Logo
আজঃ Monday ০৮ August ২০২২
শিরোনাম
রূপগঞ্জে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে ডিজিটাল সনদ ও জাতীয় পরিচয়পত্র বিতরণ কাউন্সিলর সামসুদ্দিন ভুইয়া সেন্টু ৬৫ নং ওয়ার্ডে ভোটার তালিকা হালনাগাদ কর্মসুচীতে অংশগ্রহন করেন চান্দিনা থানায় আট কেজি গাঁজাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার নাসিরনগরে ছাত্রদলের বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ নাসিরনগর বাজারে থানা সংলগ্ন আব্দুল্লাহ মার্কেটে দুই কাপড় দোকানে দুর্ধষ চুরি। ই প্রেস ক্লাব চট্রগ্রাম বিভাগীয় কমিটির মতবিনিময় সম্পন্ন ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ৬ কেজি গাঁজাসহ হাইওয়ে পুলিশের হাতে আটক এক। সোনারগাঁয়ে পুলিশ সোর্স নাম করে ডাকাত শাহ আলমের কান্ড নিখোঁজ সংবাদ প্রধানমন্ত্রীর এপিএসের আত্মীয় পরিচয়ে বদলীর নামে ঘুষ বানিজ্য

১৩ বছরে বিলুপ্তপ্রায় ১০৬ বনজ ও ২৪০ ঔষধি গাছ সংরক্ষণ

প্রকাশিত:Friday ১০ June ২০২২ | হালনাগাদ:Monday ০৮ August ২০২২ | ৯২জন দেখেছেন
Image

বাংলাদেশের জীববৈচিত্র্য সুরক্ষা, প্রাকৃতিক পরিবেশ সংরক্ষণ ও মানোন্নয়নের লক্ষ্যে বিজ্ঞানভিত্তিক সমীক্ষার মাধ্যমে এ পর্যন্ত দেশের ১৩টি এলাকাকে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা ঘোষণা করা হয়েছে। বর্তমান সরকারের টানা তিন মেয়াদে বিগত ১৩ বছরে বিলুপ্তপ্রায় ১০৬টি বনজ ও ২৪০টি ঔষধি বৃক্ষ প্রজাতি সংরক্ষণ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৯ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট উত্থাপনকালে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল এসব তথ্য তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, বিগত ১৩ বছরে ৯টি জাতীয় উদ্যান, ১৮টি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য, ৩টি ইকোপার্ক, ১টি উদ্ভিদ উদ্যান, ২টি মেরিন প্রটেক্টেড এরিয়া এবং ২টি বিশেষ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এলাকাসহ নতুনভাবে মোট ৩৫টি রক্ষিত এলাকা সৃষ্টি করা হয়েছে। যার ফলে বর্তমানে দেশে রক্ষিত এলাকার সংখ্যা মোট ৫১টিতে দাঁড়িয়েছে। এসময়ে দেশে ৯৫ হাজার ২৬৫ হেক্টর ব্লক, ২৬ হাজার ৪৫৩ সিডলিং কিলোমিটার স্ট্রিপ এবং ৬৮ হাজার ১১৩ হেক্টর ম্যানগ্রোভ বাগান সৃষ্টি করা হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, শিল্প কারখানায় ইটিপি স্থাপন কার্যক্রমকে জোরদার হয়েছে। আবার জিআইএস প্রযুক্তির মাধ্যমে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে ‘ন্যাশনাল ফরেস্ট ইনভেন্টরি’ রিপোর্ট প্রস্তুত করা হয়েছে। পুরো সুন্দরবনে সরকারি অর্থায়নে স্মার্ট (স্পেশিয়াল মনিটরিং অ্যান্ড রিপোর্টিং টোলস) পেট্রোলিং চলমান আছে।

বাঘ-মানুষ দ্বন্দ্ব নিরসনে সুন্দরবন সংলগ্ন জনগণকে সঙ্গে নিয়ে ৪৯টি ‘ভিলেজ টাইগার রেসপন্স টিম’ গঠন করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

মুস্তফা কামাল বলেন, আগামী ২০৩০ সাল নাগাদ কার্বন-ডাই-অক্সাইড গ্যাস নিঃসরণ হ্রাসের লক্ষ্যমাত্রা সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়ন ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতায় ৬ দশমিক ৭৩ শতাংশ এবং আন্তর্জাতিক অর্থায়ন ও কারিগরি সহায়তা প্রাপ্তিসাপেক্ষে আরও ১৫ দশমিক ১২ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। অন্যদিকে, দীর্ঘমেয়াদে দেশের জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় সমন্বিত অভিযোজন কৌশল ও করণীয় নির্ধারণকল্পে ‘জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনা’ প্রণয়নের কার্যক্রম চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে এবং ২০০৯ সালে প্রণীত ‘বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন কৌশল ও কর্ম পরিকল্পনা’ হালনাগাদকরণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এছাড়া, শিল্প-কারখানা থেকে শুরু করে দেশে নতুনভাবে প্রতিষ্ঠিত সব প্রতিষ্ঠানকে পরিবেশবান্ধব করার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, এরই ধারাবাহিকতায় ইতোমধ্যে ১২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের ৮ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতার ১০টি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ পরিকল্পনার বিষয়ে নতুন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ ১০টি প্রকল্পের মধ্যে ৪টি বাতিল করা হয়েছে এবং অবশিষ্ট ৬টিকে সম্ভাব্যতা সমীক্ষার ভিত্তিতে নবায়নযোগ্য অথবা গ্যাস-ভিত্তিক করা হবে। আমরা ২০৪১ সালের মধ্যে নবায়নযোগ্য উৎস থেকে আমাদের ৪০ শতাংশ জ্বালানির সংস্থান নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ করছি।

অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশকে জলবায়ুর ঝুঁকি থেকে টেকসই ও জলবায়ু সমৃদ্ধির দিকে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে সরকার ‘মুজিব জলবায়ু সমৃদ্ধি পরিকল্পনা’ বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে, যা মূলত জলবায়ু অর্থায়নের জন্য একটি কৌশলগত বিনিয়োগ কাঠামো। এ পরিকল্পনা অনুযায়ী জলবায়ু স্থিতিস্থাপকতা অর্জনের জন্য ২০৩০ সাল নাগাদ ৮০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক উৎস থেকে এ বিনিয়োগের অর্থায়ন করা হবে।


আরও খবর



নিম্নমানের হেলমেটের ছড়াছড়ি, মানা হচ্ছে না বিএসটিআই’র নীতিমালা

প্রকাশিত:Thursday ২৮ July ২০২২ | হালনাগাদ:Sunday ০৭ August ২০২২ | ৩৪জন দেখেছেন
Image

১০ বছর আগেও দেশে মোটরসাইকেল ছিল সাড়ে সাত লাখ। ২০২১ সালে সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৫ লাখেরও বেশি। ফলে রাজধানীসহ সারাদেশে সড়কে মোটরসাইকেলের চাপ আগের তুলনায় কয়েকগুণ বেড়েছে। সঙ্গে বাড়ছে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানিও। দুর্ঘটনা ঘটলেও মোটরসাইকেলচালক ও আরোহীদের নিরাপত্তার জন্যই হেলমেট ব্যবহার বাধ্যতামূলক করে ২০১৮ সালে আইন করেছে সরকার। অথচ চালকরা যেসব হেলমেট ব্যবহার করছেন, তার ৮৯ শতাংশই অনিরাপদ ও পুরোপুরি মানসম্মত নয়। হেলমেট ব্যবহারের ক্ষেত্রে নিজেদের নিরাপত্তার চেয়ে চালকরা পুলিশি ঝামেলা এড়ানোকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। ফলে শুধুই আইন রক্ষার তাগিদে হেলমেট পরছেন অধিকাংশ চালক। রাইড শেয়ারিংয়েও দেখা যায় একই চিত্র।

আইন করে হেলমেট ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হলেও দেশে মানসম্মত ও নিরাপদ হেলমেটের ব্যবহার কম। বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনের (বিএসটিআই) বাধ্যতামূলক মান পরীক্ষার তালিকায় যে দুই শতাধিক পণ্য রয়েছে, তার মধ্যে হেলমেট একটি। ফলে নির্ধারিত মান অনুযায়ী হেলমেটের উৎপাদন ও আমদানি হওয়ার কথা। তিন স্তরবিশিষ্ট হেলমেটে বিএসটিআইয়ের মানচিহ্নও থাকার কথা। তবে সড়কে চলাচল করা মোটরসাইকেলের অধিকাংশ চালক মানসম্মত হেলমেট ব্যবহার করছেন না। নিম্নমানের হেলমেট আমদানিতে বিএসটিআই নিষেধাজ্ঞা দিলেও দেদারসে তা আমদানি করছে প্রতিষ্ঠানগুলো।

আমদানিকারকরা বলছেন, ভালো মানের হেলমেটের পাশাপাশি নিম্নমানের হেলমেটও আমদানি করা হয়। কারণ বাজারে নিম্নমানের হেলমেট বেশি বিক্রি হয়। সম্প্রতি বিএসটিআই হেলমেটের মান নিশ্চিতে নীতিমালা করলেও আমদানিকারকদের সঙ্গে আলোচনা করেনি। ফলে আমদানি করা অনেক হেলমেট বন্দরে আটকে রেখেছে সংস্থাটি।

বিএসটিআইয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, নিম্নমানের হেলমেট আমদানি না করতে আমদানিকারকদের বার বার সতর্ক করা হয়েছে। এমনকি পত্রিকায় গণবিজ্ঞপ্তিও দেওয়া হয়েছে। এছাড়া নীতিমালা প্রণয়নের আগে আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করে তাদের পরামর্শও নেওয়া হয়েছে। বাজারে যতই চাহিদা থাকুক, নিম্নমানের হেলমেট আমদানির সুযোগ নেই।

তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিএসটিআইকে হেলমেটের গুণগত মান যাচাইয়ের কাজ আরও কঠোরভাবে মনিটরিং করতে হবে। শুধু দায় এড়ানোর জন্য দু-একটা অভিযান চালালে হবে না। কঠোর মনিটরিং করলেই বাজারে নিম্নমানের হেলমেট কমে যাবে। পাশাপাশি ক্রেতাদেরও সচেতন হবে। একটু খরচ বেশি হলেও তিন স্তরবিশিষ্ট হেলমেট কিনতে হবে।

হেলমেটের মান নিয়ে আইনে নির্দেশনা নেই

সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮-এর ৯২ (১) ধারায় বলা আছে, ‘মোটরযান চলাচলের সময় হেলমেট ব্যবহার না করলে তিন মাসের কারাদণ্ড বা ১০ হাজার টাকা জরিমানা অথবা উভয়দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।’ তবে হেলমেট ব্যবহার না করলে আইনে একাধিক শাস্তির কথা উল্লেখ থাকলেও বাস্তবে শুধু জরিমানা করা হচ্ছে বেশি। এছাড়া আইনে হেলমেট ব্যবহার না করার বিষয়ে জরিমানার বিধান থাকলেও মানসম্মত হেলমেট ব্যবহারের ব্যাপারে স্পষ্ট করে কিছু বলা হয়নি। ফলে মানসম্মত হেলমেট ব্যবহারে অনীহা চালকদের।

আইনে কিছু বলা না থাকায় চালকরা সুযোগ বুঝে ‘অজুহাত’ দেখাচ্ছেন। তারা বলছেন, মানসম্মত হেলমেট কিনতে বেশি খরচ হয়। অথচ প্রায়ই হেলমেট চুরি হয়। আবার ভারী হেলমেট ব্যবহারে অতিরিক্ত গরম লাগে। কম দূরত্বে চলাচলে এমন হেলমেট ব্যবহার করা কষ্টসাধ্য। ফলে তারা কম দামের হেলমেট কেনা এবং ব্যবহারে ঝুঁকছেন।

আন্দোলনের পর বেড়েছে হেলমেটের ব্যবহার

২০১৮ সালে নিরাপদ সড়কের দাবিতে সারাদেশে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ও পরবর্তী সময়ে ট্রাফিক পুলিশের কঠোর অবস্থানের কারণে রাজধানীসহ সারাদেশে মোটরসাইকেলচালক ও আরোহীদের মধ্যে হেলমেট ব্যবহার বেড়েছে। আগে যেখানে আরোহীর মাথায় হেলমেট দেখাই যেতো না, এখন বেশির ভাগ আরোহী হেলমেট পরছেন।

বিশ্বব্যাংক ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) দুর্ঘটনা গবেষণা কেন্দ্র (এআরআই) ঢাকায় মোটরসাইকেলচালক ও আরোহীদের হেলমেট ব্যবহার বিষয়ে যৌথ গবেষণা করেছে। ২০২১ সালে করা ওই গবেষণায় দেখা গেছে, ঢাকা শহরে চলাচল করা মোটরসাইকেলের ৯৮ শতাংশের চালক ও আরোহী হেলমেট ব্যবহার করেন। তবে ফুল ফেস ক্লোজড অর্থাৎ মুখমণ্ডল ও মাথা ঢাকা হেলমেট ব্যবহার করেন ৮ শতাংশ চালক ও আরোহী। ওপেন ফেস বা হ্যাট ধরনের হেলমেট পরেন ২৪ শতাংশ। আর হাফ ফেস হেলমেট পরেন ৬৫ শতাংশ চালক। অর্থাৎ অনিরাপদ ও পুরোপুরি মানসম্মত নয় এমন হেলমেট পরেন ৮৯ শতাংশ চালক। তাদের মধ্যে ৩০ শতাংশ চালক শুধু পুলিশের ঝামেলা এড়াতে এবং মামলা থেকে বাঁচতে হেলমেট পরেন।

বাজারে নিম্নমানের হেলমেটের ছড়াছড়ি

দেশের বাজারে ইয়ামাহা, রিপ্লে, ইয়োহি, এসটিএম, এসএফএম, এমবিকে, স্টিলবার্ড, এটলাস, হিরো, স্টুডাসসহ বিভিন্ন নামি ব্র্যান্ডের হেলমেট বিক্রি হচ্ছে। তবে বাজারে কম দামের মানহীন হেলমেটের ছড়াছড়ি। রাজধানীর বাংলামোটর, বংশালসহ বিভিন্ন এলাকার দোকানগুলোতে ৩০০-৮০০ টাকায় মিলছে কম দামি এসব হেলমেট। এসব হেলমেটের বিক্রিও বেশি। ফলে হেলমেট ব্যবহারকারী বাড়লেও চালক-আরোহীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।

পুরান ঢাকার সবচেয়ে বড় পাইকারি হেলমেটের বাজার বংশাল। এ এলাকার সিয়াম হেলমেট দোকানের মালিক রনি হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, ‘অনেক দামি হেলমেটও আমাদের কাছে আছে। সঙ্গে কম দামিগুলোও রাখি। দোকানে এসে ক্রেতারা তাদের বাজেট জানিয়ে হেলমেট চান। তখন কম দামি হেলমেটই তাদের দিতে হয়। দামি হেলমেট খুব কম বিক্রি হয়।’

ওই দোকানে হেলমেট কিনতে আসা আব্দুল মান্নান ৩০০ টাকা দিয়ে একটি হেলমেট কেনেন। কম দামি ও মানহীন এমন হেলমেট কেনার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ‘হেলমেট না থাকলে রাস্তায় মোড়ে মোড়ে পুলিশ গাড়ি ধরে। মামলা দেয়, জরিমানা আদায় করে। এর থেকে বাঁচার জন্যই হেলমেট কিনলাম। মানসম্মত কি না- সেটা জানি না। তবে হেলমেট থাকলে অন্তত পুলিশ ধরবে না, মামলাও দেবে না।’

মোটরসাইকেলচালক মো. খোকন জাগো নিউজকে বলেন, ‘চুরি হয়ে যাওয়ার ভয়ে কম দামের হেলমেট কিনি। একটা চুরি হলেও আরেকটা কিনে নিতে পারি। দেখা গেলো, বেশি দামে কিনলাম কিন্তু সেটা চুরি হয়ে গেলো। তখন নতুন আরেকটা কেনা কষ্টসাধ্য। আবার না কিনতে পারলে বাইক নিয়ে বের হতেও পারবো না। কারণ হেলমেট না পরলে এক হাজার টাকার মামলা দিয়ে দেবে। এজন্য হেলমেট একটা থাকলেই হলো, ভালো-খারাপ বুঝি না।’

মান দেখেন না ট্রাফিক সার্জেন্টরা!

সড়কে দায়িত্বরত ট্রাফিক পুলিশ সদস্য ও সার্জেন্টরা হেলমেটবিহীন চালকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলেও মানের দিকে দৃষ্টি দেওয়ার সুযোগ পান না। অনেক সার্জেন্ট এবং ট্রাফিক সদস্য মনে করেন, যেখানে হেলমেট পরা নিশ্চিত করতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে, সেখানে হেলমেটের মান নিশ্চিত সম্ভব নয়।

গুলিস্তান মোড়ে দায়িত্বরত ট্রাফিক সার্জেন্ট রুকনুজ্জামান জাগো নিউজকে বলেন, ‘কী ধরনের হেলমেট পরেছেন, মান কেমন—এসবের চেয়ে চালক হেলমেট পরেছেন কি না, সেটা নিশ্চিত করা হয়। হেলমেট না পরা থাকলে আইন অনুযায়ী মামলা দেই আমরা। হেলমেটের মান ভালো হোক বা খারাপ হোক, তা পরলে আমরা মামলা দিতে পারি না। চালক মামলা থেকে বেঁচে যান।’

নাম প্রকাশ না করার শর্তে আরেক সার্জেন্ট জাগো নিউজকে বলেন, ‘সড়ক পরিবহন আইনে বাধ্যতামূলক হেলমেট ব্যবহারের কথা বলা আছে। মানের বিষয়ে জানি না। হেলমেট পরা নিয়েই যেখানে চালকদের অনীহা, সেখানে মান ঠিক করা কঠিন। মান নিশ্চিত করা নিয়ে বিএসটিআই কিংবা বিআরটিএকে সচেতনতা তৈরিতে কাজ করতে হবে। তাহলে হয়তো একটা সময় গিয়ে মানসম্মত হেলমেট পরা নিশ্চিত করা যাবে।’

ট্রাফিক বিভাগের প্রধান ও উপ-মহাপুলিশ পরিদর্শক মো. মুনিবুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, ‘মোটরসাইকেল বেশ ঝুঁকিপূর্ণ একটি যান। সম্প্রতি দেশে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা বেড়েছে। দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য চালকদের সুরক্ষিত হেলমেট পরা জরুরি। যারা মোটরসাইকেল চালাচ্ছেন, তাদের মধ্যে এক ধরনের অসচেতনতা আছে। তারা খরচ বাঁচাতে গিয়ে ভালো মানের হেলমেট ব্যবহার করেন না। অসাবধানতা ও অসচেতনতা এখানে মূল কারণ। আমরা মোটরসাইকেল চালকদের যখন দেখি কিংবা আটক করি, তখন মানসম্মত হেলমেট ব্যবহার এবং সচেতনতার বিষয়গুলো বলা হয়। মোটরসাইকেল যখন একটা গতিতে চলে, তখন দুর্ঘটনা হলে বড় ধরনের ক্ষতির সম্ভাবনা থাকে। সচেতনতামূলক প্রোগ্রামগুলোতেও বিভিন্ন সময় এগুলো বলা হয়।’

নীতিমালার পর বিপাকে আমদানিকারকরা

বছরে কয়েক হাজার কোটি টাকার হেলমেট বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করে বাংলাদেশ। আমদানি করা এসব হেলমেট বন্দরে পরীক্ষা করা বাধ্যতামূলক করার চেষ্টা করছে বিএসটিআই। ফলে বিএসটিআইয়ের অনুমোদন পেতে বন্দরে আটকা পড়ছে আমদানি করা হেলমেট।

আমদানিকারকদের দাবি, আগে হেলমেটের মান যাচাইয়ে বিএসটিআইয়ের অনুমোদন লাগতো না। হেলমেটের মানদণ্ড নির্ধারণে প্রণীত নীতিমালা নিয়েও আমদানিকারকদের সঙ্গে আলোচনা করা হয়নি। হঠাৎ করে মান নিশ্চিতে বিএসটিআই কঠোর হওয়ায় আমদানি করা অসংখ্য হেলমেট বন্দরে আটকা পড়েছে।

তবে বিএসটিআই সূত্র জানিয়েছে, বিএসটিআই একটি পণ্যকে তখনই অনুমোদন নেওয়া বাধ্যতামূলক করে, যখন এটির গুরুত্ব দেখা দেয়। দেশে মোটরসাইকেল বেড়েছে। একই সঙ্গে বেড়েছে দুর্ঘটনাও। এতে প্রায়ই প্রাণহানি ঘটছে। তরুণ-যুবকরা বেপরোয়াভাবে মোটরসাইকেল চালাচ্ছেন। এক্ষেত্রে চালকের নিরাপত্তা নিশ্চিতে মানসম্মত হেলমেট ব্যবহার জরুরি হয়ে পড়েছে বলে মনে করছে বিএসটিআই। এজন্য বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে গঠিত কমিটির মাধ্যমে মানসম্মত হেলমেটের মানদণ্ড প্রণয়ন করা হয়। ফলে বিএসটিআইয়ের অনুমোদন ছাড়া দেশে হেলমেট বিক্রি ও বিতরণ নিষিদ্ধ করা হয়। এক্ষেত্রে আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদেরও মতামত নেওয়া হয়েছে।

বিএসটিআইয়ের উপ-পরিচালক মো. রিয়াজুল হক জাগো নিউজকে বলেন, ‘মন্ত্রণালয় থেকে শুরু করে বিভিন্ন প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করা হয়েছে। সেখানে আলোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এমনকি পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তিও দেওয়া হয়েছে। আমদানিকারকদের বার বার সতর্ক করেছি আমরা। এখন নিম্নমানের হেলমেট আমদানির সুযোগ নেই। যেগুলো আগেই আমদানি করা হয়েছে, সেগুলো নিয়মিত অভিযানে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তাদের জেল জরিমানাও করছি। নীতিমালা পাস হওয়ার পরও একাধিকবার বিজ্ঞপ্তি দিয়েছি। তারপরও যদি কেউ মানহীন হেলমেট আমদানি করে, সেটা মেনে নেওয়া হবে না।’

তিন স্তরের হেলমেট কেনার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক হাদিউজ্জামান জাগো নিউজকে বলেন, ‘বিএসটিআই হেলমেটের গুণগত মান যাচাইয়ের কাজ যদি ভালোভাবে মনিটরিং করে, তাহলে বাজারে নিম্নমানের হেলমেট কমে যাবে। চালক ও আরোহীদেরও হেলমেট কেনার ক্ষেত্রে ভালো মানের হেলমেট কেনা দরকার।’

বুয়েটের এ অধ্যাপক আরও বলেন, ‘হেলমেট কেনার ক্ষেত্রে অন্তত এটা দেখা দরকার যে, একটি হেলমেটের তিনটি পার্ট যেন থাকে। পেঁয়াজের খোসায় যেমন পার্ট থাকে, ঠিক তেমনি ভালো মানের হেলমেটের তিনটি পার্ট (স্তর) আছে। প্রতিটি পার্ট চালক ও আরোহীদের বিভিন্নভাবে রক্ষা করে। হেলমেট কেনার সময় খেয়াল করলেই এটা দেখতে পাবেন। হেলমেটের গুণগত মান যাচাইয়ের জন্য অন্তত তিনটি পার্ট দেখে কিনলে ঝুঁকি অনেকটা কমবে।’


আরও খবর



অভিজ্ঞতা ছাড়া চাকরি দিচ্ছে ওয়ালটন প্লাজা

প্রকাশিত:Wednesday ০৩ August ২০২২ | হালনাগাদ:Sunday ০৭ August ২০২২ | ১৪জন দেখেছেন
Image

ওয়ালটন প্লাজায় ‘ইন্টার্ন’ পদে জনবল নিয়োগ দেওয়া হবে। আগ্রহীরা আগামী ১৫ আগস্ট পর্যন্ত আবেদন করতে পারবেন।

প্রতিষ্ঠানের নাম: ওয়ালটন প্লাজা

পদের নাম: ইন্টার্ন
পদসংখ্যা: ০২ জন
শিক্ষাগত যোগ্যতা: ডিপ্লোমা (কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং)
অভিজ্ঞতা: প্রযোজ্য নয়
বেতন: আলোচনা সাপেক্ষে

চাকরির ধরন: ইন্টার্নশিপ
প্রার্থীর ধরন: নারী-পুরুষ
বয়স: ২৫ বছর
কর্মস্থল: ঢাকা

আবেদনের নিয়ম: আগ্রহীরা jobs.bdjobs.com এর মাধ্যমে আবেদন করতে পারবেন।

আবেদনের শেষ সময়: ১৫ আগস্ট ২০২২

সূত্র: বিডিজবস ডটকম


আরও খবর



যুক্তরাষ্ট্রে ৩ শিশুকে হত্যার পর মায়ের আত্মহত্যা

প্রকাশিত:Friday ২৯ July ২০২২ | হালনাগাদ:Monday ০৮ August ২০২২ | ৩১জন দেখেছেন
Image

যুক্তরাষ্ট্রের কানেকটিকাট অঙ্গরাজ্যে তিন সন্তানকে হত্যার পর এক মায়ের আত্মহত্যার কথা জানিয়েছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (২৮ জুলাই) অঙ্গরাজ্যটির পুলিশ ওই চারজনের মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করে।

ড্যানবেরি পুলিশ ডিপার্টমেন্টের ক্যাপ্টেন মার্ক উইলিয়ামস এক বিবৃতিতে জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বাড়ির মধ্যে ৩৬ বছর বয়সী সোনিয়া লোজা, তার তিন সন্তান, ৫ বছর বয়সী জোনায়েল প্যাঞ্জন, ১০ বছর বয়সী জোসেলিন প্যাঞ্জন এবং ১২ বছর বয়সী জুনিয়র প্যাঞ্জনকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। এরপর তিনিও আত্মহত্যা করেন। তাদের সঙ্গে ওই বাড়িতে আরও দুইজন প্রাপ্ত বয়স্ক লোক ছিলেন।

পুলিশ জানায়, ৯১১-এ ফোনকল পাওয়ার পর বুধবার রাতেই ঘটনাস্থলে যায় তারা। সেসময় অপর দুই প্রাপ্ত বয়স্ক ব্যক্তি বাড়িতে ছিলেন না। তবে তাদের ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করার কথা জানিয়েছে পুলিশ সদস্যরা।

মেয়রের কার্যালয় ও অন্যান্য স্থানীয় সরকারি সংস্থাগুলো জানিয়েছে, ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের সব ধরনের সহযোগিতা করা হচ্ছে।

তবে ঘটনাটি আরও তদন্ত করার কথা জানিয়েছে পুলিশ।

সূত্র: এবিসি নিউজ


আরও খবর



বঙ্গমাতার ৯২তম জন্মবার্ষিকী আজ

প্রকাশিত:Monday ০৮ August ২০২২ | হালনাগাদ:Monday ০৮ August ২০২২ | ৩৩জন দেখেছেন
Image

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সহধর্মিণী, বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিবের ৯২তম জন্মবার্ষিকী আজ।

বঙ্গমাতা ১৯৩০ সালের ৮ আগস্ট তৎকালীন গোপালগঞ্জ মহকুমার টুঙ্গিপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার ডাকনাম ছিল রেণু। বাবার নাম শেখ জহুরুল হক ও মায়ের নাম হোসনে আরা বেগম। এক ভাই ও দুই বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন ছোট। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট কালরাতে তিনি জাতির পিতার হত্যাকারীদের হাতে নির্মমভাবে শাহাদত বরণ করেন।

বঙ্গমাতার জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন।

দিবসটিতে সরকারি কর্মসূচি ছাড়াও আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগী সংগঠনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক সংগঠন শ্রদ্ধা নিবেদন, আলোচনা সভা ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করেছে। দিবসটি উপলক্ষে বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতারসহ অন্যান্য ইলেকট্রনিক মিডিয়া বিশেষ অনুষ্ঠান প্রচার করবে।

বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে দীর্ঘ লড়াই সংগ্রামের মধ্য দিয়ে স্বাধীনতা লাভ করে বাংলাদেশ। এ লড়াই-সংগ্রাম-আন্দোলনের নেপথ্যে প্রেরণাদাত্রী ছিলেন ফজিলাতুন নেছা মুজিব। তিনি বঙ্গবন্ধুর গোটা রাজনৈতিক জীবন ছায়ার মতো অনুসরণ করে তার প্রতিটি কাজে প্রেরণার উৎস হয়ে ছিলেন। বাঙালি জাতির মুক্তির সনদ ছয় দফা ঘোষণার পর বঙ্গবন্ধু যখন বারবার পাকিস্তানি শাসকদের হাতে বন্দি জীবন যাপন করছিলেন, তখন আওয়ামী লীগের সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা ফজিলাতুন নেছা মুজিবের কাছে ছুটে যেতেন। তিনি তাদের বঙ্গবন্ধুর বিভিন্ন দিক নির্দেশনা পৌঁছে দিতেন ও লড়াই চালিয়ে যেতে অনুপ্রেরণা যোগাতেন।

এদেশের মানুষের আন্দোলন-সংগ্রামে বেগম মুজিব যে কর্তব্যনিষ্ঠা, দেশপ্রেম, দূরদর্শী চিন্তা, বুদ্ধিমত্তা ও সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন তার ফলে জাতির পিতার পাশাপাশি তিনি আজ বঙ্গমাতার আসনে অধিষ্ঠিত। এ দেশের রাজনীতিতে তার অনন্য সাধারণ ভূমিকার জন্য চিরকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবেন। এই মহীয়সী নারী ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে সপরিবারে নির্মমভাবে শহীদ হন।

দিবসটি উপলক্ষে আওয়ামী লীগ সকাল ৮টায় বনানী কবরস্থানে ফজিলাতুন নেছা মুজিবের সমাধিতে শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ, কোরআনখানি, মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করেছে।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বঙ্গমাতার জন্মবার্ষিকী যথাযথ মর্যাদায় পালন করার জন্য আওয়ামী লীগ, সহযোগী সংগঠনের সর্বস্তরের নেতাকর্মী, সমর্থক, শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।


