খুলনা ফুলতলা উপজেলা শহর থেকে মাত্র চার কিলোমিটার দূরে ভৈরব নদের তীর ঘেঁষে দাঁড়িয়ে আছে এক ঐতিহাসিক স্থাপত্য। যা বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতিবিজড়িত শ্বশুরালয় হিসেবে পরিচিত। দীর্ঘদিন অবৈধ দখলদারদের কবলে থাকলেও প্রশাসন ও সুধী সমাজের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় বাড়িটি এখন রবীন্দ্রচর্চার এক মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে।
ইতিহাসের পাতায় দক্ষিণডিহি:
দক্ষিণডিহির এই দ্বিতল বাড়িটির সাথে কবিগুরুর আত্মিক যোগসূত্র প্রথম জনসমক্ষে আসে ১৯৯০ সালে। গবেষক মাসুদুল হক ‘সাপ্তাহিক পূর্বাণী’ পত্রিকায় এক প্রবন্ধে উল্লেখ করেন, বিয়ের পর কবিগুরু তার স্ত্রী মৃণালিনী দেবীর পৈতৃক ভিটায় এসেছিলেন। তৎকালীন বেজেরডাঙ্গা রেল স্টেশন থেকে পালকিতে চড়ে তিনি শ্বশুর বেণী মাধব রায় চৌধুরীর এই বাড়িতে পদার্পণ করেন। পরবর্তীতে ড. আশরাফ সিদ্দিকী ও বিধান দাস গুপ্তের লেখনীতেও এই স্থানটির গুরুত্ব উঠে আসে।
উদ্ধার অভিযান ও সরকারি মালিকানা:
আট দশমিক ৪১ একর আয়তনের এই বিশাল সম্পদটি দীর্ঘকাল অবৈধ দখলদারদের নিয়ন্ত্রণে ছিল। ১৯৯৫ সালে খুলনার তৎকালীন জেলা প্রশাসক কাজী রিয়াজুল হক বাড়িটি পরিদর্শনে গিয়ে এর ঐতিহাসিক গুরুত্ব অনুধাবন করেন। জাতীয় সংগীতের রচয়িতার স্মৃতি রক্ষার্থে তিনি দৃঢ় পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।
তারই নির্দেশনায় ফুলতলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) কঠোর অভিযান চালিয়ে ১৯৯৫ সালের ৭ সেপ্টেম্বর সম্পত্তিটি সরকারের মালিকানায় ফিরিয়ে আনেন।
রবীন্দ্র কমপ্লেক্সের যাত্রা:
উদ্ধারের পর কবিগুরুর স্মৃতি ধরে রাখতে গঠন করা হয় ‘দক্ষিণডিহি রবীন্দ্র কমপ্লেক্স পরিসর’। ১৯৯৫ সালের ১৪ নভেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে এই কমপ্লেক্সের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক কাজী রিয়াজুল হক। একই অনুষ্ঠানে জাতীয় রবীন্দ্র সংগীত সম্মেলন পরিষদের নির্বাহী সভাপতি প্রফেসর ড. সানজিদা খাতুন রবীন্দ্রনাথের একটি আবক্ষ ভাস্কর্য উন্মোচন করেন।
স্মৃতিতে অম্লান রূপকার:
দক্ষিণডিহিকে দখলমুক্ত করে রবীন্দ্রচর্চার কেন্দ্রে পরিণত করার পেছনে কাজী রিয়াজুল হকের অবদানকে খুলনাবাসী আজও শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে। সেই কৃতজ্ঞতা থেকেই প্রতি বছর ২৫ বৈশাখের রবীন্দ্র জয়ন্তী অনুষ্ঠানে তাকে বিশেষভাবে আমন্ত্রণ জানানো হয়।
বর্তমানে এই ছায়াঘেরা বাড়িটি কেবল পর্যটন কেন্দ্র নয়, বরং দুই বাংলার রবীন্দ্রানুরাগীদের কাছে এক তীর্থস্থানে পরিণত হয়েছে। ভৈরব নদের পাড়ে কবিগুরুর পদধূলি পড়া এই ভিটা এখন শিল্প-সাহিত্যের আলো ছড়াচ্ছে।
উদ্ধার হলো দক্ষিণডিহি: অবমুক্ত হলো কবিগুরুর স্মৃতিধন্য শ্বশুরালয়
উদ্ধার হলো দক্ষিণডিহি: অবমুক্ত হলো কবিগুরুর স্মৃতিধন্য শ্বশুরালয়
খুলনা ফুলতলা উপজেলা শহর থেকে মাত্র চার কিলোমিটার দূরে ভৈরব নদের তীর ঘেঁষে দাঁড়িয়ে আছে এক ঐতিহাসিক স্থাপত্য। যা বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতিবিজড়িত শ্বশুরালয় হিসেবে পরিচিত। দীর্ঘদিন অবৈধ দখলদারদের কবলে থাকলেও প্রশাসন ও সুধী সমাজের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় বাড়িটি এখন রবীন্দ্রচর্চার এক মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে। ইতিহাসের পাতায় দক্ষিণডিহি: দক্ষিণডিহির এই দ্বিতল বাড়িটির সাথে কবিগুরুর আত্মিক যোগসূত্র প্রথম জনসমক্ষে আসে ১৯৯০ সালে। গবেষক মাসুদুল হক ‘সাপ্তাহিক পূর্বাণী’ পত্রিকায় এক প্রবন্ধে উল্লেখ করেন, বিয়ের পর কবিগুরু তার স্ত্রী মৃণালিনী দেবীর পৈতৃক ভিটায় এসেছিলেন। তৎকালীন বেজেরডাঙ্গা রেল স্টেশন থেকে পালকিতে চড়ে তিনি শ্বশুর বেণী মাধব রায় চৌধুরীর এই বাড়িতে পদার্পণ করেন। পরবর্তীতে
ড. আশরাফ সিদ্দিকী ও বিধান দাস গুপ্তের লেখনীতেও এই স্থানটির গুরুত্ব উঠে আসে। উদ্ধার অভিযান ও সরকারি মালিকানা: আট দশমিক ৪১ একর আয়তনের এই বিশাল সম্পদটি দীর্ঘকাল অবৈধ দখলদারদের নিয়ন্ত্রণে ছিল। ১৯৯৫ সালে খুলনার তৎকালীন জেলা প্রশাসক কাজী রিয়াজুল হক বাড়িটি পরিদর্শনে গিয়ে এর ঐতিহাসিক গুরুত্ব অনুধাবন করেন। জাতীয় সংগীতের রচয়িতার স্মৃতি রক্ষার্থে তিনি দৃঢ় পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।তারই নির্দেশনায় ফুলতলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) কঠোর অভিযান চালিয়ে ১৯৯৫ সালের ৭ সেপ্টেম্বর সম্পত্তিটি সরকারের মালিকানায় ফিরিয়ে আনেন। রবীন্দ্র কমপ্লেক্সের যাত্রা: উদ্ধারের পর কবিগুরুর স্মৃতি ধরে রাখতে গঠন করা হয় ‘দক্ষিণডিহি রবীন্দ্র কমপ্লেক্স পরিসর’। ১৯৯৫ সালের ১৪
নভেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে এই কমপ্লেক্সের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক কাজী রিয়াজুল হক। একই অনুষ্ঠানে জাতীয় রবীন্দ্র সংগীত সম্মেলন পরিষদের নির্বাহী সভাপতি প্রফেসর ড. সানজিদা খাতুন রবীন্দ্রনাথের একটি আবক্ষ ভাস্কর্য উন্মোচন করেন। স্মৃতিতে অম্লান রূপকার: দক্ষিণডিহিকে দখলমুক্ত করে রবীন্দ্রচর্চার কেন্দ্রে পরিণত করার পেছনে কাজী রিয়াজুল হকের অবদানকে খুলনাবাসী আজও শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে। সেই কৃতজ্ঞতা থেকেই প্রতি বছর ২৫ বৈশাখের রবীন্দ্র জয়ন্তী অনুষ্ঠানে তাকে বিশেষভাবে আমন্ত্রণ জানানো হয়। বর্তমানে এই ছায়াঘেরা বাড়িটি কেবল পর্যটন কেন্দ্র নয়, বরং দুই বাংলার রবীন্দ্রানুরাগীদের কাছে এক তীর্থস্থানে পরিণত হয়েছে। ভৈরব নদের পাড়ে কবিগুরুর পদধূলি পড়া এই ভিটা এখন শিল্প-সাহিত্যের আলো ছড়াচ্ছে।
সম্পাদক: খন্দকার আমিনুর রহমান
[email protected] | ০১৫৩৫৭৭৩৩১৪
গভ: জি: নং-সি-১৩১৫৯৬
প্রধান কার্যালয়: ৩০৬/এ, দক্ষিণ যাত্রাবাড়ী ঢাকা ১২০৪/
50/F,Inner Circular Road,Naya Paltan, Dhaka, 1000
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত