বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬
logo
Breaking News
ঝালকাঠির নলছিটিতে জিয়াউর রহমানের শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল পুলিশের ঊর্ধ্বতন ৯ কর্মকর্তাকে বদলি পাবনায় মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম দলের উদ্যোগে শহীদ জিয়ার ৪৫তম শাহাদাত বার্ষিক পালন হামের উপসর্গে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু চাঁদাপুর লঞ্চঘাটে চাঁদা না দেয়ায় দুই যাত্রীর ওপরে হামলা, থানায় জিডি বিদ্যুতের দাম বাড়ল দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির পাঁয়তারা চলছে: মির্জা ফখরুল বাজেট তৈরি হচ্ছে সাধারণ মানুষের কথা বিবেচনায় নিয়ে: অর্থমন্ত্রী আসামি সোহেল-স্বপ্না নিজেদের নির্দোষ দাবি করে আদালতে যা বললেন "প্রথম বিদেশ সফরে প্রধানমন্ত্রী কোথায় যাবেন তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে"
সারাবাংলা ঠাকুরগাঁওয়ে রেললাইন নয় যেনো লাল সবুজের গালিচা
logo

ঠাকুরগাঁওয়ে রেললাইন নয় যেনো লাল সবুজের গালিচা

‘লাল সবুজের বাংলা’ কথাটি যেন ঠাকুরগাঁওয়ের রেল লাইনে প্রতিফলিত হচ্ছে। ইদানিং রেল লাইনটি দেখলে মনে হবে এটি যেন রেল লাইন নয়, লাল সবুজের গালিচা। দুই ধারে গাঢ় সবুজ ক্ষেত আর মাঝখানে শুধু লাল আর লাল!

পাখির চোখে দেখলে নিচের রেললাইন প্রথম দর্শনে বোঝার উপায় নেই। লালগালিচায় ঢাকা বিস্তীর্ণ পথ মনে হবে। কাছে গেলে স্পষ্ট হয় রেললাইন ধরে শুকাতে দেওয়া হয়েছে পাকা মরিচ!

দৃশ্যটি ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার রুহিয়া রেলস্টেশন এলাকার। মরিচ শুকিয়ে বাজারজাত করলে বাড়তি দাম পাওয়া যায়। তাই প্রতিদিন ভোরে বস্তায় বস্তায় কাঁচা লাল মরিচ রেললাইনের ধারে
নিয়ে আসেন চাষিরা শুকানোর জন্য। দুই পাশে ও রেললাইনের মাঝখানে পলিথিন, মাদুর বিছিয়ে মরিচ শুকাতে দেন। পরে প্রক্রিয়াজাত শেষে সে মরিচ চলে যায় দেশের বিভিন্ন প্রান্তে।

রেললাইনের পাশে কথা হয় মরিচ চাষি এরশাদ আলীর সাথে। তিনি বলেন, “কাঁচা অবস্থায় মরিচের দাম কম থাকে। এ কারণে শুকিয়ে বিক্রি করলে ভালো দাম পাওয়া যায়। দেশের বিভিন্ন এলাকা
থেকে ট্রাক নিয়ে এখানে মরিচ কিনতে আসেন ব্যবসায়ীরা। সে সময় স্টেশন এলাকা কর্মচঞ্চল থাকে।” মরিচ কিনতে আসা ব্যবসায়ী রমজান আলী বলেন, এ জেলার মরিচের আকার, বর্ণ ও
স্বাদের কারণে চাহিদা সবচেয়ে বেশি। এ স্টেশন এলাকা থেকে প্রতিদিন ২৫ থেকে ৩০ লাখ টাকার মরিচ কেনাবেচা হয়। এলাকার ৭০ ভাগ কৃষকই মরিচ চাষের সাথে জড়িত। বগুড়া থেকে আসা
ব্যবসায়ী মহসিন আলী বলেন, “এই এলাকার মরিচ রঙে ঘন, ঝাঁজও তীব্র। বাজারে কদর অনেক বেশি। প্রতিদিন এখানে ২০-২৫ লাখ টাকার মরিচ কেনাবেচা হয়। আমরাও এসেছি মরিচ কেনার
উদ্দেশ্যে।” রেললাইনের ধারে মরিচ শুকাতে এসেছিলেন স্থানীয় কৃষক জাহাঙ্গীর আলম। তিনি বলেন, “প্রতি বিঘায় এখন পর্যন্ত ১০ থেকে ১২ মণ করে ফলন পেয়েছেন। এবার মরিচের বাজারও
ভালো। প্রতি মণ মরিচ প্রায় ৬ হাজার ৫শ’ থেকে ৭ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতি বিঘায় চাষে খরচ হয়েছে ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা। খরচ বাদ দিয়ে বিঘা প্রতি ভালো লাভ থাকবে।” স্টেশন
এলাকা থেকে কিছুটা দক্ষিণে রুহিয়া কুজিশহর, আসানগড় সহ ঠাকুরগাঁও জেলার হরিপুর, রাণীশংকৈল, পীরগঞ্জের বিভিন্ন ইউনিয়নের এসব এলাকার বিস্তীর্ণ মাঠে গ্রীষ্মকালীন মরিচ
চাষ হয়েছে। গাছে গাছে শোভা পাচ্ছে কাঁচা-পাকা মরিচ! এ সময়ে ক্ষেত থেকে তুলে পাকা মরিচ রোদে শুকাতে ব্যস্ত কৃষকরা। তাঁদের বাড়ির উঠান জুড়ে মরিচের ঝাঁজালো ঘ্রাণ।

ঠাকুরগাঁও জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে ঠাকুরগাঁও জেলার ৫ টি উপজেলায় মোট ১ হাজার ৯৭০ হেক্টর জমিতে দেশি জাতসহ বাঁশ গাইয়া, জিরা, মল্লিকা, বিন্দু,
হট মাস্টার সহ বিভিন্ন হাইব্রিড জাতের মরিচের চাষ হয়েছে। এর মধ্যে ১ হাজার ৩২২ হেক্টরের মরিচ ইতিমধ্যে তোলা হয়েছে। হেক্টরপ্রতি গড় উৎপাদন ১ দশমিক ৯২ মেট্রিক টন। ঠাকুরগাঁও
জেলার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক আলমগীর কবীর বলেন, “কৃষি বিভাগ থেকে কৃষকদের যাবতীয় পরামর্শ ও সেবা প্রদান করা হয়েছে। এ বছর মরিচের বাম্পার
ফলন হয়েছে। ঠাকুরগাঁও জেলার মাটি ও আবহাওয়া মরিচ চাষের জন্য খুবই উপযোগী। এখানকার মরিচের রঙ গাঢ়, ঝাঁজ বেশি বাজারে দারুণ কদর পাচ্ছে। এ বছর দামও ভালো, চাষিরাও খুশি।”
রেল লাইনের ধারে পাকা মরিচ শুকানোর দৃশ্য দেখে যেন মনে ‘লাল সবুজের বাংলা’ ইদানিং ঠাকুরগাঁও অঞ্চলে এসে বাসা বেঁধেছে।

-খবরপ্রতিদিন/ সি.ব

খুঁজুন