বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬
logo
Breaking News
ঝালকাঠির নলছিটিতে জিয়াউর রহমানের শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল পুলিশের ঊর্ধ্বতন ৯ কর্মকর্তাকে বদলি পাবনায় মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম দলের উদ্যোগে শহীদ জিয়ার ৪৫তম শাহাদাত বার্ষিক পালন হামের উপসর্গে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু চাঁদাপুর লঞ্চঘাটে চাঁদা না দেয়ায় দুই যাত্রীর ওপরে হামলা, থানায় জিডি বিদ্যুতের দাম বাড়ল দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির পাঁয়তারা চলছে: মির্জা ফখরুল বাজেট তৈরি হচ্ছে সাধারণ মানুষের কথা বিবেচনায় নিয়ে: অর্থমন্ত্রী আসামি সোহেল-স্বপ্না নিজেদের নির্দোষ দাবি করে আদালতে যা বললেন "প্রথম বিদেশ সফরে প্রধানমন্ত্রী কোথায় যাবেন তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে"
সারাবাংলা সুন্দরবনে মুক্তিপণের বিনিময়ে ১৮ জনের প্রত্যাবর্তন: দুই জেলের ভাগ্য নিয়ে এখনো শঙ্কা
logo

সুন্দরবনে মুক্তিপণের বিনিময়ে ১৮ জনের প্রত্যাবর্তন: দুই জেলের ভাগ্য নিয়ে এখনো শঙ্কা

সাতক্ষীরার সুন্দরবন এলাকায় বনদস্যুদের হাতে অপহৃত ২০ জন জেলে ও মৌয়ালের মধ্যে ১৮ জন মুক্তিপণ দিয়ে ঘরে ফিরলেও, নিখোঁজ দুই জনের পরিবারে এখনো কাটেনি আতঙ্কের মেঘ। গত ৪ ও ৫ মে সুন্দরবনের বিভিন্ন নদী ও খাল থেকে অপহৃত এই বনজীবীরা কয়েক ধাপে মুক্তি পান।

​ঘটনার প্রেক্ষাপট ও মুক্তিপণ বাণিজ্য:
​গত সপ্তাহের শুরুতে সাতক্ষীরা রেঞ্জের চুনকুড়ি, ধানোখালী, মামুন্দো ও মালঞ্চ নদীর বিভিন্ন এলাকা থেকে জেলে ও মৌয়ালদের অপহরণ করে ‘আলিফ ওরফে আলিম বাহিনী’ ও ‘নানাভাই/ডন বাহিনী’ নামক দুটি দস্যু দল। অপহরণের পর দস্যুরা মোবাইল ফোনের মাধ্যমে তাদের পরিবারের কাছে মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ দাবি করে।
​ভুক্তভোগী ও তাদের মহাজনদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মোট ১৮ জন বনজীবী প্রায় ৭ লাখ টাকা মুক্তিপণ দিয়ে সোমবার (১১ মে) বিকেল নাগাদ বাড়ি ফিরেছেন। জনপ্রতি ২০ হাজার থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ১ লাখ ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত গুনতে হয়েছে ভুক্তভোগীদের।

মুক্তিপ্রাপ্তদের তালিকা ও পরিশোধিত অর্থ (এক নজরে):

নাম মুক্তিপণের পরিমাণ নাম মুক্তিপণের পরিমাণ করিম শেখ ১ লাখ ২০ হাজার টাকা মুরশিদ আলম ৭০ হাজার টাকা আবু ইসা ৫৫ হাজার টাকা ইব্রাহিম গাজী ৫৫ হাজার টাকা মমিন ফকির ৪৫ হাজার টাকা শাহাজান গাজী ৪০ হাজার টাকা সিরাজ গাজী ৪০ হাজার টাকা আব্দুল সালাম ৪০ হাজার টাকা আবুল বাসার বাবু ৩০ হাজার টাকা আবুল কালাম ৩০ হাজার টাকা

(এছাড়া বাকিরা ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা করে মুক্তিপণ পরিশোধ করেছেন)
​অপেক্ষায় দুই পরিবার টাকা পরিশোধের পরেও বাড়ি ফেরেননি শুকুর আলী গাজী ও রেজাউল করিম নামে দুই জেলে। তাদের পরিবারের দাবি, দস্যুদের চাহিদা অনুযায়ী ৩০ হাজার টাকা করে বিকাশ নম্বরে পাঠানো হলেও তাদের প্রিয়জনরা মুক্তি পাননি। ফলে তাদের ভাগ্যে কী জুটেছে তা নিয়ে চরম উদ্বেগ কাজ করছে।

নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ ও বন বিভাগের বক্তব্য:
​ফিরে আসা বনজীবীরা সুন্দরবনে দস্যুদের দৌরাত্ম্য বেড়ে যাওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা বনাঞ্চলে কোস্টগার্ড ও বন বিভাগের নিয়মিত টহল এবং কঠোর নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন।
​এ বিষয়ে পশ্চিম সুন্দরবন সাতক্ষীরা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) মোঃ

মশিউর রহমান জানান:
​"দস্যু দমনে কোস্টগার্ডের সঙ্গে যৌথ অভিযান চলছে। তবে ভুক্তভোগীদের পরিবার তথ্য দিয়ে আমাদের পূর্ণ সহযোগিতা করছে না। সঠিক সময়ে তথ্য পেলে দস্যু নির্মূলে আরও জোরালো ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে।"

​জেলেদের দাবি, মুক্তিপণের কারবার বন্ধ করতে হলে কেবল অভিযান নয়, বরং স্থায়ী নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তোলা জরুরি।

খুঁজুন