বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬
logo
Breaking News
ঝালকাঠির নলছিটিতে জিয়াউর রহমানের শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল পুলিশের ঊর্ধ্বতন ৯ কর্মকর্তাকে বদলি পাবনায় মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম দলের উদ্যোগে শহীদ জিয়ার ৪৫তম শাহাদাত বার্ষিক পালন হামের উপসর্গে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু চাঁদাপুর লঞ্চঘাটে চাঁদা না দেয়ায় দুই যাত্রীর ওপরে হামলা, থানায় জিডি বিদ্যুতের দাম বাড়ল দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির পাঁয়তারা চলছে: মির্জা ফখরুল বাজেট তৈরি হচ্ছে সাধারণ মানুষের কথা বিবেচনায় নিয়ে: অর্থমন্ত্রী আসামি সোহেল-স্বপ্না নিজেদের নির্দোষ দাবি করে আদালতে যা বললেন "প্রথম বিদেশ সফরে প্রধানমন্ত্রী কোথায় যাবেন তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে"
সারাবাংলা সৈয়দপুরে অপরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় পরিবেশ হুমকির মুখে
logo

সৈয়দপুরে অপরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় পরিবেশ হুমকির মুখে

নীলফামারীর সৈয়দপুর পৌরসভায় অপরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় পরিবেশ হুমকির মুখে পড়েছে। শহরের যত্রতত্র আবর্জনার স্তুপের গন্ধে মানুষের চলাচলে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। দেখা দিয়েছে নানাবিধ ব্যাধী। গতকাল ২৯সেপ্টেম্বর সরেজমিন গিয়ে দেখা যায় এমনই দৃশ্য। 

দেখা যায়, শহরের হাতিখানা ও শুরকি মহল্লা ময়লা আবর্জনারর ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। একারনে চর্মরোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। শরীরে দেখা দিয়েছে দাউদ, একজিমা, শ্বাসকষ্ট, হাপানি,ফুসফুসে প্রদাহ সহ নানান রোগ। ব্যাপক হারে চুলকানি সহ চর্মরোগে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে শহরের জনজীবন। 

স্থানীয়রা জানান, সৈয়দপুর শহরের ১ নং রেল ঘুমটির ৫০ গজ দক্ষিণে হাতি খানা সড়ক সংলগ্ন রেলওয়ের জায়গায় তৈরি করা হয়েছে ডাষ্টবিন। এ ডাষ্টবিনে পৌর কর্তৃপক্ষ সহ আশপাশ এলাকার ফল ব্যবসায়িরা প্রতিদিন কয়েক টন বর্জ ফেলছে। বাজারের আবাসিক হোটেল, রেস্তোরাঁ সহ ঘরবাড়ির বর্জ্য ও ফেলা হচ্ছে ওই ডাষ্টবিনে।এছাড়া শহরের অনেক স্কুল কলেজ সহ রাস্তার ধারেও ফেলা হচ্ছে দুর্গন্ধ যুক্ত বর্জ্য। সময় মতো ওইসব বর্জ্য  অনত্র না সরানোর ফলে বায়ুবাহিত বিভিন্ন জীবানু গণমানুষকে নানান রোগে আক্রান্ত করছে।

বিবিধ রোগের মধ্যে চর্ম রোগের প্রকোপ দেখা দিয়েছে মারাত্মক হারে।
স্থানীয়রা আরো জানান, সাবেক মেয়র গণমানুষের নেতা আমজদ হোসেন সরকার মারা যাওয়ার পর থেকে সৈয়দপুর শহরের পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা নেই বললেই চলে। তিনি বেচে থাকাকালিন শহরের কোথাও ময়লা আবর্জনার স্তুপ চোখে পড়েনি। কিন্তু বর্তমান পৌর প্রশাসক নুর-ই আলম সিদ্দিকি মেয়রের দায়িত্বে অনেকটাই ব্যর্থ হয়েছেন। মেয়রের দায়িত্ব কিভাবে পালন করতে হয় তা তিনি জেনেও না জানার ভান করেন বলেই হযবরল ভাবেই চলছে পৌরসভার কার্যক্রম। চলতি বছরের জুন মাসে যে বাজেট ঘোষণা করেছেন, সেই বাজেটে অতি গুরুত্বপূর্ণ কাজ না করে রাজনৈতিক নেতাকে খুশি রাখতে কম গুরুত্বপূর্ণ কাজই আগে করছেন তিনি। 

এনিয়ে অনেকের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তাঁরা বলেন, যিনি প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করছেন, তিনি মুলত  উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। তার পরিষদের আয় ব্যায় ও উন্নয়ন সমন্ধে তেমন কোন অভিজ্ঞতা নেই। পরিষদের ২/৪ জন পৌরসভাকে মনিটরিং করে বলেই তাদের উন্নয়ন হয়েছে কিন্তু গত ২০২৪ সালের ৫ আগষ্টের পর দৃষ্টি নন্দিত কোন উন্নয়নই চোখে পড়েনি বলে জানান স্থানীয়রা।

সৈয়দপুর ১০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের কর্মরত চিকিৎসক ডাক্তার ওয়াসিম বারি জয় বলেন,ডাষ্টবিন থেকে ছড়ায় না এমন কোন রোগ নেই। ডাষ্টবিন হলো সকল রোগের আতুর ঘর। শারীরিক সক্ষমতা  হারানোর জন্য মারাত্মক ভাবে দায়ি ডাষ্টবিন। ডাষ্টবিনকে রোগ উৎপাদনের কারখানা ও বলা যেতে পারে। 
মেডিকেল ও ডায়াবেটিস বিশেষজ্ঞ ডাক্তার মাসুম আল আরেফিন বলেন, শহরের বিভিন্ন এলাকায় যত্রতত্র খোলা ডাষ্টবিনের দুষিত বায়ু মানবিক ও সামাজিক জীবনে মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে। দেখা দিতে পারে শ্বাসকষ্ট, হাপানী, চর্মরোগ,  বিকলঙ্গ শিশুর জন্ম। অকাল গর্ভপাত সহ বিভিন্ন ঝুঁকি পুর্ন রোগ।  

পৌরপ্রশাসক নুর-ই আলম সিদ্দিকি বলেন, খোলামেলা ডাষ্টবিনের দুর্গন্ধ নিঃসন্দেহে মানব জীবনে ক্ষতির কারন। আমি হলাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। পৌরসভা কিভাবে চালাতে হয় তা আমার চেয়ে যারা পৌর পরিষদে কর্মরত আছেন তারাই ভালো জানেন। তবে শহর পরিস্কার রাখতে প্রায় প্রতিদিনই কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে বলে জানান তিনি। 

-খবরপ্রতিদিন/ সি.ব

খুঁজুন