কুড়িগ্রামের উলিপুরে ব্রীজের স্বাভাবিক পানি প্রবাহের নালার মুখ বন্ধ করে প্রাচীর নির্মান করায় হাজার একর ফসলি জমির ফসল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে, উপজেলার তবকপুর ইউনিয়নের মধ্য উমানন্দ আঁখাই চাচিয়া শিংমারি বিল এলাকায়।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ওই এলাকায় নতুন বসতি স্থাপনকারী মাজেদুল ইসলাম বগলার পাড় ব্রীজের নালায় পানি প্রবাহের প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে বাড়ির প্রাচীর নির্মাণ করেন।
এতে করে নালার পানি প্রবাহের পথ প্রায় ৮০ ভাগ বন্ধ হয়, অবশিষ্ট ২০ ভাগ পথও প্রাচীর সংলগ্ন জমির মালিক আনিছুর ও আমজাদ নামের দুই সহোদর মাটির উঁচু করে দেয়া বাঁধ দিলে পুরোপুরি নালার মূখ বন্ধ হয়ে যায়।
ফলে ব্রীজের উজানে পানি বৃদ্ধি পেয়ে ফসলি জমি তলিয়ে যায়। পক্ষান্তরে ভাঁটিতে পানির অভাবে কৃষকরা আমন ফসল পরিচর্যা করতে হিমশিম খাচ্ছে। এতেকরে উজানের শতাধিক কৃষকের হাজার হাজার একর ফসলি জমির ফসল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
এমন অভিযোগ তুলে এলাকাবাসির পক্ষে কামরুজ্জামান, আবু তালেব ও নুর ইসলাম নামের তিন কৃষক গত ২৯ জুন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর প্রতিকার চেয়ে একটি আবেদন করেন। আবেদনের প্রেক্ষিতে পরদিনই তবকপুর ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা মাসুদ রানাকে তদন্ত করার নির্দেশ দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।
ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা মাসুদ রানা সরেজমিন তদন্তে গিয়ে এলাকাবাসীর অভিযোগের সত্যতা খুঁজে পেয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর গত ১৪ই আগস্ট প্রতিবেদন দাখিল করেন।
এ বিষয়ে স্থানীয় একাধিক এলাকাবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, একজনের সুবিধার জন্য আজ দুইশত কৃষকের কয়েক হাজার একর দুই ফসলী জমির আবাদ নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশংকা দেখা দিয়েছে। ওই ব্যক্তিকে আমরা এলাকাবাসী অনেক অনুরোধ করেও ইটের প্রাচীর নির্মাণ করা থেকে বিরত রাখতে পারিনি।
এ বিষয়ে তবকপুর ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা মাসুদ রানা সাংবাদিককে জানান, এলাকাবাসীর অভিযোগের সভ্যতা পেয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে বিষয়টি জানানো হয়েছে।
ব্রীজের পাশে ওয়াল নির্মাণকারী মাজেদুল ইসলাম ইত্তেফাককে জানিয়েছেন, আমি ঐ এলাকায় বাড়ি করার জন্য জায়গা কিনে যখন ওয়াল করছিলাম তখন গ্রামবাসি কেউ বাঁধা দেয়নি। আর আমার ওয়ালের শেষ প্রান্তে পানি যাওয়ার পথ ছিল।
আমার সাথে শত্রুতা করেই সেখানে উঁচু করে মাঠির বাঁধ দেয়ায় পানি প্রবাহের সমস্যা তৈরি হয়েছে। আমি গরিব মানুষ অনেক কষ্ট করে সেখানে মাথা গোঁজার ঠাই করেছি, সেটি ঐ এলাকার কেউ মেনে নিচ্ছে না।
এলাকার কৃষক সবুজ, বাবলু, আব্দুল খালেক, ফয়জার রহমানসহ অনেকেই জানিয়েছেন, সামান্য বৃষ্টিতেই অনেক রোপা আমন গাছ তলিয়ে আছে। বন্যা কিংবা বড় ধরনের বৃষ্টিপাত হলে ব্রীজের উজানে হাজার হাজার একর জমির ফসল তলিয়ে যাবে। এ ঘটনায় আনিছুর কিংবা আমজাদের সাক্ষাৎকার নেয়া সম্ভব হয়নি।
তবকপুর ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম তদন্তের অগ্রগতির বিষয়ে জানান, আমি সবেমাত্র অভিযোগের কপি পেয়েছি। দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্বাহী অফিসারকে জানানো হবে।
এ ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নয়ন কুমার সাহা জানিয়েছেন, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। এবং পুনরায় তদন্তের জন্য গত শনিবার (১৭ই আগস্ট) সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন এর প্যানেল চেয়ারম্যানকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তদন্ত রিপোর্ট পেলেই দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
-খবরপ্রতিদিন/ সি.ব
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ওই এলাকায় নতুন বসতি স্থাপনকারী মাজেদুল ইসলাম বগলার পাড় ব্রীজের নালায় পানি প্রবাহের প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে বাড়ির প্রাচীর নির্মাণ করেন।
এতে করে নালার পানি প্রবাহের পথ প্রায় ৮০ ভাগ বন্ধ হয়, অবশিষ্ট ২০ ভাগ পথও প্রাচীর সংলগ্ন জমির মালিক আনিছুর ও আমজাদ নামের দুই সহোদর মাটির উঁচু করে দেয়া বাঁধ দিলে পুরোপুরি নালার মূখ বন্ধ হয়ে যায়।
ফলে ব্রীজের উজানে পানি বৃদ্ধি পেয়ে ফসলি জমি তলিয়ে যায়। পক্ষান্তরে ভাঁটিতে পানির অভাবে কৃষকরা আমন ফসল পরিচর্যা করতে হিমশিম খাচ্ছে। এতেকরে উজানের শতাধিক কৃষকের হাজার হাজার একর ফসলি জমির ফসল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
এমন অভিযোগ তুলে এলাকাবাসির পক্ষে কামরুজ্জামান, আবু তালেব ও নুর ইসলাম নামের তিন কৃষক গত ২৯ জুন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর প্রতিকার চেয়ে একটি আবেদন করেন। আবেদনের প্রেক্ষিতে পরদিনই তবকপুর ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা মাসুদ রানাকে তদন্ত করার নির্দেশ দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।
ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা মাসুদ রানা সরেজমিন তদন্তে গিয়ে এলাকাবাসীর অভিযোগের সত্যতা খুঁজে পেয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর গত ১৪ই আগস্ট প্রতিবেদন দাখিল করেন।
এ বিষয়ে স্থানীয় একাধিক এলাকাবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, একজনের সুবিধার জন্য আজ দুইশত কৃষকের কয়েক হাজার একর দুই ফসলী জমির আবাদ নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশংকা দেখা দিয়েছে। ওই ব্যক্তিকে আমরা এলাকাবাসী অনেক অনুরোধ করেও ইটের প্রাচীর নির্মাণ করা থেকে বিরত রাখতে পারিনি।
এ বিষয়ে তবকপুর ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা মাসুদ রানা সাংবাদিককে জানান, এলাকাবাসীর অভিযোগের সভ্যতা পেয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে বিষয়টি জানানো হয়েছে।
ব্রীজের পাশে ওয়াল নির্মাণকারী মাজেদুল ইসলাম ইত্তেফাককে জানিয়েছেন, আমি ঐ এলাকায় বাড়ি করার জন্য জায়গা কিনে যখন ওয়াল করছিলাম তখন গ্রামবাসি কেউ বাঁধা দেয়নি। আর আমার ওয়ালের শেষ প্রান্তে পানি যাওয়ার পথ ছিল।
আমার সাথে শত্রুতা করেই সেখানে উঁচু করে মাঠির বাঁধ দেয়ায় পানি প্রবাহের সমস্যা তৈরি হয়েছে। আমি গরিব মানুষ অনেক কষ্ট করে সেখানে মাথা গোঁজার ঠাই করেছি, সেটি ঐ এলাকার কেউ মেনে নিচ্ছে না।
এলাকার কৃষক সবুজ, বাবলু, আব্দুল খালেক, ফয়জার রহমানসহ অনেকেই জানিয়েছেন, সামান্য বৃষ্টিতেই অনেক রোপা আমন গাছ তলিয়ে আছে। বন্যা কিংবা বড় ধরনের বৃষ্টিপাত হলে ব্রীজের উজানে হাজার হাজার একর জমির ফসল তলিয়ে যাবে। এ ঘটনায় আনিছুর কিংবা আমজাদের সাক্ষাৎকার নেয়া সম্ভব হয়নি।
তবকপুর ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম তদন্তের অগ্রগতির বিষয়ে জানান, আমি সবেমাত্র অভিযোগের কপি পেয়েছি। দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্বাহী অফিসারকে জানানো হবে।
এ ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নয়ন কুমার সাহা জানিয়েছেন, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। এবং পুনরায় তদন্তের জন্য গত শনিবার (১৭ই আগস্ট) সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন এর প্যানেল চেয়ারম্যানকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তদন্ত রিপোর্ট পেলেই দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
-খবরপ্রতিদিন/ সি.ব