Logo
আজঃ Friday ১৯ August ২০২২
শিরোনাম
রূপগঞ্জে আবাসিকের অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন ডেমরায় প্যাকেজিং কারখানায় ভয়বহ অগ্নিকান্ড রূপগঞ্জে পুলিশের ভুয়া সাব-ইন্সপেক্টর গ্রেফতার রূপগঞ্জে সিরিজ বোমা হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ ॥ সভা সরাইলে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ৭৭তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত। নারায়ণগঞ্জে পারিবারিক কলহে স্ত্রীকে পুতা দিয়ে আঘাত করে হত্যা,,স্বামী গ্রেপ্তার রূপগঞ্জ ইউএনও’র বিদায় সংবর্ধনা নাসিরনগরে স্বামীর পরকিয়ার,বলি ননদ ভাবীর বুলেটপানে আত্মহত্যা নাসিরনগরে জাতীয় শোক দিবস ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৭ তম শাহাদত বার্ষিকী পালিত ডেমরায় জাতীয় শোক দিবসের কর্মসুচি পালিত

আজকের ইউপি নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রে কেউ মারা যায়নি: ইসি সচিব

প্রকাশিত:Thursday ১১ November ২০২১ | হালনাগাদ:Friday ১৯ August ২০২২ | ৪৩৯জন দেখেছেন
ডেস্ক এডিটর

Image


ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) দ্বিতীয় ধাপের নির্বাচনে সহিংসতায় নিহতদের মধ্যে ভোটকেন্দ্রে কেউ মারা যায়নি বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সচিব মো. হুমায়ুন কবীর খোন্দকার।বৃহস্পতিবার (১১ নভেম্বর) সন্ধ্যায় নির্বাচন ভবনে দ্বিতীয় ধাপের ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন শেষে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।

 

ইসি সচিব বলেন, আপনারা বলেছেন ছয়জন মারা গেছেন, এটি ঠিক। এটির জন্য কমিশন ব্যথিত। এটি আমরা কখনো চাইবো না রাষ্ট্রের একজন নাগরিকও যেকোনো কারণেই নিহত হোক। আজ যে ছয়জন মারা গেছে তারা কেউ আমাদের ভোটকেন্দ্রে মারা যায়নি। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী যারা তাদের মধ্যেই ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, তাদের মধ্যেই সহিংসতা হয়েছে এবং তারা মারা গেছে।

 

তিনি বলেন, মোট যে ৮৩৪টি ইউনিয়ন পরিষদে ভোট হয়েছে আমরা সব জেলা-উপজেলায় খোঁজ নিয়েছি, প্রার্থীরাও কেউ কেউ আমাদের কাছে অভিমত ব্যক্ত করেছেন, আমরা জানতে পেরেছি ভোটটি খুব সুন্দর হয়েছে, উৎসবমুখর হয়েছে।

 

হুমায়ুন কবীর খোন্দকার বলেন, এই ধাপের ৮৩৪টি ইউপি নির্বাচনে ৮ হাজার ৪০০ ভোটকেন্দ্র। আমরা গণমাধ্যম ও ল’ মনিটরিং সেন্টারের মাধ্যমে রিপোর্ট পেয়েছি ১০টি কেন্দ্রে ব্যালট ছিনতাইয়ের চেষ্টা করেছে। আমাদের প্রিসাইডিং অফিসাররা ওই ১০ কেন্দ্রের ভোট বন্ধ করে দিয়েছেন। এগুলোতে পরে ভোটগ্রহণ করা হবে। অন্য কেন্দ্রগুলোর রেজাল্ট নিয়েও যদি ডিসিশন না হয় তখন পরবর্তীতে ভোট নেওয়া হবে। আমরা মনে করি পুরো দেশে ভালো ভোট হয়েছে।

 

গতকাল চতুর্থ ধাপের ভোটের তফসিল হয়েছে, পরবর্তী ধাপের ভোট নিয়ে আবার কমিশনের বৈঠক হবে বলেও জানান ইসি সচিব।

 

এর আগে আজ দ্বিতীয় ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দেশের বিভিন্ন স্থানে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। নির্বাচনী সহিংসতায় অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন শতাধিক।

 

নিহতদের মধ্যে নরসিংদীতে তিনজন, কক্সবাজারে একজন, চট্টগ্রামে একজন ও কুমিল্লায় একজন রয়েছেন। বৃহস্পতিবার সকাল ৮টায় শুরু হয়ে বিকেল ৪টায় ভোটগ্রহণ শেষ হয়।

 

খবর প্রতিদিন/ সি.বা 

নিউজ ট্যাগ: ইউপি নির্বাচন

আরও খবর



বঙ্গবন্ধু ছিলেন অর্থনৈতিক মুক্তির দিশারী

প্রকাশিত:Thursday ১৮ August ২০২২ | হালনাগাদ:Friday ১৯ August ২০২২ | ৫২জন দেখেছেন
Image

বঙ্গবন্ধু যেমন ছিলেন রাজনৈতিক মুক্তির মহানায়ক, তেমনি অর্থনৈতিক মুক্তির দিশারী। সদ্য স্বাধীন দেশের গ্রামীণ দরিদ্র্য নিরসনে তিনিই প্রথম ক্ষুদ্র ঋণের প্রবর্তন করেছিলেন। বাংলাদেশ রুরাল ডেভেলপমেন্ট বোর্ড (বিআরডিবি) প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে গ্রামীণ উন্নয়নে কাজ শুরু করেন। এই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম প্রধান কাজ ছিল ক্ষুদ্র ঋণ বিতরণ করা।

