Logo
আজঃ Tuesday ২৮ June ২০২২
শিরোনাম
নাসিরনগরে বন্যার্তদের মাঝে ইসলামী ফ্রন্টের ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ রাজধানীর মাতুয়াইলে পদ্মাসেতু উদ্ধোধন উপলক্ষে দোয়া মাহফিল রূপগঞ্জে ভূমি অফিসে চোর রূপগঞ্জে গৃহবধূর বাড়িতে হামলা ভাংচুর লুটপাট ॥ শ্লীলতাহানী নাসিরনগরে পুকুরের মালিকানা নিয়ে দু পক্ষের সংঘর্ষে মহিলাসহ আহত ৪ পদ্মা সেতু উদ্ভোধন উপলক্ষে শশী আক্তার শাহীনার নেতৃত্বে আনন্দ মিছিল করোনা শনাক্ত বেড়েছে, মৃত্যু ২ জনের র‍্যাব-১১ অভিমান চালিয়ে ৯৬ কেজি গাঁজা,১৩৪৬০ পিস ইয়াবাসহ ৬ মাদক বিক্রেতাকে গ্রেফতার করেছে বন্যাকবলিত ভাটি অঞ্চল পরিদর্শন করেন এমপি সংগ্রাম পদ্মা সেতু উদ্বোধনে রূপগঞ্জে আনন্দ উৎসব সভা ॥ শোভাযাত্রা

বন্যার কারণে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএড পরীক্ষা স্থগিত

প্রকাশিত:Saturday ১৮ June ২০২২ | হালনাগাদ:Tuesday ২৮ June ২০২২ | ৫৯জন দেখেছেন
Image

দেশের কয়েকটি জেলায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে চলমান ২০২০ সালের বিএড (অনার্স) প্রথম বর্ষ দ্বিতীয় সেমিস্টার ও দ্বিতীয় বর্ষ চতুর্থ সেমিস্টারের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।

শনিবার (১৯ জুন) জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বন্যা পরিস্থিতি অবনতির কারণে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে চলমান শুধু ২০২০ সালের বিএড (অনার্স) ১ম বর্ষ দ্বিতীয় সেমিস্টার এবং দ্বিতীয় বর্ষ চতুর্থ সেমিস্টারের পরীক্ষা পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত করা হলো।

স্থগিত এই দুটি পরীক্ষার সংশোধিত সময়সূচি পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে জানানো হবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

এর আগে, গতকাল (শুক্রবার) আসন্ন এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়। সিলেট ও সুনামগঞ্জসহ দেশের কয়েকটি জেলায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় এ সিদ্ধান্ত নেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

বন্যা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে এসএসসি-সমমান পরীক্ষা শুরু করা হবে বলে জানায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। তবে আপাতত সব পরীক্ষা স্থগিত থাকবে।


আরও খবর



করণ জোহরের পার্টিতে করোনায় আক্রান্ত অর্ধশতাধিক তারকা?

প্রকাশিত:Sunday ০৫ June ২০২২ | হালনাগাদ:Sunday ২৬ June ২০২২ | ৬৬জন দেখেছেন
Image

বলিউড প্রযোজক ও পরিচালক করণ জোহর। ২৫ মে পালন করা হয় তার ৫০তম জন্মদিন। জমকালো আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন বলিউডের অনেক তারকারা। অনুষ্ঠানটি আন্ধেরির যশ রাজ স্টুডিওতে আয়োজিত হয়েছিল।

পার্টিতে অনন্যা পান্ডে এবং জাহ্নবী কাপুরের মতো তরুণ প্রজন্ম থেকে শুরু করে ভিকি কৌশল এবং মালাইকা অরোরা টাবু, টুইঙ্কেল খান্না, সোনালি বেন্দ্রে, মাধুরী দীক্ষিত, রাভিনা ট্যান্ডন, জুহি চাওলা, কারিনা কাপুর খান, সালমান খান, শাহরুখ খান, আমির খান এবং সাইফ আলী খানরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠান বেশ মজা আর উৎসবে শেষ হয়েছে আগেই। এরইমধ্যে খবর পাওয়া গেল অপ্রীতিকর ঘটনার। বলিউডভিত্তিক বলিউড হাঙ্গামা খবরে জানাচ্ছে, ওইদিন করণের পার্টিতে যারা ছিলেন তাদের অনেকেই করোনায় আক্তান্ত হয়েছেন!

ভারতীয় কিছু গণমাধ্যম থেকে আরও জানা যায়, করণের জমকালো পার্টিতে অন্তত ৫০ থেকে ৫৫ জন অতিথি করোনা পজিটিভ হয়েছেন। যারা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন তাদের তালিকা অজানা থাকলেও জানা গেছে যে এতে বলিউডের বেশ কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় তারকা রয়েছেন।

আরও জানা যায়, করণের বেশ কয়েকজন ঘনিষ্ঠ বন্ধু পার্টির পরে কোভিড পজিটিভ হয়েছেন। যদিও তারা প্রকাশ করেননি যে তাদের করোনা পজিটিভ।

এদিকে কার্তিক আরিয়ান পার্টিতে ছিলেন না। তিনিও কোভিড পজিটিভ। তিনি একজন নায়িকার সংস্পর্শে গিয়ে এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন বলে জানা গেছে।


আরও খবর



মধ্যরাতে সিসিইউতে খালেদা

প্রকাশিত:Saturday ১১ June ২০২২ | হালনাগাদ:Monday ২৭ June ২০২২ | ৪৯জন দেখেছেন
Image

শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে মধ্যরাতে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালের করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) ভর্তি করা হয়েছে।

শুক্রবার (১০ জুন) দিনগত রাত ৩টা ২০ মিনিটে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরবর্তী চিকিৎসা বিষয়ে শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় মেডিকেল বোর্ড সিদ্ধান্ত নেবে, রাতেই সাংবাদিকদের ব্রিফ করে এমনটি জানিয়েছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

এর আগে রাত ২টা ৫৫ মিনিটের দিকে হাসপাতালের উদ্দেশ্যে গুলশানের বাসা ফিরোজা ত্যাগ করেন খালেদা। এসময় তার সঙ্গে ছিলেন মির্জা ফখরুল এবং দলটির প্রেস উইং সদস্য শায়রুল কবির খান।

হাসপাতালে ভর্তির পর রাতে বিএনপির আরেক প্রেস উইং সদস্য শামসুদ্দিন দিদার জাগো নিউজকে জানিয়েছেন, দলের চেয়ারপারসন হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে মধ্যরাতে দ্রুত তাকে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। তাকে অধ্যাপক ডা. শাহাবুদ্দিন তালুকদারের তত্ত্বাবধায়নে রাত ৩টা ২০ মিনিটে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

রাতে খালেদা জিয়ার সঙ্গে হাসপাতালে আসেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ভাইস-চেয়ারম্যান ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, সমাজকল্যাণ সম্পাদক কামরুজ্জামান রতন, চেয়ারপারসনের একান্ত সহকারী এ বি এম আব্দুস সাত্তার, চেয়ারপারসনের বিশেষ সহকারী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, প্রেস উইং সদস্য শায়রুল কবির খান, খালেদার ভাইপো অভিক ইস্কান্দার এবং গৃহপরিচারিকা ফাতেমা বেগম।

‘বিদেশে যাওয়া যাবে না এবং বাড়িতে বসে চিকিৎসা নিতে হবে’- এ দুই শর্তে অন্তর্বর্তীকালীন মুক্তিতে রয়েছেন খালেদা জিয়া।

২০২০ সালের ২৫ মার্চ ‘দ্য কোড অব ক্রিমিনাল প্রসিডিউর’-এর ধারা-৪০১ (১)-এর ক্ষমতাবলে সরকারের নির্বাহী আদেশে প্রথমবারের মতো শর্তসাপেক্ষে ছয় মাসের অন্তর্বর্তীকালীন মুক্তি পান খালেদা জিয়া। ওই বছরের সেপ্টেম্বরে তার মুক্তির মেয়াদ আরও ছয় মাস বাড়ানো হয়। এরপর দফায় দফায় বাড়ে তার মুক্তির মেয়াদ। সবশেষ গত মার্চ মাসে শর্ত অপরিবর্তিত রেখে আরও এক দফা তার দণ্ড স্থগিত করে মুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর আবেদনে সায় দেয় সরকার।

