় বেকারত্বের অভিশাপ দেখা গেছে বিভিন্ন সময়। উল্লিখিত ছয় বছরে দুর্যোগপ্রবণ এলাকার খানার সদস্যরা গড়ে ২১ দশমিক ০৩ দিন কর্ম থেকে বিরত ছিলেন। প্রধানত বন্যায় ৪২ দশমিক ৬৮ দিন, নদী/উপকূলীয় ভাঙনে ৩ দশমিক ৮৭ দিন, জলমগ্নতায় ৬ দিন, খরায় ১ দশমিক ৬৩ দিন, জলোচ্ছ্বাসে ১ দশমিক ৫৫ দিন, ঘূর্ণিঝড়ে ২১ দশমিক ২৩ দিন, বজ্রপাত ও বজ্রঝড়ে (কালবৈশাখী ও আশ্বিনী ঝড়সহ) ৬ দশমিক ৫৫ দিন কর্ম থেকে বিরত ছিলেন খানার সদস্যরা।

জমির ক্ষয়-ক্ষতি
প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয় জমিজমা। ওই ছয় বছরে খানাভিত্তিক ৮ লাখ ৬৮ হাজার ২০৬ একর জমির মধ্যে বন্যায় সর্বোচ্চ ৪৬ দশমিক ৫৯ শতাংশ জমি ক্ষতিগ্রস্ত, নদী-উপকূলীয় ভাঙনে ৩৬ দশমিক ৫৩ শতাংশ, জলমগ্নতায় ১০ দশমিক ৬১ শতাংশ, অবশিষ্ট জমি অন্যান্য দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

১৫ শতাংশ খানা তিন দফায় দুর্যোগে আক্রান্ত
২০১৫ থেকে ২০২০ সাল সময়কালে অর্থাৎ ছয় বছরে দুর্যোগপ্রবণ এলাকার খানাগুলোর মধ্যে ৫৪ শতাংশ খানা একবার, ৩১ শতাংশ খানা দুবার, ১৫ শতাংশ খানা তিন বা ততধিকবার দুর্যোগে আক্রান্ত হয়েছে।

দুর্যোগে আক্রান্ত খানার সদস্যদের চিকিৎসা ব্যয়
বিডিআরএস ২০২১ জরিপে প্রাকৃতিক দুর্যোগে ছয় বছরে অসুস্থ, আহত প্রভৃতিতে খানার ২৪ লাখ ১২ হাজার ৩৮৯ জন সদস্যের চিকিৎসা বাবদ ব্যয় হয়েছে তিন হাজার ৯৪২ কোটি টাকা। মাথাপিছু গড় চিকিৎসা ব্যয় ১৬ হাজার ৩৪১ টাকা। যার মধ্যে ১৪ লাখ ৪৮ হাজার ৪৯৮ জন শিশুর মাথাপিছু গড় চিকিৎসা ব্যয় হয়েছে ১৭ হাজার ৮২১ টাকা।

দুর্যোগে আক্রান্ত খানার আর্থিক সহায়তা
প্রাকৃতিক দুর্যোগে উল্লিখত ছয় বছরে ৭৪ দশমিক ০২ শতাংশ খানা সরকার, ১২ দশমিক ১৯ শতাংশ খানা এনজিও/আন্তর্জাতিক সংস্থার মাধ্যমে আর্থিক সহায়তা পেয়েছে। এছাড়া ৯ দশমিক ৬৭ শতাংশ খানা স্থানীয় ধনী ব্যক্তি/সমবায় সমিতি, ৮ দশমিক ০৬ শতাংশ খানা ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান এবং ৩ দশমিক ৮৩ শতাংশ খানা অন্যান্য উৎস (আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব প্রভৃতি) থেকে আর্থিক সহায়তা পেয়েছে।

দুর্যোগে অসুস্থতা ও আহত
২০১৫-২০২০ সময়কালে প্রাকৃতিক দুর্যোগে ২৫ লাখ ৮৮ হাজার ৯২৫ জন খানার সদস্য অসুস্থ এবং এক লাখ ৭২ হাজার ৪২৬ জন আহত হয়েছেন বলে বিডিআরএস ২০২১ জরিপে উঠে এসেছে। আগের ছয় বছরে (২০০৯-২০১৪) দুর্যোগে আহত বা অসুস্থ হয়েছিলেন ১৮ লাখ ৯০ হাজার ৭৩৪ জন খানা সদস্য।

