সার, বীজ ও কীটনাশকের দাম বেড়ে যাওয়ায় বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়েছেন মেহেরপুরের আলু চাষিরা। উৎপাদন খরচ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ার বিপরীতে বাজারে ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় অনেক কৃষকেরই খরচ উঠছে না। এর সঙ্গে জমির লিজের টাকা পরিশোধের চাপ কৃষকের দুশ্চিন্তা আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
গেল কয়েকদিন স্থানীয় বাজারে খুচরা পর্যঅয়ে ৬ কেজি আলু বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকায়। খুচরা বিক্রেতারা হাকডাক করে কাস্টমারদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা করছেন। বাজারে ১/২ কেজি করে আলু কিনে থাকেন ক্রেতারা। কিন্তু বাজারে আলুর ছড়াছড়ি তাই অফার দিয়ে বিক্রি করতে হচ্ছে খুচরা বিক্রেতাদের। খুচরা বাজারের এমন চিত্র পাইকারী বাজার মূল্যের ধারণা দেয়। জেলার পাইকারী বাজারগুলোতে প্রতি কেজি আলু বিক্রি হচ্ছে ১০-১৫ টাকায়।
জানা গেছে, চলতি মৌসুমে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় মেহেরপুরে আলুর ফলন হয়েছে আশানুরূপ। স্থানীয় কৃষকরা বলছেন, ‘আগাম’ জাতের আলুতে বিঘাপ্রতি ৬০ থেকে ৭০ মণ পর্যন্ত উৎপাদন পেয়েছেন অনেকেই। মাঠে রোগ বালাই কিংবা বড় কোনো ক্ষতির ঘটনা না থাকলেও বাজারদরের কারণে লাভ তো দূরের কথা, লোকসানের আশঙ্কায় পড়েছেন তারা।
অন্য সবজিতে তুলনামূলক ভালো দাম মিললেও আলু বিক্রি হচ্ছে উৎপাদন খরচের অনেক নিচে।মেহেরপুর সদরের আলু চাষি রহমত আলি বলেন, “আবাদ খুব ভালো হইছে। কোনো রোগ-বালাই নাই, ফলনও সুন্দর। কিন্তু দাম না পাওয়াতে আমাদের আলুতে খুব লোকসান হচ্ছে। এত ভালো আবাদ করেও লাভ তো দূরের কথা, খরচই উঠছে না।”
আরেক চাষি মো.সুজন বলেন, “আলু ভালোই হইছে, কিন্তু সার-বীজের যা দাম ছিল, সেই খরচ তুলতেই পারতেছি না। এত টাকা খরচ করে চাষ করলাম, কিন্তু বাজারে সেই দাম পাই না।”
একই কথা জানান সদরের আরেক কৃষক। তিনি বলেন, “যদি বাজারদাম আরও কইমে যায়, ৩০ এর নিচেও দাম চইলে আসে, তাইলে বিক্রি করে আমাদের কোনো লাভও হবে না। আমাদের হাতে কোন কিছুই থাইকবে না।“
এদিকে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বলছে, বর্তমানে আলুর দাম কম থাকলেও পরিস্থিতি স্থায়ী নয়। বাজার পরিস্থিতি পরিবর্তন হতে পারে এবং সে জন্য কৃষকদের ধৈর্য ধরার পাশাপাশি আলু সংরক্ষণের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
মেহেরপুর সদর উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা ইমদাদুল হাসান বলেন, “এ বছর মেহেরপুর সদরে আলুর অনেক ভালো উৎপাদন হয়েছে। আবাদও ভালো হয়েছে। মাঠপর্যায়ে আমাদের কৃষি কর্মকর্তারা নিয়মিতভাবে কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছেন। বাজারদর যদি ভালো থাকে, তাহলে কৃষকরা অবশ্যই লাভবান হবেন।”
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে মেহেরপুর সদর উপজেলায় প্রায় ১ হাজার ৬৭০ হেক্টর জমিতে আলুর চাষ হয়েছে। ভালো উৎপাদনের পরও ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় আলু চাষিরা এখন তাকিয়ে আছেন কার্যকর বাজার ব্যবস্থাপনা ও সরকারি সহায়তার দিকে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দ্রুত উদ্যোগ না নেওয়া হলে কৃষকের ওপর লোকসানের বোঝা আরও বাড়বে।
সার-বীজ-কীটনাশকের উচ্চ মূল্যে লোকসানে আলু চাষিরা
সার-বীজ-কীটনাশকের উচ্চ মূল্যে লোকসানে আলু চাষিরা
সার, বীজ ও কীটনাশকের দাম বেড়ে যাওয়ায় বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়েছেন মেহেরপুরের আলু চাষিরা। উৎপাদন খরচ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ার বিপরীতে বাজারে ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় অনেক কৃষকেরই খরচ উঠছে না। এর সঙ্গে জমির লিজের টাকা পরিশোধের চাপ কৃষকের দুশ্চিন্তা আরও বাড়িয়ে তুলেছে। গেল কয়েকদিন স্থানীয় বাজারে খুচরা পর্যঅয়ে ৬ কেজি আলু বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকায়। খুচরা বিক্রেতারা হাকডাক করে কাস্টমারদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা করছেন। বাজারে ১/২ কেজি করে আলু কিনে থাকেন ক্রেতারা। কিন্তু বাজারে আলুর ছড়াছড়ি তাই অফার দিয়ে বিক্রি করতে হচ্ছে খুচরা বিক্রেতাদের। খুচরা বাজারের এমন চিত্র পাইকারী বাজার মূল্যের ধারণা দেয়। জেলার পাইকারী বাজারগুলোতে প্রতি কেজি আলু বিক্রি হচ্ছে ১০-১৫ টাকায়। জানা গেছে, চলতি মৌসুমে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় মেহেরপুরে আলুর ফলন হয়েছে আশানুরূপ। স্থানীয় কৃষকরা বলছেন, ‘আগাম’ জাতের আলুতে বিঘাপ্রতি ৬০ থেকে ৭০ মণ পর্যন্ত
উৎপাদন পেয়েছেন অনেকেই। মাঠে রোগ বালাই কিংবা বড় কোনো ক্ষতির ঘটনা না থাকলেও বাজারদরের কারণে লাভ তো দূরের কথা, লোকসানের আশঙ্কায় পড়েছেন তারা। অন্য সবজিতে তুলনামূলক ভালো দাম মিললেও আলু বিক্রি হচ্ছে উৎপাদন খরচের অনেক নিচে।মেহেরপুর সদরের আলু চাষি রহমত আলি বলেন, “আবাদ খুব ভালো হইছে। কোনো রোগ-বালাই নাই, ফলনও সুন্দর। কিন্তু দাম না পাওয়াতে আমাদের আলুতে খুব লোকসান হচ্ছে। এত ভালো আবাদ করেও লাভ তো দূরের কথা, খরচই উঠছে না।” আরেক চাষি মো.সুজন বলেন, “আলু ভালোই হইছে, কিন্তু সার-বীজের যা দাম ছিল, সেই খরচ তুলতেই পারতেছি না। এত টাকা খরচ করে চাষ করলাম, কিন্তু বাজারে সেই দাম পাই না।” একই কথা জানান সদরের আরেক কৃষক। তিনি বলেন, “যদি বাজারদাম আরও কইমে যায়, ৩০ এর নিচেও দাম চইলে আসে, তাইলে বিক্রি করে আমাদের কোনো লাভও হবে না।
আমাদের হাতে কোন কিছুই থাইকবে না।“ এদিকে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বলছে, বর্তমানে আলুর দাম কম থাকলেও পরিস্থিতি স্থায়ী নয়। বাজার পরিস্থিতি পরিবর্তন হতে পারে এবং সে জন্য কৃষকদের ধৈর্য ধরার পাশাপাশি আলু সংরক্ষণের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।মেহেরপুর সদর উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা ইমদাদুল হাসান বলেন, “এ বছর মেহেরপুর সদরে আলুর অনেক ভালো উৎপাদন হয়েছে। আবাদও ভালো হয়েছে। মাঠপর্যায়ে আমাদের কৃষি কর্মকর্তারা নিয়মিতভাবে কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছেন। বাজারদর যদি ভালো থাকে, তাহলে কৃষকরা অবশ্যই লাভবান হবেন।” কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে মেহেরপুর সদর উপজেলায় প্রায় ১ হাজার ৬৭০ হেক্টর জমিতে আলুর চাষ হয়েছে। ভালো উৎপাদনের পরও ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় আলু চাষিরা এখন তাকিয়ে আছেন কার্যকর বাজার ব্যবস্থাপনা ও সরকারি সহায়তার দিকে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দ্রুত উদ্যোগ না নেওয়া হলে কৃষকের ওপর লোকসানের বোঝা আরও বাড়বে।
সম্পাদক: খন্দকার আমিনুর রহমান
[email protected] | ০১৫৩৫৭৭৩৩১৪
গভ: জি: নং-সি-১৩১৫৯৬
প্রধান কার্যালয়: ৩০৬/এ, দক্ষিণ যাত্রাবাড়ী ঢাকা ১২০৪/
50/F,Inner Circular Road,Naya Paltan, Dhaka, 1000
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত