Logo
আজঃ Tuesday ২৮ June ২০২২
শিরোনাম
নাসিরনগরে বন্যার্তদের মাঝে ইসলামী ফ্রন্টের ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ রাজধানীর মাতুয়াইলে পদ্মাসেতু উদ্ধোধন উপলক্ষে দোয়া মাহফিল রূপগঞ্জে ভূমি অফিসে চোর রূপগঞ্জে গৃহবধূর বাড়িতে হামলা ভাংচুর লুটপাট ॥ শ্লীলতাহানী নাসিরনগরে পুকুরের মালিকানা নিয়ে দু পক্ষের সংঘর্ষে মহিলাসহ আহত ৪ পদ্মা সেতু উদ্ভোধন উপলক্ষে শশী আক্তার শাহীনার নেতৃত্বে আনন্দ মিছিল করোনা শনাক্ত বেড়েছে, মৃত্যু ২ জনের র‍্যাব-১১ অভিমান চালিয়ে ৯৬ কেজি গাঁজা,১৩৪৬০ পিস ইয়াবাসহ ৬ মাদক বিক্রেতাকে গ্রেফতার করেছে বন্যাকবলিত ভাটি অঞ্চল পরিদর্শন করেন এমপি সংগ্রাম পদ্মা সেতু উদ্বোধনে রূপগঞ্জে আনন্দ উৎসব সভা ॥ শোভাযাত্রা

বাবা হওয়ার সঠিক বয়স কত? জানালো গবেষণা

প্রকাশিত:Saturday ১৮ June ২০২২ | হালনাগাদ:Tuesday ২৮ June ২০২২ | ৫৫জন দেখেছেন
Image

বেশিরভাগ পুরুষই মনে করেন, সন্তান ধারণের ক্ষেত্রে তাদের বয়স কোনো ব্যাপার নয়। যদিও অনেক পুরুষই ৫০ বা তার বেশি বয়সের সন্তানের জনক হচ্ছেন। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস অনুসারে, বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক পুরুষ ৯২ বছর বয়সে সন্তানের বাবা হয়েছেন।

আবার ৪০ বছর পার হতেই অনেকে বাবা হতে পারছেন না। এর কারণ কী? বিশেষজ্ঞদের মতে, বয়সের সঙ্গে শুক্রাণুর সংখ্যা ও গুণমান কমতে শুরু করে।

গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব পুরুষ বেশি বয়সে বাবা হন তাদের সন্তানেরাই বেশি নিউরোডেভেলপমেন্টাল ডিসঅর্ডারে ভোগেন।

২০১০ সালে করা এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, ৪০ বছরের বেশি বয়সী পুরুষদের সন্তানদের অটিজম স্পেকট্রাম ডিসঅর্ডার হওয়ার ঝুঁকি সাধারণ জনসংখ্যার তুলনায় পাঁচগুণ বেশি।

বাবা হওয়ার সঠিক বয়স কত?

জার্নাল অব এপিডেমিওলজি অ্যান্ড কমিউনিটি হেলথে প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, ২৫ বছর বয়সের আগে বাবা হওয়া গুরুতর স্বাস্থ্যের পরিণতি ডেকে আনতে পারে। এমনকি মধ্য বয়সে অকালমৃত্যুও হতে পারে।
সমীক্ষায় আরও দেখা গেছে, যে পুরুষরা ২৫ বছরের আগে বাবা হয়েছিলেন তাদের স্বাস্থ্য খারাপের ঝুঁকি বেশি ছিল। আর যারা ৩০-৪৪ বয়সের মধ্যে বাবা হয়েছেন তাদের স্বাস্থ্যঝুঁকি ও অকালমৃত্যুর ঝুঁকিও কম।

উর্বরতা বাড়াতে পুরুষরা কী করবেন?

অনেক লাইফস্টাইল ফ্যাক্টর আছে যা আপনার শুক্রাণুর গুণমানকে ব্যাহত করে। এর মধ্যে ধূমপান, অ্যালকোহল, স্থূলতা পুরুষের উর্বরতা কমিয়ে দেয়। বিশেষ করে ধূমপান শুধু শুক্রাণুর গুণমান কমিয়েই দেয় না বরং তাদের পরিমাণ ও গতিশীলতাও কমিয়ে দেয়।

সর্বোত্তম শুক্রাণু উৎপাদন করার জন্য, স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া অপরিহার্য। কিছু গবেষণা পরামর্শ দেয় যে, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ খাবারও শুক্রাণুর মান উন্নত করতে সাহায্য করে। তবে অবশ্যই অ্যালকোহল ও ধূমপান বন্ধ করতে হবে।

এর পাশাপাশি খুব আঁটসাঁট পোশাক পরা, দীর্ঘক্ষণ আপনার কোলে ল্যাপটপ নিয়ে কাজ করা, গরম পরিবেশে প্রচুর সময় কাটানো বা দীর্ঘ সময় ধরে বসে থাকা এড়িয়ে চলুন।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া


আরও খবর



সংক্ষিপ্ত বিশ্ব সংবাদ: ১১ জুন ২০২২

প্রকাশিত:Saturday ১১ June ২০২২ | হালনাগাদ:Tuesday ২৮ June ২০২২ | ৬৭জন দেখেছেন
Image

আমাদের চারপাশে অসংখ্য ঘটনা ঘটছে প্রতিদিনই। এর মধ্যে হয়তো আলোচনায় আসে হাতেগোনা কিছু। তবে সময় ও পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে বেশকিছু বিষয়। এগুলো জানা না থাকলে অনেক ক্ষেত্রেই পিছিয়ে পড়তে হয়। এ কারণে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ঘটে যাওয়া নানা ঘটনা থেকে সংক্ষেপে গুরুত্বপূর্ণ কিছু সংবাদ থাকছে জাগো নিউজের পাঠকদের জন্য-

যুদ্ধে ১০ হাজার সেনা হারিয়েছে ইউক্রেন
রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধে ইউক্রেনে ১০ হাজার সেনা নিহত হয়েছে। গত ২৪ ফেব্রুয়ারি দেশটিতে হামলা চালায় রাশিয়া। তখন থেকে এ পর্যন্ত ১০ হাজার সেনার মৃত্যু হয়েছে বলে কিয়েভের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির উপদেষ্টা ওলেক্সি আরেস্টোভিচ সামাজিক মাধ্যমে এক সাক্ষাতকারে এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তাকে প্রশ্ন করা হয়েছিল যে, যুদ্ধের একশ দিনে ইউক্রেনে কত সেনা হারিয়েছে। ইউক্রেনের পক্ষ থেকে বলা হয়, প্রতিদিনই প্রায় একশ জন করে সেনা হারাচ্ছে ইউক্রেন। এছাড়া আরও কয়েকশ সেনা আহত হয়েছে। ওলেক্সি আরেস্টোভিচ দাবি করেছেন যে, ইউক্রেনের সঙ্গে যুদ্ধে রাশিয়ার ক্ষতি কয়েকগুণ বেশি। ইউক্রেন সরকার বলছে, যুদ্ধে রাশিয়া ৩০ হাজারের বেশি সেনা হারিয়েছে।

মারিউপোলে এবার কলেরার প্রাদুর্ভাব, কয়েক হাজার মৃত্যুর শঙ্কা
যুদ্ধ-বিধ্বস্ত ইউক্রেনের মারিউপোল শহরে এবার কলেরার প্রাদুর্ভাব শুরু হয়েছে। বোমা হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ওই বন্দর নগরীর মেয়র বলেছেন, স্যানিটেশন ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে এবং কিছু কূপে মৃতদেহ পড়ে থাকায় দূষণ ছড়াচ্ছে। এই দূষণ থেকেই ডায়রিয়া এবং কলেরার প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। মারিউপোল শহরে রাশিয়ার হামলায় ইতোমধ্যেই প্রায় ২০ হাজার বাসিন্দা নিহত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর মধ্যেই ডায়রিয়া এবং কলেরায় আরও কয়েক হাজার মানুষের মৃত্যু হতে পারে বলে টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন ওই শহরের মেয়র ভাদিম বয়চেনকো। তিনি জাতিসংঘ এবং রেড ক্রসের আন্তর্জাতিক কমিটিকে একটি মানবিক করিডোর প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়েছেন, যেন অবশিষ্ট বাসিন্দারা নিরাপদে শহর ছেড়ে যেতে পারেন। এখনও ওই শহর নিয়ন্ত্রণ করছে রাশিয়া।

রাশিয়ার হামলায় ইউক্রেনের তিন লাখ টন শস্য ধ্বংস
গত সপ্তাহে ইউক্রেনের একটি গুদামে হামলা চালায় রাশিয়া। কিয়েভ বলছে, ওই গুদামে প্রায় তিন লাখ টন শস্য ছিল যা পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। দেশটির উপ-কৃষিমন্ত্রী তারাস ভিসোতস্কি এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। জাতীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে তারাস ভিসোতস্কি বলেন, রেকর্ড অনুসারে, গত ২৪ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধের শুরুতে মাইকোলাইভের কৃষ্ণ সাগর বন্দরে ইউক্রেনের বৃহত্তম কৃষি পণ্যের ওই গুদামে আড়াই লাখ থেকে তিন লাখ টন শস্য মজুত ছিল। এর মধ্যে বেশিরভাগই গম এবং ভুট্টা। ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই কৃষ্ণসাগরের বন্দরগুলো থেকে জাহাজে পণ্য পরিবহন করতে পারছে না ইউক্রেন। কারণ এগুলোর নিয়ন্ত্রণ করছে রাশিয়া। গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে হামলা চালায় রাশিয়া। তারপর থেকেই পরিস্থিতি খারাপ হতে শুরু করে।

কাজে যেতে বলায় ছুরিকাঘাতে স্ত্রীকে হত্যার পর আত্মহত্যা
বার বার কাজে যেতে বলায় স্ত্রীকে ছুরিকাঘাতে হত্যার পর আত্মহত্যা করেছেন ৩০ বছর বয়সী এক ব্যক্তি। পুলিশ এই ঘটনা নিশ্চিত করেছে। ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ভারতের মধ্য প্রদেশের জাবালপুরে এই ঘটনা ঘটেছে। রানঝি থানার এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, শুক্রবার (১০ জুন) জাবালপুরে নিজেদের বাড়ি থেকে বিভোর সাহু এবং তার স্ত্রী রিতুর (২৩) মরদেহ উদ্ধার করা হয়। রিতুর মরদেহের চারপাশে যেন রক্তের স্রোত বইছিল। ওই ঘটনার সময় বাড়িতে আর কেউ ছিলেন না। বিভোর সাহুর মা এবং ভাই একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানে গিয়েছিলেন। তারা বাড়ি ফেরার পর দুজনের মরদেহ দেখে হতবাক হয়ে যান। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, বিভোর সাহু গাড়ি চালক ছিলেন। গত ১৫ দিন ধরে তিনি কাজে যাচ্ছিলেন না। তার এমন খামখেয়ালিতে বিরক্ত হয়ে পড়েছিলেন তার স্ত্রী। হতাশা থেকেই রিতু বার বার তাকে কাজে যেতে বলেছিলেন। তিনি চেয়েছিলেন তার স্বামী তাদের জন্য উপার্জন করুক। কিন্তু সেটা যে হিতে বিপরীত হবে তা তিনি বুঝতে পারেননি।

খাবারের জন্য বাসে হানা!
ধীর পায়ে বাসের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে একটি হাতি। তাকে দেখে দাঁড়িয়ে পড়ে চলন্ত বাসটি। হাতিটি বাসের পাশে দাঁড়িয়ে জানালা দিয়ে শুঁড় দিয়ে খাবার চাচ্ছিলো। তার এমন কাণ্ড দেখে ভয়ে বাস থেকে নেমে পড়েন চালক এবং সব যাত্রী। খাবার না পেয়ে বাসে ধাক্কা দিতে শুরু করে হাতিটি। শনিবার সকালে এই ঘটনা ঘটেছে ঝাড়গ্রাম জেলার জামবনি ব্লকের পড়াডিহা এলাকায়। শনিবার সকালে পড়াডিহা এলাকায় জামবনি চিচিরা রাস্তায় উঠে পড়ে দলছুট একটি হাতি। স্থানীয় মানুষ তাকে ‘রামলাল’ নামেই চেনে। রামলাল সোজা রাস্তায় গিয়ে যাত্রীবাহী বাস আটকে দেয়। বাসের জানলা দিয়ে শুঁড় ঢুকিয়ে খাবারের তল্লাশি চালায়। কিন্তু বাসের জানালা বন্ধ করে দেওয়ায় রেগেমেগে বাসটিকেই গায়ের জোরে ধাক্কাতে থাকে সে। বাসে কোনো খাবার পায়নি সে। বেশ কিছুক্ষণ ঠেলাঠেলির পর রামলাল বুঝতে পারে যে, এখানে কিছুই মিলবে না। তাই আবার বাসটিকে ছেড়ে রাস্তা ধরে এগোতে থাকে। কিছুক্ষণ ঘোরাফেরা করার পর আবার জঙ্গলেই ফিরে যায় হাতিটি। সকাল-সকাল এলাকায় হাতি ঢুকে পড়ায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে পুরো এলাকায়।

যুদ্ধের পরেও জ্বালানি খাতে রুশ কোম্পানির মুনাফা বেড়েছে
রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলছেন, পশ্চিমা দেশগুলো আগামী কয়েক বছরেও রাশিয়ার কাছ থেকে তেল ও গ্যাস নেওয়া বন্ধ করবে না। তিনি বলেন, এই সময়ের মধ্যে কী হতে পারে সেটা কেউই জানে না, ফলে রুশ কোম্পানিগুলোকে তাদের তেল-কূপ বন্ধ করতে হচ্ছে না। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারাও স্বীকার করে নিয়েছেন যে, ইউক্রেন যুদ্ধের পর জ্বালানি খাতে রাশিয়ার মুনাফা যুদ্ধের আগের তুলনায় বেড়ে গেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন বর্তমানে তার প্রয়োজনীয় গ্যাসের ৪০ শতাংশ রাশিয়ার কাছ থেকে আমদানি করে থাকে। গত ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার পর ইউরোপের দেশগুলোর এই জোট তেল ও গ্যাসের জন্য রাশিয়ার ওপর নির্ভরতা কমিয়ে আনার কথা ঘোষণা করে। তারা বলছে, ২০০২ সালের শেষ নাগাদ তেলের ওপর নির্ভরতা ৯০ শতাংশ কমাবে। কিন্তু গ্যাসের ব্যাপারে কতোটুকু হ্রাস করা হবে এখনও তার কিছু উল্লেখ করা হয়নি। ইউক্রেন যুদ্ধের পর মস্কোকে শাস্তি দেওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়ার জ্বালানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।

ভারতে ফের বাড়ছে করোনা সংক্রমণ
ভারতে ফের বাড়তে শুরু করেছে কোভিডের সংক্রমণ। এ নিয়ে দেশটির সাধারণ মানুষের মধ্যে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। শনিবার (১১ জুন) ভারতের কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বরাত দিয়ে আনন্দবাজার পত্রিকা জানায়, দেশটিতে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৮ হাজার ৩২৯ জন, যা গত তিন মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। নমুনা সংখ্যা বিবেচনায় এ সময় দৈনিক সংক্রমণের হার ছিল ২ দশমিক ৪১ শতাংশ। তবে দৈনিক সংক্রমণ বাড়লেও, আগের দিনের (শুক্রবার) তুলনায় কমেছে মৃত্যুর সংখ্যা। ভাইরাসটিতে গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু হয়েছে ১০ জনের। আর শুক্রবার মৃতের সংখ্যা ছিল ২৪। দৈনিক সংক্রমণের শীর্ষে রয়েছে মহারাষ্ট্র। গত ২৪ ঘণ্টায় এ রাজ্যে নতুন আক্রান্ত হয়েছেন ৩ হাজার ৮১ জন। তার মধ্যে শুধু মুম্বাইয়ে নতুন আক্রান্ত এক হাজার ৯৫৬ জন। এদিকে, গত ২৩ জানুয়ারির পর ফের দৈনিক সংক্রমণের সংখ্যা দু’হাজারের কাছাকাছি পৌঁছেছে মায়ানগরীতে। সংক্রমণ বাড়তে থাকায় ফের মাস্ক বাধ্যতামূলক করেছে রাজ্য সরকার। সংক্রমণের দিক থেকে মহারাষ্ট্রের পরই রয়েছে কেরালা (২,৪১৫ জন), দিল্লি (৬৫৫ জন) ও কর্নাটক (৫২৫ জন)।

ভারতকে ১০ লাখ টন গম রপ্তানির অনুরোধ বাংলাদেশের
কোনো ধরনের বিলম্ব ছাড়াই ১০ লাখ টন গম রপ্তানি করতে ভারতের কাছে অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। জানা গেছে, ভারত রপ্তানি নিষিদ্ধ করার আগেই এসব গমের জন্য ঋণপত্র (এলসি) খুলেছিলেন বাংলাদেশি আমদানিকারকরা। সম্প্রতি ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে এই অনুরোধ জানায় নয়াদিল্লির বাংলাদেশ হাইকমিশন। শনিবার (১১ জুন) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ইকোনমিক টাইমস জানিয়েছে, ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বাংলাদেশ হাইকমিশনের পাঠানো চিঠির একটি অনুলিপি হাতে পেয়েছে তারা। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ প্রতি বছর ৬৭ লাখ টন গম আমদানি করে। এর মধ্যে আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে ১২ থেকে ১৩ লাখ টন গম সংগ্রহ করে বাংলাদেশ সরকার। আর ৫০ লাখ টনের বেশি গম বেসরকারিভাবে আমদানি করা হয় ভারত থেকে। গত ২৫ মে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠকের পর গত ১৩ মের আগে ইস্যু হওয়া এলসিগুলোর একটি তালিকা তৈরি করে বাংলাদেশ, যেখানে ওই ১০ লাখ টন গম আমদানির কথা উল্লেখ রয়েছে।

সরকারি কর্মকর্তাদের নতুন গাড়ি কেনা বন্ধ করছে পাকিস্তান
আর্থিক ঘাটতি কমানোর লক্ষ্যে ধনীদের ওপর কর বাড়ানো এবং সরকারি কর্মকর্তাদের নতুন গাড়ি কেনা বন্ধ করছে পাকিস্তান। শুক্রবার (১০ জুন) দেশটির অর্থমন্ত্রী মিফতাহ ইসমাইল এ তথ্য জানিয়েছেন। মূলত সরকারের খরচ কমানো, বাজেটে ঘাটতি নিয়ন্ত্রণের চাপ মোকাবিলা এবং আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ঋণ সহায়তার শর্তপূরণে এই পদক্ষেপ নিচ্ছে পাকিস্তান। ২২ কোটি জনসংখ্যার দেশটি কয়েক বছর ধরেই গুরুতর অর্থনেতিক সংকটে ভুগছে। পাকিস্তানে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ এক হাজার কোটি মার্কিন ডলারের নিচে নেমে গেছে। এই অর্থ দিয়ে বড়জোর ৪৫ দিনের আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব। তাদের আর্থিক ঘাটতির পরিমাণ দিন দিন বেড়েই চলেছে। শুক্রবার ২০২২-২৩ অর্থবছরের জন্য পাকিস্তানের বাজেট পেশ করেছেন শাহবাজ সরকারের অর্থমন্ত্রী মিফতাহ ইসমাইল। এসময় তিনি জানিয়েছেন, সরকার ধনীদের ওপর বাড়তি কর আরোপের পাশাপাশি বিলাসবহুল গাড়ি আমদানি ও সরকারি কর্মকর্তাদের নতুন গাড়ি কেনা নিষিদ্ধ করবে।

মহানবিকে (সা.) কটূক্তি: ভারতে পুলিশ-বিক্ষোভকারী সংঘর্ষে নিহত ২
মহানবিকে (সা.) নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্যের জেরে উত্তাল হয়ে উঠেছে ভারত। কটূক্তিকারী বিজেপি নেতা নূপুর শর্মা ও নবীন জিন্দালকে গ্রেফতারের দাবিতে শুক্রবার (৯ জুন) থেকে দেশটির নানা প্রান্তে বিক্ষোভ হয়েছে। রাঁচিতে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে। জানা গেছে, এই সংঘর্ষে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন অন্তত ১০ জন। রাজেন্দ্র ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্স কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে, পুলিশ-বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষের পরে হাসপাতালে নেওয়া দুই ব্যক্তি মারা গেছেন। আরও ১০ জনকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়ারের খবরে বলা হয়েছে, শুক্রবার ডেইলি মার্কেটের কাছে রাঁচি মূল সড়কে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ দেখান কয়েক হাজার মুসলিম। এসময় তাদের ওপর পুলিশ গুলি চালালে অন্তত দুজজন নিহত এবং ১০ জনের বেশি গুরুতর আহত হন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হনুমান মন্দিরের কাছে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করলে কিছু লোক উল্টো পাথর ছুড়তে শুরু করে। এরপর পরিস্থিতি ধীরে ধীরে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।


আরও খবর



এসবিএসি ব্যাংকের বার্ষিক সাধারণ সভা

প্রকাশিত:Saturday ২৫ June ২০২২ | হালনাগাদ:Tuesday ২৮ June ২০২২ | ৫৪জন দেখেছেন
Image

সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স (এসবিএসি) ব্যাংকের নমব বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (২৫ জুন) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে ভার্চুয়াল প্লাটর্ফমে এ এজিএম অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন ব্যাংকের পর্ষদ চেয়ারম্যান আবদুল কাদির মোল্লা। এ সময় ব্যাংকের ভাইস চেয়ারম্যান মিজানুর রহমানসহ অন্যান্য পরিচালক এবং শেয়ারহোল্ডাররা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন— ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী মোসলেহ উদ্দীন আহমেদ এবং সভা পরিচালনা করেন কোম্পানি সেক্রেটারি মো. মোকাদ্দেস আলী। সভায় ২০২১ সালের আর্থিক বিবরণী এবং শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ৪ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা করা হয়। এর মধ্যে ৩ শতাংশ নগদ ও ১ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ দেওয়া হয়।

সভায় চেয়ারম্যান আবদুল কাদির মোল্লা বলেন, করোনা মহামারিতে ব্যবসা-বাণিজ্যের মন্দার কারণে বিগত দুই বছর ব্যাংকিংখাতের জন্য অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং ছিল। উদ্ভুত পরিস্থিতি মোকাবিলায় এসবিএসি ব্যাংকের দক্ষ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। যার ফলশ্রুতিতে আমাদের মুনাফার ধারা অব্যাহত রয়েছে। তিনি বলেন, আমরা সুশাসনে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি। দায়িত্বশীলতা, জবাবদিহিতা, ন্যায্যতা ও স্বচ্ছতার ভিত্তিতে আমরা পরিচালিত হবো। গ্রাহকদের সন্তুষ্টির জন্য আমাদের সর্বদা সজাগ রয়েছি।

ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও মোসলেহ উদ্দীন আহমেদ বলেন, আমরা এ ব্যাংকটিকে একটি জনকল্যাণমূলক ও ব্যবসাসফল ব্যাংকে রূপান্তর করতে চাই। ব্যাংকের প্রত্যেক আর্থিক সূচক যেনো টেকসই ও প্রবৃদ্ধির ধারাবাহিকতা ইতিবাচক থাকে সে জন্য আমরা শতভাগ প্রভিশন সংরক্ষণ করেছি। মহামারি কোভিড এবং সাম্প্রতিক যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ব্যাংকের মুনাফায় কিছুটা আঘাত এসেছে সত্য, কিন্তু এরই মধ্যে দেশের আমদানি-রফতানিতে ইতিবাচক ধারা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আশা করছি, আগামীতে ব্যাংক কাঙ্ক্ষিত মুনাফা করতে পারবে।


আরও খবর



মেডিকেলের মালামাল নিয়ে পালানোর সময় ২ নারী আটক, নার্সকে অব্যাহতি

প্রকাশিত:Wednesday ০৮ June ২০২২ | হালনাগাদ:Monday ২৭ June ২০২২ | ৪৫জন দেখেছেন
Image

বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে ছয়টি কম্বল, পাঁচটি এপ্রোন, পাঁচ প্যাকেট টিস্যু, এক বান্ডিল গজ কাপড় নিয়ে পালানোর সময় দুই নারীকে আটক করা হয়েছে।

বুধবার (৮ জুন) দুপুরে হাসপাতালের নিচতলা থেকে আনসার সদস্যরা তাদের আটক করেন। পরে তাদের পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।

আটকরা হলেন- বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার খ্রিস্টান পাড়া এলাকার হ্যাপি বাড়ৈ ও রাইসা বাড়ৈ।

হাসপাতালের নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত আনসার কমান্ডার মোশারফ হোসেন বলেন, দুপুর দেড়টার দিকে ওই দুই নারী বেশ কিছু মালামাল নিয়ে হাসপাতাল থেকে বেড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। সন্দেহ হলে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করলে অসংলগ্ন কথাবার্তা বলেন। একপর্যায়ে ওই দুই নারী জানান হাসপাতালের সার্জারি ওয়ার্ডের ইনচার্জ নার্স সীমা বাড়ৈ তাদের পরিচিত। আরজ তাদের ডেকে সীমা বাড়ৈ ওই মালামাল তাদের হাতে দিয়েছেন। পরে তাদের হাসপাতাল পরিচালকের কাছে নিয়ে যান।

হাসপাতালের পরিচালক ডা. সাইফুল ইসলাম জানান, সীমা বাড়ৈকে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি বিষয়টি অস্বীকার করেন। সরকারি মালামাল চুরির চেষ্টায় হাসপাতালের উপ-পরিচালক জাহাঙ্গীর আলমকে প্রধান করে ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী তিন কার্য দিবসের মধ্যে কমিটিকে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি তদন্ত প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত নার্স সীমা বাড়ৈকে দায়িত্ব থেকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হয়।

বরিশাল কোতোয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিমুল করিম জানান, মালামলসহ দুই নারীকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে। অভিযোগ পেলে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


আরও খবর



ঋণের বোঝা চাপিয়ে কিডনি বিক্রির প্রলোভন

প্রকাশিত:Sunday ০৫ June ২০২২ | হালনাগাদ:Monday ২৭ June ২০২২ | ৫৩জন দেখেছেন
Image

জয়পুরহাটে দালালের ফাঁদে পা দিয়ে কিডনি বিক্রি করছেন গ্রামের অভাবি মানুষ। মূলত স্বাচ্ছন্দ্যে থাকার আশা, দাদন ব্যবসায়ীর চাপ, মেয়ের বিয়ের খরচ, জুয়া খেলা কিংবা নেশার টাকা জোগাড় করতে তারা কিডনি বিক্রি করেন। তবে এতে বিক্রেতারা সামান্য নগদ অর্থ হাতে পেলেও সিংহভাগ অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে দালাল চক্র।

গ্রামের বেকার, দিনমজুর, ভ্যানচালক, হতদরিদ্র সহজ সরল মানুষগুলোকে টার্গেট করে দালাল চক্র ও দাদন ব্যবসায়ীরা। অভাবের কারণে কিছু টাকা চড়া সুদে ধার দেন দালাল চক্র ও দাদন ব্যবসায়ীরা। তাদের ধার ও সুদের টাকা সময় মতো না দিতে পারলে শুরু হয় শরীর থেকে কিডনি নেওয়ার অভিনব সু-কৌশল।

অভাবি ও ঋণগ্রস্ত মানুষদের মোটা অর্থের প্রলোভন দেখিয়ে তাদের কিডনি বিক্রি করতে বাধ্য করা দালাল চক্রের ২ সদস্যকে সম্প্রতি গ্রেফতার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। তথ্য-প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার ওই দালালদের ঢাকার বিভিন্ন স্থান থেকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতাররা হলেন- কালাই উপজেলার টাকাহুত গ্রামের মৃত বেলায়েত হোসেন সরকারের ছেলে আব্দুল গোফফার সরকার (৪৫) ও জয়পুর-বহুতি গ্রামের আব্দুস সাত্তারের ছেলে নূর আফতাব (৪২)।

কয়েক বছর ধরে কিডনি বিক্রির খবর শোনা না গেলেও ১৪ মে জেলার কালাই ও পাঁচবিবি উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম থেকে দালাল চক্রের আরও ৭ সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়। তারা হলেন- সাহারুল ইসলাম (৩৮), ফরহাদ হোসেন চপল (৩১), মোশাররফ হোসেন (৫৪), মোকাররম হোসেন (৫৪), শাহারুল ইসলাম (৩৫), সাইদুল ফকির (৪৫) ও সাদ্দাম হোসেন (৪০)।

জেলা পুলিশ সুপার মাছুম আহম্মদ ভূঞা জানান, কিডনির দালাল চক্র তিনটি স্তরে কাজ করে। প্রথম স্তরে আছে একবারে স্থানীয় পর্যায়ের কিছু অর্থলোভী, যাদের কাজ এলাকার বিভিন্ন অসহায় ব্যক্তিদের টার্গেট করা এবং মোটা অংকের টাকার লোভ দেখিয়ে প্রলুব্ধ করা। তাদের ফাঁদে পা দেয় বা রাজি হয় এমন ভিকটিমদেরকে ঢাকায় নিয়ে গিয়ে চক্রের দ্বিতীয় স্তরের সদস্যদের সঙ্গে সম্বনয় করে তাদের কাছে হস্তান্তর করে এ স্তরের দালালরা।

দ্বিতীয় স্তরের সদস্যরা ভিকটিমদের ঢাকা শহরে থাকা-খাওয়া, বিভিন্ন শারীরিক পরীক্ষা-নীরিক্ষা, পাসপোর্ট ভিসাসহ আনুষাঙ্গিক কাগজপত্র প্রস্তুত করে তৃতীয় স্তরের চক্রের কাছে হস্তান্তর করে। এই দ্বিতীয় স্তরের সদস্যদের মধ্যে কিছু অসাধু ডাক্তার ও ক্লিনিক জড়িত।

এই চক্রের তৃতীয় স্তরের সদস্যরা ভিকটিমদের দেশে ও দেশের বাইরে বিশেষ করে ভারত ও দুবাইতে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে তাদের সুবিধামতো সময়ে ভিকটিমদের শরীর থেকে কিডনি অপসারণ করা হয়।

পুলিশ সুপার মাছুম আরও জানান, সাম্প্রতিক সময়ে কালাই থানা এলাকা থেকে কয়েকজন লোক কিডনি চক্রের প্রধান দালাল সাত্তারের মাধ্যমে দুবাই ও ভারতে অবস্থান করছেন। গ্রেফতার দালালরা দীর্ঘদিন ধরে জয়পুরহাট জেলাসহ পার্শ্ববর্তী নওগাঁ, গাইবান্ধা, দিনাজপুর এলাকার নিরীহ, ঋণগ্রস্ত ও হতদরিদ্র নারী এবং পুরুষদের মোটা অংকের টাকার লোভ দেখিয়ে তাদের কিডনি বিক্রি করতে বাধ্য করে আসছিলেন।

মূলহোতা ছাত্তার

জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার বহুতি গ্রামের আব্দুল জোব্বার খলিফার ছেলে আব্দুস ছাত্তার অভাবের তাড়নায় কাজের খোঁজে ২০০৫ সালে ঢাকায় পাড়ি জমান। সেখানে ঢাকার বুরাইজ কর্পোরেশন নামক একটি প্রতিষ্ঠানে দারোয়ানের চাকরি নেন। সেখানে চাকরিরত অবস্থায় ওই কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালকের ছেলে কিডনি রোগে আক্রান্ত হয়। সেসময় আব্দুস ছাত্তার আড়াই লাখ টাকার বিনিময়ে সিঙ্গাপুর মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে তার একটি কিডনি বিক্রি করেন।

কিডনি বিক্রির টাকা পেয়ে ওই চাকরি ছেড়ে গ্রামে ফিরে এসে দুই সন্তানের জননি চাচাতো বোন আছিয়া বেগমকে তার স্বামীর বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে বিয়ে করেন। এরপর গ্রামের বহুতি বহুমুখী আলিম মাদরাসার সভাপতি শ্বশুর বোরহান উদ্দিন ফকিরের মাধ্যমে চাকরি নেন নৈশ প্রহরীর। সেই ছাত্তার এখন রীতিমত স্বচ্ছল। ২০০৫ সালে কিডনি বিক্রি করতে গিয়ে পরিচয় হয় কিডনি বিক্রি চক্রের মূল হোতা ঢাকার দালাল তারেকের সঙ্গে। এক পর্যায়ে তার সঙ্গে সখ্যতা গড়ে ওঠে। দালাল তারেকের লোভনীয় দিক নির্দেশনায় তিনি জড়িয়ে পড়েন ওই চক্রের সঙ্গে। এরপরই অল্প সময়ের মধ্যে তিনি হয়ে ওঠেন ধনাঢ্য।

kid

গ্রামের অভাবি মানুষদের অভাব দূর করতে কিডনি বিক্রি করতে প্রলুব্ধ করেন তিনি। নীরিহ মানুষদের জানান, শরীরের দুটো কিডনির একটি বিক্রি করলে কোনো সমস্যা হবে না। আর বিনিময়ে পাওয়া যাবে দেড় থেকে দুই লাখ টাকা। এতে কাজও হয়। আর এ কাজে কিডনি প্রতি লক্ষাধিক টাকা কমিশন পেয়ে আব্দুস ছাত্তার প্রচুর বিত্ত বৈভবের মালিক হন।

