Logo
আজঃ Tuesday ২৮ June ২০২২
শিরোনাম
নাসিরনগরে বন্যার্তদের মাঝে ইসলামী ফ্রন্টের ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ রাজধানীর মাতুয়াইলে পদ্মাসেতু উদ্ধোধন উপলক্ষে দোয়া মাহফিল রূপগঞ্জে ভূমি অফিসে চোর রূপগঞ্জে গৃহবধূর বাড়িতে হামলা ভাংচুর লুটপাট ॥ শ্লীলতাহানী নাসিরনগরে পুকুরের মালিকানা নিয়ে দু পক্ষের সংঘর্ষে মহিলাসহ আহত ৪ পদ্মা সেতু উদ্ভোধন উপলক্ষে শশী আক্তার শাহীনার নেতৃত্বে আনন্দ মিছিল করোনা শনাক্ত বেড়েছে, মৃত্যু ২ জনের র‍্যাব-১১ অভিমান চালিয়ে ৯৬ কেজি গাঁজা,১৩৪৬০ পিস ইয়াবাসহ ৬ মাদক বিক্রেতাকে গ্রেফতার করেছে বন্যাকবলিত ভাটি অঞ্চল পরিদর্শন করেন এমপি সংগ্রাম পদ্মা সেতু উদ্বোধনে রূপগঞ্জে আনন্দ উৎসব সভা ॥ শোভাযাত্রা
দুর্ভিক্ষের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে প্রায় ২৫ কোটি

বিশ্বজুড়ে খাদ্য ঘাটতি দেখা যাবে-জাতিসংঘের মহাসচিব

প্রকাশিত:Sunday ২২ May 20২২ | হালনাগাদ:Tuesday ২৮ June ২০২২ | ১১৫জন দেখেছেন
Image

খবর প্রতিদিন ডেস্কঃ

জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তনিও গুতেরেস সামনের দিনগুলোতে বিশ্বজুড়ে খাদ্য ঘাটতি দেখা যাবে বলে সতর্ক করেছেন।বৈশ্বিক খাদ্য ব্যবস্থা দুর্বল হয় করোনা মহামারিতে।এর প্রধান কারণ দেশে দেশে ধারাবাহিকভাবে কঠোর বিধিনিষেধ। বিশ্ব যখন অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার কার্যক্রমে ব্যস্ত তখনই শুরু হয় রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে যুদ্ধ। যা খাদ্য সংকটকে আরও ঘনীভূত করেছে। এরই মধ্যে দেশে দেশে দেখা দিয়েছে রেকর্ড মূল্যস্ফীতি। বেড়ে গেছে জীবনযাত্রার ব্যয়।


জানা গেছে, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর পশ্চিমাদের কঠোর বিধিনিষেধের মুখে পড়েছে রাশিয়া। অন্যদিকে বন্ধ হয়ে গেছে ইউক্রেনের শস্য রপ্তানি। ইউক্রেন ও রাশিয়া বিশ্বব্যাপী খাদ্যের ১০ ভাগের এক ভাগ সরবরাহ করে। তারা বিশ্বের গম রপ্তানির ৩০ শতাংশের পাশাপাশি সূর্যমুখী তেলের ৬০ শতাংশ উৎপাদন করে। কমপক্ষে ২৬টি দেশ তাদের অর্ধেকেরও বেশি খাদ্যশস্যের জন্য রাশিয়া ও ইউক্রেনের ওপর নির্ভরশীল।


চলতি সপ্তাহের শুরুতে ২০২২ সালের পর গমের দাম বেড়েছে ৫৩ শতাংশ। আও ছয় শতাংশ বেড়ে যায় ভারতের গম রপ্তানি নিষিদ্ধের সিদ্ধান্তের পর।


গত বছরের জুলাইতে শুরু হওয়া ২০২১-২০২২ অর্থ বছরে রাশিয়া বিশ্ব চাহিদার ১৬ শতাংশ গম রপ্তানি করে। এ ক্ষেত্রে ইউক্রেনের অবদান ছিল ১০ শতাংশ। কিন্তু সংঘাত ছড়িয়ে পড়ায় দেশ দুইটি শস্য রপ্তানি নিষিদ্ধ করতে বাধ্য হয়।


ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া ইউরেশিয়ান ইকোনমিক ইউনিয়নের (ইএইইউ) বাইরে গম, রাই, যব ও ভুট্টা রপ্তানি ৩০ জুন পর্যন্ত সীমাবদ্ধ করে। এদিকে ইউক্রেন ওডেসাতে একমাত্র অবশিষ্ট বন্দর বন্ধ করে দিয়েছে।


তাছাড়া কাজাখস্তানসহ কয়েকটি প্রধান শস্য সরবরাহকারী দেশ যখন রপ্তানি বন্ধ করে দেয় তখন পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়। মূলত অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটাতেই দেশগুলো এমন সিদ্ধান্ত নেয়।


এমন পরিস্থিতিতে বিশ্বজুড়ে পর্যাপ্ত পরিমাণে খাওয়ার বিষয়ে নিশ্চিত হতে পারে না এমন মানুষের সংখ্যা বেড়েছে একশ ৬০ কোটি। দুর্ভিক্ষের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে প্রায় ২৫ কোটি। পাশাপাশি আরও কয়েক কোটি মানুষ দারিদ্র্যতার মধ্যে পড়তে পারে।


আরও খবর



নবিজী (সা.) অহংকার সম্পর্কে কী বলেছেন?

প্রকাশিত:Sunday ২৬ June ২০২২ | হালনাগাদ:Tuesday ২৮ June ২০২২ | ২৪জন দেখেছেন
Image

অহংকার করা পাপ। এ আহংকারের মাধ্যমে দুনিয়ার প্রথম পাপ বা গুনাহের সৃষ্টি হয়েছে। অহংকার করেই ইবলিস চিরদিনের জন্য অভিশপ্ত হয়েছে। এটি মানুষের আমলকে ধ্বংস করে দেয়। নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অহংকারী সম্পর্কে কঠোর সতর্কবার্তা ঘোষণা করেছেন। কী সেই ঘোষণা?

নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘যার অন্তরে তিল পরিমাণ অহংকার থাকবে; সে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না আর যার অন্তরে তিল পরিমাণ ঈমান রয়েছে সে জাহান্নামে যাবে না’ (তিরমিজি)

কুরআন-সুন্নাহর ঘোষণায়ও অহংকার মারাত্মক আচরণ ও পাপ। যা একজন বিনয়ী ও সফল ব্যক্তিকে তার সফলতার উচ্চাসন থেকে নিমিষেই নিচে ছুঁড়ে ফেলে দেয়। হজরত আদম আলাইহিস সালামকে সৃষ্টি করে আল্লাহ তাআলা সব ফেরেশতাদেরকে এ মর্মে নির্দেশ দিলেন যে, তোমরা আদমকে সেজদা কর। সব ফেরেশতা আল্লাহর নির্দেশ মেনে নিলেও শয়তান সেজদা করতে অস্বীকৃতি জানায়। কুরআনে সে ঘটনাকে অহংকার হিসেবে উল্লেখ করে। আল্লাহ বলেন-

وَ اِذۡ قُلۡنَا لِلۡمَلٰٓئِکَۃِ اسۡجُدُوۡا لِاٰدَمَ فَسَجَدُوۡۤا اِلَّاۤ اِبۡلِیۡسَ ؕ اَبٰی وَ اسۡتَکۡبَرَ وَ کَانَ مِنَ الۡکٰفِرِیۡنَ

‘যখন ফেরেশতাদেরকে বললাম, ‘আদমকে সেজদা করো।’ তখন সবাই সেজদা করলো; কিন্তু ইবলিস সেজদা করলো না; সে অমান্য করলো এবং অহংকার প্রদর্শন করলো। সুতরাং সে অবিশ্বাসীদের অন্তর্ভুক্ত হলো।’ (সুরা বাকারা : আয়াত ৩৪)

এ ঘটনাই হলো পৃথিবীর প্রথম অহংকারের সূচনা। আর এর মাধ্যমেই প্রথম পাপের সূচনা হয়। যে কারণে ‘মুয়াল্লেমুল মালায়েকা’ খ্যাত ইবলিসকে জান্নাত থেকে বিতাড়িত করা হয়েছিল। দুনিয়ার সব রোগের মা হচ্ছে অহংকার। এ কারণে আরবিতে অহংকারকে ‘উম্মুল আমরাজ’ বা সব রোগের জননী বলা হয়।

সুতরাং অহংকার থেকে সাবধান। অহংকার মানুষের সব আমলকে ধ্বংস করে চির জাহান্নামি হিসেবে সাব্যস্ত করে তোলে। অহংকার সম্পর্কে সচেতনতায়এ কথাগুলো মনে রাখতে হবে-

১. কোনো বিষয়ে নিজেকে অন্যের তুলনায় সম্মানিত বা বড় মনে করা,

২. অর্থ-সম্পদ বা বয়সে বড় হয়ে অন্যকে ছোট মনে করা,

৩. কাউকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করা বা অবজ্ঞা করা বা হেয় করা।

অহংকারীরা নেয়ামত থেকে বঞ্চিত

আল্লাহ তাআলা কোনো অহংকারী ব্যক্তিকে পছন্দ করেন না। তিনি অহংকারী ব্যক্তিকে অনেক নেয়ামত থেকে বঞ্চিত রাখবেন। আল্লাহ তাআলা বলেন-

سَاَصۡرِفُ عَنۡ اٰیٰتِیَ الَّذِیۡنَ یَتَکَبَّرُوۡنَ فِی الۡاَرۡضِ بِغَیۡرِ الۡحَقِّ ؕ وَ اِنۡ یَّرَوۡا کُلَّ اٰیَۃٍ لَّا یُؤۡمِنُوۡا بِهَا ۚ وَ اِنۡ یَّرَوۡا سَبِیۡلَ الرُّشۡدِ لَا یَتَّخِذُوۡهُ سَبِیۡلًا ۚ وَ اِنۡ یَّرَوۡا سَبِیۡلَ الۡغَیِّ یَتَّخِذُوۡهُ سَبِیۡلًا ؕ ذٰلِکَ بِاَنَّهُمۡ کَذَّبُوۡا بِاٰیٰتِنَا وَ کَانُوۡا عَنۡهَا غٰفِلِیۡنَ

জমিনে যারা অন্যায়ভাবে অহংকার করে বেড়ায় আমার নিদর্শনসমূহ থেকে আমি তাদের অবশ্যই ফিরিয়ে রাখবো। আর তারা প্রত্যেকটি নিদর্শন দেখলেও তাতে ঈমান আনবে না এবং তারা সৎপথ দেখলেও সেটাকে সৎ পথ বলে গ্রহণ করবে না, কিন্তু তারা ভুল পথ দেখলে সেটাকে পথ হিসেবে গ্রহণ করবে। এটা এ জন্য যে, তারা আমাদের নিদর্শনসমূহে মিথ্যারোপ করেছে এবং সে সম্বন্ধে তারা ছিল গাফেল।’ (সুরা আরাফ : আয়াত ১৪৬)

অহংকারী ব্যক্তি কোনোভাবেই জান্নাতে যেতে পারবে না। জান্নাতে যেতে হলে বা পরকালের চূড়ান্ত সফলতা পেতে হলে অবশ্যই তাকে অহংকারমুক্ত থাকতে হবে। কেননা হাদিসে জান্নাতের বিপরীতে যেভাবে জাহান্নামের তুলনা করা হয়েছে তেমনি ঈমানের বিপরীতে অহংকারের কথা বলে মুমিন মুসলমানকে সতর্ক করা হয়েছে। যাতে মুমিন ব্যক্তি অহংকার ত্যাগ করে ঈমানকে মজবুত করতে পারে। অহংকার থেকে বেঁচে থাকতে পারে।

অহংকার আল্লাহর চাদর। যে ব্যক্তি অহংকার (আল্লাহর চাদর) নিয়ে টানাটানি করবে, আল্লাহ তাদের পছন্দ করেন না বরং তাকে ধ্বংস করে দেন। পক্ষান্তরে যারা আল্লাহ তাআলাকে বেশি বেশি ভয় এবং সম্মান করেন, তারাই সম্মানিত ও সফল।

মনে রাখতে হবে

যুগে যুগে ইসলাম বিরোধী বড় বড় নেতা তথা ফেরাউন, নমরুদ, আবু লাহাব, উতবা, শায়বা এবং আবু জাহেলরা এ অহংকারের কারণেই সত্যকে মেনে নিতে পারেনি। ইসলাম গ্রহণ করতে পারেনি। তারা ধ্বংসের অতল গহ্বরে তলিয়ে গেছে। আবার যুগে যুগে সব নবি-রাসুলই আল্লাহ তাআলার আনুগত্য ও বিনয়ের কারণেই সফলতা পেয়েছে।

আল্লাহ তআলা মুসলিম উম্মাহকে দুনিয়া ও পরকালের পতনের মূল অহংকার থেকে মুক্ত থাকার তাওফিক দান করুন। তাকওয়া অর্জনের মাধ্যমে দুনিয়া ও পরকালে সম্মানিত ও সফল হওয়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।


আরও খবর



শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বন, ভোলায় ৩ পরীক্ষার্থীর জেল

প্রকাশিত:Friday ০৩ June ২০২২ | হালনাগাদ:Tuesday ২৮ June ২০২২ | ৫৭জন দেখেছেন
Image

ভোলায় তৃতীয় ধাপে প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বন করায় তিন পরীক্ষার্থীকে কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। সেইসঙ্গে দুজনকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

শুক্রবার (৩ জুন) ভোলা সদর উপজেলার পশ্চিম বাপ্তা আদর্শ স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে।

ওই তিন পরীক্ষার্থীকে আটক করে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে কারাদণ্ড দেন বোরহানউদ্দিন উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাইফুর ইসলাম।

সাজাপ্রাপ্তদের মধ্যে দুজন তজুমদ্দিন উপজেলা ও একজন লালমোহন উপজেলার বাসিন্দা।

ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক ও বোরহানউদ্দিন ইউএনও সাইফুর ইসলাম জাগো নিউজকে এতথ্য নিশ্চিত করেছেন।

ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্র জানায়, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) কাছে তথ্য ছিল ওই কেন্দ্রে কিছু পরীক্ষার্থী অসদুপায় অবলম্বন করছেন। তারা অবৈধভাবে স্মার্টফোন নিয়ে হলে প্রবেশ করেন। পরে তাদের প্রশ্নপত্রের ছবি তুলে হোয়াটসঅ্যাপে বাইরে পাঠিয়ে দেন। পরে বাইরে থেকে উত্তর সংগ্রহ করেন। এ সময় তাদের আটক করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তিনজনকে ১০ দিন করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

এছাড়া পরীক্ষার হলে অসদুপায় অবলম্বন করায় ভোলা সরকারি কলেজ কেন্দ্র থেকে একজন ও ঘুইংগারহাট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের কেন্দ্র থেকে একজনকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

ভোলার ২৫টি কেন্দ্র ১৫ হাজারেরও বেশি পরীক্ষার্থী নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নেন।


আরও খবর



মাওয়ার আকাশে-বাতাসে ঈদ আমেজ

প্রকাশিত:Saturday ২৫ June ২০২২ | হালনাগাদ:Tuesday ২৮ June ২০২২ | ১৯জন দেখেছেন
Image

সব প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে স্বপ্নের পদ্মা সেতু উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শনিবার (২৫ জুন) দুপুর ১২টায় পদ্মা সেতুর উদ্বোধন করেন তিনি।

এদিকে, পদ্মা জয়ের গৌরবগাঁথার দিনে মুন্সিগঞ্জের মাওয়া পদ্মাপাড়ে যেন চলছে ঈদ উৎসব। দূর-দূরান্ত থেকে হাজারো মানুষ পদ্মা সেতুকে কাছ থেকে দেখতে ছুটে আসেন। মানুষের আগমনে পদ্মা সেতুর উত্তর থানা ও মাওয়া চৌরাস্তা এলাকা যেন মিলনমেলায় পরিণত হয়।

মাওয়ার পদ্মাপাড়ে সরেজমিন দেখা যায়, শিশু-বৃদ্ধ থেকে ধরে সব বয়সী হাজারো মানুষের সমাগম হয়েছে সেখানে। জনসমাগমে সামিল হয়েছেন নারীরাও। অনেকেই এসেছেন লাল-সবুজের পতাকা নিয়ে। তারা জানান পদ্মা সেতু নিয়ে উচ্ছ্বাসের কথা।

jagonews24

নারায়ণগঞ্জ থেকে আসা শরিফউদ্দিন বলেন, এই আনন্দ শুধু দক্ষিণবঙ্গের মানুষের নয়, সারাদেশের। তাই দেখতে ছুটে এলাম।

নরসিংদী থেকে আট বন্ধু ছুটে এসেছেন একই প্রত্যাশায়। তাদের মধ্যে ইমরান নামে একজন বলেন, পদ্মা সেতুকে টিভিতে দেখি। আজকে মাহেন্দ্রক্ষণ, মনটা খুব চাইলো বাস্তবে দেখা জন্য।

তিনি বলেন, রাস্তায় গাড়িতে খুব ঝামেলা হয়েছে। নিরাপত্তার কারণে কয়েকদফা আটকানো হয়েছে, তবুও এসেছি। যাই হোক, আমরা সেতু দেখবো আর সেতুতে উঠবোই।

এদিকে, বহুল আকাঙ্ক্ষিত পদ্মা সেতুর উদ্বোধনের মুহূর্তকে রঙিন করতে বর্ণিল ও মনোজ্ঞ ফ্লাইপাস্ট করেছে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী । এতে অংশ নেয় ২৮টি বিমান। দুপুর সোয়া ১২টায় বিমানবাহিনীর মহড়া শুরু হয়। ফাইটার বিমান থেকে রঙ ছড়ানো হয় পদ্মার উন্মুক্ত আকাশে। এসময় লাল-সবুজসহ বিভিন্ন রঙে বর্ণিল হয়ে ওঠে পদ্মার আকাশ। মনোজ্ঞ এই ডিসপ্লে উপভোগ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেইসঙ্গে ব্যতিক্রমী এই দৃশ্য উপভোগ করেন হাজার হাজার জনতা।

স্থানীয় কয়েকজন বলেন, আজকে সর্বত্র আনন্দ। নদী পারাপারে মানুষের যুগযুগ ধরে ভোগান্তির অবসান ঘটছে। বিমান বাহিনীর ডিসপ্লে দেখে মনে হচ্ছে আকাশে-বাতাসেও আনন্দ বইছে।

স্কুলশিক্ষক ইয়ারদৌস আলী বলেন, পাঁচ যুগের বাংলাদেশে সবচেয়ে বড় অর্জন পদ্মা সেতু। বিশাল অবকাঠামো নির্মাণের মাধ্যমে বাংলাদেশ বুঝিয়ে দিয়েছে আমরাও পারি। বলা হয় বাঙালি মাথা নোয়াবার নয়, আসলেই আজ আবার তা প্রমাণ হলো।

jagonews24

স্থানীয় দোকানি আমিনুল ইসলাম বলেন, ব্রিজ কবে চালু হতে তা নিয়ে অনেক বছর অপেক্ষায় ছিলাম। আজকে মনে হচ্ছে যেন ঈদের দিন।

রোববার (২৬ জুন) ভোর ৬টায় যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হবেপদ্মা সেতু। এ সেতুর মাধ্যমে ঢাকাসহ দেশের পূর্বাঞ্চল থেকে খুব সহজেই দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে যাতায়াত করা যাবে।

বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ এক গণবিজ্ঞপ্তিতে জানায়, পদ্মা সেতুতে ঘণ্টায় ৬০ কিলোমিটারের বেশি গতিতে গাড়ি চালানো যাবে না। এ সেতুর ওপর যে কোনো ধরনের যানবাহন দাঁড়ানো ও যানবাহন থেকে নেমে সেতুর ওপর দাঁড়িয়ে ছবি তোলা বা হাঁটা সম্পূর্ণ নিষেধ।


আরও খবর



বাংলাদেশের অর্থনৈতিক মুক্তির প্রতীক 'পদ্মা সেতু'

প্রকাশিত:Friday ২৪ June ২০২২ | হালনাগাদ:Tuesday ২৮ June ২০২২ | ২৯জন দেখেছেন
Image

 

সবকিছুতেই নেতিবাচক ইস্যু খোঁজা মানুষগুলো ইদানীং বেশ হতাশ হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। টকশো, কলাম এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাদের পদ্মা সেতু নিয়ে আলোচনা বক্তব্য নিয়ে হাসি-তামাশা চলছে হরহামেশা। এ জন্যই হয়ত বলা হয়, 'ডুবন্ত মানুষ খড়কুটো ধরে বেঁচে থাকতে চায়'।

ঐ একই দশা তাদের। তবে যা যাই বলুক না কেনো, পদ্মা সেতু নিয়ে দারুণ ইতিবাচক মনোভাব সাধারণ মানুষের মাঝে। পদ্মা সেতু আমাদের অর্থনৈতিক মুক্তির প্রতীক। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যেই কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে থেকেই এই সেতু নির্মাণের সাহস দেখিয়েছেন, তাই এখন কূটনৈতিক পাড়ায় আলোচনার কেন্দ্রে।

পদ্মা সেতু নিয়ে 'আইরন লেডি'র ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিশ্বব্যাংক তথা বিশ্বের অপরাপর অনেক রাষ্ট্রের চোখ রাঙানি উপেক্ষা করে যখন তিনি দেশের অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণের ঘোষণা দেন, তখন অনেকেই বিষয়টির তীব্র বিরোধিতা করেন। পদ্মা সেতু নির্মাণ করতে গিয়ে 'বাংলাদেশ দেউলিয়া হয়ে যাবে', এমন মন্তব্যও করেন অনেকে। অর্থনৈতিক ক্ষতির পাশাপাশি তৎকালীন সময় 'সরকারের পতন', 'দুর্নীতি ঢাকার চেষ্টা', 'স্বেচ্ছাচারিতা' এমন শব্দগুলো বারবার উচ্চারণ করেছেন অনেকেই। অনেক পত্রিকাও সে সময় শিরোনাম করেছে পদ্মা সেতুর দুর্নীতি নিয়ে। কিন্তু দিন শেষে তাদের সকল হুশিয়ারি ও সমালোচনাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে সফল বঙ্গবন্ধু কন্যা।

সেতুর উদ্বোধন হবে আগামীকাল। এখন মনে পড়ছে বিভিন্ন সমালোচনার কথা। ২০১৮ সালের ২ জানুয়ারি ছাত্রদলের এক সভায় বর্তমানে সাজাপ্রাপ্ত বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া তাচ্ছিল্য করে বলেছিলেন, 'পদ্মা সেতু এই আওয়ামী লীগের আমলে হবে না। জোড়াতালি দিয়ে বানানো সেতুতে, কেউ উঠবেও না।'

রাজনৈতিক বিরোধিতার কারণে এমন সুর তোলার বিষয়টি বোধগম্য হলেও কিছু সুশীল কেনো সে সময় রাজনীতিবিদদের সুরে কথা বলেছিলো তা এক বিস্ময়। সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার পদ্মা সেতু নিয়ে বলেছিলেন, দুর্নীতি আমাদের কীভাবে পেছনে নিয়ে যাচ্ছে তার আরেকটি উদাহরণ এটি (পদ্মা সেতু)। জাতীয় উন্নয়নের ক্ষেত্রে এটি প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবে।

এদিকে চুরি না করেও চোরের অপবাদ নিতে বাধ্য করা হচ্ছিলো তখন বাংলাদেশকে। দুর্নীতির যেই অভিযোগ করা হয়েছিলো তা সরাসরি অস্বীকার করার কারণে বেশ নাখোশ ছিলেন ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। তার ভাষ্যমতে, 'অভিযোগ পাওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত বাংলাদেশ সরকারের মনোভাব হলো অভিযোগ অস্বীকার করে যাওয়া। কিন্তু সত্যিকার অর্থে দাতাগোষ্ঠীর আস্থা অর্জন করতে পারেনি (সরকার)।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান এ সময় বলেন, এ ঘটনা নিয়ে তদন্ত করার সামর্থ্য আছে কিনা দুদকের, সেটি নিয়ে আমার সন্দেহ রয়েছে। এ ঘটনার তদন্তের জন্য প্রয়োজনীয় স্বাধীনতা তাদের আছে কিনা সেটি নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

সম্প্রতি আওয়ামী লীগ আয়োজিত এক ওয়েবিনারে সে সময়ের দুঃসহ স্মৃতির কথা স্মরণ করে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমান। তিনি জানান, তাকে চাপ প্রয়োগ করা হয়েছিলো পদত্যাগের জন্য। সেই সঙ্গে দেশ ত্যাগের জন্যও বলা হয়। তাকে প্রলোভন দেখানো হয় ওয়ার্ল্ড ব্যাংকে বা এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকে বা আন্তর্জাতিক কন সংস্থায় উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগের।

