বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬
logo
Breaking News
ঝালকাঠির নলছিটিতে জিয়াউর রহমানের শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল পুলিশের ঊর্ধ্বতন ৯ কর্মকর্তাকে বদলি পাবনায় মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম দলের উদ্যোগে শহীদ জিয়ার ৪৫তম শাহাদাত বার্ষিক পালন হামের উপসর্গে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু চাঁদাপুর লঞ্চঘাটে চাঁদা না দেয়ায় দুই যাত্রীর ওপরে হামলা, থানায় জিডি বিদ্যুতের দাম বাড়ল দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির পাঁয়তারা চলছে: মির্জা ফখরুল বাজেট তৈরি হচ্ছে সাধারণ মানুষের কথা বিবেচনায় নিয়ে: অর্থমন্ত্রী আসামি সোহেল-স্বপ্না নিজেদের নির্দোষ দাবি করে আদালতে যা বললেন "প্রথম বিদেশ সফরে প্রধানমন্ত্রী কোথায় যাবেন তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে"
সারাবাংলা তানোরের সেই ভারপ্রাপ্ত অধ্যাক্ষ মুনসুর কে অপসারণ করতে শিক্ষক ও নেতারা একট্রা
logo

তানোরের সেই ভারপ্রাপ্ত অধ্যাক্ষ মুনসুর কে অপসারণ করতে শিক্ষক ও নেতারা একট্রা

রাজশাহীর তানোর উপজেলার তালন্দ ইউনিয়ন ইউপির লালপুর মডেল কলেজের আলোচিত সমালোচিত ব্যাক ডেটে জালিয়াতির মাধ্যমে দুইজনকে নিয়োগ দেয়া সেই ভারপ্রাপ্ত অধ্যাক্ষ মুনসুর রহমান কে অপসারণ করতে কলেজ শিক্ষক ও বিএনপির নেতারা একট্রা হয়েছেন বলে একাধিক সুত্র নিশ্চিত করেন। 

গত বৃহস্পতিবার সকাল থেকে রাত সাতটা পর্যন্ত তাকে অপসারণের জন্য নির্বাহীর দপ্তরে ধরনা দেয় কলেজ শিক্ষক ও উপজেলা বিএনপির আহবায়ক আখেরুজ্জামান হান্নান এবং ইউপি বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জিল্লুর রহমান নান্নু। 

তারা দিনভর অপেক্ষা করে রাতে ভারপ্রাপ্ত অধ্যাক্ষকে অপসারণের জন্য ইউএনওকে অবহিত করেন। অথচ বিএনপির এদুই নেতা জৈষ্ঠতা ও নীতিমালা লঙ্ঘন করে মুনসুর রহমান কে ভারপ্রাপ্ত অধ্যাক্ষ হিসেবে পদায়ন করেন। 

কিন্তু সম্প্রতি ব্যাগ ডেটে জালিয়াতির মাধ্যমে নিয়োগের বিষয়ে অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত কার্যক্রম চলমান ঠিক সেই সময় অপসারণের বিষয় টি ভালো ভাবে দেখছেন না স্থানীয়রা। সেই সাথে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিয়ে রাজনীতি না করার জোর দাবি তুলেছেন শিক্ষক মহল। কারন নেতাদের ইচ্ছে মত পদায়ন আবার তাদের ইচ্ছেমত অপসারণ করা শিক্ষা কার্যক্রম কে চরম ভাবে ব্যাহত ছাড়া কিছুই না।

গত বৃহস্পতিবার দুপুরের আগে উপজেলায় লালপুর মডেল কলেজের শিক্ষক কর্মচারী ও বিএনপির দুই নেতাকে দেখা যায়। তারা দুপুরে একসাথে খাবারও খান। তাদেরকে রাত প্রায় আটটা পর্যন্ত উপজেলায় দেখা যায়। 

তালন্দ ইউনিয়ন ইউপি বিএনপির সাধারণ সম্পাদক লালপুর গ্রামের বাসিন্দা জিল্লুর রহমান নান্নুর কাছে একসাথে এত শিক্ষক নিয়ে উপজেলায় আসার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, লালপুর মডেল কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মুনসুর রহমান কোন আলোচনা ছাড়াই দুইজনকে ব্যাগ ডেট দেখিয়ে জালিয়াতির মাধ্যমে এমপিও করেছেন। 

এসব নিয়ে নির্বাহীর দপ্তরে অভিযোগ হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত হয়েছে। সে কোন শিক্ষক বা আমাদের সাথে আলোচনা না করে এধরণের কাজ করে কলেজের সুনাম ক্ষুন্ন করেছেন। এজন্য সকল শিক্ষক কর্মচারী ও আমরা এসেছি নির্বাহী অফিসার কে এবিষয়ে অবহিত করে তাকে অপসারণ করে শামসুজ্জোহা নামের আরেকজন সিনিয়র শিক্ষককে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ করার জন্য। 

গত বছরের নভেম্বর মাসে আপনারা নীতিমালা লঙ্ঘন করে দলীয় বিবেচনায় ও ক্ষমতার দাপটে মুনসুরকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে পদায়ন করিয়েছিলেন কেন জানতে চাইলে তিনি জানান, সে আমাদের দলের লোক ছিল এজন্য করা হয়েছিল। কিন্তু সে একটা জালিয়াত, তার বিরুদ্ধে একাধিক চেকের মামলা আছে। তার কারনে কলেজের বিরুদ্ধে পেপার পত্রিকা হয়েছে, আমাদেরকেও দায়ী করা হয়েছে। 

অথচ আমরা কিছুই জানিনা। আপনিই তো বলেছিলেন আগের নিয়োগ বেতনের আবেদন করেছে তাহলে কি কারনে অপসারণ প্রশ্ন করা হলে কোন সদ উত্তর না দিয়ে একই ধরনের কথা বলে দায় সারেন তিনি। শিক্ষকরা জানান, কলেজে শিক্ষক কর্মচারী রয়েছে ৩৪ জনের মত। কিন্তু হঠাৎ করেই দুইজনের নাম অন্তর্ভুক্ত হয়ে পড়ে। তখন বিষয় টি জানতে পারি। এখন সবাই বলছে তাঁকে অপসারণ করতে হবে। এজন্য ইউএনওর স্যারের কাছে আসা হয়েছে। 

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা প্রায় সাড়ে সাত টার দিকে উপজেলায় চা খেতে দেখা যায় উপজেলা বিএনপির আহবায়ক আখেরুজ্জামান হান্নান সহ শিক্ষক দের। জানতে চাওয়া হয় ইউএনওর সাথে কথা হয়েছে কিনা বা তিনি কি বলেছেন উত্তরে আখেরুজ্জামান হান্নান জানান, এখনো ইউএনও আসেনি, আসলে কথা হবে, তারপর বলা যাবে কি হয়েছে, বা হবে।

শুক্রবার পুনরায় ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জিল্লুর রহমান নান্নুর সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করে বিষয় টি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি জানান, ইউএনওর সাথে কথা হয়েছে রাতে। তিনি বলেছেন কলেজে এসে বসে সবার সাথে কথা বলে সমস্যা নিরসনের চেষ্টা করবেন। 

আর মুনসুর অফিস সহায়ক হিসেবে সালামপুর গ্রামের মতিউর কে নিয়োগ দিয়েছিল, মতিউর দাদন ব্যবসায়ী কামারগাঁ স্কুলের পিয়ন এনতাজের আত্মীয়। মুনসুর এনতাজের নিকট সুদে ৫০ হাজার টাকার মত নিয়েছে। এই টাকার জন্য নাকি ৫ টি চেকের পাতা দিয়েছে। এর বিনিময়ে মতিউর কে জালিয়াতি নিয়োগ দেয়।

স্থানীয়রা জানান,  ব্যাগ ডেটে ও জালিয়াতির মাধ্যমে নিয়োগের অভিযোগের তদন্তে এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা রাজশাহী অঞ্চল থেকেই ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ দোষী হিসেবে প্রমান পেয়েছে কর্তৃপক্ষ । যখন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ দোষী হিসেবে প্রমানিত হচ্ছে ঠিক সেই সময় নেতারা কলেজ শিক্ষক দের উসকে দিয়ে তাকে অপসারণ করতে মরিয়া। এসব জালিয়াতি নিয়োগের সাথে শুধু ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ না নেতারাও জড়িত। তানাহলে থলের বিড়াল বেরিয়ে আসবে।

একারনে তাঁকে সরাতে পারলে সবকিছু হালাল হয়ে যাবে। কোন অপসারণ না যারাই জালিয়াতির সাথে জড়িত তাদের সবাইকে আইনের আওতায় আনতে হবে। নেতাদের ইচ্ছে মত কলেজ চলবে না। কলেজ চলবে তার নিয়মে। 

মুনসুর কে কারা ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ করলে, কিসের বিনিময়ে নীতিমালা লঙ্ঘন করে দলীয় প্রভাবে করল। এসবেরও তদন্ত হওয়া দরকার। ওই সময় নির্বাহীর দপ্তরে আক্তারুজ্জামান বাবুল নামের এক শিক্ষক লিখিত অভিযোগ দিয়েছিল। কিন্তু নেতাদের প্রভাবের কারনে অভিযোগ ধামাচাপা দেয়া হয়। তাকে অন্যায় ভাবে করার কারনে সেও অন্যায় করেছে, আর এটাই স্বাভাবিক। সবকিছুর তদন্তের মাধ্যমে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া দরকার। তাহলেই প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠানের নিয়মে চলবে।

এবিষয়ে জানতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার লিয়াকত সালমানের সরকারি মোবাইল নম্বরে ফোন দেয়া হলে তিনি রিসিভ করেননি।

প্রসঙ্গত, চলতি বছরের মে মাসের দিকে লালপুর মডেল কলেজের জীব বিজ্ঞান (প্রদর্শক) পদে আবুল কালাম আজাদ ও অফিস সহায়ক পদে মতিউর রহমানের নাম ব্যাক ডেট দেখিয়ে কলেজ ইনডেক্সে নাম অন্তর্ভুক্ত হয়। তখন বিষয় টি জানাজানি হলে চলতি মাসের ১৭ আগষ্ট লালপুর গ্রামের বাসিন্দা ও তানোর প্রেসক্লাবের সাবেক সম্পাদক শরিফুল ইসলাম বাদি হয়ে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মুনসুর কে বিবাদী করে নির্বাহীর দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগের ভিত্তিতে গত ২৪ আগষ্ট মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসে তদন্ত হয়। কিন্তু তদন্তে হাজির হননি ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ। সে হাজির না হলেও তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। 

এছাড়াও মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা রাজশাহী অঞ্চলের পরিচালকের কার্যালয় থেকে ৪৫১ নম্বর স্মারকে গত ২০ আগষ্ট পরিচালক প্রফেসর আবুল কালাম আজাদ স্বাক্ষরিত ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মুনসুর রহমান কে কারন দর্শানোর নোটিশ করা হয়। দুই দিনের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়। কিন্তু ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ দলীয় ক্ষমতার দাপটে কোন জবাব দেননি। তদন্তে ও কারন দর্শানোর নোটিশে মুনসুর রহমান কে দোষী হিসেবে আখ্যা দিয়ে তার বেতনভাতা বন্ধ সহ বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের কথাও বলা হয়েছে।

-খবরপ্রতিদিন/ সি.ব

খুঁজুন