প্রতি সপ্তাহে কিডনি দাতাদের রক্ত পরীক্ষার পাশাপাশি কিডনি প্রতিস্থাপনের জন্য ঢাকায় পাড়ি জমান ছাত্তার। তারপর থেকে ক্রমান্বয়ে এ এলাকায় কিডনি বিক্রেতাদের তালিকা বাড়তে থাকে। ২০১১ সালে গ্রেফতার হলেও জামিন নিয়ে ছাত্তার এখন ঢাকায় অবস্থান করে কিডনি চক্র পরিচালনা করেন।

কিডনি চক্রের দালাল, অভাবি কিডনি বিক্রেতা ও এর সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে এ পর্যন্ত থানায় ৪টি মামলা হলেও আইনের ফাঁক ফোকরে জামিনে বেরিয়ে এসে আবারো তারা সক্রিয় হয়ে উঠছে। ফিরে যাচ্ছে পুরনো পেশায়। যে কিডনি বিক্রি করে পরবর্তীতে সেই কিডনির দালালে পরিণত হয়, গ্রামের সহজ-সরল অভাবি মানুষদের একটি কিডনি দিলে কোনো ক্ষতি হয় না এই কথাগুলো বোঝায়।

তবে কালাই উপজেলার মাত্রাই, উদয়পুর, আহমেদাবাদ ইউনিয়নের ২০ গ্রামের কিডনি বিক্রেতারা রোগে শোকে কর্মক্ষমতা হারিয়ে এখন মৃত্যুর প্রহর গুনছেন। তারপরও থেমে নেই কিডনি কেনা-বেচা চক্রের অপতৎপরতা।

অনুসন্ধান ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১১ সাল থেকে কালাই উপজেলার মাত্রাই ও উদয়পুর ইউনিয়নের প্রায় ৪০টি গ্রামে বেকার, দিনমজুর, ভ্যানচালক, হতদরিদ্র সহজ সরল মানুষগুলোকে টার্গেট করে দালাল চক্র ও দাদন ব্যবসায়ীরা। অভাবের কারণে কিছু টাকা চড়া সুদে ধার দেন দালাল চক্র ও দাদন ব্যবসায়ীরা। তাদের ধার ও সুদের টাকা সময় মতো না দিতে পারলে শুরু হয় শরীর থেকে কিডনি নেওয়ার অভিনব সু-কৌশল। কাউকে ঢাকায় গার্মেন্টসে চাকরি, কাউকে রিকশা চালানো, কাউকে মিল ফ্যাক্টারিতে কাজের বেশি বেতনের লোভ দেখায়। তারপর তাদের ঢাকায় নিয়ে যায়। এরপর সু-কৌশলে দালাল চক্রের চুক্তি করা ক্লিনিক ও হাসপাতালগুলোতে তাদেরকে কিডনি দেওয়ার জন্য ৩ থেকে ১০ লাখ টাকা দেওয়া হবে বলে পরীক্ষা করান। তারপরই তাদের নির্ধারিত জায়গায় রেখে বিভিন্ন জেলা থেকে পাসপোর্ট ও ভিসা সম্পন্ন করে তাদের ভারতে দালালদের চুক্তিকরা হাসপাতালে কিডনি ট্রান্সফারের জন্য পাঠান। কিডনি দেওয়ার পর হাসপাতালের ব্যবস্থাপত্র বা অন্য কোনো কাগজপত্র না দিয়ে শুধু পাসপোর্ট দিয়ে তাদেরকে বাংলাদেশে পাঠানো হয়।

দেশে আসার পরই শুরু হয় ভুক্তভোগীদের শারীরিক নানা অসুস্থতা। পড়েন আইনি নানা জটিলতায়। আবার স্থানীয় প্রভাবশালী দালালদের কাছে টাকা চাইলে চুক্তির টাকা না দিয়ে, দেন নানা রকম হুমকি। এ পর্যন্ত কিডনি সংক্রান্ত ১৬টি মামলা হয়েছে। কিন্তু আইনের ফাঁক ফোকরে জামিনে বেরিয়ে এসে আবারো সক্রিয় হয়ে উঠেছেন দালালরা।

জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার কয়েকটি গ্রামের কিডনি বিক্রেতারা বর্তমানে ভালো নেই। ঋণের বেড়াজাল থেকে বেড়িয়ে এসে যে মানুষগুলো একটু উন্নত জীবন যাপনের স্বপ্ন দেখেছিলেন তারা এখন রোগ শোকে কর্মশক্তি হারিয়ে মৃত্যুর প্রহর গুনছেন। ৫ থেকে ৭ বছর আগে কিডনি দেয়া এ মানুষগুলো এখন নানা ধরণের সমস্যায় ভুগছেন। এদের কোমরে ব্যথা হয়, মাঝে মধ্যেই জ্বর হয়, হয় প্রস্রাবের জ্বালা যন্ত্রণা। একটু হাঁটাচলা করলেই শাসকষ্ট দেখা দেয়। ভারী কাজ একেবারেই করতে পারছেন না তারা। এছাড়া কিডনি বিক্রি করায় সমাজে হেয় হচ্ছেন তারা।

কিডনি বিক্রেতা দুলাল মিয়া জানান, অভাবের কারণে তিনি গ্রামের পাঁচজন দাদন ব্যবসায়ীর কাছ থেকে চড়া সুদে এক লাখ টাকা ঋণ করেন। তিন মাস পরপর প্রতি হাজারে দেড় হাজার টাকা হারে কিস্তি দিতে হতো। শরীরই তার সম্পদ। যা রোজগার করতেন দাদন ব্যবসায়ীদের কিস্তি চালাতেই শেষ হতো। স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়ের ভরণ-পোষণ ভালোভাবে করতে পারতেন না। দুলালের দুর্বলতার সুযোগ নেন একই গ্রামের কিডনি বিক্রির দালাল কাউছার। দেনা থেকে মুক্তি পাওয়াসহ উন্নত জীবন যাপনের প্রলোভন দেখান তাকে। দালালের পাতা ফাঁদে পা দিয়ে ৬ লাখ টাকা চুক্তিতে কুমিল্লার মাহবুবুল আলম সিদ্দিকী নামে এক প্রকৌশলীর কাছে কিডনি বিক্রি করেন। কিন্তু বিনিময়ে পান মাত্র ৮০ হাজার টাকা।

বাকি টাকার কথা কিডনি গ্রহিতার লোকজনকে জিজ্ঞাসা করলে কাউছারকে সব টাকা দেওয়া হয়েছে বলে জানান। কাউছারের সঙ্গে টাকার জন্য যোগাযোগ করলে সে বিভিন্ন রকম ভয়-ভীতি দেখান এবং মেরে ফেলার হুমকিও দেন।

তিনি বলেন, ওই টাকায় আমার দেনাও মিটেনি, অভাবও ঘোচেনি। বরং কিডনি বিক্রির সঙ্গে সঙ্গে নিজের কাজ করার ক্ষমতাটুকুও হারিয়ে ফেলেছি।

তিনি আরও জানান, প্রায় চার মাস ধরে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও যাবতীয় প্রক্রিয়া শেষে ভারতের ফোর্টিস হাসপাতালে তার কিডনি প্রতিস্থাপন করা হয়। এজন্য কুমিল্লার প্রকৌশলী মাহবুবুল আলম সিদ্দিকীর সঙ্গে তার ছোট ভাইয়ের সম্পর্ক দেখানো হয়। তার নাম ঠিক রেখে কুমিল্লার ঠিকানায় আইডিকার্ডসহ যাবতীয় কাগজপত্র জালিয়াতি করে তৈরি করা হয়।

জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার ভেরেন্ডি গ্রামের কিডনি বিক্রেতা মেহেরুল ইসলাম বলেন, ঋণের বোঝায় জর্জরিত হয়ে এবং অর্থের মোহে পড়ে দুই লাখ টাকার বিনিময়ে সাত বছর আগে আমি আমার শরীরের মূল্যবান অঙ্গ কিডনি বিক্রি করে নিজের কর্মক্ষমতাও বিক্রি করেছি। এখন আমি আর কোনো কাজ-কর্ম করতে পারি না। নিজেকে বড় অসহায় আর অপরাধী মনে হয়। আমি যে ভুল করেছি, এমন ভুল যেন আর কেউ না করে।’

তিনি আরো বলেন, বর্তমানে আমি ভালো নেই। ভারি কোনো কাজ করলে, হাঁটাচলা করলে সারা শরীরে ব্যথা হয়। মাঝে মধ্যেই জ্বর হয়, প্রস্রাবে জ্বালা যন্ত্রণা হয়, হয় শাসকষ্টও। শুধু আমিই নয়, আমার পরিবারের আরও তিন সদস্য কিডনি বিক্রি করেছে।

কেবল মেহেরুলই নয় একই ধরনের কথা বলেন, উপজেলার উলিপুর গ্রামের সোনিয়া আক্তার, ভেরেন্ডি গ্রামের আকতার আলম ও রেজাউল করিম, কাশিপুর গ্রামের আবেদ আলী, বোড়াই গ্রামের কিডনি বিক্রেতা দম্পতি বেলাল উদ্দিন ও জোসনা বেগম, আইনুল, ভেরেন্ডির আক্তারুজ্জামান, উলিপুর গ্রামের আজাদুল, বাগইলের মিজানসহ অনেকেই।

jagonews24

কালাই উপজেলার মাত্রাই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আ ন ম শওকত হাবীব তালুকদার লজিক ও উদয়পুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ওয়াজেদ আলী দাদা বলেন, যারাই কিডনি বিক্রি করছেন তারাই আবার দালাল হয়ে যাচ্ছেন। হটাৎ করে কিডনি বিক্রির প্রবণতা বেশি শোনা যাচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন ও আমরা জনপ্রতিনিধিরা তাদের সচেতন ও কিডনি বিক্রি বন্ধ করতে সভা সেমিনারসহ নানা কর্মসূচি করছি। এছাড়াও কিডনি বিক্রি দালাল চক্রের কোনো তথ্য পেলেই আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানো হয়।

কালাই উপজেলা চেয়ারম্যান মিনফুজুর রহমান মিলন বলেন, অভাব আর ঋণের কারণে কিডনি বিক্রি করছে, পুরোপুরি এমনটি নয়। লোভে পড়ে কিছুটা আয়েশি জীবনের আশায় তারা শরীরের মূল্যবান অঙ্গ কিডনি বিক্রি করছেন। শত চেষ্টাতেও কিডনি বিক্রি আর দালালদের দৌরাত্ম্য বন্ধ করা যাচ্ছে না, পেছনে অদৃশ্য শক্তির হাত রয়েছে।

জয়পুরহাট সিভিল সার্জন ডা. ওয়াজেদ আলী বলেন, একটি কিডনি বিক্রি করলে ২ কিডনির বদলে ১টি কিডনির উপর চাপ পড়ে। এতে শরীরে নানা রকম ক্ষতি ও সমস্যা হতে পারে। সরাসরি আইন প্রয়োগ করা আমাদের সুযোগ নেই। কেবল কিডনি দেওয়ার কারণেই কিডনি দাতাদের শরীরের নানা রকম উপসর্গে দেখা দিয়েছে, এ কথা ঠিক নয়। তবে একটি কিডনি দিয়েও মানুষ চলতে পারে।

তিনি মনে করেন, অপুষ্টিসহ একজন সাধারণ মানুষের মতো এসব কিডনি দাতারাও অসুখে পড়তে পারেন। তবে স্বাস্থ্যবিভাগের মাধ্যমে অনেকেই চিকিৎসা নিচ্ছে, আমাদের কাছে এলে অবশ্যই তাদের চিকিৎসা দেওয়া হবে।

কিডনি বিক্রি রোধের ব্যাপারে তিনি জানান, কারও একার পক্ষে কিডনি বিক্রি রোধ করা সম্ভব নয়, তবে স্বাস্থ্যবিভাগ, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও ইউনিয়ন পরিষদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় রোধ করা সম্ভব।

জয়পুরহাট জেলা পুলিশ সুপার মো. মাছুম আহম্মদ ভূঁঞা জানান, কিডনি বিক্রি ও দালালদের বিরুদ্ধে ইতোপূর্বেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, এখনো হচ্ছে ও বড়-বড় দালালদের ধরতে আমাদের কার্যক্রম অব্যাহত আছে বলে জানালেন পুলিশ সুপার।

মানবদেহের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ কেনাবেচা করা দেশের প্রচলিত আইনে দণ্ডনীয় অপরাধ। তবে এ আইনের বাইরে রক্তের সর্ম্পকে সম্পর্কীত মা-বাবা, ভাই-বোন, পুত্র-কন্যা, আপন চাচা, ফুফু, মামা, খালা এবং রক্তের সর্ম্পকের বাইরে শুধু স্বামী-স্ত্রীসহ ১২ সর্ম্পকের আত্মীয়কে স্বেচ্ছায় কিডনি দান করা যায়। সে ক্ষেত্রে দাতার বয়সসীমা অবশ্যই ১৮ বছরের কম এবং ৬৫ বছরের বেশি হবে না। স্বেচ্ছায় দানের ক্ষেত্রেও গৃহীতা রক্তের সম্পর্কীয় আত্মীয় জুডিসিয়াল স্ট্যাম্পে এমন লিখিত অঙ্গীকার চিকিৎসকদের কাছে জমা দিতে হয় কিডনি দাতাকে।

কিন্তু কালাই থেকে ইতোমধ্যে যারা কিডনি বিক্রি করেছেন, তারা কেউই হলফনামায় আসল তথ্য দেননি। গৃহীতারা পৃর্ব পরিচিত না হলেও হলফনামায় রক্তের সম্পর্কীয় আত্মীয়ের তথ্য দিয়ে কিডনি বিক্রি করেছেন।

‘মানবদেহে অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সংযোজন আইন-১৯৯৯’ এর ৯ ধারায় অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ক্রয়-বিক্রয় সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আইনে বলা হয়েছে সুস্থ ও স্বাভাবিক জ্ঞান সম্পূর্ণ কোনো ব্যক্তি অন্যের দেহে সংযোজনযোগ্য কিডনি, হৃৎপিণ্ড, যকৃত, অগ্নাশয়, অস্থি, চর্ম, টিস্যুসহ কোনো অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ক্রয়-বিক্রয়, বিনিময়ে কোনো সুবিধা লাভ, সেই উদ্দেশ্যে কোন প্রকার বিজ্ঞাপন প্রদান বা প্রচারণা করতে পারবেন না।

একই আইনের ১০ ধারা অনুযায়ী এ আইন লংঘন করে কেউ অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বিক্রি বা ক্রয় কিংবা সহায়তা করলে সর্বনিম্ন ৩ বছর থেকে সর্বোচ্চ ৭ বছর পর্যন্ত সশ্রম কারাদণ্ড এবং কমপক্ষে ৩ লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন। ওই আইন অনুযায়ী আত্মীয়ের মিথ্যা পরিচয়ে কেউ কিডনি বিক্রি করলে দাতা ছাড়াও ক্রেতা, সহায়তাকারী দালাল এবং কিডনি সংযোজনে জড়িত চিকিৎসকদের ক্ষেত্রেও একই শাস্তি প্রযোজ্য হবে। এছাড়া চিকিৎসকের সনদ বাতিলের বিধান রাখা হয়েছে আইনে।


আরও খবর



প্রতিটি মসজিদে শিবলিঙ্গ খোঁজার কী প্রয়োজন! বললেন মোহন ভাগবত

প্রকাশিত:Friday ০৩ June ২০২২ | হালনাগাদ:Monday ২৭ June ২০২২ | ৬১জন দেখেছেন
Image

উত্তর প্রদেশের বারাণসীতে জ্ঞানবাপী মসজিদ বিতর্কে প্রথম বার মুখ খুললেন ভারতের হিন্দু জাতীয়তাবাদী সংগঠন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) প্রধান মোহন ভাগবত। প্রতিটি মসজিদে শিবলিঙ্গ খোঁজার কী প্রয়োজন! বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। মন্দির-মসজিদ বিতর্কে পারস্পরিক ঐকমত্যের ভিত্তিতে উপায় বের করার কথা বলেছেন আরএসএস প্রধান।

রাম মন্দিরের পরে কাশীর জ্ঞানবাপী মসজিদে পুজোপাঠ করা ও মথুরার শাহি ঈদগা সরানোর দাবিতে সরব ভারতের হিন্দুত্ববাদীদের একাংশ। বিষয়টি গড়িয়েছে আদালত পর্যন্ত।

এমন পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবার (২ জুন) নাগপুরে এক সভায় মোহন ভাগবত বলেন, ‘আমাদের কিছু জায়গা (ধর্মীয় স্থান) নিয়ে বিশেষ ভক্তি থাকতে পারে। কিন্তু তা বলে রোজ নতুন নতুন বিষয় কেন জাগিয়ে তোলা হবে? আমাদের আদৌ বিতর্ক বাড়ানো উচিত নয়। জ্ঞানবাপী নিয়ে আমাদের ভক্তি-শ্রদ্ধা থাকতেই পারে। কিন্তু তা বলে প্রত্যেক মসজিদেই কেন শিবলিঙ্গ খোঁজা হবে?’

জ্ঞানবাপী প্রসঙ্গে সঙ্ঘপ্রধান আরও বলেন, ‘ইতিহাসকে পাল্টানো যায় না। আজকের কোনও হিন্দু বা মুসলিম এটা তৈরি করেননি। অতীতে হয়েছিল। বহিরাগত আক্রমণকারীদের মাধ্যমে ইসলাম এ দেশে এসেছিল। দেশের স্বাধীনতাকামীদের মনোবল নষ্ট করতে দেবস্থান ভাঙা হয়েছিল।’ সবাইকে আদালতের সিদ্ধান্ত মেনে চলারও আহ্বান জানান তিনি।

ভাগবত বলেন, ‘ওরা হয়তো অন্য ধরনের উপাসনা করেন। কিন্তু মুসলিমরা আসলে আমাদেরই মুনি-ঋষি ও ক্ষত্রিয়দের বংশধর।’

জ্ঞানবাপীর পরে কুতুব মিনারে পুজোপাঠ, তাজমহলের প্রকৃত সত্য জানতে চেয়ে সরব হয়েছে আরেকটি অংশ। অনেকে বলছেন, এ নিয়ে বেশি বাড়াবাড়ি করলে সমাজে অসহিষ্ণুতা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তারা মনে করছে, ভবিষ্যতে প্রায় প্রতিটি সংখ্যালঘু ধর্মস্থানের ঐতিহাসিক সত্য জানতে চেয়ে কেউ না কেউ যদি আদালতের দ্বারস্থ হতে থাকেন এবং কাঙ্ক্ষিত ফল না পান, সে ক্ষেত্রে দায় আসবে বিজেপির উপরে।

বারাণসী জেলা আদালত হিন্দু নারীদের দায়ের করা মামলাকে চ্যালেঞ্জ করে জ্ঞানবাপী মসজিদ কমিটির আবেদনের শুনানি ৪ জুলাই পর্যন্ত পিছিয়ে দিয়েছেন।

সূত্র: এনডিটিভি, আনন্দবাজার


আরও খবর