মৌসুমি আবহাওয়া ও জলবায়ুর বিরুপ প্রভাবের কারনে টানা বৃষ্টিতে রাজশাহীর তানোরে আমন ধানে কারেন্ট পোকা, পাতা পোড়া ও বাইলকাটি রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়েছে। এসব রোগ দূর করতে কীটনাশক ও সার ব্যবসায়ীদের পরামর্শে কয়েক দফা কীটনাশক দিয়েও কোনভাবেই রোগ দূর হচ্ছে না।
আবার ঈদুর ধান গাছ কেটে সয়লাব করে ফেলছে। এতে করে কৃষকরা চরম ভাবে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। দফায় দফায় কীটনাশক দেয়ার কারনে চাষীরা অর্থনৈতিক ভাবে লোকসানে পড়লেও ব্যবসায়ীদের পকেট ভরছে। আবার কৃষি অফিস থেকে কোন ধরনের পরামর্শ পাচ্ছে না বলেও চাষীদের অহরহ অভিযোগ। ফলে রোগবালা দুর করতে না পেরে মহা বিপদে পড়েছেন আমন চাষীরা।
আবার ঈদুর ধান গাছ কেটে সয়লাব করে ফেলছে। এতে করে কৃষকরা চরম ভাবে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। দফায় দফায় কীটনাশক দেয়ার কারনে চাষীরা অর্থনৈতিক ভাবে লোকসানে পড়লেও ব্যবসায়ীদের পকেট ভরছে। আবার কৃষি অফিস থেকে কোন ধরনের পরামর্শ পাচ্ছে না বলেও চাষীদের অহরহ অভিযোগ। ফলে রোগবালা দুর করতে না পেরে মহা বিপদে পড়েছেন আমন চাষীরা।
তানোর পৌর এলাকার কৃষক মনির জানান, তিন বিঘা জমিতে আমন ধানের চাষ করা হয়েছে। ধানে প্রথমে বাইলকাটি রোগ দেখা দেয়। সে রোগ দূর করতে কয়েক দফা কীটনাশক প্রয়োগ করা হয়। কিন্তু বাইলকাটি রোগ দূর না হতেই কারেন্ট পোকা ও পাতা পোড়া রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়েছে। চার পাঁচ বার কীটনাশক স্প্রে করা হয়েছে। কিন্তু কোনভাবেই রোগ দূর হচ্ছে না।
আতিক নামের আরেক আমন চাষী একই ধরনের কথা বলেন। সে পাঁচ বিঘা জমিতে আমন চাষ করে রোগবালা দূর করতে পারছেনা।
শাকির নামের আরেক কৃষক জানান, চার বিঘা জমিতে তিন ধরনের রোগ দেখা দিয়েছে। কীটনাশক প্রয়োগ করে এক রোগ কমছে তো আরেকটা বেড়ে যাচ্ছে। কীটনাশক প্রয়োগ করেও কোন কাজে আসছেনা। ব্যবসায়ীরা যে ভাবে পরামর্শ দিচ্ছে সে ভাবেই প্রয়োগ করা হচ্ছে। কিন্তু কাজে আসছে না। আবার পচন রোগেরও আক্রমণ বেড়েই চলেছে। রিয়াজের তিন বিঘা একরাম আলীর ৭ বিঘা জমির ধানের একই পরিনতি হয়ে পড়েছে।
ধানতৈড় গ্রামের কৃষক মুনসুর জানান, নজরুল সাত বিঘা জমিতে আমন ধানের চাষ করে কারেন্ট পোকা, পচন, বাইলকাটি ও পাতা পোড়া রোগে আক্রান্ত। শুধু নজরুল না প্রায় জমিতে এসব রোগ ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এক বিঘায় এখন পর্যন্ত চাষীদের চার থেকে পাঁচ বার করে কীটনাশক প্রয়োগ করতে হয়েছে। বিঘায় একবার কীটনাশক প্রয়োগ করতে শ্রমিকসহ ১ হাজার ২ শত টাকা করে খরচ হচ্ছে।
কৃষক সাইদুর জানান পাঁচ বিঘা জমিতে ১৫ হাজার টাকার কীটনাশক প্রয়োগ করে রোগ দূর হয়নি। হবে বলেও মনে হচ্ছে না। আবার মরার উপর খাড়ার ঘা হয়ে দেখা দিয়েছে ইদুরের উপদ্রপ। ধান গাছের গোড়া কেটে ফেলছে।
কৃষকদের ভাষ্য, উপজেলায় প্রতিটি মাঠে আমন ধানের চাষ হয়েছে। কারন এবারে টানা বৃষ্টির কারনে উঁচু জমিতেও চাষ হয়েছে আমন ধানের। আমন ধান উপজেলায় প্রধান তম চাষাবাদ। সবচেয়ে বেশি জমিতে এধানের চাষ হয়ে থাকে। কারন সেচের খরচ না লাগার কারনে প্রতিটি জমিতে চাষ হয়। এবারে টানা বৃষ্টির পানি পেয়েছে চাষীরা। টানা বৃষ্টির কারনে নিচু জমির রোপনকৃত ধান স্রোতে ভেসে গেছে। একারনে কয়েকবার করে রোপন করতে হয়েছে।
কিন্তু টানা বৃষ্টির কারনে ধান গাছে রোগবালা প্রচুর দেখা দিয়েছে। কৃষি অফিস থেকে তেমন কোন পরামর্শ পাওয়া যাচ্ছে না। কোন রোগে কোন কীটনাশক দিতে হবে এমন পরামর্শ না পেয়ে দোকানী দের কথামত কীটনাশক প্রয়োগ করে প্রচুর পরিমানে টাকা খরচ হচ্ছে। বেশির ভাগ চাষীরা বাকিতে কীটনাশক কিনে চাষাবাদ করে থাকে। ধান তোলামাত্রই দোকানীর বাকি টাকা পরিশোধ করতে হয়। এমন নিয়ম যুগযুগ ধরে চলে আসছে। যার কারনে দোকানীরা ইচ্ছে মত দাম আদায় করে থাকে। আবার কোন কীটনাশক আসল বা কোনটি নকল বোঝার উপায় নেই।
কারন কীটনাশক কোম্পানির ছড়াছড়ি। কোন নিয়ন্ত্রণ নেই। কৃষি অফিস থেকে অনুমোদিত কীটনাশক বাজারে বিক্রি হলে কৃষক দের এমন হয়রানির শিকার হতে হত না। যেখান সেখানে গড়ে উঠেছে কীটনাশক কোম্পানি। এসব কারনে দিনের দিন জমির উর্বরতা কমে যাচ্ছে বলেও মনে করছেন কৃষকরা।
মুনসুর আরো জানান, ধানের বয়স চার থেকে সাড়ে চারমাস চলছে। টানা বৃষ্টির কারনে ধান গাছের পাতা আকারে অনেক বেড়ে গেছে। শীষ বের হলে হয় তো ধান গাছ নুয়ে পড়ার সম্ভাবনা বেশি রয়েছে। আর যে হারে কীটনাশক প্রয়োগ করা হচ্ছে তাতে করে লাভের পরিবর্তে লোকসান গুনতে হবে। বিশেষ করে যারা লীজ নিয়ে ধান চাষ করেছে তাদের কে অবশ্যই লোকসান গুনতেই হবে। কারন কীটনাশক ও সারের দাম বাড়তি হলেও ধানের দাম নেই বললেই চলে। এখন পর্যন্ত বিঘায় ১৬ থেকে ১৮ হাজার টাকা করে খরচ হয়ে গেছে। আরো কত হবে বলা কষ্টকর ব্যাপার।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা শাহাদাৎ হোসেন জানান, আমন ধান চাষের আগে প্রায় জমিতে আলু চাষ হয়েছিল। আলুর জমিতে প্রচুর পরিমানে সার কীটনাশক প্রয়োগ করে চাষীরা। অতিরিক্ত সার কীটনাশক ব্যবহারের কারনে ধান গাছের পাতা বেড়ে গেছে। রোগ বালা দূর করার জন্য মাঠে বিএসরা সার্বিকভাবে কৃষক দের পরামর্শ দিচ্ছেন।
কোন কৃষক রোগবালা দূর করতে না পারলে অফিসে বা কৃষি পরিসেবা নম্বরে ফোন করে পরামর্শ নিতে পারবেন। তিনি আরো জানান, আমরা কৃষক মাঠ দিবসের মাধ্যমে জমিতে অল্প পরিমানে সার কীটনাশক ব্যবহার করতে বলছি। এবারে উপজেলায় আমন ধানের চাষ হয়েছে ২২ হাজার ৫৮৫ হেক্টর জমিতে। আর লাইসেন্স প্রাপ্ত বালাইনাশকের দোকান রয়েছে ৬১৬ টি এর মধ্যে ৫২৮ টি চালু আছে। লাইসেন্স ছাড়া দোকানের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানাতে পারেনি।
-খবরপ্রতিদিন/ সি.ব