Logo
আজঃ Tuesday ২৮ June ২০২২
শিরোনাম
নাসিরনগরে বন্যার্তদের মাঝে ইসলামী ফ্রন্টের ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ রাজধানীর মাতুয়াইলে পদ্মাসেতু উদ্ধোধন উপলক্ষে দোয়া মাহফিল রূপগঞ্জে ভূমি অফিসে চোর রূপগঞ্জে গৃহবধূর বাড়িতে হামলা ভাংচুর লুটপাট ॥ শ্লীলতাহানী নাসিরনগরে পুকুরের মালিকানা নিয়ে দু পক্ষের সংঘর্ষে মহিলাসহ আহত ৪ পদ্মা সেতু উদ্ভোধন উপলক্ষে শশী আক্তার শাহীনার নেতৃত্বে আনন্দ মিছিল করোনা শনাক্ত বেড়েছে, মৃত্যু ২ জনের র‍্যাব-১১ অভিমান চালিয়ে ৯৬ কেজি গাঁজা,১৩৪৬০ পিস ইয়াবাসহ ৬ মাদক বিক্রেতাকে গ্রেফতার করেছে বন্যাকবলিত ভাটি অঞ্চল পরিদর্শন করেন এমপি সংগ্রাম পদ্মা সেতু উদ্বোধনে রূপগঞ্জে আনন্দ উৎসব সভা ॥ শোভাযাত্রা

আমের চেয়ে এর খোসার পুষ্টিগুণই কি বেশি?

প্রকাশিত:Saturday ১৮ June ২০২২ | হালনাগাদ:Tuesday ২৮ June ২০২২ | ৫৩জন দেখেছেন
Image

ফলের রাজা আম। এর স্বাদে মুগ্ধ ছোট-বড় সবাই। সবাই সাধারণত আমের খোসা ফেরেল দিয়ে ভেতরের রসালো অংশ খান। তবে অনেকেরই হয়তো অজানা আমের খোসাতেও আছে নানা পুষ্টিগুণ।

সাম্প্রতিক বেশ কয়েকটি গবেষণায় দেখা গেছে, আমের চেয়ে এর খোসায় বেশি পুষ্টি থাকে। ইউনিভার্সিটি অব কুইন্সল্যান্ড স্কুল অব ফার্মেসির এক গবেষণায় দেখা গেছে, আমের খোসা ওজন কমাতে সাহায্য করে।

কারণ তা ফ্যাট কোষের গঠন কমায়। কিছু গবেষণা ক্যানসার কোষ সারাতে এমনকি ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণেও ভূমিকা রাখে।

আমের খোসা যেভাবে শরীরের উপকার করে

>> আমের খোসায় উদ্ভিদ যৌগ, ফাইবার ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্টে পূর্ণ। যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় ও বার্ধক্য কমাতে সাহায্য করে। তাছাড়া আমের চামড়ায় প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ, সি, কে, ফোলেট, ম্যাগনেসিয়াম, কোলিন ও পটাশিয়াম আছে।

>> আমের খোসায় থাকা শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যেমন- ম্যাঙ্গিফেরিন, নোরাথাইরিওল ও রেসভেরাট্রল নির্দিষ্ট ধরনের ক্যানসার প্রতিরোধ করতে পারে।

>> পুরুষদের উপর পরিচালিত হার্ভার্ড গবেষণা অনুসারে, যারা নিয়মিত আমের খোসা খেয়েছেন তাদের কার্ডিওভাসকুলার রোগের ঝুঁকি ৪০ শতাংশ কম। ফাইবারসমৃদ্ধ হওয়ায় আমের খোসা পাচনতন্ত্রের জন্যও ভালো।

>> ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণেও সাহায্য করে আমের খোসা। এটি রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতেও সাহায্য করে। তাই নিয়মিত আমের খোসা খেতে পারেন ডায়াবেটিস রোগীরা।

>> ত্বকের স্বাস্থ্যের জন্যও ভালো আমের খোসা। শুকনো আমের খোসার গুঁড়া ত্বকের যত্নে দারুন কার্যকরী। এই গুঁড়ার সঙ্গে দই মিশিয়ে ফেসপ্যাক তৈরি করলে ত্বকের বিভিন্ন দাগছোপসহ সানট্যানও দূর হবে।

>> এমনকি আমের খোসার গুঁড়া রোদের প্রভাব থেকে ত্বককে রক্ষা করে। এজন্য আমের খোসার গুঁড়ার সঙ্গে ত্বকে কয়েক ফোঁটা লোশন মিশিয়ে তা মুখ, বাহু, পাসহ শরীরের খোলা অংশে ব্যবহার করুন। আমের খোসার ভিটামিন ই ও সি অ্যান্টি-ট্যানিং হিসেবে কাজ করে।

আমের খোসা খাবেন কীভাবে?

আম ভালো করে ধুয়ে খোসাসহ খাওয়ার অভ্যাস করতে পারেন। গিলে ফেলতে না পারলে আমের খোসা চিবিয়ে এর রস পান করুন। এছাড়া খোসাসহ আম ব্লেন্ড করেও পান করতে পারেন। চাইলে আমের খোসা শুকিয়ে গুঁড়া করে পানিতে মিশিয়ে পান করতে পারেন।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া


আরও খবর



সাংবাদিকদের সুরক্ষায় সময়োপযোগী কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের আহ্বান

প্রকাশিত:Friday ০৩ June ২০২২ | হালনাগাদ:Monday ২৭ June ২০২২ | ৬৬জন দেখেছেন
Image

সাংবাদিকদের সুরক্ষার ক্ষেত্রে ২০১২ সালে জাতিসংঘ প্রণীত কর্মপরিকল্পনাটি (প্ল্যান অব অ্যাকশন) সংশোধন করে সময়োপযোগী করার আহ্বান জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা আর্টিকেল নাইনটিন।

বৃহস্পতিবার (২ জুন) আর্টিকেল নাইনটিন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়।

এতে বলা হয়, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের সুরক্ষার অধিকার প্রসারে বিশ্বজুড়ে কাজ করা এই সংস্থাটি মনে করে, পরিবর্তিত বৈশ্বিক পরিস্থিতির আলোকে এক দশক পুরনো এই আন্তর্জাতিক কর্মপরিকল্পনাটি সংশোধন করা প্রয়োজন। এক্ষেত্রে ডিজিটাল যুগের উত্থান, কোভিড মহামারি, আফগানিস্তানের পটপরিবর্তন, ইউক্রেন যুদ্ধসহ অন্যান্য সমসাময়িক ইস্যু, চাহিদা ও পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে হবে।

নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে অনুষ্ঠিত সাংবাদিকদের সুরক্ষায় জাতিসংঘের কর্মপরিকল্পনা (ইউএনপিএ) বিষয়ক সাউথ এশিয়া রিজিওনাল কনসালটেশনে আর্টিকেল নাইনটিন এই পর্যবেক্ষণ তুলে ধরে। কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের ১০ম বার্ষিকীতে নেপাল জাতীয় মানবাধিকার কমিশন এবং নেপালি সাংবাদিক ফেডারেশনের সহযোগিতায় ইউনেস্কোর নয়াদিল্লী ও কাঠমান্ডু কার্যালয় যৌথভাবে দুই দিনব্যাপী (৩১ মে ও ১ জুন) এই পরামর্শ সভার আয়োজন করে।

সভায় বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা, ভারত, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, ভুটান এবং নেপালসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত এই পরামর্শ সভায় সরকারি কর্মকর্তা, গণমাধ্যমে নীতিনির্ধারক, মিডিয়া শিক্ষাবিদ, বিচার বিভাগ এবং আইন বিশেষজ্ঞ, ইন্টারনেট ব্যবসার অংশীজন, সাংবাদিক, মানবাধিকারকর্মী এবং তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

অনুষ্ঠানে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে ইউএনপিএর বর্তমান বাস্তবায়ন অবস্থা মূল্যায়ন করা হয়। অংশগ্রহণকারীরা গত এক দশকে সাংবাদিকদের সুরক্ষায় ইউএনপিএর বাস্তবায়ন তথা এর প্রধান তিনটি দিক: প্রতিরোধ, সুরক্ষা, বিচারের সম্মুখীন করার ক্ষেত্রে সাফল্য ও চ্যালেঞ্জের ওপর আলোকপাত করেন। একইসঙ্গে তারা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সাংবাদিক ও গণমাধ্যমের গুরুত্ব তুলে ধরে মানুষের জানার অধিকার ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণ এবং সঠিক তথ্যের প্রয়োজনীয়তা বিষয়ে সুপারিশ করেন।

উল্লেখ্য, সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মীদের জন্য একটি অবাধ ও নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করতে এবং বিশ্বজুড়ে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে অপরাধের দায়মুক্তি মোকাবিলার জন্য ২০১২ সালে ইউনাইটেড ন্যাশনস প্ল্যান অব অ্যাকশন (ইউএনপিএ) নেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে ইউনেস্কোর দক্ষিণ এশীয় যোগাযোগ ও তথ্য বিষয়ক উপদেষ্টা হেজকিয়েল দলামিনি বলেন, এই অঞ্চলে সাংবাদিকদের সুরক্ষায় গত এক দশকে ইউএনপিএর সাফল্য ও চ্যালেঞ্জগুলো খতিয়ে দেখার সুযোগ করে দিয়েছে এই সম্মেলন, যা কর্মপরিকল্পনার বর্তমান অবস্থা মূল্যায়নে সহায়ক হবে।

আলোচনায় অংশ নিয়ে আর্টিকেল নাইনটিন দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক পরিচালক ফারুখ ফয়সল বলেন, ইউএনপিএ তৈরি হয়েছিল ১০ বছর আগে। এরপর নাগরিক সাংবাদিকতার প্রবর্তন, মতপ্রকাশ ও তথ্যের উৎস হিসেবে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের বিকাশ, অনলাইন মাধ্যম নিয়ন্ত্রণে দেশে দেশে আইনি কাঠামো প্রণয়ন এবং কোভিড মহামারি পরিস্থিতির মতো বিভিন্ন ঘটনায় সাংবাদিক ও যোগাযোগকারীদের জন্য বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট অনেক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে এসেছে। তাই অবিলম্বে ইউএনপিএ পর্যালোচনা করা দরকার। এটি সংশোধনের মাধ্যমে সময়োপযোগী করার জন্য এখনই সঠিক সময়।

জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশন অব ভুটানের নির্বাহী পরিচালক নামগে জাম বলেন, রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারসের (আরএসএফ) ২০২২ সালের ওয়ার্ল্ড প্রেস ফ্রিডম ইনডেক্স অনুসারে ভুটান এই অঞ্চলের সেরা স্কোর করে ৩৩তম অবস্থানে রয়েছে। তবে বাস্তবতা হলো, কেবল সূচকের মাধ্যমে ভুটানের সাংবাদিক ও যোগাযোগকারীদের প্রকৃত পরিস্থিতি এবং চ্যালেঞ্জ প্রতিফলিত নাও হতে পারে। দেশটিতে তথ্য অধিকার বিষয়ে কোনো আইন নেই এবং সাংবাদিকদের জন্য কোনো আইনি সুরক্ষা ব্যবস্থা নেই। এমনকি গণমাধ্যমকে বেসরকারি সংস্থা (এনজিও) হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

আর্টিকেল নাইনটিন সাংবাদিকদের সুরক্ষা পরিস্থিতির উন্নতির জন্য সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে সংস্থাটি কর্তৃক বাস্তবায়িত বৈশ্বিক প্রকল্প ‌‘ইক্যুয়ালি সেফ: টুওয়ার্ডস এ ফেমিনিস্ট এজেন্ডা ফর দ্য সেফটি অব জার্নালিস্টস (FEMSOJ) এর বিভিন্ন দিক অনুষ্ঠানে তুলে ধরে। কেস স্টাডি পরিচালনার মাধ্যমে প্রকল্পটি দক্ষিণ এশিয়ার তিনটি দেশ বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা ও নেপালে বাস্তবায়িত হচ্ছে।

এ বিষয়ে আর্টিকেল নাইনটিনের সিনিয়র প্রোগ্রাম অফিসার রুমকি ফারহানা বলেন, ইন্টারসেকশনাল জেন্ডার অ্যাপ্রোচের মাধ্যমে এই প্রকল্পের আওতায় সাংবাদিক ও যোগাযোগকারীদের সুরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করার লক্ষ্যে জাতীয় ও আঞ্চলিক সংলাপ, সমন্বয় কার্যক্রম ও প্রশিক্ষণ পরিচালনা করা হবে।


আরও খবর



নির্বাচনী জোটগণিত

প্রকাশিত:Saturday ০৪ June ২০২২ | হালনাগাদ:Sunday ২৬ June ২০২২ | ৭০জন দেখেছেন
Image

জোট গড়ে, জোট ভাঙ্গে এবং নির্বাচন এগিয়ে এলে জোট গঠন নিয়ে দৌড়ঝাঁপ শুরু হয়। চিত্রটা মোটামুটি এমনই বাংলাদেশে। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপি ছোট ছোট দলের সাথে বৈঠক করছে, কথা বলছে। বিএনপি যে রাজনীতি করে, তার সাথে আদর্শিক মিল আছে জামায়াতে ইসলামির এবং সেই সম্পর্ক কিছুটা আড়ালে রাখলেও জামায়াত-বিএনপির ২০ দলীয় জোট অসক্রিয় থাকলেও ভেঙ্গে যায়নি।

এবার একটু ভিন্ন পথে হাঁটছে বিএনপি। ‘খানিকটা বাম’ চরিত্রের গণসংহতি আন্দোলন ও বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাথে কথা বলতে এই দুটি রাজনৈতিক দলের অফিসে গিয়ে উপস্থিত হয়েছেন খোদ বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সহ বেশ ক’জন কেন্দ্রীয় নেতা। অনেকেই হয়তো কিছুটা বিস্মিত হতে চাচ্ছেন যে, বিএনপি ডানপন্থী দলে ছেড়ে কেন কিছুটা বাম ঘরানার দলের দলের সাথে কেন জোট গড়তে চায়। প্রথমত, মির্জা ফখরুল এটি পরিষ্কার করেছেন যে, এই জোট ইস্যুভিত্তিক।

দ্বিতীয়ত: বিএনপি ইসলামি ও ডানপন্থীদের ছাড়েনি, তাদের সাথে সখ্য ইস্পাত কঠিন রেখেই নতুন বন্ধু খুঁজছে যেমন বন্ধুত্ব গড়েছিল ২০১৮-এর নির্বাচনের সময় ড. কামাল হোসেনদের সঙ্গে। আর একথাও সত্য যে, জুনায়েদ সাকিদের মতো নেতা ও তাদের দলের সাথে যে বিএনপির অঘোষিত মতৈক্য হয়েই আছে, তা জানতে এই দুই পক্ষের ইস্তেহার পড়ার দরকার নেই। রাজনৈতিক ইতিহাস চর্চা করলেই সেটা বোঝা যায়। এই যে ‘খানিকটা বাম’ জাতীয় ক্ষুদ্র রাজনৈতিক দল ও জোট আছে, তাদের সাথে আবার গহীনের সম্পর্ক আছে রেজা কিবরিয়া- নুরের গণ অধিকার পরিষদের মতো চরম ডানপন্থি দলেরও।

তাই মানসিক ঐক্যটা ছিলই, এখন মাঠে সেটাকে কাজে লাগাতে চায় বিএনপি। যার বিরুদ্ধে লড়াইয়ের এত আয়োজন সেই আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে জোট বিএনপি আগেও করেছে। ২০১৪ সালের নির্বাচনের আগে ২০১২ সালে গড়ে তোলা ২০ দলীয় ঐক্যজোট গড়ে জামায়াতের সহযোগিতায় প্রচন্ড আন্দোলন, সারাদেশে জ্বালাও পোড়াও করেও নির্বাচন ঠেকাতে পারেনি, এবং ১৫৪ জনের মতো বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে সরকার গঠন করা আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে কার্যত কোন গণবিক্ষোভ রচনা করতেও সফর হয়নি। ফলে পুরো সময় ক্ষমতায় থেকে আওয়ামী লীগ ২০১৮-তে নিয়ম মাফিক নির্বাচন দেয় এবং সেটিকে সামনে রেখেও বিএনপি জোট গঠনে তৎপর হয়।

ড. কামাল হোসেন, মাহমুদুর রহমান মান্নাদের সাথে গিয়ে ২০১৮ সালের নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপি, যুক্তফ্রন্ট ও জাতীয় ঐক্যপ্রক্রিয়া নিয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট হয়, কিন্তু সাফল্য আসেনি।

বিএনপি-কে যখন জামায়াতের সাথে সখ্য নিয়ে প্রশ্ন করা হয় তখন তারা বলে সরকার কেন জামায়াত-কে নিষিদ্ধ করছে না, যেন যুদ্ধাপরাধী দল হিসেবে জামায়াতের বিরুদ্ধে সব ব্যস্থা নেওয়ার একক দায়িত্ব শুধু আওয়ামী লীগের। নিজেরা শুধু সখ্যতা ছাড়বে, এটুকুও করতে রাজি নয় বিএনপি। অন্যদিকে আওয়ামী লীগ যখন বিএনপিকে জামায়াত ইস্যুতে খোঁচাখুচি করে তখন তারা নিজেদের দেখতে পায় না যে, হেফাজতে ইসলামের মতো চরম গোরা একটি গোষ্ঠির সাথে সে আপস করে, তাদের কথা রেখে রেখে শাসন কার্য পরিচালনা করছে। তাই বাংলাদেশের রাজনৈতিক মঞ্চে রাজনীতির নৈতিকতা নিয়ে উচ্চরব হওয়ার সুযোগ আর নেই। বরং ভাবা যেতে পারে, বিএনপি’র এই নতুন জোটপন্থার ভবিষ্যৎ কী? সেটা অবশ্য কারও কাছেই এখন খুব স্পষ্ট নয়।

ড. কামালদের সাথে নিয়ে ২০১৮ সালের জোট গঠন নিয়ে নির্বাচন পরবর্তী সময়ে ব্যাপক সমালোচনা করছেন বিএনপিপন্থী হার্ডকোর বুদ্ধিজীবীরা। তারা বলেছেন, এদের সাথে যাওয়াই ঠিক হয়নি বিএনপির। তাই নতুন জোটের দিকে যখন সবাই তাকিয়ে তখন বেশকিছু ঘঠনা ভিন্ন তর্কও সামনে আনছে। কিছুদিন আগে বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ সংগঠন জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। কমিটিতে সুলতান সালাহউদ্দিন টুকুকে সভাপতি করা হয়েছে।

২০০৪ সালের একুশে আগস্টের গ্রেনেড হামলা করে শেখ হাসিনাসহ পুরো আওয়ামী লীগ নেতৃত্বকে নিশ্চিহ্ন করার প্রচেষ্টা চিরস্থায়ীভাবে বাংলাদেশের রাজনীতিতে ক্ষত নিয়ে এসেছে। সেই হামলার পরিকল্পনা, এর সাথে জড়িত বলে পরিচিতি আছে সাবেক উপমন্ত্রী ও ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার অন্যতম আসামি আব্দুস সালাম পিন্টু। তারই ভাই টুকু। তাকে যখন সভাপতি করা হয়, তখন বিএনপি যে বার্তা দেয় রাজনীতিতে সেটা পরিষ্কার হয়। পরিষ্কার হয় যখন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের মিছিল থেকে শ্লোগান উচ্চারিত হয়, ’৭৫-এর হাতিয়ার, গর্জে উঠুক আরেকবার’।

ক্যাম্পাস গণতন্ত্র বিবেচনা করলে ছাত্রদলের অবশ্যই সেখানে অবস্থান করার, মিটিং-মিছিল করার অধিকার আছে। কিন্তু কোন রাজনীতি নিয়ে তারা উপস্থিত হচ্ছে সেই প্রশ্নটা উঠে।

এগুলো সঙ্কেত এবং নির্বাচনী রাজনীতিতে সঙ্কেতের মূল্য কম নয়। রাজপথের আন্দোলনকে সফল না করলে নির্বাচনী জোট সাফল্য আনতে পারেনা, এটি বাংলাদেশে বারবার প্রমাণিত হয়েছে। তাই কোন রাজনীতি নিয়ে জনতার সামনে হাজির হতে হচ্ছে সেটি বড় বিবেচ্য। আগামী সংসদ নির্বাচনে সঙ্ঘবদ্ধ লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপি। তাই সংখ্যা বাড়াতে উদ্যোগী তার নেতৃত্ব। কিন্তু শুধু এই পাটিগণিতের জোরে নির্বাচনী সাফল্য আসবে এমন ভাবনা দুর্বল।

বিএনপির সামনে অপশন দুটি – ১. যেটা বলছে যে, নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকার ছাড়া তারা নির্বাচন না করা এবং ২. আওয়ামী লীগের অধীনে নির্বাচনে না গিয়ে তা প্রতিহত করা। দুটোর জন্যই মাঠের সক্রিয়তা আবশ্যক। এই পরিপ্রেক্ষিতেই বৃহত্তর ছবিটিও বিশেষ প্রাসঙ্গিক। যদি এমন হয় যে, বিএনপি নির্বাচনে গেল না, কিন্তু জোটের বন্ধুরা ঠিকই নির্বাচন করল, তখন কী অবস্থা হবে?

জামায়াত নিয়ে দেশের ভেতরে ও বাইরে অনেকের আপত্তি রয়েছে। আপত্তি রয়েছে বিএনপির ভেতরেও। ১৫ আগস্ট এবং একুশে আগস্ট নিয়েও দলের ভেতরে বাইরে এবং বৃহত্তর সমাজে বড় ভাবনা আছে। বিএনপি কি সেটা শুনতে পায়? তাই শুধু জোট দিয়ে মধ্যবিত্তের মধ্যে নৈতিক সমর্থন আদায় সম্ভব হবে না। ষাদের দশক থেকে অসাম্প্রদায়িক ও ধর্মনিরপেক্ষ যে নাগরিক সমাজ বাংলাদেশের সমাজের অন্তরে বসে আছে তাকে বড় আকারে পাশ কাটিয়ে এগিয়ে যাওয়া সহজ কাজ নয়।

লেখক: প্রধান সম্পাদক, জিটিভি।


আরও খবর



ভারতে কারাভোগ শেষে ফিরলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কল্পনা

প্রকাশিত:Friday ২৪ June ২০২২ | হালনাগাদ:Tuesday ২৮ June ২০২২ | ৪০জন দেখেছেন
Image

উন্নত কাজের প্রলোভনে পাচারের শিকার এক বাংলাদেশি নারীকে বিশেষ ট্রাভেল পারমিটে বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে ভারতীয় পুলিশ। বৃহস্পতিবার (২৩ জুন) সন্ধ্যায় বেনাপোল চেকপোস্ট দিয়ে তাকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়।

ফেরত আসা কল্পনা বেগম (৩৪) ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার বাসিন্দা।

জানা যায়, দেড় বছর আগে তিনি দালালের মাধ্যমে অবৈধপথে ভারতে যান। অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে দিল্লী পুলিশ তাকে আটক করে জেলে পাঠায়। পরে সেখান থেকে ভারতের একটি মানবাধিকার সংস্থা তাকে ছাড়িয়ে নিয়ে নিজেদের শেল্টার হোমে রাখে। এরপর দুই দেশের সরকারের সহযোগিতায় দেশে ফেরার সুযোগ পান তিনি।

বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন পুলিশের ওসি মোহাম্মদ রাজু জানান, পুলিশের কার্যক্রম শেষে ফেরত আসা নারীকে বেনাপোল চেকপোস্ট থেকে মানবাধিকার সংস্থা জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ারের প্রতিনিধি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করার জন্য গ্রহণ করেছেন।

জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ারের বেনাপোল ফিল্ড অফিসার রোকেয়া খাতুন বলেন, তাকে আমাদের নিজস্ব শেল্টার হোমে রাখা হবে। পরে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। ফেরত আসা বাংলাদেশি নারী যদি পাচারকারীকে শনাক্ত করতে পারেন তাহলে আইনি সহায়তা দেওয়া হবে।


আরও খবর



অভিজ্ঞতা ছাড়াই ইস্টার্ন ব্যাংকে চাকরি, বেতন ২৮ হাজার

প্রকাশিত:Wednesday ১৫ June ২০২২ | হালনাগাদ:Tuesday ২৮ June ২০২২ | ৪১জন দেখেছেন
Image

বেসরকারি আর্থিক লেনদেনকারী প্রতিষ্ঠান ইস্টার্ন ব্যাংক লিমিটেডে ‘ট্রেইনি অ্যাসিস্ট্যান্ট অফিসার’ পদে জনবল নিয়োগ দেওয়া হবে। আগ্রহীরা আগামী ২১ জুন পর্যন্ত আবেদন করতে পারবেন।

প্রতিষ্ঠানের নাম: ইস্টার্ন ব্যাংক লিমিটেড
বিভাগের নাম: ক্যাশ এরিয়া

পদের নাম: ট্রেইনি অ্যাসিস্ট্যান্ট অফিসার
পদসংখ্যা: নির্ধারিত নয়
শিক্ষাগত যোগ্যতা: স্নাতক
অভিজ্ঞতা: প্রযোজ্য নয়
বেতন: ২৮,০০০ টাকা

চাকরির ধরন: ফুল টাইম
প্রার্থীর ধরন: নারী-পুরুষ
বয়স: নির্ধারিত নয়
কর্মস্থল: যে কোনো স্থান

আবেদনের নিয়ম: আগ্রহীরা jobs.bdjobs.com এর মাধ্যমে আবেদন করতে পারবেন।

আবেদনের শেষ সময়: ২১ জুন ২০২২

সূত্র: বিডিজবস ডটকম


আরও খবর



দুদিনে টাকার মান কমলো তিনবার

প্রকাশিত:Tuesday ০৭ June ২০২২ | হালনাগাদ:Monday ২৭ June ২০২২ | ৬৮জন দেখেছেন
Image

ডলারের বিপরীতে টাকার মান আরও পাঁচ পয়সা কমেছে। মঙ্গলবার (৭ জুন) ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক এক ডলারের বিপরীতে ৯২ টাকা নিয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

সোমবার (৬ জুন) ডলারের দাম ছিল ৯১ টাকা ৫০ পয়সা। তবে দিনের শেষভাগে আরও ৪৫ পয়সা বাড়িয়ে ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে ৯১টা ৯৫ পয়সা নিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক।

সর্বশেষ মঙ্গলবার (৭ জুন) ডলারের দাম ৫ পয়সা বাড়িয়ে ৯২ টাকা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এনিয়ে ডলারের বিপরীতে দুদিনে টাকার মান কমলো তিনবার।

আর এক মাসে ডলারের বিপরীতে টাকার মান ৫ টাকা ৫৫ পয়সা কমেছে। এনিয়ে চলতি বছরে ডলারের বিপরীতে ১০ বার মান হারালো টাকা।

মঙ্গলবার (৭ জুন) কেন্দ্রীয় ব্যাংক অন্যান্য ব্যাংকগুলোর কাছে ৯২ টাকা রেটে ১৩০ মিলিয়ন ডলার বিক্রি করেছে। সোমবার (৬ জুন) বিক্রি হয়েছিল ১৩০ মিলিয়ন ডলার।

গত ২ জুন কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রতি মার্কিন ডলারের দাম ৮৯ টাকা ৯০ পয়সা নির্ধারণ করে দিয়েছিল, যা তার আগে ছিল ৮৯ টাকা। ফলে পাঁচদিনেই ডলারের বিপরীতে টাকার মান কমলো আরও দুই টাকা ৫ পয়সা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম জানান, প্রবাসীদের খুশি করার জন্য প্রকৃত দরের ওপর মূল্যায়ণ করে ডলারের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজারে প্রতি ডলারে কিনতে খরচ করতে হচ্ছে ৯২ টাকা।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২০ সালের জুলাই থেকে গত বছরের আগস্ট পর্যন্ত আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজারে ডলারের দাম ৮৪ টাকা ৮০ পয়সায় স্থিতিশীল ছিল। কিন্তু এরপর থেকে বড় ধরনের আমদানি ব্যয় পরিশোধ করতে গিয়ে ডলার সংকট শুরু হয়, যা এখন পর্যন্ত অব্যাহত আছে।

২০২১ সালের আগস্টের শুরুতেও আন্তঃব্যাংকে প্রতি ডলারের মূল্য একই ছিল। ৩ আগস্ট থেকে দু-এক পয়সা করে বাড়তে বাড়তে গত বছরের ২২ আগস্ট প্রথমবারের মতো ৮৫ টাকা ছাড়িয়ে যায়। এ বছরের ৯ জানুয়ারিতে এটি বেড়ে ৮৬ টাকায় পৌঁছে। এরপর ২২ মার্চ পর্যন্ত এ দরেই স্থির ছিল।

পরে গত ২৩ মার্চ আন্তঃব্যাংকে আরও ২০ পয়সা বেড়ে ৮৬ টাকা ২০ পয়সায় দাঁড়ায়। ২৭ এপ্রিল আরও ২৫ পয়সা বেড়ে দাঁড়ায় ৮৬ টাকা ৪৫ পয়সা। ১০ মে বাড়ে আরও ২৫ পয়সা। ১৬ মে বাড়ে ৮০ পয়সা। ২৩ মে বাড়ে ৪০ পয়সা।

২৯ মে আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজারে প্রতি ডলারে ৮৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়। এরপরও বাজার স্থিতিশীল হয়নি। পরে সংকট নিরসনে বাংলাদেশ ফরেন এক্সচেঞ্জ ডিলারস অ্যাসোসিয়েশন (বাফেদা) এবং ব্যাংকের শীর্ষপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকারস, বাংলাদেশের (এবিবি) দাবির পরিপ্রেক্ষিতে রোববার (২৯ মে) বাংলাদেশ ব্যাংক আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজারে ডলার ৮৯ টাকা বেধে দেয়।

আমদানিকারকদের কাছে বিক্রির জন্য সেলিং রেট নির্ধারণ করা হয় ৮৯ টাকা ১৫ পয়সা। যদিও ব্যাংকগুলো আন্তঃব্যাংক লেনদেনে প্রতি ডলারের বিনিময়মূল্য ৮৯ টাকা ৮০ পয়সার প্রস্তাব করেছিল।

তাতেও বাজার স্থিতিশীল না হওয়ায় ২ টাকা ৫ পয়সা বাড়িয়ে ৯২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা এ যাবৎকালের সর্বোচ্চ মূল্য। আর খোলা বাজারে প্রতি এক ডলারের মূল্য রাখা হচ্ছে ৯৮ থেকে ৯৯ টাকা পর্যন্ত।


আরও খবর