আরও খবর



রেলে অব্যবস্থাপনা: রনির দাবি মেনে নেওয়ার আহ্বান জাতীয় কমিটির

প্রকাশিত:Wednesday ২০ July ২০22 | হালনাগাদ:Thursday ০৪ August ২০২২ | ৩৪জন দেখেছেন
Image

রেলওয়ের অব্যবস্থাপনা বন্ধের দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মহিউদ্দিন রনির অবস্থান কর্মসূচির প্রতি সমর্থন জানিয়েছে নৌ, সড়ক ও রেলপথ রক্ষা জাতীয় কমিটি। ব্যয় সাশ্রয়ী ও পরিবেশসম্মত এ গণপরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়নে অবিলম্বে রনির ৬ দফা দাবি মেনে নেওয়ারও আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।

বুধবার (২০ জুলাই) সংগঠনের সভাপতি হাজী মোহাম্মদ শহীদ মিয়া ও সাধারণ সম্পাদক আশীষ কুমার দে এক বিবৃতিতে এ আহ্বান জানান।

এতে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রীর সুস্পষ্ট নির্দেশনা ও রেলমন্ত্রীর প্রচেষ্টা সত্ত্বেও রেলখাতে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন হচ্ছে না। একটি দুর্নীতিবাজ ও শক্তিশালী সিন্ডিকেটের কারণে দীর্ঘদিনেও দুর্ঘটনার ঝুঁকিমুক্ত এ পরিবহন ব্যবস্থা জনবান্ধব হতে পারেনি। জনভোগান্তি লাঘবে যাত্রী সংখ্যার ৫০ শতাংশ টিকিট অনলাইনে বিক্রির ফাঁদ পেতে প্রযুক্তির অপব্যবহারের মাধ্যমে বেশির ভাগ টিকিট কালোবাজারে চড়া দামে বিক্রি করা হচ্ছে। গত ঈদুল ফিতরের আগে বিষয়টি র্যাব উদঘাটন করার পরও টিকিট সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি রেল কর্তৃপক্ষ।

আরও বলা হয়, যাত্রী সেবার মান বাড়ানো লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ সত্ত্বেও দুটি ঈদ ও মৌসুমসহ প্রায় সারাবছরই বিভিন্ন রেলপথে ট্রেনের মারাত্মক সূচি বিপর্যয়, বাথরুমসহ কোচের (বগি) ভেতরের নোংরা পরিবেশ এবং আসনগুলোর জরাজীর্ণ অবস্থা এই পরিবহনকে দিন দিন সংকুচিত করে ফেলছে। এভাবে আরামদায়ক রেলখাতকে জনবিমুখ করে তোলার সঙ্গে দুর্নীতিবাজ সিন্ডিকেট জড়িত। এর পেছনে রেল সংশ্লিষ্ট এক শ্রেণির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদেরও হাত রয়েছে বলে জাতীয় কমিটি মনে করে।

এসব অনিয়ম ও দুর্নীতি বন্ধে মহিউদ্দিন রনি যে ছয় দফা দাবি উত্থাপন করেছেন, তা অবিলম্বে মেনে নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয় বিবৃতিতে।

রেলখাতের অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতি বন্ধে গত ৮ জুলাই থেকে কমলাপুর রেলস্টেশনে ৬ দফা দাবি সংবলিত প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে একাই অবস্থান করছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মহিউদ্দিন রনি।

দাবিগুলো হলো:

১. টিকিট কেনার ক্ষেত্রে সহজডটকম কর্তৃক যাত্রী হয়রানি অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। হয়রানির ঘটনায় তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নিতে হবে।

২. যথোপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার মাধ্যমে টিকিট কালোবাজারি প্রতিরোধ করতে হবে।

৩. অনলাইন-অফলাইনে টিকিট কেনার ক্ষেত্রে সর্বসাধারণের সমান সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে।

৪. যাত্রী চাহিদার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানোসহ রেলের অবকাঠামো উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করতে হবে।

৫. ট্রেনের টিকিট পরীক্ষক ও তত্ত্বাবধায়কসহ অন্যান্য দায়িত্বশীলদের কর্মকাণ্ড সার্বক্ষণিক মনিটর, শক্তিশালী তথ্য সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তোলার মাধ্যমে রেল সেবার মান বাড়াতে হবে।

৬. ট্রেনে ন্যায্য দামে খাবার, বিনামূল্যে বিশুদ্ধ পানি ও স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।


আরও খবর