বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬
logo
Breaking News
ঝালকাঠির নলছিটিতে জিয়াউর রহমানের শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল পুলিশের ঊর্ধ্বতন ৯ কর্মকর্তাকে বদলি পাবনায় মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম দলের উদ্যোগে শহীদ জিয়ার ৪৫তম শাহাদাত বার্ষিক পালন হামের উপসর্গে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু চাঁদাপুর লঞ্চঘাটে চাঁদা না দেয়ায় দুই যাত্রীর ওপরে হামলা, থানায় জিডি বিদ্যুতের দাম বাড়ল দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির পাঁয়তারা চলছে: মির্জা ফখরুল বাজেট তৈরি হচ্ছে সাধারণ মানুষের কথা বিবেচনায় নিয়ে: অর্থমন্ত্রী আসামি সোহেল-স্বপ্না নিজেদের নির্দোষ দাবি করে আদালতে যা বললেন "প্রথম বিদেশ সফরে প্রধানমন্ত্রী কোথায় যাবেন তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে"
সারাবাংলা সাতক্ষীরায় বাজার কমিটির চাঁদাবাজিতে নাকাল আমচাষিরা : প্রশাসনের নামে উঠছে চাঁদার টাকা
logo

সাতক্ষীরায় বাজার কমিটির চাঁদাবাজিতে নাকাল আমচাষিরা : প্রশাসনের নামে উঠছে চাঁদার টাকা

সাতক্ষীরা আমের স্বর্গরাজ্য। এখানকার সুস্বাদু আম সুনাম ছড়িয়ে দেশের বাজারের চাহিদা মিটিয়ে চলে যাচ্ছে ইউরোপ-আমেরিকায়। কিন্তু সেই আম চাষিরাই পদে পদে ঠকছেন। কাঁচাবাজারের শুল্কের অস্বচ্ছ মারপ্যাঁচে পড়েছেন প্রান্তিক চাষিরা।

প্রশাসনের সামনেই তোলা হচ্ছে বাড়তি টাকা।সরজমিনে অনুসন্ধানে জানা যায়, শতকরা ৭ টাকা (৭%) হারে কাঁচাবাজার সমিতিকে চাঁদা দিতে হচ্ছে এবং ক্যারেট প্রতি আরও ১০ টাকা করে চাঁদা নেওয়া হচ্ছে। 

একজন চাষি ১০ হাজার টাকার আম বিক্রি করলে তাকে দিতে হচ্ছে ৭০০ টাকা। এই নেপথ্য চাঁদাবাজির নেতৃত্ব দিচ্ছে স্থানীয় কাঁচাবাজার সমিতি।​এই বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে ধুলিহরের ভুক্তভোগী আম ব্যবসায়ী হান্নান বলেন, “আমি ছোট ব্যবসায়ী, বাজারে ব্যবসা করি। কিন্তু সমিতির চাঁদা দিতে দিতে আমরা শেষ! শতকরা ৭% চাঁদা দেওয়া লাগলে, এরপর শ্রমিক দিয়ে আম পেড়ে কীভাবে আমরা ব্যবসা করব? আমরা এই চাঁদাবাজি বন্ধ চাই।

”আরেক ভুক্তভোগী ছয়ঘরিয়া বটতলার হাজী আলী রেজা বলেন, “আমার কয়েক একর জমিতে আমবাগান রয়েছে। সেই আম প্রতিদিন পেড়ে আমরা বড় বাজারে বিক্রি করি। কিন্তু বাজারে আমের চাঁদা দিতে গিয়ে আমরা লোকসান খাচ্ছি। বড় বাজারে সমিতির নামে এই চাঁদাবাজি দ্রুত বন্ধ হওয়া দরকার।”ভোগান্তির এখানেই শেষ নয়। সময়ের আগে বাজারে ইতিমধ্যেই অপরিপক্ব ল্যাংড়া আমে সয়লাব হয়ে গেছে।

শুধু তাই নয়, কেমিক্যাল স্প্রে করে সেই অপরিপক্ব ল্যাংড়া আম বাজারে বিক্রি করা হচ্ছে, যা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। অথচ এসবের বিরুদ্ধে বাজার সমিতির কঠোর পদক্ষেপ ও মনিটরিং ব্যবস্থার কোনো বালাই নেই।অভিযোগের বিষয়ে বাজার কমিটির সভাপতি বলেন, “আড়তদারি সিস্টেম ভিন্ন। যারা দাদন দেয়, তারা ৪-৫ টাকা কমিশন নেয়। প্রশাসনের নামে টাকা নেওয়া হচ্ছে এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা কথা। প্রশাসন বাজারে আসছে এবং তদারকি করছে।”

অন্যদিকে, সময়ের আগে ল্যাংড়া আম বাজারে পাওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, “বিষয়টি আমাদের জানা নেই, আমরা খোঁজ নিয়ে দেখব।”এ বিষয়ে সাবেক বাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক বাবু বলেন, “আমার এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য নেই। আমি না দেখার ভান করে থাকি। বাজারে যা চলছে, তা শুধু চেয়ে চেয়ে দেখি।”​জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এনডিসি তাজুল ইসলাম বলেন, “বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখব। এটা জুডিশিয়াল মুন্সিখানা শাখা দেখছে।

সরকারি ক্যালেন্ডার বা তালিকার বাইরে কোনো আম বাজারে পাওয়া গেলে তা জব্দ করা হবে এবং কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

খুঁজুন