দুর্যোগে শিশুর ক্ষতি
প্রাকৃতিক দুর্যোগে ২০১৫ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত ছয় বছরে ০০ থেকে ১৭ বছর বয়সী ১৫ লাখ ৩৪ হাজার ৪৭৪ জন শিশু বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়। সর্বোচ্চ সংখ্যক শিশু অর্থাৎ, ৫০ শতাংশ শিশু বন্যার কারণে অসুস্থ হয়, দ্বিতীয় সর্বোচ্চ অর্থাৎ, ১৯ দশমিক ৭৭ শতাংশ শিশু জলমগ্নতায় অসুস্থ এবং প্রচণ্ড খরার কারণে ১৫ দশমিক ১৯ শতাংশ শিশুর অসুস্থ হয়।

বন্যায় ৬ বছরে ক্ষতি লাখ কোটি টাকা

পানযোগ্য পানির অপর্যাপ্ততার কারণে রোগ
প্রাকৃতিক দুর্যোগে ২০১৫ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত ছয় বছরে পানযোগ্য পানির অপর্যাপ্ততা দেখা যায়, যে কারণে জরিপভুক্ত খানার ৪৪ দশমিক ১৪ শতাংশ সদস্য ডায়রিয়ায়, ২০ দশমিক ২২ শতাংশ আমাশয়, ঠান্ডা/সর্দি-কাশিতে ৪০ দশমিক ৩৭ শতাংশ, চর্মরোগে ৩১ দশমিক ৪৭ শতাংশ আক্রান্ত হন। এছাড়া জ্বরে ২৩ দশমিক ৭০, জন্ডিসে ১১ দশমিক ১০ এবং ৫ দশমিক ৫৭ শতাংশ অন্যান্য রোগে আক্রান্ত হন।

বিশেষজ্ঞ মতামত
পানিসম্পদ ও জলবায়ু পরিবর্তন বিশেষজ্ঞ ড. আইনুন নিশাত জাগো নিউজকে বলেন, দেশে বন্যা হবেই। ক্ষয়ক্ষতি থেকে কীভাবে বাঁচা যায় সেই পথ বের করতে হবে। বাড়িঘর নিরাপদ রাখতে সেভাবে নির্মাণ করতে হবে।

আগের তুলনায় বন্যায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বৃদ্ধি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জিনিসপত্রের দাম বেড়েছে। হিসাবের ভেরিয়েশন এসেছে। এসব কারণেই মূলত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বেড়েছে। আগে হিসাব করা হতো বন্যায় বাড়ি-ঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান কয়টি ভেঙেছে। এখন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলে তার আর্থিক ক্ষতিও বের করা হয়। বন্যা হবেই, তবে এটা থেকে কীভাবে বাঁচা যায় তার টেকসই পদ্ধতি বের করতে হবে।

সরকার বসে নেই, বললেন মন্ত্রী
পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান জাগো নিউজকে বলেন, বন্যা থেকে দেশবাসীকে সুরক্ষ দিতে সরকার নানাভাবে পদক্ষেপ নিচ্ছে। কিন্তু হঠাৎ করেই বন্যা হলে আসলে কারও কিছু করার থাকে না। আমরা দেখেছি শক্তিশালী দেশ চীনেও ভয়াবহ বন্যা শত শত মানুষ মারা যাচ্ছে। চীন কিন্তু আমাদের থেকে নানাভাবে শক্তিশালী। এমনকী ইউরোপেও বন্যা হচ্ছে। তারাও কিন্তু অনেক সমৃদ্ধ।

বন্যা থেকে সুরক্ষায় নানা ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে দাবি করে মন্ত্রী বলেন, বিবিএস রিপোর্টে দেখা গেছে বন্যায় ক্ষয়ক্ষতি বাড়ছে। তবে সরকার বসে নেই, নদী খনন ও নদী তীরে বাঁধ নির্মাণ বিষয়ে নানা প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে মানুষের জানমাল রক্ষা করা হচ্ছে। নদীর পানি উপচে বন্যা হয়। এজন্য একাধিক নদী খনন করা হচ্ছে। আসলে বন্যার ভয়াবহতা আমাকে নাড়িয়ে দিয়েছে। আমার নির্বাচনী এলাকা সুনামগঞ্জে স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যায় মানুষ বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। সামনে বন্যা নিয়ন্ত্রণে নানা ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।


আরও খবর



ক্যান্টনমেন্ট খালি করে ফেললেও সব কেন্দ্রে সেনা হবে না: ইসি আলমগীর

প্রকাশিত:Monday ০১ August ২০২২ | হালনাগাদ:Friday ১৯ August ২০২২ | ৩২জন দেখেছেন
Image

ক্যান্টনমেন্ট খালি করে ফেললেও নির্বাচনে সব কেন্দ্রে সেনা মোতায়েন সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন নির্বাচন কমিশনার মো. আলমগীর।

তিনি বলেন, একটা রানৈতিক দলের একজন প্রস্তাব দিলেন সব কেন্দ্রে সেনা বাহিনী দেওয়ার জন্য। তখন আমি উনাকে পাল্টা প্রশ্ন করেছিলাম সব কেন্দ্রে দিতে গেলে আপনি কি জানেন যে ৪০ হাজার কেন্দ্র আছে। তো ৪০ হাজার কেন্দ্রে আমরা যদি সেনা দিতে চাই তাহলে কত আর্মি দরকার? আমাদের তো এতো অফিসার এবং আর্মি নাই। তখন আমরা কী করবো? তখন ক্যান্টনমেন্ট খালি করে দিলেও, নৌ-বাহিনী, বিমান বাহিনী দিলেও তো হবে না।

সোমবার (১ আগস্ট) নির্বাচন ভবনে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ প্রসঙ্গে নির্বাচন কমিশনার মো. আলমগীর বলেন, সংলাপ থেকে প্রাপ্ত সুপারিশ পর্যালোচনা করবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এরপর শিগগির একটি কৌশলপত্র প্রস্তুত করা হবে। ওই কৌশলপত্র নিয়ে সবাইকে একমঞ্চে নিয়ে বিশেষ সংলাপে বসবে বলেও জানান এই কমিশনার।

তিনি আরও জানান, এরইমধ্যে রাজনৈতিক দলসহ বিভিন্ন মহলের কাছ থেকে পাওয়া প্রস্তাবগুলো নিয়ে তারাপর্যালোচনা শুরু করে দিয়েছেন। সেপ্টেম্বরের মধ্যেই খসড়াটি চূড়ান্ত করা হবে। এরপর ফের গণমাধ্যম, শিক্ষাবিদ, বিশেষজ্ঞ জন ও রাজনৈতিক দলগুলোকে ডাকা হবে। প্রথম সংলাপে সাড়া না দেওয়া বিএনপিকেও ডাকা হবে।

মো. আলমগীর বলেন, বিশেষ সংলাপটি অনুষ্ঠিত হবে দিনব্যাপী। সেখানে সবাই একমঞ্চেই থাকবে। এক্ষেত্রে প্রত্যেক গ্রুপ থেকে চার-পাঁচ জন করে অংশ নেবে। সংলাপে কৌশলপত্রটি উপস্থাপন করে অংশীজনের কাছ থেকে মতামত নেওয়া হবে। এরপর সংসদ নির্বাচনের চূড়ান্ত কৌশলপত্র প্রণয়ন করবে নির্বাচন কমিশন।

তিনি বলেন, বিশেষ সংলাপে আমাদের কৌশলপত্রে উদ্দেশ্য, লক্ষ্য, সুবিধা-অসুবিধা, অর্থ সংক্রান্ত বিষয়, লোকবল, চ্যালেঞ্জ ইত্যাদি থাকবে। যে চ্যালেঞ্জগুলো আছে, সেগুলো কীভাবে মোকাবিলা করতে পারি, তা নিয়েই আলোচনা হবে।

এ নির্বাচন কমিশনার আরও বলেন, সংলাপ থেকে আসা প্রস্তাবে তথ্য ঘাটতি (ইনফরমেশন গ্যাপ) আছে। পরীক্ষা-নিরীক্ষা না করে কিছু বলা যাবে না। আমরা সব রেকর্ড রেখেছি। এখন পর্যালোচনা করছি। তিন ধরনের সুপারিশ করেছে। কিছু কিছু সুপারিশ আছে সংবিধান ও আইনের মধ্য থেকে করতে হবে। কিছু কিছু সুপারিশ আইনের পরিবর্তন নিয়ে। আর কিছু কিছু আছে ইসির এখতিয়ারের মধ্যে নয়। সেটা নিয়ে কীভাবে কী করবো, তা যখন আলাপ-আলোচনা করবো তখন সিদ্ধান্ত নেবো। তখন হয়তো আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাবগুলো পাঠিয়ে দেবো। তবে এখনো আমরা কোনো সিদ্ধান্ত নেইনি।

তিনি বলেন, আগের কমিশন আগে রোডম্যাপ করে আলোচনা করেছেন। আমরা আলোচনা করে রোডম্যাপ করবো।

মো. আলমগীর বলেন, কেউ কেউ এমন কিছু সুপারিশ করেছেন যে কারিগরিভাবে পরিবর্তন আনা। সেটা হয়তো আমরা করতে পারবো না। একজন বলেছেন অনলাইনে ভোট নেওয়ার জন্য। এটা তো এখনই পারবো না। অর্থনৈতিক দিক থেকে পারবো কি না, এসব আলোচনা করে যেটা বাস্তব, সেটা হয়তো আমরা নেবো। অন্যগুলো হয়তো বাদ রাখতে হবে। আপনি হয়তো খুব ভালো পরামর্শ দিয়েছেন, সেটা হয়তো এই মুহূর্তে (বাস্তবায়ন) সম্ভব নয়। যেগুলো সম্ভব সেগুলো হয়তো আমরা নেবো। পরে আবার সংলাপ হবে। এই রোডম্যাপ করার পরে আপনাদের সঙ্গে আবার আসবে বিশেষ আলোচনা। সেই রাউন্ড কিন্তু আমাদের সামনে রয়েছে। সেই রাউন্ডে আসবে যে আপনারা এইটা করতে বলেছিলেন, আমরা তো করতে চাচ্ছি। কিন্তু এগুলোতে এই চ্যালেঞ্জ আছে, এখন বলেন আমরা কী করবো। কীভাবে এই চ্যালেঞ্চ মোকাবিলা করবো।

এক প্রশ্নের জবাব তিনি বলেন, বিএনপিকে আবার অবশ্যই ডাকবো। আমাদের কাছে সবার গুরুত্ব সমান। কেউ ছোট না, কেউ বড় না। যখনই প্রয়োজন হবে ডাকবো। শুধু তাই নয়, যখন কোনো দল আমাদের সঙ্গে আলোচনা করতে চাইবে আমরা বসবো।

নির্বাচনে গণমাধ্যমের ভূমিকার বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার মো. আলমগীর বলেন, আমাদের মিডিয়ার (গণমাধ্যমের) সাপোর্টও লাগবে। আপনারা হয়তো সব চাওয়া পূরণ করতে পারবেন না। আমরা যদি ৪০ হাজার ভোটকেন্দ্রে কভারেজ চাই, আপনারা হয়তো দিতে পারবেন না। তো এইসব নিয়েই বিশেষ সংলাপে আলোচনা হবে। খসড়াটা নিয়ে শেয়ার করবো যে দেখেন, কোনো সাজেশন আছে কি না। যুক্তিভিত্তিক যদি বলতে পারেন এটা বাদ দিতে হবে। আমরা বাদ দেবো।


আরও খবর



রাত ৮টার পর দোকান খোলা, বোয়ালখালীতে ১২ দোকানিকে জরিমানা

প্রকাশিত:Wednesday ১০ August ২০২২ | হালনাগাদ:Thursday ১৮ August ২০২২ | ২৫জন দেখেছেন
Image

চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে রাত ৮টার পর দোকান খোলা রাখায় ১২ দোকানদারকে জরিমানা করেছে উপজেলা প্রশাসন।

মঙ্গলবার (৯ আগস্ট) রাতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে এ অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোহাম্মদ মামুন। অভিযানে মোট ২৩ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়।

ইউএনও মোহাম্মদ মামুন বলেন, বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী রাত ৮টার মধ্যে সব মার্কেট ও দোকানপাট বন্ধ নিশ্চিত করতে এ অভিযান চালানো হয়েছে। অভিযানে উপজেলা সদরে একটি, গোমদণ্ডী ফুলতলায় দুটি, শাকপুরা চৌমুহনীতে তিনটি, পেতন শাহ্ আউলিয়ার মাজার এলাকায় পাঁচটি ও পূর্ব কালুরঘাট এলাকার একটি দোকান সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে খোলা রাখায় জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে সবাইকে বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী ও সরকারি নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়।


আরও খবর



কাপ্তাই হ্রদে মাছ ধরা বন্ধ থাকবে আরও ১৫ দিন

প্রকাশিত:Thursday ২৮ July ২০২২ | হালনাগাদ:Friday ১৯ August ২০২২ | ১৬জন দেখেছেন
Image

কাপ্তাই হ্রদে আরও ১৫ দিন মাছ ধরা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৮ জুলাই) জেলা প্রশাসক সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এর আগে গত বছর পানি স্বল্পতায় ১০দিন করে তিন দফায় এক মাস নিষেধাজ্ঞা বৃদ্ধি করা হয়েছিল।

জেলা প্রশাসক মো. মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে সভায় বিএফডিসির ব্যবস্থাপক কমান্ডার তৌহিদুল ইসলাম, জেলা মৎস্য কর্মকতা শ্রীবাস চন্দ, মৎস্য ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি হারুনুর রশীদ, সাধারণ সম্পাদক উদয়ন বড়ুয়া, বনরূপা ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আবু ছৈয়দ, ও ওয়ার্ড কাউন্সিলর জামাল উদ্দিন।

রাঙ্গামাটির কাপ্তাই হ্রদে কার্পজাতীয় মাছের বংশবিস্তার ও প্রাকৃতিক প্রজনন নিশ্চিতকরণে প্রতি বছরের ১ মে থেকে ৩১ জুলাই পর্যন্ত তিন মাস সব ধরনের মাছ শিকার, বাজারজাতকরণ ও পরিবহনের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে জেলা প্রশাসন। হ্রদে পর্যাপ্ত পানি না বাড়ায় আরও ১৫ দিন হ্রদে মাছ আহরণ বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এসময় জেলা প্রশাসক মো. মিজানুর রহমান বলেন, মাছ আহরণের জন্য হ্রদে যে পরিমাণ পানি প্রয়োজন সেটা না থাকায় সকলে আলোচনার ভিত্তিতে আরও ১৫ দিন সময় বৃদ্ধি করা হয়েছে। আগামী ১০ আগস্ট ফের সভার মাধ্যমে পরবর্তী নির্দেশনা দেওয়া হবে।


আরও খবর



‘চারদিকে’র নতুন লোগো উন্মোচন

প্রকাশিত:Saturday ৩০ July ২০২২ | হালনাগাদ:Friday ১৯ August ২০২২ | ৫১জন দেখেছেন
Image

বিউটি ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান চারদিকে গ্রাহকদের বিপুল প্রত্যাশাকে সামনে রেখে নতুন লোগো উন্মোচন করেছে। শনিবার (৩০ জুলাই) প্রতিষ্ঠানটির প্রধান কার্যালয়ে এ লোগো উন্মোচন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন- ঢাকা চেম্বার অব কমার্সের সাবেক সভাপতি ও শাশা ডেনিমের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শামস মাহমুদ। তিনি চারদিকের কাছে ভবিষ্যতে গার্মেন্টেসের মতো প্রসাধনী পণ্যও যেন রপ্তানির সুযোগ হয় সে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন ইন বাংলাদেশের (ইক্যাব) পরিচালক আসিফ আহনাফ, দ্য কোরিয়ান মলের প্রধান নির্বাহী ইশতিয়াক আহমেদ, এলিগেন্সের ফাউন্ডার মইনুদ্দিন এম সুমন, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের এভিপি মইনউদ্দিন আহমেদ, বিবি কুইন প্রধান নির্বাহী নুসরাত লিজা, ইমার্টওয়ের ফাউন্ডার এহতেশাম অমি, বিউটি এশিয়ার প্রধান নির্বাহী শফিকুল ইসলাম সজিব, প্রমুখ।

চারদিকের সিইও সরওয়ার কামাল বলেন, তিনবছর ধরে চারদিকে সফলভাবে গ্রাহকদের অনলাইন সেবা দিয়ে আসছে। প্রতি মাসে হাজার হাজার গ্রাহক চারদিকের কাছে স্কিনকেয়ারের জন্য আসেন ও পণ্য কেনেন।

`চারদিকে’র নতুন লোগো উন্মোচন

বিউটি ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান চারদিকে’র নতুন লোগো উন্মোচন

