বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬
logo
Breaking News
ঝালকাঠির নলছিটিতে জিয়াউর রহমানের শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল পুলিশের ঊর্ধ্বতন ৯ কর্মকর্তাকে বদলি পাবনায় মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম দলের উদ্যোগে শহীদ জিয়ার ৪৫তম শাহাদাত বার্ষিক পালন হামের উপসর্গে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু চাঁদাপুর লঞ্চঘাটে চাঁদা না দেয়ায় দুই যাত্রীর ওপরে হামলা, থানায় জিডি বিদ্যুতের দাম বাড়ল দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির পাঁয়তারা চলছে: মির্জা ফখরুল বাজেট তৈরি হচ্ছে সাধারণ মানুষের কথা বিবেচনায় নিয়ে: অর্থমন্ত্রী আসামি সোহেল-স্বপ্না নিজেদের নির্দোষ দাবি করে আদালতে যা বললেন "প্রথম বিদেশ সফরে প্রধানমন্ত্রী কোথায় যাবেন তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে"
সারাবাংলা তানোরের বিএনপির স্থবিরতা কাটাতে মিজানের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারে জোর দাবি তৃণমূল নেতাকর্মীদের
logo

তানোরের বিএনপির স্থবিরতা কাটাতে মিজানের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারে জোর দাবি তৃণমূল নেতাকর্মীদের

গত রমজান মাসে নিজ দলের দুই কর্মী নিহতের পর মামলা দলীয় পদ থেকে বহিষ্কার ও আহবায়ক কমিটির কার্যক্রম স্থগিত হওয়ার পর থেকে রাজশাহীর তানোরে বিএনপির কার্যক্রম একেবারেই স্থবির হয়ে পড়েছে। 

দুই ঈদ পার হলেও তেমন কোন সভা সমাবেশ করতে দেখা যায় নি। অবশ্য মুন্ডুমালা পৌর বিএনপি নেতা প্রয়াত আজহার মাস্টারের মৃত্যুতে শোক ও তানোর উপজেলা মিলনায়তনে দিন ব্যাপী পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। দীর্ঘ সময় দলীয় কার্যক্রম বন্ধ থাকার কারনে কয়েক ভাবে বিভক্ত হয়ে পড়েছে বিএনপির নেতাকর্মীরা। তবে এস্থবিরতার কারন হিসেবে সাবেক মেয়র মিজানুর রহমান মিজানের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার না করার কারনেই দলীয় কার্যক্রম থমকে গেছে বলে মনে করেন তৃনমুলের নেতাকর্মীরা। 

কারন তানোর বিএনপি মানেই মিজান, তিনি ছাড়া দলের কোন কার্যক্রম করেন না কেউ। অথচ মিজান এলাকায় থাকা মানেই দলীয় নেতাকর্মীদের মাঝে প্রাণচাঞ্চল্যতা ফিরে পাওয়া। সুতরাং মিজানের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার না হলে আগামী জাতীয় নির্বাচনে দলকে চরম মাশুল দিতে হবে বলে মনে করছেন সিনিয়র ও ত্যাগী নেতারা। এজন্য কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে তৃনমুল থেকে শুরু করে সিনিয়র নেতাদের একটাই দাবি দ্রুত সময়ের মধ্যে মিজানের বহিষ্কারাদেশ তুলে দলকে সুসংগঠিত করার জোরদাবি তুলেছেন। মিজান ছাড়া তানোর বিএনপি কোনভাবেই শক্ত অবস্থানে যেতে পারবেনা। কারন দলের কঠিন সময় মিজানের যে ভূমিকা ছিল সেটা কেউ দেখাতে পারেনি। আর এখন কিছু সুযোগ সন্ধানীরা দলের মুল জায়গা নিতে মরিয়া হয়ে পড়েছে।

কিন্তু তাদের কে দিয়ে দল শক্ত অবস্থানে যেতে পারবে না বলেও মনে করেন সিনিয়র নেতারা।

দলীয় সুত্র জানায়, গত রমজান মাসে উপজেলার পাঁচন্দর ইউনিয়ন ইউপির বিএনপির ইফতার মাহফিলের প্রধান অতিথি মেজর জেনারেল (অব) শরিফ উদ্দিন কে বরণ করা নিয়ে ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান মমিনুল হক মমিন ও বর্তমান সভাপতি প্রভাষক মজিবুর রহমানের অনুসারীদের মধ্যে তুমুল সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে মমিনের ভাই বিএনপি কর্মী গানিউল চিকিৎসা ধীন অবস্থায় মারা যান। এঘটনায় মিজান ও মজিবুর সহ তাদের অনুসারীদের নামে মামলা দায়ের করা হয়। 

মামলায় জেল খাটতে হয়। তবে ওই ঘটনায় সাবেক মেয়র মিজান মঞ্চে অতিথি হিসেবে ছিলেন। তাকে রাজনৈতিক ভাবে হেউ বা হেনেস্তা করতে মামলার আসামী করা হয়। এরপরই কেন্দ্রীয় কমিটির নির্দেশনায় জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটি মিজান ও মজিবুর কে বহিষ্কার করে। এবহিস্কার নিয়েও নানা প্রশ্ন উঠে তৃনমুল নেতাকর্মী দের মাঝে। কারন ইউপি বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে মারামারি হয়েছে, সেখানে মিজানকে আসামি করা বহিষ্কার করা মোটেই সঠিক সিদ্ধান্ত হয়নি। মিজান অতিথি হয়েও যদি মামলার আসামী হয় তাহলে বাকি যারা অতিথি ছিলেন সবাই আসামি হওয়ার কথা। কিন্তু সেটা করা হয়নি। অবশ্য হত্যা মামলায় আসামীরা উচ্চ আদালত থেকে জামিন পেলেও নিম্ন আদালত কারাগারে দেয়ার নির্দেশ দেন। কিন্তু নিম্ন আদালত মিজানের জামিন বহাল রাখে। তাকে জেলে দেয়ার জন্য চারদিক থেকে ঘিরে রেখেছিল। কথায় আছে রাখে আল্লাহ মারে কে।

পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক তোফাজ্জল হোসেন তোফা জানান, মিজান জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির অন্যতম সদস্য। বিগত স্বৈরাচার সরকারের সময় সে এলাকায় থাকত পারত না। দলের কঠিন সময়ে হাল ধরে ছিল মিজান। বিগত ২০১৬ সালে তানোর পৌর নির্বাচনে প্রথমবারের মত মেয়র নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি। ওই সময় মেয়র নির্বাচিত হওয়া মানে কি বুঝতে হবে। মেয়র থাকা অবস্থায় ৭০ কেজি চাল চুরির মামলায় তাকে জেলে যেতে হয় এবং শপথ নিতে যাওয়ার সময় জেলে যেতে হয়। ঘরবাড়ি পরিবার ছেড়ে রাজনীতির জন্য জীবনের ঝুকি নিয়ে দলীয় কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন মিজান।

এমন কি গত জুলাই মাসে কোটা আন্দোলনের সময়ও তাকে জেলে যেতে হয়েছিল। স্বৈরাচার সরকারের পতনের পর জেল থেকে মুক্তি পান তিনি। এত নির্যাতিত নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার করা কতটা সঠিক সিদ্ধান্ত সেটা ভাবা দরকার ছিল। স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে কাউকে পাওয়া যায়নি। একমাত্র মিজান সামনের কাতারে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে আন্দোলন সংগ্রাম করেছেন। মানুষ ভুলের ঊর্ধ্বে না, আশা করব দ্রুত সময়ের মধ্যে তার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে দলকে শক্তিশালী করার সুযোগ করে দিবে কেন্দ্রীয় কমিটি। কারন এআসনে জামায়াতের শক্তিশালী প্রার্থী আছেন। তাকে রাজনৈতিক ভাবে মোকাবিলা করার যোগ্য নেতা মিজান। এসব বিবেচনা করা সময়ের দাবি। 

