বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬
logo
Breaking News
ঝালকাঠির নলছিটিতে জিয়াউর রহমানের শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল পুলিশের ঊর্ধ্বতন ৯ কর্মকর্তাকে বদলি পাবনায় মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম দলের উদ্যোগে শহীদ জিয়ার ৪৫তম শাহাদাত বার্ষিক পালন হামের উপসর্গে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু চাঁদাপুর লঞ্চঘাটে চাঁদা না দেয়ায় দুই যাত্রীর ওপরে হামলা, থানায় জিডি বিদ্যুতের দাম বাড়ল দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির পাঁয়তারা চলছে: মির্জা ফখরুল বাজেট তৈরি হচ্ছে সাধারণ মানুষের কথা বিবেচনায় নিয়ে: অর্থমন্ত্রী আসামি সোহেল-স্বপ্না নিজেদের নির্দোষ দাবি করে আদালতে যা বললেন "প্রথম বিদেশ সফরে প্রধানমন্ত্রী কোথায় যাবেন তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে"
সারাবাংলা সুন্দরবন নিয়ন্ত্রণে বন বিভাগের অভিযান ১ বছরে ২৭৪ মামলায় ৪৯৪ ব্যক্তি আটক হয়েছে
logo

সুন্দরবন নিয়ন্ত্রণে বন বিভাগের অভিযান ১ বছরে ২৭৪ মামলায় ৪৯৪ ব্যক্তি আটক হয়েছে

স্বল্প জনবলে সুন্দরবন নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খাচ্ছে বন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। অনুমোদিত জনবলের এক-তৃতীয়াংশ দিয়ে চলছে বন পাহারা দেওয়ার কাজ।নানা সংকটের মধ্যেও মামলা, জব্দ ও আসামি আটকের সংখ্যা বিগত দিনের তুলনায় এখন অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে।সুন্দরবন খুলনা রেঞ্জের তথ্যানুযায়ী, চলতি বছরের ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত অভয়ারণ্যে এলাকায় ৩৩ টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
এ নিয়ে বিগত বছরে নিষিদ্ধ এলাকায় মোট ৮৮টি মামলা হয়েছে। ২০২৫-২৬ বছরে ১৭৪ জন আসামি আটক করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বর্তমানে বড় চক্রগুলোর বিরুদ্ধে অভিযান বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। এ ছাড়া এ সময়ের ১২২টি নৌকা ও ১৬ টি ট্রলার জব্দ করা হয়েছে।
সুন্দরবন খুলনা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক ও রেঞ্জ কর্মকর্তা মোঃ শরিফুল ইসলাম জানান, সুন্দরবনের মোট অভয়ারণ্য এলাকার গুরুত্বপূর্ণ চারটি পয়েন্ট খুলনা রেঞ্জের মধ্যে। এসব এলাকায় অবৈধ মাছ ব্যবসায়ী ও শিকারিদের নজর থাকে বেশি।
ফলে জনবল, নৌযানসহ বিভিন্ন সংকটের মধ্য দিয়েই অভিযান পরিচালনা করতে হয়। এছাড়া বিভিন্ন ধরনের অবৈধ কর্মকান্ডে ব্যবহৃত উপকরণ জব্দের পরিমাণও বেড়েছে। চলতি বছরের ৩ মাস ও বিগত এক বছরে নিষিদ্ধ এলাকায় অভিযানে জেলে আটক, নৌকা জব্দ করা হয়েছে অধিক সংখ্যা।
এ সকল বিষয়ে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এর মধ্যে ২৫টি নীলকমল, ২২টি পাটকোষ্ঠা, ২৫টি ভোমরখালী, কাগাদোবেকী টহল ফাঁড়িতে ১৬টি এবং ১৬ টি ট্রলার জব্দ করা হয়েছে। অপরদিকে ২০২৪-২৫ সময়ে মোট ২৭৪টি মামলা হয়েছে। একই সময়ে ৪৯৪ আসামি আটক হয় ও ৪৫ জন পলাতক রয়েছে।
জব্দ করা হয়েছে ১৯১টি নৌকা, ৩৪টি ট্রলার, ১ হাজার ৩০৫ ঘনফুট কাঠ, ১ হাজার ৫৫০ কেজি মাছ, ১ হাজার ৫২৯ কেজি কাঁকড়া এবং ৩৯ কেজি মধু। এছাড়া বিপুল পরিমাণ হরিণ ধরার ফাঁদ জব্দ, মাংস উদ্ধার, অবৈধ ২৪০ টি বিষের বোতল জালসহ বিভিন্ন সরঞ্জামও উদ্ধার করা হয়েছে।
সুন্দরবন পশ্চিম বিভাগের বনপ্রহরী কল্যাণ সমিতির সভাপতি মনিরুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক মোঃ মাহবুবুর রহমান জানান, নিয়মিত টহল, গোয়েন্দা তৎপরতা বৃদ্ধি এবং স্থানীয়দের সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে অপরাধ দমনে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে।
তবে এত সংকটের মধ্যে একটি বিভাগ কীভাবে চলছে, ঊর্ধ্বতন প্রশাসনের উচিত সেটা নিয়ে অনুসন্ধান করা এবং সেসব সমস্যা সমাধানের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া। সুন্দরবনের খুলনা রেঞ্জের সর্বশেষ প্রান্তের টহল ফাঁড়ি নীলকমলের অফিসের স্টাফ মোঃ নজরুল ইসলাম বলেন, শুধু নীলকমলের আন্ডারে দুইশ’র মতো খাল রয়েছে।
বঙ্গোপসাগরের একটি বিশাল এরিয়া টহল দিতে হয় আমাদের। অথচ আমাদের দ্রুতগতির ও ভারী কোনো নৌযান নেই। খুলনা রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা মোঃ শরিফুল ইসলাম প্রতিবেদকে বলেন, সুন্দরবনে অপরাধ দমনে বন বিভাগের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এটি চলমান রাখা হবে।
জানা গেছে, সুন্দরবন বিভাগের ১ হাজার ১৯০টি মঞ্জুরিকৃত পদের বিপরীতে শূন্য রয়েছে ৩২৩টি। সবচেয়ে বেশি শূন্য রয়েছে ফরেস্ট ও ডেপুটি রেঞ্জার, ফরেস্টার, সারেং, নৌকাচালক ও ইঞ্জিনম্যান পদ। বিশেষজ্ঞ ও বনসংশ্লিষ্টদের অভিমত, জনবল সংকটে কার্যত সুরক্ষা পাচ্ছে না ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল সুন্দরবন।
জনবল অপ্রতুল হলেও নানা কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তারা অপরাধ দমনে চেষ্টা করছেন বলে বন কর্মকর্তারা জানান। বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, প্রথম শ্রেণির মধ্যে উপবন সংরক্ষকের তিনটি পদের মধ্যে একটি এবং সহকারী বন সংরক্ষকের আটটি পদের মধ্যে তিনটি শূন্য রয়েছে। দ্বিতীয় শ্রেণির মধ্যে ফরেস্ট রেঞ্জারের ৩০টি পদের ২৭টিই শূন্য।
তৃতীয় শ্রেণির মধ্যে মেকানিক্যাল সুপারভাইজারের একটি পদের একটি, ফোরম্যানের দু’টি পদের মধ্যে দু’টি, ইঞ্জিন ড্রাইভারের ৩১টি পদের ১৪টি, হিসাবরক্ষকের তিনটি পদের একটি, ডেপুটি রেঞ্জারের ৪৫টি পদের ৪৫টি, উচ্চমান সহকারীর তিনটি পদের একটি, ফরেস্টারের ১০৮টি পদের ৪৩টি, সারেংয়ের ১৭টি পদের ১৩টি পদ শূন্য।
এছাড়া চতুর্থ শ্রেণির মধ্যে ১২৩টি পদে নৌকাচালকসহ অন্তত ১৬০টি পদ ফাঁকা রয়েছে। সুন্দরবন পশ্চিম বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এজেডএম হাসানুর রহমান বলেন, জনবল নিয়োগের বিষয়টি আমাদের স্বাভাবিক কর্মকাণ্ড সংকুচিত করছে।
নৌযানসহ অন্যান্য সমস্যা প্রকট। আমরা নিয়মিত মন্ত্রণালয়ে চাহিদাপত্র দিয়ে থাকি। তবে চাহিদা অনুযায়ী বরাদ্দ আসে না। তারপরেও সুন্দরবনের সম্পদ রক্ষায় সর্বাত্মক চেষ্টা অব্যাহত রাখা হয়েছে।

খুঁজুন