Logo
আজঃ Tuesday ২৮ June ২০২২
শিরোনাম
নাসিরনগরে বন্যার্তদের মাঝে ইসলামী ফ্রন্টের ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ রাজধানীর মাতুয়াইলে পদ্মাসেতু উদ্ধোধন উপলক্ষে দোয়া মাহফিল রূপগঞ্জে ভূমি অফিসে চোর রূপগঞ্জে গৃহবধূর বাড়িতে হামলা ভাংচুর লুটপাট ॥ শ্লীলতাহানী নাসিরনগরে পুকুরের মালিকানা নিয়ে দু পক্ষের সংঘর্ষে মহিলাসহ আহত ৪ পদ্মা সেতু উদ্ভোধন উপলক্ষে শশী আক্তার শাহীনার নেতৃত্বে আনন্দ মিছিল করোনা শনাক্ত বেড়েছে, মৃত্যু ২ জনের র‍্যাব-১১ অভিমান চালিয়ে ৯৬ কেজি গাঁজা,১৩৪৬০ পিস ইয়াবাসহ ৬ মাদক বিক্রেতাকে গ্রেফতার করেছে বন্যাকবলিত ভাটি অঞ্চল পরিদর্শন করেন এমপি সংগ্রাম পদ্মা সেতু উদ্বোধনে রূপগঞ্জে আনন্দ উৎসব সভা ॥ শোভাযাত্রা
অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলায় আদালতে আত্মসমর্পণ

আত্মসমর্পণের পর জামিন নামঞ্জুর প্রদীপের স্ত্রী চুমকির

প্রকাশিত:Monday ২৩ May ২০২২ | হালনাগাদ:Tuesday ২৮ June ২০২২ | ১১৪জন দেখেছেন
Image

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ

আদালতে আত্মসমর্পণ করেছেন টেকনাফ মডেল থানার বরখাস্ত হওয়া ওসি প্রদীপ কুমার দাশের স্ত্রী চুমকি।


 সোমবার (২৩ মে) সকালে চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিশেষ জজ মুন্সী আবদুল মজিদের আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন চান তিনি।


শুনানি শেষে বিচারক তার আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।


দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আইনজীবী মাহমুদুল হকের সহকারী অ্যাডভোকেট সাকিব বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।



এছাড়া এদিন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদক চট্টগ্রামের সহকারী পরিচালক রিয়াজ উদ্দিন আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন। দুপুর সাড়ে ১২টায় আদালতে তদন্ত কর্মকর্তাকে আইনজীবীরা জেরা করেন বলে জানিয়েছেন অ্যাডভোকেট সাকিব।


আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০২০ সালের ২৩ আগস্ট দুদক কর্মকর্তা রিয়াজ উদ্দিন বাদী হয়ে মামলাটি করেন। মামলায় প্রদীপ ও তার স্ত্রী চুমকি কারণের বিরুদ্ধে প্রায় চার কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়।



এর মধ্যে ৩ কোটি ৯৫ লাখ ৫ হাজার ৬৩৫ টাকা ‘ওসি প্রদীপ’ ঘুস-দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জন ও আরও ১৩ লাখ ১৩ হাজার ১৭৫ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন করা হয় বলে মামলার অভিযোগে বলা হয়। তদন্ত শেষে গত বছরের ২৬ জুলাই মো. রিয়াজ উদ্দিন ওই মামলায় আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।


গত ১ সেপ্টেম্বর অভিযোগপত্রের ওপর শুনানি হয়। গত ২৯ জুন দুপুরে চট্টগ্রামের জ্যেষ্ঠ স্পেশাল জজ ও মহানগর দায়রা জজ শেখ আশফাকুর রহমানের আদালত প্রদীপ কুমার দাশের অবৈধ সম্পদ দেখভালের দায়িত্ব কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসককে দেন।


এর আগে গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর প্রদীপ কুমার দাশ ও তার স্ত্রী চুমকি কারনের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলায় অভিযোগ গঠন করেন আদালত। এ পর্যন্ত মামলায় ২৪ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন।



আরও খবর



নীলফামারীতে নৌকার প্রার্থী বিজয়ী

প্রকাশিত:Wednesday ১৫ June ২০২২ | হালনাগাদ:Tuesday ২৮ June ২০২২ | ৫৭জন দেখেছেন
Image

দীর্ঘ প্রায় এক যুগ পর অনুষ্ঠিত নীলফামারী সদর উপজেলার খোকশাবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী প্রশান্ত কুমার রায় নির্বাচিত হয়েছেন।

তিনি নৌকা প্রতীকে পেয়েছেন ৪ হাজার ৯২০ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আশাফউদ্দৌলা সিদ্দিকী খোকন চশমা প্রতীকে ৪ হাজার ১৬১ ভোট পেয়েছেন। এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী টেলিফোন প্রতীকের মাসুদ রানা মাসুম পেযেছেন ২ হাজার ৩৩৪ ভোট।

বুধবার (১৫ জুন) সন্ধ্যায় রিটার্নিং অফিসার ও সদর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. আফতাব উজ জামান এ ফলাফল ঘোষণা করেন।

এর আগে সকাল থেকে শান্তিপূর্ণ পরিবেশের মধ্যদিয়ে ইভিএমের মাধ্যমে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আটজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। মোট ১৯ হাজার ৭৯১ জন ভোটারের মধ্যে ১৬ হাজার ৫ জন তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।


আরও খবর



ঝরনার রানি ‘খৈয়াছড়া’ দেখতে কখন যাবেন?

প্রকাশিত:Sunday ১২ June ২০২২ | হালনাগাদ:Tuesday ২৮ June ২০২২ | ৩৯জন দেখেছেন
Image

 

অনুপম নৈসর্গিক দৃশ্য। দু’পাশে সুউচ্চ পাথুরে পাহাড়। উচুঁ পাহাড় থেকে কলকল ধ্বনিতে গড়িয়ে পড়ছে শীতল পানি। মেঘের মতো উড়ে আসা শুভ্র এ পানি আলতো করে ছুঁয়ে দেখলেই এর শীতল পরশ মুহূর্তে ক্লান্তি ভুলিয়ে দেবে। অঝোরে পাহাড়ের এ ‘কান্না’ যে কারও মনে নাড়া দেবে। যেনো একটু ছুঁয়ে হাত বুলিয়ে যাই!

আর ঝরনা বা জলপ্রপাতের কলকল শব্দও মনে আশ্চর্য শান্তির পরশ বুলিয়ে দেবে। বর্ষায় ঝরনার আকর্ষণ অন্য সময়ের তুলনায় বাড়তি থাকে। তাই পর্যটকদেরও ঢল নামে। বিশেষ করে ছুটির দিনে ৪/৫ হাজার পর্যটক আসে বলে হিসেব দিয়েছে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা নুর উদ্দিন।

আকার আকৃতি ও গঠনশৈলির দিক দিয়ে বেশ বড় এই ঝরনা। এর মোট ৯টি মূল ধাপ ও অনেকগুলো বিচ্ছিন্ন ধাপ আছে। প্রকৃতির নান্দনিক তুলিতে আঁকা সৌন্দর্য দেখে মুগ্ধ হচ্ছে দেশের ভ্রমণপিপাসু মানুষ।

jagonews24

অনেকে রাতের বেলায় চাঁদের আলোয় ঝরনার অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করতে পাহাড়ের পাদদেশে তাবু টাঙিয়ে অবস্থান করেন। প্রকৃতির অপরূপ সৃষ্টি সেতুবন্ধন করে, সবুজের চাদরে ঢাকা বনানী রূপের আগুন ঝরায়। যেখানে প্রকৃতি খেলা করে আপন মনে।

ঝুম ঝুম শব্দে বয়ে চলা ঝরনাধারায় গা ভিজিয়ে মানুষ যান্ত্রিক জীবনের অবসাদ থেকে নিজেকে ধুয়ে সজীব করে তোলে। খৈয়াছড়ায় আছে অনেকগুলো বিচ্ছিন্ন ধাপ, যা বাংলাদেশের আর কোনো ঝরনাতে এখনো পর্যন্ত দেখা যায়নি। তাই খৈয়াছড়াকে বলা হয় বাংলাদেশের ঝরনার রানি।

মিরসরাইয়ের খৈয়াছড়া গ্রামের সবুজ শ্যামল আঁকা বাঁকা মেঠো পথ পেরিয়েই দেখা মিলবে বিস্ময়কর ঝরনা। খৈয়াছড়া এলাকার পাহাড়ে অবস্থান বলে এর নামকরণ করা হয়েছে খৈয়াছড়া ঝরনা। মিরসরাই উপজেলার খৈয়াছড়া ইউনিয়নের বড়তাকিয়া বাজারের উত্তর পাশে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ৪.২ কিলোমিটার পূর্বে ঝরনার অবস্থান।

jagonews24

এর মধ্যে এক কিলোমিটার পথ গাড়িতে যাওয়ার পর বাকি পথ যেতে হবে পায়ে হেঁটে। বাঁশের সাঁকো, ক্ষেতের আইল, আঁকাবাকা পাহাড়ি পথ, ছড়া, অন্তত ৪টি পাহাড় পেরিয়ে যখন ঝরনার স্বচ্ছ পানিতে গা ভিজাবে পর্যটক, তখন মনে হবে পথের এই দুরত্ব খুব সামান্য। টলটলে শান্ত পানির চুপচাপ বয়ে চলার ধরনই বলে দেবে এর উৎস অবশ্যই বিশাল কিছু থেকে।

স্থানীদের বাড়ি ও ক্ষেতের আইলের পাশে বেড়ে ওঠা আম, নারকেল আর পেঁপের বাগান পেরিয়ে এরপর শুধু ঝিরিপথ ধরে এগিয়ে যাওয়া। কিছুক্ষণের মধ্যেই পর্যটকরা আবিষ্কার করবেন লাল আর নীল রঙের ফড়িংয়ের মিছিল! যত দূর পর্যন্ত ঝিরিপথ গেছে তত দূর পর্যন্ত তাদের মনমাতানো ঝিঁঝি পোকার গুঞ্জন শোনা যায়। হাঁটতে হাঁটতেই শুনতে পাওয়া যায় পানি কলকল ধ্বনি।

চারপাশে মন ভালো করে দেওয়া সবুজ দোল খাচ্ছে ফড়িংয়ের পাখায়। মাঝে মাঝে এখানে শোনা যায় হরিণের ডাক। যেতে যেতে পরিচয় হবে বুনো অর্কিড, পাথরে লেগে থাকা প্রায় অদৃশ্য সবুজ শেওলা, অচেনা পাখিদের ডাক, ঘাসের কার্পেট বিছানো উপত্যকার সাথে। কিছুদূর হেঁটে একটা মোড় ঘুরলেই চোখের সামনে নিজের বিশালতা নিয়ে হাজির হবে খৈয়াছড়া ঝর্ণা। অনেক ওপর থেকে একটানা পানি পড়ছে।

jagonews24

ওপরের ওঠার পর তার সৌন্দর্য আপনার সমস্ত কষ্ট ভুলিয়ে দিবে। ওপরে উঠলে দেখা মিলবে আরো একটি ধাপের। এর বাম পাশ দিয়ে সামান্য হাঁটলেই দেখা মিলবে অপর তিনটি ধাপের। এতেও যদি আপনার মন না ভরে তাহলে এই তিনটি ধাপের পাশ দিয়ে পাহাড় বেয়ে উঠে যান আরো ওপরে।

সেখানে আশপাশের বহুদূর বিস্তত পাহাড় আর জঙ্গলের অপূর্ব দৃশ্য কিছুক্ষণের জন্য হলেও আপনাকে ভুলিয়ে দেবে আপনার পরিশ্রম আর নিরাপদে নিচে ফিরে যাওয়ার ভাবনার কথা। ঝরনায় যাওয়ার সড়কটি দারুন মনোমুগ্ধকর। গাড়ির রাস্তা পার হয়ে যখন হাঁটা শুরু করবেন এর চারপাশের দৃশ্য দেখে আপনি মুগ্ধ হতে বাধ্য হবেন। খানিকক্ষণ উঁচু-নিচু রাস্তা পার হয়ে একসময় এসে পড়বেন পাহাড়ি ঝিরিপথে।

এরপরই শুরু হবে আপনার আসল অ্যাডভেঞ্চার। আপনাকে ঝিরিপথ ধরেই এগিয়ে যেতে হবে। কখনো হাঁটুপানিতে পাথরের ওপর দিয়ে হাঁটবেন তো সেই পানিই কখনো কখনো আপনার কোমর ছাড়িয়ে বুক পর্যন্ত উঠে আসবে। আনুমানিক দেড় ঘণ্টার মতো হাটার পর আপনি ঝরনার কাছে পৌঁছে যাবেন।

jagonews24

এরপর যখন খৈয়াছড়ার দর্শন পাবেন, তখন বিস্ময়ে অভিভূত হওয়া ছাড়া আর কোনো পথ থাকবে না। এই ঝরনার পানিতে গোসল করার লোভ সামলানো কারো পক্ষেই সম্ভব না। সুতরাং দেরি না করে নেমে পড়ুন ঠান্ডা ঝরনার পানিতে। ঝরনার বাম দিক থেকে ডানদিক অপেক্ষাকৃত গভীর।

কীভাবে যাবেন খৈয়াছড়া ঝরনায়?

ঢাকার যেকোনো বাস কাউন্টার থেকে চট্টগ্রামগামী বাসে উঠবেন। যাওয়ার পথে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মিরসরাই পৌরসদর পার হয়ে বড়তাকিয়া বাজারের আগে খৈয়াছড়া আইডিয়াল স্কুলের সামনে নামবেন।

ঢাকার ফকিরাপুল, সায়দাবাদ থেকে সোহাগ পরিবহন, গ্রীণ লাইন পরিবহন, সৌদিয়া পরিবহন, হানিফ এন্টারপ্রাইজ, টি আর ট্রাভেলসের বাস যায় চট্টগ্রাম। এছাড়া শ্যামলী, হানিফ, সৌদিয়া, ইউনিক, এস আলম ইত্যাদি পরিবহনের নন এসি বাসও চলে এ পথে।

কোথায় থাাকবেন?

বড়তাকিয়া বাজারে থাকার কোনো হোটেল নেই। তবে আপনি চাইলে স্থানীয় চেয়ারম্যানের বাংলোয় উঠতে পারেন। মিরসরাই-সীতাকুন্ডে খুব বেশি ভালো থাকা ও খাবার হোটেল না থাকলেও চট্টগ্রাম শহরের শুরুতে একেখান মোড়ে থাকার জন্য রয়েছে ‘মায়ামি রিসোর্ট’।

খাবারের জন্য মিরসরাই সদরের পার্ক ইন রেস্টুরেন্ট, আলিফ রেস্টুরেন্ট ও ছোট কমলদহ এলাকায় বিখ্যাত ড্রাইভার হোটেল আছে।

বিশেষ সতর্কতা-

ঝরনায় যাওয়ার রাস্তা বেশ দুর্গম ও পাথরের স্থান পিচ্ছিল থাকতে পারে। তাই সতর্ক হয়ে পথ চলবেন। মারাত্মক কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে ওই দুর্গম রাস্তা পাড়ি দিয়ে ফিরে আসা অনেক কঠিন হবে।

মনে রাখবেন অব্যবহৃত খাবার, চিপসের প্যাকেট, সিগারেটের ফিল্টার, পানির বোতলসহ অন্যান্য আবর্জনা যেখানে সেখানে ফেলবেন না। জোঁক ছাড়ানোর জন্য সঙ্গে লবণ বা গুল রাখবেন। জোঁক কামড়ালে হাত দিয়ে টেনে ছাড়াতে যাবেন না, লবণ বা গুল ছিটিয়ে দিলেই হবে।


আরও খবর



করোনা শনাক্ত বেড়েছে, মৃত্যু ২ জনের

প্রকাশিত:Sunday ২৬ June ২০২২ | হালনাগাদ:Tuesday ২৮ June ২০২২ | ৪০জন দেখেছেন
ডেস্ক এডিটর

Image

দেশে করোনা সংক্রমণের উর্ধ্বমুখী প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে। আজ রোববার সকাল আটটা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে এক হাজার ৬৮০ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এ সময় করোনায় মৃত্যু হয়েছে দুইজনের।

আগের দিন করোনা শনাক্ত হয়েছিল ১ হাজার ২৮০ জনের। আর করোনায় মৃত্যু হয়েছিল তিনজনের।

টানা ২০ দিন দেশে করোনায় কারও মৃত্যু হয়নি। গত ২০ জুন করোনায় একজনের মৃত্যুর কথা জানায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এরপর টানা চার দিন করোনায় একজন করে মৃত্যু হয়। মাঝে এক দিন কারও মৃত্যু হয়নি। সর্বশেষ দুই দিনে তিনজন ও দুইজনের প্রাণ গেল এই ভাইরাসে।


আরও খবর



নিজেদের টাকায় সবচেয়ে বড় স্বপ্নের নির্মাণ

প্রকাশিত:Friday ২৪ June ২০২২ | হালনাগাদ:Tuesday ২৮ June ২০২২ | ২৯জন দেখেছেন
Image

একক প্রকল্প হিসাবে দেশের সবচেয়ে বড় অবকাঠামো রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। এ প্রকল্পে মোট খরচ ধরা হয়েছে এক লাখ ১৩ হাজার কোটি টাকা। যার ৯০ শতাংশই রাশিয়ার ঋণ সহায়তা। দেশটির ভিবি ব্যাংক এ ঋণ দিচ্ছে। এ প্রকল্পে সরকারের অর্থায়ন মাত্র ১০ শতাংশ। অর্থাৎ রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে মোট ব্যয়ের ৯১ হাজার ৪০ কোটি টাকাই দিচ্ছে রাশিয়া। সরকারি কোষাগার থেকে দেওয়া হচ্ছে বাকি ২২ হাজার ৫২ কোটি টাকা।

অন্যদিকে পদ্মা সেতু নির্মাণ প্রকল্পে মোট খরচ ৩০ হাজার ১৯৩ কোটি টাকা। টাকার অঙ্কে পদ্মার সেতুর চেয়ে রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্পে তিনগুণ বেশি ব্যয় হচ্ছে। তবে রূপপুরের টাকা ঋণনির্ভর। আর পদ্মা সেতু প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে সম্পূর্ণ দেশীয় অর্থায়নে।

পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, পদ্মা সেতুর চেয়ে দেশে একাধিক মেগা প্রকল্পের ব্যয় বেশি। যেমন- পদ্মা সেতু রেললিঙ্ক প্রকল্প। এ প্রকল্পের মোট ব্যয় ৩৯ হাজার ২৪৬ কোটি টাকা, যার ২১ হাজার ৩৬ কোটি টাকা চীনের দেওয়া ঋণ। মহেশখালী–মাতারবাড়ি সমন্বিত অবকাঠামো উন্নয়নপ্রকল্পও পদ্মা সেতু প্রকল্পের চেয়ে বড়। এ প্রকল্পে মোট ব্যয় ৫১ হাজার ৮৫৪ কোটি টাকা, যার মধ্যে জাপানি ঋণ ৪৩ হাজার ৯২১ কোটি টাকা। বাকি ছয় হাজার ৪০৬ কোটি টাকা সরকারি কোষাগারে থেকে মেটানো হবে।

ঢাকায় পাতাল রেল নির্মাণের কাজ চলমান। এ প্রকল্পের ব্যয়ও পদ্মা সেতুর চেয়ে বেশি। কয়েক দফা জরিপ ও ফিজিবিলিটি স্টাডির পর নির্ধারণ করা হয়েছে আরেক মেট্রোরেল প্রকল্প এমআরটি-১-এর রুট। এর আওতায় এয়ারপোর্ট থেকে কমলাপুর আর নতুনবাজার থেকে পূর্বাচল পর্যন্ত ২৭ দশমিক ৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের অ্যালাইনমেন্ট ঠিক করা হয়। এমআরটি লাইন-১-এ এয়ারপোর্ট-খিলক্ষেত-যমুনা ফিউচার পার্ক-নতুনবাজার-বারিধারা-উত্তর বাড্ডা-হাতিরঝিল-রামপুরা-মৌচাক হয়ে কমলাপুর পর্যন্ত ১৬ দশমিক ২ কিলোমিটার আর অন্যটি নতুনবাজার-যমুনা ফিউচার পার্ক-বসুন্ধরা-পুলিশ অফিসার হাউজিং সোসাইটি-মাস্তুল-পূর্বাচল পশ্চিম-পূর্বাচল সেন্টার-পূর্বাচল সেক্টর-৭-পূর্বাচল ডিপো পর্যন্ত ১১ দশমিক ৩ কিলোমিটার রুট নির্মিত হবে।

jagonews24

মেট্রোরেল প্রকল্পের আওতায় বৈদেশিক ঋণে সুদ দিতে হবে এক হাজার ৯১৬ কোটি টাকা। এ প্রকল্পে পরামর্শক খাতে পাঁচ কোটি ও প্রশিক্ষণ খাতে ব্যয় ধরা হয়েছে দুই কোটি টাকা। প্রকল্পের আওতায় সেমিনার, কর্মশালা ও সম্মেলনে দেড় কোটি টাকা রাখা হয়েছে। সব মিলিয়ে প্রকল্পের প্রস্তাবিত ব্যয় ৫১ হাজার ৯০০ কোটি টাকা। এরমধ্যে জাইকার দেওয়া ঋণ ৩৩ হাজার ৯১৪ কোটি ১১ লাখ টাকা।

অর্থাৎ এটা বলা যায়, পদ্মা সেতুর থেকে ব্যয়বহুল একাধিক প্রকল্প হচ্ছে। তবে দেশীয় টাকায় পদ্মা সেতুই সেরা। কারণ ৩০ হাজার ১৯৩ কোটি টাকার সবই দেশীয় অর্থায়ন।

পদ্মা সেতু প্রকল্পের নকশা চূড়ান্ত হওয়ার পর ২০১১ সালের এপ্রিল থেকে জুনের মধ্যে সেতু প্রকল্পে অর্থায়নের বিষয়ে বিশ্বব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি), জাইকা ও ইসলামি উন্নয়ন ব্যাংকের (আইডিবি) সঙ্গে ঋণচুক্তি সই করে সরকার। কিন্তু নির্মাণকাজের তদারক করতে পরামর্শক নিয়োগে দুর্নীতির ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনে বিশ্বব্যাংক। এরপর একে একে সব অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠান প্রতিশ্রুত অর্থায়ন স্থগিত ঘোষণা করে।

বিশ্বব্যাংকসহ অন্যরা অর্থায়ন স্থগিতের পর প্রকল্পে যুক্ত হওয়ার প্রস্তাব নিয়ে আসে মালয়েশিয়ার সরকার। এ নিয়ে কিছুদিন আলোচনা চলার পর তা আর এগোয়নি। ২০১২ সালের ৯ জুলাই মন্ত্রিপরিষদের এক বৈঠকে নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আন্তর্জাতিক অর্থলগ্নিকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে পদ্মা সেতুর জন্য অর্থ না নেওয়ার কথা জানিয়ে দেয় সরকার।

অবশ্য ২০১৪ সালে তদন্ত শেষে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) জানিয়ে দেয়, দুর্নীতির ষড়যন্ত্রের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ২০১৭ সালে কানাডার টরন্টোর এক আদালতও জানান, পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতির ষড়যন্ত্রের উপযুক্ত প্রমাণ পাননি তারা। বিশ্বব্যাংক ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক চলে যাওয়ার পরে দেশীয় টাকায় বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন কৃতিত্ব দেখায় বাংলাদেশ।

পদ্মা সেতু থেকে মাসে টোল আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১৩৩ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। বছরের হিসেবে তা হবে এক হাজার ৬০৩ কোটি ৯৭ লাখ টাকা। এ টাকা দিয়ে সেতুর রক্ষণাবেক্ষণ ছাড়াও নির্মাণ খরচের ঋণ পরিশোধ করবে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ। কোনো উন্নয়ন সহযোগী বা প্রতিষ্ঠানকে নয়, স্বয়ং বাংলাদেশ সরকারকে ৩৫ বছরে সুদসহ ৩৬ হাজার কোটি টাকা পরিশোধ করবে সেতু কর্তৃপক্ষ।

jagonews24

বাংলাদেশ সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে ৩০ হাজার ১৯৩ কোটি ৩৯ লাখ টাকা ব্যয়ে পদ্মা বহুমুখী সেতু নির্মিত। এর পুরোটাই সরকারের কাছ থেকে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ ঋণ হিসেবে গ্রহণ করেছে। চুক্তির অনুচ্ছেদ-২ মোতাবেক ঋণের অর্থ প্রকল্প সমাপ্তির পর বার্ষিক ১ শতাংশ হারে সুদসহ ৩৫ বছরে ১৪০ কিস্তিতে পরিশোধ করতে হবে। এছাড়া নকশা প্রণয়নের সময় নেওয়া ২১১ কোটি টাকার বিপরীতে ৩৪০ কোটি টাকা পরিশোধ করতে হবে।

এ প্রসঙ্গে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, পদ্মা সেতু বাঙালি জাতির বড় অর্জন। নিজেদের টাকায় এত বড় অর্জন দ্বিতীয়টি নেই। ৩০ হাজার ১৯৩ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। বাঙালি জাতির জন্য পদ্মা সেতু গৌরব ও অহংকারের। তবে কারও কাছ থেকে ঋণ নেওয়া হয়নি। এটা আমাদের টিম লিডার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দক্ষ নেতৃত্বে গোটা জাতি এ টাকা দিয়েছে।


আরও খবর



স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যা, স্বামী গ্রেফতার

প্রকাশিত:Friday ১৭ June ২০২২ | হালনাগাদ:Monday ২৭ June ২০২২ | ৯১জন দেখেছেন
Image

বরিশালে স্ত্রীকে কুপিয়ে খুন করেছেন মো. নান্টু সিকদার (৩০)। এসময় বাধা দিতে গেলে বাবা-ভাইকেও কুপিয়ে জখম করেন তিনি।

ঘটনার পর নান্টুকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে গ্রামবাসী। বাবুগঞ্জ উপজেলার জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়নের ব্রাম্মনদিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার নিহত গৃহবধূ মাহমুদা বেগমের (২২) বড় ভাই মো. নূরে আলম বাদী হয়ে বাবুগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা করেন। পরে বিকেলে ওই মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে নান্টু সিকদারকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

নিহত মাহমুদা বেগম পার্শ্ববর্তী গৌরনদী উপজেলার শরিকল ইউনিয়নের কুড়িরচর গ্রামের মো. খলিলুর রহমানের মেয়ে। আর নান্টু সিকদার উপজেলার জাহাঙ্গীর নগর ইউনিয়নে ব্রাহ্মণদিয়া গ্রামের চানমদ্দিন সিকদারের ছোট ছেলে।

নিহত মাহমুদা বেগমের বড় ভাই মো. নূরে আলম জানান, তার বোনের সঙ্গে ছয় বছর আগে নান্টু সিকদারের বিয়ে হয়। বিয়ের পর তাদের দাম্পত্য জীবন ভালোভাবেই চলছিল। কয়েক বছর পরে নান্টু সিকদার সংসারের প্রতি উদাসীন হয়ে পড়েন। এরপর প্রায়ই মাহমুদাকে গালাগালি ও মারধর করতেন তিনি। একপর্যায়ে নান্টু সিকদার ঠিকমতো কাজ না করায় সংসারে অভাব অনটন দেখা দেয়। এ নিয়ে মাহমুদার সঙ্গে প্রায় ঝগড়া হতো তার।

নিহতের ভাই, আরও বলেন, এক সপ্তাহ আগে নান্টুর অত্যাচারে মাহমুদা বেগম বাবার বাড়ি চলে যান। এরপর নান্টু সিকদার মাহমুদাকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু মাহমুদা স্বামীর বাড়িতে যেতে অস্বীকার করেন। এরপর শাশুড়ি তাকে মোবাইলে বাড়িতে আসার অনুরোধ করলে বুধবার বিকেলে স্বামীর বাড়ি যান মাহমুদা। রাতেই তাকে দা দিয়ে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেন নান্টু।

জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য (মেম্বার) আব্দুর রব বেপারী জানান, বুধবার রাত ১১টার দিকে নান্টু তার স্ত্রী মাহমুদাকে দা দিয়ে কোপাতে শুরু করেন। এসময় মাহমুদা চিৎকার দিয়ে ঘরের বাইরে পালানোর চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে স্বামীর হাত থেকে রক্ষা পেতে বাড়ির পাশের বাগানে দৌড়ে পালান মাহমুদা বেগম। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি তার। সেখানে গিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেন নান্টু সিকদার।

বাবুগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহাবুবুর রহমান বলেন, নান্টু সিকদার ও মাহমুদার বেগমের কোনো সন্তান ছিল না। এলাকার কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সন্তান না হওয়ায় মাহমুদার ওপর ক্ষোভ ছিল নান্টু সিকদারের।

ওসি জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দা উদ্ধার করেছে। নিহত মাহমুদার শরীরে প্রায় ৩০টি দায়ের ক্ষত পাওয়া গেছে। মরদেহ উদ্ধার করে পাঠানো হয়েছে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে।


আরও খবর