বুধবার (১৭ আগস্ট) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) সেমিনারে এসব কথা বলেন বক্তারা।

বক্তারা বলেন, ক্ষুদ্র ঋণ বিতরণের মধ্য দিয়ে গ্রামীণ দারিদ্র্য নিরসনের প্রচেষ্টা শুরু হয়। তবে বঙ্গবন্ধুর শাসনামলে ব্যাংক লুটসহ নানা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছিল জাসদ ও সর্বহারা পার্টি। আন্তর্জাতিক ষড়ষন্ত্রের কারণে বঙ্গবন্ধুকে খুন হতে হয়েছিল।

‘বঙ্গবন্ধুকে কাছে থেকে দেখা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমান। আলোচক ছিলেন বঙ্গবন্ধুর সময়ের ঢাকার পুলিশ সুপার মাহবুব উদ্দিন আহমেদ, বীর বিক্রম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর ও বঙ্গবন্ধুর ধানমন্ডির বাসার নিকট প্রতিবেশী প্রফেসর ড. নাসরিন আহমেদ ও মুক্তিযুদ্ধের গবেষক ও লেখক লে, কর্নেল (অব.) কাজী সাজ্জাদ আলী জহির, বীর বিক্রম। সভাপতিত্ব করেন বিআইডিএসের মহাপরিচালক ড. বিনায়ক সেন।

jagonews24

ড. মসিউর রহমান বলেন, দেশ স্বাধীনের পর খাদ্য সংকট মোকবিলায় বঙ্গবন্ধু যত ধরনের ব্যবস্থা নেওয়ার সবই নিয়েছিলেন। যেমন রাস্তাঘাট উন্নয়ন, পরিবহন ব্যবস্থা সচল করা, খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি এবং খাদ্য বিতরণ ও ব্যবস্থায় যত ত্রুটি ছিল সব দূর করা। পরে তিনি টিসিবি প্রতিষ্ঠার করেছিলেন। ‌এই টিসিবি তখন খুব গুরুত্বর্পূ ভূমিকা রেখেছিল।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর সময়ই বাংলাদেশ বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের সদস্য হয়েছিল। সে সময় বিশ্বব্যাংক শর্ত দিয়েছিল পাকিস্তান সরকারের নেওয়া ঋণের একটা অংশ বাংলাদেশকে পরিশোধ করতে হবে। বঙ্গবন্ধু সেটি প্রত্যাখান করেছিলেন। পাশাপাশি এদেশের কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছিলেন বিশ্বব্যাংকের ঋণে যেসব প্রতিষ্ঠান এদেশে তৈরি করা হয়েছিল সেগুলোর পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ঋণ পরিশোধের বিষয়টি দেখার। পরে বাংলাদেশকে শর্ত ছাড়াই তাদের সদস্য পদ দেয়।

‘আইএমএফের শর্ত ছিল মুদ্রা মানের সমন্বয় করার। কিন্তু বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন নতুন ফসল না ওঠা পর্যন্ত এটা করা যাবে না। তারপর সমন্বয় করা হলেও মানুষের ওপর খুব বেশি প্রভাব পড়েনি। বঙ্গবন্ধু পরিকল্পনা কমিশন গঠন করে দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছিলেন। এ সময় তিনি বঙ্গমাতা ও তার পরিবারের সদস্যদের ব্যক্তিগত আচরণ সম্পর্কে স্মৃতিচারণ করেন।’

কাজী সাজ্জাদ আলী জহির বলেন, বঙ্গবন্ধু ছিলেন দরিদ্র মানুষের বন্ধু। তিনি সবসময় মানুষের কথা ভাবতেন। বঙ্গবন্ধুর আদর্শে আমাদের ঘুমন্ত আত্মাকে জাগ্রত করতে হবে। মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধুর ইতিহাস সংক্ষণ করতে হবে।

মাহবুব উদ্দিদ আহমেদ বলেন, পাকিস্তান পরাজয় মেনে নিলেও তার দোসর আমেরিকাসহ যেসব দেশ ছিল তারা পরাজয় মানতে পারেনি। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর বঙ্গবন্ধুকে সরিয়ে দেওয়ার প্রচেষ্টা চালাতে থাকে। এরপর ১৯৭২ সালের জাসদ জন্ম লাভ করে। তাদের উদ্দেশ্য ছিল বেআইনি অস্ত্র দিয়ে ক্ষমতা দখল করা। জাসদ সে সময় ব্যাংক লুট করা, পাটের গুদামে আগুন দেওয়াসহ দেশজুড়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছিল। সে সময় গ্রামের থানাগুলোতে ৫/৬ জন কনস্টেবল আর শহরের থানাগুলোতে ২৫/৩০ জন কনস্টেবল ছিল। এত কম লোক দিয়েও পুলিশ আইনশৃঙ্খলা রক্ষার প্রচেষ্টা চালিয়েছিল।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু এত কিছুর পরও জাসদের নেতাকর্মীদের গ্রেফতার বা তাদের জন্য আলদা কোনো নির্দেশনা পুলিশকে দেননি। সে সময় সর্বহারা পার্টিও বিশৃঙ্খলা করেছিল। বঙ্গবন্ধু প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন একাধিকবার আমাকে সঙ্গে নিয়ে ছদ্দবেশে ঢাকা শহর ঘুর বেরিয়েছিলেন। মানুষের প্রকৃত অবস্থা নিজের চোখে দেখার চেষ্টার করেছেন। আধুনিক পুলিশের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন বঙ্গবন্ধু।

নাসরিন আহমেদ বলেন, ধানমন্ডিতে বঙ্গবন্ধুর বাড়ির নম্বর ছিল ৬৭৭ আর আমাদের বাড়িটা ছিল ৬৭৮ নম্বর। প্রথমদিকে দুই বাড়ির মাঝে কোনো দেয়াল ছিল না। পরে যখন দেয়াল দেওয়া হয় তখন মাঝে একটি দরজা ছিল। যেটি সবসময় খোলা থাকতো। বঙ্গবন্ধুর বাড়িতে আমাদের অবাধ যাতায়াত ছিল।


আরও খবর



পর্যটনের ধারণা বদলে দিচ্ছে উটির চা-চকলেট, শ্রীমঙ্গল কেন পিছিয়ে

প্রকাশিত:Thursday ২৮ July ২০২২ | হালনাগাদ:Friday ১৯ August ২০২২ | ৫৫জন দেখেছেন
Image

বিরূপ আচরণ প্রকৃতি কখনো সহ্য করে না। কোনো না কোনোভাবে সেটা আবার ফিরিয়ে দেয়। প্রকৃতিকে ধ্বংসের মুখে না ফেলে তাই কীভাবে এর উপযুক্ত ব্যবহার করে খাপ খাইয়ে নেওয়া যায়, সেদিকেই ঝুঁকছে পৃথিবী। ভারতের তামিলনাড়ুর শৈল শহরের রানি খ্যাত উটি এমন একটি শহর। প্রায় আড়াই হাজার মিটার উঁচু এ শহরে পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর প্লাস্টিক নিষিদ্ধ। চাইলেই পাহাড় কেটে স্থাপনা বানানো যায় না। তাদের যে স্বল্প সম্পদ রয়েছে সেটাকে যথোপযুক্ত ব্যবহার করে ছবির মতো সুন্দর করে সাজিয়ে রেখেছে।

উটির মতো এমন সুন্দর পাহাড়, চা বাগান আমাদের বান্দরবান, সিলেটেও রয়েছে। কিন্তু পর্যটনটাকে আমরা গতানুগতিকতার বাইরে ভাবতে পারি না। যে কারণে বিদেশি পর্যটক কম, দেশি পর্যটকরাও সেভাবে আকর্ষণবোধ করেন না।

সিলসিলা, মেনে পেয়ার কিয়া থেকে শুরু করে বহু বলিউড সিনেমার শুটিং হয়েছে উটিতে। পরিচ্ছন্ন, সবুজ একটি শহর। চা বাগান, গোলাপ বাগান, হাতে তৈরি চকলেট, টয় ট্রেন, টোডা ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর তৈরি বিভিন্ন সরঞ্জাম এখানকার পর্যটনকে এগিয়ে নিচ্ছে। থাকা-ঘোরার খরচও খুব বেশি নয়। এক হাজার বা দেড় হাজার রুপি দিয়ে একটি অটো ভাড়া করলেও গোটা শহর তিন-চার ঘণ্টায় দেখে ফেলা সম্ভব। মানুষ ঠকায় কম। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে, কেনাকাটা করে অন্তত সেই অভিজ্ঞতাই হয়েছে।

jagonews24

উটি শহর থেকে তিন-চার কিলোমিটারের মধ্যে অবস্থিত চা জাদুঘর। কিন্তু এটা একেবারেই অন্যরকম। টিকিট ১০ রুপি। ঢুকতে হয় সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠে। ভেতরে ঢুকে দেখা যাবে এ অঞ্চলে চায়ের ইতিহাস সম্বলিত কিছু ছবি, যেটার গোড়াপত্তন হয় ব্রিটিশদের হাত ধরে। ঢুকতেই চায়ের কাঁচাপাতার ঘ্রাণ লাগে নাকে। একটু ঘুরে তাকিয়ে দেখা গেলো চায়ের পাতা একেকটি কনটেইনারে ঝুলে যাচ্ছে মেশিনের মধ্যে। মানে এটি একটি চা কারখানাও। সেটা বাইরে থেকে বোঝা যায় না প্রথমে। দর্শনার্থীদের কাছে এখন বড় আকর্ষণ এটি। চা উৎপাদন লাইভ দেখা।

আমাদের দেশে চা ফ্যাক্টরি মানেই ধারে কাছে ঘেঁষা বারণ। খুব পরিচিত কেউ না থাকলে সিলেট বিভাগে প্রায় দুইশ চা বাগান থাকার পরও পর্যটকরা সেখানে ঢুকতে পারেন না। ফ্যাক্টরির আশপাশে থাকা বাগানে ছবি তুলেই শেষ হয় চায়ের দেশ ঘোরা। বাগান বা ফ্যাক্টরির আশপাশে সেভাবে চা বেচাকেনারও ব্যবস্থা নেই।

কিন্তু উটি ব্যতিক্রম। এই চা ফ্যাক্টরিটির প্রোডাকশনে মাত্র পাঁচজন শ্রমিক কাজ করেন। বাকি সব অটোমেটিক সিস্টেম। জাদুঘরে ঢোকার পর পেছনে ফেরার সুযোগ নেই। লোহার গ্রিলে ঘেরা পথ ধরে চা তৈরির সবগুলো ধাপ দেখে তবেই নামতে হবে নিচে। কাঁচা পাতা দেখতে দেখতে নিচে নেমে দেখা যাবে তৈরি চায়ের প্যাকিং। চাপ্রেমীদের কাছে যা খুবই উপভোগ্য। নিচে নেমেই আরেক চমক। কারখানার টাটকা চা পাতায় তৈরি গরম গরম এক কাপ চা হাতে দাঁড়িয়ে একজন। এ উষ্ণ অর্ভ্যথনা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে। পর্যটকদের অপ্রত্যাশিত আনন্দ দেয় এটা।

jagonews24

কারখানা থেকে বেরিয়েই দেখা যাবে চায়ের দোকান। সেখানেও আছে দারুণ সব প্যাক। ফ্যামিলি প্যাকের পাশাপাশি টিন, কাঠ ও কাগজের সুদৃশ্য বক্স বিক্রি হচ্ছে গিফট প্যাক হিসেবে। উটির স্যুভেনির হিসেবে পর্যটকরা দেদারছে কিনছেন সেটা। দুইশ থেকে নয় হাজার রুপি দামের চা পাতা রয়েছে এখানে। সবচেয়ে বেশি দামে বিক্রি হয় সিলভার টিপস টি। যেটা দুটি কুঁড়ি রোদে শুকিয়ে হাতে তৈরি হয়।

দক্ষিণ ভারতের সবচেয়ে উঁচুতে এক একর জায়গা নিয়ে তৈরি এই চা ফ্যাক্টরির দৈনিক উৎপাদন ক্ষমতা এক টন।

এই ফ্যাক্টরির ম্যানেজার বর্ধমান রাজ বলেন, প্রতিদিন প্রায় চার হাজার পর্যটক এখানে আসেন। ২০০৫ সালে শুধু পর্যটকদের কথা মাথায় রেখে এ চা কারখানাটা গড়ে তোলা হয়। লেমন, জিঞ্জার, তুলসি, হানি, এলাচিসহ বিশ ধরনের চা উৎপাদন হয় এ কারখানায়। এছাড়া টি অয়েল থেকে শুরু করে মিলবে বিভিন্ন হারবাল পণ্য।

jagonews24

চমক এখানেই শেষ নয়, চা দেখে বের হওয়া যাবে না। আবার উপরে উঠতে হবে। এবার চকলেট কারখানা দেখার পালা। হাতে তৈরি চকলেট সেই ব্রিটিশ আমল থেকেই এখানে বিখ্যাত। সেই চকলেট তৈরি দেখা এবং কেনার সুযোগও আছে। দুজন নারীকে দেখা গেলো কাচঘেরা কারখানায় কাজ করতে। এক পাশে বক্সে সারি সারি সাজানো চকো ফল। অন্য পাশে গোল বাঁকানো দুটি বড় ড্রামের ভিতর দেওয়া হচ্ছে সেই ফলগুলো। সেখানেই হচ্ছে গুঁড়া। পাশের আরেকটি মেশিন থেকে বের হচ্ছে তরল চকলেট।

এর পাশের ঘরে আরেকজন নারী সেই তরল চকলেট বিশেষ কাপড়ে মুড়ে হাতের চাপে ফেলছেন বিভিন্ন ধরনের ছাঁচে। সেই ছাঁচে থেকে তুললেই তৈরি হয়ে গেলো জিভে জল আনা চকলেট। শুধু তৈরি দেখা নয়। একটু ঘুরে গিয়ে সেই চকলেট কেনার সুযোগও রয়েছে। ব্যাপক ভিড় দেখা গেলো কেনার জায়গায়।

হ্যাজল নাট, রেজিন, অ্যালমন্ড, কোকোনাট, কেশোনাট, ফ্রুট, ডার্ক, হোয়াইট প্রভৃতি চকলেট পাবেন এখানে। দাম কেজিপ্রতি ৮শ থেকে ২ হাজার রুপি পর্যন্ত। ফ্যাক্টরির বাইরে পরিবেশটাও মন ভোলানো। পর্যটকদের কীভাবে আকর্ষণ করতে হয় এরা তা জানে।

jagonews24

উটি ভ্রমণে এসে সাংবাদিক মহসিন উল হাকিম জাগো নিউজকে বলেন, পর্যটকদের জন্য এখানে আহামরি কিছু নেই। এখানকার চা, বোটানিক্যাল গার্ডেন, শত বছরের পুরোনো রেলগাড়ি এগুলোই পর্যটকদের আনন্দ দেয়। এগুলোই উপভোগ্য। এখানে অ্যামিউজমেন্ট পার্ক করে লাভ নেই, কারণ এটা পুরোটাই একটি অ্যামিউজমেন্ট পার্ক। বাংলাদেশেও এমন অনেক সুন্দর জায়গা আছে। বিষয়টা হলো পর্যটকদের সার্ভিস দেওয়া। পর্যটকরা যেন কষ্ট না পান, জিনিসের দাম যেন বেশি নেওয়া না হয়। এ জিনিসগুলো এখানে নেই। এখানকার মানুষ পর্যটকদের সার্ভিস দেয়, এক হাজার রুপিতে দুই ঘণ্টায় শহর ঘুরে ফেলতে পারছি। এসব বিষয়ই আমার ভালো লেগেছে।

