বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬
logo
Breaking News
ঝালকাঠির নলছিটিতে জিয়াউর রহমানের শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল পুলিশের ঊর্ধ্বতন ৯ কর্মকর্তাকে বদলি পাবনায় মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম দলের উদ্যোগে শহীদ জিয়ার ৪৫তম শাহাদাত বার্ষিক পালন হামের উপসর্গে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু চাঁদাপুর লঞ্চঘাটে চাঁদা না দেয়ায় দুই যাত্রীর ওপরে হামলা, থানায় জিডি বিদ্যুতের দাম বাড়ল দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির পাঁয়তারা চলছে: মির্জা ফখরুল বাজেট তৈরি হচ্ছে সাধারণ মানুষের কথা বিবেচনায় নিয়ে: অর্থমন্ত্রী আসামি সোহেল-স্বপ্না নিজেদের নির্দোষ দাবি করে আদালতে যা বললেন "প্রথম বিদেশ সফরে প্রধানমন্ত্রী কোথায় যাবেন তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে"
সারাবাংলা তানোরে যুবদল নেতার বায়নাকৃত জায়গা জবরদখল মালামাল লুটের অভিযোগ
logo

তানোরে যুবদল নেতার বায়নাকৃত জায়গা জবরদখল মালামাল লুটের অভিযোগ

রাজশাহীর তানোর উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব শরীফ উদ্দিন মুন্সির বায়নাকৃত জায়গা প্রতারণার মাধ্যমে বিক্রি করে জবরদখল ও মালামাল লুটের অভিযোগ পাওয়া গেছে। 

এঘটনায় শরিফ উদ্দিন মুন্সির ম্যানেজার মাদারিপুর গ্রামের নকুল চন্দ্র রবিদাস  বাদি হয়ে জমির মালিক মির্জাপুর গ্রামের দিলিপ কুমার মন্ডল, ছেলে সেতু কুমার মন্ডল, দিলিপের স্ত্রী  লিপি রানী, দিলিপের ভাই আনন্দ কুমার মন্ডল, রুপ কুমার মন্ডল, জমির ক্রেতা ওই গ্রামের আলাউদ্দিনের পুত্র রেজাউল ইসলাম ভাই রফিকুল ইসলামসহ ৮ জনের নাম উল্লেখ ও ২৫/৩০ জনকে অজ্ঞাত নামা করে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। 

গত ৩০  আগষ্ট শনিবার  উপজেলার কামারগাঁ ইউনিয়ন ইউপির মালশিরা মোড়ের পশ্চিমে ঘটে দখলের ঘটনাটি। সংবাদ পেয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে উভয়পক্ষকে কোন ধরনের দখলবাজি না করতে নির্দেশনা দিলেও পরদিন পুনরায় দখলে গিয়ে জায়গায় থাকা মালামাল লুট ও ভাংচুর করেন জমির ক্রেতা রেজাউল গংরা। এতে করে জায়গাটি নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। যে কোন মূহুর্তে ঘটতে পারে রক্তক্ষয়ীর মত সংঘর্ষ বলেও আশঙ্কা স্থানীয়দের। 

শরিফ মুন্সির ম্যানেজার অভিযোগে উল্লেখ করেন, উপজেলার কামারগাঁ ইউনিয়ন ইউপির মালশিরা মৌজার অন্তর্গত আরএস ৩১৬ নম্বর খতিয়ানে আরএস ৬৬৩ ও ৬৭০ নম্বর  দাগে ২০.৩৩ শতাংশ জমি বিগত ০৩/১০/২০১৬ ইং তারিখে মির্জাপুর গ্রামের দিলিপের নিকট ৩০০ টাকার নন জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে বায়নামা করেন শরিফ মুন্সি। 

শতাংশ প্রতি দাম নির্ধারণ হয় ১লাখ ৫০ হাজার টাকা করে। মোট ৩০ লাখ ৪৯ হাজার ৫০০ টাকা হয়। এর মধ্যে ২২ লাখ টাকা বায়নামা হিসেবে দিলিপকে দেয় শরিফ মুন্সি। কিন্তু বায়নামার টাকা নেয়ার পর থেকে নানা তালবাহানায় জমি রেজিস্ট্রি দেয় নি দিলিপ। এঅবস্থায় চলতি বছরের শুরুর দিকে বায়নাকৃত জায়গা টি শরিফ মুন্সি টিন দিয়ে ঘিরে গুদাম ঘর করে মালামাল রাখে।

