সবসময় মুখে মাস্ক পরে থাকার কারণে স্থানীয় মহলে তিনি ‘মাস্ক লেডি’ হিসেবে পরিচিত। তবে এই মাস্কের আড়ালে রয়েছে দুর্নীতির এক বিশাল নেটওয়ার্ক। বলা হচ্ছে সাতক্ষীরা পৌর ভূমি অফিসের উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা শর্মিষ্ঠা সরকারের কথা। মিষ্টি ভাষা ও চতুর কৌশলে সাধারণ সেবাগ্রহীতাদের বিভ্রান্ত করে তিনি গড়ে তুলেছেন ঘুষের এক বিশাল সাম্রাজ্য।
চাকরিজীবনের বিভিন্ন কর্মস্থলে ক্ষমতার অপব্যবহার করে তিনি গড়ে তুলেছেন ঘুষের সিন্ডিকেট, যা দণ্ডবিধি, ১৮৬০ এর ১৬১ ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭ এর ৫(২) ধারা অনুযায়ী সরকারি কর্মচারীর গুরুতর অপরাধমূলক অসদাচরণ হিসেবে গণ্য।অনুসন্ধানে জানা যায়, কালিগঞ্জের মৌতলা, ভাড়াশিমলা, বসন্তপুর, শ্যামনগর, পারুলিয়া এবং সদরের আগরদাড়ি ভূমি অফিসে কর্মরত থাকাকালীন সময়েও তিনি ব্যাপক অনিয়মের জন্ম দেন।
বর্তমানে সাতক্ষীরা পৌর ভূমি অফিসে যোগদানের পর সেখানেও দালাল ও নিজস্ব পিয়নের মাধ্যমে ঘুষ বাণিজ্য টিকিয়ে রেখেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।প্রতি নামজারির জন্য ১,০০০ টাকা এবং তদন্ত রিপোর্টের জন্য ১ থেকে ২ হাজার টাকা বাধ্যতামূলক।জটিলতা ভেদে ৫০ হাজার থেকে শুরু করে ২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ঘুষ দাবি করা হয়।ঘুষের ভাগ বাটোয়ারা নিশ্চিত করতে কেস নম্বরসহ নিজস্ব ডায়েরিতে হিসাব রাখার অভিযোগ রয়েছে।
অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চোখ ফাঁকি দিতে শর্মিষ্ঠা সরকার নিজের নামে সম্পদ না রেখে স্বামী এবং ছোট বোনের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ঘুষের টাকা জমা রেখেছেন। এছাড়া তার বোনের নামে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে জমি ও দুতলা বাড়ি নির্মাণ এবং কালিগঞ্জে ৫০-৬০ লক্ষ টাকার প্লটসহ স্বামীর নামে বিপুল পরিমাণ কৃষি জমি ক্রয়ের তথ্য পাওয়া গেছে। সরকারের অনুমতি ব্যতীত এবং দুর্নীতির টাকা দেশের বাইরে পারাপার বা সম্পদ রূপান্তর করা মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এর আওতায় কঠোর শাস্তিযোগ্য অপরাধ।চালতেতলা এলাকার ভুক্তভোগী আলম ড্রাইভার জানান, আদালতের রায় পাওয়ার পর নামজারির জন্য শর্মিষ্ঠা সরকারের ব্যক্তিগত দালালোর মাধ্যমে ৫০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন। পরবর্তীতে ২০ হাজার টাকায় কাজ করতে রাজি হন।
শহরের থানাঘাটা গ্রামের ফারুক হোসেন অভিযোগ করেন, একটি জমির ১৪৫ ধারার প্রতিবেদনের জন্য টাকা না দেওয়ায় বিরোধী পক্ষের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে তাদের পক্ষে প্রতিবেদন জমা দেন ভূমি নায়েব শর্মিষ্ঠা সরকার । এছাড়া আগরদাড়ির করিম দালাল এবং ভাড়াশিমলার হরিদাস ঠাকুরসহ একাধিক ব্যক্তি খ-তফসিল ও খাস জমি বরাদ্দের নামে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ করেছেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত সহকারী কর্মকর্তা শর্মিষ্ঠা সরকারের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোনটি রিসিভ করেন তার কাছে এসব অভিযোগের বিষয়ে শুনতে চাইলে তিনি কোন মন্তব্য না করে ফোনের লইন কেটে দেন।সদর সহকারী কমিশনার (ভূমি) বদরুদ্দোজা বলেন, বিষয়গুলো খতিয়ে দেখে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। দুর্নীতির বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।স্থানীয় নাগরিক নেতা আবুল হোসেন বলেন অবিলম্বে এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরু করে অবৈধ সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত এবং তাকে চাকরিচ্যুত করার দাবি জানিয়েছেন।
সাতক্ষীরায় ভূমি কর্মকর্তা শর্মিষ্ঠার বিরুদ্ধে ঘুষ ও অনিয়মের পাহাড়: স্বামী ও বোনের অ্যাকাউন্টে অর্থ পাচারের অভিযোগ!
সাতক্ষীরায় ভূমি কর্মকর্তা শর্মিষ্ঠার বিরুদ্ধে ঘুষ ও অনিয়মের পাহাড়: স্বামী ও বোনের অ্যাকাউন্টে অর্থ পাচারের অভিযোগ!
সবসময় মুখে মাস্ক পরে থাকার কারণে স্থানীয় মহলে তিনি ‘মাস্ক লেডি’ হিসেবে পরিচিত। তবে এই মাস্কের আড়ালে রয়েছে দুর্নীতির এক বিশাল নেটওয়ার্ক। বলা হচ্ছে সাতক্ষীরা পৌর ভূমি অফিসের উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা শর্মিষ্ঠা সরকারের কথা। মিষ্টি ভাষা ও চতুর কৌশলে সাধারণ সেবাগ্রহীতাদের বিভ্রান্ত করে তিনি গড়ে তুলেছেন ঘুষের এক বিশাল সাম্রাজ্য। চাকরিজীবনের বিভিন্ন কর্মস্থলে ক্ষমতার অপব্যবহার করে তিনি গড়ে তুলেছেন ঘুষের সিন্ডিকেট, যা দণ্ডবিধি, ১৮৬০ এর ১৬১ ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭ এর ৫(২) ধারা অনুযায়ী সরকারি কর্মচারীর গুরুতর অপরাধমূলক অসদাচরণ হিসেবে গণ্য।অনুসন্ধানে জানা যায়, কালিগঞ্জের মৌতলা, ভাড়াশিমলা, বসন্তপুর, শ্যামনগর, পারুলিয়া এবং সদরের আগরদাড়ি ভূমি অফিসে কর্মরত থাকাকালীন সময়েও তিনি ব্যাপক অনিয়মের জন্ম দেন। বর্তমানে সাতক্ষীরা পৌর ভূমি অফিসে যোগদানের পর সেখানেও দালাল ও নিজস্ব পিয়নের মাধ্যমে ঘুষ বাণিজ্য টিকিয়ে রেখেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।প্রতি নামজারির জন্য ১,০০০ টাকা এবং তদন্ত রিপোর্টের জন্য ১ থেকে ২ হাজার টাকা বাধ্যতামূলক।জটিলতা
ভেদে ৫০ হাজার থেকে শুরু করে ২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ঘুষ দাবি করা হয়।ঘুষের ভাগ বাটোয়ারা নিশ্চিত করতে কেস নম্বরসহ নিজস্ব ডায়েরিতে হিসাব রাখার অভিযোগ রয়েছে। অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চোখ ফাঁকি দিতে শর্মিষ্ঠা সরকার নিজের নামে সম্পদ না রেখে স্বামী এবং ছোট বোনের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ঘুষের টাকা জমা রেখেছেন। এছাড়া তার বোনের নামে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে জমি ও দুতলা বাড়ি নির্মাণ এবং কালিগঞ্জে ৫০-৬০ লক্ষ টাকার প্লটসহ স্বামীর নামে বিপুল পরিমাণ কৃষি জমি ক্রয়ের তথ্য পাওয়া গেছে। সরকারের অনুমতি ব্যতীত এবং দুর্নীতির টাকা দেশের বাইরে পারাপার বা সম্পদ রূপান্তর করা মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এর আওতায় কঠোর শাস্তিযোগ্য অপরাধ।চালতেতলা এলাকার ভুক্তভোগী আলম ড্রাইভার জানান, আদালতের রায় পাওয়ার পর নামজারির জন্য শর্মিষ্ঠা সরকারের ব্যক্তিগত দালালোর মাধ্যমে ৫০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন। পরবর্তীতে ২০ হাজার টাকায় কাজ করতে রাজি হন। শহরের থানাঘাটা গ্রামের ফারুক হোসেন
অভিযোগ করেন, একটি জমির ১৪৫ ধারার প্রতিবেদনের জন্য টাকা না দেওয়ায় বিরোধী পক্ষের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে তাদের পক্ষে প্রতিবেদন জমা দেন ভূমি নায়েব শর্মিষ্ঠা সরকার । এছাড়া আগরদাড়ির করিম দালাল এবং ভাড়াশিমলার হরিদাস ঠাকুরসহ একাধিক ব্যক্তি খ-তফসিল ও খাস জমি বরাদ্দের নামে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ করেছেন। অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত সহকারী কর্মকর্তা শর্মিষ্ঠা সরকারের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোনটি রিসিভ করেন তার কাছে এসব অভিযোগের বিষয়ে শুনতে চাইলে তিনি কোন মন্তব্য না করে ফোনের লইন কেটে দেন।সদর সহকারী কমিশনার (ভূমি) বদরুদ্দোজা বলেন, বিষয়গুলো খতিয়ে দেখে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। দুর্নীতির বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।স্থানীয় নাগরিক নেতা আবুল হোসেন বলেন অবিলম্বে এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরু করে অবৈধ সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত এবং তাকে চাকরিচ্যুত করার দাবি জানিয়েছেন।
সম্পাদক: খন্দকার আমিনুর রহমান
[email protected] | ০১৫৩৫৭৭৩৩১৪
গভ: জি: নং-সি-১৩১৫৯৬
প্রধান কার্যালয়: ৩০৬/এ, দক্ষিণ যাত্রাবাড়ী ঢাকা ১২০৪/
50/F,Inner Circular Road,Naya Paltan, Dhaka, 1000
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত