বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬
logo
Breaking News
ঝালকাঠির নলছিটিতে জিয়াউর রহমানের শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল পুলিশের ঊর্ধ্বতন ৯ কর্মকর্তাকে বদলি পাবনায় মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম দলের উদ্যোগে শহীদ জিয়ার ৪৫তম শাহাদাত বার্ষিক পালন হামের উপসর্গে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু চাঁদাপুর লঞ্চঘাটে চাঁদা না দেয়ায় দুই যাত্রীর ওপরে হামলা, থানায় জিডি বিদ্যুতের দাম বাড়ল দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির পাঁয়তারা চলছে: মির্জা ফখরুল বাজেট তৈরি হচ্ছে সাধারণ মানুষের কথা বিবেচনায় নিয়ে: অর্থমন্ত্রী আসামি সোহেল-স্বপ্না নিজেদের নির্দোষ দাবি করে আদালতে যা বললেন "প্রথম বিদেশ সফরে প্রধানমন্ত্রী কোথায় যাবেন তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে"
সারাবাংলা টানা বৃষ্টিতে ধান কাটা মাড়ায় নিয়ে চরম দূর্ভোগে তানোরের কৃষকরা
logo

টানা বৃষ্টিতে ধান কাটা মাড়ায় নিয়ে চরম দূর্ভোগে তানোরের কৃষকরা

সপ্তাহ র বেশি সময়  ধরে টানা বৃষ্টির কারনে আলুর জমিতে ধান কাটা মাড়ায় নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন রাজশাহীর তানোরের কৃষকরা। চলতি মাসের ১৫ জুন বা আষাঢ় মাসের প্রথম  সোমবার থেকে বুধবার  পর্যন্ত টানা বৃষ্টি হয়। দেখা মিলেনি সূর্যের আলোর। তবে ২৪ জুন মঙ্গলবার  সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত রোদ দেখা দিলেও কিছু কিছু জায়গায় ছিটে ফোটা বৃষ্টি হয়। 

বিকেল পাঁচ টা পর্যন্ত সূর্যের আলো দেখা যায়। সূর্যের আলো বা রোদ পেয়ে ধান শুকাতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে কৃষক কৃষাণীরা। জমিতে প্রচুর পানি থাকার কারনে শ্রমিকরা ধান কাটতে চাচ্ছে না। ভরসা হয়ে পড়েছে হারভেষ্টার ও ভুত মেশিন। কিন্তু দু চার বিঘা জমি কাটা মাড়ায়ের পর মেশিন বিকল হয়ে পড়ছে। এতে করে আরো দূর্ভোগে পড়তে হচ্ছে কৃষক দের। 

বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, জমি থেকে হারভেষ্টার মেশিন দিয়ে ধান কেটে রাস্তায় বস্তা করা হচ্ছে। সেখান থেকেই কেউ বিক্রি করছেন, আবার কেউ বাড়িতে নিয়ে যাচ্ছেন। আবার যে সব জমির ধান নুয়ে পড়েছে সেসব ধান বাড়তি টাকায় শ্রমিক দিয়ে কেটে রাস্তায় ভূত মেশিন দিয়ে মাড়ায় করে নিচ্ছেন। কালনা গ্রামের কৃষক সাইদুর রহমান জানান, বৃষ্টির মধ্যে দু বিঘা জমির ধান কাটা হয়েছিল। সেই ধান ভিজে অবস্থায় মাড়ায় করে বাড়িতে চার পাঁচ দিন ধরে শুকনো হচ্ছে। কিন্তু রোদ না পাওয়ার কারনে কোনভাবেই শুকানো যাচ্ছে না। আরো তিন বিঘা জমির ধান কাটা লাগবে। অথচ ধান কাটা মেশিন পাওয়া যাচ্ছে না। অনেক মেশিন আছে জমিতে। প্রায় মেশিন গুলো বিকল হয়ে পড়েছে।

কামারগাঁ ইউপির হাতিনান্দা গ্রামের কৃষক তমিজ উদ্দিন জানান গত মঙ্গলবার সকাল থেকে চার বিঘা জমির ধান কাটা হয়। এমন সময় বৃষ্টি ফোটা শুরু করে। তবে অল্প কিছুক্ষণ ছিল বৃষ্টি। তিনি আরো জানান, এক জমির ধান কাটতে হারভেষ্টার মেশিন ২৫০০ টাকা করে নিচ্ছে। যাদের ধান নুয়ে পড়েছে বা শ্রমিক দিয়ে কাটতে ২৫০০ টাকা লাগছে, আর ভূত মেশিনে মাড়ায় করার জন্য একমন করে। বিঘায় ধানের ফলন ২৪/২৫ মন করে হচ্ছে। কিন্তু ভিজে ধানের ফলন আরো বাড়তি। অবশ্য দশ দিন ধরে শুকনো ধান মিলছে না। আবার ধান না কাটলেও হবে না। 

তানোর পৌর এলাকার কৃষক আব্দুল হানান জানান, আষাঢ় মাসের শুরুতে ধান কাটার পর বৃষ্টি শুরু হয়। জমিতে কাটা অবস্থায় ধান পড়ে থাকে। সাত আট দিন পর ভিজে ধান তোলার পর মাড়ায় করতে বিঘায় বাড়তি দু হাজার টাকা করে দিতে হয়েছে। দীর্ঘ সময় ভিজে অবস্থায় জমিতে ধান রাখার কারনে গাছ বের হয়েছে। বাকি জমির ধান বুধবার সকাল থেকে হারভেষ্টার মেশিনে কাটা মাড়ায় করা হয়েছে।

কৃষকরা জানান, দীর্ঘ কয়েক যুগ পর আষাঢ়ের টানা বৃষ্টি দেখা গেল। বৃষ্টির কারনে ধান কাটা মাড়ায় নিয়ে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। ঈদুল আজহার পর থেকে টাকা এক সপ্তাহ ব্যাপক খরতাপ ছিল। ওই সময় যারা শ্রমিক দিয়ে ধান কাটা মাড়ায় করতে পেরেছে তারা শুকনো ধান খড় দু'টোই ভালো ভাবে পেয়েছে। কিন্তু আষাঢ়ে প্রথম থেকে বৃষ্টি শুরু হয়েছে, যা এখন পর্যন্ত চলমান রয়েছে। খরতাপের সময় ব্যাপক শ্রমিক সংকট ছিল। ওই সময় পর্যাপ্ত শ্রমিক পেলে শুকনো ধান খড় পেত অনেকে। অবশ্য খরতাপের কারনে জমিতে ধান কাটা শ্রমিক সকাল ১১ টা পর্যন্ত কাজ করতে পেরেছে। এত পরিমান খরতাপ ছিল যে শ্রমিক রা জমিতে টিকতেই পারছিল না। 

আলু হিমাগারে দিতে যেমন দুর্ভোগ ছিল চরমে, যত্রতত্র পড়ে থাকত আলু। হিমাগারে  না রাখতে পেরে শতশত মন আলু পঁচে যেমন নষ্ট হয়েছে। ঠিক একই ভাবে মেশিন, শ্রমিক অভাবে ধান পড়ে থাকছে জমিতে। নষ্ট হচ্ছে কৃষকের রক্তঘামের ফসল। 

উপজেলা কৃষি অফিসার সাইফুল্লাহ আহমেদ জানান, ইতিপূর্বেই বোরা ধান কাটা মাড়ায় হয়ে গেছে। এবারে উপজেলায় বোরো ধানের চাষ হয়েছিল ১৪ হাজার ১৩০ হেক্টর জমিতে। বর্তমানে আলুর জমির যে ধান কাটা হচ্ছে সেটা আউশ। এবারে ৮ হাজার ১১০ হেক্টর জমিতে আউশ ধানের চাষ হয়েছে। এপর্যন্ত প্রায় ৫ হাজার হেক্টর জমির ধান কাটা হয়েছে। অল্প সময়ের মধ্যেই পুরো ধান কাটা হয়ে যাবে। টানা বৃষ্টির কারনে ধান কাটা মাড়ায়ের দূর্ভোগের কথা শিকার করে তিনি আরো জানান, দীর্ঘ দেড় যুগের পর এমন আষাঢ় দেখা গেল। বৃষ্টির কারনে সেচ পানি ছাড়াই রোপা আমনের বীজ তলা তৈরি বপন করতে পেরেছে। আবার রোপা আমন রোপনের জন্য ইতিপূর্বেই কৃষকরা সেচ পানি ছাড়াই জমি চাষ করতে পারছে। কারন শ্রাবণ মাস থেকেই রোপা আমন ধান রোপন শুরু হবে। বৃষ্টিতে আম কাঠালসহ পুকুর খাল বিল ভরে গেছে। এতে করে ভূগর্ভের পানির লেয়ার ভালো থাকবে এবং চলতি মাস জুড়ে এমন আবহাওয়া থাকবে বলেও জানান এই কর্মকর্তা।

-খবরপ্রতিদিন/ সি.ব

খুঁজুন