সাংবাদিক শাহানাজ শারমিন বলেন, উটির পাহাড়ে হেঁটে চলে আমার বারবার আমাদের রাঙ্গামাটি-বান্দরবানের পাহাড়ের কথা মনে হচ্ছিল। আমরাও যদি এদের মতো সার্ভিস দিতে পারতাম তাহলে সারা পৃথিবী থেকেই পর্যটকরা আমাদের দেশে আসতো। এরা প্রকৃতি সংরক্ষণে সর্বোচ্চ চেষ্টা করে। পশু-পাখি প্রাণী সব যেভাবে আছে সেভাবে রেখেই এরা এগিয়ে যাচ্ছে। এটাই আমাদের দেশের সঙ্গে পার্থক্য।

jagonews24

উটির ফার্ন হিল রিসোর্টের সার্ভিস ম্যানেজার যোগেশ মেহতা জাগো নিউজকে বলেন, উটিতে মানুষ বেড়াতে আসার অন্যতম কারণ এখানকার আবহাওয়া। সব সময় সহনীয় তাপমাত্রা থাকে। দেশের অন্য জায়গায় যত গরম পড়ুক উটির তাপমাত্রা কম থাকে। দক্ষিণের তিন রাজ্যের সংযোগ হওয়ায় এখানে দক্ষিণের লোকই আসে বেশি। এছাড়া অনেক শিক্ষার্থী আসে ঘুরতে, জানতে।

আমাদের শ্রীমঙ্গল চায়ের রাজধানী খ্যাত। একটি জাদুঘরও রয়েছে। কিন্তু পর্যটকদের আকর্ষণ করার মতো বিশেষ কোনো ব্যবস্থা সেখানে নেই। এমনকি এখানকার চা বাগানগুলোতে ছবি তুলতে গেলেও বাধার সম্মুখীন হতে হয়।

jagonews24

পর্যটন নিয়ে কথা হয় শ্রীমঙ্গল পর্যটন সেবা সংস্থার সাধারণ সম্পাদক শামসুল হকের সঙ্গে। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা বিশেষ করে ডিসি, ইউএনওর সঙ্গে যখন কথা হয় তখন আমরা দাবি জানাই চায়ের রাজধানীতে এসে মানুষ যেন চা উৎপাদন দেখতে পারে। কিন্তু আমাদের নানান সিক্রেটের কথা বলে নিরুৎসাহিত করা হয়। ভারতে এটা আছে। কিন্তু আমাদের বিটিআরআই চা বাগানে তো ছবি তোলাও নিষেধ। তাহলে পর্যটন এগোবে কীভাবে।

শ্রীমঙ্গলের চা মিউজিয়ামের এলাকাটা পর্যটকদের জন্য চা তৈরি দেখা, ছবি তোলা, চা কেনার ব্যবস্থা করার জন্য উপযুক্ত বলে মনে করেন তিনি।


আরও খবর



সিলেটে ইন্টার্ন চিকিৎসককে উত্ত্যক্তের মামলায় যুবক কারাগারে

প্রকাশিত:Monday ০৮ August ২০২২ | হালনাগাদ:Wednesday ১৭ August ২০২২ | ২২জন দেখেছেন
Image

সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কর্তব্যরত নারী ইন্টার্ন চিকিৎসককে উত্ত্যক্ত মামলার প্রধান আসামি ও কলেজের দুই শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনায় করা মামলার ২ নম্বর আসামি এ এইচ আব্দুল্লাহ আদালতে আত্মসমর্পণ করেছেন।

সোমবার (৮ আগস্ট) সকালে মুখ্য মহানগর বিচারিক হাকিম আদালতে তিনি আত্মসমর্পণ করে জামিন চান। আদালত জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (গণমাধ্যম) বি এম আশরাফ উল্যাহ তাহের দুপুরে জাগো নিউজকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। কারাগারে যাওয়া আব্দুল্লাহ সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও সিটি করপোরেশনের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল খালিকের ভাতিজা।

এর আগে হাসপাতালের এক নারী ইন্টার্ন চিকিৎসকের উত্যক্ত ও দুই শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনায় করা মামলায় ওই আওয়ামী লীগ নেতার আরেক ভাতিজা এহসানসহ তিন আসামিকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তবে মামলার আরও চার আসামি এখনো পলাতক রয়েছে।

গত ৩০ জুলাই হাসপাতালের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে দায়িত্ব পালনকালে রাত ৯টায় নারী ইন্টার্ন চিকিৎসককে উত্যক্ত করেন আব্দুল্লাহ ও তার সহযোগীরা। এর একদিন পর ওসমানী মেডিকেল কলেজের ক্যাম্পাসের ভেতর ঢুকে দুই শিক্ষার্থীর ওপর হামলা করেন আব্দুল্লাহ ও দিব্য সরকারের নেতৃত্বে একদল যুবক। পৃথক দুটি ঘটনার প্রতিবাদে ১ আগস্ট (সোমবার) রাত ১০টা থেকে হাসপাতালের সামনের সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। পরে ধর্মঘটের ডাক দিয়ে তাদের সঙ্গে যোগ দেন হাসপাতালের কয়েকশো ইন্টার্ন চিকিৎসক।

ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে হামলায় জড়িত দুইজনকে আটক পুলিশ করে। এর পরদিন মঙ্গলবার ছাত্রদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে হাসপাতাল ও কলেজ প্রশাসন দুটি মামলা করে। মামলায় এজাহারনামীয় সাতজনকে আসামি করে অজ্ঞাত আরও ৩-৪ জনকে অভিযুক্ত রাখা হয়।

হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ হানিফ এবং মেডিকেল কলেজের সচিব (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মাহমুদুল রশিদ বাদী হয়ে মামলা দুটি করেন। এর মধ্যে ইন্টার্ন চিকিৎসককে উত্যক্তের মামলায় আব্দুল্লাহকে প্রধান আসামি করা হয়। এছাড়া আরও তিন-চার জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়।

আর ছাত্রদের ওপর হামলা মামলার আসামিরা হলেন- দিব্য, আব্দুল্লাহ, এহসান, মামুন, সাজন, সুজন, সামি ও সাঈদ হাসান রাব্বি। আসামিদের সবাই ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে জানা গেছে। তাদের মধ্যে সাঈদ হাসান রাব্বি ও এহসান আহমদকে গত ১ আগস্ট সোমবার রাতে গ্রেফতার করে পুলিশ।

পরে গত মঙ্গলবার তাদের এসব দাবি বাস্তবায়নের আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে পরদিন দুপুর ২টা পর্যন্ত আন্দোলন স্থগিত করেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। পরদিন দুপুরে প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠকে সমঝোতা না হওয়ায় ধর্মঘট চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন তারা। মঙ্গলবার বিকেল ৫টায় এ ঘোষণার পর ক্যাম্পাসে বিক্ষোভও শুরু করেন তারা।

পরে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রাজনৈতিক নেতা, পুলিশ প্রশাসন, কলেজ ও হাসপাতাল প্রশাসন শিক্ষার্থীদের নিয়ে বৈঠকে বসে তাদের ন্যায্য দাবিগুলো মেনে নিলেও অপর আসামিদের গ্রেফতারের দাবিতে আন্দোলন অব্যাহত রাখেন শিক্ষার্থীরা। এরই ধারাবাহিকতায় গত বুধবার (৩ আগস্ট) দুপুর দেড়টা থেকে ফের আন্দোলনে নেমে সড়ক অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা। সেসময় শুধু জরুরি ও হৃদরোগ বিভাগে সেবা অব্যাহত রাখা হয় বলে জানান আন্দোলনকারীরা।

পরে বুধবার মধ্যরাতে শাহপরান এলাকা থেকে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় মামলার প্রধান আসামি দিব্য সরকারকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

এদিকে, বুধবার দুপুরে মামলার আসামিদের গ্রেফতারে বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছিলেন আন্দোলনরত ইন্টার্ন চিকিৎসক ও শিক্ষার্থীরা। এই সময়ের মধ্যে দাবি পূরণ না হলে বহির্বিভাগসহ হাসপাতালের সব সেবা কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়ারও হুমকি দেন তারা। পরে বুধবার বিকেলে সড়ক অবরোধ কর্মসূচি প্রত্যাহার করে এক সপ্তাহের মধ্যে মামলার সব আসামিদের গ্রেফতারের আলটিমেটাম দিয়ে আন্দোলন স্থগিত করা হয়।


আরও খবর



৪ ঘণ্টা পর মাইক্রোবাস অপসারণ, ঢাকা-চট্টগ্রাম ট্রেন চলাচল শুরু

প্রকাশিত:Friday ২৯ July ২০২২ | হালনাগাদ:Friday ১৯ August ২০২২ | ৬২জন দেখেছেন
Image

চার ঘণ্টা পর ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলসড়কে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে। শুক্রবার (২৯ জুলাই) বিকেল ৫টায় বড়তাকিয়া স্টেশন মাস্টার মো. শামসুদ্দোহ এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, দুর্ঘটনাকবলিত মাইক্রোবাসটি উদ্ধার করা হয়েছে। চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ ফায়ার সার্ভিসের দুটি টিম এসে মাইক্রোবাসটি উদ্ধার করে।

এর আগে প্রায় ৩ ঘণ্টা চেষ্টা করেও মাইক্রেবাসটি সরাতে ব্যর্থ হয় মিরসরাই ও সীতাকুন্ড ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের কর্মীরা।


আরও খবর



বঙ্গবন্ধু হত্যার ষড়যন্ত্রকারীদের মুখোশ উন্মোচন জরুরি

প্রকাশিত:Monday ১৫ August ২০২২ | হালনাগাদ:Friday ১৯ August ২০২২ | ২৩জন দেখেছেন
Image

বাঙালির রাখাল রাজা, স্বাধীনতার মহান স্থপতি, জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে হারানোর ৪৭ বছরেও আমরা এই নৃশংস ঘটনার নির্দেশদাতা ও ষড়যন্ত্রকারীদের আইনের আওতায় আনতে পারিনি। এটা খুবই কষ্টের, তবে আশার সংবাদ ১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে ষড়যন্ত্রের তদন্ত এবং জড়িতদের বিচারের দাবি জোরালো হচ্ছে দিন দিন।

কয়েক বছর ধরে এ বিষয়ে বিভিন্ন আলোচনা, গণমাধ্যমে রাজনৈতিক ব্যক্তি ও বিশিষ্টজনের সাক্ষাৎকার এবং টকশোতে দাবি উঠছে জাতীয় তদন্ত কমিশন গঠনের। যদিও এই দাবি দীর্ঘদিনের স্বাধীনতার পক্ষের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে। ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এটা করা জরুরি বলে তারা মনে করছেন। বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার রায়ে ১২ আসামির মৃত্যুদণ্ড হয়। এর মধ্যে ছয়জনের মুত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে। বাকি ছয়জনের পাঁচজন এখনও অধরা। ২০০২ সালে মারা গেছেন একজন।

’৭৫ এর ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পর ইনডেমনিটি অধ্যাদেশের মাধ্যমে বিচার বন্ধ করে দেওয়া হয়। ২১ বছর পর ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার কার্যক্রম শুরু করে। কিন্তু ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত সরকার গঠন করলে বিচারকাজ ঝুলে যায়। আওয়ামী লীগ দ্বিতীয় দফায় ক্ষমতায় আসার পর ২০১০ সালে পাঁচজনের এবং চলতি বছর একজনের ফাঁসি কার্যকর হয়।

বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচারে যাদের সাজা হয়েছে, তারা ছিলেন আত্মস্বীকৃত খুনি। কিন্তু এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে কারা ছিল, কারা ষড়যন্ত্র করেছিল, কারা খুনিদের পৃষ্ঠপোষকতা করেছে, রাজনৈতিকভাবে পুনর্বাসন করেছে সে বিষয়ে তদন্ত কিংবা বিচার এখনও হয়নি।

আমরা স্বাধীনতার রজতজয়ন্তী উৎসব উদযাপন করেছি, গত বছর জন্মশতবর্ষে গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করেছি বঙ্গবন্ধুকে অথচ ’৭৫ এর আগস্টের খল নায়কদের বিচার করতে পারিনি। শোকার্ত আগস্ট এলেই প্রকৃত দেশপ্রেমিকের মাঝে বেড়ে যায় রক্তক্ষরণ। তাই এ বিষয়ে সঠিক তদন্ত ও বিচার জরুরি বলে শুধু আওয়ামী লীগ নয়, স্বাধীনতার সপক্ষের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল কয়েক বছর ধরে এই দাবির পক্ষে তাদের সমর্থন জানিয়ে আসছে।

রাজনৈতিক দলের নেতা ও বিশিষ্টজনরা বলছেন, সামরিক বাহিনীর কিছু অফিসার ও সৈনিকের দ্বারাই শুধু এ ন্যক্কারজনক ও দুঃসাহসিক হত্যাকাণ্ড সম্ভব ছিল না। এর পেছনে অনেক বড় ধরনের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র কাজ করেছে। এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি যাতে না ঘটে, অর্থাৎ ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই তদন্ত ও বিচার হওয়া জরুরি।

এদিকে তদন্তের পর ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিচার বাংলাদেশ করতে না পারলে আন্তর্জাতিকভাবে বিচার চাওয়া যেতে পারে বলেও পরামর্শ তাদের। তারা মনে করেন দেরিতে হলেও এখনই সঠিক তদন্ত প্রয়োজন। এজন্য একটি জাতীয় তদন্ত কমিশন গঠন করতে হবে।

এ বিষয়ে প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা ও ১৪ দলের সমন্বয়ক বঙ্গবন্ধুর স্নেহধন্য আমির হোসেন আমু বলেন, সঠিক তদন্ত হলে এই হত্যাকাণ্ডের ষড়যন্ত্র কারা করেছিল তা জানা যাবে। দেশবাসীর এটা জানা দরকার। এজন্য তদন্ত হওয়া উচিত। ১৫ আগস্টের ঘটনায় কারা বেনিফিশেয়ারি, কারা খুনিদের রাজনৈতিক পুনর্বাসন করেছে, বিদেশে পদায়ন করেছে তা বিশ্লেষণ করলেই এ ঘটনার সঙ্গে জিয়াউর রহমানের জড়িত থাকার বিষয়টি আলোতে চলে আসবে।

আওয়ামী লীগের সাথে জোটভুক্ত না হলেও এ বিষয়ে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাবেক সভাপতি ও বর্তমানে উপদেষ্টা মনজুরুল আহসান খান বলেন, কমিউনিস্ট পার্টির পক্ষ থেকে প্রথমেই তারা বলেছিলেন একটা কমিশন গঠন করে তদন্ত করার। তার মতে এটা দ্রুত করা উচিত, কারণ এখনও সাক্ষী পাওয়া যাবে, অনেকেই বেঁচে আছেন।

‘সিআইএ’, ‘র’, ‘আইএসআই’সহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গোয়েন্দা সংস্থার রিপোর্ট পর্যালোচনা করে তদন্ত করা যেতে পারে। কোনো দেশ বা ব্যক্তির জড়িত থাকার প্রমাণ পেলে আন্তর্জাতিকভাবে তাদের বিচার চাওয়া যেতে পারে। ষড়যন্ত্রের মূল নায়কদের সম্পর্কে জাতি ও বিশ্ববাসী জানতে পারবে। ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্যই এটা জরুরি।

১৪ দলের অন্যতম নেতা, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন বলেন, বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনিদের বিচার হয়েছে। কিন্তু এ ঘটনার সঙ্গে দেশি-বিদেশি চক্র জড়িত ছিল, সেটা চিহ্নিত করা দরকার। আর তা করতে হলে তদন্তের জন্য একটি জাতীয় কমিশন গঠন করা দরকার। তদন্ত হলে অনেক সত্য বেরিয়ে আসবে। খল নায়কদের আসল চরিত্র দিনের আলোতে প্রকাশ পাবে। সব বিতর্কের অবসান হবে। এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি যাতে না হয়, সেজন্য তদন্ত ও বিচার হওয়া জরুরি বলে মনে করেন এই প্রবীণ বামনেতা।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের কয়েকদিন ধরে বিভিন্ন সভায় তার বক্তব্যে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, জাতির পিতার হত্যায় মঞ্চের কুশীলবদের বিচার করে ফাঁসি কার্যকর করা হয়েছে। এর বাইরে যারা ষড়যন্ত্রকারী ছিল তদন্ত কমিশন গঠন করে তাদেরও খুঁজে বের করে বিচারের আওতায় আনতে হবে। নেপথ্য কুশীলব যারা, তাদের তদন্তের আওতায় আনতে হবে। নতুন প্রজন্মকে কোনো অবস্থায় অন্ধকারে রাখা যাবে না।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের এমন বক্তব্যের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে এ প্রসঙ্গে তরুণ প্রজন্মের একজন প্রতিনিধির বক্তব্য তুলে ধরতে চাই। ১৫ আগস্ট নিয়ে যার আবেগ ও অনুভূতির মাত্রাটা অনেকটা বেশি। কারণ এই কালরাতে মাত্র পাঁচ বছর বয়সে তিনি হারিয়েছেন তার প্রাণপ্রিয় বাবা-মাকে। শিশু বয়সে হয়েছেন এতিম।

বঙ্গবন্ধুর ৪৭তম শাহাদতবার্ষিকী উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে মাসব্যাপী দুস্থ ও দরিদ্রদের মাঝে যুবলীগের রান্না করা খাবার বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। ১৫ আগস্ট শহীদ বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান শেখ ফজলুল হক মণি ও আরজু মণির জ্যেষ্ঠ পুত্র শেখ ফজলে শামস পরশ তার বক্তব্যো ১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ডকে গণহত্যার শামিল উল্লেখ করে বঙ্গবন্ধুকে হত্যায় নীলনকশা যারা তৈরি করেছিল, সেই মাস্টার মাইন্ডদের খুঁজে বের করার দাবি জানান।

যুবলীগ চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ বলেন, সেই নেপথ্য ষড়যন্ত্রকারীদের এখনো বিচার হয়নি। তারা জামায়াত- বিএনপির আশ্রয়ে- প্রশ্রয়ে এ দেশেই রয়ে গেছে। তাদের বিনাশ করতে হলে দেশি-বিদেশি চক্রান্তকারীদের খুঁজে বের করতে হবে তদন্ত কমিশন গঠনের মাধ্যমে। পিতার আদর্শ বাস্তবায়নে যুবলীগের বর্তমান চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ তার সরল বক্তব্যে যেমন ইতিহাসের দায় মুক্তি, ঐতিহাসিক সত্য উদ্ঘাটনে তদন্ত কমিশন গঠনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরছেন। তেমনি স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের অগ্রযাত্রায় প্রতিক্রিয়াশীল স্বাধীনতা বিরোধীচক্রের রাজনৈতিক বিনাশকে গুরুত্ব দিয়েছেন। এই বক্তব্যের সাথে একমত স্বাধীনতাপ্রেমী, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ঐক্যবদ্ধ এদেশের গোটা যুব সমাজ।

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক জানিয়েছেন, সপরিবারে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যায় জড়িত ষড়যন্ত্রকারীদের খোঁজার বিষয়ে কমিশনের রূপরেখা প্রস্তুত করা হয়েছে। চলতি বছরের শেষ নাগাদ হয়তো এই কমিশন চালু করা হবে। যার মাধ্যমে চিহ্নিত করা হবে খুনের ষড়যন্ত্রকারী এবং নেপথ্য কলা-কুশিলবদের। আইনমন্ত্রীর এই বক্তব্যে আমরা শ্রদ্ধাশীল কিন্তু কথা হচ্ছে নানা বাধা পেরিয়ে দীর্ঘ প্রায় ৩৫ বছর পর খুনিদের বিচার হয়েছে। তাও বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার আসার কারণে। তা না হলে এই বিচার হয়তো আদৌ সম্ভব হতো না।

বৈশ্বিক সংকট পুঁজি করে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের বিরুদ্ধে দেশি-বিদেশি নানামুখী ষড়যন্ত্র চলছে। এর সাথে জড়িত রয়েছে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের সুবিধাবাদী ও মাস্টার মাইন্ডরা। সময়ের প্রয়োজনে সময়ের দাবি কখনো উপেক্ষিত হতে পারে না। উন্নয়নের বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধু পরিবার সর্বোপরি স্বাধীন বাংলাদেশের বিরুদ্ধে সব ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে কমিশন গঠন ও এর কার্যক্রম দ্রুত চালু করা হোক। জাতির সামনে আনা হোক আড়ালে থাকা খল নায়কের। সেই সোনালি ভোরের অপেক্ষায় এ দেশের তরুণ প্রজন্ম।

লেখক: সহ-সভাপতি, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন ও বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য।


আরও খবর