Logo
আজঃ শুক্রবার ১৯ জুলাই ২০২৪
শিরোনাম
তারেক-জেবায়দার মামলা

বিচারকের সামনে হাতাহাতি, বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের নামে জিডি

প্রকাশিত:বুধবার ৩১ মে ২০২৩ | হালনাগাদ:শুক্রবার ১৯ জুলাই ২০২৪ | ৩১০জন দেখেছেন

Image

আদালত প্রতিবেদকবিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও তার স্ত্রী ডা. জোবায়দা রহমানের অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলায় সাক্ষ্য নেওয়ার সময় আওয়ামী লীগ ও বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা ও হাতাহাতি হয়। গতকাল মঙ্গলবার দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত এ ঘটনা ঘটার পর রাতে বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মাসুদ আহম্মেদ তালুকদারসহ ২৮ আইনজীবীর বিরুদ্ধে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। জিডিতে বিএনপিপনন্থী আরও ১০০-১৫০ জন আইনজীবীকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

মাসুদ আহম্মেদ তালুকদার ছাড়াও যাদের নামে জিডি করা হয়েছে তারা হলেন আইনজীবী সেলিম, মিলন, মিনহাজ রানা, আনোয়ার হোসেন, মো. জাবেদ, শফিকুল ইসলাম শফিক, আব্দুল হান্নান, আব্দুল খালেক মিলন, জহিরুল ইসলাম কাইয়ুম, তাহমিনা আক্তার হাশমী, শামিমা আক্তার শাম্মি, নারগিস সুলতানা মুক্তি, ওমর ফারুক ফারুকী, মো. নিজাম উদ্দিন নিজাম, মো. ইব্রাহীম স্বপন, মো. মোয়াজ্জেম, মো. নুরুজ্জামান, এইচ এম মাসুম, মো. হিরা, মো. সামছুজ্জামান দিপু, মো. বিল্লাল হোসেন, মো. মাসুম হাসান, মো. নিহার হোসেন ফারুক, মো. তাহেরুল ইসলাম তৌহিদ, মো. হাফিজুর রহমান হাফিজ, জহিরুল ইসলাম মুকুল ও নুরুজ্জামান তপন।

জিডিতে বলা হয়, মঙ্গলবার মহানগর দায়রা জজ কোর্ট ও বিশেষ ট্রাইবুনাল-১-এ তারেক রহমান ও জোবায়দা রহমানের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য ছিল। দুপুরের বিরতির পর মহানগর দায়রা জজ বিকেল ৩টায় মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু করেন। কিছুক্ষণের মধ্যে মামলার বিচারিক কার্যক্রম ব্যাহত করার লক্ষ্যে উপস্থিত বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা মামলার সাক্ষীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করে প্রভাবিত করার চেষ্টা করে আদালতের ভেতর হট্টগোলসহ সাক্ষীদের অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকেন। আদালতে উপস্থিত অ্যাডিশনাল পিপি তাপস পাল ও দুদকের পিপি জাহাঙ্গীর হোসাইন তাদের শান্ত করার চেষ্টা করেন।

আজ বুধবার ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কোতয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীনুর রহমান বলেন, ‘আদালতে হট্টগোলের ঘটনায় একটি জিডি করেছেন মহানগর দায়রা জজ আদালতের নাজির শাহ মো. মামুন। মঙ্গলবার রাতেই জিডি হয়েছে। তদন্ত করে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।

উল্লেখ্য, গত রোববার থেকে মামলাটিতে প্রতিদিন সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য রাখা হচ্ছিল। তাই গত সোমবার বিএনপিদলীয় আইনীজীবী, ঢাকা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ওমর ফারুক ফারুকী মামলাটির সাক্ষ্য চলাকালে বিচারক ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. আছাদুজ্জামানকে বলেন, ‘মামলাটিতে প্রতিদিন সাক্ষ্যগ্রহণের বিষয়টি দৃষ্টিকটূ। আমরা চাই এভাবে যেন প্রতিদিন সাক্ষ্যগ্রহণ না করা হয়।’ তখন বিচারক বলেছিলেন, তিনি বিষয়টি দেখবেন।

এরপরও গতকাল আবার মামলাটি সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য দিন ধার্য থাকায় এ আইনজীবী বিএনপিপন্থী কয়েকজন আইনজীবীর উপস্থিতিতে বিষয়টি আবার আদালতে মেনশন করেন। এ সময় রাষ্ট্রপক্ষের একজন প্রসিকিউটর বিচারককে মেনশন করা আইনজীবী ফারুকীর বক্তব্য ভিডিও করছিলেন। তখন বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা ভিডিও করতে বাধা দিলে উভয়পক্ষের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা শুরু হয়, যা একপর্যায়ে হাতাহাতিতে রূপ নেয়। তখন বিচারক এজলাস ছেড়ে যান।

খবর পেয়ে আওয়ামী লীগদলীয় আইনজীবীরাও ওই আদালতে আসেন। তখন উভয়পক্ষের আইনজীবীরা একে অপরের বিরুদ্ধে স্লোগান দেন। বিকেল ৫টা পর্যন্ত বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা আদালত কক্ষে অবস্থানের পর তারা চলে যান। সন্ধ্যা ৬টার দিকে বিচারক পুনরায় এজলাসে ওঠেন। তিনি ২৫ মিনিট অবস্থান করে সাক্ষীর অবশিষ্ট জবানবন্দি শেষ করেন।


আরও খবর



প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৮ জুলাই চীনে যাবেন

প্রকাশিত:সোমবার ২৪ জুন 20২৪ | হালনাগাদ:বুধবার ১৭ জুলাই ২০২৪ | ১৪৫জন দেখেছেন

Image

নিজস্ব প্রতিবেদক:পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী ৮ থেকে ১১ জুলাই চীন সফরে যেতে পারেন বলে।

সোমবার (২৪ জুন) রাজধানীর একটি হোটেলে সফররত চীনের কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লি জিয়ানছাওয়ের সঙ্গে বৈঠকের পর এসব কথা জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আগামী ৮-১১ জুলাইয়ের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরের সম্ভাবনা বেশি। উন্নয়নে অনেক ক্ষেত্রে চীনের গুরত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। সামনে প্রধানমন্ত্রীর সফরে গুরত্বপূর্ণ অগ্রগতি হবে, সেটি আমরা প্রত্যাশা করেছি। আমরা এই সফরের দিকে তাকিয়ে আছি।

চীনা মন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনার বিষয়ে হাছান মাহমুদ জানান, চীন আমাদের সবচেয়ে বড় উন্নয়ন সহযোগী এবং বড় বাণিজ্য সহযোগী। আমরা বাণিজ্য ঘাটতি নিয়ে আলোচনা করেছি। আমরা চীন থেকে ইমপোর্ট করি প্রায় ১৩ বিলিয়ন। আর এক্সপোর্ট করি পৌনে ১ বিলিয়ন।

বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে ওষুধ, চামড়া ও সিরামিক পণ্যগুলো চীন আমাদের থেকে নিতে পারে যোগ করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

এসময় রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে চীনের সহায়তা চাওয়া হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে বিশেষ করে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে চীনের সহায়তা চেয়েছি। আমরা গাজা ইস্যু নিয়ে আলোচনা করেছি। এ ব্যাপারে আমরা চীনকে অ্যাকটিভ রোল প্লে করার প্রত্যাশা করি।


আরও খবর



খাগড়াছড়িতে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের বিশেষ অভিযানে গাঁজা সহ মাদক কারবারি গ্রেফতার

প্রকাশিত:শনিবার ০৬ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:শুক্রবার ১৯ জুলাই ২০২৪ | ১১২জন দেখেছেন

Image
জসীম উদ্দিন জয়নাল,পার্বত্যাঞ্চল প্রতিনিধি:খাগড়াছড়ি জেলা গোয়েন্দা পুলিশের বিশেষ অভিযানে  খাগড়াছড়ি শান্তি কাউন্টার এর সামনে অবৈধ মাদকদ্রব্য গাঁজা সহ মো: সুলতান(৭০)নামের এক মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করেছেন জেলা গোয়েন্দা পুলিশ।বৃহস্পতিবার (৪ জুলাই) রাত ৯টার দিকে জেলা গোয়েন্দা শাখার একটি চৌকস আভিযানিক দল খাগড়াছড়ি সদর থানা এলাকায় মাদকদ্রব্য ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার অভিযান ডিউটিতে নিয়োজিত থাকা অবস্থায় শাপলা চত্তর নামক এলাকায় অবস্থানকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে যে, খাগড়াছড়ি সদর থানাধীন  খাগড়াছড়ি পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ডের শান্তি কাউন্টার এর সামনে থেকে মো.সুলতান ( ৭০)এর কাছে থাকা পলিথিনে মোড়ানো  প্লাস্টিকের বস্তা  তল্লাশী ছালিয়ে বস্তার ভিতরে থাকা লাল সুতা দ্বারা বাধা ২৭টি লম্বা গাঁজার রোল যাহার প্রতিটির ওজন ৫৬০ গ্রাম করিয়া সর্ব মোট পরিমান ১৫.১২০ কেজি সহ তাকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত আসামী  মো:সুলতান(৭০) দিঘীনালা উপজেলার  মেরুং ইউপি,র ৭নং ওয়াডের মৃত.এরশাদ আলীর ছেলে।পলাতক আসামী আসাদুল হক(৪৩), দিঘীনালা উপজেলার মেরুং ইউপি,র  ছোট মেরুং বাজার এলাকার  মোঃ আফাজ মুন্সী, ছেলে।এর নিকট থেকে পাইকারী দামে ক্রয় করিয়া গ্রেফতারকৃত আসামী অবৈধ মাদক দ্রব্য (গাঁজা) ঢাকা বিত্রুয়ের উদেশ্যে নিয়ে যায়।  গ্রেফতারকৃত আসামী ও পলাতক আসামীর বিরুদ্ধে মামলা রুজু করা হয়েছে এবং আসামীকে বিধি মোতাবেক বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হইবে।

আরও খবর



কুষ্টিয়ায় সাংবাদিক উপর হামলার প্রতিবাদে সৈয়দপুরে মানববন্ধন

প্রকাশিত:রবিবার ৩০ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:শুক্রবার ১৯ জুলাই ২০২৪ | ১৫৮জন দেখেছেন

Image
জহুরুল ইসলাম খোকন সৈয়দপুর (নীলফামারী ) প্রতিনিধি:কুষ্টিয়ায় এশিয়ান টেলিভিশনের  সাংবাদিক হাসিবুর রহমান রিজুর ওপর নৃশংস হত্যার উদ্দেশ্যে হামলার প্রতিবাদ ও দোষীদের বিচার দাবিতে সৈয়দপুরে মানববন্ধন কর্মসুচি পালিত হয়েছে। 

রবিবার ৩০ জুন, বেলা ১২ টায়  শহীদ ডাক্তার জিকরুল হক সড়কে  সৈয়দপুর সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির উদ্যোগে' ওই মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন এশিয়ান টেলিভিশন এর নীলফামারী জেলা প্রতিনিধি মাইনুল হক।মানববন্ধনে উপস্থিত থেকে কুষ্টিয়ার সাংবাদিক হাসিবুর রহমান রিজ্জুর উপর হামলাকারীদের আটক করে দৃষ্টান্ত মুলক শাস্তির দাবিতে বক্তব্য রাখেন সৈয়দপুর সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির আহবায়ক মোতালেব হোসেন, সদস্য সচিব ওয়ালিউর রহমান রতন - সাংবাদিক সাবের হোসেন সাব্বির,  দৈনিক সমকালের নীলফামারি জেলা প্রতিনিধি আমিরুল হক, আজকের পত্রিকার রেজা মাহমুদ, বাংলাদেশের খবরের এর সৈয়দপু প্রতিনিধি মাসুদুর রহমান লেনিন, ভোরের পাতার জয়নাল আবেদীন হিরো, নাগরিক টেলিভিশনের নীলফামারী জেলা প্রতিনিধি সাদিকুল ইসলাম সাদিক, যুগের আলোর রাজু আহমেদ, তৃতীয় মাত্রা র তামিম আহমেদ, জাগো রংপুরের শাহজাহান আলী, কালবেলা পত্রিকার কাজী জাহিদ, আমার বার্তার আকাশ, সাপ্তাহীক চিকলীর মানিক, ঢাকা প্রতিদিনের দুলাল সরকার, ও প্রতিদিনের সংবাদ পত্রিকার সাংবাদিক জহুরুল ইসলাম খোকন প্রমুখ।
উপস্থিত ছিলেন সৈয়দপুর ও নীলফামারী জেলার অর্ধশত সাংবাদিক।

আরও খবর



সেনাবাহিনীর জন্য ভারত থেকে ১১টি বুলেটপ্রুফ গাড়ি আমদানি

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ১১ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:শুক্রবার ১৯ জুলাই ২০২৪ | ৮৯জন দেখেছেন

Image

ইয়ানূর রহমান শার্শা,যশোর প্রতিনিধি:সামরিক শক্তি বাড়াতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর জন্য ভারত থেকে ১১টি মাইন প্রটেকটেড গাড়ি আমদানি করা হয়েছে। যার আমদানি মূল্য ৪৬ কোটি টাকা। মঙ্গলবার (৯ জুলাই) রাত ৮টার দিকে ভারতের পেট্রাপোল বন্দর দিয়ে এসব গাড়ি বেনাপোল বন্দরে প্রবেশ করে।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ডিরেক্টর জেনারেল ডিফেন্স পারসেজ এসব গাড়ি আমদানি করেছে। ভারতের টাটা অ্যানভানসড সিস্টেমস লিমিটেড রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান।

জানা যায়, এ যানবাহনটি সেনাবাহিনীর সামরিক শক্তি বৃদ্ধির জন্য আনা হয়েছে। যা সম্পূর্ণ বুলেটপ্রুফ। বেনাপোল বন্দর হয়ে এই প্রথম এ ধরনের সামরিক যান বাংলাদেশে আমদানি করা হলো।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সামরিক সরঞ্জামের তালিকার তথ্যমতে,দেশে এর আগে মোট ২০৫টি মাইন রেজিস্ট্যান্ট অ্যামবুশ প্রটেকটেড গাড়ি ক্রয় করা হয়েছিল। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সরঞ্জামের তালিকায় দেখা যায়, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে ৫০, দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে ৪৪ ও কানাডা থেকে ৪৪টি মাইন রেজিস্ট্যান্ট অ্যামবুশ প্রটেকটেড গাড়ি কেনা হয়।

গ্লোবাল ফায়ার পাওয়ার ইনডেক্স-২০২৪ অনুযায়ী, সামরিক শক্তিতে বাংলাদেশের অবস্থান ৩৭তম।

বেনাপোল বন্দরের পরিচালক (ট্রাফিক) রেজাউল করিম জানান, আমদানি করা এসব গাড়ি বন্দরের হেফাজতে রাখা হয়েছে। কাগজপত্রের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হলে গতকাল বুধবার বিকালের মধ্যে খালাস হওয়ার কথা।। বন্দরের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করা হচ্ছে।

-খবর প্রতিদিন/ সি.


আরও খবর



ভোলায় রাসেল ভাইপার আতঙ্ক, এক সপ্তাহে উদ্ধার-১৩

প্রকাশিত:শনিবার ২২ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:শুক্রবার ১৯ জুলাই ২০২৪ | ১৩৯জন দেখেছেন

Image

শরীফ হোসাইন, ভোলা বিশেষ প্রতিনিধি:ভোলায় রাসেল ভাইপার আতঙ্ক দিনদিন বাড়ছে। গত এক সপ্তাহে জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে ১৩টি এই সাপ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে ১২টি সাপ মেরে ফেলেছেন স্থানীয়রা। আর একটি সাপ বনবিভাগের কাছে হস্তান্তর করেছেন তারা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জেলার সদর, দৌলতখান, বোরহানউদ্দিন, তজুমদ্দিন, চরফ্যাশন ও মনপুরা উপজেলাসহ চরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় বাসাবাড়ি ও খেলার মাঠে একের পর এক রাসেলস ভাইপার সাপের দেখা মিলছে। সাপটি দেখার সঙ্গে সঙ্গেই এলাকাবাসী মেরে ফেলছেন। একের পর এক এই সাপ উদ্ধারে জনসাধারণের মাঝে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।

জানা গেছে, ভোলায় বিষাক্ত রাসেল ভাইপারের দংশনের শিকার হয়েছেন এক কৃষক। শুক্রবার (২১ জুন) বিকাল ৫টার দিকে সদর উপজেলার দক্ষিণ দিঘলদী ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে। তার নাম মোঃ আফিজল বয়াতি। বর্তমানে ওই কৃষককে ভোলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

সদর উপজেলার দক্ষিণ দিঘলদী ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের কৃষক মোঃ আফিজল বয়াতি শুক্রবার বিকাল ৫টার দিকে মাঠে গিয়েছিলেন ঘাস কাটতে। এসময় বিষাক্ত রাসেল ভাইর তাকে দংশন করে। এ সময় তার চিৎকারে স্থানীয় লোকজন ছুটে এসে সাপটিকে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে মেরে ফেলে এবং আফিজলকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য ভোলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন স্থানীয় পল্লী চিকিৎসক এরশাদ।

এ বিষয়ে ভোলা সদর হাসপাতালে তত্ত্বাবধায়ক ডা: আবু আহমেদ জানান, সদর উপজেলার দক্ষিণ দিঘলদী থেকে এক লোক এসেছেন তাকে কিছু একটায় কামরিয়েছে। তবে সাপে দংশন করেছে এমন লক্ষণ এখন পর্যন্ত প্রকাশ পায়নি। আমরা তাকে পর্যবেক্ষণে রেখেছি। তিনি আরো বলেন, ভোলা যেহেতু নদীমাতৃক এলাকা, তাই সকলকে সচেতন থাকতে হবে।

আরো জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকালে ভোলা সদর উপজেলার শিবপুরের ইউনিয়নের শান্তির হাট ‘গরিবের ডুবাই নামে খ্যাত’ চায়না ইপিজেড বালুর মাঠে একটি, বোরহানউদ্দিন উপজেলার টবগী ইউনিয়নের জসিম হাওলাদারের বাড়িতে একটি ও তজুমদ্দিন উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নের একটি বসতবাড়ির সামনে একটি রাসেল ভাইপার পাওয়া যায়।

এছাড়াও গত বুধবার (১৯ জুন) তজুমউদ্দিন উপজেলার চৌমুহনী এলাকায় খেলার মাঠ, মঙ্গলবার (১৮ জুন) সদর উপজেলার পূর্ব ইলিশায় ইউপির পাকার মাথা এলাকায় বসতবাড়ির পাশের জালের সঙ্গে প্যাঁচানো অবস্থায় একটি রাসেল ভাইপার উদ্ধার করা হয়। গত মঙ্গলবার রাতে দৌলতখান উপজেলার ভবানীপুর ইউনিয়নের জালু মাঝির বসতঘর, রোববার (১৬ জুন) লালমোহনের লর্ড হার্ডিঞ্জ ইউপির সৈয়দাবাদ এলাকায় একটি বাড়ির বাথরুমে, বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা মনপুরা ও সাগর উপকূল উপজেলা চরফ্যাশনের বিভিন্ন ইউনিয়নে আরো ৫টি রাসেলস ভাইপার সাপ দেখা যায়। পরে স্থানীয়রা আতঙ্কিত হয়ে সাপগুলোকে মেরে ফেলেন। এর মধ্যে তজুমউদ্দিন উপজেলায় পাওয়া একটি সাপ বনবিভাগের তত্ত্বাবধানে রয়েছে। এ ঘটনার পর থেকে জেলাজুড়ে সর্বসাধারণের মাঝে রাসেলস ভাইপার আতঙ্ক বিরাজ করছে।

সচেতন মহল মনে করছেন, সতর্কতার পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে হাসপাতালগুলোতেও সাপে কাটা রোগীর চিকিৎসা ও ভ্যাকসিন রাখতে হবে। সুশীল সমাজের প্রতিনিধি মোবাশ্বির উল্যাহ চৌধুরী বলেন, রাসেল ভাইপার নিয়ন্ত্রণে সরকারের উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। স্কুল শিক্ষক মনিরুল ইসলাম বলেন, জনসচেতনতা বাড়াতে হবে, অন্যথায় সাপের দংশনে প্রাণহানি ঘটতে পারে।

এদিকে হঠাৎ করেই লোকালয়ে বিষধর এ সাপ ছড়িয়ে পড়ায় জেলার মানুষ অনেকটা আতঙ্কিত। এমন অবস্থায় রাসেল ভাইপার বংশবিস্তার ঠেকাতে এসব সাপের অবমুক্ত না করে মেরে ফেলার পরামর্শ দিয়েছেন বিষেজ্ঞদের কেউ কেউ। ভোলা সরকারি কলেজের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মাহবুব রহমান বলেন, পরিবেশের ভারসম্য রক্ষায় সাধারণত বিরল প্রজাতির জীবজন্তু বনে অবমুক্ত করা হয়। কিন্তু যেসব প্রাণী পরিবেশ ও মানুষের জন্য হুমকি স্বরূপ, সেগুলো মেরে ফেলাই ভালো। কারণ, রাসেল ভাইপার অত্যন্ত বিপজ্জনক সাপ।

জোলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম খান বলেন, রাসেল ভাইপার বিপজ্জনক ও বিষাক্ত সাপ। এটি সকল প্রাণির জন্য হুমকি স্বরূপ। তাই এ সাপকে মেরে ফেলা উচিত। ভয়াবহ বিষাক্ত রাসেল ভাইপার গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর কেউ কেউ সাপটি সম্পর্কে জানলেও প্রত্যান্ত এলাকার মানুষ কিছুই জানেন না। বিদেশি এ সাপটি উপকূলীয় জেলায় ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়ছে। তাই জনসচেতনতা বাড়ানো পাশাপাশি সাপটি নিয়ন্ত্রণে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান সচেতন মহলের। একই সঙ্গে হাসপাতালগুলোতে পর্যাপ্ত ভ্যাকসিন রাখার দাবি তাদের।

এ ব্যাপারে উপকূলীয় বনবিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা ড. মো. জহিরুল হক বলেন, ঘূর্ণিঝড় রিমালের পর সাপগুলো তাদের আবাসস্থল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাই এরা লোকালয়ে চলে এসছে বলে আমরা খবর পাচ্ছি। কিন্তু সাপগুলো মেরে ফেলা সমাধান নয়, এ সাপ থেকে রক্ষায় বসতঘরের আশেপাশে কার্বোলিড এসিড ছিটিয়ে দিতে হবে। সাপটি লোকালয়ে কমই দেখা যায়। বাচ্চা দেওয়ার কারণে হয়তো লোকালয়ে আসে। সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে এবং সাপ দেখলেই বনবিভাগে খবর দিতে হবে।

জেলা সিভিল সার্জন ডা. এ কে এম শফিকুজ্জামান, এই সাপ সবচেয়ে বিষাক্ত ও এর অসহিষ্ণু ব্যবহার। সাপটি লম্বা বহির্গামী বিষদাঁতের জন্য অনেক বেশি লোক দংশিত হন। বিষক্রিয়ায় রক্ত জমাট বেঁধে যায়। ফলে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে দীর্ঘ যন্ত্রণার পর মৃত্যু হয়। তিনি আরো বলেন, সাপে কাটা রোগীদের জন্য ভোলা হাসপাতালসহ উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতে পর্যাপ্ত ‘এন্টি স্নেক ভেনিম’ ভ্যকসিন সরবরাহ রয়েছে। কোনো রোগী পাওয়া গেলে সঙ্গে সঙ্গে শনাক্ত করা হচ্ছে। স্বাস্থ্যকর্মীরা এ বিষয়ে মানুষকে সচেতন করতে পরামর্শ দিচ্ছে।

বিষধর রাসেল ভাইপার উপদ্রব বেড়ে যাওয়ায় কথা স্বীকার করে ভোলার জেলা প্রশাসক আরিফুজ্জামান বলেন, মানুষকে সচেতন করতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।


আরও খবর