তিনি এ সময় আরো জানান, আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থা থেকে কিভাবে প্রধানমন্ত্রীর ওপর চাপ প্রয়োগ করা হয় এই সেতু নির্মাণকে ঘিরে। সে সময়ে সংবাদমাধ্যমে ড. মসিউর রহমান আর্তি জানিয়ে বলেছিলেন, আপনাদের কাছে আমি সহানুভূতি চাই। আপনারা আমাকে মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা করেন।

শেষমেশ বাধ্যতামূলক ছুটিতে যেতে হয় প্রধানমন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টাকে, দেড় মাস জেল খাটেন সেতু সচিব, ২০১২'র ৫ জানুয়ারি পদত্যাগই করতে হয় তখনকার যোগাযোগমন্ত্রী আবুল হোসেনকে। দফায় দফায় তাদের হাজিরা দিতে হয় দুদকে। সৈয়দ আবুল হোসেন ২০১২ সালের ৩ ডিসেম্বর দুদক কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে সংবাদমাধ্যমে বলেছিলেন, কোনো অসৎ কাজে প্রাক্তন যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন জড়িত নয়।

২০১২ সালের ২৫ জুলাই লন্ডনে এক আলোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছিলেন, যখন (পদ্মা সেতুতে) পরামর্শক নিয়োগের বিষয় এলো, তখন একটা কোম্পানির জন্য তারা (বিশ্বব্যাংক) বার বার চাপ দিচ্ছিল সরকারকে এবং যোগাযোগমন্ত্রীকে। যেন ওই কোম্পানিকে পরামর্শক নিয়োগ দেয়া হয়। এখন যদি আমি প্রশ্ন করি, বিশ্বব্যাংক কত পার্সেন্ট টাকা খেয়ে ওই কোম্পানির জন্য তদবির করেছে?

এ দেশে পদ্মা সেতু নির্মাণে যে কোন দুর্নীতি হয়নি, তার প্রমাণ প্রদান করে ২০১৭ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি রায় দেন কানাডার আদালত। রায়ে বলা হয়, পদ্মা সেতুর দুর্নীতির অভিযোগ সঠিক নয়। কিন্তু নিন্দুকের মুখ এরপরও থামানো যায়নি। পদ্মা সেতু নিয়ে গুজব ও মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে পড়তে থাকে সর্বত্র।

পদ্মা সেতু দেশের পদ্মা নদীর ওপর নির্মাণাধীন একটি বহুমুখী সড়ক ও রেল সেতু। এর মাধ্যমে মুন্সিগঞ্জের লৌহজংয়ের সঙ্গে শরীয়তপুর ও মাদারীপুর যুক্ত হবে। ফলে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে উত্তর-পূর্ব অংশের সংযোগ ঘটবে। দুই স্তরবিশিষ্ট স্টিল ও কংক্রিট নির্মিত ট্রাস ব্রিজটির ওপরের স্তরে থাকবে চার লেনের সড়ক পথ এবং নিচের স্তরটিতে একটি একক রেলপথ। পদ্মা-ব্রহ্মপুত্র-মেঘনা নদীর অববাহিকায় ১৫০ মিটার দৈর্ঘ্যের ৪১টি স্প্যান ইতোমধ্যে বসানো হয়েছে, ৬.১৫০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য এবং ১৮.১০ মিটার প্রস্থ পরিকল্পনায় নির্মিত হচ্ছে দেশটির সবচেয়ে বড় সেতু। খরস্রোতা পদ্মা নদীর ওপর ৩০ হাজার ১৯৩ কোটি টাকা নিজস্ব অর্থায়নে নির্মাণ হচ্ছে স্বপ্নের এ সেতু।

পদ্মা নদীর মাওয়া পয়েন্টে বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় অঞ্চলের সঙ্গে দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের মধ্যে সড়ক ও রেল যোগাযোগ স্থাপনের মাধ্যমে মুন্সীগঞ্জ, শরীয়তপুর, মাদারীপুর, বরিশাল, পটুয়াখালী এবং ফরিদপুর জেলাগুলোর উন্নয়নে সরাসরি ভূমিকা রাখার সুযোগ সৃষ্টি করবে যা বিস্তৃত হবে খুলনা ও সাতক্ষীরা পর্যন্ত। দেশের দক্ষিণে বসবাসরত জনজীবনের জীবনমান উন্নয়নসহ স্বল্প সময়ে বাংলাদেশের মূল ভূখণ্ডে তাদের উৎপাদিত পণ্য বাজারজাত ও বাজার সম্প্রসারিত করার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখবে।

এ অঞ্চলের উৎপাদিত কাঁচামাল দ্রুততার সঙ্গে সরবরাহের সুযোগ তৈরি ও উৎপাদন বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে পদ্মা সেতু। সেতুটির কারণে দেশের দ্বিতীয় সমুদ্রবন্দর মোংলা চট্টগ্রাম বন্দরের মতো যথাযথভাবে ব্যবহারের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

এই সেতুটি শুধু স্থানীয়ভাবে নয়, বরং আন্তর্জাতিকভাবেও গুরুত্বপূর্ণ। কেননা পদ্মা সেতু ও সংযোগ সড়ক এশিয়ান হাইওয়ে রুট এএইচ-১-এর অংশ হওয়ায় তা যথাযথ ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হবে। এটি বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ যোগাযোগসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর যোগাযোগের ক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে। দেশের দক্ষিণাঞ্চল ট্রান্স-এশিয়ান হাইওয়ে এবং ট্রান্স-এশিয়ান রেলওয়ের সঙ্গে যুক্ত হবে। ভারত, ভুটান ও নেপালের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন সম্ভব হবে এবং যাত্রী ও পণ্য পরিবহণে সুবিধা হবে। চলাচল সহজ করার পাশাপাশি অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে পদ্মা সেতু। এ সেতু দেশের ব্যষ্টিক ও সামষ্টিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে।

এ ছাড়া দেশের সার্বিক জিডিপির পাশাপাশি পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্পটির কাজ সমাপ্ত হলে অতিরিক্ত ১.২৩ শতাংশ জিডিপি বৃদ্ধি পাবে। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জিডিপি বাড়বে ২ দশমিক ৩ শতাংশ। সেতুটি যোগাযোগের জন্য উন্মুক্ত হলেই দেশের সমন্বিত যোগাযোগ ব্যবস্থার ব্যাপক উন্নতি হবে। দারিদ্র্যের হার কমবে দশমিক ৮৪ শতাংশ। নতুন করে গড়ে উঠবে ভারি শিল্পকারখানা। পাশাপাশি পদ্মা সেতুর মাধ্যমে অর্থনীতিতে সরাসরি তিন ধরনের সুবিধা রয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন হবে। এতে ওই অঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্য বিস্তার লাভ করবে। বিনিয়োগ বাড়বে। কৃষক সরাসরি উপকৃত হবেন। তাদের উৎপাদিত পচনশীল পণ্য সরাসরি ঢাকাসহ দেশের অন্যান্য স্থানে পাঠাতে পারবেন। এতে পণ্যের ভালো দাম পাওয়া যাবে। এ সেতুর ফলে সামগ্রিকভাবে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের বিস্তার হবে। বিশেষ করে ভারতের বাণিজ্য বাড়াতে মোংলা বন্দর ব্যবহার করা যাবে।

এ কথা অনস্বীকার্য যে, বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের উন্নয়নের জন্য পদ্মা সেতুর গুরুত্ব অপরিসীম। এ সেতু নির্মিত হলে দক্ষিণাঞ্চলের সঙ্গে ঢাকার দূরত্ব অনেকাংশে কমে যাবে, যা দেশের অভ্যন্তরে বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে আনতে সাহায্য করবে। অবকাঠামোগত উন্নয়নের প্রভাব পড়বে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে।

পদ্মা সেতুর মাধ্যমে দেশের দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ১৯টি জেলা সরাসরি সারা দেশের সঙ্গে যুক্ত হবে। এ অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি লাঘব হবে। ঢাকা থেকে খুলনা, মোংলা, বরিশাল, কুয়াকাটা অর্থনৈতিক করিডর খুলে যাবে। এ সেতুকে ঘিরে বিশদ অঞ্চল জুড়ে গড়ে উঠবে নতুন অর্থনৈতিক অঞ্চল ও হাই-টেক পার্ক। ফলে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট হবে এবং দেশের শিল্পায়নের গতি ত্বরান্বিত হবে। সেতু ঘিরে পদ্মার দু'পারে পর্যটন শিল্পের ব্যাপক প্রসার এখন শুধু সময়ের অপেক্ষায় মাত্র।

এডিবির সমীক্ষা অনুসারে, পদ্মা সেতু দিয়ে ২০২২ সালে যে ২৪ হাজার যানবাহন চলবে, তার মধ্যে বাস চলবে ৮ হাজার ২৩৮টি, ট্রাক ১০ হাজার ২৪৪টি, মাইক্রোবাস ও ব্যক্তিগত গাড়ি চলবে ৫ হাজারের বেশি। সমীক্ষায় আরো প্রাক্কলন করা হয়েছে, ২০২৫ সালে পদ্মা সেতুর ওপর দিয়ে দিনে যানবাহন চলাচল বেড়ে দাঁড়াবে ২৭ হাজার ৮০০টি। ২০৩০ সালে হবে ৩৬ হাজার ৭৮৫। ২০৪০ সালে দিনে যানবাহন চলাচল বেড়ে দাঁড়াবে ৫১ হাজার ৮০৭টি।

অন্যদিকে জাইকার সমীক্ষামতে, পদ্মা সেতুর মাধ্যমে দেশের ১ দশমিক ২ শতাংশ জিডিপি বৃদ্ধি পেয়ে আঞ্চলিক জিডিপি বৃদ্ধি দাঁড়াবে ৩ দশমিক ৫ শতাংশে। দক্ষিণবঙ্গে শিল্পায়নের গতি ব্যাপক বেড়ে যাবে। পদ্মা সেতু বাংলাদেশের সুষম অর্থনৈতিক উন্নয়নে প্রয়োজনীয় অসামান্য অবকাঠামোগুলোর একটি।

২০১৪ সালে পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু হয়। মহামারী করোনাকে পাশ কাটিয়ে মাত্র ৮ বছরের মধ্যে অর্থনৈতিক ও আন্তর্জাতিক সকল চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে আমাদের সামনে পদ্মা সেতুকে বাস্তবরূপে দেখিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এই সেতুকে ঘিরে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিকদের বিবৃতিতে বারবার উঠে এসেছে শেখ হাসিনার দৃঢ় নেতৃত্বের কথা। নিজ দেশকে বিশ্বের সামনে মাথা নত করতে দেননি বঙ্গবন্ধু কন্যা। বাংলাদেশকে বিশ্বের বুকে আজন্ম যোদ্ধা ও অকুতোভয়ী এক জাতি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছেন তিনি।

পদ্মা সেতু নিজস্ব অর্থায়নে তৈরির চ্যালেঞ্জ গ্রহণের পাশাপাশি বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগকে আকৃষ্ট করা এবং অন্যান্য মেগা প্রকল্পগুলো চালিয়ে যাওয়ার মত দুঃসাহসিক কাজ করেছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। নিন্দুকেরা বলেছিলো, বিশ্ব ব্যাংককে ফিরিয়ে দেয়ার মাধ্যমে চরম ভুল করেছে আওয়ামী লীগ, এর ফলে বিদেশী বিনিয়োগ ও রিজার্ভ সংকট তৈরি হবে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সকলের মুখে চপেটাঘাত করে প্রতি বছর রিজার্ভে রেকর্ড গড়েছে বাংলাদেশ। সেই সঙ্গে সম্পন্ন হয়েছে পদ্মা সেতু নির্মাণের কাজও।

বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার হাত ধরেই আজ উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা লাভ করছি আমরা। তার হাত ধরেই এক সময় উন্নত দেশের সোপানেও পদার্পণ করবে বাংলাদেশ। পদ্মা সেতুর পাশে দাঁড়িয়ে সূর্যোদয় দেখে যে কোন দেশ প্রেমিকের মুখ থেকে অজান্তে বেরিয়ে আসবে যেই শব্দ, তা হলো 'জয় বাংলা'।

লেখক: সিনিয়র সাংবাদিক ও কলামিস্ট।


আরও খবর



যশোরে ৩ শিশু হত্যা: উন্নয়ন কেন্দ্রের ইন্সট্রাক্টরের জামিন স্থগিত

প্রকাশিত:Wednesday ১৫ June ২০২২ | হালনাগাদ:Tuesday ২৮ June ২০২২ | ৪৮জন দেখেছেন
Image

যশোরের শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রের (বালক) তিন শিশুকে নির্যাতন ও পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় প্রতিষ্ঠানটির ফিজিক্যাল ইনস্ট্রাক্টর এ কে এম শাহানুর আলমকে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন ৮ সপ্তাহের জন্য স্থগিত করেছেন চেম্বার জজ আদালত।

বুধবার (১৫ জুন) আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম এ আদেশ দেন।

আদালতে আজ রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ড. মো. বশির উল্লাহ। আসামিপক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট এ কে এম ফয়েজ।

ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ড. মো. বশির উল্লাহ বলেন, গত ৯ জুন হাইকোর্ট এ কে এম শাহানুর আলমকে জামিন দিয়েছিলেন। পরে তার জামিন স্থগিত চেয়ে আপিল আবেদন করেন রাষ্ট্রপক্ষ। ওই আবেদন শুনানি নিয়ে এই আদেশ দেন আদালত।

মামলার বিবরণ ও আদালত সূত্রে জানা যায়, কেন্দ্রের প্রধান প্রহরী নূর ইসলামকে মারপিটের জেরে ২০২০ সালের ১৩ আগস্ট যশোর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রের ১৮ শিশুকে কর্মকর্তাদের নির্দেশে নির্যাতন করা হয়। এতে বগুড়ার শিবগঞ্জের তালিবপুর পূর্বপাড়ার নান্নু প্রামাণিকের ছেলে নাঈম হোসেন, খুলনার দৌলতপুরের মহেশ্বরপাশা সেনপাড়ার রোকা মিয়ার ছেলে পারভেজ হাসান ওরফে রাব্বি ও বগুড়ার শেরপুরের মহিপুর গ্রামের নুরুল ইসলামের ছেলে রাসেল হোসেন মারা যায়। গুরুতর আহত হয় আরও ১৫ জন।

এ ঘটনায় পারভেজ হাসানের বাবা রোকা মিয়া যশোর জেলার কোতোয়ালি থানায় ১৩ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা করেন। তদন্ত শেষে ওই মামলায় ১২ জনকে অভিযুক্ত করে অভিযোগপত্র জমা দেয় পুলিশ।

অভিযুক্ত ১২ জনের মধ্যে চারজনই যশোর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রের কর্মকর্তা। তারা হলেন- সাময়িক বরখাস্ত হওয়া কেন্দ্রের সাবেক তত্ত্বাবধায়ক (সহকারী পরিচালক) আবদুল্লাহ আল মাসুদ, সহকারী তত্ত্বাবধায়ক (প্রবেশন অফিসার) মাসুম বিল্লাহ, ফিজিক্যাল ইনস্ট্রাক্টর এ কে এম শাহানুর আলম ও সাইকো সোশ্যাল কাউন্সিলর মুশফিকুর রহমান।


আরও খবর