Logo
আজঃ Tuesday ২৮ June ২০২২
শিরোনাম
নাসিরনগরে বন্যার্তদের মাঝে ইসলামী ফ্রন্টের ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ রাজধানীর মাতুয়াইলে পদ্মাসেতু উদ্ধোধন উপলক্ষে দোয়া মাহফিল রূপগঞ্জে ভূমি অফিসে চোর রূপগঞ্জে গৃহবধূর বাড়িতে হামলা ভাংচুর লুটপাট ॥ শ্লীলতাহানী নাসিরনগরে পুকুরের মালিকানা নিয়ে দু পক্ষের সংঘর্ষে মহিলাসহ আহত ৪ পদ্মা সেতু উদ্ভোধন উপলক্ষে শশী আক্তার শাহীনার নেতৃত্বে আনন্দ মিছিল করোনা শনাক্ত বেড়েছে, মৃত্যু ২ জনের র‍্যাব-১১ অভিমান চালিয়ে ৯৬ কেজি গাঁজা,১৩৪৬০ পিস ইয়াবাসহ ৬ মাদক বিক্রেতাকে গ্রেফতার করেছে বন্যাকবলিত ভাটি অঞ্চল পরিদর্শন করেন এমপি সংগ্রাম পদ্মা সেতু উদ্বোধনে রূপগঞ্জে আনন্দ উৎসব সভা ॥ শোভাযাত্রা

আড়াইহাজারে ধর্ষণ মামলায় ছাত্রলীগ নেতা গ্রেপ্তার

প্রকাশিত:Thursday ২৩ June ২০২২ | হালনাগাদ:Tuesday ২৮ June ২০২২ | ১৩৫জন দেখেছেন
Image


স্টাফ রিপোর্টারঃ মোঃআবু কাওছার মিঠু 


আড়াইহাজারে স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে দায়েরকৃত মামলায় সাতগ্রাম ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক অপু (২২) কে গ্রেপ্তার করে আদালতে প্রেরণ করেছে পুলিশ। 


বুধবার (২২ জুন) দুপুরে তাকে আদালতে প্রেরণ করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত অপু ওই ইউনিয়নের নোয়াদ্দা গ্রামের মো. শহিদের পুত্র।


মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, একই ইউনিয়নের দেয়াবৈ গ্রামের দীনমোহাম্মদের কন্যা পুরিন্দা কে এম সাদিকুর রহমান উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর ছাত্রী (১৭) গত ১০ মে সকাল ১০টায় স্কুলে যাওয়ার পথে তাকে নিজের ব্যবহৃত কালো প্রাইভেট কারে তুলে নেয় অপু। 


পরে তাকে সকাল ১১টায় অপুর বাড়ীর কাছে বালুর মাঠে নির্জন স্থানে নিয়ে গাড়ির ভিতরেই বলপূর্বক ধর্ষণ করে। ধর্ষিতা যাতে বিষয়টি কাউকে না বলে সেই জন্য অপু ধর্ষিতাকে এক সপ্তাহের মধ্যে বিয়ে করবে বলে আশ্বাস দেয়। তাই ধর্ষিতা বিষয়টি গোপন রাখে। 


কিন্তু পরে অপু বিয়ের বিষয়ে কালক্ষেপণ করলে ধর্ষিতা বিষয়টি তার পরিবারকে জানায়। বিয়ের ব্যাপারে অপুর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে সে ধর্ষিতাকে  বিয়ে করবেনা বলে সাফ জানিয়ে দেয়।ফলে ধর্ষিতার পিতা দীন মোহাম্মদ বাদী হয়ে বুধবার সকালে অপুকে একমাত্র অভিযুক্ত করে মামলাটি দায়ের করেন। মামলা রুজু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অপুকে তার বাড়ী থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। 


এ ব্যাপারে আড়াইহাজার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আজিজুল হক হাওলাদার বলেন, মামলা গ্রহণের সাথে সাথে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।


আরও খবর



সংগীতশিল্পী হায়দার হোসেন হাসপাতালে

প্রকাশিত:Wednesday ০৮ June ২০২২ | হালনাগাদ:Tuesday ২৮ June ২০২২ | ৫৮জন দেখেছেন
Image

জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী, গীতিকার ও সুরকার হায়দার হোসেন হাসপাতালে ভর্তি আছেন। ডায়াবেটিসজনিত জটিলতা নিয়ে মঙ্গলবারে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে তাকে ভর্তি করা হয়েছে বলে জানান গায়কের স্ত্রী নুসরাত জাহান ।

তিনি জানান, হায়দার হোসেনের ডায়াবেটিসজনিত জটিলতা রয়েছে। মঙ্গলবার তাকে ডায়াবেটিস বেড়ে যাওয়ায় রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

গায়কের স্ত্রী আরও জানান, চিকিৎসকের পরামর্শে হাসপাতালে ভর্তি আছেন। তাকে দুই-তিন দিন এখানে থাকতে হবে। এখন আগের চেয়ে ডায়াবেটিস স্বাভাবিক পর্যায়ে চলে এসেছে।

হায়দার হোসেন বাংলাদেশ বিমান বাহিনীতে একজন বিমান প্রকৌশলী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। ১৯৭৯ সাল থেকে তিনি সংগীত পেশার সাথে সম্পৃক্ত। বিখ্যাত সুরকার আলম খানের সঙ্গে প্লেব্যাক গিটার বাজাতেন তিনি এবং এরপর পপ সম্রাট আজম খান এর সঙ্গে কাজ করতেন।

গত কয়েক বছর ধরে গানে অনিয়মিত হয়ে পড়েছেন তিনি।


আরও খবর



সরকারের ভূমিকা তাজ্জব লেগেছে: দুদু

প্রকাশিত:Saturday ১১ June ২০২২ | হালনাগাদ:Sunday ২৬ June ২০২২ | ৬৪জন দেখেছেন
Image

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেছেন, সরকারের ভূমিকা তাজ্জব লেগেছে। ৯০ ভাগ মুসলমানের দেশ হলেও সব ধর্মের লোকদের নিয়েই আমরা চলি। অন্য ধর্মের লোকেরা এর প্রতিবাদ জানালো। সরকার একটি শব্দও করেনি। এজন্য প্রতিবাদ করুন না হয় সরে যান।

শনিবার (১১ জুন) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে জাতীয়তাবাদী ওলামা দলের উদ্যোগে ভারতের বিজেপি নেতার বিতর্কিত বক্তব্যের প্রতিবাদে অনুষ্ঠিত সমাবেশে এ কথা বলেন তিনি।

শামসুজ্জামান দুদু বলেন, সরকার মানুষকে খাওয়াতে পারে না। চালের দাম, তেলের দাম এমন কোনো নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য নাই যার দাম বাড়ছে না। আবার সরকার দম্ভ করে বলছে এই বাজেট তারা ব্যবসায়ীদের জন্য দিয়েছে। ব্যবসাবান্ধব বাজেট। তাহলে আমরা কারা? এই সরকার দেশের জনগণকে নিরাপত্তা দিতে পারে না। গুম, খুন, ধর্ষণ হচ্ছে। বিচার মানুষ পাচ্ছে না। সেই সঙ্গে দেশে চাকরি সংকট, এমন একটা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে যা কল্পনা করাও যায় না।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বলেন, আমাদের নবীকে নিয়ে যে কটূক্তি করেছে দ্বিতীয় বৃহত্তম মুসলিম রাষ্ট্র হিসাবে আপনাদের প্রতিবাদ জানাতে হবে। আর প্রতিবাদ জানাতে না পারেন তাহলে গণভবন থেকে পদত্যাগ করে বাড়ি ফিরে যান। আমরা সম্প্রদায়িক না।

তিনি বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন মুসলিম দেশ প্রতিবাদ জানিয়েছে একমাত্র বাংলাদেশ বাদে। বাংলাদেশ কি মুসলিম দেশের বাইরে চলে গেল? যাদের আগে প্রতিবাদ করা উচিত ছিল তারাই চুপ করে আছে। আমরা জানতাম ভারতের মানুষ মুক্তিযুদ্ধের সময় আমাদের আশ্রয় দিয়েছিল কিন্তু এদের মধ্যে যে কিছু কুলাঙ্গার আছে এটা জানতাম না। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর সহধর্মিণীকে নিয়ে যে কটূক্তি করেছে তার নিন্দা জানাই।

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ, ও দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।


আরও খবর



বৈশ্বিক শান্তি সূচকে ৯৬তম বাংলাদেশ

প্রকাশিত:Thursday ১৬ June ২০২২ | হালনাগাদ:Tuesday ২৮ June ২০২২ | ৪১জন দেখেছেন
Image

বৈশ্বিক শান্তি সূচকে এবার পাঁচ ধাপ পিছিয়েছে বাংলাদেশ। ২০২২ সালের সর্বশেষ শান্তি সূচক অনুযায়ী বর্তমানে বাংলাদেশের অবস্থান ৯৬তম। আগের বছর দেশটির অবস্থান ছিল ৯১। সে সময় ৯৭ তম অবস্থান থেকে সাত ধাপ এগিয়ে ৯১তম অবস্থানে আসতে পারলেও এবার অবনতি ঘটেছে।

সিডনিভিত্তিক ইন্সটিটিউট ফর ইকোনমিক্স অ্যান্ড পিস বুধবার (১৫ জুন) শান্তি সূচকের ১৬তম সংস্করণ প্রকাশ করেছে। ১৬৩টি স্বাধীন রাষ্ট্র ও অঞ্চলের বিভিন্ন বিষয় বিবেচনা করে এই সূচক প্রকাশ করা হয়।

এদিকে চলতি বছর আবারও বিশ্বের সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ দেশ হিসেবে তালিকায় স্থান করে নিয়েছে আইসল্যান্ড। ২০০৮ সাল থেকেই সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ দেশ হিসেবে নিজের অবস্থানে ধরে রেখেছে দেশটি। তালিকায় এরপরের চারটি দেশ হলো- নিউজিল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড, ডেনমার্ক এবং অস্ট্রিয়া।

এদিকে টানা পঞ্চম বারের মতো সবচেয়ে কম শান্তিপূর্ণ দেশ হিসেবে স্থান পেয়েছে আফগানিস্তান। দেশটি সূচকের ১৬৩তম অবস্থানে রয়েছে। তালিকায় আফগানিস্তানের ওপরে অবস্থান করছে ইয়েমেন (১৬২), সিরিয়া (১৬১), রাশিয়া (১৬০) এব দক্ষিণ সুদান ১৫৯তম।

দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থানের অবনতি ঘটেছে। দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ দেশ হিসেবে নাম রয়েছে ভুটানের। আর বাংলাদেশ এখন দক্ষিণ এশিয়ার চতুর্থ শান্তিপূর্ণ দেশ। ভুটানের পর দক্ষিণ এশিয়ার শান্তিপূর্ণ দেশ হিসেবে জায়গা পেয়েছে নেপাল ও শ্রীলঙ্কা। তবে ভারত, পাকিস্তান এবং আফগানিস্তানের ওপরে অবস্থান করছে বাংলাদেশ। ভারত রয়েছে ১৩৫তম অবস্থানে এবং পাকিস্তান ১৪৭তম। কিন্তু গত বছর বাংলাদেশের দখলে থাকা অবস্থান চলতি বছর শ্রীলঙ্কার দখলে চলে গেছে। দেশটি এবার ৯০তম অবস্থানে রয়েছে এবং নেপাল ৭৩তম।


আরও খবর



১২ লাখ টন গম রপ্তানির অনুমোদন দেবে ভারত, বেশি আসবে বাংলাদেশে

প্রকাশিত:Wednesday ০৮ June ২০২২ | হালনাগাদ:Tuesday ২৮ June ২০২২ | ৭৮জন দেখেছেন
Image

 

শিগগিরই প্রায় ১২ লাখ টন গম রপ্তানির অনুমোদন দিতে পারে ভারত। গত মাসে হঠাৎ করে গুরুত্বপূর্ণ এ খাদ্যপণ্যটির রপ্তানি নিষিদ্ধ করে দেশটি। এরপর ভারতের বিভিন্ন বন্দরে বিপুল সংখ্যক কার্গো আটকা পড়ে। বুধবার (৮ জুন) দেশটির সরকার ও ব্যবসায়ীদের সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে। খবর দ্য ইকোনমিক টাইমসের।

জানা গেছে, ভারত সরকারের অনুমোদনের দিলে বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা ও নেপালে কিছুটা হলেও স্বস্তি ফিরবে। কারণ দেশগুলো ভারতের গমের ওপর বেশি নির্ভরশীল।

একটি দিল্লিভিত্তিক কোম্পানি জানিয়েছে, খাদ্যপণ্যটির সিংহভাগ বাংলাদেশে যাবে। তাছাড়া নেপাল, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন ও শ্রীলঙ্কায়ও গুরুত্বপূর্ণ পণ্যটি রপ্তানি করা হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, রপ্তানিতে নয়াদিল্লি অনুমতি দিলেও এখনো প্রায় পাঁচ লাখ টন গম বন্দরগুলোতে আটকা থাকতে পারে। কারণ কিছু ব্যবসায়ী এখনো রপ্তানির অনুমোদন পায়নি।

গত মাসে অর্থাৎ ১৪ মে হঠাৎ করে বিশ্বজুড়ে গম রপ্তানি নিষিদ্ধ করে দেশটির সরকার। তবে জানানো হয়, যেসব দেশ এর আগে লেটার অব ক্রেডিট (এলসি) ইস্যু করেছে ও খাদ্য নিরাপত্তায় রপ্তানি অব্যাহত রাখার অনুরোধ করেছে সেসব দেশে গম রপ্তানি করা হবে।

রপ্তানি নিষিদ্ধের পর ভারত মোট চার লাখ ৬৯ হাজার দুইশ দুই টন গম রপ্তানির অনুমোদন দিয়েছে। কিন্তু এখনো কমপক্ষে ১৭ লাখ টন গম বন্দরগুলোতে আটকা রয়েছে। তাই বর্ষাকালকে সামনে রেখে উদ্বেগ বাড়ছে।

সরকারি সূত্র জানিয়েছে, যাদের কাছে বৈধ এলসি রয়েছে শুধু তারা পণ্যটি রপ্তানি করতে পারবে। যাদের কাছে পর্যাপ্ত ডকুমেন্ট থাকবে না তাদের রপ্তানির অনুমোদন দেওয়া হবে না।

 


আরও খবর



‘তুমি রবে নীরবে হৃদয়ে মম’

প্রকাশিত:Friday ১০ June ২০২২ | হালনাগাদ:Friday ২৪ June ২০২২ | ৩৭জন দেখেছেন
Image

মো. মাহমুদুল হাসান মাহমুদ

তোমারে দেব না ভুলিতে- অজস্র পরাণের গহীন ভিতর রাজসিক আসন তার। তাকে জানাই বিনম্র শ্রদ্ধা ৷ জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান, বীর মুক্তিযোদ্ধা সর্বকনিষ্ঠ শহীদ বুদ্ধিজীবী শেখ আব্দুস সালাম।

আমাদের প্রিয় মানুষ, বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী ক্ষণজন্মা পুরুষ, বিদায়ী একজন নেতা, একজন অভিভাবক যার অভাব কোনোদিন পূরণ হওয়ার নয়। তিনি চিরঅম্লান হয়ে আছেন ও থাকবেন নড়াইলবাসী তথা বাঙালির হৃদয়ে। মহান আল্লাহ তাঁর আত্মাকে শান্তিতে রাখুন, ভালো রাখুন অনন্তকাল।

শহীদ শেখ আব্দুস সালাম ছিলেন সত্যিকার অর্থে সমাজের প্রাজ্ঞজন। উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত, নড়াইল জেলার সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারের সন্তান শহীদ শেখ আব্দুস সালাম একজন উদারমনা, অসাম্প্রদায়িক, ধর্মপরায়ণ মানুষ ছিলেন। সমাজের সব পঙ্কিলতার বিরুদ্ধে আজীবন সংগ্রামী ছিলেন তিনি।

তিনি ছিলেন একাধারে সুবক্তা, আলোচক, প্রাবন্ধিক, সাহিত্য-সংস্কৃতিকর্মী ও রাজনীতিবিদ। বাংলাদেশের মহান স্থপতি, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্নেহধন্য মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মদানকারী খ্যাতনামা এই শিক্ষাবিদ শহীদ বুদ্ধিজীবী শেখ আব্দুস সালাম ১৯৪০ সালের ১২ জুলাই নড়াইল জেলা শহরের কালিয়া থানার অদূরে একটি ছায়াঘেরা নিবিড় গ্রাম বিলবাওচ এ জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম শেখ আবদুল গফুর এবং মাতা ফুলজান নেছা। এলাকায় জনশ্রুতি আছে , বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত ক্ষণজন্মা মহান নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শহীদ শেখ আবদুস সালামকে ভালোবেসে 'আমার কালোমানিক' বলে জনসভায় সম্বোধন করতেন।

শেখ আব্দুস সালাম ১৯৫৬ সালে কালিয়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ম্যাট্রিকুলেশন এবং ১৯৫৮ সালে নড়াইল ভিক্টোরিয়া কলেজ থেকে ইন্টারমিডিয়েট পাস করেন। ১৯৬০ সালে তিনি খুলনা বিএল কলেজ থেকে বিএ পাস করেন। পরে খুলনা আইন কলেজ থেকে বিএ'ল এবং ঢাকা টিচার্স ট্রেনিং কলেজ থেকে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হয়ে বিএড ডিগ্রি লাভ করেন।

পারিবারিক জীবন ও রাজনীতির কারণে তার ধারাবাহিক শিক্ষাজীবনে কিছুটা ছেদ পড়লেও পরে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শিক্ষাব্যবস্থা, ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিষয়ে ডিপ্লোমা কোর্স সম্পন্ন করেন। এখানেও তিনি প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হন। ১৯৬৯ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি সাহিত্যে এমএ ক্লাসে ভর্তি হন। ১৯৭০ সালে ইংরেজি সাহিত্যে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হয়ে এমএ প্রথম পর্ব পাস করেন এবং ১৯৭১ সালে শেষ পর্বের পরীক্ষা চলাকালে আন্দোলনের কারণে পরীক্ষা স্থগিত হয়ে যায়।

শেখ আব্দুস সালাম ১৯৬০ সালে কালিয়ার নওয়াগ্রাম ইউনাইটেড একাডেমির প্রধান শিক্ষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। পরে তিনি বেন্দা ইউনিয়ন ইনস্টিটিউশন এবং বড়দিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬৭ সালে তিনি কালিয়া বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নিযুক্ত হন। তিনি এই সময়ের মধ্যেই চারটি স্কুল ও একটি কলেজের এফিলিয়েশন করাতে সক্ষম হন।

তাছাড়া কালিয়া কলেজ প্রতিষ্ঠার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যান। মহান স্বাধীনতা পর কলেজের কার্যক্রম পুরোপুরি শুরু হলেও পূর্বেই কার্যক্রম পরিচালনার জন্য শহীদ শেখ আব্দুস সালামকেই অধ্যক্ষ হিসেবে নির্বাচন করেন কলেজ প্রতিষ্ঠার পেছনের আরেক স্বপ্নদ্রষ্টা তারই সহযোদ্ধা ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক সহচর,মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক সাবেক সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধ শহীদ এখলাস উদ্দিন আহমেদসহ অন্য স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

শহীদ শেখ আব্দুস সালামের এই কলেজ প্রতিষ্ঠার পেছনে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ স্বাধীনতার পর কলেজটির নামকরণ হয় 'শহীদ আব্দুস সালাম মহাবিদ্যালয়' পরে 'শহীদ আব্দুস সালাম ডিগ্রি কলেজ' হিসেবে উন্নীত হয়।

শহীদ শেখ আব্দুস সালাম কালিয়ার মুক্তিযুদ্ধের প্রথম সর্বদলীয় সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক ছিলেন। মহান স্বাধীনতা আন্দোলনে কালিয়ায় তার নেতৃত্বেই প্রথম অস্ত্র সংগ্রহ, ডিস্ট্রিবিউশন ও প্রশিক্ষণসহ মুক্তিবাহিনী গঠিত হয়, যা সালাম বাহিনী নামে পরিচিত ছিল। কালিয়ায় কয়েকটি প্রতিরোধ যুদ্ধ ও যশোরের ঝুমঝুমপুর যুদ্ধে কালিয়ার নেতৃত্ব তিনিই দেন।

শেখ আব্দুস সালাম ছাত্রাবস্থা থেকেই রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে তিনি ১৯৬৯ সালে আইয়ুববিরোধী গণআন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন ও স্যার এফ এম হলের ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। রাজনৈতিক তৎপরতার কারণে ১৯৭০ সালে তিনি সামরিক সরকার কর্তৃক কারারুদ্ধ হন। ১৯৭১ সালের মার্চ মাসে অসহযোগ আন্দোলনে আবদুস সালাম সংগঠকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। এ সময় তিনি ছিলেন নড়াইল মহাকুমার আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক।

তার নেতৃত্বে কালিয়ায় প্রথম স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করা হয়। আবদুস সালাম সক্রিয়ভাবে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। লোকমুখে জানা যায়, স্বাধীনতার সময়ে তার একটি রেডিও ও টেপরেকর্ডার ছিল। সেই টেপরেকর্ডারে তিনি বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ রেকর্ড করেছিলেন, যা কালিয়ার বিভিন্ন এলাকায় মানুষকে মুক্তিযুদ্ধে উদ্বুদ্ধ করতে বাজিয়ে শোনাতেন এবং পাকিস্তানিদের শোষণের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে জনগণের উদ্দেশে জ্বালাময়ী ভাষণ দিতেন। কালিয়ার আপামর জনসাধারণ সেই ভাষণে উদ্বুদ্ধ হয়ে স্বাধীনতাযুদ্ধের জন্য ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন।

কালিয়ায় যুদ্ধ শুরু হলে প্রতিরোধযুদ্ধে তিনিই প্রথম নেতৃত্ব দেন। কিন্তু তাদের সেই প্রতিরোধযুদ্ধ বেশি দিন টেকেনি কারণ যুদ্ধে সক্রিয় নেতৃত্ব দেওয়ায় কারণে পাকিস্তানি সেনারা তাকে খুঁজে বেড়াচ্ছিল। অল্পদিনের মধ্যেই তিনি পাক আর্মির হাতে গ্রেফতার হন। ধরা পড়ার পর যশোর সেনানিবাসে শেখ আব্দুস সালামের ওপর মধ্যযুগীয় কায়দায় অকথ্য নির্যাতন চালানো হয়।

১৯৭১ সালের মে মাসের প্রথমদিকে রাজাকারদের সহায়তায় পাকিস্তানি সৈন্যরা শেখ আব্দুস সালামকে গ্রেফতার করে। যশোর ক্যান্টনমেন্টে কয়েকদিন নির্যাতনের পর ১৩ মে তাকে হত্যা করা হয়। তার ওপর চলা নির্যাতনের ঘটনা পরে জানা যায় বেঁচে যাওয়া একজন প্রত্যক্ষদর্শীর মাধ্যমে। তার নাম আলিমুজ্জামান। তিনি পরবর্তী সময়ে যশোরের সিভিল সার্জন হয়েছিলেন। তিনিও আব্দুস সালামের সঙ্গে আটক ছিলেন। আরও অনেকে সেখানে আটক ছিলেন।

আলিমুজ্জামানের ভাষ্যমতে জানা যায়, পাকিস্তান সেনাবাহিনী তাদের প্রহসনমূলক বিচার শুরু করে। বিচারকালে বিচারক তাকে জিজ্ঞাসা করেছিল, তিনি আওয়ামী লীগ করেন কি না? বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ প্রচার করেছেন কি না? শেখ আব্দুস সালাম নির্ভীকভাবে উত্তর দিয়েছেন, তিনি আওয়ামী লীগ করেন। কারণ, আওয়ামী লীগ তো বেআইনি দল নয়। তারপর তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশের মহান স্থপতি, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু কন্যা, গণতন্ত্রের মানসকন্যা দেশরত্ন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মদানকারী খ্যাতনামা এই শিক্ষাবিদ শহীদ বুদ্ধিজীবী শেখ আবদুস সালাম এর নামে কলেজটিকে সম্প্রতি সরকারীকরণ করেছেন। এর আগে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতায় থাকতে ১৯৯৮ সালের ১৪ ডিসেম্বর শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসে বাংলাদেশ সরকারের ডাকবিভাগ থেকে তার নামে স্মারক ডাকটিকিট প্রকাশ করেন।

তাছাড়া স্বাধীনতার পর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সময়ে এই বীর মুক্তিযোদ্ধার নামে তার জন্মস্থান যে ইউনিয়নে অবস্থিত তার নামকরণ তার এলাকাবাসীর দাবি ও তখনকার আওয়ামী লীগ নেতা তারই সহযোদ্ধা ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক সহচর, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক সাবেক সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ এখলাস উদ্দিন আহম্মদের প্রচেষ্টায় ‘সালামাবাদ ইউনিয়ন পরিষদ’ করা হয়।

সবশেষে আমার বিনীত স্বীকারোক্তি যে, বীর মুক্তিযোদ্ধা সর্বকনিষ্ঠ শহীদ বুদ্ধিজীবী শেখ আব্দুস সালাম বিষয়ে পড়াশোনা বা তেমন কোন গবেষণা আমার নেই; ছোটবেলা থেকে এই অকুতোভয় সৈনিকের অনেক গল্প শুনেছি একান্ত মনোযোগী শ্রোতা হয়ে (আমার পরিবারের কাছে) তা ছাড়া তার অনেক সহযোদ্ধা ও শুভাকাঙ্ক্ষীর কাছ থেকে যেসব গল্প শুনেছি, সেসব মতামত ও সামান্য কিছু পড়াশোনা থেকে তার প্রতি শ্রদ্ধা রেখে আমি আমার মতো করে জাতির এই শ্রেষ্ঠ সন্তান, বীর মুক্তিযোদ্ধা সর্বকনিষ্ঠ শহীদ বুদ্ধিজীবী শেখ আব্দুস সালামকে নিয়ে লিখছি।

বিদগ্ধ ও পণ্ডিতজনের কাছে অনুরোধ, আপনাদের কাছে যদি অতিরিক্ত কোনো তথ্য থাকে তা জানিয়ে লেখাটি সমৃদ্ধ করতে ভুলবেন না, কেননা জাতির এই শ্রেষ্ঠ সন্তানদের পরবর্তী প্রজন্মের কাছে পরিচয় করিয়ে দিতে পারি। আমাদের অনেক দায় আছে।

উল্লেখ্য, শেখ আবদুস সালাম এক ছেলে ও তিন মেয়ের জনক। ছেলে শেখ মিজানুর রহমান, প্রকৌশলী। বর্তমানে সুইডেনপ্রবাসী। বড় মেয়ে শেখ তাসলিমা মুন, আইন বিষয়ে অনার্স ও মাস্টার্স করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পরে স্টকহোম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স করেছেন তুলনামূলক আন্তর্জাতিক আইনে বর্তমানে সুইডেনপ্রবাসী, সেখানে সরকারি কর্মকর্তা l

মেজ মেয়ে ড. শেখ মুসলিমা মুন, ডেপুটি সেক্রেটারি, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়, তিনি বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডক্টর অব ভেটেরিনারি মেডিসিন স্নাতক ও এশিয়ান ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি, থাইল্যান্ড থেকে জেন্ডার অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজে স্নাতকোত্তর করেন l নারীর ক্ষমতায়ন বিষয়ে তিনি পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগ থেকে l
ছোট মেয়ে ড. শেখ সালমা নার্গিস, সরকারি কর্মকর্তা।
স্ত্রী মরহুমা মনোয়ারা সালাম ছিলেন একজন শিক্ষক, সমাজসেবক।

তথ্যসূত্র : বাংলাপিডিয়া ও অন্যান্য।

লেখক: গবেষক।


আরও খবর