৭৬ বছর বয়সী খালেদা জিয়া গত দুই বছরের বেশি সময় ধরে গুলশানে তার বাসা ‘ফিরোজায়’ রয়েছেন। তিনি আর্থারাইটিস, ডায়াবেটিস, চোখের সমস্যাসহ বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছেন।

রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে টানা ৮১ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর গত ১ ফেব্রুয়ারি গুলশানে নিজের বাসভবন ফিরোজায় ফিরেন খালেদা জিয়া।

এর আগে গত বছরের এপ্রিলে সাবেক এ প্রধানমন্ত্রীর করোনাভাইরাস পজিটিভ শনাক্ত হলে সে দফায় একই হাসপাতালে ৫৪ দিন চিকিৎসা নিয়েছিলেন তিনি। ওই বছরের ১৩ নভেম্বর আবারও এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি হলে পরীক্ষা-নিরীক্ষায় তার লিভার সিরোসিস ধরা পড়ে।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেন বকশীবাজার আলিয়া মাদরাসা মাঠে স্থাপিত ঢাকার ৫ নম্বর বিশেষ আদালত। রায় ঘোষণার পর খালেদাকে পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডে অবস্থিত পুরোনো কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি রাখা হয়।

ওই বছরের ৩০ অক্টোবর বিচারিক আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে করা আপিলে আরও পাঁচ বছরের সাজা বাড়িয়ে ১০ বছর করেন হাইকোর্ট। একই বছরের ২৯ অক্টোবর জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদার সাত বছরের সাজা হয়।


আরও খবর



‘শাকিলের আর বিয়ে করা হলো না’

প্রকাশিত:Tuesday ০৭ June ২০২২ | হালনাগাদ:Tuesday ২৮ June ২০২২ | ৬২জন দেখেছেন
Image

‘শাকিল বলেছিল ঈদে বাড়ি যেয়ে বিয়ের জন্য মেয়ে দেখবে। মেয়ে দেখে বিয়ে করবে। কিন্তু তা আর হলো না।’

কান্নাজড়িত কণ্ঠে কথাগুলো বলছিলেন চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে বিএম কনটেইনার ডিপোতে বিস্ফোরণে নিহত ফায়ার ফাইটার মো. শাকিল তরফদারের বড় ভাই মনিরুজ্জামান তরফদার। শাকিল তরফদার কুমিরা ফায়ার স্টেশনে কর্মরত ছিলেন।

মঙ্গলবার (৭ জুন) বেলা সাড়ে ১১টায় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরে শাকিলের জানাজা হয়। জানাজা শেষে তার মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় গ্রামের বাড়ি খুলনায়।

jagonews24

পরিবারের পক্ষ থেকে শাকিলের বড় ভাই মনিরুজ্জামান ও তার চাচা আবুল কালাম মরদেহ নিতে আসেন।

এসময় মনিরুজ্জামান জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমরা তিন ভাই। পরিবারের সবার ছোট ছিল শাকিল। তার মৃত্যু সংবাদ শুনে বাবা-মা পাগলের মতো প্রলাপ করছে। কীভাবে এই শোক কাটিয়ে ওঠবে তা জানি না। ওতো সবার ছোট, সবাই ওকে আদর করতো।’

শাকিলের মৃত্যুতে এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। তাকে গ্রামের সবাই ভালোবাসতেন। ১২ বছর বয়স থেকেই নিয়মিত নামাজ পড়তেন তিনি।

jagonews24

শাকিলের স্মৃতিচারণ করে তার বড় ভাই বলেন, ‘সে আমাদের অনেক আদরের ছিল। গ্রামের ছোট থেকে বড় সবাই তাকে ভালোবাসতো। সব সময় বলতো কোনো চিন্তা করার দরকার নাই আমি আছি। এখন সেই চলে গেলো আগে। ভালো মানুষকে আল্লাহ দ্রুত নিয়ে যান। এজন্যই হয়তো মাত্র ২২ বছর বয়সে আমরা আমাদের ভাইকে হারালাম।

পরিবারের আর্থিক অবস্থা তুলে ধরে মনিরুজ্জামান বলেন, ‘শাকিল আমাদের পরিবারে একমাত্র সরকারি চাকরি করতো। সে তো এখন নাই। আমার মেজ ভাই ফায়ার সার্ভিসে অস্থায়ীভাবে কাজ করছে। সরকারের কাছে আমাদের দাবি, মেজ ভাইকে স্থায়ীকরণ করার। স্থায়ীকরণ করলে আমাদের পরিবারের কিছুটা উপকার হবে।’

jagonews24

শনিবার (৪ জুন) বিএম ডিপোর বিস্ফোরণে এখন পর্যন্ত ৪৩ জনের নিহতের খবর দিয়েছে সরকার। এর এর মধ্যে নয়জন ফায়ার সার্ভিসকর্মী রয়েছেন। এছাড়া এখনো ফায়ার সার্ভিসের আরও তিন কর্মী নিখোঁজ আছেন। ১৫ জন আহত হয়ে ঢাকার সিএমএইচসহ বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।


আরও খবর



‘রশিদ খান হয়ে’ জাতীয় দলে খেলার স্বপ্ন খুদে শিহাবের

প্রকাশিত:Monday ১৩ June ২০২২ | হালনাগাদ:Tuesday ২৮ June ২০২২ | ৪৫জন দেখেছেন
Image

প্রথম ওভারের প্রথম বলেই আঘাত হানলেন সামিউল ইসলাম শুভ। ওভারের শেষ বলে আবারও উইকেট নেন তিনি। দুইবারই বাকি সবার চেয়ে বেশি উচ্ছ্বাস দেখা গেলো অধিনায়ক শাইখ ইমতিয়াজ সাকিবের মধ্যে। যেন তিনিই নিয়েছেন উইকেট দুইটি।

সে দুই উইকেট নেননি শিহাব। তবে ১২তম ওভারে আক্রমণে এসে নিজেই নিয়েছেন একের পর এক উইকেট। ছয় ওভারের স্পেলে মাত্র ১৪ রান খরচায় ৫ উইকেট নিয়ে দলকে এনে দিয়েছেন দারুণ এক জয়। অধিনায়ক বল হাতে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়ায় ৫৯ রানে জিতেছে তার দল।

সোমবার নারায়ণগঞ্জের শামসুজ্জোহা স্পোর্টস কমপ্লেক্সের ক্রিকেট মাঠে স্কুল ক্রিকেটের ফাইনালে রংপুর শিশু নিকেতন মাত্র ১০২ রানে অলআউট হয়ে যায়। তবে বোলিংয়ে নেমে মেহেরপুরকে মাত্র ৪৩ রানে গুটিয়ে দিয়ে সহজেই শিরোপা নিজেদের করে নিয়েছে রংপুর।

ফাইনালে চ্যাম্পিয়ন অধিনায়ক শিহাবের হাতেই উঠেছে ম্যাচসেরার পুরস্কার। শুধু তাই নয়, আসরে চারবার ম্যাচে পাঁচ উইকেটসহ মোট ৩৩ উইকেট নিয়ে তিনিই পেয়েছেন সর্বোচ্চ উইকেট শিকারির পুরস্কার। এই ৩৩ উইকেটের সঙ্গে ২০০’র কাছাকাছি রান করে টুর্নামেন্টসেরাও নির্বাচিত হয়েছেন শিহাব।

লম্বা আগ্রাসী রানআপে পপিং ক্রিজে হালকা লাফিয়ে করা প্রতিটি ডেলিভারিতেই উইকেট নেওয়ার লক্ষ্য থাকে এরই মধ্যে বয়সভিত্তিক পর্যায়ে অনূর্ধ্ব-১৬ পর্যায়ে খেলা শিহাবের।

ম্যাচ শেষে কথা হয়েছে রংপুর অধিনায়ক শিহাবের সঙ্গে। তিনি জানালেন, ক্রিকেটে হাতেখড়ির সময় থেকেই লেগস্পিনার হওয়ার ইচ্ছের কথা। লেগস্পিন করার ক্ষেত্রে আফগানিস্তানের তারকা রশিদ খানকে অনুসরণ করেন শিহাব।

এই বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ছোটবেলা থেকেই আমার ইচ্ছা আমি একজন বড় মানের লেগস্পিনার হবো। লেগস্পিনের ক্ষেত্রে রশিদ খানকে অনুসরণ করি আমি।’

এরই মধ্যে লেগস্পিনের চারটি বড় বিষয় রপ্ত করে ফেলেছেন ১৬ বছরের শিহাব। জানালেন, ‘এখন পর্যন্ত লেগস্পিনের চারটি বিষয় আমি আয়ত্ব করতে পেরেছি- লেগস্পিন, গুগলি, টপ স্পিন ও স্লাইডার। এগুলো নিয়েই কাজ করছি।’

আপাতত স্কুল পর্যায়ে খেললেও ছোট্ট শিহাবের লক্ষ্য অনেক বড়। বাংলাদেশ জাতীয় দলের আজন্ম আক্ষেপ লেগস্পিনার নিয়ে। সেটি পূরণের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়েই নিজেকে তৈরি করার পথে এগোচ্ছেন শিহাব।

এই ক্ষুদে ক্রিকেটার বলেছেন, ‘আমার লক্ষ্য ও চেষ্টা অবশ্যই জাতীয় দলে খেলার। বাংলাদেশ দলে যেহেতু এখন লেগস্পিনার নেই, আমি নিজেকে সেভাবেই তৈরি করতে চাচ্ছি। আমি ওই গতিতেই এগোতে চাই, যেটা আমার এখন আছে। আমি আরও ভালো করতে চাই।’

জাতীয় স্কুল ক্রিকেটে নিজের অর্জন নিয়ে সন্তুষ্ট শিহাব। তিনি বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, ভালো লাগছে। শুরু থেকেই লক্ষ্য ছিল সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি হবো। আমার মিশন ছিল প্রতিটি ম্যাচে পাঁচ উইকেট নিবো, প্রতি ম্যাচে ম্যাচসেরা হবো, প্রতিটি ম্যাচে নিজের সেরাটা দিবো। আলহামদুলিল্লাহ আমি পেরেছি।’

স্কোরবোর্ডে রান মাত্র ১০২, ম্যাচের পাল্লা তখন প্রতিপক্ষের দিকেই। তবু রংপুর শিশু নিকেতন উচ্চ বিদ্যালয়ের ক্ষুদে ক্রিকেটারদের মধ্যে নেই চিন্তার ছাপ। নিজেদের ইনিংস শেষ হওয়ার পর এই অল্প রানেই ম্যাচ জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী ছিলেন শিহাব, শুভ, সাকিবরা।

প্রথম ইনিংসের পর দলের মধ্যে কী কথা হচ্ছিল? জানতে চাওয়া হলে শিহাব বলেন, ‘আসলে যত কম রান হবে, ম্যাচটা তত মজা হবে। আমরা এর আগে চারটা ম্যাচ এভাবেই জিতেছি, ১০০ রান করেও জিতেছি। আমাদের বোলারদের লক্ষ্য ছিল শেষ পর্যন্ত লড়াই করে যাবো। দলকে বলেছিলাম, রান কম হয়েছে হোক। আমাদের এফোর্ট যেন রানের চেয়েও বেশি থাকে।’

তিনি যোগ করেন, ‘এই টুর্নামেন্টটা খুব ভালো উপভোগ করেছি আমরা। আমাদের অনেক খেলোয়াড় নিজেদের দক্ষতা দেখাতে পেরেছে। আমাদের মূল লক্ষ্য ছিল একটা ভালো জায়গায় যাওয়া। যখন থেকে টুর্নামেন্ট শুরু হয়েছে, তখন থেকেই সবার মধ্যে প্রতিযোগিতাপূর্ণ মনোভাবটা ছিল।’