‘আমাদের পরিধি আরও বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি। বাজারের ভেজাল কসমেটিকসের কারণে গ্রাহকদের মধ্যে অবিশ্বাস কাজ করে। আমরা শতভাগ আসল পণ্য সরবরাহের মাধ্যমে এ আস্থা ফিরিয়ে আনতে পেরেছি।’

তিনি আরও বলেন, চারদিকে শিগগির কয়েকটি গ্লোবাল ব্র্যান্ড দেশে নিয়ে আসার জন্য কাজ করছে। স্কিনকেয়ার পণ্যের ক্ষেত্রে গুণগতমান একটি বড় বিষয়, যা আমরা শতভাগ রক্ষা করছি।

চারদিকে লিমিটেড বর্তমানে প্রায় ৭০টির বেশি ব্র্যান্ড ও ১ হাজারের বেশি পণ্য বিক্রি করছে। এছাড়া, ২০২০ সাল থেকে দক্ষিণ কোরিয়ার বিখ্যাত কসমেটিকস কোম্পানি স্কিনফুডের (Skinfood) একমাত্র পরিবেশক হিসেবে প্রসাধনী সামগ্রী বাংলাদেশে বাজারজাত করছে।

দক্ষিণ কোরিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, চীন, জাপান, দুবাইসহ ১৯টা দেশে স্কিনফুডের শত শত স্টোর রয়েছে। বাংলাদেশে দারাজ, সাজগোজ, কার্নেশিয়াসহ বিভিন্ন ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ও কসমেটিকস শপে স্কিনফুডের পণ্য পাওয়া যাচ্ছে।


আরও খবর



বৃষ্টির পানিতে রাস্তায় সাঁতরাচ্ছে কুমির!

প্রকাশিত:Monday ১৫ August ২০২২ | হালনাগাদ:Friday ১৯ August ২০২২ | ৩১জন দেখেছেন
Image

কলোনির রাস্তায় সাঁতরে বেড়াচ্ছে একটি বড় কুমির। সেই দৃশ্য দেখে হুলুস্থুলু কাণ্ড মধ্যপ্রদেশের শিবপুরীতে। শেষ পর্যন্ত সেখানের বন দপ্তরের কয়েক ঘণ্টার চেষ্টায় আট ফুটের বিশাল কুমিরটি ধরা পড়ে। পরে এটিকে ছাড়া হয় সংখ্যা সাগর লেকে।

জানা গেছে, মধ্যপ্রদেশে প্রবল বৃষ্টি হচ্ছে। শিবপুরী জেলায় সেই যে শনিবার অঝোরে বৃষ্টি শুরু হয়েছে, তা আর থামার নাম নেই। রোববার (১৪ আগস্ট) শিবপুরীর ঘুম ভাঙে একটি আজব দৃশ্যে। বৃষ্টিতে নদী, নালা সব ছাপিয়ে উঠেছে। রাস্তাঘাট ডুবিয়ে পানি বইছে চারদিকে।

এরই মধ্যে দেখা গেলো, একটি কলোনির রাস্তায় সাঁতরে বেড়াচ্ছে একটি অতিকায় কুমির। তা দেখেই হুলুস্থুলু কাণ্ড। এত বড় কুমির পাড়ার রাস্তায় সাঁতরে বেড়াচ্ছে, তা দেখে বেজায় ভয় পান বাসিন্দারা। খবর দেওয়া হয় স্থানীয় বন দপ্তরে। বন কর্মকর্তারা এসে রীতিমতো কষ্ট করে কয়েক ঘণ্টার চেষ্টায় কুমিরটিকে জালবন্দি করেন। তারপর এটিকে নিয়ে গিয়ে ছাড়া হয় সংখ্যা সাগর লেকে।

বন দপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়, মাধব জাতীয় উদ্যান থেকেই কুমিরটি লোকালয়ে ঢুকে পড়ে। গত কয়েক দিন যে পরিমাণ বৃষ্টি হয়েছে, তাতে জঙ্গলের সব নালাই টইটম্বুর। প্রশাসনের দাবি, নালা, পুকুর ভরে ওঠায় কুমিরটি সম্ভবত সাঁতরে কলোনিতে ঢুকে পড়েছিল।

সূত্র: এনডিটিভি


আরও খবর