বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬
logo
Breaking News
ঝালকাঠির নলছিটিতে জিয়াউর রহমানের শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল পুলিশের ঊর্ধ্বতন ৯ কর্মকর্তাকে বদলি পাবনায় মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম দলের উদ্যোগে শহীদ জিয়ার ৪৫তম শাহাদাত বার্ষিক পালন হামের উপসর্গে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু চাঁদাপুর লঞ্চঘাটে চাঁদা না দেয়ায় দুই যাত্রীর ওপরে হামলা, থানায় জিডি বিদ্যুতের দাম বাড়ল দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির পাঁয়তারা চলছে: মির্জা ফখরুল বাজেট তৈরি হচ্ছে সাধারণ মানুষের কথা বিবেচনায় নিয়ে: অর্থমন্ত্রী আসামি সোহেল-স্বপ্না নিজেদের নির্দোষ দাবি করে আদালতে যা বললেন "প্রথম বিদেশ সফরে প্রধানমন্ত্রী কোথায় যাবেন তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে"
সারাবাংলা শহীদ বুদ্ধিজীবী আবদুল কাদের মিয়া স্মৃতি সংরক্ষণে পরিবারের উদ্যোগে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ
logo

শহীদ বুদ্ধিজীবী আবদুল কাদের মিয়া স্মৃতি সংরক্ষণে পরিবারের উদ্যোগে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ

 মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর সেনানী ও শহীদ বুদ্ধিজীবী আবদুল কাদের মিয়ার স্মৃতি সংরক্ষণে নতুনভাবে স্থাপনা নির্মাণের সুপারিশ করায় বাংলাদেশ পুলিশ কর্তৃপক্ষের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে শহীদ পরিবার।

পরিবার ও স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের দীর্ঘদিনের আবেদন ও প্রত্যাশার প্রেক্ষিতে পুলিশ সদর দপ্তরের এ ইতিবাচক সিদ্ধান্তকে ইতিহাস ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার প্রতি সম্মানজনক পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে।

শাহজাদপুর থানা প্রাঙ্গণে শহীদ আবদুল কাদের মিয়ার স্মরণে ২০২২ সালে তাঁর পরিবারের নিজস্ব অর্থায়নে একটি অভ্যর্থনা কক্ষ কাম সার্ভিস ডেলিভারি অফিস নির্মাণ করা হয়। পূর্বের জরাজীর্ণ গোলঘর সংস্কার করে গড়ে তোলা এ কক্ষটি শুধু একটি স্মৃতিচিহ্ন নয়, থানায় সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষের জন্য এটি ছিল একটি কার্যকর সেবাকেন্দ্র। 

স্থানীয়দের মতে, শহীদের নামে নির্মিত এ কক্ষ মুক্তিযুদ্ধের আত্মত্যাগ ও দেশপ্রেমের এক জীবন্ত প্রতীক হিসেবে প্রতিদিন মানুষকে অনুপ্রাণিত করত।

সম্প্রতি বাংলাদেশ পুলিশের আধুনিক প্রশাসনিক ভবন ও ব্যারাক নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় শাহজাদপুর থানা অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় স্মৃতিকক্ষটি অপসারণের সম্ভাবনা তৈরি হয়। বিষয়টি সামনে আসার পর শহীদ পরিবারের পক্ষ থেকে পুলিশ সদর দপ্তরে লিখিত আবেদন জানানো হয়, যাতে উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নের পাশাপাশি শহীদের স্মৃতি সংরক্ষণের বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা হয়। 

আবেদনপত্রে উল্লেখ করা হয়, এই স্থাপনাটি কেবল পারিবারিক আবেগের বিষয় নয়, এটি মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের অংশ এবং পুলিশের গৌরবোজ্জ্বল ঐতিহ্যের প্রতীক।

স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সচেতন নাগরিকরাও এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাদের মতে, উন্নয়ন ও ঐতিহ্য রক্ষা একে অপরের পরিপন্থী নয়, বরং সঠিক পরিকল্পনা ও সদিচ্ছা থাকলে উভয়ই সমন্বিতভাবে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব। তারা বলেন, “যে পুলিশ কর্মকর্তা দেশের স্বাধীনতার জন্য জীবন উৎসর্গ করেছেন, তাঁর স্মৃতি সংরক্ষণ করা পুলিশ বাহিনীর জন্য গৌরবের বিষয়।

এ বিষয়ে শাহজাদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দৈনিক সোনালী খবরকে জানান, আবেদন পাওয়ার পর পুলিশ সদর দপ্তর বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করে সংশ্লিষ্ট জেলা পুলিশ সুপারের কাছে মতামত চায়। তিনি বলেন, “আমরা বিষয়টি পর্যালোচনা করে নতুনভাবে গোলঘরটি নির্মাণের জন্য সুপারিশ করেছি।

এব্যাপারে শাহজাদপুর উপজেলা সাবেক বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ডেপুটি কমান্ডার বিনয় কুমার পাল বলেন, “থানা প্রাঙ্গণে পর্যাপ্ত জায়গা রয়েছে। নতুন ব্যারাক ভবন নির্মাণের প্রয়োজন হলেও শহীদ পুলিশ কর্মকর্তার স্মৃতি বহনকারী ‘গোলঘরটি’ অবশ্যই সুবিধাজনক স্থানে নতুনভাবে সংরক্ষণ করতে হবে। 

উন্নয়নের সঙ্গে ইতিহাস রক্ষা সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ পুলিশ দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস সংরক্ষণেও আন্তরিক ভূমিকা রাখছে-এই উদ্যোগ তারই প্রমাণ। আমরা সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানাই এবং দ্রুত বাস্তবায়নের প্রত্যাশা করি।

শাহজাদপুরের বিশিষ্ট নাগরিক নেতা ও সমাজসেবক এম এ হান্নান শেখ পুলিশ বিভাগের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, “প্রাথমিকভাবে স্থাপনাটি অপসারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও শহীদ পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে নতুনভাবে স্মৃতিসৌধ নির্মাণের প্রস্তাবে ইতিবাচক সাড়া দেওয়ায় পুলিশ বিভাগ প্রশংসার দাবিদার।

শহীদ বুদ্ধিজীবী আবদুল কাদের মিয়ার এক কন্যা, যিনি নিজেও সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা, তিনি বলেন, “আমাদের আবেদনটি মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করায় আমরা বাংলাদেশ পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ। উন্নয়ন হোক, কিন্তু শহীদের স্মৃতি যেন বিলীন না হয়, এই প্রত্যাশাই আমরা জানিয়েছিলাম। এখন আমরা আশাবাদী, নতুনভাবে আরও সুন্দর ও মর্যাদাপূর্ণ স্থাপনা নির্মিত হবে।

উল্লেখ্য, আবদুল কাদের মিয়া ১৯৩০ সালের ১ এপ্রিল সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুর উপজেলার জামিরতা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৪৮ সালে তিনি কনস্টেবল হিসেবে পুলিশ বাহিনীতে যোগদান করেন এবং ধাপে ধাপে পদোন্নতি পেয়ে ১৯৭১ সালে পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। 

মহান মুক্তিযুদ্ধের সূচনালগ্নে তিনি দেবীগঞ্জ থানায় বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করে স্বাধীনতার ঘোষণা দেন এবং মুক্তিকামী যুবকদের সংগঠিত করে প্রশিক্ষণ ও অস্ত্র সরবরাহ করেন। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ যুদ্ধে সক্রিয় অংশগ্রহণের একপর্যায়ে তিনি আহত হন এবং ১ জুন ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে আটক হয়ে শহীদ হন।

স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ সরকার তাঁকে শহীদ বুদ্ধিজীবী হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করে এবং তাঁর স্মরণে স্মারক ডাকটিকিট প্রকাশ করে। দেবীগঞ্জে একটি সড়ক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তাঁর নামে নামাঙ্কিত রয়েছে। প্রতি বছর স্বাধীনতা দিবস, বুদ্ধিজীবী দিবস ও বিজয় দিবসে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাঁর স্মরণে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।

দ্রুত প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে শহীদের নামে একটি আধুনিক ও মর্যাদাপূর্ণ স্মৃতিকক্ষ নির্মাণ করা হবে, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জানতে ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হতে সহায়তা করবে।

খুঁজুন