দলকে নেতৃত্ব দিয়ে চ্যাম্পিয়ন করার তৃপ্তি প্রকাশ করে শিহাব বলেছেন, ‘পুরো যাত্রাটা অনেক ভালো ছিল। খেলাটা আমরা খুব ভালোভাবে শেষ করেছি। আমাদের লক্ষ্য ছিল ফাইনাল ম্যাচ জেতা। আমরা জিতে দেখিয়েছি। দলকে নেতৃত্ব দিয়ে আমি খুব খুশি। আমি যেটা বলেছি, আমাদের যেটা পরিকল্পনা ছিল, পুরো দল মিলেই সেটা করেছে।’


আরও খবর



অতিরিক্ত মজুত নেই, তবুও খুলনায় কমছে না চালের দাম

প্রকাশিত:Sunday ০৫ June ২০২২ | হালনাগাদ:Monday ২৭ June ২০২২ | ৬৬জন দেখেছেন
Image

খুলনার চালের বাজারের অস্থিরতা কোনোভাবেই কাটছে না। সরবরাহ থাকার পরও যেন কোনো কিছু ঠিক নেই। এছাড়া গোডাউন কিংবা মিলে অতিরিক্ত চালের মজুত নেই বলে জানিয়েছে জেলা খাদ্য অধিদপ্তর। সবঠিক থাকার পরও দাম কেন বাড়ছে এমন প্রশ্নের উত্তরে ছোট ব্যবসায়ীরা দেখিয়ে দিচ্ছেন বড় ব্যবসায়ীদের আর বড় ব্যবসায়ীরা পাইকার ও মিলারদের দায়ী করছেন। অন্যদিকে পাইকার ও মিলাররা দায়ী করছেন বড় বড় কোম্পানিগুলোকে।

ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, বেশ কয়েকটি করপোরেট প্রতিষ্ঠান প্যাকেটজাত চাল বিক্রি শুরুর পর থেকেই বাজারে চালের দাম ঊর্ধ্বমুখী থাকছে সব সময়।

এদিকে চালের মূল্যবৃদ্ধিতে প্রায়দিন ক্রেতাশূন্য থাকছে খুলনার বড় বাজার। রিকশাচালক আব্দুর রউফ বলেন, ‘গরীবের চাল বলে পরিচিত স্বর্ণা। সেটিও প্রতি কেজিতে ৩ টাকা করে বেড়েছে। বাড়েনি আয়। পরিবারের চার সদস্যকে নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েছি। কারণ প্রতিমাসে আমার ৪০ কেজি চালের প্রয়োজন হয়। এ চাল কিনতে এখন আরও বেশকিছু টাকা বাড়তি আয় করতে হবে।’

খুচরা চাল বিক্রেতা শাহাদাত মৃধা বলেন, গত এক সপ্তাহ ধরে চালের বাজারে উত্তাপ ছাড়াচ্ছে। এবার দেশে বোরোর আবাদ বেশ ভালোই হয়েছে। ধানের কোনো সংকট নেই। চালের দাম বাড়ল কেন? বাজারের বড় বড় ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে চালের দাম বাড়াচ্ছে। তাদের গোডাউনে অভিযান করলে প্রকৃত রহস্য বের হয়ে আসবে। চালের দাম বেশি হওয়ায় বাজারে ক্রেতার সংখ্যা কম।

খুলনা মহানগরীর সবচেয়ে বড় চালের মোকাম হিসেবে পরিচিত খুলনার বড় বাজারের চাল পট্টি ঘুরে জানা গেছে, প্রতি কেজি নতুন সরু মিনিকেট চাল ৬৮ টাকায় বিক্রি করছেন খচরা ব্যবসায়ীরা। অনুরূপভাবে মাঝারি নতুন মিনিকেট ৬৫ টাকা, বাঁশমতি ৮০ টাকা, নাজিরশাইল ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অথচ একসপ্তাহ আগেও একই চাল ব্যবসায়ীরা ৫-৯ টাকা কমে বিক্রি করেছেন ব্যবসায়ীরা। যদিও দাম বাড়ার খুচরা ব্যবসায়ী ও পাইকাররা একে অপরের ওপরকে দুষছেন।

তবে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বড় মিলমালিকরা অতিমাত্রায় ধানের মজুত করায় দফায় দফায় চালের দাম বেড়ে চলেছে।

বাজারের পাইকারি চাল বিক্রেতা বাসুদেব কুন্ডু দাম বাড়ার জন্য সরাসরি মিল মালিকদের দায়ী করেছেন। তিনি বলেন, ‘মিলাররা বিভিন্ন হাটে হাটে গিয়ে নতুন ধান কিনে মজুত রাখছে। চালের দাম বৃদ্ধির সংবাদ জেনে সেগুলো তারা বাজারজাত করবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘গত একসপ্তাহ আগেও বাজারে চালের সরবরাহ খুবই কম ছিল। মজুতদারদের বিরুদ্ধে অভিযানের খবরের পর চালের সরবরাহ একটু বেড়েছে।’

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একই বাজারের আরেক ব্যবসায়ী বলেন, অতিরিক্ত মজুতনীতির কারণে বেড়ে চলেছে চালের দাম। হাটের দর থেকে অতিরিক্ত দামে ধান কিনে মিলে নিয়ে যাচ্ছে। ধানের সংকট দেখিয়ে চালের দাম বাড়িয়ে বিক্রি করছে।

তিনি আরও বলেন, এলসির চাল বাজারে নেই। এ সুযোগে ওইসব প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়ীরা ইচ্ছা মতো দাম বাড়িয়ে বিক্রি করছে। এই করপোরেট সিন্ডিকেট ভাঙতে হবে।

বাজারের দিনাজপুর ভান্ডারের মালিক মো. ফারুখ আহমেদ বলেন, সরকার মিল মালিকদের কোটি কোটি টাকা লোন দিচ্ছে। এ টাকা দিয়ে তারা হাজার হাজার মণ ধান কিনে মজুত করছে। চালের সংকট পড়লে তখন তারা চাল বাজারজাত করবে। সিলেটের বন্যার কথা বলে তারা চালের দাম এক দফা বৃদ্ধি করছে। সিলেটের চাল খুলনায় আসে না। সেখানে বন্যা হলে এখানকার বাজারে উত্তাপ বাড়বে কেন? চালের দাম কমানোর জন্য দেশের নামীদামী মিলগুলোতে নিয়মিত অভিযানের অনুরোধ জানাচ্ছি।

এ বিষয়ে খুলনা ধান-চাল বণিক সমিতির সভাপতি মনির আহমেদ জাগো নিউজকে বলেন, গত তিন যুগ ধরে চালের দাম এমন ঊর্ধ্বমুখী দর কখনো দেখিনি। কেন দাম বাড়লো তাও বলতে পারছি না। একসময় হাসকিং মেশিন দিয়ে ধান ছাঁটাই করে চাল বের করা হতো। আমরা মিলে গিয়ে গিয়ে চাল কিনে আনতাম। এখন ধান-চালের রাজত্ব করে অটোরাইস মিলগুলো।

kh-(2).jpg

তিনি আরও বলেন, পাইকারি বা খুচরা ব্যবসায়ীরা খুব বেশি পরিমাণ ধান-চালের মজুত করতে পারেন না। তাদের তেমন জায়গাও নেই। মজুত করতে পারেন অটোরাইস মিলগুলোর মালিকরা। তারাই এখন বাজার নিয়ন্ত্রণ করছেন।

খুলনা জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ বাবুল হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, চাল বা ধান মজুতের কোনো সুযোগ নেই। প্রধানমন্ত্রী মজুতদারদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে যেতে বলেছেন। সেই অনুযায়ী কাজও হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, জেলায় দুই শতাধিক লাইসেন্সধারী হাসকিং রাইচমিল রয়েছে। এছাড়া ১৪টি অটোরাইস মিলও আছে। সরকারি আইন অনুসারে, আমরা নিয়মিত ওই মিলগুলো পরিদর্শন করছি। আমাদের কয়েকটি দল বিভিন্ন সময় বিভিন্ন মিল পরিদর্শন করেছে। একই সঙ্গে লাইসেন্সধারী পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীদের গোডাউনও আমরা নিয়মিত পরিদর্শন করছি। মজুত আইনে যা আছে, তার বেশি ধান বা চাল খুলনার কোনো মিলে এখনো পাওয়া যায়নি।


আরও খবর