পৌর সেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক মাহবুর মোল্লা জানান, সাবেক মেয়র মিজানের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের জন্য সাত ইউনিয়ন ও দুই পৌরসভার বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা সভা সমাবেশ করে তার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের জোর দাবি জানান। কারন মিজান ছাড়া তানোর বিএনপি অকেজো। তাকে বহিস্কার করার পর থেকে একাধিক ভাবে বিভক্ত তানোর বিএনপি। তানোর বিএনপিকে এক কাতারে নিয়ে আসার মত যোগ্যতা যদি কোন নেতার থাকে সেটা মিজানের আছে। কারন তৃনমুল থেকে শুরু করে সিনিয়র নেতাদের কাছে গ্রহণ যোগ্য নেতা মিজান। তার সাংগঠনিক যোগ্যতার কারনে সে জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য, তার জনপ্রিয়তার জন্য এবয়সে তিনি মেয়র নির্বাচিত হয়েছিলেন। মিজান রাজনৈতিক প্রতিহিংসার স্বীকার। তিনি ছাড়া তানোর বিএনপি কোনভাবেই সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়ে দলীয় কাজ করতে পারবে না। তার আদেশ প্রত্যাহার না হলে আগামী নির্বাচনে ফল ভোগ করতে হবে বলে মনে করেন এই নেতা। তার দাবি সবদিক বিবেচনা করে অল্প সময়ের মধ্যে তার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে দলকে ঐক্যবদ্ধ করার অনুরোধ করেন কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে।

পাঁচন্দর ইউপির সাবেক সম্পাদক ও সহকারী অধ্যাপক মফিজ উদ্দিন জানান, সাবেক মেয়র মিজান তানোর বিএনপির ত্রাতা। তার মাধ্যমেই উপজেলা বিএনপি এক কাতারে আসা সম্ভব। তিনি ছাড়া কোন ভাবেই দলে ঐক্য আসবে না। এজন্য আগামী নির্বাচনকে গুরুত্ব দিয়ে দলের বিবেদ দূর করে সবাই যেন এক কাতারে আসতে পারে এজন্য কেন্দ্রীয় ও জেলা কমিটির প্রতি অনুরোধ মিজানের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা সময়ের দাবি।

সাবেক কাউন্সিলর সিনিয়র নেতা আবু সাঈদ বাবু ও মান্নান জানান, বিগত স্বৈরাচার সরকারের সময় মিজানের নেতৃত্বে আন্দোলন সংগ্রাম হয়েছে। আর দলকে ঐক্যবদ্ধ করতে হলে তার বহিষ্কারাদেশ তুলে নেয়া প্রয়োজন।

চান্দুড়িয়া ইউপির সভাপতি আজাদ ও সম্পাদক সাজ্জাদ জানান, বর্তমানে মিজানের সাংগঠনিক প্রজ্ঞাা কাছে হার মেনেছে অনেকে। তার ছায়াতলে থেকে সবাই রাজনীতি করতে চাই। সে তানোর বিএনপির বটবৃক্ষ। যারা ছায়া সবাই পায়। সুতরাং দলকে এক কাতারে আনতে মিজানের কোন বিকল্প নেই। সে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার স্বীকার। তার বহিষ্কারের পর থেকে দলে সংকট কাটছে না।

সরনজাই ইউপি চেয়ারম্যান উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আলহাজ্ব মোজাম্মেল হক খান বলেন, মিজানের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার সময়ের দাবি। তাকে ছাড়া দলে ঐক্য আসবে না। আগামী জাতীয় নির্বাচনে এআসন পুনরায় উদ্ধার করতে হলে তরুণ উদীয়মান গ্রহণ যোগ্য মিজানের নেতৃত্বের বিকল্প নেই। যারা তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করেছে বা করছে তারাও মিজানকে সামনে রেখেই আগামীর রাজনীতি করতে চাই। উপজেলা মিজান ছাড়া কোন সবা সমাবেশ হয় না। সুতরাং আগামীর নির্বাচন ও দলকে শক্তিশালী করতে হলে দ্রুত মিজানের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা একান্ত দরকার বলে মনে করেন সিনিয়র এই নেতা।

-খবরপ্রতিদিন/ সি.ব

খুঁজুন