এদিকে বিগত ২০১২-১৩ সালের দিকে ওই জমি দিলিপ তার স্ত্রী লিপি রানী ও ছেলে সেতু মন্ডলের কাছে বিক্রি ও দান করে দেয়। শরিফ মুন্সির দখলে থাকা অবস্থায় সেতু মন্ডল জমি নামজারি করে ওই জায়গার মধ্যে সাড়ে ৭ শতাংশ জায়গা মির্জাপুর গ্রামের রেজাউল কাছে আগস্ট মাসের ১৮ তারিখে বিক্রি করে। জমি কেনার পর শুরু হয় নতুন রুপে দ্বন্দ্ব ফাসাদ। 

তবে স্থানীয়দের দাবি, যেহেতু জায়গা শরিফ মুন্সির দখলে ছিল। জমি কেনাবেচার আগে অবশ্যই লিগ্যাল নোটিশ বা সমাধান করার পরে কেনা উচিত ছিল রেজাউলের। কারন দিলিপ শরিফ মুন্সির কাছ থেকে জায়গা বাবদ টাকা নিয়েছে এটা অত্র এলাকার অনেকে জানে। সুতরাং রেজাউল গায়ে পড়ে বিবাদমান জমি অল্প টাকায় কিনে নতুনরুপে দ্বন্দ্ব শুরু করেছেন। 

শরিফ মুন্সি  তার ম্যানেজার জানান, জমি দখলের খবরে পুলিশ গিয়ে পরিবেশ শান্ত করে উভয়পক্ষকে থানায় নিয়ে বসে সমাধানের আশ্বাস দিয়েছিল। কিন্তু রেজাউল ও তার ভাই আ"লীগ ক্যাডার রফিকুল জোরপূর্বক ভাবে পরদিন পুনরায় জমি দখলের জন্য ভাড়াটিয়া নিয়ে গিয়ে জায়গায় থাকা মালামাল ভাংচুর ও লুট করেছেন। তারা সম্পূর্ণ রুপে দ্বন্দ্ব ফাসাদ সৃষ্টি করতে চাই। 

বিবাদমান জায়গা কিনে এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করতে চাই তারা। মালামাল লুট  ভাংচুরের কারনে কোটি টাকার উপরে ক্ষতি হয়েছে। 
জমির মালিক দিলিপ আত্মগোপনে আছে। তার কাছ থেকে জমি পাওয়া তার ছেলে সেতু কুমার মন্ডল জানান, আমার বাবা বায়না করার আগে আমাকে ও মাকে জমি দিয়ে গেছেন। 

আমার বাবা তো জমির মালিক না। আমি জমির মালিক হিসেবে নামজারি করে আগষ্ট মাসের ১৮ তারিখে রেজাউলের কাছে বিক্রি করেছি। জমি তো শরিফ মুন্সির দখলে ছিল লিগ্যাল নোটিশ ছাড়া বিবাদমান জমি কিভাবে বিক্রি করলেন জানতে চাইলে তিনি জানান, আমার জমি বিক্রি করেছি।

জমির ক্রেতা রেজাউল জানান, আমি কাগজপত্র সঠিক পেয়েছি। এজন্য জমি কিনেছি। যদি আমার কাগজপত্র ভূল থাকে কিংবা কাগজে কলমে না পায় তাহলে জমি নিবনা। বিবাদমান জমি লিগ্যাল নোটিশ ছাড়া কিনা মানে তো নতুন ভাবে দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হওয়া আর ওই জায়গায় শরিফ মুন্সির গোডাউন করা সেখানে মালামাল ছিল, সেগুলো লুট, ভাংচুর করা হয়েছে জানতে চাইলে তিনি জানান, তার পুরাতন ভাঙা চোরা মালামাল রেখেছিল, কোন লুট বা ভাংচুর করা হয়নি। আমরা মালামালে হাত দিই নি। অনেকে ভিডিও করে রেখেছে। থানায় বসার কথা আছে। সেখানে তারা রেজিস্ট্রি কৃত দলিল দেখাতে পারলে জায়গা ছেড়ে দিব।

থানার ওসি আফজাল হোসেন জানান, অভিযোগ হলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

-খবরপ্রতিদিন/ সি.ব

খুঁজুন