বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬
logo
Breaking News
ঝালকাঠির নলছিটিতে জিয়াউর রহমানের শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল পুলিশের ঊর্ধ্বতন ৯ কর্মকর্তাকে বদলি পাবনায় মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম দলের উদ্যোগে শহীদ জিয়ার ৪৫তম শাহাদাত বার্ষিক পালন হামের উপসর্গে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু চাঁদাপুর লঞ্চঘাটে চাঁদা না দেয়ায় দুই যাত্রীর ওপরে হামলা, থানায় জিডি বিদ্যুতের দাম বাড়ল দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির পাঁয়তারা চলছে: মির্জা ফখরুল বাজেট তৈরি হচ্ছে সাধারণ মানুষের কথা বিবেচনায় নিয়ে: অর্থমন্ত্রী আসামি সোহেল-স্বপ্না নিজেদের নির্দোষ দাবি করে আদালতে যা বললেন "প্রথম বিদেশ সফরে প্রধানমন্ত্রী কোথায় যাবেন তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে"
সারাবাংলা তানোরে নিখোঁজের ২০ দিন পর বস্তাবন্দি মস্তকহীন গলিত লাশের হাড় হাড্ডি উদ্ধার
logo

তানোরে নিখোঁজের ২০ দিন পর বস্তাবন্দি মস্তকহীন গলিত লাশের হাড় হাড্ডি উদ্ধার

রাজশাহীর তানোরে প্রেমের খপ্পরে পড়ে নিখোঁজের ২০ দিন পর প্রেমিক চিত্তরঞ্জন পাল (২৭) এর বস্তাবন্দি মস্তক বিহীন  গলিত লাশের হাড় হাড্ডি উদ্ধার করা থানা পুলিশ । নিহত চিত্তরঞ্জনের বাড়ি তানোর পৌর এলাকার পূর্ব রায়তান বড়শো (হাবিবনগর পালপাড়া গ্রামে। সে মনোরঞ্জন পালের পুত্র। শনিবার সকাল ৭ টার দিকে  তানোর পৌর এলাকার হাবিবনগর গ্রামে বা নিহতের বাড়ির ৭০০ গজ দূরে শীবনদীর কচরিপনার ভিতর থেকে  মস্তকবিহীন গলিত বস্তাবন্দি লাশের হাড় হাড্ডি উদ্ধার করা হয়। 

ছেলের  মস্তক ছিন্ন গলিত লাশের হাড় হাড্ডি দেখে পাগল পারা হয়ে পড়েছে পিতা,মাতা। মাঝে মধ্যে চিৎকার দিয়ে  অজ্ঞান হয়ে পড়ছে। এলাকায় এমন লাশ দেখে বিস্ময় প্রকাশ করেন স্থানীয়রা। কেউ কেউ বলছেন কলকাতা টিভি চ্যানেলে ক্রাইম এলার্ট দেখে এমন নৃশংস খুন করেছে  বলে ধারণা করছেন স্থানীয়রা। তবে মেয়ে ও তার ভায়ের শাস্তির দাবিতে সোচ্চার হয়ে উঠেছেন স্থানীয়রা।

জানা গেছে,   তানোর পৌর এলাকার পূর্ব  রায়তান বড়শো (হাবিবনগর পালপাড়া গ্রামের চিত্তরঞ্জন পালের সাথে একই গ্রামের কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থী কামনা রানীর সাথে দীর্ঘ প্রায় ৫/৬ বছর ধরে প্রেমের সম্পর্ক চলছিল। কামনা রানী স্বপন পালের মেয়ে। প্রেমের সম্পর্কের কারনে ছেলে বিয়ের প্রস্তাব দিলে মেয়ে রাজি থাকলেও তার ভাই ও পিতা রাজি ছিল না এবং মেয়ের ভাই একাধারে ছেলেকে হুমকি ধামকি দিত। এরই এক পর্যায়ে গত এপ্রিল মাসের ২৭ তারিখ রবিবার ভোরে ছেলে চিত্তরঞ্জন পাল নিখোঁজ হন। 

ওই দিন তার পিতা ছেলের সন্ধান চেয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। যার জিডি নম্বর ১৩৫৩ তারিখ ২৭/৪/২০২৫। তারপর দিন সোমবার  মেয়ে কামনা রানী তার ভাইকে নিয়ে চিকিৎসার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়ে যান। তারপর থেকে তাদেরও কোন খোঁজ নাই। তবে জিডির প্রেক্ষিতে গত ৩ মে তারিখে ওসি আফজাল হোসেনের সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানিয়েছিলেন, ছেলে চিত্তরঞ্জনের কোন খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। কিন্তু মেয়ে ও তার ভায় ঢাকার বাড্ডা এলাকায় আছে। কিন্তু ওই সময়   তাদের কে রহস্য জনক কারনে আইনের আওতায় আনা হয় নি। এটা নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে রহস্য। 

ছেলের পিতা মনোরঞ্জন পাল গত ৩ মে তারিখে জানিয়েছিলেন, থানা পুলিশের কাছে ধরনা দিতেই আছি। পুলিশ বলছে ছেলের খোঁজ নেই। মেয়ে ও তার ভাই বাড্ডা এলাকায় আছে। আমার ছেলে রাজশাহী সিটি কলেজ থেকে বিএসসি অনার্স পাশ করেছে। আমার একটাই ছেলে। শনিবার আমার ছেলের বস্তাবন্দি মস্তক বিহীন গলিত লাশের হাড় হাড্ডি উদ্ধার করা হয়েছে।  আমার ছেলের তো কোন অপরাধ ছিল না। শুধু প্রেম করার অপরাধে তাকে জবাই করে হত্যা করা হয়েছে। হত্যার পর বস্তায় ভরে বিলের কচুরিপানার মধ্যে রাখা হয়েছে। কোন বিবেক বান মানুষ এধরণের কাজ করতে পারেনা। পুলিশ ঘটনাটি নিয়ে নানা তালবাহানা করেছিল। প্রথম থেকে মেয়ের পরিবারের সদস্যদের আইনের আওতায় আনা হলে আরো আগে ঘটনার মুল রহস্য বের হত। তিনি আরো জানান, গত ২৬ এপ্রিল শনিবার ছেলে আমি একসাথে রাতের খাবার খেয়ে ছাদে ঘুমাতে যায়। গভীর রাতে আমি রুমে চলে আসি। কিন্তু ভোরে ছাদে গিয়ে দেখি ছেলে নাই। 

থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি আফজাল হোসেন জানান, হাবিবনগর গ্রামের পূর্ব দিকে সকালের দিকে প্রচুর দুর্গন্ধ বের হয়। স্থানীয়রা কচুরিপানার ভিতর থেকে গন্ধে আসছে বলে থানা পুলিশ কে খবর দেয়। থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহায়তায় কচুরিপানা পরিষ্কার করে বস্তা থেকে গন্ধ বের হয়। বস্তা খুলে মস্তকবিহীন গলিত লাশের হাড় হাড্ডি উদ্ধার করা হয়। ধারনা করা হচ্ছে জবাই করে হত্যার পর বস্তায় ভরে বিলের কচুরিপানা ভিতরে লাশ রাখা হয়। পুলিশের সার্কেল এএসপি মির্জা আব্দুস সালাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। গলিত লাশের হাড় হাড্ডি ময়তা তদন্তের জন্য রামেক হাসপাতালে পাঠানো হবে এবং মামলা দায়ের করা হবে। মেয়ে ও তার ভাই সহ সবাই পলাতক আছে।  অবশ্য জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মেয়ের পিতা ও মাতাকে থানায় আনা হয়েছে বলেও জানান ওসি।

প্রসঙ্গত, এঘটনায় গত ৪ মে বিভিন্ন পত্রিকা ও অনলাইন পোর্টালে প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয় এবং ফেসবুকে ছেলের পিতা মনোরঞ্জন পালের ভিডিও বক্তব্য ছাড়া হয়। 

চিত্তরঞ্জন কে লিখা বেশকিছু প্রেমপত্র দেখান পিতা মনোরঞ্জন পাল। প্রেমপত্রে দেখা যায়, তুমি পুজো তে নতুন জামা পরবে, পুরাতন জামা পরবে না। ছোট ঘটনায় তুমি খাওয়া দাওয়া বন্ধ করে দিয়েছ, এমনটা করবা না। আমার বিয়ের কথা চলছে, তুমি কিছু একটা কর। তবে দাদা যেন কোনভাবেই বুঝতে না পারে। আমি তোমাকে যে রুমাল দিয়েছি সেটা কাউকে দেখাবা না। যদি আমার দাদা বুঝতে পারে তোমার সমস্যা হবে ইত্যাদি ইত্যাদি। তাদের প্রেমের পথের কাটা মেয়ের ভাই ছিল বলে একাধিক সুত্র নিশ্চিত করেন। 
মেয়ের পিতা জানিয়েছিলেন, আমার মেয়ে হাসপাতালে ভর্তি। কোন হাসপাতালে ভর্তি জানতে চাইলে, সেটা জানাতে পারেনি।

-খবরপ্রতিদিন/ সি.ব

খুঁজুন