নীলফামারীর সৈয়দপুর সরকারি কলেজে দীর্ঘ ২৬ বছর ছাত্র সংসদের নির্বাচন নেই । অথচ প্রতিবছরই শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ওই নির্বাচনের কথা বলে ফি নেওয়া হচ্ছে । এছাড়াও শিক্ষার্থীদের জন্য বিভিন্ন ভাবে অর্থ আদায় করা হলেও তা শিক্ষার্থীদের পিছনে ব্যয় করা হয় না বলে অভিযোগ রয়েছে।
শিক্ষার্থীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে ছাত্র সংসদের নির্বাচন না হওয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে নেতৃত্বের বিকাশ ঘটছে না। অধিকার বাস্তবায়নে কোনো সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে জোরালো আওয়াজ তুলতে পারছেন না কেউই। তবে কলেজ প্রশাসন এ জন্য রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের জটিলতাকেই দায়ী করেন।
জানা যায়, ১৯৫৩ সালে স্থাপিত হয় সৈয়দপুর মহাবিদ্যালয়টি। ২০১৮ সালে করা হয় সরকারিকরন। শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ছাত্র সংসদ ব্যবস্থাপনা ফি ২৫, সাহিত্য ও সংস্কৃতি ফি ১০ , খেলাধুলা ফি ২৫, ম্যগাজিন ফি ৩০, পরিবহন ৫০, দরিদ্র তহবিল ফি ২৫ টাকাসহ সেমিনার, হোস্টেল তহবিল, জামানত, নৈশপ্রহরী, অভ্যন্তরীণ পরীক্ষা, সহ বিভিন্ন খাতে উচ্চমাধ্যমিকে বিজ্ঞান বিভাগের জনপ্রতি ছাত্রদের ৪ হাজার ৩১৯, ছাত্রীদের ৪ হাজার ৭৯, মানবিক বিভাগে ৪ হাজার ৫৯ ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ৩ হাজার ৮১৯ টাকা। আর অনার্স ও ডিগ্রিতে জনপ্রতি ৫ হাজার ৮২০ টাকা করে নেয়া হয়। কিন্তু কলেজের পাঠাগারে কোনো ম্যাগাজিন রাখা হয় না। শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের জন্য পরিবহন ব্যবস্থাও নেই। কলেজে বর্তমানে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার শিক্ষার্থী এসব খাতে টাকা দিয়ে যাচ্ছেন।
সূত্র জানায়, প্রাচীন এ বিদ্যাপীঠে ছাত্র সংসদের নির্বাচন হয় মাত্র ৪টি। ১৯৯৯ সালে শেষবার ছাত্র সংসদ নির্বাচন হয়। পরবর্তীকালে ছাত্র সংসদ ভেঙে দেওয়ার পর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। প্রতিবছর ছাত্র সংসদের পক্ষ থেকে একটি করে সাময়িকী প্রকাশের কথা থাকলেও তা হচ্ছে না বলে জানান শিক্ষার্থীরা।
নির্বাচন না হওয়ার কারণ সম্পর্কে শিক্ষক- শিক্ষার্থীরা জানান, বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক দলের হস্তক্ষেপ রয়েছে। যখন যে দল ক্ষমতায় এসেছে, সেই দলের ছাত্র সংগঠন ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের হস্তক্ষেপের কারণে ছাত্র সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠান করা সম্ভব হয়নি। ছাত্র সংসদের ক্ষমতা অন্য রাজনৈতিক দলের ছাত্র সংগঠনের হাতে চলে যাবে—এমন আশঙ্কায় নির্বাচনের বিরোধিতা করা হয়।
কলেজের অনার্স শেষ বর্ষের ছাত্র আরিফুল ইসলাম বলেন, কলেজে ভর্তির পর ছাত্র সংসদ কী, তা-ই দেখলাম না। অথচ প্রতি পর্বে ছাত্র সংসদ ফি দিয়ে যাচ্ছি।
ছাত্র শিবিরের সৈয়দপুর শহর শাখার সাবেক সভাপতি সাহাবাজ উদ্দীন সবুজ বলেন, ‘ছাত্র সংসদের মূল উদ্দেশ্য নেতৃত্বের বিকাশ। ছাত্রদের অধিকার নিয়ে কথা বলা। ছাত্র সংসদ যখন ছিল, তখন কলেজে একটি গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত ছিল। এরপর কোনো রাজনৈতিক চর্চা না থাকায় যোগ্য তরুণ নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হতে পারছে না।’
জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সৈয়দপুর কলেজ শাখার সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান হ্নদয় বলেন, জাতীয় পর্যায়ে নেতৃত্ব দেবে—এমন রাজনৈতিক নেতা উঠে আসে ছাত্র সংসদ থেকেই। এ অঞ্চলের ছাত্র রাজনীতির সূতিকাগার হিসেবে পরিচিতি সৈয়দপুর সরকারি কলেজে ছাত্র সংসদ নির্বাচন হওয়া জরুরি। ছাত্রসংস না থাকায় নির্বাচন দেওয়ার জন্য ইতিপূর্বে আমরা মৌখিকভাবে কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি । আশ্বাস দিলেও ছাত্র সংসদ নির্বাচনের এখন পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না কলেজ কর্তৃপক্ষের। এরপরও যদি ছাত্রসংসদ নির্বাচন দেওয়া না হয় তাহলে ছাত্রসংসদ নির্বাচনের দাবিতে প্রয়োজনে সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিয়ে আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
সৈয়দপুর সাংগঠনিক জেলা বিএনপির সভাপতি অধ্যক্ষ আবদুল গফুর সরকার বলেন, ছাত্র সংসদ না থাকায় একদিকে শিক্ষিত নেতা তৈরি হচ্ছে না, অন্যদিকে ছাত্রদের অধিকার নিয়েও কথা বলার কেউ থাকছে না। আমরা চাই দ্রুত ছাত্র সংসদ নির্বাচন দিয়ে ছাত্র-শিক্ষকের মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়ন ও কলেজে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া বজায় রাখার ব্যবস্থা করা হোক।’
সৈয়দপুর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মোহাম্মদ আবু তাহের খান বলেন, ‘সরকার তো আর ফি আদায় করতে নিষেধ করেনি। সরকারি বিধি অনুসারে অন্যান্য তহবিলের মতোই ছাত্র সংসদের ফি আদায় করা হচ্ছে। আদায়কৃত ফি ওই তহবিলেই রয়েছে। ওখান থেকে ১ টাকাও খরচ করার কোনো সুযোগ নেই। ২০২৬ সাল থেকে ছাত্র সংসদ নির্বাচন দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
-খবরপ্রতিদিন/ সি.ব
সৈয়দপুর সরকারি কলেজে ২৬ বছর ধরে নির্বাচন নেই ছাত্র সংসদের, ফি নেয়া হচ্ছে ঠিকই
সৈয়দপুর সরকারি কলেজে ২৬ বছর ধরে নির্বাচন নেই ছাত্র সংসদের, ফি নেয়া হচ্ছে ঠিকই
নীলফামারীর সৈয়দপুর সরকারি কলেজে দীর্ঘ ২৬ বছর ছাত্র সংসদের নির্বাচন নেই । অথচ প্রতিবছরই শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ওই নির্বাচনের কথা বলে ফি নেওয়া হচ্ছে । এছাড়াও শিক্ষার্থীদের জন্য বিভিন্ন ভাবে অর্থ আদায় করা হলেও তা শিক্ষার্থীদের পিছনে ব্যয় করা হয় না বলে অভিযোগ রয়েছে। শিক্ষার্থীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে ছাত্র সংসদের নির্বাচন না হওয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে নেতৃত্বের বিকাশ ঘটছে না। অধিকার বাস্তবায়নে কোনো সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে জোরালো আওয়াজ তুলতে পারছেন না কেউই। তবে কলেজ প্রশাসন এ জন্য রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের জটিলতাকেই দায়ী করেন।জানা যায়, ১৯৫৩ সালে স্থাপিত হয় সৈয়দপুর মহাবিদ্যালয়টি। ২০১৮ সালে করা হয় সরকারিকরন। শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ছাত্র সংসদ ব্যবস্থাপনা ফি ২৫, সাহিত্য ও সংস্কৃতি ফি ১০ , খেলাধুলা ফি ২৫, ম্যগাজিন ফি ৩০, পরিবহন ৫০, দরিদ্র তহবিল ফি ২৫ টাকাসহ সেমিনার, হোস্টেল তহবিল, জামানত, নৈশপ্রহরী, অভ্যন্তরীণ পরীক্ষা, সহ বিভিন্ন খাতে উচ্চমাধ্যমিকে বিজ্ঞান বিভাগের জনপ্রতি ছাত্রদের ৪ হাজার ৩১৯, ছাত্রীদের ৪ হাজার ৭৯, মানবিক বিভাগে ৪ হাজার ৫৯ ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ৩ হাজার ৮১৯ টাকা। আর অনার্স ও ডিগ্রিতে জনপ্রতি ৫ হাজার ৮২০ টাকা করে নেয়া হয়। কিন্তু কলেজের পাঠাগারে কোনো ম্যাগাজিন রাখা হয় না। শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের জন্য পরিবহন ব্যবস্থাও নেই। কলেজে বর্তমানে
প্রায় সাড়ে ৩ হাজার শিক্ষার্থী এসব খাতে টাকা দিয়ে যাচ্ছেন।সূত্র জানায়, প্রাচীন এ বিদ্যাপীঠে ছাত্র সংসদের নির্বাচন হয় মাত্র ৪টি। ১৯৯৯ সালে শেষবার ছাত্র সংসদ নির্বাচন হয়। পরবর্তীকালে ছাত্র সংসদ ভেঙে দেওয়ার পর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। প্রতিবছর ছাত্র সংসদের পক্ষ থেকে একটি করে সাময়িকী প্রকাশের কথা থাকলেও তা হচ্ছে না বলে জানান শিক্ষার্থীরা।নির্বাচন না হওয়ার কারণ সম্পর্কে শিক্ষক- শিক্ষার্থীরা জানান, বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক দলের হস্তক্ষেপ রয়েছে। যখন যে দল ক্ষমতায় এসেছে, সেই দলের ছাত্র সংগঠন ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের হস্তক্ষেপের কারণে ছাত্র সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠান করা সম্ভব হয়নি। ছাত্র সংসদের ক্ষমতা অন্য রাজনৈতিক দলের ছাত্র সংগঠনের হাতে চলে যাবে—এমন আশঙ্কায় নির্বাচনের বিরোধিতা করা হয়। কলেজের অনার্স শেষ বর্ষের ছাত্র আরিফুল ইসলাম বলেন, কলেজে ভর্তির পর ছাত্র সংসদ কী, তা-ই দেখলাম না। অথচ প্রতি পর্বে ছাত্র সংসদ ফি দিয়ে যাচ্ছি। ছাত্র শিবিরের সৈয়দপুর শহর শাখার সাবেক সভাপতি সাহাবাজ উদ্দীন সবুজ বলেন, ‘ছাত্র সংসদের মূল উদ্দেশ্য নেতৃত্বের বিকাশ। ছাত্রদের অধিকার নিয়ে কথা বলা। ছাত্র সংসদ যখন ছিল, তখন কলেজে একটি গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত ছিল। এরপর কোনো রাজনৈতিক চর্চা না থাকায় যোগ্য তরুণ নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হতে পারছে না।’জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সৈয়দপুর কলেজ শাখার সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান হ্নদয় বলেন, জাতীয়
পর্যায়ে নেতৃত্ব দেবে—এমন রাজনৈতিক নেতা উঠে আসে ছাত্র সংসদ থেকেই। এ অঞ্চলের ছাত্র রাজনীতির সূতিকাগার হিসেবে পরিচিতি সৈয়দপুর সরকারি কলেজে ছাত্র সংসদ নির্বাচন হওয়া জরুরি। ছাত্রসংস না থাকায় নির্বাচন দেওয়ার জন্য ইতিপূর্বে আমরা মৌখিকভাবে কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি । আশ্বাস দিলেও ছাত্র সংসদ নির্বাচনের এখন পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না কলেজ কর্তৃপক্ষের। এরপরও যদি ছাত্রসংসদ নির্বাচন দেওয়া না হয় তাহলে ছাত্রসংসদ নির্বাচনের দাবিতে প্রয়োজনে সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিয়ে আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।সৈয়দপুর সাংগঠনিক জেলা বিএনপির সভাপতি অধ্যক্ষ আবদুল গফুর সরকার বলেন, ছাত্র সংসদ না থাকায় একদিকে শিক্ষিত নেতা তৈরি হচ্ছে না, অন্যদিকে ছাত্রদের অধিকার নিয়েও কথা বলার কেউ থাকছে না। আমরা চাই দ্রুত ছাত্র সংসদ নির্বাচন দিয়ে ছাত্র-শিক্ষকের মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়ন ও কলেজে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া বজায় রাখার ব্যবস্থা করা হোক।’সৈয়দপুর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মোহাম্মদ আবু তাহের খান বলেন, ‘সরকার তো আর ফি আদায় করতে নিষেধ করেনি। সরকারি বিধি অনুসারে অন্যান্য তহবিলের মতোই ছাত্র সংসদের ফি আদায় করা হচ্ছে। আদায়কৃত ফি ওই তহবিলেই রয়েছে। ওখান থেকে ১ টাকাও খরচ করার কোনো সুযোগ নেই। ২০২৬ সাল থেকে ছাত্র সংসদ নির্বাচন দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।-খবরপ্রতিদিন/ সি.ব
সম্পাদক: খন্দকার আমিনুর রহমান
[email protected] | ০১৫৩৫৭৭৩৩১৪
গভ: জি: নং-সি-১৩১৫৯৬
প্রধান কার্যালয়: ৩০৬/এ, দক্ষিণ যাত্রাবাড়ী ঢাকা ১২০৪/
50/F,Inner Circular Road,Naya Paltan, Dhaka, 1000
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত